

ডেস্ক রিপোর্টঃ
বাংলাদেশ থেকে ফিরে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি দেশটির সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে ব্রিফ করেছেন। এতে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি কংগ্রেস নেতা শশী থারুর।
বিক্রম মিশ্রি কমিটিকে জানান, সোমবার ঢাকা সফরের সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দল বা সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারত বাংলাদেশের জনগণের সাথে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেয় এবং যে কোনো সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা যে বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন তা ভারত সমর্থন করে না। এটি দুই দেশের সম্পর্কের একটি ক্ষুদ্র প্রতিবন্ধক।’
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, শেখ হাসিনা তার মন্তব্যের জন্য ‘ব্যক্তিগত যোগাযোগ ডিভাইস’ ব্যবহার করছেন। ভারত সরকার তাকে (শেখ হাসিনা) এমন কোনো প্ল্যাটফর্ম বা সুযোগ–সুবিধা দেয়নি, যা দিয়ে তিনি ভারতের মাটিতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারেন। এটি তৃতীয় কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ না করার ঐতিহ্যগত রীতির অংশ।
বিক্রম মিশ্রি বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার অভিযোগের স্বীকৃতির নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন ছিল। তবে সবশেষ খবর হলো, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে এ সংক্রান্ত সহিংসতার ঘটনায় ৮৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ। এ খবরকে ভারত স্বাগত জানায়।
সূত্র : দ্য হিন্দু
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হলে দেশের অর্থনীতি কতটা চাঙ্গা হবে এবং স্থানীয়রা কতটা উপকৃত হবে তা বিবেচনায় নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমাদের প্রথমে ভাবতে হবে ফলাফল কি হবে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে একটি প্রকল্প নেওয়ার পরে জনগণ কতটা উপকৃত হবে। আমাদের দেশের উন্নয়ন এমনভাবে করতে হবে যাতে আমাদের সক্ষমতা বাড়বে এবং অন্যের উপর নির্ভরশীলতা কমবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে স্মার্ট বাংলাদেশ-২০৪১ বিনির্মাণে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কার্যক্রমের রূপরেখা সংক্রান্ত উপস্থাপনা অবলোকনকালে এ কথা বলেন।
রূপরেখা প্রত্যক্ষ করার পর, প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়াতে এবং প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব কে এম সাখাওয়াত মুন এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের কতটা উন্নয়ন হবে এবং মানুষ কতটা উপকৃত হবে তা আপনাদের বিবেচনা করতে হবে। দ্রুত কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে বলে দেশবাসী এর সুফল পাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা একটি লক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। তিনি আরো বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর তার সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল জনগণের জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির করে আমরা সফলভাবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। তার সরকার রূপকল্প ২০২১ ঘোষণা করেছিল এবং উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভের মধ্যদিয়ে সফলভাবে তা বাস্তবায়ন করেছে। এখন আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট দেশে রূপান্তর করা। আমরা সেই রূপকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি।
এসময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম বলেছেন, "আমরা অন্তবর্তী সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, যদি আপনাদের দায়িত্বে সামান্যতম গড়িমসি হয়, তাহলে এই বাংলাদেশে আপনাদের মুখ দেখানোর কোনো জায়গা থাকবে না।"
তিনি বলেন, "জুলাই-আগস্টে হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত, তাদের বিচার করা অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। যদি তারা এটি করতে না পারে, তাহলে এটি তাদের সীমাবদ্ধতা এবং ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হবে।"
আজ শুক্রবার দুপুরে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ পরিবারের হাতে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
সারজিস আরও বলেন, "এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করা, খুনী হাসিনার বিচার করা, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীরা যারা এই হত্যাযজ্ঞের সাথে সরাসরি জড়িত, যারা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে, খুনী হাসিনার সরবরাহ করা অস্ত্র দিয়ে আমাদের ভাইবোনদের হত্যা করেছে, তাদের বিচার করা অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, যদি আপনাদের দায়িত্ব থেকে বিন্দুমাত্র গড়িমসি করেন, তাহলে এই বাংলাদেশে আপনাদের মুখ দেখানোর আর কোনো জায়গা থাকবে না।"
তিনি আরো বলেন, "আমাদের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আগামীর প্রজন্ম- আপনাদের শুধু একটি অনুরোধ করতে চাই, আমরা দলকানা হবো না, কোনো গোষ্ঠীর পূজা করবো না। আমরা কাউকে ছেড়ে কথা বলব না।"
ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক বলেন, "বিভিন্ন মহলের প্রোপাগান্ডার সেলগুলো বক্তব্যের খণ্ডাংশ নিয়ে ঘটনাগুলোকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে নোংরা রাজনীতি করার চেষ্টা করছে কি না, তা আমাদের খেয়াল করতে হবে। এই অভ্যুত্থানের সাথে সম্পর্কিত মানুষগুলোকে বিভিন্নভাবে গুজবের মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে কি না, এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করার মনোভাব আমাদের মধ্যে থাকতে হবে।"
শহীদ পরিবারগুলোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "এটা শুধুমাত্র শুরু, অল্প কিছু টাকা দিয়ে মানুষ হারানোর শোক পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা কথা দিতে চাই, এই জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন যতদিন থাকবে এবং আপনারা যতদিন থাকবেন, আপনাদের জন্য জীবনের বিনিময়েও কাজ করে যাবো।"
শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগের ৫৮ জনকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকার, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারিকুল ইসলাম, আশশেফা খাতুন, পুলিশ সুপার টিএম মোশাররফ হোসেন, খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় নেতা মো. ওয়াহিদুজ্জামান প্রমুখ।
এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।
মন্তব্য করুন


গণভোটে ‘হ্যাঁ’তে সিল দিলে নতুন বাংলাদশ গড়ার দরজা খুলে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পাওয়া রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের সুযোগকে লুফে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসের এক অসাধারণ অর্জন। এটি অপ্রত্যাশিতভাবে জাতির জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ এনে দিয়েছে। এ লক্ষ্যে আমরা এর মধ্যে বেশকিছু সংস্কার করেছি।’
গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছি। এই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সম্মতি প্রয়োজন। এর জন্য গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। এই গণভোটে অংশ নিন। সনদে আপনার সম্মতি দিন।’
জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস যোগ করেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ আর নিপীড়নমুক্ত হবে বাংলাদেশ।’
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৬ জুন জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জানান, ২০২৫ সালে জুলাই মাসের সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি ‘জুলাই সনদ’ প্রস্তুত করে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে। ২৮ জুলাই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রিয়াজ জানান, জুলাই সনদের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এটির ভাষা এবং পটভূমি পর্যালোচনার জন্য রাজনৈতিক দলসমূহের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
পরে ৪ আগস্ট থেকে সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দলসমূহের সঙ্গে কমিশনের আলোচনা শুরু হয়। মতামতের ভিত্তিতে সমন্বিত খসড়া প্রস্তুত করা হয় এবং ১১ সেপ্টেম্বর খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়। পরে ১৪ অক্টোবর দলসমূহের কাছে চূড়ান্ত অনুলিপি পাঠানো হয়; ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে বাস্তবায়ন রূপরেখা নিয়ে আলাপ চলতে থাকে। বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে সনদে স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়। এখন সেই সনদের ওপর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘খুব শিগগির’ দেশে ফিরছেন—এমন বার্তা দিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতাকর্মীদের সেই দিনটির জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের নেতা যেদিন আসবেন, যেদিন দেশে পা রাখবেন, সেদিন যেন সমগ্র বাংলাদেশ কেঁপে ওঠে। এই কথাটা আপনাদের মনে রাখতে হবে…পারবেন তো। ইনশাআল্লাহ্, আমরা সেদিন গোটা বাংলাদেশের চেহারা বদলে দিতে চাই।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিসেম্বর বিজয়ের মাস উপলক্ষে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর হাজারের বেশি নেতা অংশ নিচ্ছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশকে একটা মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে আমাদের নেতার (তারেক রহমানের) যে চিন্তা-ভাবনা সেটি বাস্তবায়িত করার জন্য আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।
আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে পুরোপুরিভাবে জয়লাভ করতে হবে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, অনেক বাধা-বিপত্তি আসবে। বিএনপির বিরুদ্ধে প্রচারণা চলছে, সেটি চলতে থাকবে। সবকিছু কাটিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি কোনোদিন পরাজিত হয়নি, পরাজিত হবে না। বিএনপি এদেশের জনগণের দল, মুক্তিযুদ্ধের দল। বিএনপিকে সাফল্য দেবে ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য ও জাতীয়তাবাদী দর্শন, অন্য কিছু সফলতা দেবে না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির সুযোগ এসেছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গঠনের সুযোগ এসেছে, যা বাংলাদেশকে নতুন দিগন্তের দিকে নিয়ে যাবে। এর নেতৃত্বে থাকবেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দেশকে পেছনে টেনে নেওয়ার শক্তির বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকর্মীদের লড়াই করতে হবে। নেতাকর্মীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তিকে জয়যুক্ত করতে হবে। এ লড়াইয়ে নেতাকর্মীদের শক্তিশালী মনোভাব নিয়ে এগোতে হবে।
আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগ আমলের নির্বাচন নয় মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে জনগণের ভালোবাসা আদায় করতে হবে। মানুষের মন জয় করে তাদের ভোটকেন্দ্রে নিতে হবে, বিএনপির পক্ষে ভোট দেওয়াতে হবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার আলোচনা করবে।
আজ রবিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শফিকুল আলম।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেছেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে আমরা বেশকিছু মতামত পেয়েছি। এটি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা হবে। সামনে এ বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হবে।”
তিনি আরও জানান, “আমরা বলেছিলাম, কিছু দিনের মধ্যে ঘোষণাপত্র জারি করা হবে, এবং আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।”
শফিকুল আলম আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কবে আলোচনা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
মন্তব্য করুন


জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন সফল করতে হলে দেশের সব ধর্মের মানুষকে একত্রে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘কোনো ধর্মকে আলাদা করে দেখা যাবে না। রাষ্ট্রকে সব ধর্মকে সমান মর্যাদা দিতে বাধ্য থাকতে হবে। আমরা নিজেরা যদি বিভক্ত হই, তবে জাতি হিসেবে আমরা ব্যর্থ হব। কিন্তু আমরা ব্যর্থ হতে চাই না।
আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সব নাগরিকের অধিকার সমান হবে। সেখানে কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচিত হবে না, সবাই হবে সমান মর্যাদার নাগরিক।’
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন শেষে প্রধান উপদেষ্টা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনীর বেষ্টনির মধ্যে নয়, আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে সবাই স্বাধীনভাবে নিজের ধর্ম পালন করতে পারবে।
রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের সঙ্গে ধর্ম, পরিচয় বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে বৈষম্য করবে না।’
প্রধান উপদেষ্টা ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনকাল দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, মন্দিরের সার্বিক অবস্থা এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন (অ্যামেন্ডমেন্ট) অধ্যাদেশ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-২০২৫ (আরপিও বা রিপ্রেজেন্টেশন অফ পিপলস অর্ডার অর্ডিন্যান্স) আইন পাসের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ দুটি আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
এদিন বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল এসব তথ্য জানান।
এ দুটি আইন ছাড়াও আরও তিনটি আইনের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। আইন তিনটি হলো- সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন।
এ আইন তিনটি সম্পর্কে আরও কিছুটা আলোচনা শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব নানাবিধ সংকটে জর্জরিত। আমাদেরকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিস্থাপক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পৃথিবী রেখে যেতে হবে; যা জ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে গঠিত হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য সার্বজনীন টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত 'আর্থনা' শীর্ষ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা এ বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, "আজকের যুবসমাজ, যারা এই গ্রহের ভবিষ্যৎ কর্ণধার, তাদেরকে আমরা পিছনে ফেলে আসতে পারি না। আমি ব্যক্তিগতভাবে যুবসমাজের মধ্যে নাগরিক সচেতনতা ও ক্ষমতায়নের রূপান্তরধর্মী শক্তি প্রত্যক্ষ করেছি।"
এর আগে, কাতারে পৌঁছানোর পর অধ্যাপক ইউনূসকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কাতার সরকারের প্রটোকল প্রধান ও রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম ফাখরু তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির আমন্ত্রণে অধ্যাপক ইউনূস এই সফরে গেছেন। শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি কাতারের আমিরের সাথে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন


মিরপুর রূপনগর শিয়ালবাড়ি এলাকায় পোশাক কারখানা ও রাসায়নিকের গুদামে আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের নিহতের তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সব লাশ ‘আনোয়ার ফ্যাশন’ নামের পোশাক কারখানাকে উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলো ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, এদিন বিকেলে ৯ জন নিহতের তথ্য জানিয়েছিল ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর।
এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট। পরে আরো কয়েকটি ইউনিট যুক্ত হয়।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তল্লাশি অভিযান এখনো চলমান। পাশের যে কেমিক্যাল গোডাউন রয়েছে, সেখানে এখনো আগুন জ্বলছে। এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ওখানে কাউকে যেতে দিচ্ছি না। আমরা সর্বোচ্চ প্রযুক্তি দিয়ে, ড্রোন দিয়ে এসব কার্যক্রম করছি।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, আগুনের সূত্রপাত এখনো জানা যায়নি। যারা শুরুতে আগুন নেভাতে এসেছেন, তারা রাসায়নিকের গুদাম ও গার্মেন্টস দুই দিকেই আগুন দেখেছেন।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তিনতলা পোশাক কারখানার নিচতলায় ‘ওয়াশ ইউনিট’ রয়েছে।
সেখানে প্রথম আগুন লাগে। সেই আগুন পাশের রাসায়নিকের গুদামে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর আগুন তিনতলা পোশাক কারখানার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
মন্তব্য করুন


কেউ ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে দমন করে রাখতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে গুম, খুন, হয়রানি, নির্যাতনের পরও বিএনপির একজন নেতাকর্মীও রাজপথ ছাড়েনি। এক ভাই গুম হয়েছেন, আরেক ভাই রাস্তায় নেমেছেন। কৌশলের নামে গুপ্ত বা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বিএনপির কর্মীরা।
আমি বিশ্বাস করি, যে দলের নেতাকর্মীরা এভাবে আপসহীন, কেই ষড়যন্ত্র করে সেই দলকে দমন করে রাখতে পারবে না ইনশা-আল্লাহ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে অত্যাচার করা হয়েছে। হাজারো নেতাকর্মীকে হতে হয়েছে গুমের শিকার। তাদের কিছু পরিবার এখানে আছে। ফ্যাসিবাদী আন্দোলনের সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেড় লক্ষের বেশি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার বোঝা ৬০ লক্ষ নেতাকর্মীকে বহন করতে হয়েছে। লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীকে বছরের পর বছর ঘরবাড়ি ছেড়ে থাকতে হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিএনপি চেয়ারম্যান আরো বলেন, বহু বছর দেশ, স্বজন, মানুষ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। আমার নেতাকর্মীদের বাইরেও এই স্বজনহারা মানুষ যারা সারা দেশে আছেন, দূর থেকে চেষ্টা করেছি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে। আমাদের সামার্থ্য দিয়ে চেষ্টা করেছি, স্বজনহারা মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আমরা কতটুকু পেরেছি বা পারিনি সেটার জবাব ভিন্ন।
তবে আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না। হয়তো সীমাবদ্ধতা ছিল, কিন্তু আমাদের চেষ্টা অব্যাহত ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।
তিনি বলেন, বিভীষিকাময় সে দিনের ও রাতের অবসান হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের সত্যিকারভাবে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমাদের কাছে নেই। এক দুঃসহ সময় আমরা অতিক্রম করেছি। এই দুঃসময়ে এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে কয়েকজন সন্তান তাদের কষ্টের কথা উল্লেখ করে গেছেন। যে সন্তান একমুহূর্তেও তাদের পিতার মুখ দেখেনি। একমাত্র আল্লাহরাব্বুল আলামিন জানেন, এসব সন্তান তাদের পিতাকে দেখবে কি না। অনেক সন্তান এখনো অপেক্ষায় আছেন। পিতা হয়তো হঠাৎ করে তাদের দরজায় এসে কড়া নাড়বে। গুম হয়ে যাওয়া সন্তান হঠাৎ করে এসে মা বলে ডাকবে।
মন্তব্য করুন