

ডেস্ক রিপোর্টঃ
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ট্রেনে কাটা পড়ে বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চকের ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের কোরবান আলী (৩৫) ও তার মেয়ে কোহেলী খাতুন (১০)। কোরবান আলী বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি হাবিবুর রহমান জানান, কোরবান আলী সকালে মেয়েকে নিয়ে রাণীনগর বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এসময় উত্তরবঙ্গগামী বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেন চকের ব্রিজ অতিক্রম করার সময় কাটা পড়ে মারা যান বাবা এবং মেয়ে। পরে রেল লাইনের ওপর তাদের বাবা ও মেয়ের দ্বিখণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।
নিহত কোরবানের ভাই ইউসুফ আলী জানান, পারিবারিক কলহের জেরে বাকপ্রতিবন্ধী কোরবান আলী মেয়েকে নিয়ে একসঙ্গে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তাদের মরদেহ উদ্ধার করার জন্য সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৫ ( বুড়িচং-ব্রাহ্মণ পাড়া) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সভাপতি ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি'র সাবেক সহ-সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবিদ এস এম আলাউদ্দিন অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।
স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনুরোধে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এস এম আলাউদ্দিন জানান, বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার সাধারণ মানুষ যদি আমাকে চায়, তাদের ভালোবাসা ও আস্থা যদি পাই, তবে আমি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেব। জনগণের ইচ্ছাই হবে আমার সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি। জনগণ চাইলে আমি তাদের শাসক হিসেবে নয়, সেবক হিসেবে পাশে থাকতে চাই।
তিনি আরো বলেন, মানুষের সেবা করা এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। আমি দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবত রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার মানুষের সেবা করে আসছি। তাদের পাশে থেকে আমৃত্যু সেবা করে যাবো। আমি ২০০৭ ও ২০০৮ সালে কুমিল্লা-৫ থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা পেয়েছি। ১৯৯১ সাল থেকে আমি বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে রাজনীতি করছি। এলাকার মানুষ যদি আমাকে সুযোগ দেয়, তবে আমি প্রমাণ করতে চাই একজন সৎ ও আদর্শ এমপি চাইলে কীভাবে এলাকার আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্তবর্তী হওয়ায় এখানে মাদকের অনুপ্রবেশ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আমি নির্বাচিত হলে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করব। পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরণ, রাস্তাঘাট ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন আমার অগ্রাধিকার হবে।
তিনি আরও বলেন,আগামী দিনে আমি এমন একটি বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার স্বপ্ন দেখি যেখানে মানুষ রাতে নিশ্চিন্তে দরজা খুলে ঘুমাতে পারবে।
উল্লেখ্য যে, এসএম আলাউদ্দিন স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ে বিএনপির রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ীও বটে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জগতপুর এলাকা থেকে যৌথবাহিনীর একটি দল কামাল হোসেন নামে এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে।
এই যুবদল নেতা বুড়িচং সদর ইউনিয়নের আহ্বায়ক এবং স্থানীয়ভাবে "ফেন্সি কামাল" নামে পরিচিত। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, যৌথবাহিনী দেলোয়ার হোসেন ও সারদুল ইসলাম নামে দুই মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করে, যাদের কাছ থেকে ২১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে কামাল হোসেনের নাম উঠে আসে।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোরে ২১০টি ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করার পর তাদের তথ্যের ভিত্তিতে কামাল হোসেনকে আটক করা হয়।
কামালের বিরুদ্ধে পূর্বে মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দ্রুতগতির লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স লড়ির পিছনে ধাক্কা দিলে এ্যাম্বুলেন্সে থাকা লাশের দুই স্বজন নিহত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাতিসা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ্যাম্বুলেন্সের চালক আহত হলেও পরে পালিয়ে যায়। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মোঃ সাকলাইন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে মারা যাওয়া রুবেলের লাশ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে নিয়ে দ্রুতগতির লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স(ঢাকামেট্রো-শ-১১-৪৮২৪) চট্টগ্রামের ভুজপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বিকেল পৌনে পাঁচটায় মহাসড়কের বাতিসা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি একটি লরীর পিছনে ধাক্কা দিলে সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়।
এতে ঘটনাস্থলেই রুবেলের ভাই চট্রগ্রামের ভুজপুর থানার পূর্ব ভুজপুরের জয়নাল আবেদীনের ছেলে ওসমান গণি নিহত ও একই গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া গুরুতর আহত হন। এরই মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের চালক আহত হলেও তিনি পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে আহত বাবুল মিয়াকে উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে বাবুল মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার সার্জের্ন্ট মোঃ সাকলাইন বলেন, ‘দুর্ঘটনা কবলিত অ্যাম্বুলেন্স ও লাশ উদ্ধার শেষে থানায় আনা হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আইন প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে’।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা থেকে অস্ত্রসহ খাজা খায়ের উদ্দিন নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী। মঙ্গলবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিমসার গ্রামের একটি অভিযান পরিচালনা করে সেনাবাহিনী।
অভিযানের ফলস্বরূপ ১টি দেশীয় পিস্তল (রিভলবার) এবং ২টি হাঁসুয়া উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত খাজা খায়ের উদ্দিন (৪৮)কে পুলিশ কাছে হস্তান্তর করা হয়। বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুল হক জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।
গ্রেফতারের পর দুপুরে আদালতের মাধ্যমে খাজা খায়ের উদ্দিনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। তিনি আরও জানান, অস্ত্র, মাদক এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ দমন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
এই অভিযান দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর আন্তরিকতা ও সচেষ্টতার একটি প্রমাণ, যা সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কক্সবাজারের সীমান্ত পরিদর্শনকালে টেকনাফে হ্নীলা জাদিমুড়া পশ্চিম পাহাড় থেকে ১৭ শ্রমিকসহ ১৯ জনকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। বন বিভাগের জায়গায় কাজ করতে গেলে তাদেরকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা।
আজ সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন।
অপহৃতরা হলেন বন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম (২২), সৈয়দ (৫০), রফিক, শ্রমিক আইয়ুব খান (১৮), আইয়ুব আলী (৫০), আনসার উল্ল্যাহ (১৮), আয়াত উল্ল্যাহ (২২), সামছু (৪৫), ইসলাম (২১),সামছু (৪০), ইসমাইল (৩৫), মোহাম্মদ হাসিম (৪০), নূর মোহাম্মদ (২১), সৈয়দ আমিন (৩০),সফি উল্ল্যাহ (৩০), আইয়ুব (৫০), মাহাতা আমিন (১৮)। এছাড়া আরও দুজনের নাম পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে অনেকে রোহিঙ্গা বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, হ্নীলা জাদিমুড়া এলাকা থেকে ফরেস্টসহ ১৯ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। তাদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
টেকনাফ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘প্রতিদিনের ন্যায় বাগানে কাজ করতে গেলে ১৯ জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), উপজেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
এদিকে অপহরণের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ ট্রান্সফোর্স গঠন করে পাহাড়ে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় টেকনাফে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মন্তব্য করুন


দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন এবং মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ জানুয়ারি দুপুরে বি-বাড়িয়া জেলায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের নিমিত্তে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উক্ত অভিযানে আশুগঞ্জ উপজেলার শরিফপুর এলাকা হতে ১টি ৫.৫ মিঃমিঃ এয়ারগান এবং ৩টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্ৰ যথাযথ প্রক্রিয়ায় আশুগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা বদ্ধপরিকর।
মন্তব্য করুন


চাঁদপুর জেলার শাহারাস্তি উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র ও বুলেটসহ ২ জনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত ১০ টায় শাহরাস্তি উপজেলার পশ্চিম উপলতা এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে ১টি ৭.৬২ মিঃমিঃ পিস্তল, ১টি ৯ মিঃমিঃ পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন, ৩০ রাউন্ড পিস্তলের এ্যামোনিশন, ১টি গ্যাস, মাস্ক, ১টি হার্ড ড্রাইভ এবং ১টি হোলস্টারসহ ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, শাহরাস্তি উপজেলার পশ্চিম উপলতা গ্রামের মোঃ আলমগীরের স্ত্রী লাভলি বেগম (৪০) ও ছেলে ফয়সাল হোসেন শাকিল (২১)।
আটককৃত ব্যক্তি, উদ্ধারকৃত অস্ত্র, এ্যামোনিশন এবং সরঞ্জামাদি যথাযথ প্রক্রিয়ায় শাহরাস্ত্রি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে,দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন এবং মাদক নির্মূলের লক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রোক্লেমেশন অব জুলাই রেভ্যুলুশন ঘোষণা করতে হবে। ৩১ ডিসেম্বরের পর এতগুলো দিন পেরিয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। এ দেশে অন্য কোনো দেশের দাদাগিরি চলবে না বলেও হুঙ্কার দেন তিনি।
বুধবার বিকালে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে নগরীতে লিফলেট বিতরণ এবং জনসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে কুমিল্লা পুলিশ লাইন থেকে জনসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ শুরু করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি।
হাসনাত বলেন, কুমিল্লা থেকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সূচনা শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। চব্বিশের বাংলাদেশে আগামীর স্বপ্ন কুমিল্লা থেকে যাত্রা শুরু হবে। আর আপনারা জানেন, কুমিল্লা থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী ধ্বনি সব সময় উচ্চারিত হয়েছে। আগামী ৭ দিন পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায় এ কর্মসূচি পালন করা হবে। দেশটা ফ্যাসিবাদের অষ্টেপৃষ্ঠে শিকলে বাঁধা ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদের শিকলমুক্ত করেছে ভয়হীন তরুণ প্রজন্ম। যে প্রজন্মটাকে আমরা অলস ভাবতাম, মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকত, ওই প্রজন্মই দিন শেষে আমাদের কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। আমরা অতীতের রাজনীতির পুনরাবৃত্তি চাই না। তাই বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনৈতিক ধারা পরিবর্তন করতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ করে হাসনাত বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের আর্তনাদ আমরা এখনো শুনতে পাই। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দোহাই দিয়ে তাদের সুবিধাপ্রাপ্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। চব্বিশ পরবর্তী বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দোহাই চলবে না। এ দেশে অন্য কোনো দেশের দাদাগিরি চলবে না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারিকুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলার আহ্বায়ক সাকিব হোসাইন, সদস্য সচিব রুবেল হোসেন, মহানগর সদস্য সচিব রাশেদুল হাসান প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা নগরীতে ৫ আগস্ট আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ হত্যা মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহবায়ক ইশতিয়াক সরকার বিপুকে জড়ানো হয়েছে।
রবিবার ( ১০ আগষ্ট) সকালে কুমিল্লা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা বলেন ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইমতিয়াজ সরকার নিপু।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমার ছোট ভাই ইসতিয়াক সরকার বিপু ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিতে সক্রিয়। ১৯৮৯ সাল থেকে সে ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদল কর্মী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ২০১৭ সালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের সময় বেশ কয়েকবার তাদের দ্বারা হামলা ও মামলার শিকার হয়। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের দেয়া দুইটি মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করে। দুঃখের বিষয় গণঅভ্যুথানের পরেও বর্তমান সময়ে সেই মামলাগুলো এখনো চলমান রয়েছে।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিদায়ের পর ইসতিয়াক সরকার বিপু ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়। সাথে সাথে শুরু হয় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। এরপরের ঘটনা আপনারা সকলেই অবগত আছেন। সম্ভাব্য কাউন্সিলর নির্বাচন ও ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপিতে নিজেকে উপস্থাপন করার সাথে সাথেই নানামুখী ষড়যন্ত্র চলতে থাকে। এতে আওয়ামীলীগের পতিত নেতাকর্মীরাও নিজেদের শত্রুদের সাথে সখ্যতা ও হাত মেলায়। তাদের প্রতিপক্ষতা ও হিংসা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ৫ আগস্ট আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ হত্যায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে জড়াতে নানাহ আইনী জটিলতা চালায়। ইতিমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি এমন কূটকৌশল ও আইনি জটিলতা তারা চূড়ান্ত করে ফেলেছে। নিজেদের দলের একজন ত্যাগী কর্মীকে ফাঁসাতে এমন জঘন্য অপকর্ম করতেও তারা পিছপা হয়নি।
অথচ ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর দুপুরে ইসতিয়াক সরকার বিপু মোগলটুলি এলাকা থেকে বিজয় মিছিল নিয়ে পূবালী চত্বরে যায়। এরপর পুলিশের ফোনে খবর পায় কুমিল্লা কোতয়ালি থানায় হামলা হতে পারে। তখন বিকেল বেলা সে তার নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় উপস্থিত হয় এবং অবস্থান নেয়। ওই সময়ে থানায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যগণ তাঁদের নিরাপত্তার জন্য অনুরোধ জানায়। এসময় কোতয়ালী থানায় আরো উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার ও সাবেক কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়াসহ মহানগর ও ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও ছাত্র জনতা । উপস্থিত নেতৃবৃন্দ থানায় মাইকে বক্তব্য রাখেন, যার ভিডিও ফুটেজ কোতয়ালি থানার সিসিটিভি ক্যামেরায় ও বিভিন্ন কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখনো রয়েছে। রাতে যখন বিপু এলাকায় ফিরে আসেন তখন জানতে পারেন আইনজীবী আবুল কালাম গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একই ব্যক্তি একই সময়ে পৃথক দুইটি ঘটনায় উপস্থিত থাকতে পারেন না।
আইনজীবি আবুল কালাম আজাদ হত্যার ঘটনাটি জঘন্যতম অপরাধ। তিনি বিএনপি ঘরানার আইনজীবী ছিলেন। আমরা তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবী জানাচ্ছি। যারা এই হত্যা কান্ডটি সংঘটিত করে তারা আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। হত্যার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মোবাইলে ধারণকৃত ফুটেজ অবশ্যই পুলিশের কাছে আছে, পুলিশ তা জানেও। ওই ফুটেজ সমূহ যাচাই-বাছাই করলে হত্যার সময় বিপু এই ঘটনায় ছিল না বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরও ষড়যন্ত্র থেমে নেই ।
মামলায় ইসতিয়াক সরকার বিপু স্বাভাবিকভাবেই আসামির তালিকায় ছিল না, থাকবার কথাও নয়। কিন্তু পরে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে বিপুকে জড়িত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। যে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে বিপুর নামটি জড়ায় সেও আইনজীবী হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামি নয়। পরবর্তীতে অন্য মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হলে তাকে এবং তার পরিবারকে বুঝানো হয় তার গ্রেফতারের সাথে বিপুর সম্পর্ক রয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বিপুকে জড়িয়ে বক্তব্য দেয়। ওই ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বিপু তাকে গ্রেপ্তার করিয়ে দিয়েছে বলেও বক্তব্য দেয়। শুধু তাই নয় এই মামলায় ৫নং ওয়ার্ডের আরো কয়েকজন নিরপরাধ মানুষকে জড়ানোর চেষ্টা চূড়ান্ত করা হয়েছে ।
পরবর্তীতে এই ষড়যন্ত্র আরো শক্তিশালী করতে আরও আইনী জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে বলেও আমরা জানতে পেরেছি। আমরা এই কুচক্র, অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
আমরা গত কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হতে দেখেছি। যেখানে “ফেইস দ্যা পিপল”এর সাংবাদিক সাইফুর রহমান সাগর এই হত্যা মামলার বাদীকে প্রশ্ন করেন ইসতিয়াক সরকার বিপু নামে কাউকে চিনেন কিনা! এবং বাদী সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর দেন “না আমি ওই নামের কাউকে চিনি না তদুপরি নামটি আমি এই প্রথম আপনার মুখেই শুনলাম”।
পরিশেষে আমরা বলতে চাই, আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ হত্যার ঘটনাটি একটি জঘন্যতম অপরাধ। ওই হত্যার সুষ্ঠু বিচার হোক আমরাও চাই। তবে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে ইসতিয়াক সরকার বিপুকে জড়ানো হচ্ছে, শুধুমাত্র ফাঁসাতে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পুলিশ ও এলাকার মানুষ সব সত্য জানে। তাই সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমরা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সত্য জানাতে ও হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং সুবিচার দাবি করছি।
মন্তব্য করুন


স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লার চান্দিনায় বন্ধুদের সাথে মোটরসাইকেলে ঘুরতে গিয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ইয়াছিন আহমেদ নামের ১৩ বছরের এক কিশোর। ওই দূর্ঘটনায় আহত হয়েছে তার আরও ২ বন্ধু।
নিহত কিশোর চান্দিনা উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নের সব্দলপুর গ্রামের কৃষক শাহজাহান মিয়ার ছেলে।
ওই দূর্ঘটনায় আহত হয়েছে একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম এর ছেলে মোশারফ (২৬), মেহবুব মিয়ার ছেলে অনিক (১৬)। গুরুতর আহত অবস্থায় তারা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার নূরীতলা বাস স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ওই দূর্ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইয়াছিন শৈশব থেকেই চঞ্চল প্রকৃতির। তাকে মারধর করেও বিদ্যালয়ে পাঠানো সম্ভব হয়নি। শিক্ষা বিমুখ ইয়াছিন বন্ধুদের সাথে সে প্রায়ই মোটরসাইকেলে কোথাও না কোথাও ঘুরতে যেত। সোমবার দুপুরে তার চাচাতো ভাই মোবাইল রিচার্জ ও বিকাশ ব্যবসায়ী মোশারফের মোটরসাইকেলে করে ইয়াছিন ও তার বন্ধু অনিক সহ ঘুরতে বের হয়। নিজ বাড়ি থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে কুমিল্লায় যাওয়ার পথে নূরীতলা এলাকায় দূর্ঘটনার শিকার হয় তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী সিরাজুল ইসলাম জানান, খুব দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেলটি ছুটে আসছিল। এসময় একটি বাস তাদেরকে ওভারটেকিং করার সময় মোটরসাইকেল চালক নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে এক পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে মহাসড়কে আঁছড়ে পড়ে। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়াছিন নামের ওই কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুজনকে কুমিল্লায় রেফার করেন।
এদিকে সোমবার সকালেই ইয়াছিনের বাবা শাহজাহান মিয়া ও মা জোৎস্না বেগমের চোখের অপারেশন কুমিল্লার আলেখার চরে অবস্থিত চক্ষু হাসপাতালে সম্পন্ন হয়। সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনে তারা চোখে বেন্ডেজ লাগানো অবস্থায়ই হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে পৌঁছায়। ইয়াছিন এই দম্পতির কনিষ্ঠ সন্তান।
হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইন-চার্জ (ইন্সপেক্টর) দেওয়ান কৌশিক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পরপর আমাদের পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় কিন্তু সেখানে কাউকে পায়নি।
মন্তব্য করুন