

কক্সবাজারের
চকরিয়ার ডুলাহাজারায় অভিযান চলাকালে ডাকাত দলের ছুরিকাঘাতে নিহত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা
লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে
পাঁচজনকে যাবজ্জীবন, চারজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে খালাস দেওয়া
হয়েছে।
বুধবার
(২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবুল মনসুর
সিদ্দিকী এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশেদ আলম চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি
বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের ৫২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন
হয়। সাক্ষীরা নির্ভয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে
আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন।
বিগত
২০২৪ সালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে
ডাকাতির খবর পেয়ে যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ডাকাত দলের সদস্যরা লেফটেন্যান্ট
তানজিম সারোয়ারকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
এ
ঘটনায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার
দিকে চকরিয়ার ডুলাহাজারা এলাকায় একটি সন্দেহভাজন বাড়ি ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। এ সময়
লেফটেন্যান্ট তানজিম দুই সন্ত্রাসীকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা তাকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর
আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে চকরিয়া খ্রিস্টান হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে
রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে
কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লেফটেন্যান্ট
তানজিম সারোয়ার হত্যা ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে ইতোপূর্বে
আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মন্তব্য করুন


আষাঢ়ের বৃষ্টির পানিতে কৃষকের মনে স্বস্তি ফিরে খানসামার চাষীরা । মাঠজুড়ে আমনের ক্ষেতে রাসয়নিক সার, কীটনাশক ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন, কৃষক-কৃষানীরা। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে বেড়ে উঠতে শুরু করেছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল আমন ধান। অন্যবছরের তুলনায় এ বছর আমন রোপণের শুরু থেকে কৃষককে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
ভরা মৌসুম আষাঢ়ের ভরা মৌসুমে ও আকাশে বৃষ্টির দেখা মিলছিল না। ফলে সঠিক সময়ে আমন ধান রোপণ করতে পারেনি অনেক কৃষক। তবেও বাদ পড়েনি আমন ধান চাষী কৃষক। আমনের শুরুতে মোটার ও শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি কিনে আমন ধান রোপণ করছেন, চাষীরা।
খানসামা উপজেলার বিভিন্ন আমনের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কম-বেশি সব কৃষকের কষ্টে অর্জিত আমন ধানের সবুজ পাতার রঙে ছেয়ে গেছে মাঠ। বোরো কর্তন শেষে রোপা-আমন চাষে কোমর বেঁধে মাঠে কাজ করছেন, কৃষক ও কৃষানীরা। কেউ ধান গাছের আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। সবুজ পাতায় বাতাসে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। রোপা-আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকের মুখে হাসি।
উপজেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার জানিয়েছেন, এ বছর খানসামা উপজেলায় ১৩ হাজার ৭শত ৫০ ’ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে । ধান পাওয়ার আশা করা হচ্ছে ১৩ লাখ ৮১ হাজার ৫৮৮ টন। তবে এবার অনেক আমন চাষী সেচনির্ভর হয়ে পড়েছে। এতে ব্যয় বাড়ছে কৃষকের।
কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, কৃষিনির্ভর খানসামা উপজেলায় প্রায় মানুষের ফসল উৎপাদন ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে। এবার বড় ধরনের দুর্যোগ না হলে আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে এবং বিগত দিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব বলে মনে করছি।
আমন চাষী রফিকুল ইসলাম বলেন, যদি কোন দূর্যোগ বালাই না হয় তাহলে আমনের ফলনও খুব ভালো হয়। আর কৃষকের আমন ধান চাষে কোন রোগ বালাই না হয় সেজন্য প্রতিনিয়ত কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে থেকে তদারকি করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে কৃষকরা এবার ভালো আমন ধানের ফলন পাবেন। কোন ধরনের দুর্যোগ দেখা না দিলে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
মন্তব্য করুন


বিয়ের ওপর আরোপিত
ট্যাক্স বাতিল এবং কাবিননামায় ‘কুমারী’ শব্দ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন,
বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
আজ মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি)
বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ
নজরুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা কিছু শব্দ নিয়ে অনেক আপত্তি শুনেছি, বিয়ের কাবিননামায়
এখন থেকে শুধু অবিবাহিত শব্দ থাকবে। এছাড়া বিয়ের ক্ষেত্রে ট্যাক্স প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে । বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে ৭৫ পয়সা বাড়িয়ে গেজেট জারি করা হয়েছে। নতুন এ দাম চলতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই কার্যকর ধরা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ১৮ জানুয়ারি আবাসিক, সিএনজিচালিত যানবাহন, সার ও চা শিল্পে ব্যবহার ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল, যা ওই বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হয়।
সরকারি, আইপিপি ও রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের জন্য গ্যাসের পূর্ব মূল্য ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৭৫ পয়সা যা বাড়িয়ে বর্তমান মূল্য করা হয়েছে ১৪ টাকা ৭৫ পয়সা।
ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট, স্মল পাওয়ার প্ল্যান্ট ও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ছিল প্রতি ঘনমিটার ৩০ টাকা। এক্ষেত্রেও ৭৫ পয়সা বাড়িয়ে সেটা ৩০ টাকা ৭৫ পয়সা করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভতুর্কি সমন্বয়ে বিদ্যুতের সঙ্গে গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে । গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, গ্যাসের দাম সমন্বয় গ্রাহক পর্যায়ে হচ্ছে না। বিদ্যুতের পর্যায় হচ্ছে। গ্যাসের আবাসিক পর্যায়ে ব্যবহারের ক্ষেত্রে দাম বাড়ছে না। শিল্পেও গ্যাসের দাম বাড়ছে না। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে যে গ্যাস দেওয়া হয় সেখানে আমরা কিছুটা সমন্বয় করছি।
তিনি বলেন যে গ্যাস বিদ্যুতে দেওয়া হয় সেখানে প্রতি ঘনমিটারে ৭৫ পয়সা বাড়বে, অর্থাৎ এটা ইন্টারনাল।
এ বছর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি আসবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি ক্ষেত্রে ৬ হাজার কোটি টাকার মতো ভর্তুকি আসবে। এগুলো আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা সমন্বয়ে যাবো।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলার দ্রুত বিচার ও দোষীদের কঠোর
শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জামায়াতের আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
আজ
বুধবার (২০ মে) সকালে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে এক পোস্টে তিনি এই দাবি জানান।
পোস্টে শফিকুর রহমান লেখেন, ‘প্রিয় সোনামণি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত। তুমি
নিষ্পাপ ছিলে। তুমি এখনও বৃন্ত থেকে পুরোপুরি ফোটনি। তুমি ছিলে তোমার মা-বাবা ও বোনের
চোখজুড়ানো হৃদয়ের আবেগ ও ভালোবাসামাখা ভবিষ্যতের এক অপূরণীয় স্বপ্ন। তুমি চলে গেছ-তোমার
চলে যাওয়াটা হায়েনার লালসার কাছে হার মানেনি। ওই হায়েনাটাই চিরদিন লানতের পাত্র হয়ে
থাকবে।’
তিনি
আরও লেখেন, ‘তুমি চলে গেছ-তোমার চলে যাওয়াটা হায়েনার লালসার কাছে হার মানেনি। ওই হায়েনাটাই
চিরদিন লানতের পাত্র হয়ে থাকবে। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং এই নরপশু হত্যাকারীর
শাস্তি অতি দ্রুত দেখতে চাই। আল্লাহ তা’আলা রামিসাকে জান্নাতের পাখি হিসেবে
কবুল করুন। তার পিতা-মাতা, বোন এবং আপনজনকে ধৈর্য ধরার তাওফিক দিন। আমিন।’
এর
আগে, গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর
সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
শিশুটিকে হত্যার পর তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিচ্ছিন্ন মাথা শৌচাগারে পাওয়া যায়।
শিশুটির শরীরের মূল অংশটি পাওয়া যায় খাটের নিচ থেকে। এ ঘটনায় সোহেল রানা (৩৪) এবং তার
স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন


এইচএসসি
ও সমমান পরীক্ষার ফল আজ (২৬নভেম্বর)প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষায় কেউ ফেল করলে অথবা কাঙ্ক্ষিত
ফল না পেলে, তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন সোমবার(২৭নভেম্বর)
থেকে শুরু হবে। যা চলবে আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
শুধুমাত্র এসএমএসের মাধ্যমে এই ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র টেলিটকের প্রিপেইড নম্বর থেকে ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদস্বাধীনতা পদক ২০২৫-এ পাচ্ছেন ।
সোমবার (৩ মার্চ) ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আইডি থেকে এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানিয়ে পোস্টে বলা হয়, “অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসিকতার প্রতীক, মুক্ত চিন্তার এক প্রতিচ্ছবি—আবরার ফাহাদ। মরনোত্তর স্বাধীনতা পদক ২০২৫-এ ভূষিত হওয়া তার আত্মত্যাগের স্বীকৃতি। তার আদর্শ আমাদের আলোকিত করে, ন্যায়বিচারের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেয়। জাতি তোমাকে ভুলবে না, আবরার! ”
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর রাতে বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী পিটিয়ে হত্যা করেন।
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর বুয়েটের ২০ শিক্ষার্থীকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন জগন্নাথপুর এলাকা থেকে ১১ বছরের শিশু রিহান হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৩ আসামীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ইং তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২টার সময় স্কুলে যাওয়ার পথে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন জগন্নাথপুর এলাকা থেকে শিশু রিহান নিখোঁজ হয়। একই দিন রাতে নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানাধীন খাইল্লারচর এলাকায় মেঘনা নদীতে মুমূর্ষ অবস্থায় শিশু রিহানকে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে শিশু রিহানকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মৃত্যু বরণ করে। নিহত শিশুর পরিবার সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে রিহানের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারে এবং নিহত শিশুর বাবা মোঃ শাহজাহান বাদী হয়ে তিনজন আসামীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের বিরুদ্ধে নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এই ঘটনার পরপরই র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা ছায়াতদন্ত শুরু করে ও হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ইং তারিখ রাতে এই হত্যা মামলার এজাহারনামীয় তিন আসামীদেরকে গ্রেফতার করে।গেস্খফতারকৃত আসামীরা হলো: ১। ইমরান (২৮), পিতা- সুজন, সাং- সুজানগর, থানা- কোতয়ালী মডেল, জেলা- কুমিল্লা; ২। মোস্তফা (৩২) এবং ৩। রুবেল (২৫), উভয় পিতা- মৃত খালেক মিয়া, উভয় সাং- জগন্নাথপুর, থানা- কোতয়ালী মডেল, জেলা- কুমিল্লা।
র্যাব জানান, পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ইং তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২টায় রিহান বাসা হতে স্কুলে যাওয়ার জন্য বের হলে বেড়াতে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১ নং আসামী ইমরান অন্যান্য আসামীদের সহায়তায় রিহানকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অতঃপর হত্যা ও লাশ গুম এর উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভিকটিম রিহানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে নরসিংদী জেলার ভৈরব ব্রীজের উপর হতে ফেলে দেয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কোনো অভিযান পরিচালনার সময় আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীকে নিজেদের পরিচয় দিয়ে গ্রেফতার করতে হবে, পরিচয় না দিয়ে কোনো অবস্থাতেই
কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না।
রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত
করা হয়।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর)
থেকে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল।
এর আগে পুলিশ সদর দফতর থেকে কোনো ব্যক্তির
কাছে এ ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ রক্ষিত থাকলে মঙ্গলবারের মধ্যে নিকটস্থ থানায় জমা
দিতে বলা হয়েছিল। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আগেই
ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের
খবরে দেশের বিভিন্ন থানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। থানায় সংরক্ষিত বিপুল
পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এরপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর
অভিযানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ। তবে সে সংখ্যাটা
খুবই নগণ্য। বহু অস্ত্র বাইরে রয়ে গেছে। সেসব অস্ত্র এবং আগে থেকে অনেকের কাছে থাকা
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান পরিচালনা করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে
লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার কার্যক্রমসহ নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত রাখা
হবে বলে এরই মধ্যে একাধিকবার জানিয়ে আসছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রামের
পতেঙ্গা থানার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর শিশু অপহরণ ও মুক্তিপন আদায় মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত
পলাতক আসামি শামিম মাহমুদ বাপ্পীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম।
অপহৃত
শিশু (ভুক্তভোগী) অপহরণের এক মাস পূর্বে উক্ত মামলার আসামী আসমা ও শামিম মাহমুদ বাপ্পি স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর পিতা: হাবিবুর
রহমান এর বাসায় সাবলেট হিসাবে ভাড়া নেয়। ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ৭ টায় হাবিবুর রহমানের
৭ মাস বয়সী শিশুকে শামীম মাহমুদ তার সাজানো স্ত্রী আসমা এবং অপরাপর সহযোগীদের সহায়তায়
কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে শামীম মাহমুদ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অপহৃত শিশুর
পিতার কাছে মুক্তিপন হিসাবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। অপহৃত শিশুর পিতা-মাতা নিরুপায়
হয়ে প্রাথমিকভাবে বিকাশের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা পাঠায় এবং বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলার পতেঙ্গা
থানা পুলিশকে অবহিত করে।
পরবর্তীতে
পতেঙ্গা থানা পুলিশের প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম জেলার কর্ণেল হাট এলাকা থেকে মূল অপহরণকারী
শামিম মাহমুদ বাপ্পিকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃত আসামী শামিম মাহমুদের তথ্য মতে একই
এলাকা থেকে অপহরণের সাথে সম্পৃক্ত আরো দুজন আসামী আলাউদ্দিন ও তার পাতানো স্ত্রী আসমা
বেগমেকে আটক এবং অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। অপহৃত শিশু উদ্ধার পরবর্তী সময়ে
ভিকটিমের পিতা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জেলার পতেঙ্গা থানায় শামিম মাহমুদ
বাপ্পিকে মুল আসামী এবং তার স্ত্রী আসমা বেগম ও আলাউদ্দিনের নাম উল্লেখ করে একটি অপহরণ
মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৪(০৯)১৬; ধারা-৭/৮;২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন
ও দমন আইন (সংশোধিত ২০০৩)। মামলা রুজুর ৬ মাস পর আসামী জামিনে বের হয়ে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে
চলে যায়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় আদালতে হাজিরা না দেওয়ার আসামীর অনুপস্থিতে বিজ্ঞ আদালত
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামী শামিম মাহমুদ বাপ্পিকে
যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ২ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত
প্রদান করে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন।
র্যাব-৭,
চট্টগ্রাম গোপন সূত্রে জানতে পারে যে, উক্ত পলাতক আসামি শামিম মাহমুদ বাপ্পি চট্টগ্রাম
মহানগরীর ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী রোড সংলগ্ন খালপাড় এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের
ভিত্তিতে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম ও র্যাব-৩, ঢাকা এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গত ১৮ আগস্ট ২০২৩ ইং তারিখে উক্ত স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আসামী শামিম মাহমুদ
বাপ্পিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী হলো: শামিম মাহমুদ বাপ্পি (৩৪), পিতা- আব্দুল
মান্নান , সাং-দক্ষিণ করিমপুর, থানা- দাগনভূইয়া, জেলা- ফেনী।
গ্রেফতারকৃত
আসামী সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর
করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ সোমবার বলেছেন, অন্তর্বর্তী
সরকার দেশে আরও বিদেশী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ব্যাপক শ্রম সংস্কারে
প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রম সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড়
শ্রম ও ব্র্যান্ড প্রতিনিধিদল তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে
সাক্ষাত করতে গেলে তিনি একথা বলেন।
প্রফেসর
ইউনূস প্রতিনিধি দলকে বলেন,
“আমরা আমাদের শ্রম আইনকে বৈশ্বিক মানদণ্ডের সম মানসমম্পন্ন করতে চাই। এটা আমার
অঙ্গীকার।” তিনি
বলেন, অন্তর্বর্তী
সরকার কেবলমাত্র দেশের শ্রম আইন সংস্কার করতে এবং এ ব্যাপারে স্থানীয় ও
আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার গোষ্ঠী,
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ নিরসনের জন্য একজন বিশেষ
দূত নিয়োগ করেছে।
প্রতিনিধিদলের
নেতৃত্বে ছিলেন মার্কিন শ্রম বিভাগের ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি থিয়া মেই লি ও
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক শ্রম বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি কেলি ফে রড্রিগেজ।
দুই
জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন,
যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক শ্রম অধিকার গোষ্ঠী এবং বাংলাদেশ থেকে পোশাক ও জুতা
ক্রয়কারী শীর্ষ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো শ্রম আইন সংস্কার ও বাংলাদেশের কারখানায়
শ্রমিক-বান্ধব পরিস্থিতি তৈরিতে অধ্যাপক ইউনূসের পদক্ষেপকে সমর্থন করে।
সরকার
ও স্থানীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৮-দফা চুক্তিসহ পদক্ষেপগুলোর কথা উল্লেখ করে
কেলি ফে রড্রিগেজ বলেন,
প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত সাড়ে তিন মাসে শ্রম খাতের
জন্য যা করেছেন, ‘সেগুলো সবই তার বিস্ময়কর
সাক্ষ্য।
মার্কিন
কর্মকর্তারা মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে লাখো গার্মেন্টস ও পাদুকা শ্রমিককে সুরক্ষা
দেওয়ার জন্য কারখানায় ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠা ও প্রতি বছর মজুরি পর্যালোচনার
আহ্বান জানান।
পোশাক
কারখানায় ন্যূনতম মজুরির সুবিধাদান প্রসঙ্গে থিয়া মে লি বলেন, ‘এটি ব্যবসার
জন্য ভালো ও অর্থনীতির জন্যও ভালো।’
তিনি বলেন, কর্মী
ইউনিয়ন হল ‘গণতন্ত্রের
প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র।’
তিনটি
শীর্ষ মার্কিন ব্র্যান্ড পিভিএইচ,
ক্যালভিন ক্লেইন এবং গ্যাপ ইনকর্পোরেটেডের সিনিয়র কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত
ছিলেন।
পিভিএইচ
কর্পোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল ব্রাইড বলেছেন, তারা
বাংলাদেশে শ্রম সংস্কারকে সমর্থন করেছেন। তারা কম্বোডিয়ায় অনুরূপ প্রচেষ্টাকে
সমর্থন করেছেন।
প্রফেসর
ইউনূস ব্র্যান্ডগুলোকে প্রতি জানুয়ারিতে তাদের অর্ডারের মূল্যবৃদ্ধি ঘোষণা করার
আহ্বান জানান, যাতে
বাংলাদেশের নির্মাতারা সেই অনুযায়ী শ্রমিকের মজুরি বাড়াতে পারে।
বৈঠকে
মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মেগান বোল্ডেবও ছিলেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র
প্রফেসর ইউনূসের ব্যাপক শ্রম সংস্কারকে পূর্ণ সমর্থন করে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আপনার
সাথে অংশীদার হতে চাই।’
মন্তব্য করুন