

ডেস্ক রিপোর্ট:
সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার সময়সীমা আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে। চলতি বছরের সম্পদ বিবরণী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে, বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান।
রোববার (২৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সচিব এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, "সরকারি কর্মচারীদের সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার সময় এক মাস বাড়ানো হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে একটি সার্কুলার ইস্যু করবো।"
মো. মোখলেস উর রহমান আরও বলেন, "গত ১৬ বছরে কেউ সম্পদের হিসাব জমা দেয়নি। কিভাবে এটি জমা দিতে হবে, তা অনেকেই বুঝতে পারছেন না। তাই সময় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হবে।"
প্রতিবছর সরকারি কর্মচারীদের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে চলতি বছরের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এটি জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, জুলাই ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে অঙ্কিত গ্রাফিতি ‘জুলাই বীরত্ব’ ও ‘জুলাই আত্মত্যাগ’ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য তরুণ সমাজের আত্মত্যাগের কথা আমাদের জাতিকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিবে। শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের ম্যুরাল চত্বরে জুলাই ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে শহিদের স্মরণে অঙ্কিত গ্রাফিতি ‘জুলাই বীরত্ব’ ও ‘জুলাই আত্মত্যাগ’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট উপদেষ্টা বলেন, বিশেষ করে বর্তমান ও আগামী প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দিবে- জুলাইয়ের সেই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি আন্দোলন ছিল না, বরং ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। ছাত্রজনতার নেতৃত্বে সেই আন্দোলন গণমানুষের প্রত্যাশাকে একত্রিত করে জাতিকে নতুন দিশা দিয়েছিল।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে গ্রাফিতি অঙ্কনের এ উদ্যোগ তরুণ সমাজকে অনুপ্রাণিত করবে সত্য, ন্যায়, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের চেতনায় উজ্জীবিত হতে। আমাদের দায়িত্ব হবে তাদের এ ত্যাগকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা এবং একইসঙ্গে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তাদের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করা।
তিনি আরও বলেন, জুলাই পুনর্জাগরণ ও তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্তের ম্যুরাল চত্বরে জুলাই বিপ্লবের বীরত্ব ও আত্মত্যাগকে মূল উপজীব্য করে ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টার নির্দেশনা এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টার পরামর্শ অনুযায়ী গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়েছে। উপদেষ্টা বলেন, আজকের এ আয়োজন কেবল নিছক একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নয়, এটি ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার এক অনন্য প্রয়াস।
গ্রাফিতি অঙ্কন শিল্পীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শিল্পীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্মিত এই শিল্পকর্ম আমাদের ইতিহাসের অমূল্য সাক্ষী হয়ে থাকবে। তিনি এসময় আয়োজনকে সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সেতু বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মোছাম্মৎ মমতাজ বেগম, বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফাতেমা-তুল-জান্নাত ও পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম ও পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম পিপিএম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা পরে পদ্মা সেতুর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের ম্যুরাল চত্বরে জুলাই ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে অঙ্কিত গ্রাফিতির উদ্বোধন করেন। তাছাড়া তিনি মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের হলদিয়ায় পদ্মা নদীর পাশে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন প্রস্তাবিত পার্কের জায়গা পরিদর্শন করেন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
বিচারের মুখোমুখি হতে এবং ফাঁসিতে ঝোলার জন্যই কেবল শেখ হাসিনা দেশে আসবেন বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য, সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ মো. আরাফাতের নামাজে জানাযায় অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা ইন্ডিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন এবং ভাবছেন তারা বাইরে থেকে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করবেন, তাদের বলবো- আপনারা বিচারের সম্মুখীন হওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিন।
জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, গণহত্যার বিচার অন্তর্বর্তী সরকারের টপ প্রায়োরিটি। এই বাংলার মাটিতে গণহত্যাকারীদের বিচার করব—এ প্রতিজ্ঞা করেই আমরা এক দফার ঘোষণা দিয়েছিলাম। আমরা সেখান থেকে একবিন্দু পরিমাণও পিছপা হইনি। আমরা বিচার নিশ্চিত করবো।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্ট গণহত্যা ও তার আগের সব গুম-খুনের বিচারের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জাতি হিসেবে আমরা দাঁড়াতে সক্ষম হবো।
মন্তব্য করুন


ভোটার তালিকা হালনাগাদে ২১ লাখ মৃত ভোটার শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন, এদের অনেকেই অতীতে ভোট দিয়েছেন।
সোমবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে গণমাধ্যমের সঙ্গে সংলাপে সিইসি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। এটা শুধু কথার কথা নয়। একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে গণমাধ্যম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’
প্রবাসী ভোটারদের ভোটের সুযোগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান সিইসি। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই নির্বাচনটি আয়নার মতো স্বচ্ছ হোক। এজন্য প্রবাসে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, সেই সরকারি চাকরিজীবীদেরও ভোটের আওতায় আনা হবে। প্রায় ১০ লাখ সরকারি কর্মচারী এবার ভোট দিতে পারবেন।’
শুভেচ্ছা বক্তব্যে সিইসি আরও বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদে ২১ লাখ মৃত ভোটার চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের অনেকেই আগে ভোট দিয়ে যেতেন।
সিইসি আরও বলেন, ‘গণমাধ্যমের সহযোগিতা ছাড়া লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি সম্ভব নয়। সবার সহযোগিতা চাচ্ছি। একইসঙ্গে এআই-এর অপব্যবহার রোধে ইলেকট্রনিক মিডিয়ারও ভূমিকা রাখতে হবে।’
আগারগাঁওয়ের এই সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও অন্য চার কমিশনার ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইসির এই সংলাপে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় টেলিভিশন মিডিয়া ও দুপুর আড়াইটায় পত্রিকা ও অনলাইন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়। দুই পর্বে প্রায় ৫০ জন গণমাধ্যম প্রতিনিধির অংশগ্রহণের কথা জানায় নির্বাচন কমিশন।
আগামীকাল (৭ অক্টোবর) নারী নেত্রী ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসবে ইসি। এরপর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করে নির্বাচন কমিশন। তবে ওইদিন আমন্ত্রিতদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি প্রতিনিধি সংলাপে অংশ নেননি।
মন্তব্য করুন


অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘জুলাই গণহত্যার বিচারে আমরা কি প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছি এমন অনেক প্রশ্ন আসছে। আমরা বলতে চাই, আমরা প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছি না। আমরা বিচার করতে চাচ্ছি। কেন বিচার করতে চাচ্ছি? আমরা আগামী প্রজন্মকে ইতিহাসের একটি দায় থেকে মুক্ত করতে চাচ্ছি।’
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ‘ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী জাতীয় সংলাপের আয়োজন ‘ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ’ এ অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। শনিবার শেষ দিনের প্রথম পর্বে ‘গুম-খুন থেকে জুলাই গণহত্যা: বিচারের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এই পর্বে সঞ্চালক ছিলেন সাংবাদিক মনির হায়দার।
সংলাপে অংশ নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘বর্তমান সময়ে এসে কেউ জমি দখলে ব্যস্ত, কেউ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ব্যস্ত, কেউ পদ-পদবী দখলে ব্যস্ত, কেউ নিজস্ব লোক পুনর্বাসনে ব্যস্ত, কিন্তু খুনিদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য, খুনিদের বিচারের জন্য আমাদের উপর যে পরিমাণ চাপ প্রয়োজন ছিল সেদিকে আপনারা ফোকাস করেন নি।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা যত বেশি চাপে রাখবেন, আমরা তত বেশি এই বিষয়টাকে (বিচার) সামনের দিকে এগিয়ে নিতে দৃঢ় চেষ্ট থাকবো। আপনারা যত বেশি অতন্দ্র প্রহরীর মত দায়িত্ব পালন করবেন, আমরা রাষ্ট্রকে এবং জনগণের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ততবেশি এজেন্ডা ভিত্তিক সাহসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাবো।’
দেশে ঐক্যের প্রয়োজন উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘ঐক্য ছাড়া সংস্কার সম্ভব নয়। সংস্কার ছাড়া যৌক্তিক কোন বাংলাদেশ আপনাদের উপহার দেওয়া সম্ভব নয়। ঐক্য ছাড়া, সংস্কার ছাড়া এই বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে করাটা কঠিন এবং দুরুহ।’
বিচারের চ্যালেঞ্জ বিষয়ে আলোচনা কম হওয়ায় কিছুটা হতাশা প্রকাশ করে রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিলো চ্যালেঞ্জের জায়গাটা কি সেটা আমাদের বলবেন। আমরা সেটায় যেন যৌক্তিক সমাধানের জায়গায় যেতে পারি, সেটা সুনির্দিষ্টভাবে আমরা পাইনি।’ তিনি বলেন, ‘আমার কাছে চ্যালেঞ্জের প্রধান জায়গাটা হলো, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে যে চেতনায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে আমরা রাস্তায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছিলাম, সেই লক্ষ্য, সেই ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা, সেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, হাতে হাত মিলিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করার যে ঐক্য, সেই ঐক্যটাতে যে ফাটল ধরেছে, সেই ফাটলটাই প্রধান চ্যালেঞ্জ।’
বিভিন্ন মিথ্যা মামলা প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘পার্সোনাল গ্রাস এক্সপোজ করার জন্য মামলা দিয়েছেন, আসামির খাতায় নাম দিয়েছেন, এই মামলাগুলোর পরিণতি কি হবে এবং এটার সাথে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের যে মামলা তার কোনো কনফ্লিক্ট হবে কি-না প্রশ্ন এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘আপনাদের আইনিভাবে, স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে যে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, সেই ট্রাইব্যুনাল ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৯৭৩ এর ১৯ নম্বর আইন। সে আইনে মানবতাবিরোধী আইনের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে হত্যা, নির্যাতন, গুমসহ অনেকগুলো অপরাধের কথা বলা হয়েছে, যে অপরাধগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সিভিলিয়ান পপুলেশনের উপর ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তার বিচার হবে। সেটি একটা দুইটা স্পেসিফিক ঘটনার দরকার নেই। ইন জেনারেল সেটার বিচার হবে। ঐ আইনেই বলা আছে, ডমেস্টিক অন্যান্য আইনে যাই বলা থাকুক না কেন, ঐটার বিচার ওখানে হবে। অর্ডিনারি গুমের বিচার, খুনের বিচার, নির্যাতনের বিচার, নিপীড়নের বিচার, এইগুলো অর্ডিনারি কোর্টে হতে কোন বাধা নেই এবং সেটাও চলবে।’
মন্তব্য করুন


দিপু চন্দ্র দাস এবং ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুত শেষ করে মামলা দুটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, ‘দিপু চন্দ্র দাসের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। একইভাবে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও ভাইটাল ক্লু পাওয়া গেছে এবং এরই মধ্যে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
তিনি জানায়, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে এই মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
ব্রিফিংয়ে প্রেসসচিব আরো জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেকোনো অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।
উল্লেখ্য, একই বৈঠকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মন্তব্য করুন


নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে ইউএনডিপির মাধ্যমে কয়েক ’শ কোটি টাকায় পুলিশের জন্য ৪০ হাজার বডি ক্যামেরা কেনা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় পুলিশের জন্য ৪০ হাজার বডি ক্যামেরা দেওয়া হবে। এ প্রস্তাব আমরা অনুমোদন করেছি।
দ্রুত এটা আনতে হবে। এতে কয়েক ’শ কোটি টাকা খরচ হবে। বাংলাদেশ সরকারের টাকায় কেনা হবে এসব ক্যামেরা। অর্থ মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা করবে।
নির্বাচন খাতের ব্যয় থেকে এটা মেটানো হবে। এগুলো পুলিশকে দিচ্ছি, নির্বাচন কমিশনকে না।
তিনি জানান, এসব ক্যামেরা আনা হবে ইউএনডিপির মাধ্যমে।
ইউএনডিপি কেন—জানতে চাইলে এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা টিকা আনি ইউনিসেফ-এর মাধ্যমে।
কারণ হলো টেন্ডার করে আনতে গেলে মানের বিষয় থাকে, দামের বিষয় থাকে। এজন্য ইউএনডিপি মান ও দামের নিশ্চয়তা দেবে। এতে আমরা কারো সঙ্গে নেগোসিয়েশন করব না।’
মন্তব্য করুন


আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, তরুণদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে রাষ্ট্র গঠনের যে দ্বিতীয় সুযোগ এসেছে তা যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়। এটাই সবার মূল প্রত্যয় হওয়া উচিত।
শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, "শহিদ বুদ্ধিজীবীরা যে স্বপ্ন, প্রত্যয় এবং দেশপ্রেম নিয়ে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, সেটার ধারাবাহিকতাই ছিল আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। তরুণরা জীবনকে তুচ্ছজ্ঞান করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য লড়াই করেছে।"
ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, "১৯৭১ সালে শহিদ বুদ্ধিজীবীসহ অনেকের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম। তবে সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে আমরা ব্যর্থ হয়েছিলাম। একদলীয় মানসিকতা ও কিছু দলের ব্যর্থতার কারণে তা নষ্ট হওয়ার পথে ছিল। আজ আমাদের সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি রোধ করা।"
এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, "শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন এবং আদর্শকে পুরোপুরি ধারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করছে।"
এর আগে সকাল ৭টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং ৭টা ১৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মন্তব্য করুন


দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩০০টি সংসদীয় আসনের সীমানার গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে ১০টি সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জুন) বিজি প্রেস থেকে সংসদীয় আসনের গেজেট ছাপানো হয়েছে।
ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলমের গত বৃহস্পতিবার (১ জুন) স্বাক্ষরিত গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন সীমানা নির্ধারণ আইনের ধারা ৬ এর উপ-ধারা (৪) অনুযায়ী দাবি/আপত্তি/সুপারিশ/ মতামত দরখাস্তসমূহের তথ্যাবলী পর্যালোচনা করে এবং শুনানিকালে উপস্থাপিত তথ্য ও যুক্তিতর্ক বিবেচনান্তে প্রাথমিক তালিকায় প্রকাশিত নির্বাচনি এলাকার প্রয়োজনীয় সংশোধন করে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের পুনর্নির্ধারিত সীমানার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করল।
সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হলো যেসব আসনের
পিরোজপুর-১ : এ আসন আগে পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল। এখন নেছারাবাদ উপজেলা বাদ দিয়ে এই আসনে ইন্দুরকানী উপজেলাকে যুক্ত করা হয়েছে।
পিরোজপুর-২ : ইন্দুরকানী উপজেলা আগে পিরোজপুর-২ আসনের অংশ ছিল। সেটি বাদ দিয়ে নেছারাবাদ উপজেলা পিরোজপুর-২ আসনের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গাজীপুর-২ : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড গাজীপুর-২ আসনের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। এই ওয়ার্ড এতদিন গাজীপুর-৫ আসনে ছিল।
গাজীপুর-৫ : সিটি কর্পোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড এই আসনের আয়তন থেকে বাদ পড়েছে। অর্থাৎ আগের চেয়ে এই আসন ছোট করা হয়েছে।
ফরিদপুর-২ : এই আসনের এলাকা থেকে সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বাদ দেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুর-৪ : আগে এই আসনে কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন ছাড়া সদরপুর উপজেলার বাকি এলাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখন কৃষ্ণপুরসহ পুরো সদরপুর উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কুমিল্লা-১ : এই আসন থেকে মেঘনা উপজেলাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তিতাস উপজেলাকে।
কুমিল্লা-২ : এখানে মেঘনা উপজেলাকে যুক্ত করা হয়েছে। তিতাস উপজেলাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
নোয়াখালী-২ : এই সংসদীয় আসন আগে সেনবাগ উপজেলা এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও, নাটেশ্বর ও আম্বর নগর নিয়ে গঠিত ছিল। এবার সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নকেও এখানে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এটির আয়তন বেড়েছে।
নোয়াখালী-১ : এই আসন থেকে সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এটি ছোট করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
বাংলাদেশের সংস্কার কমিশনের কার্যক্রমে পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অ্যাম্বাসেডর মাইকেল মিলার। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজের সাথে সাক্ষাতে তিনি সমর্থনের কথা জানান।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অ্যাম্বাসেডর মাইকেল মিলার।
সাক্ষাতে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান সংবিধান সংস্কার বিষয়ক চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অ্যাম্বাসেডরকে অবহিত করেন।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে সংবিধান সংস্কার কমিশন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
এসময় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অ্যাম্বাসেডর সংবিধান সংস্কার কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সংস্কার কার্যক্রমে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। এছাড়া তিনি সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রসঙ্গত, দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মাথায় গত অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে রাষ্ট্রের ছয় খাত সংস্কারের লক্ষ্যে ছয়টি পৃথক কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর নভেম্বরে আরও আরও পাঁচ খাত সংস্কারের জন্য পাঁচটি কমিশন করা হয়। প্রত্যেক কমিশনকে সুপারিশ জমা দিতে ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারত নসিহত করছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ভারতের এই অযাচিত নসিহত অগ্রহণযোগ্য। আমরা বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এর জন্য প্রতিবেশীদের থেকে কোনো নসিহত গ্রহণের প্রয়োজন নেই।
বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে বসে আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় বক্তব্য দিতেন। এখন তিনি সংবাদমাধ্যমেও বক্তব্য দিচ্ছেন। তার বক্তব্যে যথেষ্ট উসকানি আছে।
আদালতের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে তিনি পাশের দেশে বসে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করবেন—এটাতে তো আমরা আপত্তি জানাবই। আমরা তো তাকে ফেরত চাইবই। কিন্তু ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাচ্ছে না। তার বক্তব্য বন্ধ করছে না। উল্টো সর্বশেষ তারা কিছু নসিহত করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন কেমন হবে এটা নিয়ে আমরা প্রতিবেশীদের উপদেশ চাই না। এই সরকার অত্যন্ত ভালো পরিবেশে একটি নির্বাচন আয়োজন করতে চায়, যা গত ১৫ বছর ছিল না। এখন ভারত এটা নিয়ে আমাদের উপদেশ দিচ্ছে, এটাকে আমি অগ্রহণযোগ্য মনে করি। কারণ গত প্রহসনের নির্বাচনগুলোতে তারা কোনো শব্দ করেনি।
এখন আমরা যখন একটি ভালো নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি, তখন তারা নসিহত করছে। এটা অগ্রহণযোগ্য।
সম্প্রতি ভারতের সেভেন সিস্টারস নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর মন্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ কোনো সন্ত্রাসবাদে বিশ্বাস করে না। আমরা কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদীকে আমাদের ভূমিতে আমরা আশ্রয় দেব না। একজন রাজনৈতিক নেতা বলতে পারেন। কিন্তু এদেশের কোনো সরকারই এটাকে সমর্থন করবে না।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নরেন্দ্র মোদির মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ভারত সব সময় মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের ভূমিকাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।
মন্তব্য করুন