

চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড আখ্যায়িত করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘নেপাল-ভুটান, সেভেন সিস্টার্সেরও হৃৎপিণ্ড চট্টগ্রাম বন্দর।’
বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি চট্টগ্রাম পৌঁছান। প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জন্মস্থান চট্টগ্রামে এটাই তার প্রথম সফর।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, ‘চট্টগ্রাম বন্দর শুধু বাংলাদেশের জন্য না, আশেপাশের দেশের জন্যও। যে কারণে নেপালের কথা বললাম, ভুটানের কথা বললাম, সেভেন সিস্টার্সের কথাও বললাম। সবার জন্য মৃত্যুঞ্জয়।’
তিনি জানায়, ‘নেপালের জন্য হৃৎপণ্ডিই নেই। কাজেই আমাদের হৃৎপিণ্ড দিয়ে এটা জ্বালতে হবে। আমরা তাদের সংযুক্ত করতে চাই। এটা তাদেরও লাভ আমাদেরও লাভ। এই হৃৎপিণ্ডে যদি সংযুক্ত হয় সে লাভোবান হবে আমরাও লাভবান হবো। ভুটান যদি সংযুক্ত হয় তারা লাভবান হবে আমরাও হবো। সেভেন সিস্টার যদি যুক্ত হয় তারাও লাভবান হবে আমরাও হবো। এই হৃৎপিণ্ডকে বাদ দিয়ে চললে, যারা এটাকে বাদ দেবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বহুদিন ধরে ইচ্ছে ছিল চট্টগ্রাম বন্দরে আসব এবং এর অগ্রগতির খোঁজ নেব, সবার সঙ্গে কথা বলব, এই অপেক্ষাতেই ছিলাম। চট্টগ্রাম বন্দর আমার কাছে অপরিচিত কোনো জায়গা নয়। ছাত্র অবস্থায়ই এখানে এসেছি, শুধু জাহাজ দেখার আগ্রহে। তখন জাহাজ থেকে মাল খালাসের দৃশ্য দেখেছিলাম, সেটা ছিল একদম ভিন্ন অভিজ্ঞতা।’
তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু বরাবরের মতোই দুঃখ একটাই, এই বন্দরের পরিবর্তন এত ধীরগতিতে কেন? দুনিয়ার সব কিছু পাল্টে যাচ্ছে, কিন্তু এখানে তেমন পরিবর্তন নেই। এটা আজকের প্রশ্ন না। যখন গাড়ি চলে না, ট্রাক আটকে যায়, মাল খালাস করা যায় না, তখন কতবার গুরুত্বপূর্ণ প্লেন মিস করেছি। এই বিষয়গুলো নিয়ে মাঝে মাঝে কথা বলেছি, লেখালেখিও করেছি।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এবার যখন সুযোগ পেলাম, প্রথম দিন থেকেই চেষ্টা করছি, কীভাবে এই ব্যবস্থার পরিবর্তন আনা যায়। এটাকে কি সত্যিকারের বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা যায় না? আমরা সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। প্রেজেন্টেশনে যেভাবে ছবিগুলো দেখানো হলো, ভালো লেগেছে। দুনিয়ায় অন্যরা এখানে থেমে নেই, তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। দেখার সময় মনে হচ্ছিল, স্ক্রিনের এক পাশে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান, অন্য পাশে বিশ্বের বর্তমান, তখনই বোঝা গেল আমরা কতটা পিছিয়ে আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সার্বিকভাবে এই বন্দরে বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে, কিন্তু কারো মনে হয় না এটার দরকার আছে। তবে ফোন ধরেন চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সাহেব, তার কথা শুনে আশ্বস্ত হলাম, অন্তত একজন আছেন যিনি মন দিয়ে শোনেন। আমাদের কাজ হচ্ছে তাকে সহায়তা করা।’
তিনি বলেন, ‘আমি সাখাওয়াতকে বলেছি, আমি আর শুনতে চাই না, অমুক তারিখের মধ্যে সব দিয়ে দিতে হবে। যারা বন্দরের ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ, পৃথিবীর যেখানেই থাকুক, তাদের দিয়ে এই কাজ করাতে হবে। যেভাবেই হোক। মানুষ যদি রাজি না হয়, জোরাজুরি নয়, রাজি করিয়েই করতে হবে। কারণ, এই কাজের জন্য রাজি না হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। সবাই চায়, বন্দরের উন্নয়ন হোক। আমি আশিককে পাঠিয়েছি, যাতে সে গিয়ে মানুষকে বোঝায়, আমরা কী করতে চাই, কেন করতে চাই। সেও চেষ্টা করছে।’
ড. ইউনূস বলেন, ‘আমার চিন্তার কারণ একটাই, বাংলাদেশের অর্থনীতি যদি সত্যিই বদলাতে হয়, তাহলে চট্টগ্রাম বন্দরই আমাদের একমাত্র ভরসা। এটাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি কোনো নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে পারবে না। এর পথ খুলে দিলে দেশের অর্থনীতির পথ খুলবে। আর না খুললে যতই আমরা লাফালাফি বা ঝাঁপাঝাঁপি করি, কিছুই হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেন আমি এটি নিয়ে ভাবি। একজনকে বলছিলাম, চট্টগ্রাম বন্দর হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড। হৃদপিণ্ড দুর্বল হলে ডাক্তার, পদ্ধতি সব কিছু এনে লাভ নেই। কারণ ছোট্ট এই হৃদপিণ্ডটাই যদি রোগাক্রান্ত হয়, তাহলে পুরো শরীরই চলবে না।’
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল-৫ পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা শেষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাবেন প্রধান উপদেষ্টা। সেখান থেকে চট্টগ্রামের কালুরঘাট রেল কাম সড়ক সেতুর ভিত্তি প্রস্তর উন্মোচন করবেন। দুপুর দুইটায় তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে অংশ নেবেন।
সমাবর্তন শেষে বিকেলে জোবরা গ্রামে গ্রামীন ব্যাংক পরিদর্শন এবং হাটহাজারীর বাথুয়া গ্রামে নিজ পৈত্রিক নিবাসে যাবেন। সন্ধ্যায় তিনি বিমানযোগে ঢাকায় ফিরবেন।
মন্তব্য করুন


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না বলে জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানায় তিনি।
আসিফ মাহমুদ জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক। আজ উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক উত্থাপিত এ সংক্রান্ত ৪টি আইনের সংশোধনী অনুমোদন করা হয়েছে।
২০১৫ সালে স্থানীয় সরকারের আইন সংশোধন করে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়। ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন হয়।
মন্তব্য করুন


সারাদেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চালানো প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, “ডেভিল যতদিন শেষ না হবে, ততদিন পর্যন্ত অপারেশন চলবে।”
রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের নতুন মৃত্তিকা ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, “গাজীপুরে যারা ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের অনেককেই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের টার্গেট করে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চলবে।”
গত শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাজীপুরে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নড়েচড়ে বসে। এরপরই ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযান শুরু করা হয়। শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকেই যৌথ বাহিনী সাড়াশি অভিযান শুরু করে এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে টহল জোরদার করা হয়।
ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ৪০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার চৌধুরী যাবের সাদেক।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অপরাধ দেশবাসীর জানা রয়েছে।”
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং টিউলিপ সিদ্দিকসহ তাদের পুরো পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে মোট ৮০ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (বেপজা) সহ ৯টি প্রকল্পে এসব দুর্নীতি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদকের অভিযোগে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া আটটি প্রকল্পে ২১ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে ৫৯ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুদক চেয়ারম্যান আবদুল মোমেনের নেতৃত্বে কমিশন সভায় প্রকল্পগুলোর দুর্নীতি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, বোন শেখ রেহানা এবং ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এর আগে ১৫ ডিসেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পাঁচ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলারের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সাহেদুল আজম তমাল।
এছাড়া ৩ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকের নিষ্ক্রিয়তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেছিলেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। রিটে দুদক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছিল।
মন্তব্য করুন


সব রাজনৈতিক দলসহ পুরো দেশের মানুষ নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। সোমবার রাজধানীর তেজগাঁও মেইল প্রসেসিং সেন্টারে পোস্টাল ব্যালটের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, সব রাজনৈতিক দলসহ পুরো দেশের মানুষ নির্বাচন চায়, সবাই দেশের মঙ্গল চায়। রোববার (২১ ডিসেম্বর) সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানসহ একসঙ্গে আমরা জাতিকে একটি মেসেজ দিয়েছি যে, নির্বাচনের ব্যাপারে সবাই এক। আমরা সবাই সুন্দর, সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। সবাই মিলেই ইনশাআল্লাহ আমরা সুন্দর নির্বাচন করব।
সিইসি বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশেই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেখানে কিছুটা ভুল-ত্রুটি হতে পারে। তবে সামনে এসব কার্যক্রম আরও উন্নত হবে এবং প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধনের সংখ্যা বাড়বে বলেও আশা করেন তিনি। সেই সঙ্গে সারা বিশ্বে পোস্টাল ব্যালটের এমন উদ্যোগ মডেল হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন সিইসি।
এর আগে তেজগাঁও মেইল প্রসেসিং সেন্টারে পোস্টাল ব্যালটের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। এ সময় চার নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের কাছে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় লন্ডনের দ্য লন্ডন ক্লিনিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান আব্বাস দম্পতি। সাক্ষাতের পর গণমাধ্যমে সেই বিষয়ে তারা বিস্তারিত জানান।
মির্জা আব্বাস বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে খালেদা জিয়া সঠিক চিকিৎসা পাননি। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার সম্পর্কে নানা বাজে মন্তব্য করতেন। তবে এখন তিনি ভালো আছেন। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। আমরা আশা করি, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের সেরা চিকিৎসকদের অধীনে তার চিকিৎসা চলছে। মানসিকভাবে তিনি সব সময় শক্ত ছিলেন এবং এখনো ভালো আছেন। আমরা তার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা করিনি। শুধুমাত্র তার স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলেছি। তবে তিনি আমাদের দেশের মানুষ ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।”
তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক নির্দেশনা পাওয়া গেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, “আমি প্রতি সপ্তাহেই তার সঙ্গে অফিসিয়ালি কথা বলার সুযোগ পাই। নির্দেশনা আমরা সেখান থেকেই পেয়ে থাকি। তবে এই সফরে কোনো রাজনৈতিক নির্দেশনা পাইনি।”
আফরোজা আব্বাস বলেন, “খালেদা জিয়া আমাকে নাতি-নাতনিদের খোঁজখবর নিয়েছেন। দেশের পরিস্থিতি ও মহিলা দলের সদস্যরা কেমন আছেন, সেটাও জানতে চেয়েছেন। তিনি দেশের মানুষ সম্পর্কে খুবই চিন্তিত। আমরা আশা করছি, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে দেশে ফিরবেন।”
এ সময় যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এমএ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মির্জা আব্বাস ও আফরোজা আব্বাস দম্পতি গত শুক্রবার লন্ডনে পৌঁছান।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত নির্বাচন রিপোর্টিং বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। আমার ধারণা, এবারের নির্বাচনে ভোটের হার এর চেয়েও বেশি হবে।
তিনি বলেন, কোনো নির্বাচনই পুরোপুরি ঝামেলামুক্ত হয়নি। এবারও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, তবে সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে এবং মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
নির্বাচনকালীন সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো বিদেশি কূটনীতিকদের জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
‘হ্যাঁ ভোট’ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, শুরুতে এ বিষয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধা ছিল। জামায়াত ও এনসিপি আগে থেকেই হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়। পরে বিএনপির চেয়ারম্যানও হ্যাঁ ভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ভোটাররা সাধারণত দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট দেন। যেহেতু বড় দলগুলো হ্যাঁ ভোটের পক্ষে রয়েছে, তাই এটি সহজেই পাস হবে বলে আমার ধারণা।
নির্বাচনের পর প্রধান উপদেষ্টার সম্ভাব্য জাপান সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই বলেও জানান তিনি।
উপদেষ্টাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, কয়েকজন উপদেষ্টা দ্রুত ভিসা নেওয়ার প্রয়োজনের কারণে সাধারণ পাসপোর্ট পেয়ে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। তবে তিনি নিজে এখনো তা হস্তান্তর করেননি।
অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার বক্তব্য দেন। ডিক্যাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডিক্যাব টকে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা ইমরুল কায়েস।
মন্তব্য করুন


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষের শোভাযাত্রার প্রস্তুতিকালে একটি মোটিফ পুড়ে যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছে। শনিবার চারুকলা অনুষদ থেকে পাঠানো বিবৃতিতে এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আজহারুল ইসলাম শেখ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপনের জন্য বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতীকী মোটিফ তৈরি করেছিলেন। এর মধ্যে একটি ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদসূচক মোটিফ। অনুষদের দক্ষিণ পাশের গেট সংলগ্ন স্থানে প্যান্ডেলের ভেতরে মোটিফগুলো রাখা হয়েছিল। অজ্ঞাত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সেখান থেকে ফ্যাসিবাদ-বিরোধী মোটিফটিতে আগুন দেয়। এতে শান্তির প্রতীক পায়রার মোটিফটিও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ জানায়, তারা ভোর ৫টা ৪ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট পাঠায়। তারা ৫টা ২২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা রুহুল আমিন মোল্লা বলেন, "নববর্ষের শোভাযাত্রার জন্য অনেক মোটিফ রাখা ছিল। এর মধ্যে শুধু দুটিতে আগুন লাগাটা রহস্যজনক।"
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বলেন, "তদন্ত ছাড়া আগুনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। আমরা তদন্ত করে কারণ খুঁজে বের করব।"
উল্লেখ্য, এবারের নববর্ষের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ছিল ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’। এই বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে ২০ ফুট উচ্চতার একটি মোটিফ তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে বাঁশ ও বেত দিয়ে একটি দানবীয় মুখাবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। এটিকে ফ্যাসিবাদের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে অর্থনীতিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে।
রোববার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়।
পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শ্বেতপত্রের প্রতিবেদনে অর্থনীতির প্রতিটি খাত আলাদা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং দেখানো হয়েছে, কীভাবে পরিসংখ্যান ম্যানিপুলেট করে উন্নয়নের গল্প সাজানো হয়েছে। যদিও উন্নয়নের কথা শোনানো হয়েছে, তবে প্রকৃতপক্ষে ভেতরে ভেতরে চলছে লুটপাটের এক বিশাল মহাযজ্ঞ।
প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "এই প্রতিবেদন আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক দলিল।" তিনি আরও বলেন, "আর্থিক খাতে যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তা ছিল আতঙ্কজনক। এই ঘটনা আমাদের সামনে এসেছে, তবে কেউ এ নিয়ে কথা বলেনি।"
শ্বেতপত্রটি আগামীকাল সোমবার (২ ডিসেম্বর) প্রকাশিত হবে।
মন্তব্য করুন


পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম। আজ বুধবার (২৭ আগস্ট) ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই পদায়ন করা হয়।
জানা গেছে, শফিকুল ইসলাম ১৮তম বিসিএস ব্যাচের একজন সদস্য। এর আগে তিনি ডিআইজি হিসেবে হাইওয়ে পুলিশে কর্মরত ছিলেন।
শফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার সারিয়াকান্দি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে তিনি ১৯৯৯ সালে ১৮তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন। পেশাগত জীবনের শুরুতে তিনি লক্ষ্মীপুরে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) হন। ২০০২ সালে তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে বদলি হয়ে প্রায় পাঁচ বছর কাজ করেন।
পরে সারদা পুলিশ একাডেমিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রেনিং) হিসেবে যোগ দেন। ২০০৭ সালের জুনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিতে লাইবেরিয়ায় পাঠানো হয় তাকে। মিশন শেষে ২০১০ সালে চট্টগ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পান। এরপর দ্বিতীয় দফায় লাইবেরিয়া মিশনে যান তিনি।
২০১৩ সালে শফিকুল ইসলাম পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পান এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হন। এক বছর পরই আবার জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দেন আইভরি কোস্টে। দেশে ফিরে তিনি হাইওয়ে পুলিশের এসপি হন। ২০১৯ সালে তাকে নৌ পুলিশের এসপির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২০২১ সালে পদোন্নতি পেয়ে একই সংস্থার অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন অ্যান্ড অপারেশন্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়ে হাইওয়ে পুলিশে যোগ দেন।
প্রসঙ্গত, ডিবিপ্রধানের পদটি প্রায় সাড়ে চার মাস ধরে শূন্য। গত ১২ এপ্রিল ডিবির তৎকালীন প্রধান রেজাউল করিম মল্লিককে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি করা হয়। তার পর থেকে যুগ্ম কমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা ডিবির এ ইউনিটের দায়িত্বে ছিলেন।
মন্তব্য করুন


তারেক রহমানের দেশে ফেরার ব্যাপারে সরকারের কোনো বিধি নিষেধ-আপত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে প্রেস সচিব তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।
পোস্টে শফিকুল আলম লিখেন, ‘জনাব তারেক রহমানের আজকের বক্তব্য যে এখনই দেশে ফেরার বিষয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তার জন্য অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, এটা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জনাব শফিকুল আলমের কাছে জানতে চাওয়া হয় যে তার বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোন ধরনের বিধি নিষেধ রয়েছে কিনা।’
এর উত্তর দিয়ে প্রেস সচিব লিখেন, ‘এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কোন বিধি-নিষেধ অথবা কোন ধরনের আপত্তি নাই।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস ইতিমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
মন্তব্য করুন