

শহুরে
ব্যস্ত জীবনে এখন সম্পর্কের নতুন ঠিকানা হয়ে উঠছে কর্মক্ষেত্র। সকালের তাড়াহুড়া, একসঙ্গে
ডেডলাইন সামলানো, সাফল্যের মুহূর্ত ভাগ করে নেয়া, খারাপ দিনে পাশে থাকা, দুপুরের ছোট্ট
কফি বিরতি কিংবা দিনের শেষে ক্লান্ত মুখে ‘আজ অনেক চাপ গেল’,
এভাবেই অজান্তে কাছাকাছি চলে আসেন অনেক সহকর্মী।
একই
অফিসে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে কাটাতে কখন যে পেশাদার কথাবার্তার ভেতর একটু
আলাদা যত্ন, অপেক্ষা কিংবা ভালো লাগা জন্ম নেয়, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না শুরুতে। এসব
থেকেই অনেক সময় তৈরি হয় নির্ভরতা এবং প্রেম। এখন কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক বা ‘ওয়ার্কপ্লেস
রোমান্স’ আগের চেয়ে অনেক বেশি সাধারণ হয়ে উঠছে।
তবে
অফিসের সম্পর্ক শুধু সিনেমার মতো রোমান্টিক গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পেশাদারিত্ব,
ব্যক্তিগত সীমারেখা, সহকর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং কর্মপরিবেশের ভারসাম্যও।
সাম্প্রতিক
‘ওয়ার্কপ্লেস রোমান্স স্ট্যাটিস্টিকস’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন বলছে, ৬০ শতাংশেরও
বেশি কর্মজীবী মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন।
এর মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ সম্পর্ক পরিণয়ে গড়িয়েছে। অর্থাৎ, অফিসে শুরু হওয়া সম্পর্কের
অনেকগুলোই শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছে। ফোর্বস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ
করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা
বলছেন, এর বড় কারণ হলো সময়ের পরিবর্তন। এখন মানুষের জীবনের বড় একটা অংশ কাটে কর্মস্থলে।
সকালে বের হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিসেই সময় যায়। ফলে বাইরের সামাজিক যোগাযোগ কমে যাচ্ছে।
নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও আগের মতো নেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই সহকর্মীদের
মধ্যেই তৈরি হচ্ছে কাছাকাছি আসার সুযোগ।
ফোর্বসের
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক তৈরির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ‘স্বাচ্ছন্দ্যবোধ’।
প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন, সহকর্মীর সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করতে করতে একটা বিশ্বাস
ও মানসিক নিরাপত্তা তৈরি হয়। এছাড়া ৬১ শতাংশ জানিয়েছেন, কাজের বাইরে নতুন মানুষের সঙ্গে
পরিচিত হওয়ার সময় না থাকাও একটি বড় কারণ। তবে অফিসের সম্পর্ক সবসময় সহজ বা সুন্দর অভিজ্ঞতা
হয় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নানা ধরনের জটিলতাও।
সমীক্ষায়
দেখা গেছে, প্রায় ৫৭ শতাংশ কর্মী মনে করেন, অফিসের সম্পর্ক তাদের কাজের পারফরম্যান্সে
প্রভাব ফেলেছে। কেউ কেউ কাজের প্রতি বেশি মনোযোগী হয়েছেন, আবার অনেকের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত
টানাপোড়েন কাজের পরিবেশকেও অস্বস্তিকর করে তুলেছে।
এছাড়া
৫২ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সম্পর্কের কারণে সহকর্মীদের আচরণ বদলে গেছে। অফিসে গুজব,
ঈর্ষা বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও বেড়েছে অনেক ক্ষেত্রে। প্রায় অর্ধেক কর্মী বলেছেন,
সহকর্মীদের মধ্যে তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা বা কানাঘুষা চলেছে।
আরও
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, প্রায় ৩৫ শতাংশ কর্মী তাদের সম্পর্কের বিষয়টি অফিস কর্তৃপক্ষকে
জানান না। কারণ হিসেবে তারা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, অস্বস্তি কিংবা চাকরিগত ঝুঁকির কথা
উল্লেখ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের
মতে, কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। মানুষ যেখানে বেশি সময় কাটায়,
সেখানেই আবেগ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে সম্পর্কের কারণে যেন কর্মপরিবেশ, পেশাদারিত্ব
বা অন্য সহকর্মীদের স্বস্তি নষ্ট না হয়, সেই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ
অফিসের সম্পর্ক শুধু দুজন মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় হয় না, অনেক সময় সেটি পুরো কর্মপরিবেশের
ওপরও প্রভাব ফেলে।
এ
ব্যাপারে সাদমিনা নামের এক তরুণী বলেন, ‘অফিসে একজনকে ভালো লাগে। একসঙ্গে কাজ করতে
করতে কখন যে তার প্রেমে পড়ে গেলাম টেরই পেলাম না। আমরা একসঙ্গে লাঞ্চে যাই, চা খেতে
যাই, কাজের বাইরেও অনেক গল্প হয়। তবে ভালোলাগার কথাগুলো এখনও আদান-প্রদান হয়নি।’
এদিকে
সহকর্মীকে বিয়ে করা শাহরিয়ার নীরব নামের এক যুবক বলেন, ‘আমরা একই অফিসে চাকরি করি।
৫ বছর আগে যখন আমাদের প্রেম হয় তখন আশেপাশের সহকর্মীরা আমাদের দেখে হাসতো, মজা নিতো।
ব্যাপারটা আমরাও বেশ উপভোগ করতাম।’
নীরব
হেসে হেসে আরও বলেন, ‘আমরা যখন প্রেম করতাম তখন অফিসের কাজের চাপ থাকলেও চাপ মনে হতো
না। প্রেয়সীর চোখের দিকে তাকালেই সব ক্লান্তি দূর হয়ে যেত, অফিস ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও
টের পেতাম না।’
সহকর্মীর
সঙ্গে সংসার কেমন কাটছে এমন প্রশ্নের জবাবে নীরব বলেন, ‘আমরা ভালো আছি। সংসার জীবনের
এত বছরেও প্রেমের প্রথম দিনের মতোই মনে হয় এখনও। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমরা এখনও
সহকর্মী।’
মন্তব্য করুন


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সারা দেশে ৪৬০টি টহল দল মোতায়েন রয়েছে।
১৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক আ ন ম ইমরান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক আ ন ম ইমরান খান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীতে ১৬০টি টহল দলসহ সারা দেশে র্যাবের ৪৬০টি টহল দল মোতায়েন রয়েছে।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মোঃ নাহিদ
ইসলাম বলেছেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিতে প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।
দেশের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) তথ্য ও সম্প্রচার
মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়
সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, সরকার
গণমাধ্যমকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। এই স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে সাংবাদিকতা কীভাবে
গড়ে উঠবে, এ বিষয়টি বাংলাদেশের সাংবাদিকেরা নির্ধারণ করবেন। গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। এ কমিশন গণমাধ্যমের অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারের
নিকট প্রতিবেদন দেবে। কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার গণমাধ্যম সংস্কারের উদ্যোগ
গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ের অনেক সাংবাদিক
আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। তবে, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষের কারণে সবক্ষেত্রে
আন্দোলনের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচার হয়নি।
মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের
সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পূর্বে আবশ্যিকভাবে সত্যতা যাচাই
করতে হবে। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের পর গণমাধ্যমের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। তিনি বৈষম্য
বিরোধী আন্দোলনে শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগ গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারের উপর গুরুত্বারোপ
করেন।
মন্তব্য করুন


ফের দেশের ৩ জেলায় শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। আগামী সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
গত ৩ জানুয়ারি উত্তরাঞ্চলের ৩ জেলায় মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। সেই শৈত্যপ্রবাহ ৩ দিন স্থায়ী ছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে নির্দিষ্ট সময় ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে বলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে হলে তাকে বলে মাঝারি এবং তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে বলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে তাকে বলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ।
শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল কিশোরগঞ্জের নিকলি ও চুয়াডাঙ্গায়। এছাড়া সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ঈশ্বরদীতে ৯ দশমিক ৮ ও দিনাজপুরে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল।
বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াত ছিল নিকলিতে। শুক্রবার ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে হয়েছে ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, কিশোরগঞ্জ, পাবনা, দিনাজপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
মন্তব্য করুন


সরকার রোজার শুরুতেই খেজুর ও চিনির দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ।
সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফুয়ারা খাতুনের সই করা এক সার্কুলারে এসব তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়, নিম্নমানের খেজুরের দাম ধরা হয়েছে কেজিতে ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকা। আর বহুল ব্যবহৃত জাইদি খেজুরের কেজি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা।
প্রতি কেজি অতি সাধারণ খেজুরের দর ঠিক করা হয়েছে ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকা। এছাড়া কেজিপ্রতি চিনির মূল্য ১৪০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
পাশাপাশি প্রতি কেজি চিনির মূল্য ১৪০ টাকা ঠিক করা হয়েছে। তাছাড়া প্যাকেটজাত চিনির সর্বোচ্চ দর ধার্য করা হয়েছে ১৪৫ টাকা। এসব দামে খেজুর ও চিনি বিক্রি করতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে নিম্নমানের খেজুরের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে দামি খেজুরের দাম ঠিক করে দেয়া হয়নি। ভারত থেকে ৫০ হাজার টন পিঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। আশা করি, শিগগিরই তা দেশে আসবে। এতে মসলাজাতীয় পণ্যটির দরও কমে যাবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার নিত্যপণ্যের দাম কমানোর চেষ্টায় করছে। বাজারে কোনো পণ্যের স্বল্পতা নেই। চালের দরম নিয়েও অস্বস্তি নেই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে মনিটরিং হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে গঠিত হবে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সংবাদমাধ্যমের সংস্কার : কেন? কীভাবে?’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনায় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ডসহ বেতনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে দাসসুলভ আচরণের সুযোগ নেই। সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা কেন পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে পারেন না, সেসব বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দেশে গণমাধ্যম সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমে পেশাদারিত্বের সংস্কৃতি অনুপস্থিত। অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে ঐক্যমতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে কাজ করা হবে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিক সংগঠনসমূহের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সম্প্রতি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে উপদেষ্টা বলেন, এই অভ্যুত্থান গণমাধ্যমের জন্য বড়ো কেস স্টাডি। এই অভ্যুত্থানে গণমাধ্যমের কী ভূমিকা ছিল তা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় মাঠ পর্যায়ে অনেক সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ করলেও মিডিয়া হাউজ পলিসির কারণে সেসব সংবাদ প্রকাশ করেনি।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ইলেকট্রনিক মিডিয়া আন্দোলনের পক্ষে কোনো তথ্যই প্রচার করেনি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ওই সময় ইলেকট্রনিক মিডিয়া কী প্রচার করেছে, তা দেশের মানুষ জানে। এই অভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধও দেখা যায়নি।
মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি অভিহিত করে তিনি বলেন, সামনের দিনগুলোতে সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি তরুণদের এই পেশায় আগ্রহী করে তুলতে হবে।
এসময় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সংস্কারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
মুক্ত আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. সাইফুল আলম চৌধুরী প্রমুখ।
মিডিয়া সাপোর্ট নেটওয়ার্কের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন সাংবাদিক জিমি আমির। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক বলেছেন, আপাতত বন্যার্ত মানুষকে বাঁচানোই আমাদের প্রধান কাজ। তাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া, ক্ষুধার অন্ন জোগানো, শিশু ও নারীসহ সবার স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নেওয়া; এটায় এখন আমাদের প্রধান কাজ।
শুক্রবার (৩০ আগস্ট) রাতে নোয়াখালী সার্কিট হাউসে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফারুক-ই-আজম এসব কথা বলেন।
সরকারি কর্মকর্তাদের আরও বেশি উদ্যোগী হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এখানে জনসম্পৃক্ততা যেটা হয়েছে, তাদের সাথে সমন্বয় করবেন। এ সমন্বয় যেন কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন না হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবীসহ সকল স্বেচ্ছাসেবীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আপনাদের মধ্যে যদি মতদ্বৈততা হয়, আপনারা আলোচনার টেবিলে বসবেন। তরুণরা এই বন্যায় এগিয়ে এসেছে। আমাদের রিসোর্সেরও অভাব নেই। অনেক প্রতিষ্ঠান আছে তারাও কাজ করতে আগ্রহী। অনেক প্রতিষ্ঠান আসছে দেশের ও দেশের বাইরের।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর রিফাত আনোয়ার, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শারমিন আরা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) বিজয়া সেন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা।
মন্তব্য করুন


টাঙ্গাইলের
গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের এক ইউপি সদস্য সরকারি
রাস্তার (হালট) ইট তুলে নিয়ে নিজ বাড়িতে পাকা বাথরুম বানিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ওই ইউপি সদস্যের নাম আয়েশা বেগম। তিনি ওই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের
মহিলা সদস্য।
সরেজমিন
গিয়ে দেখা যায়, গোপালপুর উপজেলা গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি(কাবিটা) মোতাবেক
(উপজেলা পরিষদ ওয়ারী) ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে (১ম ও ২য় পর্যায়)পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের জসিম
মিয়ার বাড়ি থেকে আজমত হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৬শ মিটার গ্রামীন
সড়ক বা হালটে মাটি ভরাট ও ইটের সলিং করা হয়।
গ্রামের
মোড়ল আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, পাশেই প্যারাজানি বিল। সেখানে সহস্রাধিক একরে বোরো
ও রোপা আবাদ হয়। বিলে হালচাষ এবং সেখান থেকে ফসল ঘরে আনার জন্য সড়কটি একমাত্র অবলম্বন।
এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন গ্রামীন সড়কটি মেরামত ও ইটের সলিং করে।
প্রকল্পের
সভাপতি ছিলেন ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম নিজেই। আর কাজের ঠিকাদারি পান স্বামী তোফাজ্জ্বল
হোসেন। কিন্তু দুই মাস আগে ইউপি সদস্য ও তার স্বামী দুজনে মিলে দিন দুপুরে রাস্তার
সকল ইট তুলে রিকসা ভ্যানে করে বাড়ি নিয়ে যায়।
গ্রামবাসীরা
ইট তোলার কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, রাস্তা পাকা হবে। তাই ইট তুলে খোয়া বানানো হবে।
পরে সেই ইট দিয়ে তারা বাড়িতে পাকা বাথরুম বানায়।
এদিকে ইট তুলে নেওয়ায় চলতি বর্ষায় রাস্তার মাটি ধ্বসে পড়ছে। ফলে মাঠ থেকে কৃষকরা
বোরো ধান বাড়ি নিয়ে আসতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
গ্রামের
প্রবীন আব্দুল জলিল জানান, স্বামী-স্ত্রী দুইজনে মিলা সরকারি টেহায় ইচ্ছামত ইটের রাস্তা
বানাইছে। আবার তারাই দিন দুপরে রাস্তার ইট তুইলা নিয়া বাড়িতে গোছলখানা আর পাকা পায়খানা
দিছে। এরা প্রভাবশালী। কিছু কইতে গেলেই মাইরতে আসে। তাই সবাই চুপচাপ হইয়া আছে।’
গত রবিবার ওই ইউপি সদস্যের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার কাজের সাইনবোর্ডটি বাথ রুমের
পাশে পড়ে রয়েছে। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্যের স্বামী
এবং ঠিকাদার তোফাজ্জল হোসেন জানান, তিনি ওই অর্থ বছরে ওই ইউনিয়নের ৪টি গ্রামীন সড়ক
সলিং করার কাজ পান।
কাজ
শেষে সাড়ে তিন হাজার ইট থেকে যায়। সেই ইট দিয়ে বাড়িতে পাকা বাথরুম বানিয়েছেন। বরাদ্দ
দেওয়া বাড়তি সরকারি ইট ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যায় কিনা প্রশ্নে জানান, উপজেলা
প্রশাসন তো কখনো ইট ফেরত চায়নি। এখানে সাংবাদিকদের কি সমস্যা? এদিকে ইউপি সদস্য আয়েশা
বেগম জানান, গ্রামের কিছু দুষ্ট লোক রাতের আধাঁরে রাস্তার ইট চুরি করে নিয়ে গেছে। তাই
রাস্তার ইট দিয়ে বাথরুম বানানোর প্রশ্নই আসেনা।
ইট
চুরির ঘটনা প্রশাসনকে কেন জানানো হয়নি প্রশ্নে জানান, রাস্তাটি পুনঃসংস্কার করার জন্য
নতুন প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। তাই হারিয়ে যাওয়া ইট নিয়ে ভাবা হচ্ছেনা। গোপালপুর উপজেলা
প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইউপি সদস্যকে মাত্র তিন দিন
সময় দেওয়া হয়েছে।
এ
সময়ের মধ্যে নিজের টাকায় ইট কিনে রাস্তা চলাচলের উপযোগী না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার
মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, সরকারি নিয়মনীতি মেনে নবীন কর্মকর্তাদের দেশ
সেবায় আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি)
তথ্য ভবনে ৪৩তম বিসিএস তথ্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের ৫ দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণের
সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
তথ্য সচিব বলেন, কর্মক্ষেত্র
সবসময় অনুকূলে নাও থাকতে পারে। নিজ নিজ কর্মদক্ষতার মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবেশ
গড়ে তুলতে হবে। জনগণের মনের কাছে পৌঁছাতে হলে সরকারি কর্মকর্তাদের ইতিবাচক গুণাবলি
অর্জন করতে হবে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অর্পিত
দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
৫ দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতার প্রশংসা করে সচিব বলেন, নবীন কর্মকর্তাদের
হাত ধরেই তথ্য সার্ভিস সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। তিনি নবীন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের
ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি
ছিলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফারাহ শাম্মী, বাংলাদেশ টেলিভিশনের
মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফায়জুল হক, বাংলাদেশ
বেতারের মহাপরিচালক এ এস এম জাহীদ, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদা
বেগম, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবদুল জলিল, বাংলাদেশ
চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইন্সটিটিউটের প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন
ও বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে ওরিয়েন্টেশন
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়। পাঁচ দিনব্যাপী এই ওরিয়েন্টেশন
প্রশিক্ষণের মূল্যায়নে সহকারী বেতার প্রকৌশলী সাজিদ বিন আলমগীর প্রথম স্থান অর্জন করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারি
৪৩ তম বিসিএস থেকে তথ্য সাধারণ ক্যাডারে ২১ জন এবং তথ্য প্রকৌশল ক্যাডারে ১৪ জন কর্মকর্তা
যোগদান করেন।
মন্তব্য করুন


দেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তিনি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত কেবিনেট সভায় এই নির্দেশনা দেন তিনি।
দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে উপদেষ্টারা এই জেলাগুলো পরিদর্শন করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আজ কেবিনেট বৈঠকে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এবং ড. ইউনূস উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের কথা বলেছেন।’
তিনি আরো জানান, ১০ জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে এবং সর্বশেষ হিসাবে ৩৬ লাখ মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরকে উদ্ধৃত করে শফিকুল আলম জানান, দীর্ঘ সময় ধরে অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পাঁচ জয়িতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
শুক্রবার(৮ মার্চ) সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৪ উদযাপন উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানে পাঁচ জয়িতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন রিমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক।
সম্মাননা পেয়েছেন তারা হলেন-ময়মনসিংহের আনার কলি, সিলেটের চা শ্রমিক কমলী রবিদাশ, রাজশাহীর কল্যাণী মিনজি, বরগুনার জাহানারা বেগম ও খুলনার পাখি দত্ত হিজড়া।
মন্তব্য করুন