

জীবিকার
তাগিদে ইরাকে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই বাংলাদেশি যুবক। সোমবার
(২৫ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার দিকে ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
ঘটে।
নিহত
ব্যক্তিরা হলেন- বজলুর রশীদ (৩৮) ও মনোয়ার আলী (৩৬)। তাদের বাড়ি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ
উপজেলায়। বজলুর রশীদ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের মৃত
আলাউদ্দিন মাস্টারের ছোট ছেলে এবং মনোয়ার আলী কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারি
এলাকার মৃত খলিলুর রহমানের বড় ছেলে। নিহত মনোয়ার আলীর ভায়রা ভাই মিলন সর্দার তাদের
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক
সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে মনোয়ার আলী প্রায় চার বছর আগে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে
ইরাকে পাড়ি জমান। আর বজলুর রশীদ সেখানে যান প্রায় দেড় বছর আগে। তবে তাদের কারও বৈধ
কাগজপত্র বা আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) ছিল না। ইরাকে তারা একটি কনফেকশনারি দোকানে কাজ
করতেন এবং সেখান থেকে উপার্জিত অর্থ দেশে পরিবারের কাছে পাঠাতেন। প্রতিদিনের মতো কাজ
শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী প্রাইভেটকার তাদের চাপা
দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে
একটি হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এদিকে
দুই যুবকের মৃত্যুর খবর জামালপুরে তাদের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের
ছায়া নেমে আসে। নিহত মনোয়ার ও বজলুর উভয়েরই স্ত্রী এবং দুটি করে সন্তান রয়েছে।
নিহত
মনোয়ার আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী ঋণ করে ইরাকে গিয়েছিল। সেখানে
সে খুব একটা ভালো অবস্থায় ছিল না, এর মধ্যেই তার মৃত্যুর খবর এলো। এখন আমরা কীভাবে
চলব? আমাদের সন্তানদের কে দেখবে? সরকারের কাছে দাবি, যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে আমার স্বামীর
লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
একই
দাবি জানিয়েছেন বজলুর রশীদের পরিবার ও স্বজনরাও। তার বড় ভাই সাফিউল ইসলাম জুয়েল
বলেন, আমার ছোট ভাই দেড় বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল। ভোররাতে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু
হয়েছে। আমরা তার লাশটি যেন দ্রুত দেশে আনা হয়, সেজন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ
বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের
মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় মাদারগঞ্জের দুজন রেমিট্যান্স
যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমার বার্তা-তারা যেন দ্রুত প্রবাসী কল্যাণ
ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বা দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। আমরাও আমাদের ঊর্ধ্বতন
কর্তৃপক্ষকে জানাব, যেন মরদেহগুলো দেশে আনার ব্যাপারে দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় চিঠি দেওয়া
হয়।
মন্তব্য করুন


মুরাদুল
ইসলাম মুরাদ,কুড়িগ্রাম:
গত কয়েক দিনের অভিরাম ভারী বৃষ্টিতে ও উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ী ঢলে কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চর রাজিবপুরে ২টি উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৫৬টি মৌজার তিনশত গ্রামের মধ্যে ২০টি গ্রামের ৪০ হাজার মানুষসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের ও নিম্নাঞ্চল পানিবন্দি হয়েছে।
অপর
দিকে কৃষকের বীজতলা,শাকসবজি ও রোপা আমন ধানসহ নানান প্রকার ফসল তলিয়ে গেছে। চরাঞ্চল
ও নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছ। পানিবন্ধি হয়েছে রৌমারী উপজেলার
ফলুয়ারচর,বাইশপাড়া,কান্দাপাড়া,সুখেরচর,খেরুয়ারচর,পাখিউড়া,ধনারচরচরেরগ্রাম,গুচ্ছগ্রাম
অপরদিকে রাজিবপুর উপজেলার চরশাজাই, বড়বের কোদালকাটি, শংকর মাধবপুর, কোদালকাটি, বড়চর,
নাওশালা, সাজাই মন্ডলপাড়াসহ ২০টি গ্রাম।
কুড়িগ্রামের
রৌমারী রাজীবপুর বন্যার পানি বৃদ্ধি হওয়ায়
ব্রহ্মপুত্র ও জিঞ্জিরাম নদী উপচে গিয়ে ওইসব নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে পানিবন্দি
হয়ে পড়ে ২০টি গ্রাম। ফলে ওই এলাকার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা দিয়ে চলাচল করছে।
অপরদিকে
পানিবন্দি মানুষের মাঝে সরকারি খাদ্য বিশুদ্ধ পানি সংকটে পড়েছে।
মন্তব্য করুন


নতুন শিক্ষাক্রমে বিভাগ
বিভাজন (বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য) নেই। ফলে নবম শ্রেণিতেও একই পাঠ্যবই পড়ছে সব
শিক্ষার্থী।
রোববার (১ সেপ্টেম্বর)
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচির মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার সাক্ষরকৃত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনা থেকে জানা গেছে, নবম শ্রেণির
শিক্ষার্থীর যখন দশম শ্রেণিতে উঠবে, তখন বিভাগ বিভাজনের সুযোগ পাবে। তারা আগের
নিয়মে যেন ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সেজন্য সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচিও
প্রণয়ন করা হবে।
নির্দেশনায় আরো বলা
হয়েছে, ২০২৫ সালে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা
(২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য) নেওয়ার লক্ষ্যে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা
অব্যাহত রেখে পূর্বের জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর আলোকে প্রণীত সংশোধিত ও পরিমার্জিত
পাঠ্যপুস্তকগুলো (অর্থাৎ ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ব্যবহৃত পুস্তক) শিক্ষার্থীদের সরবরাহ
করা হবে।
এতে আরও বলা হয়, যেসব
শিক্ষার্থী ২০২৫ সালে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবে, তাদের জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর
আলোকে প্রণীত শাখা ও গুচ্ছভিত্তিক সংশোধিত ও পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তকগুলো (২০২৩
শিক্ষাবর্ষে ব্যবহৃত) প্রদান করা হবে। এসব শিক্ষার্থী নবম ও দশম শ্রেণি মিলিয়ে দুই
শিক্ষাবর্ষে সম্পূর্ণ পাঠ্যসূচি শেষে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ
করবে।
‘জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুসারে প্রণীত বিজ্ঞান,
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষাভিত্তিক এ পাঠ্যপুস্তকগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি
প্রণয়ন করা হবে, যেন শিক্ষার্থীরা এক শিক্ষাবর্ষের মধ্যেই পাঠ্যসূচিটি সম্পন্ন
করতে পারে। পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতি জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুসারে পরিচালিত
হবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষাবিদ, শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ, মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ,
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও
অভিভাবক প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় ২০২৫ সালে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম চূড়ান্ত করা হবে,
যা ২০২৬ সাল থেকে পরিপূর্ণরূপে কার্যকর করা হবে।
মন্তব্য করুন


ক্রীড়াঙ্গনকে সক্রিয় করতে মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে
বলে জানান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
আজ রোববার (১১ মে) মিরপুরস্থ শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে
২৯তম জাতীয় কারাতে প্রতিযোগিতা-২০২৫ এর বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা
বলেন তিনি।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান
পরবর্তী সময়ে, এই পট পরিবর্তনের ছোঁয়া ক্রীড়াঙ্গনে লেগেছে। যার ফলে মাঝে কিছুটা সময় ক্রীড়াঙ্গনে স্থবিরতা ছিল।
বর্তমানে ক্রীড়াঙ্গনকে সক্রিয় করতে মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন
ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটি গঠনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সারাদেশে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা
পর্যায়ে ক্রীড়া সংস্থাগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছিল; সেগুলো পুনর্গঠনে কার্যক্রম চলমান আছে।
আমরা এখন একটা পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি, যেখানে ক্রীড়া ফেডারেশন এবং সংস্থাগুলো পূর্ণরূপে
কার্যক্রম শুরু করেছে। ক্রীড়াঙ্গন আবারো পুনর্জীবিত হচ্ছে। খেলাধুলা সমাজ থেকে বিশেষ
করে তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখে এবং একটি সুন্দর জীবন গড়তে সহায়তা করে। স্পোর্টস
সেক্টরে বাজেটের কিছু স্বল্পতা রয়েছে। তবে
বাজেট বৃদ্ধির চেষ্টা করা হচ্ছে যার সুষ্ঠু
বণ্টনের মাধ্যমে ক্রীড়া ক্ষেত্রগুলোকে প্রমোট করা সম্ভব হবে।
এ সময় বিভিন্ন কর্পোরেশন ও ব্যবসায়ীদের ক্রীড়াঙ্গনে বিনিয়োগের
আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্ম যদি সুন্দরভাবে গড়ে উঠতে পারে তবে ভবিষ্যতে আমরা একটি
সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারবো।
মন্তব্য করুন


মাগুরায় ইজিবাইক চুরির ঘটনায় জেলা ইজিবাইক সমিতির সভাপতি ও তার ভাইসহ ৩জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছে থাকা ২টি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শহরের আদর্শ পাড়ার মৃত আব্দুর রউফের ছেলে মাগুরা ইজিবাইক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জাকারিয়া ও তার ভাই আবু হাসনাত আকাশ হিটলার এবং তাদের সহযোগী সংকোচখালী গ্রামের আজহার ফকিরের ছেলে ইবাদত হোসেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেকেন্দার আলী।
মাগুরা সদর থানার ওসি সেকেন্দার আলী জানান, সম্প্রতি শহরে বেশ কয়েকটি ইজিবাইক চুরির ঘটনার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শহরের বিভিন্ন ইজিবাইক গ্যারেজে অভিযান চালায়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার আদর্শ পাড়া থেকে ইজিবাইক সমিতির সভাপতি জাকারিয়া ও তার ভাই হিটলারের পরিচালনায় থাকা একটি গ্যারেজ থেকে দুটি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ৩জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সরকার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশে দুই জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) পরিবর্তন করেছে । এর মধ্যে ময়মনসিংহের ডিসি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রত্যাহার করে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বদলি করা হয়েছে। আর সুনামগঞ্জের ডিসি দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরীকে বদলি করে ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জের ডিসি করা হয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরীকে।
গতকাল শনিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এ-সংক্রান্ত জারি করা প্রজ্ঞাপনে আভাস মিলেছে, ডিসি-এসপিদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলেই তাদের বদলি করা হতে পারে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ওসিদের বদলির সিদ্ধান্ত নেয় ইসি।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন) মো. আমিন উল আহসান বলেন, যদি কোনো ডিসির বিরুদ্ধে কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন, তাহলে তা নিয়ে আমরা ইসির সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। ময়মনসিংহের ডিসিকে কেন প্রত্যাহার করা হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। এটি ইসি ও জনপ্রশাসনের সিদ্ধান্ত।
ইসি, জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা গেছে, মাঠ প্রশাসনের সব স্তরেই বিশেষ করে ডিসি-এসপি পদে ব্যাপক রদবদল হতে পারে। কারণ যেসব ডিসি-এসপি এক বছরের কম-বেশি সময় ধরে বর্তমান কর্মস্থলে আছেন, তাদের সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিকদের একটি সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে এ সুসম্পর্ক অনেকেই কাজে লাগিয়ে ভোটের ফলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাতে পারেন। তাই ইসি মনে করছে, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে মাঠ প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তাদের বদলি করা জরুরি।
এমন সিদ্ধান্ত থেকেই প্রথম পর্যায়ে যেসব ইউএনও তার কর্মস্থলে এক বছর ধরে আছেন, তাদের বদলি করা হবে। আর যেসব ওসি ছয় মাস ধরে একই থানায়, তাদেরও বদলির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক বছর বা তার কাছাকাছি সময় একই জেলায় আছেন—এমন ডিসিদেরও বদলির চিন্তা আছে ইসির। তবে কোনো ডিসি-এসপির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে বদলি করা হবে।
এছাড়া ছয় মাস বা তার চেয়ে বেশি সময় ধরে এক জেলায় আছেন—এমন এসপিদের বদলি করা হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, বদলির বিষয়টি অস্বাভাবিক কিছু নয়। ডিসি-এসপিদের বদলির সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এমন কিছু আমার জানা নেই। যদি ইসি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে হতেও পারে। এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু করতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে জনপ্রশাসন সচিব ও জননিরাপত্তা সচিবকে লেখা চিঠিতে ইসি লিখেছে, পর্যায়ক্রমে সব ইউএনও এবং ওসিদের বদলি করা হবে। প্রথম পর্যায়ে যেসব ইউএনওর বর্তমান কর্মস্থলে এক বছরের অধিক চাকরিকাল হয়েছে, তাদের অন্য জেলায় বদলির প্রস্তাব ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ইসিতে পাঠাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ছয় মাসের বেশি সময় ধরে এক থানার দায়িত্বে রয়েছেন—এমন ওসিদের বদলির প্রস্তাবও পাঠাতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ২২ নভেম্বর ইসি মো. আলমগীর জানিয়েছিলেন, যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রশাসনে রদবদল হবে না। এর এক সপ্তাহ পরই গত বৃহস্পতিবার ইউএনও-ওসিদের বদলির সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইসি। এ বিষয়ে কর্মকর্তারা জানান, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে মাঠ প্রশাসনে বদলির রেওয়াজ রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকেন ডিসি-ইউএনও। নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকেন ডিসি। আর সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন ইউএনও। পুরো নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান জেলার এসপি এবং ওসিরা।
আরপিও অনুযায়ী নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তপশিলের পর সরকার চাইলেও বদলি করতে পারে না। বদলির জন্য কমিশনের অনুমতি লাগে। কমিশনের যদি মনে হয় কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর আচরণ নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিপক্ষে, তখন তাকে বদলি করতে পারে।
তফশিল অনুযায়ী, আগামী ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল গত ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই শেষ হবে ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ আগামী ১৭ ডিসেম্বর আর প্রতীক বরাদ্দ হবে ১৮ ডিসেম্বর।
মন্তব্য করুন


আজ বৃহস্পতিবার(৩০
নভেম্বর) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন । নির্বাচন কমিশন
(ইসি) গত ১৫ নভেম্বর ঘোষিত তফসিলে ৩০ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ
করে ।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুসারে, প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা বাছাই করবেন ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়ের এবং নিষ্পত্তি ৫ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ করবেন । নির্বাচনী প্রচার চলবে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি ।
দ্বাদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ১০৩টি এবং ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন।
মন্তব্য করুন


সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলির সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। এ সময় বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসনে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দপ্তরে এই বৈঠক হয়। সাক্ষাৎকালে দু'দেশের মধ্যে মানবপাচার প্রতিরোধ, কৃষি পুনর্বাসন ও বীমা, পুলিশ বাহিনীর পুনর্গঠন ও সংস্কার, মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতি প্রতিরোধ ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত এ মুহূর্তে উপদেষ্টার অগ্রাধিকারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসনই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার ও চ্যালেঞ্জ। উপদেষ্টা এসময় কৃষি পুনর্বাসনে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা মানবপাচার প্রতিরোধে বিদ্যমান সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে চাই। তিনি বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় কৃষকদের সক্ষমতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে কৃষি ক্ষেত্রে বীমা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশের কৃষকগণ এখনো এ বিষয়ে খুব বেশি আগ্রহী নয়। ভবিষ্যতে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন বেশ বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছ। যে কারণ বন্যাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি এসব সমস্যা সমাধানে কৃষকদের নিকট গ্রহণযোগ্য ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, পুলিশ সংস্কার ও পুনর্গঠনে সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশ এ সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে।
এসময় উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি বাংলাদেশে মানবাধিকার সুউচ্চ ও সমুন্নত রাখতে সুইজারল্যান্ডের সহায়তা চান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাংলাদেশে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও পাচার হওয়া টাকা দেশে ফেরত আনতে সহযোগিতা করবে সুইজারল্যান্ড।
স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের অধিকার, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
করতে বদ্ধপরিকর। শুধু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক ও সেনাবাহিনীর প্রাক্তন
সদস্য হিসেবে আমি বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার চাই। সঠিকভাবে এ হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত
ও ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু করা হবে।
মন্তব্য করুন


রমজান মাসে লোডশেডিং না
দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ৪ কার্গো অতিরিক্ত এলএনজি আমদানির করা হচ্ছে
বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
রবিবার (২ মার্চ) আসরের নামাজের পর রাজধানীর সার্কিট হাউজ জামে
মসজিদের সামনে সাংবাদিকদের উপদেষ্টা বলেন, রমজানে ৪ কার্গো অতিরিক্ত এলএনজি
আমদানির উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা আশা করছি রমজান মাসে ইনশাআল্লাহ কোনো লোডশেডিং হবে
না।
তিনি বলেন, আমাদের যে গ্যাস ছিল সেই গ্যাস ফুরিয়ে যাচ্ছে। আমরা
বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার করে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করছি। এবারের রোজা কিছুটা
গরমের মধ্যে পড়ছে। এ সময় আমাদের সেচের জন্য অনেক বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। বিদ্যুতের
চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। শীতকালে আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ৯ থেকে ১০ হাজার
মেগাওয়াট। সেচ ও গরমের কারণে এই বিদুতের চাহিদা গরমে ১৭ থেকে ১৮ হাজার মেগাওয়াট
হয়ে যায়। এর মধ্যে দুই হাজার মেগাওয়াট লাগে আমাদের সেচ কাজে। কিন্তু সেচ বন্ধ
করা যাবে না। সেচ বন্ধ হলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হব।
বিদ্যুৎ চুরির বিষয়ে উপদেষ্টার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুধু
যে বিদ্যুৎ চুরি হয় তা নয়, গ্যাসও চুরি হয়। সেজন্য আমরা অবৈধ গ্যাস সংযোগ
বিচ্ছিন্ন করছি। বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা নিচ্ছি।
উপদেষ্টা বলেন, শীততাপ
নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত আলোকসজ্জ্বার জন্য ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগে।
এজন্য আমরা ইমাম সাহেব এবং মুসল্লিদের মাধ্যমে সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছি এসির
তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি রাখার জন্য। এই ২৫ ডিগ্রি বেশ ভালো তাপমাত্রা। এ তাপমাত্রায়
মানুষ খুব আরামে ইবাদাত করতে পারবে। জুয়েলারি শপেও যেন অতিরিক্ত আলোকসজ্জ্বা না করা হয়। এজন্য আমি
এবং আমার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের সহকর্মীরা সবার কাছে যাচ্ছি।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান
বলেছেন, লেখাপড়া করে মেধার ভিত্তিতে যেমন ডাক্তার, প্রকৌশলী, অর্কিটেক্ট হতে হবে তেমনি
পেশাদার খেলোয়াড় কিংবা শিল্পী তৈরী করতে হবে। কারণ,একজন পেশাদার খেলোয়াড় কিংবা শিল্পীও
তার পেশার মাধ্যমে পরিবারকে সাহায্য করতে পারেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) লালমনিরহাটের
বড়বাড়ীতে শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৪’র ফাইনাল ম্যাচে লন্ডন থেকে ভার্চুয়াল
প্লাটফর্মে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। এটি ছিল ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল
টুর্নামেন্ট’র
৬ষ্ঠ তম আসর।
তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ স্বৈরাচার
বিদায় করেছে। এখন দেশ গড়ার পালা। এ প্রত্যয় নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এজন্য আমাদের
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশ গড়তে আমরা ৩১ দফা দিয়েছি। দেশকে নিয়ে এখনো ষড়যন্ত্র
হচ্ছে। আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
আগামীদিনে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরী করতে
হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর পাশপাশি ভাল সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শিল্পী তৈরির কাজ
করতে হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে জনপ্রিয় খেলাগুলো বাছাই করে আমরা দেশের তরুণ সমাজের
মধ্যে থেকে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করবো। বাইরের দেশের খেলোয়াড়ের উপর নির্ভরশীলতা
কমাতে হবে। সবকিছু হবে সরকারিভাবে।
এ প্রসঙ্গে, উদাহরণ হিসেবে শহিদ জিয়ার
আমলের ‘নতুন কুড়ি’
অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ওই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভাল সাংস্কৃতিক
ব্যক্তিত্ব এবং ভাল শিল্পী বের করে আনা। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী
বেবী নাজনীন ‘নতুন কুড়ি’-ই
ফসল।
তিনি বলেন, ‘ঠিক একইভাবে ভাল খেলোয়াড়
বের করে আনতে আমাদেরকে ৮ থেকে ১০ টি খেলা পছন্দ করে এসব খেলার ওপর জোর গুরুত্ব দিতে
হবে। যিনি যে ধরণের খেলায় ভাল করবেন, তাদেরকে সেই খেলায় পারদর্শী করে তুলতে হবে। যাতে
করে আন্তর্জাতিক ইভেন্টগুলোতে আমাদের খোলোয়াড়রাও ভাল ফলাফল বয়ে আনতে পারে।’
বিএনপি’ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যার বলেন,‘জনগণের ভোটে যদি ক্ষমতায় আসতে
পারি তাহলে আমরা সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাজের সাথে-সাথে খেলাধুলা
ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের ওপরও জোর দেব। মেধাবী ডাক্তার, প্রকৌশলী, আর্কিটেক্ট বানানোর
পাশাপাশি ভালো রাজনীতিবিদ, ভালো খেলোয়াড় ও শিল্পী তৈরী করতে পারি সেই চেষ্টা করবো।
তারেক রহমান আরও বলেন, যে ব্যক্তি যে
বিষয়ে মেধাবী, তার মেধাকে মূল্যায়ন করে সেই বিষয়ে দক্ষ করে তোলা হবে। সবাইকে নিয়ে নতুন
বাংলাদেশ তৈরি করবে বিএনপি।
‘আমরা যদি বিভিন্ন খেলায় পেশাদার খেলোয়াড়
এবং ভালো সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পী তৈরী করতে পারি’ তাহলে ওইসব ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা হবে বলেও
তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, লালমনিরহাটের বড়বাড়ি শহীদ
আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে গত ১২ নভেম্বর শুরু হয় শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্ট। বিএনপির
রংপুর বিভাগের ১০টি সাংগঠনিক দল এতে অংশগ্রহণ করে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় পঞ্চগড় বিএনপি
একাদশ ও রংপুর মহানগর বিএনপি একাদশ’র
মধ্যে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। টাইব্রেকারে এক শূন্য গোলে পঞ্চগড় জেলা বিএনপি একাদশ
বিজয় লাভ করে।
‘শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৪’র ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি’র
জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাস। অনুষ্ঠানে
সভাপতিত্ব করেন বিএনপি’র
রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পদক আসাদুল হাবিব দুলু।
অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী
এ্যানি, কেন্দ্রীয় নেতা ফরহাদ হোসেন আজাদ ও ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান অনুষ্ঠানে
বক্তৃতা করেন ।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ সোমবার বলেছেন, অন্তর্বর্তী
সরকার দেশে আরও বিদেশী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ব্যাপক শ্রম সংস্কারে
প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রম সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড়
শ্রম ও ব্র্যান্ড প্রতিনিধিদল তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে
সাক্ষাত করতে গেলে তিনি একথা বলেন।
প্রফেসর
ইউনূস প্রতিনিধি দলকে বলেন,
“আমরা আমাদের শ্রম আইনকে বৈশ্বিক মানদণ্ডের সম মানসমম্পন্ন করতে চাই। এটা আমার
অঙ্গীকার।” তিনি
বলেন, অন্তর্বর্তী
সরকার কেবলমাত্র দেশের শ্রম আইন সংস্কার করতে এবং এ ব্যাপারে স্থানীয় ও
আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার গোষ্ঠী,
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ নিরসনের জন্য একজন বিশেষ
দূত নিয়োগ করেছে।
প্রতিনিধিদলের
নেতৃত্বে ছিলেন মার্কিন শ্রম বিভাগের ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি থিয়া মেই লি ও
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক শ্রম বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি কেলি ফে রড্রিগেজ।
দুই
জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন,
যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক শ্রম অধিকার গোষ্ঠী এবং বাংলাদেশ থেকে পোশাক ও জুতা
ক্রয়কারী শীর্ষ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো শ্রম আইন সংস্কার ও বাংলাদেশের কারখানায়
শ্রমিক-বান্ধব পরিস্থিতি তৈরিতে অধ্যাপক ইউনূসের পদক্ষেপকে সমর্থন করে।
সরকার
ও স্থানীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৮-দফা চুক্তিসহ পদক্ষেপগুলোর কথা উল্লেখ করে
কেলি ফে রড্রিগেজ বলেন,
প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত সাড়ে তিন মাসে শ্রম খাতের
জন্য যা করেছেন, ‘সেগুলো সবই তার বিস্ময়কর
সাক্ষ্য।
মার্কিন
কর্মকর্তারা মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে লাখো গার্মেন্টস ও পাদুকা শ্রমিককে সুরক্ষা
দেওয়ার জন্য কারখানায় ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠা ও প্রতি বছর মজুরি পর্যালোচনার
আহ্বান জানান।
পোশাক
কারখানায় ন্যূনতম মজুরির সুবিধাদান প্রসঙ্গে থিয়া মে লি বলেন, ‘এটি ব্যবসার
জন্য ভালো ও অর্থনীতির জন্যও ভালো।’
তিনি বলেন, কর্মী
ইউনিয়ন হল ‘গণতন্ত্রের
প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র।’
তিনটি
শীর্ষ মার্কিন ব্র্যান্ড পিভিএইচ,
ক্যালভিন ক্লেইন এবং গ্যাপ ইনকর্পোরেটেডের সিনিয়র কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত
ছিলেন।
পিভিএইচ
কর্পোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল ব্রাইড বলেছেন, তারা
বাংলাদেশে শ্রম সংস্কারকে সমর্থন করেছেন। তারা কম্বোডিয়ায় অনুরূপ প্রচেষ্টাকে
সমর্থন করেছেন।
প্রফেসর
ইউনূস ব্র্যান্ডগুলোকে প্রতি জানুয়ারিতে তাদের অর্ডারের মূল্যবৃদ্ধি ঘোষণা করার
আহ্বান জানান, যাতে
বাংলাদেশের নির্মাতারা সেই অনুযায়ী শ্রমিকের মজুরি বাড়াতে পারে।
বৈঠকে
মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মেগান বোল্ডেবও ছিলেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র
প্রফেসর ইউনূসের ব্যাপক শ্রম সংস্কারকে পূর্ণ সমর্থন করে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আপনার
সাথে অংশীদার হতে চাই।’
মন্তব্য করুন