

স্পোর্টস ডেস্ক:
চ্যাম্পিয়ন লিগে ৫০ তম গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। নবম ফুটবলার হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন ২৫ বছর ৩৫৬ দিনে।
মঙ্গলবার আটালান্টার বিপক্ষে ম্যাচের ১০ মিনিটে গোলটি করেন তিনি। কিন্তু পরেই ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়েন ফ্রান্সম্যান। শেষ ৪ ম্যাচের তিনটিতে গোল করেছেন তিনি।
ম্যাচের ৩৬ মিনিটে এমবাপ্পের বদলি করা হয় রদ্রিগো গোয়েসকে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডও ইনজুরিতে ছিলেন। ম্যাচ শেষে জানা গেছে, ঊরুর মাংসপেশির ইনজুরিতে পড়েছেন এমবাপ্পে। কতদিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে তা অবশ্য পরিষ্কার করা হয়নি। তবে শনিবার রাতে রায়ো ভায়োকানোর বিপক্ষে তার খেলার সম্ভাবনা কম।
এমবাপ্পের ইনজুরির বিষয়ে ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেছেন, ‘এমবাপ্পের মাংসপেশিতে টান লেগেছে। ঊরুতে কিছুটা অস্বস্তি আছে। দেখতে হবে, তার বিষয়টি কী। খুব একটা সিরিয়াস ইনজুরি মনে হয়নি। আমি পরিষ্কার জানিও না। তবে সে দৌড়াতে পারছিল না।’
মন্তব্য করুন


অবশেষে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরলেন নেইমার। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে এক রাজকীয় আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে নেইমারকে বরণ করে নিয়েছে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোস। নেইমারের ফেরাকে ঘিরে সান্তোসের স্লোগান ছিল—‘দ্য প্রিন্স ইজ ব্যাক’।
বাংলাদেশ সময় গতকাল রাতে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন নেইমার। এর আগে, ব্রাজিলের স্থানীয় সময় সকালে সাও পাওলোতে অবতরণ করে তার ব্যক্তিগত বিমান। কয়েক ঘণ্টা বিশ্রামের পর হেলিকপ্টারে করে সান্তোসে পৌঁছান ৩২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। মাঠের মাঝখানে মঞ্চ সাজানো হয়েছিল। বৃষ্টির মধ্যেই মঞ্চে উঠে দর্শকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন নেইমার।
ঘরের ছেলেকে ফিরে পেয়ে দর্শকরাও তাকে স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানান। মাঠে মাথা ও হাত নুইয়ে নিজের বিখ্যাত গোল উদযাপনের ভঙ্গিমা করেন তিনি। এরপর সান্তোসের মাটিতে চুমু খান। ‘নেইমার মিথ’-এর জন্ম তো এই ভিলা বেলমিরোর মাটিতেই।
নেইমার মাঠে দাঁড়িয়ে থাকতেই দর্শকরা তার পায়ে ড্রিবলিং দেখতে চান। উত্তরে নেইমার বলেন, ‘আমি খুবই সুখী। এখানে দারুণ সময় কেটেছে। সামনে তেমন সময় আরও আছে। (ড্রিবল করতে) সাহসের অভাব হবে না।’
গত সোমবার রাতে নেইমারের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেয় সৌদি আরবের ক্লাব আল-হিলাল। ২০২৩ সালে আল-হিলালে যোগ দেওয়ার পর ইনজুরির কারণে মাত্র ৭ ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন নেইমার। পরে দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতেই চুক্তি বাতিল হয়।
নেইমারের চুক্তি নিয়ে সান্তোসের সহসভাপতি ফার্নান্দো বোনাভিদেস ক্যানাল বলেন, ‘এই চুক্তিপত্র প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের। তবে তাকে ধরে রাখতে আমরা সব রকম চেষ্টাই করব। আমরা চাই, সে যেন আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকে।’
কালো ক্যাপ ও কালো গেঞ্জি পরা নেইমার ছয় মাসের চুক্তিপত্রে সই করার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে সান্তোস শহর এবং ক্লাবটির রাজা হয়ে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ ‘দ্য প্রিন্স ইজ ব্যাক’ নামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে সান্তোস। এর আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পেলের কণ্ঠে নেইমারকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেটারই দ্বিতীয় সংস্করণে প্রয়াত কিংবদন্তি পেলের প্রতি নেইমারকে বলতে শোনা যায়, ‘কিং পেলে, আপনার ইচ্ছাই আমার জন্য নির্দেশ। সিংহাসন ও মুকুট আপনারই আছে। কারণ, আপনি চিরকালীন। কিন্তু পবিত্র ১০ নম্বর জার্সিটি পরা হবে সম্মানের সঙ্গে, যা সান্তোস এবং এই পৃথিবীর জন্য অনেক কিছু। আপনার রেখে যাওয়া লিগ্যাসিকে সম্মান দিতে আমি সবকিছু করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’
সান্তোসের আয়োজনে কোনো কমতি রাখা হয়নি। সবাই জানত, সৌদি আরবের আল-হিলালের পাট চুকিয়ে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরছেন নেইমার। তার জন্য স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে একটি কনসার্টেরও আয়োজন করে ব্রাজিলের শীর্ষ লিগের এই ক্লাব। বৃষ্টির মধ্যেই ভিলা বেলমিরোর গ্যালারিতে প্রায় ২০ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। স্টেডিয়ামের বাইরেও ছিল ভিড়।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জার্সিতে খেলার এটাই নেইমারের শেষ সুযোগ। সে জন্য ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরতে হলে আগে নিয়মিত ম্যাচ খেলার দরকার, যা আল-হিলালে হচ্ছিল না। সান্তোসে সেই সুযোগ পাবেন নেইমার। বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জাতীয় দলে ফিরতে চাই। অর্জনের জন্য এখনো একটি (বিশ্বকাপ) মিশন বাকি আছে, যা আমার শেষ সুযোগ বলে মনে করি। যা–ই হোক না কেন, আমি এটার পেছনে ছুটব।’
সংবাদ সম্মেলনে সান্তোসে ফেরার কারণও ব্যাখ্যা করেন নেইমার। তিনি বলেন, ‘কিছু সিদ্ধান্ত থাকে, যা ফুটবলীয় চুক্তির বাইরে। আল-হিলালে ভালোই ছিলাম। পরিবারও ভালো ছিল। কিন্তু কিছু ঘটনায় সিদ্ধান্তটি নিতেই হলো। অনুশীলনে নিজেকে অসুখী লাগছিল। ফেরার সুযোগটা পেয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়বার ভাবিনি।’
ফেরার পর কেমন লাগছে, তা-ও জানান নেইমার। তিনি বলেন, ‘এখানে পা রাখার পর থেকেই মনে হচ্ছে, ১৭ বছর বয়সে ফিরে গেছি। খুব ভালো লাগছে এবং খেলার জন্য মুখিয়ে আছি।’
সান্তোসের বয়সভিত্তিক দলে বেড়ে ওঠা নেইমারের। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত খেলেছেন ক্লাবটির মূল দলে। এরপর ইউরোপযাত্রা। প্রথমে বার্সেলোনা, এরপর পিএসজি হয়ে দেড় বছর আগে সৌদি আরবের আল-হিলালে যোগ দেন। তবে ব্রাজিল ছাড়ার সাড়ে ১১ বছর পর আবারও সান্তোসে ফিরে নেইমার যেন ক্যারিয়ারের চক্র পূরণ করলেন। এর মধ্যে অনেকবার চোটে পড়েছেন। মৌসুমে নিয়মিত মাঠেও নামতে পারেননি। আগের সেই ধারা আছে কি না, সান্তোস ঠিক নিশ্চিত না হলেও ঘরের ছেলেকে আগের মতো হৃদয় দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন ক্লাবটির সমর্থকেরা। পার্থক্য একটাই, প্রথম দফায় খেলেছেন ১১ নম্বর জার্সিতে, এবার ১০ নম্বর জার্সি পরেছেন।
সেই জার্সিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নেইমার ফটোসেশনও করেন। এখন অপেক্ষা শুধু মাঠে ফিরে খেলার। গত বছর নভেম্বরে আল-হিলালের হয়ে ম্যাচে চোট পাওয়ার পর আর মাঠে নামা হয়নি তার। সংবাদ সম্মেলনে নেইমার জানান, শারীরিকভাবে আগের চেয়ে ভালো বোধ করলেও এখনো ১০০ শতাংশ ফিরে পাননি।
ক্যাম্পেওনাতো পলিস্তায় আগামী বুধবার বোটাফোগোর মুখোমুখি হবে সান্তোস। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ জানিয়েছে, এই ম্যাচে সান্তোসের হয়ে দ্বিতীয় দফায় অভিষেকের সম্ভাবনা আছে নেইমারের।
মন্তব্য করুন


নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার ম্যাচে সমর্থকদের দুয়োধ্বনি শুনলেন লিওনেল মেসি। অবশ্য এমন অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম নয় আর্জেন্টাইন মহাতারকার জন্য। এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন এখন প্রতিনিয়তই হচ্ছেন। ম্যাচশেষে পিএসজি কোচ এক প্রতিক্রিয়ায় জানালেন, এসবে (দুয়ো) অভ্যস্ত হয়ে গেছেন মেসি।
শনিবার (১৩ মে) রাতে পার্ক দ্য প্রিন্সেসের মাঠে অ্যাজাক্সের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে জিতেছে পিএসজি। জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। একবার করে বল জালে জড়িয়েছেন ফাবিয়ান রুইজ ও আশরাফ হাকিমি। অন্য গোলটি আত্মঘাতী। তবে নির্বাসন কাটিয়ে ফেরা মেসি গোল-অ্যাসিস্ট কিছুই পাননি।
শত্রুভাবাপন্ন ঘরের মাঠে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। যেখানে দুয়ো শোনা এখন এই বিশ্বজয়ী ফরোয়ার্ডের জন্য একরকম স্বাভাবিক হয়ে গেছে। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সুর নরম করা প্যারিসিয়ানদের জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন তিনি। পার্ক দ্য প্রিন্সেসের মাঠে যতবারই মেসির পায়ে বল গেছে, ততবারই তিনি ‘আল্ট্রাস’ সমর্থকদের দুয়ো শুনেছেন।
তবে ম্যাচশেষে গণমাধ্যমকে গালটিয়ের বলেন, মেসিকে দুয়ো দেওয়া হচ্ছিল। তবে দ্রুতই স্টেডিয়ামের বড় অংশের দর্শকরা লিওর সমর্থনে সরব হয়। এতে দুয়োধ্বনি চাপা পড়ে যায়।'
পিএসজি কোচ আরও যোগ করেন, 'আমার মনে হয়, সে এ ধরনের পরিস্থিতিতে অভ্যস্ত। সে তার ফুটবল ক্যারিয়ারে এমন পরিস্থিতিতে অনেক পড়েছে। তবে আমি আবার বলতে চাই, মেসিকে দেওয়া প্রতিটি দুয়োই সমর্থকদের অনুপ্রেরণাদায়ী চিৎকারে ঢেকে গেছে।'
এদিকে, সমর্থকদের তোপের মুখে পড়লেও সতীর্থদের সমর্থন পেয়েছেন মেসি। খেলা চলাকালে সুয়ারেজের সঙ্গে নেইমারের কথোপকথনের স্ক্রিনশট পরে নিজেদের কথোপকথনের স্ক্রিনশট ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেছেন ব্রাজিল তারকা। যেখানে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘একসঙ্গে আমাদের বন্ধু লিওনেল মেসিকে দেখছি।’
পরে নেইমারের সেই পোস্টে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুয়ারেজও। স্প্যানিশ ভাষায় সুয়ারেজ লিখেছেন, ‘আমি সব সময় গ্রেটদের সম্মান করি।’ তার এই মন্তব্যের ইঙ্গিতটা স্পষ্ট—মেসি ফুটবল–বিশ্বে কতটা শ্রদ্ধার পাত্র, সেটাই পিএসজির সমর্থকদের মনে করিয়ে দিতে চাইলেন বার্সেলোনার সাবেক তারকা।
মন্তব্য করুন


হংকংয়ের বিপক্ষে শমিত, জায়ান ও ফাহামিদুলসহ তারা চারজনই ম্যাচের শুরু থেকে খেলতে চান বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। শুরুবার (১০ অক্টোবর) হংকংয়ের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন তিনি।
তবে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে হংকংয়ের কাছে হারের পর বিষণ্ন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। অ্যাওয়ে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন সবাই। আগামী ১৪ অক্টোবরের হংকংয়ের সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশ।
জামাল ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি, শমিত, ফাহামিদুল, জায়ান একসঙ্গে ওয়ার্ম-আপ করি। সে সময় ওদের বলেছি, আমরা যখন নামবো তখন ম্যাচের গতিপথ বদলাতে হবে। আমাদের চার জনের ইমপ্যাক্ট ভালো ছিল। চার জনই শুরুর একাদশে খেলতে চাই। সব মিলিয়ে আমরা ভালো খেলেছি।’
তবে কে খেলবেন তা কোচ ঠিক করবেন। জামাল তেমনটি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যখন না খেলি সেটা তো ভুল, এটা আমি বলবো। আমি সব ম্যাচ খেলতে চাই। কিন্তু দিনশেষে কারা খেলবে এটা কোচের সিদ্ধান্ত। আমি চাই খেলতে।’
বাংলাদেশ দলের শেষ মুহূর্তে গোল হজম নিয়ে জামাল বলেন, ‘এই দলের একটা হিস্টরি আছে, আমরা শেষ মুহূর্তে গোল হজম করি। এই ম্যাচের আগে আমরা আলাপ করেছি, আমাদের ফুল ম্যাচ ফোকাসড থাকতে হবে। সংবাদ সম্মেলনেও বলেছি, আমরা যদি জিততে চাই বা পয়েন্ট নিতে চাই, আমাদের পুরো ম্যাচে মনোযোগী থাকতে হবে। কিন্তু আমরা পারিনি।’
সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে জামাল বলেন, হংকংয়ের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে ইতিবাচক কিছু করতে চান। ‘তাদের তিন পয়েন্ট দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। আরও তিন পয়েন্ট... ইনশাআল্লাহ আমরা কিছু দিতে পারবো।’
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
বাংলাদেশ ক্রিকেটে শেষ হলো চন্ডিকা হাথুরুসিংহে অধ্যায়। শ্রীলঙ্কান কোচকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের এই হেড কোচকে অব্যাহতির কথা জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। সেই সঙ্গে তাকে শোকজও করা হয়েছে। নতুন কোচ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল সিমন্সের নাম।
হাথুরুকে বাংলাদেশের হেড কোচ হিসেবে রাখবেন না ফারুক আহমেদ, এমন গুঞ্জন ছিল দুই মাস আগ থেকেই। অবশেষে গতকাল সোমবার বিপিএল প্লেয়ার্স ড্রাফটের আগ মুহূর্তে অথবা আগেরদিন রাতেই বিসিবিপ্রধানের ফোনে কোচ পদ থেকে অব্যাহতির বিষয়ে জানতে পারেন হাথুরুসিংহে। যদিও সেটা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছিল না।
মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে হাথুরুসিংহকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতির ঘোষণা দেন ফারুক আহমেদ। তার বদলে ফিল সিমন্সের দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানানো হয়।
হাথুরু দুই মেয়াদে বাংলাদেশ দলের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম মেয়াদে ২০১৪ সালের মে থেকে ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এরপর নিজ দেশ শ্রীলঙ্কার হেড কোচের দায়িত্ব পালন করেন হাথুরু।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের কোচ হয়ে আসেন হাথুরু। কিন্তু তার প্রথম মেয়াদে বাংলাদেশ ক্রিকেটের যতটুকু উন্নতি দেখা গেছে, দ্বিতীয় মেয়াদে সেটা দেখা যায়নি। এমনকি এই সময়ে বাংলাদেশের সিনিয়র ক্রিকেটারদের মধ্যে বিভেদ তৈরি, বিসিবির বিধি ভঙ্গ ও ক্রিকেটারদের সঙ্গে অশোভন আচরণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হাথুরুসিংহের বিরুদ্ধে।
হাথুরু এসব অপরাধ হয়তো ঢাকা পড়ে যেতো, যদি ভারত সিরিজে ভালো কিছু করতে পারতো বাংলাদেশ। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে লড়াইটাও করতে পারেনি নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এমনকি যেভাবে হেরেছে, তাও ছিল দৃষ্টিকটু। এসব কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ সামনে রেখেই হাথুরুকে অব্যাহতি দিয়েছে বিসিবি।
উল্লেখ্য, হাথুরুর সঙ্গে চুক্তি ছিল ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত। কিন্তু আগেভাগেই লঙ্কান এই কোচকে বিদায় করে দিলো বিসিবি।
মন্তব্য করুন


ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় কিছুতেই যেন পল পগবার চোট পিছু ছাড়ছে না। জুভেন্তাসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই একের পর এক ইনজুরিতে ভুগছেন এই ফরাসি মিডফিল্ডার। এই দুর্ভাগ্যের কারণে এক বছর মাঠের বাইরে ছিলেন পগবা। যা তাকে ফ্রান্সের হয়ে সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপেও অংশ নিতে দেয়নি। দীর্ঘ সময় পর মাঠে ফিরে ১ ম্যাচ খেলেই ফের চোট পান। এরপর ৯ ম্যাচেই মাঠে নামেন বদলি খেলোয়াড় হিসেবে। সর্বশেষ গত রোববার (১৪ মে) ম্যাচের ২৪ মিনিট যেতেই চোট নিয়ে বিশ্বজয়ী এই ফুটবলার কান্নাভেজা চোখে মাঠ ছেড়েছেন।
সিরি-আ’য় ক্রেমোনেসের বিপক্ষে জুভেন্তাসের হয়ে খেলতে নেমেছিলেন পগবা। একটি ক্রস করার পর বাম ঊরুতে চিকিৎসার প্রয়োজন হয় তার। যা তাকে ম্যাচ থেকেই ছিটকে দিয়েছে। ম্যাচটি জুভেন্তাস ২-০ গোলে জিতলেও কোচ ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যাল্লেগ্রির কণ্ঠে পগবার জন্য হতাশা ঝরেছে।
২০২২ সালের এপ্রিলের পর এই প্রথম শুরুর একাদশে মাঠে নামেন পগবা। গত বছরের ওই ম্যাচটি ছিল তার তখনকার ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে লিভারপুলের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে পায়ের পেশিতে চোট পান পগবা, যা তাকে গত মৌসুমের বাকি অংশ থেকে ছিটকে দেয়।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ জাতীয় দলে সাকিব আল হাসানের ফেরার ব্যাপারে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ডের লক্ষ্য, আগামী মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজ দিয়ে সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে ফেরেননি সাকিব। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট খেলতে আগ্রহী থাকলেও বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। এরপর পাকিস্তান ও ভারত সফরের পরও তিনি আর জাতীয় দলের হয়ে খেলেননি। এর আগে তার অবসর নিয়ে যে পরিকল্পনা ছিল, সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি।
বিসিবি সূত্র জানায়, এখনই সাকিবকে বিদায়ী সিরিজ দেওয়ার চিন্তা নেই বোর্ডের। বরং তাকে নিয়মিতভাবে আবার দলে ফেরাতে চায় তারা, যেন একটি সিরিজেই অধ্যায় শেষ না হয়।
গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর জানান, বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, এ নিয়ে বোর্ড সভাপতি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আমরা আশাবাদী, মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজেই সাকিব জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন।
সম্প্রতি বিডিক্রিকটাইমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব নিজেও জানান, ভালোভাবে সিরিজ খেলে অবসর নেওয়ার ইচ্ছা তার এখনো আছে। সাকিব বলেন, আমি এখনো চাই, একটি সিরিজ খেলে সুন্দরভাবে অবসর নিতে। সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগবে।
২৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিসিবির বোর্ড সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে সাকিবকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর বোর্ড পরিচালক আমজাদ হোসেন ও আসিফ আকবর নিশ্চিত করেন, সাকিবের ফেরার ব্যাপারে সরকারকে অবহিত করা হয়েছে।
তবে বিসিবির চাওয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে—তারা সাকিবকে দীর্ঘ সময়ের জন্য দলে দেখতে চায়। আসিফ আকবর বলেন, আমরা চাই সাকিব পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে আবার খেলুক। এরপর সে কতদিন খেলবে, সেটা তার নিজের সিদ্ধান্ত।
সূচি অনুযায়ী, মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এরপর মে মাসে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আবারও বাংলাদেশে আসার কথা পাকিস্তান দলের।
সূত্র: বিডি ক্রিক টাইম
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড হেড কোচ এরিক টেন হাগকে বরখাস্ত করেছে। এর ফলে রেড ডেভিলদের সঙ্গে ডাচ কোচের আড়াই বছরের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটলো। বিবিসি এবং ESPN সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ খবর নিশ্চিত করেছে।
গতকাল রবিবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ওয়েস্টহ্যামের কাছে পরাজিত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে টেন হাগকে বরখাস্ত করা হলো। আজ সোমবার ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাকে ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানায়।
স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের পর, কেউই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে পারেননি। সর্বশেষ টেন হাগের অধীনে ক্লাবটি আবারও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। যদিও দীর্ঘদিন ধরেই তার ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল।
টেন হাগের সময় সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন আরেক ডাচ কিংবদন্তি রুড ফন নিস্টেলরয়। তাকেই এবার অন্তবর্তীকালীন হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে চিটাগাং কিংসকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিপিএলের শিরোপা জিতেছে ফরচুন বরিশাল। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পর তৃতীয় দল হিসেবে 'ব্যাক টু ব্যাক' শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের এই দলটি।
দলের এমন সাফল্যে বেশ উচ্ছ্বসিত বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানায় থাকা ফরচুন গ্রুপ। শিরোপা জেতায় দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় এবং টিম ম্যানেজমেন্টে থাকা সবাইকে আইফোন ১৬ উপহার দিয়েছে ফরচুন বরিশাল। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশালের মালিক মিজানুর রহমান।
এর আগে বিপিএলের একাদশ আসরের চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় মোটা অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার পেয়েছে বরিশাল। চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে আড়াই কোটি টাকা প্রাইজমানি পেয়েছে তারা। অন্যদিকে, রানার আপ হয়ে দেড় কোটি টাকার আর্থিক পুরস্কার পেয়েছে চিটাগাং কিংস।
বিপিএলের একাদশতম আসরের ফাইনালে চিটাগাংকে ৩ উইকেটে হারায় বরিশাল। ২৯ বলে ৫৪ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তামিম ইকবাল। এছাড়া সিরিজসেরার পুরস্কার জিতেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাট হাতে ৩৫৫ রানের পাশাপাশি বল হাতে শিকার করেছেন ১৩ উইকেট।
মন্তব্য করুন


কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) ফেসবুক পেজে কিছুদিন ধরে পোস্টগুলোতে ‘অ্যাংরি’ এবং ‘হাহা’ রিঅ্যাকশনের ঢেউ বইছে। নেতিবাচক মন্তব্যও তীব্রভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে পেজের ফলোয়ার সংখ্যা ব্যাপক হারে কমছে। শেষ ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় ১০ লাখ ফলোয়ার হারিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ফেসবুক পেজ।
এই ধারাটি শুরু হয় মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পর। নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেনা বাঁহাতি এই টাইগার পেসারকে বাদ দেওয়ার পর কলকাতার ফলোয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে কমে ১ কোটি ৭০ লাখে নেমেছে। এর মানে, প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ ফলোয়ার কমছে, যা প্রতি মিনিটে ৩৪৭ এবং প্রতি সেকেন্ডে ৫ ফলোয়ারের হার।
মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পোস্টে ২ লাখ ৩ হাজারের বেশি রিঅ্যাকশন এসেছে, যার মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজার ‘অ্যাংরি’ এবং ৪০ হাজার ‘হাহা’। মন্তব্যের সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি, যার বেশির ভাগই বিসিসিআই, আইপিএল এবং ভারতকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
মোস্তাফিজের বাদ দেওয়ার পর কলকাতার পেজে আরও ৯টি পোস্ট করা হয়েছে, যেখানে বরুণ চক্রবর্তী, নিউজিল্যান্ড সিরিজ, ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও অস্ট্রেলিয়ার পেসার ক্যামেরন গ্রিনের খবর ছিল। সেগুলিতেও অ্যাংরি-হাহা রিঅ্যাকশন এবং নেতিবাচক মন্তব্য দেখা গেছে।
মোস্তাফিজ এখন পর্যন্ত আইপিএলের পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলেছেন—সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, দিল্লি ক্যাপিটালস, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস, চেন্নাই সুপার কিংস। আইপিএলে ৬০ ম্যাচে ৬৫ উইকেট নেন, যার ইকোনমি রেট ৮.১৩। ২০২৪ সালে চেন্নাই সুপার কিংস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট করেছে। তবে এবার রাজনৈতিক কারণে মোস্তাফিজ আইপিএলে খেলতে পারছেন না।
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
কোপা আমেরিকার চলতি আসরের শুরু থেকেই ছন্দে নেই আনের্জন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। আসরে এখনও পর্যন্ত গোলের দেখা পাননি ইন্টার মিয়ামির এই তারকা।
চিলির বিপক্ষে খেলতে নেমে ইনজুরিতে পড়েন মেসি। যে কারণে পেরুর বিপক্ষে খেলা হয়নি তার। কোয়ার্টারে ইকুয়েডরের বিপক্ষে খেললেও মেসি ছিলেন না ফর্মে। টাইব্রেকারে পেনাল্টিও মিস করেন।
মেসির এমন ইনজুরি সঙ্গে ফর্ম নিয়ে সমর্থকরা চিন্তিত হলেও চিন্তিত নন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মেসি যদি শতভাগ ফিট নাও থাকেন, তবুও তাকে কানাডার বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী কোচ।
মেসির খেলা প্রসঙ্গে কোচ বলেন, আমরা জানি, সে যদি পুরোপুরি ফিট নাও থাকে, তবুও সে দলের জন্য কী দিতে পারে। ৯৯ শতাংশ সময়ে সে সুস্থ থাকে খেলার জন্য। সে সুস্থ না হয়ে খেলতে নামবে, আমার সঙ্গে এমনটা হয়নি কখনো। সে যখনই খেলতে নামে, পুরোপুরি সুস্থ থেকেই খেলতে নামে। আগামীকালকের ম্যাচের জন্যেও সে পুরোপুরি প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, এটা আমার জন্য একদমই সহজ সিদ্ধান্ত যে, মেসি পুরোপুরি সুস্থ থাকলে পুরো সময় খেলবে এবং কিছুটা ফিট না থাকলে শেষের ৩০ মিনিট খেলবে। সে সুস্থ থাকলে কেন খেলবে না? এটা নিয়ে কি আপনাদের সন্দেহ রয়েছে? আমি দলের কোচ। আমার কোনো সন্দেহ নেই এই ব্যাপারে। সে যদি শতভাগ সুস্থ নাও থাকে, তবুও খেলবে। আমিই এটার দায়িত্ব নিচ্ছি।
মন্তব্য করুন