

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য এশীয় নেতাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ চীনের বোয়াও ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে জোরালো অভিমত প্রকাশ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "মিয়ানমারের সংকট শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমিত নেই, এটি পুরো এশিয়া অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। গত সাত বছরে বাংলাদেশ ১২ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে, যারা মিয়ানমারের নাগরিক। এখন এশীয় নেতাদের উচিত তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা।"
তিনি বলেন, "গাজায় চলমান গণহত্যা বিশ্বব্যাপী নিন্দিত হলেও তা থামছে না। ফিলিস্তিন ইস্যু কেবল মুসলিম বা আরব বিশ্বের সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক মানবিক সংকট। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।"
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে ড. ইউনূস বলেন, "ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত বাড়ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, ঋণের বোঝা অসহনীয় হয়ে উঠেছে এবং মানবিক সংকট দিন দিন গভীর হচ্ছে। এই অবস্থায় এশিয়াকে শক্তিশালী ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে হবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "এশিয়ার উন্নয়নের জন্য এসডিজি বাস্তবায়নের পাশাপাশি অবকাঠামোগত বিনিয়োগ, দায়িত্বশীল অর্থায়ন এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য অর্জনে বড় পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
এশিয়ার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এশিয়ার সভ্যতা বহু সংস্কৃতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এখানে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান শুধু এশিয়াই নয়, সারা বিশ্বকে প্রভাবিত করেছে।"
তিনি এশিয়ার যুবশক্তির সম্ভাবনার ওপর জোর দিয়ে বলেন, "এই অঞ্চলের তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা এশিয়াকে এগিয়ে নিতে পারে। তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।"
এই ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নিয়েছেন, যেখানে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


ধার করে নয়, বরং দেশের রিজার্ভ নিজেদের সক্ষমতাতেই বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইআরএফ মিলনায়তনে ব্যাংকিং সেক্টর রিফর্ম, চ্যালেঞ্জ এবং করণীয় শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ প্রায় ৩৬ শতাংশ, যা হয়ত পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি। আমরা কোন তথ্য গোপন করিনি। তবে ডিসেম্বরে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ স্বাধীনতা দরকার বলেও জানান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আন্দোলন করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার যাতে তাদের সময়ে এটা করে যেতে পারে, তাই আমরা চাই।’
আসন্ন ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার কোন সম্ভাবনা জানিয়ে তিনি বলেন, ধার করে বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে অর্থ নিয়ে রিজার্ভ বাড়ানো দরকার নেই। আমাদের রিজার্ভ আমাদেরই বাড়াতে হবে। আমাদের লক্ষ্য চলতি বছরে ৩৪-৩৫ বিলিয়নে রিজার্ভ নিয়ে যাওয়া।
এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ বলছে, গত ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩২৪৮২ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২৭৮১৭ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
মন্তব্য করুন


রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার সকালে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য জানায়। তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের জান-মালের নিরাপত্তায় বিজিবির সদস্যরা কাজ করবেন।
এদিকে গত কয়েকদিনে রাজধানীতে প্রায় ১০টি বাসে অগ্নিসংযোগ ও একাধিক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় গ্রেফতারও হয়েছে।
জানা যায়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ১৩ নভেম্বর। দিনটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের গুজব ও অপপ্রচার—যার মধ্যে রয়েছে গণসমাবেশ ঘটিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, লকডাউন ঘোষণার গুজব, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগের মতো প্রচারণা। কথিত দুর্বৃত্তরা টানা কয়েকদিন ধরে বেশ কিছু স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়েছে।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী কর্তৃত্ববাদী সরকার নিজেদের অস্তিত্বের প্রশ্নে এখন বেসামাল হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অবৈধ শাসকগোষ্ঠী বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নানা কায়দায় জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে দেশের মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত রাখতে নিষ্ঠুর পথ অবলম্বন করছে।
বৃহস্পতিবার ( ১৮ মে) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, জেলা সমাবেশকে বানচাল করার লক্ষ্যে আওয়ামী সরকারের মদদে জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোণা জেলাধীন বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের কোনও মামলা ছাড়াই বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার এবং বাড়িতে বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমি এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, গতকাল ১৭ মে রাতে জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার ৯নং ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বুলবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, ৮নং ফুলকোচা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ, ২নং কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বেলাল, সাবেক ছাত্রনেতা ও শেরপুর জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. কামাল হোসেনকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করতে বাড়িতে বাড়িতে ব্যাপক পুলিশি তল্লাশি চালানো হয়। তার আগে শেরপুর জেলায় জেলা সমাবেশের প্রস্তুতি সভার আগের রাতে ১১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।
জেলাগুলোতে অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশকে বানচাল করার লক্ষ্যে জনবিচ্ছিন্ন সরকার এ ধরনের অপকর্ম সংঘটিত করছে বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ভোট বানচালের ক্ষমতা কারো নেই। তিনি মনে করেন, সবদল সৎ থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কোনো বাধা নেই, দেশের মানুষ উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দিতে আসবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক কোয়ালিশন আয়োজিত ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তৃতা করেন তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন ভালো হবে, তার একটা প্রতিফলন দেখা গেছে ডাকসুতে।
তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষপাতিত্ব করবে না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
শফিকুল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ সময়সূচি থেকে কেউ সরে আসতে চাইলে তা জাতির জন্য মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে।
তিনি জানান, নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৮ লাখ পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।
শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু সরকারের ইচ্ছায় নয়, সমাজের বিভিন্ন অংশ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার ওপরও নির্ভর করে। ‘ইলেকশন করে সোসাইটি, পলিটিক্যাল পার্টিগুলো- তারা যদি চায়, তাহলে একটি ভালো নির্বাচন অবশ্যই সম্ভব, যোগ করেন তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, জনগণ যদি বন্যার জলের মতো ভোট দিতে কেন্দ্রে ছুটে আসেন, তাহলে কোনো শক্তিই সুষ্ঠু নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। উদাহরণ হিসেবে ডাকসু নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন ভালো হবে, তার একটা প্রতিফলন দেখা গেছে ডাকসুতে। ডাকসুতে যেমন হয়েছে, ঠিক তেমনি সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় নির্বাচনও সম্ভব।’
তিনি বলেন, সবাই নিজ নিজ অবস্থানে সৎ থেকে দায়িত্ব পালন করলে আগামী নির্বাচন হবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।
মন্তব্য করুন


অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক ব্যবস্থা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায়ের ফলে মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পারবেন, দিনের ভোট রাতে হবে না। মৃত মানুষও ভোট দিতে পারবেন না। এর মধ্য দিয়ে দেশ গণতান্ত্রিক মহাসড়কে হাঁটা শুরু করলো।
বৃহস্পতিবার সকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনবর্হাল করে আপিল বিভাগ রায় দেওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন তিনি। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, আপিল বিভাগ আগে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে রায় দিয়েছিলেন। সেই রায়টি আপিল বিভাগ সর্বসম্মতিক্রমে বাতিল করেছেন। আপিল বিভাগ এই রায়কে প্রসপেক্টিভ ইফেক্ট দিয়েছেন। অর্থাৎ আগামী সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর এই রায় কার্যকর হবে। ফলে ত্তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হলো।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে ১৯৯৬ সালে আনা হয়েছিল। সেটাকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না বলে, এটা সাংবিধানিক বলে ঘোষিত হলো। ত্তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবেই হয়তো পূর্ণাঙ্গ রায়ে আসবে। কারণ এই লাইনে শুনানির ভিত্তিতেই কনক্লুশন এসেছে।
নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকলে সংবিধানের ৫৮(গ)৩ অনুসারে প্রধান বিচারপতিই কি এই সরকারের প্রধান হবেন? জুলাই সনদে কিন্তু ভিন্ন ধরনের কথা বলা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় আসলে সেটা দেখা যাবে।
পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার সঙ্গে এই রায় কোনভাবে সাংঘর্ষিক হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। এটা পঞ্চদশ সংশোধনীর ইস্যু। অসৎ উদ্দেশ্যে এই সংশোধনী আনা হয়েছিল উল্লেখ করে হাইকোর্ট এটাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, সে পার্টটা আপিল বিভাগে চ্যালেঞ্জ হয়নি। যদি চ্যালেঞ্জ হয়ও, আপিল বিভাগ এই রায়টাকে অতিক্রম করবে না। এটা রিভিউয়ের রায়। রিভিউয়ে আপিলের অনুমতি দিয়ে এই রায়টা হয়েছে।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পূর্বের অবস্থায় ফিরে গেল। পরবর্তী সংসদ ভেঙে যাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের যে বিধান রয়েছে, সেটা কার্যকর হলো।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজকের রায়ে আগে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়টিকে কলঙ্কিত বলা হয়েছে। এটা কেন বলা হয়েছে, সেটা পূর্ণাঙ্গ রায়ে থাকবে। তবে আমি মনে করি, ওই রায়টি ত্রুটিপূর্ণ ও কলঙ্কিত বলেই তা বাতিল করা হয়েছে। শুনানিতে অনেক গুলো কারণ আমরা দেখিয়েছি। তার অন্যতম একটি হলো, ওই রায়টি লেখার ক্ষেত্রে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকসহ যারা তার সহায়ক ছিলেন, তারা দণ্ডবিধির ২১৯ ধারায় অপরাধ করেছেন। আমাদের আইনে রায়ের সংজ্ঞা বলা আছে, যেটা মুখ দিয়ে ঘোষণা করা হয়, সেটাই রায়। এটা পরিবর্তনের পদ্ধতিও রয়েছে আইনে। তবে তারা কোনো কিছুই অনুসরণ না করে ঘোষিত রায়কে নিজের ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করে দিয়েছেন। এটা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপ করে যে নির্বাচন হয়েছিল, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের যে কবর রচিত হয়েছিল, আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল হওয়ার পর গণতান্ত্রিক মহাসড়কে বাংলাদেশ হাঁটবে, কোনটা জাতির কাছে গ্রহণযোগ্য সেটা আপনারা বিবেচনা করবেন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার ধানমন্ডি থানা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম তোলেন তিনি।
এ সময় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং প্রার্থী ও ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। নানা গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য গণতান্ত্রিক রূপান্তর অন্তত গুরুত্বপূর্ণ।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওসমান হাদি একজন প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনের কার্যক্রম দুই মাস আগে থেকেই শুরু করে দিয়েছিলেন। প্রতিদিন তিনি প্রচারণা করতেন। গণতান্ত্রিক উত্তরণের পক্ষ ছিলেন।
আসিফ আরো বলেন, বিগত দেড় বছরে সরকারে কাজ করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটা নির্বাচনী আসনে জনগণের জন্য কাজে লাগাব।
মন্তব্য করুন


গতকাল রাত থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত শেখ মুজিবের বাড়িটি ক্রেন দিয়ে ভাঙা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি ভবনের অর্ধেকের বেশি এবং অন্য একটি ভবনের ২০ শতাংশ ভাঙা সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটির সামনে হাজার হাজার উৎসুক জনতা জমায়েত হয়েছেন। কেউ কেউ হাতুড়ি-শাবল দিয়ে ভাঙার কাজে অংশ নিচ্ছেন, আবার কেউ কেবল দাঁড়িয়ে দেখছেন। একটি ক্রেন দিয়ে দক্ষিণ পাশের ভবনটি ভাঙার কাজ চলছে।
এ সময় ফয়সাল করীম নামের একজন উৎসুক জনতা বলেন, "এই বাড়িটিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হয়নি। আজ এটা ভেঙে ফেলা মূলত জনরোষের বহিঃপ্রকাশ। আমরা চাই এই জায়গায় একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হোক।"
তার কথার মাঝখানেই অন্য একজন বলেন, "বাড়িটি ভেঙে আন্দোলনে শহীদদের পরিবারের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হোক, যাতে তারা এখানে বসবাস করতে পারে।"
এ সময় কেউ কেউ এই জায়গায় মসজিদ নির্মাণের দাবিও তুলেছেন।
গতকাল সন্ধ্যা থেকেই ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে ৩২ নম্বরের এই বাড়িটিতে আসেন এবং ভাঙচুর শুরু করেন। মধ্যরাতে ক্রেন নিয়ে আসা হয় এবং তখন থেকেই বিরতিহীনভাবে ভাঙার কাজ চলছে।
মন্তব্য করুন


পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারির জন্য আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। যে ১২ জনের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেছে, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালত থেকে বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্ট বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
জুলাই-আগস্ট গণহত্যা মামলার আসামি বিদেশে পলাতক ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে পৃথক তিনটি ধাপে আবেদন করেছে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। শনিবার (১৯ এপ্রিল) পুলিশ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
শেখ হাসিনা ছাড়া আরো যাদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে তারা হলেন—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ।
বিদেশে পালিয়ে থাকা আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করতে ইন্টারপোল সহযোগিতা করে থাকে। অন্যদিকে বিদেশে পলাতক ব্যক্তিদের সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেলে সেটিও সংশ্লিষ্ট দেশ ইন্টারপোলকে জানায়। যে ১২ জনের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে, সেগুলো এখন ইন্টারপোলে প্রক্রিয়াধীন।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এখনো সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদনের বাইরে ভারতসহ যেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে, সে চুক্তির আওতায় বিদেশে পলাতক ব্যক্তিদের ফেরানোর চেষ্টাও রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে।
মন্তব্য করুন


উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৭) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ১ ডিসেম্বর বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেন এই মামলার সব আসামিকে খালাস দেন।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুর রশীদ মোল্লা জানান, মামলায় তারেক রহমানসহ খালাস পাওয়া বেশ কয়েকজন আসামি পলাতক ছিলেন। রায়ে তাদের বিরুদ্ধে পূর্বে থাকা গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের আদেশ দেন আদালত। হাইকোর্টের সেই আদেশ বিচারিক আদালতে আসলে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তারেক রহমানসহ অন্যদের গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের আবেদন করি। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পরোয়ানা প্রত্যাহারের আদেশ দেন।
মন্তব্য করুন


ভোটের দায়িত্ব পালনকালে নির্বাচন কমিশন কোন চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। বুধবার আগারগারগাঁওয়ে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইন্সটিউটে (ইটিআিই) ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সিইসি এ কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কারো অন্যায় চাপে ইসি নতি স্বীকার করবে না আমাদের একটাই মেসেজ আপনাদের কাছে বলতে চাই। কোন প্রেসারের কাছে নতি স্বীকার করবেন না, কোন চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না এবং সম্পূর্ণভাবে নিজের সিদ্ধান্তে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন।
সুষ্ঠু ভোটের দায়িত্ব পালনে সবাইকে ইসি পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি মাঠ পযায়ে কর্মকর্তাদের কাজের সমন্বয়ে ভালো ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন তিনি।
সিইসি জানান, আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সার্বিক সহযোগিতায় থাকব। এবং নির্বাচন কমিশনও কিন্তু কারো কোনো অন্যায় চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। সুতরাং আমরা আপনাদেরকে অন্যায় কোন আদেশ দিব না। অন্যায় কোন হুকুম দিব না। আইন অনুযায়ী আমাদের নির্দেশনা যাবে বা আপনারা সেটা সেভাবে পালন করবেন।
মন্তব্য করুন