

পাকিস্তান থেকে সরকারি উদ্যোগে আমদানি করা ২৬ হাজার ২৫০ টন চালের প্রথম চালান নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। বুধবার (৫ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে জাহাজটি বন্দরের কনটেইনার টার্মিনালে নোঙর করে। চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে রাতেই চাল খালাস শুরু হবে।
এটি স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে সরাসরি বাণিজ্য চুক্তির আওতায় সম্পন্ন হলো। দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) স্বাক্ষরিত চুক্তির অধীনে এই চাল আমদানি করা হয়েছে। খাদ্য বিভাগের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান থেকে ৫০ হাজার টন আতপ চাল আমদানির জন্য গত ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় সরকারি পর্যায়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
খাদ্য অধিদপ্তর এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব পাকিস্তানের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। জিটুজি ভিত্তিতে এই আমদানির জন্য ট্রেডিং করপোরেশন অব পাকিস্তানের চেয়ারম্যান সৈয়দ রাফিও বশির শাহ এবং খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল খালেক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এই চুক্তির আওতায় চালের প্রথম চালান নিয়ে আসা জাহাজটি গত ৪ মার্চ রাত ২টায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। এরপর বুধবার দুপুর ২টায় জাহাজটি বন্দরের সিসিটি-১ টার্মিনালে নোঙর করে।
মন্তব্য করুন


ভারত থেকে আমদানি করা সাড়ে ১১ হাজার মেট্রিক টন চাল বাংলাদেশে পৌঁছেছে। সোমবার (২৪ মার্চ) এমভি ডিডিএস মারিনা নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এই চাল নিয়ে পৌঁছায়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় (প্যাকেজ-২) ভারত থেকে আমদানি করা সাড়ে ১১ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এমভি ডিডিএস মারিনা জাহাজে করে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। জাহাজে থাকা চালের নমুনা পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া, চাল খালাসের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোট ৯টি প্যাকেজে ৪ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬৯ মেট্রিক টন চাল বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি কোনো লেথাল ওয়েপন বা মারণাস্ত্র ব্যবহার করবে না বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় মিরপুর জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সের অস্থায়ী বেস ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, এবারের নির্বাচনে দেশব্যাপী ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
কর্নেল এস এম আবুল এহসান বলেন, দেশের ৪,৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই সারা দেশে ৩৭ হাজারেরও অধিক বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। ঝুঁকি বিবেচনায় সারাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে থাকবে। উপজেলাভেদে ২ থেকে ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকার কথা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (আরএটি) এবং হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) প্রস্তুত থাকবে, যারা প্রয়োজন হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিটও মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো শঙ্কা আছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল এহসান বলেন, নির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের শঙ্কা দেখছি না। আমাদের বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশ- আমরা নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোনো ধরনের লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করব না।
মন্তব্য করুন


গণভোটে ‘হ্যাঁ’তে সিল দিলে নতুন বাংলাদশ গড়ার দরজা খুলে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পাওয়া রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের সুযোগকে লুফে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসের এক অসাধারণ অর্জন। এটি অপ্রত্যাশিতভাবে জাতির জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ এনে দিয়েছে। এ লক্ষ্যে আমরা এর মধ্যে বেশকিছু সংস্কার করেছি।’
গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছি। এই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সম্মতি প্রয়োজন। এর জন্য গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। এই গণভোটে অংশ নিন। সনদে আপনার সম্মতি দিন।’
জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস যোগ করেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ আর নিপীড়নমুক্ত হবে বাংলাদেশ।’
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৬ জুন জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জানান, ২০২৫ সালে জুলাই মাসের সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি ‘জুলাই সনদ’ প্রস্তুত করে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে। ২৮ জুলাই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রিয়াজ জানান, জুলাই সনদের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এটির ভাষা এবং পটভূমি পর্যালোচনার জন্য রাজনৈতিক দলসমূহের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
পরে ৪ আগস্ট থেকে সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দলসমূহের সঙ্গে কমিশনের আলোচনা শুরু হয়। মতামতের ভিত্তিতে সমন্বিত খসড়া প্রস্তুত করা হয় এবং ১১ সেপ্টেম্বর খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়। পরে ১৪ অক্টোবর দলসমূহের কাছে চূড়ান্ত অনুলিপি পাঠানো হয়; ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে বাস্তবায়ন রূপরেখা নিয়ে আলাপ চলতে থাকে। বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে সনদে স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়। এখন সেই সনদের ওপর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সদস্যসচিব মো. মোখলেস উর রহমান জানিয়েছেন, ফরিদপুর ও কুমিল্লাকে আলাদা বিভাগ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান।
এ সময় জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীসহ কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, আমরা সারা দেশের মানচিত্র দেখে ফরিদপুর ও কুমিল্লাকে আলাদা বিভাগ করার সুপারিশ করেছি। যদি সরকার মনে করে, তারা ১০টি বিভাগ করে দেবে।
মন্তব্য করুন


জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৭০০ জন এখনও পলাতক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে জরুরি সেবা (হটলাইন) উদ্বোধন উপলক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, "৭০০ জনের মতো বন্দি কারাগার থেকে বের হয়ে গেছে, তবে তারা এখনও ধরা পড়েনি। যারা ছিল, তারা এখন কারাগারে রয়েছে।"
একই সময়, তিনি চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "ছিনতাই ও চাঁদাবাজি অস্বীকার করছি না, তবে যারা এসব করছে, তারা ধরা পড়ছে। আবার, যারা পালিয়ে যাচ্ছে, তারা এসব কাজ করছে, যা সত্যি কথা। আমরা চেষ্টা করছি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি কমিয়ে আনার জন্য।"
পুলিশের স্বল্পতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "পুলিশের সংখ্যা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, তবে আগের মতো কাজের উদ্যম নেই। তাদের উদ্যম বাড়ানোর জন্য আমরা সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছি।"
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জামিনে বেরিয়ে আসা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, "তাদের দ্রুত ধরা হয়ে আইনের আওতায় আনা হবে।"
৫ আগস্টের পর অনেক দাগী আসামিকে ক্ষমা করা হয়েছে, এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, "সাধারণ ক্ষমায় কেউ বের হয়নি, তারা জামিনে বের হয়েছে।"
এছাড়া, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, এখন থেকে ০৯৬১২০২১৬৯০ নম্বরের মাধ্যমে বন্দিদের অবস্থান, প্যারোলে মুক্তি, শারীরিক অবস্থা, হাজিরা, সাক্ষাৎকার ও কথা বলার তারিখের তথ্য পাওয়া যাবে। বন্দির স্বজনরা এই নম্বরে ফোন করে সমস্ত তথ্য জানতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের জরুরি সেবা সার্ভিসে নিয়োগ দিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
মন্তব্য করুন


কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের কর্মসূচি প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, জামিনে মুক্তি পাওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা যদি কোনো অপরাধে জড়ায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণ নির্বাচনমুখী হয়ে গেছে, চাইলেও কেউ আর তা প্রতিহত করতে পারবে না।
এ সময় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের চালানো গুজব প্রতিহত করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান তিনি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাজীপুরে পুলিশ সদস্য বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশকে আবার কিভাবে গড়ে তোলা যায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেই চেষ্টা করছেন বলে জানায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ সোমবার জাতীয় জাদুঘরের সামনে যুবদলের গ্রাফিতি আর্টসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
জুলাই আন্দোলনে বিএরপির কোনো নেতাই মুচলেকা দেননি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গোটা বাংলাদেশ নেমে এসেছিল। জুলাই আন্দোলনে যুবদলের শহীদ ৭৯ জন, ছাত্রদলের ১৪২ জন। যার যা অবদান আছে, তা তাকে দিতে হবে। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে হবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘কোনো একটি দল বা ছাত্র একা আন্দোলন করেননি, শিশু-বৃদ্ধ সবাই জুলাই অভ্যুত্থানে নেমে এসেছিল। সবার অংশগ্রহণে স্বৈরাচারের বিদায় সম্ভব হয়েছে’।
মির্জা ফখরুল বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মীর চাঁদাবাজি- এটা কি আমরা চেয়েছিলাম? এত তাড়াতাড়ি যদি এসব ঘটে, তবে ভবিষ্যৎ কী? গোটা বাংলাদেশ তরুণদের দিকে তাকিয়ে আছে। হাসিনা পতনের মানুষদের দিকে তাকিয়ে আছে সবাই। কিন্তু দুঃখ হয়, জোর গলায় বলতে পারছি না যে এ দেশ নতুন করে গড়ে উঠবে। দেশ এমন অবস্থা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে ফ্যাসিস্টদের নতুন করে সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, হাসিনার বিচারের তো কিছু দেখতে পেলাম না, এক বছর হয়ে গেল। যারা প্রকাশ্যে হত্যা করল, তাদের কেন গ্রেপ্তার করা হলো না?
সংস্কার ইস্যুতে বিএনপি সব ধরণের সহযোগিতা করছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কারের বিষয়ে সরকারের অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তবে যতই চাপ তৈরি করে বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করা হোক না কেন, দেশের মানুষ লড়াই করতে জানে। দেশের মানুষ লড়াই করে দেশকে মুক্ত করেছে। তারেক রহমান চেষ্টা করছেন, কিভাবে বাংলাদেশকে আবার গড়ে তোলা যায়।
মন্তব্য করুন


নিত্য পণ্যের চড়া দামে সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে, তবে আমাদের পক্ষ থেকে ইচ্ছে করে তাদের কষ্ট দেওয়া হচ্ছে না, এমন মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, সিস্টেমের সঠিক কাজ না হওয়ার কারণে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (২৬ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডোর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ছয় বছর সময় লেগেছে, যা সাধারণভাবে অস্বাভাবিক। এই প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অনেক আইন ও পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে, তবে সমস্যা হচ্ছে এর বাস্তবায়ন নিয়ে।
এ সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বলেন, আইন প্রয়োগে কঠোর হতে হবে এবং পণ্য আমদানি প্রক্রিয়ায় মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে জটিলতা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জীবনযাত্রা সহজ করতে সরকার সচেষ্ট।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো উদ্বোধন হবে। এর মাধ্যমে বন্দরে আমদানি ও রপ্তানি পণ্য খালাস প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা যাবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ৩৯টি সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সই করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
মন্তব্য করুন


খুব শিগগির জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
রোববার (৫ অক্টোবর) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশন সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক বৈঠকে এ কথা জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি এ তথ্য জানান।
বৈঠকের বরাত দিয়ে তিনি জানান, প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জুলাই সনদের বিষয়বস্তু ও এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোভাব ও এ বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের অবস্থান সম্পর্কে সভাকে অবহিত করা হয়।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঐকমত্য কমিশনের কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ঐকমত্য কমিশন সব রাজনৈতিক দল থেকে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা পেয়েছে। এছাড়া গণমাধ্যমগুলো ঐকমত্য কমিশনকে অকল্পনীয় সমর্থন দিয়েছে।
কমিশন সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ ও শুভ কামনা জানিয়েছেন। কমিশনের কাজের চূড়ান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
কমিশনের পক্ষ থেকে বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, কমিশন সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আসিফ নজরুল ও আদিলুর রহমান খানও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও যুক্তরাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের উপর মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করার চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এবার তাকে মন্ত্রীত্ব থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী জোট ইউকে অ্যান্টি-করাপশন কোয়ালিশন।
সোমবার (১৩ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে টিউলিপ সিদ্দিককে তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায় জোটটি। ইউকে অ্যান্টি-করাপশন কোয়ালিশনে অক্সফাম, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ও স্পটলাইট অন করাপশনের মতো আন্তর্জাতিক সংগঠন অন্তর্ভুক্ত।
টিউলিপ যুক্তরাজ্যের লেবার মন্ত্রিসভার সদস্য। তিনি ইকোনমিক সেক্রেটারি টু দ্য ট্রেজারি অ্যান্ড সিটি মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার কাজ দেশটির অর্থবাজারের ভেতরের দুর্নীতি সামাল দেওয়া। অথচ খোদ তার বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
কোয়ালিশন তাদের বিবৃতিতে বলেছে, টিউলিপ সিদ্দিকের বর্তমান অবস্থান গুরুতর স্বার্থের সংঘাত তৈরি করেছে। ট্রেজারি মন্ত্রী হিসেবে তিনি অর্থপাচার নিয়ম ও অর্থনৈতিক অপরাধের জন্য যুক্তরাজ্যের কাঠামোর দায়িত্বে আছেন, অথচ তার পরিবারের সরাসরি সংযোগ রয়েছে এমন একটি সরকারের সঙ্গে, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলছে।
কোয়ালিশন আরও জানায়, তার পদত্যাগ মন্ত্রী হিসেবে তার শপথ ভাঙা হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্বাধীন উপদেষ্টার তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না। মন্ত্রীর বর্তমান দায়িত্বের আওতায় যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও সুনাম রক্ষায় জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন। কিন্তু উদ্ভুত পরিস্থিতিতে টিউলিপ সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থানে রয়েছেন কি না তা, নিয়েই সন্দেহ রয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশে খালার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে টিউলিপ সিদ্দিকের পূর্ববর্তী সংযোগ ও সেই সময়ে কেনা পাঁচটি সম্পত্তির বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, এগুলোতে টিউলিপ বা তার পরিবার বসবাস করেছে ও এসব সম্পত্তি আওয়ামী লীগ সরকারের মিত্রদের দ্বারা-ই কেনা হয়েছিল।
এছাড়া শেখ হাসিনার সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয়ে কখনোই আলোচনা হয়নি বা নিজেকে বারবার নির্দোষ দাবি করলেও বাংলাদেশের গণভবনে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনি প্রচারপত্র, লেবার পার্টির পোস্টারসহ টিউলিপ সিদ্দিকের রাজনীতি সংশ্লিষ্ট বেশকিছু জিনিস পাওয়া গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস বলছে, তাদের প্রতিবেদক বিদেশি বিশিষ্টজনদের উপহার হিসেবে টিউলিপকে দেওয়া পোশাক-গয়না, দামি কলমের মোড়কসহ নানা জিনিস গণভবনে পড়ে থাকতে দেখেছেন। এসব বিষয় টিউলিপকে নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে।
তবে বিতর্ক চলতে থাকলেও লেবার সরকার টিউলিপের পক্ষে সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মুখপাত্র বলেছেন, ট্রেজারি মন্ত্রীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। মন্ত্রী তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে স্বাধীন উপদেষ্টার কাছে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান ও আমরা সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে কিছু বলবো না।
মন্তব্য করুন