

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি কোনো লেথাল ওয়েপন বা মারণাস্ত্র ব্যবহার করবে না বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় মিরপুর জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সের অস্থায়ী বেস ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, এবারের নির্বাচনে দেশব্যাপী ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
কর্নেল এস এম আবুল এহসান বলেন, দেশের ৪,৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই সারা দেশে ৩৭ হাজারেরও অধিক বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। ঝুঁকি বিবেচনায় সারাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে থাকবে। উপজেলাভেদে ২ থেকে ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকার কথা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (আরএটি) এবং হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) প্রস্তুত থাকবে, যারা প্রয়োজন হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিটও মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো শঙ্কা আছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল এহসান বলেন, নির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের শঙ্কা দেখছি না। আমাদের বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশ- আমরা নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোনো ধরনের লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করব না।
মন্তব্য করুন


যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড বা জামানত দেওয়ার শর্তযুক্ত দেশের তালিকা প্রায় তিন গুণ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সর্বশেষ বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এর আগে এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে সাতটি দেশকে ভিসা বন্ডের আওতায় আনা হয়েছিল। নতুন সংযোজনের ফলে মঙ্গলবার পর্যন্ত তালিকাভুক্ত দেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮টি। পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর বেশিরভাগই আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার। বাংলাদেশের পাশাপাশি এতে রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডাসহ একাধিক দেশ। দেশভেদে এই নীতির কার্যকর হওয়ার তারিখ ভিন্ন হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্টধারীরা যদি বি-১/বি-২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার জন্য যোগ্য হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের সময় তাদের ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসাবে)।
ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে কনস্যুলার অফিসার বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীদের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন্ড প্রদানে সম্মতি জানাতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া আগাম কোনো অর্থ জমা না দিতে সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
এই ভিসা বন্ড নীতি একটি পাইলট কর্মসূচির আওতায় গত আগস্টে প্রথম চালু করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার হার বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো যদি কোনো ধরনের বিক্ষোভের চেষ্টা করে, তাহলে আইন তার সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (বিএএল), তাদের সহযোগী এবং গণহত্যাকারী নেত্রী সম্ভবত ভাবছেন, এটি আবারও ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের মতো সময়। তারা কল্পনা করছে—দুপুরবেলা ডজনখানেক মানুষকে হত্যা করে হাজার হাজার সন্ত্রাসীকে ঢাকার কেন্দ্রে পাঠিয়ে রাস্তাগুলো দখল করবে। দুঃখিত, এখন এটি নতুন বাংলাদেশ।”
তিনি আরও লেখেন, “জুলাই বিপ্লবীদের ধৈর্য পরীক্ষা করবেন না এবং মনে রাখবেন—এটি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর নয়। এটি জুলাই—চিরদিনের জুলাই।”
মন্তব্য করুন


মাগুরায় বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার শিশুটির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)কে শিশুটির ছবি সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি দুপুর সোয়া ১২টার মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর কাছে তথ্য জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৯ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামান জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মাগুরাসহ সারাদেশে ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায়, পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাগুরার ওই শিশুর সব ছবি ইউটিউব, ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য বিটিআরসিকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে আদালত জানিয়েছেন।
এর আগে, শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শিশুটিকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
এদিকে, ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটির মা মামলা করেছেন। মামলায় শিশুটির বোনের স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ভাশুরকে আসামি করা হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে পুলিশের হেফাজতে আছেন। মামলার এজাহারে শিশুটির মা অভিযোগ করেন, তার মেয়ের স্বামীর সহায়তায় শ্বশুর শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা মেয়ের শাশুড়ি ও ভাশুর জানতেন এবং তারা ঘটনা ধামাচাপা দিতে শিশুটিকে হত্যার চেষ্টা চালান।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভারতে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পাশাপাশি তিনি অবিলম্বে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই দাবি জানান।
অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফের নাম উল্লেখ না করে বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেন, “চট্টগ্রামে একজন আইনজীবীকে হত্যা করা হয়েছে, এ হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত শাস্তি দিতে হবে। এই ঘটনার মাধ্যমে চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। একজন আইনজীবী তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন, এবং তাকে পিটিয়ে হত্যা করা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। যারা এটি করেছে, তারা যেই হোক না কেন, তাদের শাস্তি পেতেই হবে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইউনূস সরকার যদি এ সন্ত্রাসীদের শাস্তি দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে তাকেও শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, এই ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ান। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।”
শেখ হাসিনা আরও বলেন, “বর্তমান ক্ষমতা দখলকারীরা সর্বক্ষেত্রেই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। সাধারণ মানুষের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এসব নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানাই।”
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নাম উল্লেখ না করে শেখ হাসিনা বলেন, “সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের একজন শীর্ষ নেতাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে, অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে। চট্টগ্রামে মন্দির পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে মসজিদ, মাজার, গির্জা, মঠ এবং আহমাদিয়া সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি আক্রমণ করে ভাঙচুর ও লুটপাট করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সব সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
“আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মী, ছাত্র-জনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করার পরও হামলা-মামলা ও গ্রেফতারের মাধ্যমে হয়রানি চলছেই। আমি এসব নৈরাজ্যবাদী কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি,” বলে বিবৃতিতে জানান শেখ হাসিনা।
মন্তব্য করুন


শিক্ষকদের জন্য অন্যান্য পেশা থেকে আলাদা একটি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) নির্ধারণের পক্ষে মত দিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, মেধাবী শিক্ষক ধরে রাখতে তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।
সোমবার ময়মনসিংহ-এর অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় এক শিক্ষক মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে আর্থিক প্রণোদনা বাড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।
জবাবে মন্ত্রী জানান, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা অন্যান্য পেশার সঙ্গে তুলনা করে নির্ধারণ করা উচিত নয়। এ ধরনের তুলনা নানা জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন মামলা বা আন্দোলনের পরিস্থিতি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের জন্য একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র পে-স্কেল চালু করা প্রয়োজন। সেটি বেশি বা কম যাই হোক, মূল বিষয় হলো—এই কাঠামোটি যেন অন্য সব পে-স্কেল থেকে আলাদা হয়।
মন্তব্য করুন


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো অব্যবস্থাপনা ছিল কি-না তা তদন্তের জন্য চার দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় কোনো অব্যবস্থাপনা ছিল কিনা সেটি তদন্তের জন্য আমরা চার দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। প্রথমে ইংল্যান্ডকে পরে আরও তিনটি দেশ—অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক ও চীনকে তদন্তের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেসব দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসবে এবং তারা তদন্ত করবে কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।’
শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো ভিলেজ ও ই-গেট পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
এক প্রশ্নের জবাবে মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আগুন নেভাতে বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ব্যর্থ হননি। তারা যদি ব্যর্থ হতেন তাহলে আগুন নেভালো কী করে। তারা আগুন না নেভালে তো সব জায়গায় ছড়াতো।
বিমানবন্দরের ভেতরে ফায়ার সার্ভিসের টিম থাকার পরও পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে আসতে পারলো না কেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই। বিমানবন্দরের ভেতরে ফায়ার সার্ভিসের যে ইউনিটগুলো রয়েছে সেগুলো ৪ মিনিটের মাথায় সেখানে এসেছে। ফায়ার ব্রিগেডের অন্যান্য ইউনিটগুলো পর্যায়ক্রমে ২০ মিনিটে চলে এসেছে। অন্য টিমগুলো একটু দেরিতে আসায় হয়তো আগুন ছড়িয়ে গেছে। এজন্য আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লেগেছে। গুদামগুলোতে কেমিক্যাল থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় প্রবাসীদের পাসপোর্ট ফি নিয়ে তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমাদের যারা রেমিটেন্স যোদ্ধা তাদের পদে পদে কষ্ট হয়। রেমিটেন্স যোদ্ধাদের পাসপোর্ট ফি কীভাবে কমানো যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আলোচনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


রায় জালিয়াতির অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (৩০ জুলাই) ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এই আদেশ দেন।
এর আগে এই মামলায় খায়রুল হকের ১০ দিন রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানিতে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং টিউলিপ সিদ্দিকসহ তাদের পুরো পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে মোট ৮০ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (বেপজা) সহ ৯টি প্রকল্পে এসব দুর্নীতি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদকের অভিযোগে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া আটটি প্রকল্পে ২১ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে ৫৯ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুদক চেয়ারম্যান আবদুল মোমেনের নেতৃত্বে কমিশন সভায় প্রকল্পগুলোর দুর্নীতি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, বোন শেখ রেহানা এবং ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এর আগে ১৫ ডিসেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পাঁচ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলারের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সাহেদুল আজম তমাল।
এছাড়া ৩ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকের নিষ্ক্রিয়তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেছিলেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। রিটে দুদক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছিল।
মন্তব্য করুন


আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, আর্মি চিফ প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেছেন। এ ধরনের কোনো তথ্য আমার জানা নেই। আমি দু-একটা পত্রিকায় দেখেছি। আর অনলাইনে এটা নিয়ে নানা গুজব-গুঞ্জন হয়েছে দেখেছি। এসব গুজব গুঞ্জন নিয়ে বিচলিত হওয়ার মতো কিছু নেই।
তিনি বলেন, আর্মি চিফ আমাদের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মাঝেমধ্যেই দেখা করেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও আগে দেখা করেছেন। তো আমি মনে করি না এটা নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু আছে।
আজ সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অনেকে ভাবছে কেয়ারটেকার সরকার হবে— এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইন উপদেষ্টা বলেন, আমি এ ধরনের কোনো সম্ভাবনার ব্যাপারে অবগত নয়।
তিনি বলেন, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এটা প্রধান উপদেষ্টা বারবার বলেছেন। নির্বাচন কমিশনকেও সেরকম ইন্সট্রাকশন দেওয়া হয়েছে। উনারা সব পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। তার আগে কিছু বিষয়ে যে মতভিন্নতা রয়েছে মতভেদ রয়েছে, আমরা আশা করি সেটা দূর হয়ে যাবে।
নির্বাচনকালীন সরকার গঠন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের যে অবস্থান সেটা আমরা বারবার বলেছি আমরা ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যত রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড আছে, এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে অগ্রসর হচ্ছে। এখানে পেছানোর কোনো সুযোগ নেই।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমাদের দেশে গত এক বছরে মাঝেমধ্যে বেশ অবনতি হয়েছে, আবার ভালো হয়েছে। একটা গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে বা বিপ্লব পরবর্তী পরিস্থিতিতে সমাজে বিভিন্ন রকমের অস্থিরতা থাকে এবং এই সমস্ত অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মাঝেমধ্যে অবনতি ঘটে, সেটা যতই দুঃখজনক হোক হতাশাজনক হোক এটা অস্বাভাবিক বলে মনে করি না। আমরা এ রকম সিচুয়েশন আগে ট্যাকেল করেছি, ইনশাল্লাহ আবার ভালো হবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, সংবিধান বাতিল করা জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল না। সংবিধানের সঙ্গে বিচার বিভাগের সম্পর্ককে বিশুদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক করাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) অবসরের আগে আপিল বিভাগে শেষ কর্মদিবসে এ কথা বলেন তিনি।
বিদায়ী বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, গণতন্ত্রে যতদিন বিচার বিভাগের মূল্যবোধ থাকবে, ততদিন সুপ্রিম কোর্ট ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার শেষ আশ্রয় হয়ে থাকবে।
বিচার বিভাগকে অবশ্যই বর্তমান সংবিধানের মূল কাঠামো নীতি মেনে চলতে হবে। যা ক্ষমতা পৃথকীকরণ, বিচারিক স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক শাসন, মৌলিক অধিকার এবং জনগণের সার্বভৌমত্বের মতো আদর্শগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের শক্তি কোনও একক দফতরে নয়, বরং সততা ও দূরদর্শিতার সাথে ন্যায়বিচার করার সম্মিলিত সংকল্পের মধ্যে নিহিত।
এদিকে, প্রধান বিচারপতির শেষ কর্মদিবসে আপিল বিভাগের এজলাসেই অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন