

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষক দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার মর্যাদা পাবেন। পাশাপাশি তাদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত হবে বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে শিক্ষকদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন দোলন।
২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেড করার পাশাপাশি গেজেটেড পদমর্যাদা দেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় ক্ষেত্রেই প্রবেশ পদে বেতন স্কেল দশম গ্রেড করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে গেজেটেড পদমর্যাদা ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে কার্যকর করতে বলা হয়।
তবে ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আপিল খারিজ করে দিয়ে রায় দেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের ওই রায় দীর্ঘ তিন মাসেও কার্যকর না করায় প্রধান শিক্ষকরা আদালত অবমাননার মামলা করেন।
এরপর একই বছরের ২৭ জুন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ কেন সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকর না করে আদালতকে অবজ্ঞা করার অপরাধে বিবাদীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না, মর্মে এক মাসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে দুই দিন আগের তারিখে সিভিল রিভিউ পিটিশন দায়ের করে মন্ত্রণালয়।
পরবর্তীতে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ চূড়ান্ত শুনানি শেষে সিভিল রিভিউ পিটিশনটি নিষ্পত্তি করে রায় দেন। এর ফলে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের ওই রায় কার্যকর করতে আর কোনো বাধা রইলো না। এদিকে, এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রিটকারী প্রধান শিক্ষকরা।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
শিক্ষকরা রাজনীতিতে জড়ালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)-এ দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষায় গুণগত মান বৃদ্ধিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে কারিকুলাম ও পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাচ্চাদের সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করতে শুধুমাত্র বইয়ের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরামর্শ দেন। এজন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার মাধ্যমে পড়াশোনার খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন উপদেষ্টা।
ড. বিধান রঞ্জন রায় জানান, পরিমার্জন এবং টেন্ডার বাতিলের কারণে কিছু ক্লাসে বই বিতরণে বিলম্ব হয়েছে। তবে জানুয়ারির মধ্যেই প্রাথমিকের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির সব বই বিতরণ সম্পন্ন হবে।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেপের পরিচালক ফরিদ আহমেদ, উপপরিচালক সাদিয়া উম্মুল বানিন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। পরে তিনি দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
মন্তব্য করুন


মিটফোর্ডে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ শনিবার সকালে ঢাকা জেলা পুলিশ লাইন ও রিজার্ভ ফোর্স কার্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা জানায়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতির দায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর না। তবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করছে না।
উপদেষ্টা বলেন, আমরা খুব অসহিষ্ণু হয়ে গেছি। এই অসহিষ্ণুতা আমাদের কমিয়ে আনতে হবে। সমাজের নীতি-নির্ধারক, অভিভাবক, শিক্ষক, চিকিৎসক সবার চেষ্টায় এই সহিংসতা কমিয়ে আনতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা সবাইকে অনুরোধ করছি, কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়। কোনো ঘটনা ঘটলে সেটা যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেটার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
অনেকে অভিযোগ করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো কঠোর হচ্ছে না, এমন অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর না হলে পাঁচজনকে কীভাবে গ্রেফতার করা হলো? গতকাল কাঠমান্ডুর বিমানের ফ্লাইটে ফেরত আসার ঘটনায় যে মহিলা টেলিফোন করেছিল, তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে যে পরামর্শ দিয়েছে তাকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অনেক সময় দু-এক জায়গায় হয়তো একটু দেরি হতে পারে। তবে এসব ঘটনায় আমরা সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশনে যাই।
মন্তব্য করুন


কাউকে গ্রেফতার করলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তার পরিবারকে বিষয়টি জানাতে হবে- ফৌজদারি কার্যবিধিতে এমন সংশোধনী এনেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
এখন এটি কার্যকর হলে কাউকে গ্রেফতার করে থানায় নেওয়ার সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবার, বন্ধু বা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানাতে হবে। কোনো অবস্থায় এই সময় ১২ ঘণ্টার বেশি নেওয়া যাবে না।
বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সংবিধান ও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী- কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করতে হয়। অন্যদিকে কাউকে গ্রেফতার করার সঙ্গে সঙ্গে তার পরিবার ও স্বজনদের জানাতে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন


অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে আর কোনো দিন দিনের ভোট রাতে হবে না। আমরা দায়িত্ব নিয়েছি আপনাদের গোপন বুথ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার। সেখানে গিয়ে আপনার ভোট যাকে ইচ্ছা, তাকে দিতে পারবেন।
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সপ্তাহব্যাপী কয়েকটি সভা ও সেমিনারে অংশ নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক এবং সৈয়দ মাহমুদ হোসেনদের মত কুলাঙ্গাররা ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে ভোটের অধিকার হরণ নিশ্চিত করেছিলেন। বিচারাঙ্গনে কোন মাফিয়া থাকবে না, কোন চক্রের সিন্ডিকেট থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন আসাদুজ্জামান।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তিনি প্রতিনিয়ত মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। এ লড়াইয়ে সফলও হচ্ছেন। তিনি মাদক ও দুর্নীতির তথ্য দিয়ে সগযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা শৈলকুপাকে মাদকমুক্ত করে গড়ে তুলবো। কথা দিচ্ছি মাদকের তথ্যদাতাদের নাম পরিচয় গোপন রেখে কেবল মাদকের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখনই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে না। তফসিল ঘোষণার প্রায় দুই মাস আগে ভোটের তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে। স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।
আজ শনিবার সকালে রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সিইসি। শুরুতে তিনি সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন। বিকালে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।
সেখানে সিইসি বলেন, নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানের চেয়ে আরো উন্নত করা হবে। প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের রদবদল করা হবে।
মানুষের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ কমে যাওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা ফেরানো এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারও বেড়েছে, যা নির্বাচনের জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই তাদের সঙ্গেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করবে বর্তমান কমিশন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করার আগ্রহের প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, ভোটের সময় সাংবাদিকরা যেন অবাধে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
রংপুরে দিনব্যাপী নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে আগামীকাল তিন দিনের সফর শেষে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের।
মন্তব্য করুন


তিন দশক আগে ১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ৯ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এ সময় হাইকোর্ট বলেন, মামলাটি বিদ্বেষ্পূর্ণ, রায়ে পক্ষপাতিত্ব করেছে বিচারিক আদালত।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম ও বিচারপতি হামিদুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে আসামিদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ।
এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আদালতকে বলেন, শেখ হাসিনাকে খুশি করতেই ২০১৯ সালের ৩ জুলাই ৯ জনকে ফাঁসি ও ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও অর্থদণ্ড দেন পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
তিনি আরও বলেন, এ মামলায় মোট আসামি ছিলেন ৫২ জন। এরা সবাই বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী। মামলা চলাকালীন পাঁচ আসামি মারা গেছেন। ১৯৯৪ সালে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা। ওই বছর ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ট্রেন মার্চ করেন তিনি। ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে পৌঁছালে শেখ হাসিনার বগি লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছোড়া হয় বলে মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনযোগে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। পথে সভা করার কথা থাকলেও বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুসহ তার নেতৃত্বে মামলার অন্যান্য আসামিরা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঈশ্বরদী স্টেশন এলাকায় ট্রেনে গুলি ও বোমা বর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় ঈশ্বরদী জিআরপি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওইদিনই একটি মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে সিআইডি। ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল ৫২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। এদের মধ্যে পাঁচজন মারা গেলে তাদের চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে ৩ জুলাই জাকারিয়া পিন্টুসহ ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। সেই সঙ্গে ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর মেয়াদ কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়।
পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি খালাস চেয়ে আপিল করেন আসামিরা।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। সোমবার (২১ অক্টোবর) সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ অভিমত প্রকাশ করেন।
বৈঠকে ডিজিটাল প্রযুক্তি দ্রুত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এছাড়া বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলের সকল সরকারি কর্মকর্তার জন্য ই-রিটার্ন পোর্টালের মাধ্যমে কর বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক করা এবং বৃহৎ করপোরেশনগুলোকে ই-রিটার্নে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ডিজিটালাইজেশন বিষয়ে সারাদেশে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরুর সিদ্ধান্তও বৈঠকে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো (এনএসডাব্লিউ) প্রকল্পকে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে উন্নত করার ওপর নতুন করে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
এছাড়া বৈঠকে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করা, সামগ্রিক চিত্র ও সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন রোডম্যাপের দিকে নজর রাখা এবং ভূমি সম্পর্কিত জনসেবা সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের জন্য কার্যনির্বাহী সময়সূচি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে মুখ্য সচিব মো. সিরাজ উদ্দিন মিয়া, এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান অশিক চৌধুরীসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


এখনই পে কমিশন বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে এ কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘এখনই পে কমিশন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আরো একটু সময় লাগবে। অন্তর্বর্তী সরকার একটা কাঠামো তৈরি করে যাবে। নির্বাচিত সরকার পে কমিশন বাস্তবায়ন করবে।’
এর আগে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি আমাদের সময়ে (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) এটা করতে পারবে কিনা এটা কিছুটা অনিশ্চিত। কারণ তিনটা রিপোর্ট দেখে ওটাকে রিকনসাইল করতে হবে।
রিকনসাইল করার পর প্রশাসনিক কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। এজন্য আমি বলেছি যে আমাদের সময় এটা করতে পারব কিনা এটা কিছুটা আনসার্টেনটি (অনিশ্চয়তা) তৈরি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘রিপোর্ট দেখে ওটাকে আবার রিকনসাইল করতে হবে। এর পর এডমিনিস্ট্রেট কতগুলো প্রসেস আছে, সচিব কমিটি আছে ওরা দেখবে, তারপর মোপা (জনপ্রশাসন) আছে ওরা দেখবে।
তখন ফাইনান্স দেখে কত সম্পৃক্ত ওটার পরে ওটা ইমপ্লিমেন্ট করা যাবে। অতএব একেবারে আমাদের সময়ে ইমপ্লিমেন্ট করা যেতে নাও পারে। সেজন্য আমি বলেছি যে রিপোর্ট হওয়ার পর একটা মোটামুটি একটা ফ্রেমওয়ার্ক দিয়ে যাব। আমরা যদি সেই সময়ের মধ্যে এটা রিকনসাল করতে পারি, তবে করব।’
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘তিনটি রিপোর্ট পাওয়ার পর সেগুলো যাচাই-বাছাই করে তারপরই কমিশন দিতে হবে। বর্তমান সরকার একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করবে, আর পরবর্তী সরকার সেটি বাস্তবায়ন করবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত ৮ বছরে এ বিষয়ে কিছু হয়নি, তাই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। তবে এখানে বাজেটের বিষয়ও আছে এবং সরকারের অন্যান্য সামাজিক খাতকেও বিবেচনায় নিতে হবে। পরবর্তী সরকার পে কমিশন দেবে না কেন? এটা তো যৌক্তিক।’
সংশোধিত বাজেটের আকার কিছুটা কমছে। তবে টাকার অংকে খুব বেশি নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বাজেট যখন দেয়া হয়েছিল তখনকার বাস্তবতা অনুযায়ী ঠিক ছিল, কিন্তু বাজেট কার্যকর করতে গিয়ে নানা ইস্যু চলে এসেছে। তাই বাজেট কিছুটা কমানো হবে।’
সভায়, রোজার আগে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সয়াবিন তেল ও চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ৪০ হাজার ‘বডি অর্ন ক্যামেরা’ কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ইউএনডিপির মাধ্যমে নাকি কোন মাধ্যমে কেনা হবে তা সিদ্ধান্ত হয়নি।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে জাতীয় নির্বাচনের সময় জানান প্রেস সচিব।
প্রেস সচিব বলেন, সংস্কার ও নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকার কাজ করছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন।
এর আগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, ‘অল্প কিছু সংস্কার করে ভোটার তালিকা নির্ভুলভাবে তৈরি করার ভিত্তিতে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয় তাহলে ২০২৫ সালের শেষের দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠান হয়তো সম্ভব হবে।
আর যদি এর সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রত্যাশিত মাত্রার সংস্কার যোগ করি তাহলে অন্তত আরও ছয় মাস অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। মোটা দাগে বলা যায়, ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা যায়।
মন্তব্য করুন


এইচএসসিতে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং কুমিল্লা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭ হাজার ৯২২ জন।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) শিক্ষাবোর্ডের ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়।
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে সিলেট শিক্ষাবোর্ডে। আর সর্বনিম্ন পাসের হার ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ডে।
জানা যায়, সর্বোচ্চ সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আর সর্বনিম্ন ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৩ দশমিক ২২ শতাংশ।
এছাড়া ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৭৯ দশমিক ২১ শতাংশ, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৭০ দশমিক ৩২ শতাংশ, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮১ দশমিক ৮৫ শতাংশ, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৮১ দশমিক ২৪ শতাংশ, যশোর শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ ও দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
এ ছাড়া এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন এক লাখ ৩১ হাজার ৩৭৬ জন। ২০২৩ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৯২ হাজার ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী। সে হিসেবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে ৫৩ হাজার ৫৪৬ জন।
এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আর এইচএসসি নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
মন্তব্য করুন