

প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
আজ মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান। নির্বাচনের সময় নিয়ে দলগুলোর বক্তব্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকার ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ভিন্ন কথা বলা হচ্ছে। এতে নির্বাচন আয়োজনের সময় নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইন উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের, দলের নয়। নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমরা মাথার মধ্যে এটাই রাখছি- ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন, আমরা ফেব্রুয়ারিতে চলে যাবো।
তিনি বলেন, এখন রাজনৈতিক দল তো বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কথা বলে এবং ওইটা তো একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। আপনারা তো এটা সবসময় দেখেছেনই। বাংলাদেশে ট্রেডিশনালি এসব রাজনৈতিক কথাবার্তা হতো, এখনো ঠিক ওরকমভাবেই কথাবার্তা হচ্ছে। কথাবার্তায় খুব বেশি গুণগত পরিবর্তন হয়নি। ফলে নির্বাচনের সময় নিয়ে কে কী বলবেন এটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখবেন।
‘সরকারের পক্ষ থেকে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ আছি। আমাদের স্যার (প্রধান উপদেষ্টা) সর্বজন স্বীকৃত একজন বিশ্বপর্যায়ে নন্দিত মানুষ। উনি নিজে ঘোষণা করেছেন, তার এ ঘোষণা থেকে আমাদের পিছিয়ে আসার বিন্দুমাত্র চিন্তা নেই।’ যোগ করেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য এশীয় নেতাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ চীনের বোয়াও ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে জোরালো অভিমত প্রকাশ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "মিয়ানমারের সংকট শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমিত নেই, এটি পুরো এশিয়া অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। গত সাত বছরে বাংলাদেশ ১২ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে, যারা মিয়ানমারের নাগরিক। এখন এশীয় নেতাদের উচিত তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা।"
তিনি বলেন, "গাজায় চলমান গণহত্যা বিশ্বব্যাপী নিন্দিত হলেও তা থামছে না। ফিলিস্তিন ইস্যু কেবল মুসলিম বা আরব বিশ্বের সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক মানবিক সংকট। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।"
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে ড. ইউনূস বলেন, "ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত বাড়ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, ঋণের বোঝা অসহনীয় হয়ে উঠেছে এবং মানবিক সংকট দিন দিন গভীর হচ্ছে। এই অবস্থায় এশিয়াকে শক্তিশালী ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে হবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "এশিয়ার উন্নয়নের জন্য এসডিজি বাস্তবায়নের পাশাপাশি অবকাঠামোগত বিনিয়োগ, দায়িত্বশীল অর্থায়ন এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য অর্জনে বড় পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
এশিয়ার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এশিয়ার সভ্যতা বহু সংস্কৃতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এখানে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান শুধু এশিয়াই নয়, সারা বিশ্বকে প্রভাবিত করেছে।"
তিনি এশিয়ার যুবশক্তির সম্ভাবনার ওপর জোর দিয়ে বলেন, "এই অঞ্চলের তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা এশিয়াকে এগিয়ে নিতে পারে। তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।"
এই ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নিয়েছেন, যেখানে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


অমাবস্যা ও নিম্নচাপের কারণে বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী ১৫ জেলা ও আশপাশের দ্বীপ-চরাঞ্চলে ১-৩ ফুটের বেশি জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা করা হচ্ছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর বঙ্গোপসাগর অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
শনিবার (২৬ জুলাই) এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে গতকাল মধ্যরাতে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন ঝাড়খন্ডে অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এছাড়া আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, অমাবস্যা ও নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় ১৫ জেলা ও এর আশপাশের দ্বীপ-চরাঞ্চল ১-৩ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। জেলাগুলো হলো- সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার।
এমন অবস্থায় উত্তর বঙ্গোপসাগর অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৮ নভেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সঙ্গে এ আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছেন।
এর আগে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন আমলের সব হত্যা, গণহত্যা, বিচার বহির্ভূত হত্যা, পিলখানা হত্যার বর্ণনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চায় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম।
এ দিন বেলা ১১টার পর ট্রাইব্যুনালের বিচারের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সদস্যরা হলেন- বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মন্তব্য করুন


জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন সফল করতে হলে দেশের সব ধর্মের মানুষকে একত্রে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘কোনো ধর্মকে আলাদা করে দেখা যাবে না। রাষ্ট্রকে সব ধর্মকে সমান মর্যাদা দিতে বাধ্য থাকতে হবে। আমরা নিজেরা যদি বিভক্ত হই, তবে জাতি হিসেবে আমরা ব্যর্থ হব। কিন্তু আমরা ব্যর্থ হতে চাই না।
আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সব নাগরিকের অধিকার সমান হবে। সেখানে কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচিত হবে না, সবাই হবে সমান মর্যাদার নাগরিক।’
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন শেষে প্রধান উপদেষ্টা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনীর বেষ্টনির মধ্যে নয়, আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে সবাই স্বাধীনভাবে নিজের ধর্ম পালন করতে পারবে।
রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের সঙ্গে ধর্ম, পরিচয় বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে বৈষম্য করবে না।’
প্রধান উপদেষ্টা ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনকাল দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, মন্দিরের সার্বিক অবস্থা এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করবেন না বলে জানান তার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
তিনি বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষমতা প্রয়োজন নেই, কিন্তু বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ ডেমোক্রেটিক ট্রাঞ্জিশনের জন্য ড. ইউনূস স্যারের দরকার আছে।
শুক্রবার নিজের ফেসবুক পেজে এ পোস্টে এসব তথ্য জানায় তিনি।
ওই পোস্টে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, বরং ক্যাবিনেটকে আরো গতিশীল হতে হবে।
সরকারকে আরো বেশি ফাংশনাল হতে হবে, উপদেষ্টাদের আরো বেশি কাজ করতে হবে, দৃশ্যমান অগ্রগতি জনতার সামনে উপস্থাপন করতে হবে- এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত থাকতে পারে না। আমাদেরকে দেখাতে হবে যে, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে জনতার সম্মতিতে ক্ষমতায় এসে প্রফেসর সাফল্য দেখিয়েছেন। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্মান আছে, এটা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, সরকারকে এখন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আরো নিবিড়ভাবে আলোচনায় বসতে হবে, নিয়মিত বসে এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত চাইতে হবে।
কোন ধরনের বিচ্ছিন্নতা কাম্য নয়। পাশাপাশি সেনাবাহিনীও রাজনীতিতে নাক গলাতে পারবে না। আজকের দুনিয়ায় কোনো সভ্য দেশের সেনাবাহিনী রাজনীতি করে না। তাই ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের বক্তব্যে সেনাপ্রধান জুরিশডিকশনাল কারেক্টনেস রক্ষা করতে পারেননি।
তবে সেনাবাহিনীকে প্রাপ্য সম্মান দেখাতে হবে, আস্থায় রাখতে হবে। সেনাবাহিনী প্রশ্নে হুট করে কিছু করা যাবে না, হঠকারী কিছু করা যাবে না।
বিশেষ সহকারী ফয়েজ বলেন, তেমনি, ইনক্লুসিভনেসের নাম করে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনও চাওয়া যাবে না। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের গর্ব এবং আস্থার জায়গা- সেটা কেউ ভঙ্গ করবে না।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সকল দরকারি প্রস্তুতি শেষ করে নির্বাচন এপ্রিল-মে'র মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে বলেই আশা করি।
এ সময়ে সকল যৌক্তিক সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে, করতে হবে জুলাই সনদ। জুলাই-আগস্ট'২৫ এ আমরা জাতীয়ভাবে দুই মাস জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তির উদযাপন করব, ইনশাল্লাহ। এবং আগস্টের মধ্যেই স্বৈরাচারী খুনি হাসিনার বিচারের প্রথম রায়টি আলোর মুখ দেখতে পাবে বলেও আশা প্রকাশ করি।
সবশেষে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা হারবো না, আমাদের হারানো যাবে না। ইনকিলাব জিন্দাবাদ। প্রফেসর ইউনূস জিন্দাবাদ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
মন্তব্য করুন


নির্বাচনের আগে ভারি অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান চলমান আছে। এ ব্যাপারে সরকারের কোনো ব্যর্থতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে পূর্বাচলে ফায়ারসার্ভিসের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ভলান্টিয়ার সম্মাননা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জনগণকে সেবা দেয়ার জন্য এই আইন করা হয়েছে। এতে বাহিনীগুলোর কোনো আপত্তি থাকলে তা তারা জানাতে পারে। এ সময় বিডিআর বিদ্রোহের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন করলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় ৫৫ হাজার ভলান্টিয়ারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যেকোনো সময় ফায়ার সার্ভিসের পাশে তারা থাকবে। ভলান্টিয়ারদের আরও কিছু সুযোগ সুবিধা দেওয়া যায় কি না সেই বিষয়ে সরকার ভাবছে।
এ সময় কাজে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ফায়ার সার্ভিসের ২২ জন সদস্যকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৭৫ থেকে ২০০ জন পর্যবেক্ষক পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ বিষয়ে ইইউয়ের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
বুধবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সচিব।
ইসি সচিব বলেন, আমাদের সঙ্গে যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে সেই চুক্তির আওতায় তাদের আমরা ফ্যাসিলিটিজ প্রোভাইড করবো। তাদের যাতায়াত এবং চলাফেরার বিষয় রয়েছে। আমরা শুধু একটা জিনিসই অনুরোধ করেছি, সেটা হচ্ছে লোকাল প্রোটোকল কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানতে হয়। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে লোকাল প্রোটোকল তা মানতে হবে।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকরা তাদের কিছু ইকুইপমেন্ট এক্সেসরিজ এখানে নিয়ে আসবেন- সেগুলো ফেরত নিয়ে যাবেন; এমন একটা ডিক্লারেশন হয়তো আসার সময় তারা দেবেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ভবিষ্যতের বিএনপি হবে গণতন্ত্রের শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো একটি জবাবদিহিতামূলক রাজনৈতিক দল। মঙ্গলবার বিবিসি বাংলায় সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্বে তারেক রহমান এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য—জনগণ, দেশ ও দেশের সার্বভৌমত্ব। অতীতের ভালো কাজগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বুনিয়াদ গড়তে চাই।
তারেক রহমান আরও বলেন, আমরা গর্ব করি যে, বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প ও প্রবাসীদের প্রেরিত বৈদেশিক মুদ্রা—এই দুটো ক্ষেত্রই বিএনপির শাসনামলেই শুরু হয়েছিল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশকে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলাম। এমনকি সেই সময় বাংলাদেশ বিদেশে খাদ্য রপ্তানিও করেছিল।
তিনি বলেন, যখন দেশে বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সব দল নিষিদ্ধ ছিল, তখন বিএনপির হাত ধরেই বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরেছিল। সেই ইতিহাস আমাদের অনুপ্রেরণা।
রাজনীতিতে জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, অভিযোগ থাকতেই পারে। অভিযোগকে আমরা বিবেচনায় রাখব। তবে সুযোগ পেলে প্রমাণ করব, জবাবদিহিতা কেমন হওয়া উচিত। এটা একদিনে সম্ভব নয়, ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশ গঠনের কাজে শুধু রাজনীতিক নয়, নাগরিকরাও অংশীদার। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে।
প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৭ বছর আমি বিদেশে আছি। পরিবারের সহযোগিতা ছাড়া এই দূরত্ব থেকে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব হতো না। আমার স্ত্রী ও সন্তানকে ধন্যবাদ জানাই, কারণ তাদের সহায়তা না থাকলে এই কঠিন কাজ আরও কঠিন হতো।
তারেক রহমান আরও বলেন, নানা বাধা-বিপত্তি, দমন-পীড়নের মধ্যেও যারা দলকে সুসংগঠিত রেখেছেন, রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন, জনগণের দাবির পক্ষে সোচ্চার ছিলেন—আমি তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞ। যুক্তরাজ্যে থেকে ভালো যা কিছু দেখেছি বা শিখেছি, সুযোগ পেলে সেই অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চাই।
মন্তব্য করুন


বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডন যাত্রা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। এবার জানা গেছে, জানুয়ারির প্রথমার্ধে তিনি লন্ডন যাচ্ছেন। দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে মেডিকেল বোর্ডের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। সম্ভাব্য যাত্রার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ জানুয়ারি। তবে এটি এখনও নিশ্চিত নয়। সবকিছু খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে রওনা হবেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন ১৬ সদস্যের একটি টিম। এ টিমে তার চিকিৎসা বোর্ডের বেশিরভাগ সদস্য, তিনজন দলীয় নেতা, দুজন একান্ত সচিব, একজন প্রটোকল অফিসার, পুত্রবধূ এবং দুজন গৃহকর্মী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
হিথ্রো বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাবেন তার পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ৮ বছর পর মায়ের সঙ্গে তারেক রহমানের এ সাক্ষাৎ হবে।
সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ভিসা প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। যেসব হাসপাতালে তার চিকিৎসা হবে সেখানকার অ্যাপয়েন্টমেন্টও নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, খালেদা জিয়া শারীরিক ও মানসিকভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সোমবার রাত কিংবা মঙ্গলবার সকালের মধ্যে এই বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় পৌঁছাবে বলে জানা গেছে।
রোববার (৫ জানুয়ারি) রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়ে কাতারের আমির রাজকীয় বহরের বিশেষ এই বিমান পাঠিয়েছেন। এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সর্বাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে।
লন্ডন যাত্রার আগে রোববার রাত ৯টার দিকে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’-তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খালেদা জিয়া।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, “বেগম খালেদা জিয়া তার চিকিৎসার জন্য আগামী মঙ্গলবার রাতে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সেই কারণেই আমরা জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম।”
৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। লন্ডনে পৌঁছানোর পর তিনি কিছুদিন তার ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় থাকবেন।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের মাল্টি ডিসিপ্লিনারি কেয়ার ইউনিটে যাবেন। সেখানেই তার লিভার ট্রান্সপ্লান্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
ইতিমধ্যে খালেদা জিয়ার যাবতীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং মেডিকেল রিপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গত বছরের ২৬ অক্টোবর, জন হপকিন্স হাসপাতালের তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঢাকায় এসে এভারকেয়ার হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়ার লিভার এবং পেটের ফ্লুইড জমা ও রক্তক্ষরণ রোধে বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি ট্রান্সজুগুলার ইনট্রাহেপাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (TIPSS) সম্পন্ন করেছিলেন।
এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলই যুক্তরাষ্ট্রে তার লিভার ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
মন্তব্য করুন