

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ভারতে যাচ্ছে ৩ হাজার ৯৫০ টন ইলিশ। এ লক্ষ্যে ৭৯টি প্রতিষ্ঠানকে রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয় থেকে এ অনুমোদন দিয়ে আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
৭৯টি প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেককে ৫০ টন করে রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ইলিশ মাছ রপ্তানির বিষয়ে পাওয়া আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে শর্ত সাপেক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নামের নির্ধারিত পরিমাণ ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলো।
রপ্তানির শর্তে বলা হয়, রপ্তানি নীতি ২০২১-২০২৪ এর বিধি-বিধান অনুসরণ করতে হবে, শুল্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রপ্তানির অনুমতি পাওয়া পণ্যের কায়িক পরীক্ষা যথাযথভাবে করতে হবে, প্রতিটি কনসাইনমেন্ট জাহাজীকরণ শেষে রপ্তানি সংক্রান্ত সব কাগজপত্র ই-মেইল করতে হবে এবং অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি রপ্তানি করা যাবে না।
প্রতিটি পণ্যচালান রপ্তানিকালে শুল্ক কর্তৃপক্ষ এসোডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম পরীক্ষা করে অনুমোদিত পরিমাণের অতিরিক্ত পণ্য রপ্তানি না করার বিষয়টি নিশ্চিত হবেন, এ অনুমতির মেয়াদ আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে সরকার মৎস্য আহরণ ও পরিবহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ করলে তা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ অনুমতির মেয়াদ শেষ হবে।
এতে আরও বলা হয়, সরকার প্রয়োজনে যেকোনো সময় ইলিশ মাছ রপ্তানি বন্ধ করতে পারবে। এ অনুমতি কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং অনুমোদিত রপ্তানিকারক ব্যতীত সাব কন্ট্রাক্টে রপ্তানি করা যাবে না।
মন্তব্য করুন


আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, আইন ও নীতিমালা মেনে চললে জনগণের সেবা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই জেলা প্রশাসকদের প্রধান দায়িত্ব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আপনারা যদি আইন ও বিবেক অনুযায়ী কাজ করেন, তাহলে জনগণের প্রতিপক্ষ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি আইন ও সংবিধানের পরিপন্থী।"
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় ও শেষ দিনের পঞ্চম অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। এই অধিবেশনে আইন ও বিচার বিভাগ, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আসিফ নজরুল বলেন, "ডিসি সম্মেলন আমার জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং চ্যালেঞ্জগুলি ডিসিরা ভালোভাবে বুঝেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "ডিসিরা আমাদের জানিয়েছেন যে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের গ্রেপ্তারের পর তারা দ্রুত জামিন পেয়ে যাচ্ছেন, যা তাদের জন্য একটি বড় চিন্তার বিষয়। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, আদালতের কাজই হলো উপযুক্ত ক্ষেত্রে জামিন দেওয়া। তবে এ ধরনের বিষয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা ডিসিদের বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেছি। মামলার ক্ষেত্রে সলিসিটর উইংকে আরও কার্যকরভাবে সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ডিসি অফিসে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্থান সংকুলানের সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়েছে এবং এর সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ে আসিফ নজরুল বলেন, "আমরা ডিসিদের অনুরোধ করেছি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার পর ছাত্ররা যে কয়েক মাস সময় পায়, সে সময়টাতে তাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হোক।" তিনি আরও যোগ করেন, "ডিসিরা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, বিদেশে যেতে ইচ্ছুক সকলের একটি ডাটাবেজ তৈরি করা উচিত, শুধু প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের নয়। আমরা এই পরামর্শ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি এবং শীঘ্রই এই কাজ শুরু হবে।"
তিনি আরও বলেন, "জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি নিয়োগ সংস্থাগুলোকে শক্তিশালী করার বিষয়েও ডিসিরা পরামর্শ দিয়েছেন। এটি আমাদের চিন্তাভাবনার সাথে মিলে গেছে।"
প্রশাসনের মেধাবী কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, "দুর্ভাগ্যবশত, অতীতের একটি ফ্যাসিস্ট সরকার এই দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জনগণের ওপর অত্যাচার ও নিপীড়নের কাজে ব্যবহার করেছে। তবে আমরা চাই, ভবিষ্যতে যেই দলই ক্ষমতায় আসুক, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এই বিশাল সম্ভাবনাকে জনগণের সেবায় নিয়োজিত করা হোক। সংবিধানেও এটিই প্রত্যাশিত।"
তিনি আরও বলেন, "সারা দেশে অনেক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) তৈরি হয়েছে, কিন্তু সেগুলো থেকে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু টিটিসি নয়, বাংলাদেশে অনেক ভবন ও কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলেও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গত ছয় মাসে আমি এটি অনুভব করেছি। আমরা ভালো কিছু করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
মন্তব্য করুন


দেশ থেকে পাচার হওয়া কয়েকশ কোটি ডলার এ বছরের মধ্যেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। আজ মঙ্গলবার (১১ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, "আমরা চেষ্টা করছি, বিশাল অংকের টাকা। সব টাকা আনতে সময় লাগবে। তাদের শনাক্ত করতে হবে। পাচারের সঙ্গে জড়িতরা বিভিন্ন দেশে আছেন। এখানে কতগুলো আইনের পদক্ষেপও রয়েছে, আবার সে আইনের পদক্ষেপগুলো বিদেশের সঙ্গেও জড়িত। এ জন্য একটি বিশেষ আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার, শিগগিরই যা অধ্যাদেশ আকারে জারি হবে।"
সরকার কয়েকশ কোটি ডলার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এটা কি সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, "হ্যাঁ, এটা সম্ভব। অনেক সময় দেখা যায় ১১-১২ জন দিয়েছে, ২০০ কোটি টাকার ওপরে অনেকের শনাক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে হয়তো আমরা আনতে পারব।"
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সহযোগীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে এবং অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। সবাইকে এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।’
প্রধান উপদেষ্টা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার যে কোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সর্বদা সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমাদের এমন সতর্ক থাকতে হবে, যেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রয়েছি। এ বছর দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে অরাজকতা সৃষ্টি করতে দেওয়া যাবে না।’ তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে নাগরিকদের মানবাধিকার রক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যে কোনো আক্রমণ প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমরা আমাদের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমাদের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদের এই বিষয়ে খুবই স্বচ্ছ হতে হবে।’
প্রধান উপদেষ্টা পুলিশকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে মুসলমানদের পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকে।
মন্তব্য করুন


ভারতের মণিপুরে মিয়ানমার সীমান্তের কাছে প্রবল ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এই ভূমিকম্পের প্রভাব ঢাকা, সিলেটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হয়েছে।
বুধবার (৫ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ৩৬ মিনিটে এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৬।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মণিপুরের ইয়াইরিপক শহর থেকে ৪৪ কিলোমিটার পূর্বে এবং এর কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। সাধারণত অল্প গভীরতায় সৃষ্ট ভূমিকম্পগুলো বেশি শক্তিশালী ও ভয়ংকর হয়ে থাকে। তবে, এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ বিভাগের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জাগো নিউজকে জানান, এটি একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প ছিল। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার-ভারত সীমান্তে, ঢাকা থেকে প্রায় ৪৪৯ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত এই ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেন, সকাল ১১টা ৩৬ মিনিটে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে। তবে, এই ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিক কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ২টা ৫৫ মিনিটে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সেই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৩। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসামের ভুরাগাঁওয়ে এবং এর কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। উৎপত্তিস্থল ভারতে হলেও এর প্রভাব বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভূটান এবং চীনেও ছড়িয়ে পড়ে।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশে এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ শতভাগ অনুকূলে রয়েছে। রোববার দুপুরে রাজধানীতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কোনো অনিশ্চয়তা নেই। নির্বাচন নিয়ে কমিশনের কাছে প্রতিকূল পরিস্থিতির তথ্য আসেনি। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিরপেক্ষতা ও যৌক্তিক বিষয় বিবেচনা করে সীমানা নিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছি।
তিনি আরও জানান, ভোটারসংখ্যার ভিত্তিতে জেলা পর্যায়ে গড় ও মোট সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোথাও জনসংখ্যা, কোথাও ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং কোথাও প্রশাসনিক দিককে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তবে শতভাগ একভাবে করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভোট কি হবে? এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে ইসি আনোয়ারুল বলেন, এই প্রশ্ন আমাকেও অনেকে করে। ভোট হবে বলেই আমরা রোডম্যাপ ঘোষণা করেছি।
রাজনৈতিক দল নিবন্ধন প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রায় সব রিপোর্ট কমিশনের হাতে এসেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে দলগুলোর নাম নিয়ে আপত্তি জানাতে সুযোগ রাখা হবে।
সংবিধান ও বিদ্যমান আইন নিয়ে বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত আরপিও সংশোধনী আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের পরই চূড়ান্ত হবে। অন্য কোনো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু থাকলে তা সমন্বয় করা হবে।
মন্তব্য করুন


হাইকোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে নুরের ওপর হামলার বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানায়।
প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা সবার জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য নুরকে দেশের বাইরে নেয়া হবে। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা ফোনে নুরের সঙ্গে কথা বলছেন এবং হামলার প্রতি সমবেদনা ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন।
শফিকুল আলম আরও জানায়, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের বিষয় নিয়ে রোববার (৩১ আগস্ট) বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
নির্বাচন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রই ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধের নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না।
এদিকে নুরের ওপর হামলাকে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। ঝিনাইদহে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নুরের ওপর হামলা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। জাতীয় পার্টি অতীতে মানুষের সঙ্গে বেঈমানি করেছে, তাদের পুরোনো ইতিহাস আবারও উন্মোচন হয়েছে। তাই তাদের নিষিদ্ধের দাবি উঠেছে, আইনগত দিক যাচাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এর আগে গতকাল শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় নুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নুরের মাথায় আঘাতজনিত রক্তক্ষরণ হয়েছে, নাক ও ডান চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নিয়ে কোনো জটিলতা নেই। নির্বাচনের সময় নিয়ে কোনো সমস্যা আমরা দেখছি না। কেউ যদি সমস্যা দেখে থাকেন, তাহলে সেটা তিনি ভুল দেখছেন বলে মন্তব্য করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।
লন্ডনের ডোরচেস্টার হোটেলে শুক্রবার (১৩ জুন) শুরু হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ড. খলিলুর রহমান জানান, আজ নির্বাচন নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। এখন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কমিশনার খুব শিগগিরই একটি সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করবেন।
সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘সংস্কার ও বিচার অনেকটাই অগ্রগতি হয়েছে। আমরা মোটামুটি আত্মবিশ্বাসী যে নির্বাচনের আগেই এটি সম্পূর্ণ করতে পারবো।’
তিনি আরও যোগ করেন, সার্বিকভাবে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে যাচ্ছে এবং সরকার এ বিষয়ে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মন্তব্য করুন


প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন ভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সিইসি এ কথা জানান।
সিইসি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানতে চেয়েছে, গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে আগামী নির্বাচনের জন্য আমরা কতটুকু প্রস্তুত। আমরা কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি, ভোটার নিবন্ধন থেকে শুরু করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের টাইমলাইন কেমন হবে—এসব বিষয়ে তারা জানতে চেয়েছেন। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রায় তারা সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তারা চান, গণতান্ত্রিক উত্তরণ সফল হোক। এই পথে যতটুকু সহায়তা প্রয়োজন, তারা তা দেবেন।
কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, তারা বিশেষজ্ঞ পাঠাবেন। তারা পর্যালোচনা করে আমাদের জানাবেন। তাদের মিশন আসবে। নির্বাচন হলে তারা পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকতে চান। আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কারণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছি।
আমরা তাদের বলেছি, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং আমরা সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছি। তারা আমাদের কথা শুনে খুশি হয়েছেন। আমরা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছি, এটা তারা উপলব্ধি করতে পেরেছেন।
তারা বলেছেন, সংস্কারের জন্য সময় কম থাকায় তারা সংস্কারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে তারা চাপ দিচ্ছেন না, বরং পরামর্শ দিচ্ছেন।
সিইসি বলেন, আমরা আমাদের মতামত দিয়েছি। সংবিধান আমাদের যে স্বাধীনতা দিয়েছে, তা যেন নিশ্চিত থাকে, সেটা তাদের জানিয়েছি। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হোক, তা আমরা চাই না। তারা এ বিষয়টি সমর্থন করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকা উচিত। অন্যথায়, জাতি যা প্রত্যাশা করে, তা পূরণ করা সম্ভব হবে না।
মন্তব্য করুন


এখনই পে কমিশন বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে এ কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘এখনই পে কমিশন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আরো একটু সময় লাগবে। অন্তর্বর্তী সরকার একটা কাঠামো তৈরি করে যাবে। নির্বাচিত সরকার পে কমিশন বাস্তবায়ন করবে।’
এর আগে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি আমাদের সময়ে (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) এটা করতে পারবে কিনা এটা কিছুটা অনিশ্চিত। কারণ তিনটা রিপোর্ট দেখে ওটাকে রিকনসাইল করতে হবে।
রিকনসাইল করার পর প্রশাসনিক কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। এজন্য আমি বলেছি যে আমাদের সময় এটা করতে পারব কিনা এটা কিছুটা আনসার্টেনটি (অনিশ্চয়তা) তৈরি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘রিপোর্ট দেখে ওটাকে আবার রিকনসাইল করতে হবে। এর পর এডমিনিস্ট্রেট কতগুলো প্রসেস আছে, সচিব কমিটি আছে ওরা দেখবে, তারপর মোপা (জনপ্রশাসন) আছে ওরা দেখবে।
তখন ফাইনান্স দেখে কত সম্পৃক্ত ওটার পরে ওটা ইমপ্লিমেন্ট করা যাবে। অতএব একেবারে আমাদের সময়ে ইমপ্লিমেন্ট করা যেতে নাও পারে। সেজন্য আমি বলেছি যে রিপোর্ট হওয়ার পর একটা মোটামুটি একটা ফ্রেমওয়ার্ক দিয়ে যাব। আমরা যদি সেই সময়ের মধ্যে এটা রিকনসাল করতে পারি, তবে করব।’
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘তিনটি রিপোর্ট পাওয়ার পর সেগুলো যাচাই-বাছাই করে তারপরই কমিশন দিতে হবে। বর্তমান সরকার একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করবে, আর পরবর্তী সরকার সেটি বাস্তবায়ন করবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত ৮ বছরে এ বিষয়ে কিছু হয়নি, তাই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। তবে এখানে বাজেটের বিষয়ও আছে এবং সরকারের অন্যান্য সামাজিক খাতকেও বিবেচনায় নিতে হবে। পরবর্তী সরকার পে কমিশন দেবে না কেন? এটা তো যৌক্তিক।’
সংশোধিত বাজেটের আকার কিছুটা কমছে। তবে টাকার অংকে খুব বেশি নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বাজেট যখন দেয়া হয়েছিল তখনকার বাস্তবতা অনুযায়ী ঠিক ছিল, কিন্তু বাজেট কার্যকর করতে গিয়ে নানা ইস্যু চলে এসেছে। তাই বাজেট কিছুটা কমানো হবে।’
সভায়, রোজার আগে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সয়াবিন তেল ও চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ৪০ হাজার ‘বডি অর্ন ক্যামেরা’ কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ইউএনডিপির মাধ্যমে নাকি কোন মাধ্যমে কেনা হবে তা সিদ্ধান্ত হয়নি।
মন্তব্য করুন


ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে দুর্নীতি ও অর্থপাচার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, স্বচ্ছ লেনদেনব্যবস্থায় অপচয় কমবে, সাশ্রয় হবে সময়ের আর জনগণের ভোগান্তিও হ্রাস পাবে।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে মোবাইল অপারেটরদের আন্ত ব্যাংকিং লেনদেন বিষয়ে আয়োজিত আলোচনাসভায় এ কথা বলেন গভর্নর।
গভর্নর বলেন, লেনদেনের নানা ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালু হলেও ব্যাংকিং খাতে প্রতিবছর নগদ অর্থের চাহিদা ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে।
এটি অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে চাপ তৈরি করছে। নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনায় সরকারের প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। তাই আমরা এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফরম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে রিকশাচালক থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী-কেউ বাদ যাবে না।
তিনি আরো বলেন, সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে নগদবিহীন অর্থনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
এ জন্য ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত লেনদেনব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে।
মন্তব্য করুন