

চারদিনের সফরে চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (২৬ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের বিশেষ একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার সফরের বিষয়ে জানা গেছে, ২৬ থেকে ২৯ মার্চ চীন সফর করবেন তিনি। ২৬ মার্চ (বুধবার) দুপুরে চীনের পাঠানো একটি উড়োজাহাজে ঢাকা থেকে রওনা হবেন।
২৭ মার্চ দেশটির হাইনান প্রদেশে আয়োজিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএফএ) সম্মেলনে যোগ দেবেন ড. ইউনূস। সম্মেলনের উদ্বোধনী প্লেনারি সেশনে বক্তব্য দেবেন তিনি।
এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে চীনের স্টেট কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রিমিয়ার দিং ঝুঝিয়াংয়ের বৈঠক হতে পারে।
২৮ মার্চ বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ড. ইউনূস। একই দিনে হুয়াওয়ে কোম্পানির উচ্চ-প্রযুক্তিসম্পন্ন এন্টারপ্রাইজ পরিদর্শন করবেন তিনি।
২৯ মার্চ চীনের বিখ্যাত পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে এবং সেখানে তিনি বক্তব্য রাখবেন। পরে বেইজিং থেকে চীনের একটি বিমানে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টার।
প্রধান উপদেষ্টার বেইজিং সফরে ছয় থেকে আটটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি এ সফরে চারটি ঘোষণা আসতে পারে। যার মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশকে এক থেকে দুই বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তার ঘোষণা দেবে চীন। এছাড়া মোংলা বন্দরের আধুকিয়ানে অর্থায়নের বিষয়টিও যুক্ত থাকবে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি ভালো দিকগুলোও তুলে ধরার আহ্বান জানান অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, সরকারের কোনো উন্নয়ন বা সংস্কার যাদের চোখে পড়ে না, তারা আসলে অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখেন না। শুধু ভুল আর নেতিবাচক বিষয়গুলো না দেখে ভালো বিষয়গুলোও দেখতে হবে। সরকারের ভুল যে নেই, তা নয়। সমালোচনা করার ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি নেই। এতে ভুল সংশোধন করা যাবে।
আজ সোমবার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে আয়কর, মূসক ও কাস্টমস সংক্রান্ত গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আমার অনেক জুনিয়র অর্থনীতিবিদ আছেন, যারা শুধু সরকারের ভুল আর নেতিবাচক বিষয়গুলোই দেখেন।
শুধু বলেন, এটা নেই, ওটা নেই। কিন্তু ভালো দিকগুলোর প্রতিও নজর দেওয়া জরুরি। এ সময় তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি সুনাম রয়েছে জানিয়ে তা ধরে রাখার পরামর্শ দেন।
এ সময় ২০২৫-২৬ কর বছরের ই-রিটার্নের উদ্বোধন করেন অর্থ উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন


আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন—এই তিন জোনে ভাগ করা হচ্ছে বলে জানিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, সে অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
রোববার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বাংলাদেশ সফররত কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি আয়োরকর বচওয়ের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ইসি সচিব।
তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে সার্বিক সহযোগিতা করতে চায় কমনওয়েলথ। এ জন্য ৫৬ সদস্য দেশের সংগঠন হিসেবে তারা পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য প্রস্তুত।
ইসি সচিব বলেন, সিইসির সঙ্গে বৈঠকে কমনওয়েলথ মহাসচিবের কাছে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি, অগ্রগতি, বিদেশে ভোট প্রদান, গণভোটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
সচিব জানান, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানানো হবে। মহাসচিব আশা প্রকাশ করেন, তারা এসে নির্বাচনকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে ভূমিকা রাখবেন। এখনো পর্যবেক্ষক দলের সংখ্যা বা পাঠানোর সময় বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট হয়নি। প্রবাসী পর্যবেক্ষকেরাও নির্বাচন পর্যালোচনা করে তাদের অবস্থান জানাবেন।
আখতার আহমেদ বলেন, ‘কমনওয়েলথ জিজ্ঞেস করেছে—আপনারা কী ধরনের সহযোগিতা চান? আমরা এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু বলিনি। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কোথায় সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে, তা নির্ধারণ করতে কিছু সময় লাগবে।’
ইসি সচিব জানান, আলোচনার শেষাংশে মহাসচিব নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির ওপর আস্থা ও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশ একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবে।
তিনি বলেন, ‘আলোচনাটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে এবং মহাসচিব আমাদের প্রস্তুতিকে সমর্থন ও আস্থা জানিয়েছেন। আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই। শেষে কমনওয়েলথ মহাসচিব জানান, তারা আশা করছেন, এবারের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক হবে।’
ইসি সচিব আরও বলেন, কমনওয়েলথ মহাসচিব বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে সিইসির কাছে জানতে চেয়েছেন। জানানো হয়েছে যে, ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় সব নির্বাচন সামগ্রী প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিদেশে বসবাসকারী ভোটারদের জন্য ওসিভি (আউট অব কান্ট্রি ভোটিং)–এর প্রক্রিয়াও চলছে। ৫৩ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম প্রবাসীদের এই অন্তর্ভুক্তি হচ্ছে—এটি জেনে মহাসচিব সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
সচিব জানান, আইসিপিভির (ইন কান্ট্রি পোস্টাল ভোট) আওতায় দেশের ভেতরে প্রায় ১০ লাখ ভোটার, যারা বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ দায়িত্বে নিয়োজিত—তাঁদেরও ভোটদানের সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এটিও মহাসচিবের কাছে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কমনওয়েলথ মহাসচিব বলেছেন যে একই দিনে গণভোট আয়োজন নির্বাচন কমিশনের জন্য বাড়তি দায়িত্ব। তবে ইসি যে প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে, তা দেখে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশি পণ্যের ওপর থেকে ১৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুল্ক নিয়ে হোয়াইট হাউসের এক ঘোষণায় এই পরিমাণের কথা উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ আগস্ট) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়টিকে বর্তমান অন্তর্বতী সরকারের অন্যতম সফলতা হিসেবে দেখছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
শুক্রবার (১ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানায়।
ওই পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘১৫ শতাংশ কমিয়ে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ২০ শতাংশ। অ্যানাদার সাকসেস অফ ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট’।
এদিকে হোয়াইট হাউসের ঘোষণা অনুযায়ী, অন্যান্য দেশের মধ্যে পাকিস্তানের ওপর ১৯ শতাংশ, আফগানিস্তানের ওপর ১৫ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ, ব্রাজিলের ওপর ১০ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ওপর ১৯ শতাংশ, মালয়েশিয়ার ওপর ১৯ শতাংশ, মিয়ানমারের ওপর ৪০ শতাংশ, ফিলিপাইনের ওপর ১৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।
ভারতের তুলনায় কম শুল্ক হওয়ায় একে একটি সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘আজ আমরা সম্ভাব্য ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক এড়াতে সফল হয়েছি। এটা আমাদের পোশাক খাত ও এ খাতের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ মানুষের জন্য সুসংবাদ।’
বাংলাদেশ গার্মেন্টস প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলও একই কথা বলেন। তার ভাষায়, এ সিদ্ধান্ত অনেকাংশেই বাংলাদেশের জন্য খুশির খবর। যুক্তরাষ্ট্রে চীনের বাজার হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় প্রথমে ভারতকে সেই শূন্যস্থান পূরণে এগিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, আমাদের চেয়ে ভারতের ওপর বেশি শুল্ক নির্ধারণ হয়েছে—২৫ শতাংশ।
অর্থাৎ, মার্কিন ক্রেতারা এখন বাংলাদেশকেই চীনের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন।
মন্তব্য করুন


দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে নির্বাচন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন আমীর খসরু। এ সময় বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস উপস্থিত ছিলেন।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে অবদান রাখায় গোয়েন লুইসের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান আমীর খসরু।
বৈঠকে দেশের বর্তমান পটভূমি, নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে জানান আমীর খসরু। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের শাসন ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘের যে প্রতিশ্রুতি, তা নিয়েও কথা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য জানান, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যাবে, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, এর বাইরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যত দিন প্রত্যাবাসন না হয়, তত দিন রোহিঙ্গাদের বিষয়ে জাতিসংঘ কাজ করতে সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
গোয়েন লুইস বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। জাতিসংঘ নির্বাচন কমিশনকে সমর্থনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। প্রযুক্তিগত স্তরে সবকিছু ঠিকঠাক আছে কি না, তা নিশ্চিত করছে।
ঐকমত্যের প্রসঙ্গে কথা বলেন গোয়েন লুইস। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্য তৈরির ক্ষেত্রে কাজ করেছে। সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, যাতে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।
রোহিঙ্গা পরিস্থিতির নিয়ে গোয়েন লুইস বলেন, শরণার্থীদের প্রতি অবিশ্বাস্য আতিথেয়তা দেখানোয় বাংলাদেশকে তারা সাধুবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


ঢাকার পূর্বাচলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির আলাদা তিন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাত বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।
পৃথক তিন মামলায় আসামির সংখ্যা ৪৭। তবে ব্যক্তি হিসাবে এই সংখ্যা ২৩। শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ছাড়া অপর ২০ আসামি হলেন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) শফি উল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, রাজউকের সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) নায়েব আলী শরীফ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. কামরুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, উপপরিচালক হাবিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মাদ সালাউদ্দিন। আসামিদের মধ্যে একমাত্র মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গ্রেফতার আছেন।
৯১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণে উঠে আসে, রাজধানীতে জমি থাকা সত্ত্বেও তা গোপন করে সরকারি প্লট নেন শেখ হাসিনা ও তার ছেলে-মেয়ে।
অবৈধভাবে রাজউকের ৩০ কাঠা প্লট নেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করে দুদক। আদালতে আসামিদের উপস্থিত হতে সমন, গ্রেফতারি পরোয়ানা ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও অনুপস্থিত থাকেন তারা। এতে পলাতক অবস্থায়ই শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চলে বিচারকাজ।
দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, রাজউকের আবাসন নীতি লঙ্ঘন করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাবলে ছেলে-মেয়েসহ নিজের নামে সরকারি জমি নেন শেখ হাসিনা। দাখিল করেন মিথ্যা হলফনামাও।
মূলত গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ শাসনামলের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে থাকে।
জানা গেছে, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে’ রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগে গত জানুয়ারিতে ছয়টি মামলা করে দুদক। এসব মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে আসামি করা হয়।
ছয় মামলাতেই হাসিনাকে আসামি করা হয়েছে। তার পরিবারের তিনটি মামলার বিচার চলছে একসঙ্গে; আলাদা আদালতে রেহানা পরিবারের তিন মামলারও বিচার চলছে একসঙ্গে।
গত ৩১ জুলাই এসব মামলায় হাসিনা ও রেহেনা পরিবারের সাত সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে (একই ব্যক্তি একাধিক মামলায় অভিযুক্ত) অভিযোগ গঠন করেন আদালত। আর গত ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে হাসিনা পরিবারের মামলার রায়ের দিন ঠিক করা হয়। এছাড়া ২৫ নভেম্বর রেহানার পরিবারের এক মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ১ ডিসেম্বর রায়ের দিন রেখেছেন আদালত।
মন্তব্য করুন


সিলেটের ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই এবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অকশন শেড (নিলামঘর) থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০টি চাকা গায়েব হয়েছে। এ ঘটনায় গত সোমবার বিমানবন্দর থানায় একটি জিডি করেন বিমানের সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মোশারেফ হোসেন।
জিডিতে বিষয়টিকে চুরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে বাদী বিমানের কর্মকর্তা মোশারেফ লিখেছেন, গত ১৬ আগস্ট (শনিবার) সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০টি ‘আনসার্ভিসেবল টায়ার’ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্সের পাশের অকশন শেডে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
জিডিতে বলা হয়, খুঁজে না পাওয়ার পর বিমানের ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট সুপারভাইজার আরমান হোসেন ও স্টোর হেলপার সামসুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, একটি ‘বেসরকারি এয়ারলাইন্স কর্মকর্তাকে’ ১০টি চাকা ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে। আর এটি ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষকে’ না জানিয়ে করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানার ওসি তাসলিমা আক্তার বলছেন, উড়োজাহাজের চাকার বিষয়ে বিমানের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে। পুলিশ বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের একজন কর্মকর্তা জানান, একেকটি চাকার দাম পাঁচ থেকে ১৫ হাজার ডলার। সেই হিসেবে প্রায় কোটি টাকার চাকা বেঁচে দিয়েছেন বিমানের কর্মীরা। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। মূলত অবৈধ অর্থের জন্য টায়ারগুলো সরানো হয়।
এদিকে এ ঘটনার পর দায় স্বীকার করে বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত দিয়েছেন ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট সুপারভাইজার মো. আরমান হোসেন। সেখানে তিনি বলেন, বিমানের ১০টি টায়ার তিনি ‘বেসরকারি এয়ারলাইন্সকে’ দেন। এরপর বেসরকারি এয়ারলাইন্সটি তাদের থেকে ৬টি টায়ার নিয়ে অকশন শেডে রাখেন। এটি নিরাপত্তা সদস্যদের দৃষ্টিগোচর হয়। নিরাপত্তা শাখার দুজন সদস্য এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনা স্বীকার করেন।
পরের ঘটনার বর্ণনায় বিমানের এই অভিযুক্ত কর্মকর্তা আরো জানায়, নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাদের সঙ্গে নিয়ে বেসরকারি এয়ারলাইন্সের ওই টায়ারগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিমানের টায়ারগুলো ফিরিয়ে এনে অকশন শেডে রাখা হয়।
এসব বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) এ বি এম রওশন কবীর গণমাধ্যমকে জানান, টায়ারগুলো নিলামের জন্য রাখা হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সেগুলো সরানো হয়েছিল। তদন্তে দুজনের সম্পৃক্ততার বিষয় উঠে এসেছে। এর সঙ্গে আরো কারো সম্পৃক্ততা আছে কি না, খোঁজা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী খুব দ্রুতই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি, তিনি এখনো জটিল অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। তার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড এখনো কোনো পরামর্শ দেয়নি। বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
তিনি জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের সব কর্মসূচি স্থগিত করেছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হাসপাতালের সামনে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ের বিষয়ে রিজভী বলেন, হাসপাতালে অতিরিক্ত ভিড় হলে চিকিৎসা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। এজন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে, হাসপাতালের সামনে ভিড় না করতে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দোয়া করবেন।
দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিতভাবে চিকিৎসকদের যোগাযোগ হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সার্বিক শারীরিক খোঁজ-খবর মেডিকেল বোর্ডই দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য এশীয় নেতাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ চীনের বোয়াও ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে জোরালো অভিমত প্রকাশ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "মিয়ানমারের সংকট শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমিত নেই, এটি পুরো এশিয়া অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। গত সাত বছরে বাংলাদেশ ১২ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে, যারা মিয়ানমারের নাগরিক। এখন এশীয় নেতাদের উচিত তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা।"
তিনি বলেন, "গাজায় চলমান গণহত্যা বিশ্বব্যাপী নিন্দিত হলেও তা থামছে না। ফিলিস্তিন ইস্যু কেবল মুসলিম বা আরব বিশ্বের সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক মানবিক সংকট। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।"
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে ড. ইউনূস বলেন, "ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত বাড়ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, ঋণের বোঝা অসহনীয় হয়ে উঠেছে এবং মানবিক সংকট দিন দিন গভীর হচ্ছে। এই অবস্থায় এশিয়াকে শক্তিশালী ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে হবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "এশিয়ার উন্নয়নের জন্য এসডিজি বাস্তবায়নের পাশাপাশি অবকাঠামোগত বিনিয়োগ, দায়িত্বশীল অর্থায়ন এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য অর্জনে বড় পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
এশিয়ার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এশিয়ার সভ্যতা বহু সংস্কৃতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এখানে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান শুধু এশিয়াই নয়, সারা বিশ্বকে প্রভাবিত করেছে।"
তিনি এশিয়ার যুবশক্তির সম্ভাবনার ওপর জোর দিয়ে বলেন, "এই অঞ্চলের তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা এশিয়াকে এগিয়ে নিতে পারে। তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।"
এই ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নিয়েছেন, যেখানে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
বিএনপি নেতাদের জামিনে মুক্তি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন বলে তা সম্ভব হচ্ছে।
শুক্রবার (১০ মে) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ এবং সব সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের যৌথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন। বিচার বিভাগ স্বাধীন বলে তা সম্ভব হচ্ছে। বিএনপি আবার নৈরাজ্য করলে, আগে তো একটি শিক্ষা পেয়েছে, এবার ডাবল শিক্ষা পাবে। আমরা বসে নেই। নৈরাজ্য, সন্ত্রাস বা অরাজকতা করলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে লড়ব।
পার্শ্ববর্তী দেশকে খুশি করতে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করে, ভারত আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পারবে না- বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের ভারতকে খুশি করার দরকার নেই। আমরা নিজেদের শক্তিতে টিকে আছি, ভারতের দয়ায় নয়। তবে, ভারত আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। আমেরিকা নির্বাচনের সময় যে ভূমিকা নিয়েছিল, তখন ভারত কোনো কথা বলেনি, কোনো ভূমিকা রাখেনি। নিজের দেশকে এভাবে ছোট করা গয়েশ্বরের ক্ষেত্রেই মানায়।
১৭ মে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগরসহ সব শাখা ও সহযোগী সব সংগঠন কেন্দ্রীয় কার্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসূচি পালন করবে। সবচেয়ে বড় প্রোগ্রাম হবে ২৩ জুন, আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সারা দেশে আমরা ব্যাপকভাবে পালন করব।
প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচন সন্তোষজনক- জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রাণহানির একটি ঘটনাও নেই। এ রকম একটি নির্বাচন আমরা করেছি। এ কৃতিত্ব আমাদের দিতে হবে। যেরকম ভোট হয়েছে, তাতে খুব বেশি ভালো বলবো না, তবে সন্তোষজনক হয়েছে। বিএনপি জামায়াতসহ অনেক দল বর্জন করেছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভোটের উপস্থিতি ৩৬ থেকে ৪০ শতাংশ কম নয়।
যৌথ সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, আইন সম্পাদক নাজিবুল্লাহ হিরু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন নিয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে বিএনপির বর্ধিত সভায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের মানুষের অনেক আশা ছিল, ৫ আগস্ট পরিবর্তনের পর, ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ থেকে পলায়নের পর, দেশে পরিবর্তন আসবে। জনগণের ভোটাধিকার দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া হবে, তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন এবং তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবেন। কিন্তু আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, সে লক্ষ্যে আমরা সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাচ্ছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, বিএনপিকে গণতন্ত্রের জন্য, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য কত বড় ত্যাগের মধ্য দিয়ে সংগ্রাম করতে হয়েছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। ক্রমান্বয়ে শিক্ষাঙ্গনগুলো, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, শিক্ষার পরিবেশ বজায় থাকছে না। অবিভক্ত বাংলায় যেসব বরেণ্য বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, বিশেষ করে পূর্ব বাংলায় জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিত্বদের নাম কিছু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘দেশের গণতন্ত্রকে বিঘ্নিত ও বাধাগ্রস্ত করার জন্য একটি মহল বিভিন্নভাবে চক্রান্ত করছে। বাইরে থেকেও এ ধরনের চেষ্টা চলছে। দেশের অভ্যন্তর থেকেও কিছু গোষ্ঠী ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।’
বিএনপির বর্ধিত সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
মন্তব্য করুন