

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করেও তিস্তা নদীর এক ফোঁটা পানি আনতে পারেনি। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লালমনিরহাটে তিস্তা বাঁচাও আন্দোলন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হলে ভারতকে দাদাগিরি করা বন্ধ করতে হবে। ভারতের সাথে বন্ধুত্ব চাই, তবে তা সম্মানের ভিত্তিতে হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ছেলেরা লড়াই করেছে। ৩৬ দিনের সংগ্রামের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়েছিলেন। একদিকে ভারত আমাদের পানি দিচ্ছে না, অন্যদিকে তারা আমাদের শত্রু শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে রাজার মতো সম্মান দিয়ে রেখেছে।
তিস্তা রক্ষার আন্দোলনকে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সংগ্রামের মাধ্যমে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা এবং সব অধিকার আদায় করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচন চায়, কারণ নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
মন্তব্য করুন


মডেল ও অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া। পিয়া জান্নাতুল নামেই বেশি পরিচিত। এখন তার বড় পরিচয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। উচ্চ আদালতে আইন পেশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। এ আইনজীবী-অভিনেত্রী ২০১৪ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান ফারুক হাসান সামীরকে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ছেলে সন্তানের মা হন পিয়া জান্নাতুল। এখন তার জীবনের বড় অংশই জুড়ে রয়েছে আদরের সন্তান।
মা দিবস নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেনে ঢাকা পোস্টের সঙ্গে কথা বলেন এ আইনজীবী মা। তার ভাষায়, ‘মা হওয়ার পর দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। সন্তানকে নিয়ে এখন প্রতিটি মুহূর্ত এনজয় করি। আর ভাবি আমি কত ভাগ্যবান।’
পিয়া জান্নাতুল বলেন, বছরের একটি দিন মায়ের জন্য পালন করা হয়। মা নয় মাস সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন। নয় মাস পর যখন সন্তানের জন্ম হয় তখন থেকে মা যত দিন বেঁচে থাকেন তত দিন সন্তানের জন্য দায়িত্ব পালন করে যান। আমার মাও এরকম করেছেন। এই তো কয়েক দিন আগে আমার মা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আচ্ছা আমি কি ভালো মা? এই প্রশ্ন শুনে প্রথমে হকচকিয়ে গিয়েছিলাম। তাকে বললাম, তুমি চমৎকার এবং সবচেয়ে ভালো মা। প্রত্যেক মা সেরা মা। কারণ, প্রত্যেক মা তার সর্বোচ্চ দিয়ে সন্তানের জন্য করে থাকেন। এখন আমার একটা সন্তান আছে। এখন আমি অনুভব করি, আমার কাছে পৃথিবীর সবকিছুর ঊর্ধ্বে আমার সন্তান। জগতের সবকিছুর চেয়ে আমি আমার সন্তানের ভালো চাই।
মন্তব্য করুন


জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানসহ ৮ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি, তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ নির্দেশ দেন।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ, গাজী এম এইচ তামিম।
এর আগে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানসহ আট কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
অন্য পাঁচজন হলেন ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল কাফি, মিরপুর ডিএমপির সাবেক ডিসি মো. জসিম উদ্দিন মোল্লা, ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুর ইসলাম, গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল হক, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং ঢাকা উত্তর ডিবির সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন।
গত ২০ নভেম্বর, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক পুলিশ প্রধান ও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালকসহ আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে, তাদের ট্রাইব্যুনালের মামলায় কারাগারে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। সেদিন এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দিয়েছিলেন।
এর আগে, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক পুলিশ প্রধান ও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালকসহ আট কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। রাজনীতি স্থিতিশীল থাকলে অর্থনীতি সামনে আরও ভালোভাবে চলবে।
শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলে ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্টের হলরুমে এমএফআই-ব্যাংক লিংকেজ বিষয়ে আঞ্চলিক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার অগ্রগতি নিয়ে গভর্নর বলেন, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ইংল্যান্ডে আইনজীবী পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন গ্রুপ অব কোম্পানির ক্লেমটা স্টাবলিস্ট করার চেষ্টা চলছে। যদি সাকসেসফুল হয়, তাহলে দ্রুত পজিটিভ রেজাল্ট আসবে।
এমআরএ’র নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান, ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আব্দুল মোমেন প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলমের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে তাদের মধ্যে এ সাক্ষাৎ করেছেন।
পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকালে নিরাপত্তা ইস্যু, পুলিশ সংস্কার ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশকে সহায়তাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত দেশের চলমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচনকালীন সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ পুলিশের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আইজিপি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ সদস্যদের নিবিড় ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি নির্বাচনী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারসহ গৃহীত সার্বিক প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বিদেশি পর্যবেক্ষক ও কূটনৈতিক মিশনের সদস্যদের নিরাপত্তা প্রদানে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোকপাত করেন এবং পুলিশ সংস্কারের ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০০ পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন বলে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ সময় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকগণ বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারি ও নিরাপত্তা প্রটোকল সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা লাভ করবেন।
বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


জুলাই–আগস্টের গণ-আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি পৃথক বিভাগ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের দায়িত্ব নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও গুরুতর আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধারাও মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা যেমন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন ও ত্যাগ দিয়েছেন, ঠিক একইভাবে চব্বিশে যারা লড়াই করেছেন, তারাও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যই যুদ্ধ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘একাত্তরে যুদ্ধ হয়েছিল স্বাধীনতা রক্ষার জন্য, আর সেই স্বাধীনতা রক্ষাতেই আবার চব্বিশে যুদ্ধ হয়েছে।’
জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোর বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি জনগণের সমর্থনে সরকার গঠনের সক্ষমতা অর্জন করলে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কষ্ট লাঘবে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। ‘যারা হারিয়ে গেছেন, তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে তাদের পরিবারের কষ্ট, সুযোগ-সুবিধা ও দেখভালের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন বিভাগ গঠন করা হবে, যার মূল দায়িত্ব থাকবে এই মানুষগুলোর দেখভাল করা,’ বলেন তিনি।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি অতীতে সরকারে থাকাকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল। একই ধারাবাহিকতায় আগামীতে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোকেও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
গণ-আন্দোলনে হতাহতদের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই এক বা দুই চোখ হারিয়েছেন, কেউ কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ে যেভাবে দেড় হাজারের মতো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, সেটিকে আমরা গণহত্যা বলতে পারি।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের সাহসিকতার কারণেই ফ্যাসিবাদী শক্তি শুধু ক্ষমতা থেকেই নয়, দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। তার ভাষায়, ‘২০২৪ সালের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের নয়। এটি অধিকারহারা মানুষের গণ-আন্দোলন।’
গণ-আন্দোলনে আহতদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুইভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এক—রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। দুই—আহতদের যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ‘হতাহতদের প্রতি রাষ্ট্রের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে। জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি পর্যায়ক্রমে সেই দায়িত্ব পালন করবে।’
নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে শোক সমাবেশ ও শোকগাঁথাই চলতে থাকবে। তবে গণতন্ত্রকামী মানুষ আগামী বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়গাঁথা রচনা করবে।
মন্তব্য করুন


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সকল পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব হতে পারে। তিনি সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়, এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিষয়। তবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যুক্ত হতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান হয়ে যেতে পারে। সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। অধৈর্য হলে সমাধান হবে না।" স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ছাত্রদের প্রতি আহ্বান জানান, ধৈর্যের সঙ্গে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে।
সড়ক অবরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাস্তা বন্ধ না করে মাঠ বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতিবাদ জানানো শ্রেয়। তিনি আরও বলেন, জনগণের দুর্ভোগের জন্য অবরোধ করা ঠিক নয়। দাবিদাওয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধান পাওয়ার জন্য তিনি ছাত্রদের অনুরোধ করেন।
এ সময় তিনি বলেন, "সরকার চায় প্রতিটি বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হোক।" এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্ররা দেশের জন্য কাজ করে, তারা পজিটিভ কাজই করে, কিছু ভুল হতে পারে, তবে সকল পরিস্থিতিতে ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হয়।
মন্তব্য করুন


খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে মার্চ ও এপ্রিল মাসে মোট তিন লাখ টন চাল খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা হবে। এই দুই মাসে প্রতি মাসে দেড় লাখ টন করে চাল দেওয়া হবে। এছাড়াও, এই কর্মসূচির আওতায় ৫০ লাখ পরিবারকে ৩০ টাকা কেজি দরে ১৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হবে বলে তিনি জানান।
সোমবার জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রথম অধিবেশন শেষে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন।
উপদেষ্টা আরও বলেন, রমজান মাসে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য অত্যন্ত সুলভ মূল্যে এবং কিছু ক্ষেত্রে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। এই কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, টিসিবির মাধ্যমে আগামী দুই মাসে আরও এক লাখ টন চাল বিতরণ করা হবে। এছাড়া, ওএমএসের মাধ্যমে আরও এক লাখ টন চাল বিতরণ করা হবে। ঈদের সময় এক কোটি পরিবারকে বিনামূল্যে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এ ধরনের আরও কিছু কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আলী ইমাম মজুমদার বলেন, এই চাল বিতরণ কার্যক্রম বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ এই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে, তবে জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) এর প্রধান তদারকি করবেন। ঢাকা মেট্রোপলিটনে আগে এই কার্যক্রমগুলি নিবিড়ভাবে তদারকি করা হতো না। এবার ঢাকার সংশ্লিষ্টদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে এই কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিভাগের কমিশনারের সাথে আলাদাভাবে মিটিং করা হয়েছে এবং আবারও মিটিং করা হবে। ঢাকা বিভাগে ১২২টি বিক্রয় কেন্দ্র এবং ৭০টি ট্রাকসেল রয়েছে। টিসিবি ছাড়াও প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেটদের দিয়ে এই কেন্দ্রগুলি তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসময় খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


মোবাইলে ফোন করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় কাকরাইলের ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ।
তিনি জানান, আজ দুপুর ১টায় প্রধান উপদেষ্টা ফোন করেন। এ সময় নুরুল হক নুর প্রধান উপদেষ্টাকে গতকালের ঘটনার বিস্তারিত জানান।প্রধান উপদেষ্টা কাকরাইলের ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম নুরুল হক নুরকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে যান।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষের পর আল রাজী টাওয়ারের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটায় গুরুতর আহত হন নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। ঘটনাস্থল থেকে নুরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, নুরের মুখ থেকে বুক পর্যন্ত পুরো রক্তাক্ত। ফেটে গেছে নাক। এ সময় তাকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায় দলীয় নেতাকর্মীদের।
এ ঘটনায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঘটনার শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে অনুরোধ জানান। তবে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কিছু নেতাকর্মী তা উপেক্ষা করে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করেন। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালান এবং আনুমানিক রাত ৯টার দিকে মশাল মিছিলের মাধ্যমে সহিংসতা আরও বাড়ান। তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালান।
জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, অন্তর্বর্তী দায়িত্ব শেষে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন না। বুধবার (২ জুলাই) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনীতির প্রতি কোন টান নেই উল্লেখ তিনি পোস্টে লেখেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরবর্তী ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু জল্পনা চলছে। আমার কিছু বন্ধুর কাছ থেকে শুনেছি যে প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর আমি কোনও শীর্ষ রাজনৈতিক দলে অথবা নতুন প্রতিষ্ঠিত কোনও দলে যোগ দিচ্ছি। সত্যি বলতে, কোনও রাজনৈতিক দল বা এমপি হওয়ার পর আপনি যে ধরণের জীবনধারা গ্রহণ করেন তার প্রতি আমার কোনও ক্রাশ নেই।”
রাজনীতির আর্থিক দিক নিয়ে মন্তব্য করে তিনি লিখেছেন, “সিঙ্গাপুর বা ইউরোপের মতো দেশে রাজনৈতিক নেতৃত্বে আর্থিক সুবিধা থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে সেটা নেই—যতক্ষণ না আপনি একজন দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ হন।”
শফিকুল আলম বলেন, “আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরবর্তী সময়ে আমি কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেব না। আমি সাংবাদিকতা এবং সক্রিয় লেখালেখির পেশায় ফিরে যেতে চাই। আমার মনে কিছু বই আছে। আমি আমার বাকি জীবন জুলাইয়ের বিদ্রোহের উপর একচেটিয়াভাবে লেখার জন্যও ব্যয় করতে পারি।”
এই আন্দোলনকে ‘স্বতঃস্ফূর্ত, সাহসী, সুন্দর ও বিস্তৃত রাজনৈতিক সংগ্রাম’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে শফিকুল আলম লেখেন, “রবার্ট ক্যারো যেভাবে তার প্রিয় বিষয় লিন্ডন জনসনের ওপর পুরো জীবন লেখালেখি করেছেন, তেমনি একজন লেখক সারাজীবন জুলাই বিপ্লব নিয়ে লিখে যেতে পারেন। যদিও অনেকে ‘বিপ্লব’ শব্দটি পছন্দ করেন না।”
নতুন পরিচয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেন শফিকুল আলম। তিনি লেখেন, “আমার জীবনের শেষের দিকে নতুন রূপান্তরের পর কি আমি নিরাপদ থাকব? গত কয়েক মাসে আওয়ামী লীগের অনেক কর্মীর কাছ থেকে ভয়ংকর হুমকি পেয়েছি। তবে হতে পারে, এসব হতাশ কিছু মানুষের হতাশার প্রকাশ, যারা মানুষের শেষ ভালোবাসাটুকুও হারিয়ে ফেলেছে।”
সবশেষে শফিকুল আলম বলেন, “আমি সৃষ্টিকর্তার উপর পূর্ণ আস্থা রাখি। তিনিই আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তার কাছেই আমাদের প্রত্যাবর্তন। আমি অপেক্ষায় থাকবো আমার নতুন জীবনের।”
মন্তব্য করুন


একজন সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন, এমন প্রস্তাবে সব দল একমত হয়েছে বলে জানান জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ।
রবিবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে চলমান দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৯তম দিনে এ কথা বলেন তিনি।
আলী রীয়াজ জানান, ‘আমরা একটা বিষয়ে একমত হয়েছিলাম, কিন্তু সেটা বলা হয়নি। সেটা হলো, প্রধানমন্ত্রী ১০ বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন। সনদে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর উল্লেখ করব।’
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কি একমত হয়েছি? এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ সাহেব একটি শর্ত দিয়েছিলেন, সেটা কি এখনো আছে?’
জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা একবার বলেছি তো বলেছি, ১০ বছরের বেশি কোনো ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকবেন না। আমি বলেছিলাম সংবিধান ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের কমিটি থাকলে বিষয়টি মানব না। আমরা এ হাউসের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন নিয়োগসংক্রান্ত বিধান সংবিধানে যুক্ত করব। এর বাইরের বিষয়ে আলোচনা হলে আমাদের শর্ত বহাল থাকবে। আশা করি, সেটা বিবেচনা করবেন। এখন ১০ বছরের বিষয়ে আপনারা ঘোষণা দিতে পারেন। বরং এটা আমাদের প্রস্তাব।’
‘স্বাধীন পুলিশ কমিশন’ গঠনের প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলো একমত জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘পুলিশ কমিশনের বিষয়ে আমরা একমত। গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে আমরা আলোচনা করব। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো আলাপ-আলোচনায় একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনে একমত হয়েছে। যা পুলিশের জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবে, জনবান্ধবতা নিশ্চিত করবে।’
মন্তব্য করুন