

ফিলিস্তিনের গাজাবাসীর প্রতি সংহতি জানিয়ে ‘মার্চ ফর গাজা’ শীর্ষক এক বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হয় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। শনিবার (১২ এপ্রিল) বেলা ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই ফিলিস্তিনের পতাকা ও প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড হাতে হাজারো মানুষ উদ্যানে জড়ো হতে শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই উপচে পড়ে ভিড়ে পরিণত হয় ঐতিহাসিক এই মাঠ।
সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোট-বড় মিছিল এসে একত্রিত হতে থাকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কেউ আসছেন শাহবাগ থেকে, কেউ দোয়েল চত্বর থেকে, আবার কেউ নীলক্ষেতের দিক থেকে। উদ্যানের প্রতিটি গেটে স্বেচ্ছাসেবকরা জনস্রোতকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার চেষ্টা করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও এর আশেপাশের এলাকায় ফুটপাতের দোকানগুলোতে দেশীয় পতাকার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পতাকা সাজিয়ে রাখা হয়। দল-মত, বয়স ও পেশার মানুষ এই সমাবেশে অংশ নিয়ে ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি মানবতার জয়গান করেন।
একজন অংশগ্রহণকারী বলেন, “ফিলিস্তিনে নিরীহ মুসলমানদের ওপর ইসরাইল যে নৃশংসতা চালাচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে এখানে এসেছি।”
আয়োজকদের দাবি, গাজায় ইসরাইলের নির্মম হামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জনমত গঠন ও মানবিক সহমর্মিতা বাড়াতেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। বেলা ৩টা থেকে মাগরিব পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য করুন


মিরপুর রূপনগর শিয়ালবাড়ি এলাকায় পোশাক কারখানা ও রাসায়নিকের গুদামে আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের নিহতের তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সব লাশ ‘আনোয়ার ফ্যাশন’ নামের পোশাক কারখানাকে উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলো ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, এদিন বিকেলে ৯ জন নিহতের তথ্য জানিয়েছিল ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর।
এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট। পরে আরো কয়েকটি ইউনিট যুক্ত হয়।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তল্লাশি অভিযান এখনো চলমান। পাশের যে কেমিক্যাল গোডাউন রয়েছে, সেখানে এখনো আগুন জ্বলছে। এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ওখানে কাউকে যেতে দিচ্ছি না। আমরা সর্বোচ্চ প্রযুক্তি দিয়ে, ড্রোন দিয়ে এসব কার্যক্রম করছি।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, আগুনের সূত্রপাত এখনো জানা যায়নি। যারা শুরুতে আগুন নেভাতে এসেছেন, তারা রাসায়নিকের গুদাম ও গার্মেন্টস দুই দিকেই আগুন দেখেছেন।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তিনতলা পোশাক কারখানার নিচতলায় ‘ওয়াশ ইউনিট’ রয়েছে।
সেখানে প্রথম আগুন লাগে। সেই আগুন পাশের রাসায়নিকের গুদামে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর আগুন তিনতলা পোশাক কারখানার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৮ নভেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সঙ্গে এ আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছেন।
এর আগে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন আমলের সব হত্যা, গণহত্যা, বিচার বহির্ভূত হত্যা, পিলখানা হত্যার বর্ণনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চায় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম।
এ দিন বেলা ১১টার পর ট্রাইব্যুনালের বিচারের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সদস্যরা হলেন- বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মন্তব্য করুন


পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলমের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে তাদের মধ্যে এ সাক্ষাৎ করেছেন।
পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকালে নিরাপত্তা ইস্যু, পুলিশ সংস্কার ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশকে সহায়তাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত দেশের চলমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচনকালীন সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ পুলিশের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আইজিপি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ সদস্যদের নিবিড় ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি নির্বাচনী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারসহ গৃহীত সার্বিক প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বিদেশি পর্যবেক্ষক ও কূটনৈতিক মিশনের সদস্যদের নিরাপত্তা প্রদানে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোকপাত করেন এবং পুলিশ সংস্কারের ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০০ পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন বলে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ সময় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকগণ বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারি ও নিরাপত্তা প্রটোকল সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা লাভ করবেন।
বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


কাতারের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২৩ এপ্রিল) দোহায় অনুষ্ঠিত 'কাতার-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগের সুযোগ' শীর্ষক এক সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
ড. ইউনূস তার বক্তব্যে বলেন, "বাংলাদেশ বর্তমানে নতুন উদ্যমে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে এবং তা ব্যাপক পরিসরে সম্প্রসারিত হচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত 'নতুন বাংলাদেশ' গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছে।
তিনি নরওয়ের টেলিনর কোম্পানির সাফল্যের উদাহরণ টেনে বলেন, "এটি বাংলাদেশে তাদের সবচেয়ে লাভজনক বিনিয়োগে পরিণত হয়েছিল। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।"
অনুষ্ঠানে জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ফওজুল কবির খান জানান, বর্তমান সরকার গত বছরের নভেম্বর মাসে দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩.২ বিলিয়ন ডলার, যা এখন কমে ৬০০ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে কাতার এনার্জির ২৫৪ মিলিয়ন ডলার বকেয়া সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী কাতারি বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামনে দেশে বিনিয়োগের সুযোগ ও সরকারের সংস্কার কর্মসূচি উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী বক্তব্য দেন কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও বিভিন্ন মামলায় আটকদের মুক্তি দেওয়া শুরু হয়েছে এবং এরই মধ্যে অনেকে মুক্তি পেয়েছেন।
৬ আগস্ট বঙ্গভবন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে গতকাল সোমবার (৫ আগস্ট) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানান, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক বন্দিকে শিগগির মুক্তি দেওয়া হবে। এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান ও আহতদের সুচিকিৎসার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও বলেন, জরুরি ভিত্তিতে একটি অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠন করা হবে। সব দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে।
অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠনের লক্ষ্যে গতকাল রাতে বঙ্গভবনে সেনাপ্রধান, নৌপ্রধান, বিমান বাহিনীর প্রধান এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাষ্ট্রপতি।
বৈঠকে কোটাবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করা হয়। এসময় অনতিবিলম্বে একটি অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ধৈর্য ও সহনশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয় বৈঠকে। লুটতরাজ ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
সেই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অনতিবিলম্বে মুক্তির সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে এবং সম্প্রতি বিভিন্ন মামলায় আটক সব বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি যেন কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয় সে ব্যাপারেও সভায় ঐকমত্য হয়।
মন্তব্য করুন


সীমান্ত হত্যা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। তিনি বলেন, যারা ভারতীয় সীমান্তে অনুপ্রবেশ করেন, তাদের নিয়ম মেনে গ্রেফতার করে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু এ পদ্ধতি কতদিন চলবে?
শনিবার (১ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার বিজিবি ব্যাটালিয়নের প্রশিক্ষণ মাঠে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উখিয়া ব্যাটালিয়নসহ (৬৪ বিজিবি) চারটি ইউনিট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সম্প্রতি ভারতের দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সীমান্ত হত্যাসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, সীমান্ত হত্যা নিয়ে আলোচনা ছিল সম্মেলনের শীর্ষ এজেন্ডায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা থেকে বিএসএফ সদর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব স্থানে বিজিবির পক্ষ থেকে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলনের পর এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। সীমান্ত রেখা থেকে ভারতের অভ্যন্তরে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে জোরালো প্রতিবাদ জানানোর পর আমরা কিছু ছবি পেয়েছি। সেখানে দেখা গেছে, ১৫-২০ জনের একটি দল অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। বিএসএফ বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘাত হয়।
বিজিবি মহাপরিচালক আরও বলেন, সংঘাতের সময় বিএসএফ রাবার বুলেট ব্যবহার করে। এতে ওই যুবকের পেটে গুলি লাগে। দুর্বল স্থানে রাবার বুলেটও প্রাণঘাতী হতে পারে। আহত যুবককে বিএসএফ হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করিয়েছিল, কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
তিনি পরিষ্কার বার্তা দিয়ে বলেন, আমরা বলেছি, সীমান্ত হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি আমরা এটা মেনে নেই, তাহলে ভবিষ্যতে ভারতীয় অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ম মেনে গ্রেফতার করে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া কতদিন চলবে?
তিনি আরও বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অন্য কোনো কারণেই হত্যা কোনো সমাধান হতে পারে না। যদি আরও কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটে, আমরা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেব। এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত করতে চাই।
তিনি বলেন, আমাদের চেষ্টা অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা। বিজিবি, প্রশাসন এবং স্থানীয়রা এ ব্যাপারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তারপরও কিছু ব্যক্তি সীমান্ত অতিক্রম করতে চেষ্টা করে। আমরা দুইভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাব: বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা এবং মানবাধিকার সংগঠনের মাধ্যমে। তৃতীয়ত, কেউ যেন সীমান্ত অতিক্রম না করে, সেদিকেও নজর রাখা হবে।
মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী আরও বলেন, এ ঘটনায় একজন বিএসএফ সদস্য আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত বিএসএফ সদস্যের রক্তাক্ত অবস্থার ছবিও আমরা পেয়েছি। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে যে, ঘটনাটি সত্যিই ওই স্থানে ঘটেছে কি না।
মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে কি না জানতে চাইলে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, মিয়ানমার সীমান্তে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। যদি কোনো ঝুঁকি থাকে, আমরা বিজিবি সদা প্রস্তুত রয়েছি।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
এ বছর থেকেই এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের সব শিক্ষকের স্বয়ংক্রিয় বদলি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। আজ বুধবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে এবং এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে। বদলির সময় নারী-পুরুষ এবং বাড়িসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হবে। আমি এসব মৌলিক কাজ করছি, যেখানে মহার্ঘ ভাতা বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ নয়। ইতোমধ্যে ৫৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটি একটি চ্যালেঞ্জ ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘করোনা এবং গণঅভ্যুত্থানের কারণে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে জনমিতি সুবিধার ক্ষেত্রে। বর্তমানে জনসংখ্যার বয়স কাঠামো মাঝামাঝি অবস্থায় রয়েছে, তবে ১০ বছর পর এটি থাকবে না, কারণ সবার বয়স বাড়বে এবং তখন চিকিৎসা খরচ আরও বাড়বে। তবে সুশাসিত গণতান্ত্রিক শাসনে যদি উত্তরণ সম্ভব হয়, তবে এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠা সম্ভব। এজন্য অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত এটাই। আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো একটি ভালো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।’
শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘রপ্তানি গতি ফিরে এসেছে, রেমিট্যান্স বাড়ছে, যা আশাব্যঞ্জক। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে বলে বলা হচ্ছে, তবে এটা পুরোপুরি কমে যায়নি। মূল্যস্ফীতি এখনও বাড়ছে, যার ফলে দিনমজুরদের ওপর চাপ বাড়ছে এবং মধ্যবিত্তরাও সমস্যায় পড়েছে। ২০১০ সাল থেকে কোনো বছরেই মার্চের আগে বই যায়নি। কিছু কিছু বছর বই জুলাই-আগস্টে পৌঁছেছে, তবে এবার বই খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫০ বছর ধরে বিতর্কের বিষয় ছিল, তবে রংপুরের আবু সাঈদের মৃত্যুর তারিখ ভুল হওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। আমরা বলেছি, ভুল ভ্রান্তি হতে পারে এবং সেগুলো সংশোধন করা হবে।’
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, ‘দেশের নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমরা একটি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা তৈরি করেছি। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। তবে ডেল্টা প্ল্যান তার জায়গায় থাকবে, যা শত বছরের পরিকল্পনা। তবে কোন বিশেষজ্ঞই বলতে পারবে না শত বছরে বাংলাদেশ কেমন হবে। তাই মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা আছে।’
মন্তব্য করুন


যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্যাপিটল ওয়ান অ্যারেনায় শপথ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শপথ গ্রহণের পর তার প্রথম ভাষণে তিনি জানান, বাইডেন আমলের সব নির্বাহী আদেশ দ্রুত বাতিল করা হবে। শপথের অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে শুরু করেন তিনি।
জানা গেছে, শপথ নেওয়ার পরপরই ট্রাম্প ওভাল অফিসে গিয়ে একাধিক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে তিনি বাইডেনের শাসনামলের ৭৮টি নির্বাহী আদেশ বাতিল করেন। এর মধ্যে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের আদেশও রয়েছে।
ট্রাম্প আদেশে স্বাক্ষর করার পর সেটি জনসাধারণকে দেখান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা ছাড়ার আগে রেকর্ডসংখ্যক ব্যক্তিকে ক্ষমা করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে, এমন আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নেন বাইডেন।
ট্রাম্প তার ভাষণে বলেন, "যে ক্ষমাগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলোও দ্রুত বাতিল করা হবে।"
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামলাতে ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে একটি নির্বাহী আদেশেও স্বাক্ষর করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ট্রাম্পকে শপথ পাঠ করান। এ সময় বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, তার স্ত্রী জিল বাইডেনসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
২০১৭ সালে ন্যাশনাল মলে বড় আয়োজনের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রথমবার শপথ নিয়েছিলেন। তবে এবার তীব্র ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে শপথ অনুষ্ঠান ক্যাপিটল ভবনের ভেতরে আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে একই কারণে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ক্যাপিটল ভবনের ভেতরে শপথ নিয়েছিলেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টার দিকে তিনি মারা যান। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসের সংক্রমণ থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর দেখা দেয় নিউমোনিয়া, সঙ্গে কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পুরনো সমস্যা। হাসপাতালে ভর্তির পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিউ) নেয়া হয় তাকে।
খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস। এ ছাড়া দল-মত নির্বিশেষে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখছিলেন ও রোগমুক্তির জন্য দোয়া করেন।
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও দলনেত্রী।
১৯৮১ সালের ৩০ মে এক সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীর আহ্বানে খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিএনপির রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন।
বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি। তার নেতৃত্বে কয়েক দশকে দেশের রাজনীতিতে বিএনপির পূর্ণ বিকাশ হয়।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার শেষে রায় হলে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হবে। তিনি এ বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি আন্তর্জাতিক আইনের উল্লেখ করে বলেন, "ভারত এ আইন মেনে কাজ করতে বাধ্য হবে।"
গত শনিবার নিক্কেই এশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ড. ইউনূস। সোমবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।
তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার সবকিছু ধ্বংস করে গেছে, নির্বাচনের আগে আমাদের অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থা, আমলাতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। এ জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনি ব্যবস্থা, সংবিধান এবং বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কয়েকটি কমিশন গঠন করেছে। জানুয়ারির মধ্যে ওই কমিশনগুলোর সুপারিশ হাতে পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার বাস্তবায়ন করার কথা জানান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তবে এ সংস্কার বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে।
তিনি বলেন, "নতুন বাংলাদেশ" গড়তে আমরা একেবারে শূন্য থেকে শুরু করেছি, তাই সংস্কার বাস্তবায়নে সময় লাগবে।
নির্বাচন কখন হবে তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, "নির্বাচনের সময় নির্ভর করবে সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপর। এর ফলাফলই সময় নির্ধারণ করবে।"
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সাধারণ নির্বাচনে ড. ইউনূস প্রার্থী হবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "না, আমি রাজনীতিবিদ নই। আমি সবসময় রাজনীতি থেকে দূরে থেকেছি।" তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রের যেসব ব্যক্তি নীতি-নৈতিকতা সমুন্নত রাখেন, নিয়ম-কানুন মেনে চলেন এবং দুর্নীতিমুক্ত থাকেন, তারা নির্বাচনে দাঁড়ানো উচিত।
ড. ইউনূস বলেন, হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের শাসনকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, আর গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করে তা পুনর্গঠন করার বিরাট কাজ এখন আমাদের করতে হবে।
তিনি বলেন, "হাসিনার শাসনামলে গণতন্ত্রের রীতি-নীতি একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে। টানা তিন মেয়াদে ভোটারবিহীন ভুয়া নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে, যাতে হাসিনা এবং তার দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। একজন ফ্যাসিবাদী শাসক হিসেবে এসব করেছেন হাসিনা।"
ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, "এ বছর আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন সরকারি চাকরিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে কয়েকশ শিক্ষার্থী নিহত হন। এরপর শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন হাসিনার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে হাসিনার ১৫ বছরের শাসন শেষ হয়। তিনি হেলিকপ্টারে চড়ে ভারতে পালিয়ে যান। অক্টোবরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা এবং তার বেশ কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।"
কূটনৈতিক ফ্রন্টে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। এ ক্ষেত্রে ড. ইউনূস দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি ভারত ও পাকিস্তানের বৈরী সম্পর্কের কারণে সার্ক কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, সার্কের লক্ষ্য হলো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মতো নিজেদের মধ্যে চলাফেরার স্বাধীনতা এবং আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য উৎসাহিত করা। তিনি ভারতকে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন।
হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে ড. ইউনূস বলেছেন, "সংখ্যালঘু ইস্যুতে যা বলা হচ্ছে তার বেশিরভাগই প্রোপাগান্ডা।" তিনি দাবি করেন, এসব তথ্য সঠিক নয়। তিনি ভারতীয় সাংবাদিকদের বাংলাদেশে এসে সঠিক তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানান এবং বলেন, "আমরা এসব অপ-তথ্যের বিরুদ্ধে ভারত সরকারকে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য কাজ করছি।"
অন্য আঞ্চলিক সম্পর্কের বিষয়ে ড. ইউনূস চীনকে "আমাদের বন্ধু" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "সড়ক ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ থেকে শুরু করে সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত চীন আমাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে।"
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বেইজিংয়ের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
ড. ইউনূস দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থা (আসিয়ানে) বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, "বাংলাদেশ আসিয়ানে যোগ দেওয়ার বিষয়ে একটি প্রতিশ্রুতিশীল সুযোগ হিসেবে এটি গ্রহণ করতে চায়, বিশেষ করে ২০২৬ সালে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার পর।"
তিনি জানান, মালয়েশিয়া আগামী জানুয়ারিতে আসিয়ানের সভাপতি হতে যাচ্ছে এবং তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
মিয়ানমারের সামরিক জান্তার দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, "এই দায় (রোহিঙ্গা) বাংলাদেশ কতদিন বহন করবে?" তিনি বলেন, "রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আমাদের একটি সুস্পষ্ট গন্তব্য এবং অভিন্ন লক্ষ্য ঠিক করা দরকার।"
বাংলাদেশ মিয়ানমারে জাতিসংঘ-শাসিত একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে, যাতে রোহিঙ্গারা সেখানে নিরাপদে থাকতে পারে এবং তাদের দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে তারা নিজেদের বাড়িতে ফিরে যেতে পারে।
মন্তব্য করুন