

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উনকুট পশ্চিমপাড়া এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে যুবলীগ নেতা অপুর বাড়ি থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে।কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উনকুট পশ্চিমপাড়া এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে যুবলীগ নেতা অপুর বাড়ি থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে।
যুবলীগ নেতা রবিউল হোসেন অপু চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উনকুট পশ্চিমপাড়ার আবুল বাশার মুহুরির ছেলে। সে শুভপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩০ জানুয়ারি মধ্যরাতে অভিযানের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পাইপ গান ও একটি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মালামাল পরবর্তীতে আইনানুগ প্রক্রিয়ার জন্য চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


মাসজুড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচি জুলাই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ সদরে পুলিশের গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুর করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশের ৩ সদস্য আহত হয়েছে।
আজ বুধবার সদর উপজেলার উলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো.মিজানুর রহমান।
আহতরা হলেন—গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (আইসি) আহমেদ বিশ্বাস, কনস্টেবল কাওছার ও মিনহাজ।
আহতদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মার্চ টু গোপালগঞ্জকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে সমাবেত হয়।
পরে গোপালগঞ্জ টহল পুলিশের একটি টিমকে লক্ষ্য করে হামলা করে। এ সময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে যৌথবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনে।
গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপার মো.মিজানুর রহমান জানান, কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে আমরা এখন পর্যন্ত জানিনা। তবে আমাদের পুলিশের তিনজন সদস্য আহত হয়েছে এবং একটি গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। আহত ওই তিন সদস্যকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


মৃত তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী ও পরিবারের ৪ জন সদস্য সোমবার রাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এর সাথে তার অফিস কক্ষে সাক্ষাত করেন।
এ সময় তৌহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন জিওসি এবং নিহতের পরিবারকে আশ্বস্ত করেন যে, এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত আদালতের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং দোষীসাব্যস্তদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। তিনি আরো জানান যে, তৌহিদের পরিবার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়ে সেনাবাহিনী সব সময় পাশে থাকবে এবং সকল প্রকার সহযোগিতা করবে।
তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী ও পরিবার এতে আশ্বস্ত হয়েছেন। এছাড়াও প্রতারণার মাধ্যমে যারা সেনা ক্যাম্পে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনার দাবী করেছেন। তবে তারা তৌহিদের মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি মামলা দায়ের করার সকল প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানান।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) আল হামিদ টেক্সটাইল নামে একটি কারখানায় আগুন লেগেছে। নয়তলা ভবনটিতে পাঁচ শতাধিক শ্রমিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, দুপুর পৌনে ২টার দিকে কারখানায় আগুনের সংবাদ পেয়েছি।
আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট কাজ করছে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর মিরপুর রূপনগর শিয়ালবাড়ি এলাকায় প্রিন্টিং কারখানা এবং কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এই আগুনে ১৬ জন পুড়ে মারা যায়।
তাদের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের মরদেহ গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত শনাক্ত করেন স্বজনরা। ডিএনএ পরীক্ষার পর স্বজনদের কাছে এসব মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার হোমনায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মনোয়ার সরকারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত ১১টার দিকে তিতাস উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
কুমিল্লা-২, (হোমনা–তিতাস আসনে) বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ার সরকারের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে।
রাতের অন্ধকারে একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি তার নির্বাচনি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত টিনশেড ঘরে ঢুকে আগুন লাগিয়ে দেয়।
অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে, পুড়ে যায় ঘরের ভেতরের টেবিল, চেয়ার, পোস্টার ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি।
স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিতাস থানার সাব ইন্সপেক্টর বিমল দাস বলেন, ওসি স্যারের নির্দেশে আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে আসি।আইসা কোন লোকজন দেখতে পাই নি। ঘরটি বিএনপি নেতা মনোয়ার সরকারের নির্বাচনি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তদন্ত চলছে কারা, কী কারণে আগুন দিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে মনোয়ার সরকার বলেন, কলাকান্দি ইউনিয়নের কর্মী সভা এবং গণ সমাবেশ শেষে গণসংযোগ করি।সেটা শেষ করে আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হই ।পথিমধ্যে জানতে পারি আমার অফিসে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এটি নিঃসন্দেহে পরিকল্পিত হামলা।
তিনি দাবি করেন, তার জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় একটি মহল ঈর্ষা ও প্রতিহিংসা থেকে এ ঘটনার পরিকল্পনা করতে পারে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে ৬ জেলার চার হাজার শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
৯ জানুয়ারি থেকে আজ ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম ৬ জেলার ১৮ টি এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার' এর আওতায় দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় স্থানীয় গরীব ও দুঃস্থ মানুেষের মাঝে এ শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
উক্ত কর্মসূচির আওতায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার' এ সহায়তায় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় স্থানীয় গরীব ও দুঃস্থ জনগণের মাঝে মোট ৪ হাজার পিস শীতের কম্বল বিতরণ করা হয়।
দাউদকান্দি আর্মি ক্যাম্পের অধীনে চরগোপাল, চাঁদপুর সদর আর্মি ক্যাম্পের অধীনে মাস্টারপাড়া এতিমখানা, কুমিল্লা সদর সমাজসেবা আর্মি ক্যাম্পের অধীনে দক্ষিণ সদর জোর কানন ভূমি অফিস এলাকা, চৌদ্দগ্রাম আর্মি ক্যাম্পের অধীনে শুভপুর ইউনিয়ন, কুমিল্লা সদর সমাজসেবা আর্মি ক্যাম্পের অধীনে অনন্যপুর আশ্রয় প্রকল্প, কুমিল্লা মেঘনা আর্মি ক্যাম্পের অধীনে চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন, দেবিদ্বার আর্মি ক্যাম্প, বুড়িচং আর্মি ক্যাম্প, আখাউড়া আর্মি ক্যাম্প, নোয়াখালী সদর এলাকা, বেগমগঞ্জ এলাকা, কোম্পানীগঞ্জ এলাকা, সোনাইমুড়ি এলাকা, ফেনী সদর, দাগনভূঞা এলাকা, ফুলগাজী, লক্ষীপুর সদর ও রায়পুর এলাকায় এসব কম্বল বিতরণ করা হয়।
শীত মৌসুমে অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সেনাবাহিনী সূত্র।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় বেপরোয়া গতির বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের ৪ জনসহ মোট ৬ জন নিহত হয়েছে।এই ঘটনায় ঘাতক বাসটির চালক মোহাম্মদ নুরুদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে র্যাব সদরদপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ঘাতক বাসটির চালক মোহাম্মদ নুরুদ্দিনকে শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
লে. কর্নেল মুনীম ফেরদৌস আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসচালক আত্মগোপনে সিদ্ধিরগঞ্জ লুকিয়ে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় দাঁড়িয়ে থাকা ৩ টি গাড়িতে ধাক্কা দেয় যাত্রীবাহী একটি বাস। এতে একই পরিবারের ৪ জনসহ দুটি গাড়ির ৬ আরোহী নিহত ও ৪ জন আহত হন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই ৫ জন ও বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।
নিহতরা হলেন- মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নন্দনকোনা গ্রামের বাসিন্দা ও দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারের মালিক নুর আলমের স্ত্রী আমেনা আক্তার (৪০), তার বড় মেয়ে ইসরাত জাহান (২৪), ছোট মেয়ে রিহা মনি (১১), ইসরাত জাহানের ছেলে আইয়াজ হোসেন (২), মোটরসাইকেলের চালক সুমন মিয়ার স্ত্রী রেশমা আক্তার (২৬) ও তার ছেলে মো. আবদুল্লাহ (৭)।
আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন প্রাইভেটকারের মালিক নুর আলম (৪২), তার বোন ফাহমিদা আক্তার (১৭), প্রাইভেটকারের চালক হাবিবুর রহমান (৩৮) ও মোটরসাইকেলের চালক সুমন মিয়া (৪২)।
শুক্রবার দুর্ঘটনার পর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় আহত ব্যক্তিদের।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় ১০ জনকে এ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫ জন হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান। আহত ৫ জনের মধ্যে ৩ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩ জনের মধ্যে গুরুতর আহত রেশমাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়েছিল। পরে তারা জানতে পারেন, শুক্রবার বিকেলে সেখানে রেশমার মৃত্যু হয়।
মন্তব্য করুন


নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় মেহেরাজ হোসেন ওরফে জিসান (৭) নামে এক শিশুকে অপহরণ করে হত্যার দায়ে ২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে আসামিদের দুটি ধারায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
সাজা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে আবদুর রহিম ওরফে রনি (২১) ও একই গ্রামের সহিদ উল্যার ছেলে মো.সালমান হোসেন শিবলু (২২)।
বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের-১ এর মোহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় দেন।
মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, হতার শিকার জিসান স্থানীয় জিরতলী বাজারের কাসেম উলুম মাদরাসার মাদরাসার দ্বিতীয় জামাতের ছাত্র ছিল। ২০১৯ সালের ২১ মার্চ দুপুর ১টার দিকে মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভিকটিমের মায়ের অসুস্থতার কথা বলে অপরহরণ করে নিয়ে যায় আসামি রনি ও তার বন্ধু শিবলু। পরে তাকে জেলার সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের শাহাদাতপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে। একই দিন সন্ধ্যার পরে তার পরনের জামা কাপড় দিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। একপর্যায়ে তার শরীরের অর্ধেক মাটিতে পুঁতে রেখে নিহতের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। ঘটনার দুদিন পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার অজ্ঞাত আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত করে ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র জমা দেয়। আদালত ২২জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের যাবজ্জীবন করাদন্ড দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মামুনুর রশীদ লাভলু মামলাটি পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, ভিকটিমের পিতা প্রবাসী ছিল। আসামি রনি ভিকটিম জিসানের একই বাড়ির দূর সম্পর্কের কাকা হয়। মূলত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল কিনতে রনি তার বন্ধু লাভলুসহ অপহরণের ঘটনা ঘটায়। পরে তারা জিনাসকে হত্যা করে মুঠোফোনে চাঁদা দাবি করে। আদালত দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে রায় দেন।
মন্তব্য করুন


স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার সদর দক্ষিণে গত ২৯ এপ্রিল ৯ বছরের শিশু তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণসহ নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত ঘাতক মফিজুল ইসলাম প্রকাশ মফুকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা র্যাব-১১, সিপিসি-২ সদস্যরা। এর আগে নিহত শিশুটির মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ধর্ষণসহ হত্যার ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে প্রচারিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত হয়।
এরপর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১১ এর বিশেষ অভিযানে গত ৩০ এপ্রিল রাতে চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার ফেরুয়া বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ধর্ষক ও হত্যাকারী মফিজুল ইসলাম প্রকাশ মফুকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘাতক মফু কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের মৃত. আব্দুল খালেকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশুটির পিতা সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী এবং তার মা একজন গৃহিনী। নিহত সোনালী উপজেলার শিশু শিক্ষা বিদ্যা নিকেতন কিন্ডারগার্ডেন স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছিল। সকাল ৭টায় সে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়, বেলা ১১ টার দিকেও ভিকটিম বাড়ী না ফিরলে ভিকটিমের মা চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং কালক্ষেপন না করে তিনি তার মেয়ের স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। স্কুলে পৌছানোর পর স্কুল শিক্ষিকার শরনাপন্ন হয়ে মেয়ের বিষয়ে কোন হদিস না পেয়ে ভিকটিমের মা স্কুল থেকে ফেরার পথে ভিকটিমের বেশ কয়েকজন সহপাঠির কাছে জানতে পারেন যে, ভিকটিম স্কুল শেষে বাড়ি চলে গিয়েছে। অতঃপর ভিকটিমের মা বাড়ি ফিরে আসেন এবং স্থানীয় লোকজন ও আশেপাশের প্রতিবেশীদের সহায়তায় সম্ভাব্য সকল স্থানে তার মেয়ের সন্ধান করেন। ইতিমধ্যে ভিকটিমের মা তার প্রবাসী স্বামীর সাথে আলোচনা করে আশেপাশের কয়েকজন লোকজন নিয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী দায়ের করার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। বিকেল সোয়া ৩টায় ভিকটিমের লাশের বিষয়ে অবহিত করলে ভিকটিমের মা ও সাথে থাকা লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছান এবং ভিকটিমের মরদেহ দেখতে পান। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনৈক ব্যক্তি ভিকটিমের মাসহ অন্যান্য লোকজনদেরকে জানায় যে, সে আসামী মফিজুল ইসলাম প্রকাশ মফুকে ঘটনার দিন বেলা সোয়া ১১ টার সময় ঘটনাস্থলের রাস্তার পাশে থাকা বাঁশঝাড়ের ভিতর থেকে দ্রুত রাস্তায় উঠে আসতে দেখেছেন।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, নিহত ভিকটিম গ্রেফতারকৃত আসামীর প্রতিবেশীর মেয়ে এবং পূর্ব পরিচিত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রেফতারকৃত আসামী মফিজুল তার অসৎ কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে গত ২৯ এপ্রিল সকাল আনুমানিক পৌণে ১১ টায় ঘটনাস্থলের পাশের রাস্তায় ভিকটিমের আসার অপেক্ষায় ওৎ পেতে থাকে। পথিমধ্যে ভিকটিম স্কুল থেকে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌছালে গ্রেফতারকৃত আসামী ভিকটিমকে কৌশলে রাস্তার পাশের ধানী জমিতে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ভিকটিম চিৎকার করার চেষ্টা করলে আসামী মফিজুল ভিকটিমের মুখ ও গলা চেপে ধরে। এতে ভিকটিম শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। অতঃপর আসামী মফিজুল ভিকটিমের কোন নড়াচড়া দেখতে না পেয়ে ভিকটিমের কানে থাকা দুল ছিড়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের মা ও অন্যান্য লোকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে ভিকটিমের মৃতদেহ দেখতে পায় এবং পুলিশকে খবর দেয়। গ্রেফতারকৃত আসামী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে নিজ এলাকা হতে পালিয়ে চাঁদপুরে চলে যায় এবং সেখানে আত্মগোপন করে।
নারায়নগঞ্জ র্যাব-১১ এর অধিনায়ক তানভীর মাহমুদ পাশা অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা সদর উপজেলার ২নং দূর্গাপুর (উঃ) ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোনিয়া আক্তারের প্রতি অনাস্থা প্রদান ও অত্র ইউনিয়নে বিধি মোতাবেক প্রশাসক নিয়োগ প্রদানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সদস্যরা। এরই প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার (৯ আগষ্ট) সকালে উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া ২ নং দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় পরিদর্শনে যান এবং এবং কার্যালয়ের বিভিন্নজনের সাথে কথা বলেন। তবে অভিযোগকারী ওয়ার্ড সদস্য কেউই ওইদিন ইউনিয়ন পরিষদে যাননি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সুত্র জানায়, এখানে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ইউনিয়ন সদস্যদের ঐদিন ইউনিয়ন পরিষদে আসতে বাধা প্রদান করে।
লিখিত অভিযোগে ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল মতিন, আব্দুল জলিল, মোহাম্মদ আবুল হোসাইন, মোঃ আসলাম খান, মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম, মোঃ জাহের, রোছমত আলী, নাজমুল হাসান, খোরশেদ আলমসহ আরো অনেকে উল্লেখ করেছেন, আমরা আদর্শ সদর উপজেলার ২নং দূর্গাপুর (উঃ) ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্য। ৫ আগষ্ট প্রেক্ষাপটে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে অত্র ইউনিয়নের ৩নং প্যানেল চেয়ারম্যান সোনিয়া আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়। এক্ষেত্রে ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল ও ২নং প্যানেল চেয়ারম্যান নাজমুল হাসানকে উপেক্ষা করা হয়, যাহা বিধি সম্মত নয়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোনিয়া আক্তার দায়িত্ব পাওয়ার পর হতে বিভিন্ন রকম অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে জড়িয়ে পরেন। ইউনিয়নের বিভিন্ন রকম ট্যাক্স টোল বৃদ্ধি করে দেয়। বিভিন্ন সরকারি অনুদানের বিষয় আমাদেরকে অবগত না করে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন নিজের ইচ্ছামত। পরবর্তীতে আমাদেরকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। আমাদেরকে বিভিন্ন প্রকার ভয় ভীতি প্রদর্শন করেন। জনগণের সামনে আমাদের কে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। ইউনিয়নের রিলিফ বন্টনে নানা অনিয়ম করেন। নিয়মিত অফিস করেন না, ফলে জনসাধারণ বিভিন্ন রকম ভোগান্তিতে পরেন। উল্লেখ্য যে, ইউনিয়নের হতদরিদ্র চাউলের ডিলারশীপ তার মায়ের নামে নিয়ে নিজে পরিচালনা করেন এবং বিতরণে নানা রকম অনিয়ম করেন। এহেন অবস্থায় আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারীগণ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোনিয়া আক্তারের প্রতি অনাস্থা প্রদান করিলাম এবং বিধি মোতাবেক একজন প্রশাসক নিয়োগ করার জন্য মহোদয়ের নিকট সদয় আবেদন করছি।
সমবায় অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, যারা অভিযোগ করেছে তারা আমার পরি পরিদর্শনের দিন ইউনিয়ন পরিষদে আসেনি। ফলে আমি কথা বলতে পারিনি তাদের সাথে । তদন্ত চলছে। পরে বিস্তারিত জানাবো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ইউপি সদস্য জানান, আমাদেরকে পথে পথে বাঁধা প্রদান করা হয়েছে, হুমকি দেয়া হয়েছে। তাই আমরা আতঙ্কে ঐদিন ইউনিয়ন পরিষদে যেতে পারিনি। বিএনপি'র একটি শক্তিশালী মহল এর যুবলীগ নেত্রী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কে এই পদে বহাল রাখতে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার মুঠো ফোনে কল দিলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন


ময়নামতি রেজিমেন্ট বিএনসিসির আয়োজনে ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি জিপিএ ৫.০০ প্রাপ্ত ক্যাডেটদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টায় ময়নামতি রেজিমেন্ট বিএনসিসি, কুমিল্লার মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনসিসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সঈদ আল মসউদ, বিজিবিএমএস, পিবিজিএমএস, এনডিসি, পিএসসি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যাডেটদের মাঝে সংবর্ধনা স্মারক এবং নগদ বৃত্তি প্রদান করেন।
এ বছর ময়নামতি রেজিমেন্ট এর আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে এসএসসিতে জিপিএ- ৫.০০ পেয়েছে ৫৪ জন ক্যাডেট এবং এইচএসসিতে জিপিএ- ৫.০০ পেয়েছে ২৮ জন ক্যাডেট।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণা মূলক বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
মন্তব্য করুন