

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্যাপিটল ওয়ান অ্যারেনায় শপথ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শপথ গ্রহণের পর তার প্রথম ভাষণে তিনি জানান, বাইডেন আমলের সব নির্বাহী আদেশ দ্রুত বাতিল করা হবে। শপথের অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে শুরু করেন তিনি।
জানা গেছে, শপথ নেওয়ার পরপরই ট্রাম্প ওভাল অফিসে গিয়ে একাধিক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে তিনি বাইডেনের শাসনামলের ৭৮টি নির্বাহী আদেশ বাতিল করেন। এর মধ্যে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের আদেশও রয়েছে।
ট্রাম্প আদেশে স্বাক্ষর করার পর সেটি জনসাধারণকে দেখান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা ছাড়ার আগে রেকর্ডসংখ্যক ব্যক্তিকে ক্ষমা করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে, এমন আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নেন বাইডেন।
ট্রাম্প তার ভাষণে বলেন, "যে ক্ষমাগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলোও দ্রুত বাতিল করা হবে।"
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামলাতে ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে একটি নির্বাহী আদেশেও স্বাক্ষর করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ট্রাম্পকে শপথ পাঠ করান। এ সময় বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, তার স্ত্রী জিল বাইডেনসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
২০১৭ সালে ন্যাশনাল মলে বড় আয়োজনের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রথমবার শপথ নিয়েছিলেন। তবে এবার তীব্র ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে শপথ অনুষ্ঠান ক্যাপিটল ভবনের ভেতরে আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে একই কারণে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ক্যাপিটল ভবনের ভেতরে শপথ নিয়েছিলেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম জোর দিয়ে বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখের মধ্যেই সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ‘এটাকে পেছানোর মতো কোনো শক্তি নেই।’ এছাড়া গণভোটের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
শুক্রবার সকালে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘জুলাই কন্যা ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘মাইন্ডব্রিজ ও নলেজ কম্পিটিশন-২০২৫’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হোক না কেন, জাতীয় নির্বাচন সময়মতোই হবে।’
প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের মতের কথা বলছেন। আমরা এটাকে হুমকি হিসেবে দেখছি না। যেটা সবচেয়ে উত্তম, সেটাই প্রধান উপদেষ্টা করবেন।’
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলার বিষয়েও তিনি কথা বলেছেন এবং জানিয়েছেন, ‘১৩ নভেম্বর আদালত শেখ হাসিনার বিচারের দিন জানাবেন।’
তরুণদের জ্ঞান ও মেধার বিকাশকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে নোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে জুলাই কন্যা ফাউন্ডেশনের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম প্রমির সভাপতিত্বে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইসমাইল।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান আজ শনিবার এক সেমিনারে জানিয়েছেন, ভারতীয় কোম্পানি আদানি গ্রুপ সবসময় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দেয়। তিনি এই মন্তব্যটি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক জ্বালানি সেমিনারে করেছেন।
তিনি বলেন, "আমার প্রতিদিনের শুরু হয় জ্বালানির মূল্য পরিশোধের চাপ নিয়ে। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানিকারী ভারতীয় কোম্পানি আদানি গ্রুপ সবসময় আমাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার হুমকি দেয়।"
এছাড়াও, ফাওজুল কবির খান জ্বালানি খাতে সরকারি ভর্তুকি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "৭২ টাকায় গ্যাস কিনে ৩০ টাকায় কতদিন দেওয়া যাবে? বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। আমি জানি না, কতদিন দাম না বাড়িয়ে থাকতে পারব।"
তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে লুটপাটকারীদের বিচারের জন্য একটি জ্বালানি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা প্রয়োজন। এই দাবি তুলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, "বর্তমান সরকার কোনো পিছুটান ছাড়াই গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আগে, এখানে অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে।"
মন্তব্য করুন


চারদিনের সফরে চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (২৬ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের বিশেষ একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার সফরের বিষয়ে জানা গেছে, ২৬ থেকে ২৯ মার্চ চীন সফর করবেন তিনি। ২৬ মার্চ (বুধবার) দুপুরে চীনের পাঠানো একটি উড়োজাহাজে ঢাকা থেকে রওনা হবেন।
২৭ মার্চ দেশটির হাইনান প্রদেশে আয়োজিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএফএ) সম্মেলনে যোগ দেবেন ড. ইউনূস। সম্মেলনের উদ্বোধনী প্লেনারি সেশনে বক্তব্য দেবেন তিনি।
এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে চীনের স্টেট কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রিমিয়ার দিং ঝুঝিয়াংয়ের বৈঠক হতে পারে।
২৮ মার্চ বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ড. ইউনূস। একই দিনে হুয়াওয়ে কোম্পানির উচ্চ-প্রযুক্তিসম্পন্ন এন্টারপ্রাইজ পরিদর্শন করবেন তিনি।
২৯ মার্চ চীনের বিখ্যাত পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে এবং সেখানে তিনি বক্তব্য রাখবেন। পরে বেইজিং থেকে চীনের একটি বিমানে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টার।
প্রধান উপদেষ্টার বেইজিং সফরে ছয় থেকে আটটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি এ সফরে চারটি ঘোষণা আসতে পারে। যার মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশকে এক থেকে দুই বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তার ঘোষণা দেবে চীন। এছাড়া মোংলা বন্দরের আধুকিয়ানে অর্থায়নের বিষয়টিও যুক্ত থাকবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে যে সমালোচনা করা হয়, তার বেশির ভাগই পুরো বাস্তব চিত্র তুলে ধরে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তার মতে, স্বার্থান্বেষী নানা গোষ্ঠীর তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও স্বল্প সময়ে সরকার যে পরিমাণ কাজ করতে পেরেছে, তা উপদেষ্টামণ্ডলীর নিষ্ঠা ও অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকারিতার বহিঃপ্রকাশ।
বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্ট্যাটাসে নীতি প্রণয়ন, নির্দেশনা তৈরির প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শফিকুল আলম লিখেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার আগে নীতিমালা, দিকনির্দেশনা বা প্রস্তাবিত আইন-বিধি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিটি মতামত ও প্রতিবেদন তিনি গভীরভাবে অনুসরণ করতেন। তবে দায়িত্বের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে- কোনো নীতি বা আইন পাস বা বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত এখন তার আগ্রহ জন্মায় না।
প্রযুক্তির উন্নতির কারণে নীতিমালা বা সংস্কার নিয়ে লেখা সহজ হলেও বাস্তব প্রয়োগ যে অনেক কঠিন, তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ চাইলে চ্যাটজিপিটিকে বললেই বাংলাদেশকে বদলে দিতে ৪৫০ পৃষ্ঠার সংস্কার-প্রস্তাব পাওয়া যায়; চাইলে নির্দিষ্ট ইস্যু নিয়েও সেই প্রস্তাব তৈরি সম্ভব।’
কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন- গত ১৬ মাসের অভিজ্ঞতা থেকে এমনটাই জানালেন তিনি। তার ভাষায়, বাজারবান্ধব, কর্মসংস্থানমুখী ও জনবান্ধব আইন বা নীতি প্রণয়ন আমাদের মতো দেশের জন্য অত্যন্ত কঠিন। ব্যবসায়ী লবি গ্রুপ, রাজনৈতিক গোষ্ঠী, বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক, পেশাজীবী সংগঠন থেকে শুরু করে অদক্ষ ও স্বল্পদৃষ্টি সম্পন্ন আমলাতন্ত্র- সব জায়গা থেকেই বাধা আসে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক সময় খুব সাধারণ ও সহজে পাসযোগ্য আইনও মাসের পর মাস আটকে থাকে। আবার যেসব সংস্কার কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ বাড়াতে পারে, সেগুলো বাস্তবায়নেও অসংখ্য প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে হয়।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে শিগগিরই সরাসরি ফ্লাইট চালু হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার এস এম মাহবুবুল আলম এই তথ্য জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে উভয় দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হবে।
ডেপুটি হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তানের ব্যবসায়ী সংগঠন হায়দরাবাদ চেম্বার অব স্মল ট্রেডার্স অ্যান্ড স্মল ইন্ডাস্ট্রির (এইচসিএসটিএসআই) সহযোগিতায় একটি প্রদর্শনীর আয়েজন করা হবে। সেখানে দুই দেশের আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা অংশ নেবে।
এছাড়া মাহবুবুল আলম ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় হতে যাওয়া বার্ষিক বাণিজ্য প্রদর্শনী অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নেওয়ার জন্য পাকিস্তানের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এই প্রদর্শনীতে পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।
এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলছে, সম্প্রতি হায়দরাবাদ চেম্বার পরিদর্শনকালে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহী।
এসময় তিনি পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় বাজার হিসেবে বর্ণনা করেন ও এইচসিএসটিএসআইকে ঢাকায় তাদের একটি প্রতিনিধি দল পাঠাতে বলেন। তিনি ব্যবসায়ীদের ভিসা প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও ত্বরান্বিত করারও প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানে এইচসিএসটিএসআই-এর সভাপতি মুহাম্মদ সেলিম মেমন উভয় বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তাছাড়া ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গত ১১ নভেম্বর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে সরাসরি কার্গো জাহাজ পৌঁছানোর বিষয়টিকে তিনি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
সেলিম মেনন বলেন, পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এই উদ্যোগ উভয় দেশের বৃহত্তর বাণিজ্য সহযোগিতার পথ আরও প্রশস্ত করবে।
মেমন এসময় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পাকিস্তানের প্রদর্শনীতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান, বিপরীতে বাংলাদেশের বাণিজ্য মেলায় যোগদানের জন্য পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের যথাযথ সুবিধা নিশ্চিতেরও আহ্বান জানান। এছাড়া মেনন ঢাকায় শুল্ক ছাড়পত্র পেতে পাকিস্তানি পণ্য রপ্তানিকারকরা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে থাকেন, সেগুলো দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন


মাদকের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, মাদকদ্রব্যের রিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মাদকাসক্তদের জন্য আলাদা কারাগার নির্মাণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়, সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
মাদকের কারণে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


সরকার এবার কেজিপ্রতি ৩৯ টাকায় ধান এবং ৫০ টাকায় সিদ্ধ চাল কিনবে সরকার বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেছেন, আমন সংগ্রহ শুরু হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যেহেতু নির্বাচন, তাই আগেভাগেই সংগ্রহ শেষ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সচিবালয়ে আমন সংগ্রহ অভিযান নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
আলী ইমাম মজুমদার আরও বলেন, আমন ধান বেশি পরিমাণে কেনা হবে। ধান ও চালের মধ্যে আগে সংগ্রহের ক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে ব্যবধান থাকতো। এবার তা হবে না, যা কৃষকদের উৎসাহিত করছে।
আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ৩৯ টাকা কেজিতে ধান, সিদ্ধ চাল ৫০ টাকা ও আতপ চাল ৪৯ টাকা কেজি দরে কেনা হবে। সংগ্রহের ডেডলাইন আগামী ফেব্রুয়ারি। কিন্তু, ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হওয়ায় এর আগেই প্রায় সবটা সংগ্রহ করা হবে।
তিনি বলেন, ৫০ হাজার টন ধান, ৫ লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং ৫০ হাজার টন আতপ চাল সংগ্রহের মিনিমাম টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। সব কিছু হিসাব করে ধান উৎপাদনে কিছু পরিমাণ ঘাটতি থাকে, যার কারণে আমাদের আমদানি করতে হয়।
খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, ৫০ লাখ পরিবার থেকে ৫৫ লাখ পরিবারের কাছে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল দিয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। ৫ মাস দেয়া হত আগে, এখন সেটা ৬ মাস করা হয়েছে। এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে। অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কমিটেড। অন্তর্বর্তী সরকার যখন দায়িত্ব হস্তান্তর করবে, তখন খাদ্য মজুদ অনেক বেশি পরিমাণে থাকবে বলে আশা করি।
মন্তব্য করুন


ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠন হয় অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই ১২ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের ১২টি বড় সাফল্যের তথ্য জানালেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি সাফল্যের বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।
১. শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা
জুলাই বিপ্লবের পর দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরেছে, যার ফলে নৈরাজ্য ও প্রতিশোধের চক্র বন্ধ হয়েছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নৈতিক নেতৃত্ব ছিল এই স্থিতিশীলতার মূল চালিকাশক্তি, যা জাতিকে সহিংসতা নয়; বরং পুনর্মিলন ও গণতন্ত্রের পথে পরিচালিত করেছে।
২. অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার
ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রেখেছে এই সরকার। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ থেকে প্রায় অর্ধেকে নামানো হয়েছে।
সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৮.৪৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে (যা ৩৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন), রেমিট্যান্সে রেকর্ড ৩০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, রপ্তানি ৯ শতাংশ বৃদ্ধি, বহু বছর পর টাকার মান ডলারের বিপরীতে বেড়েছে এবং ব্যাংক খাত স্থিতিশীল হয়েছে।
৩. বাণিজ্য ও বিনিয়োগে অগ্রগতি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সফল শুল্ক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন, দুর্বল সরকার এটি পারবে না। কিন্তু এই সকার সেটি করে দেখিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ অর্জন (যেমন হানদা গ্রুপের ২৫ কোটি ডলারের টেক্সটাইল বিনিয়োগে ২৫ হাজার কর্মসংস্থান), এবং আগের সরকারের চেয়ে দ্বিগুণ এফডিআই প্রবাহ। চীনা বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
৪. গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জুলাই সনদ
সংস্কার কমিশন গঠন, ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য তৈরি এবং ঐতিহাসিক জুলাই সনদ চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের ফিরে আসা রোধে সুরক্ষা দিচ্ছে। জুলাই সনদ গণতন্ত্রের নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৫. জুলাই হত্যাযজ্ঞের বিচার
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের স্বচ্ছ বিচার শুরু হয়েছে, যাতে দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।
এখন পর্যন্ত চারটি প্রধান বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনার বিচারও শুরু হয়েছে।
৬. নির্বাচন পরিকল্পনা ও সংস্কার
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবাসী, নতুন ভোটার এবং নারীদের অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নাগরিক মতামতের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হচ্ছে। প্রায় ৮ লাখ পুলিশ, আনসার ও সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।
৭. প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত সংস্কার
বিচার বিভাগ: সংস্কারমুখী নিয়োগের মাধ্যমে স্বাধীনতা নিশ্চিত।
পুলিশ: মানবাধিকার সেল, বডিক্যাম, স্বচ্ছ জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ এবং জাতিসংঘ মানদণ্ডের প্রতিবাদ ব্যবস্থা।
আইন: দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধিতে ব্যাপক পরিবর্তন, গ্রেপ্তারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারকে জানানো বাধ্যতামূলক, আইনজীবী ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত, অনলাইন জিডি চালু।
৮. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও ইন্টারনেট অধিকার
দমনমূলক সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল, সব সাংবাদিক মামলা প্রত্যাহার, সমালোচনার স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকারকে প্রথমবারের মতো মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
৯. পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন
একক দেশের ওপর নির্ভরতা থেকে সরে এসে বহুমাত্রিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, চিকিৎসা সহায়তা ও সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সার্ক পুনরুজ্জীবন ও আসিয়ান সদস্যপদ অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১০. প্রবাসী ও শ্রমিক অধিকার
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা পুনরায় চালু, মালয়েশিয়ার মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা চালু, উপসাগরীয় দেশে অনিয়মিত কর্মীদের বৈধতা প্রদান, জাপানে ১ লাখ তরুণ পাঠানোর পরিকল্পনা এবং ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, সার্বিয়া-তে শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১১. শহীদ ও আহত বিপ্লবীদের সহায়তা
জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের তালিকা প্রণয়ন। ৭৭৫টি শহীদ পরিবারের মাঝে প্রায় ১০০ কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র ও ভাতা প্রদান, ১৩ হাজার ৮০০ জন আহত বিপ্লবীর জন্য ১৫৩ কোটি টাকার সহায়তা। গুরুতর আহতদের বিদেশে উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন।
১২. সামুদ্রিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন
বঙ্গোপসাগরকে ‘জলভিত্তিক অর্থনীতির’ মূল সম্পদ ঘোষণা, চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধি (+২২৫ কনটেইনার দৈনিক হ্যান্ডলিং), উপকূলীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্প্রসারণ এবং গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ ও শিল্প প্রকল্পে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রম সফল করতে মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনই হলো প্রকৃত সরকার।" তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের আরও মনোযোগী হতে হবে।
সভায় তিনি আরও জানান, পুলিশের যেসব সদস্য বিভিন্ন অপরাধে জড়িত, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ নিশ্চিত করার নির্দেশও প্রদান করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অব্যাহতভাবে বাড়ছে। বিশেষত, বরিশাল ও ঢাকায় এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এসময়ে কোনো ডেঙ্গুরোগী মারা যায়নি।
আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৬ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩৩ জন, খুলনা বিভাগ ১২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৮৯ ডেঙ্গুরোগী। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৬৯৮ জন।
গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছয় হাজার ৬৭৮ জন। তাদের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ নারী। এসময়ে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৩০ জন।
২০২৩ সালে সারাদেশে ডেঙ্গুতে এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু ও আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৫৭৫ জনের এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন।
মন্তব্য করুন