

কুমিল্লা তিতাস উপজেলায় সেনাবাহিনী নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর অভিযানে মাদক ও অস্ত্রসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।
দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন এবং মাদক নির্মূলের লক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ অক্টোবর যৌথ বাহিনী ও তিতাস থানা পুলিশ তিতাস উপজেলার শাহপুর এলাকায় অভিযান পরিচলনা করা হয়।
উক্ত অভিযানে অস্ত্রধারী নাজিয়া সুলতানা (২৭), ময়না (৩২), ফারজানা (২৮) এবং শান্তি রানীকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১ টি রিভলবার, ৩ টি স্থানীয় বন্দুক, ৩ টি বড় ছুরি, ১ টি সুইচগিয়ার, ১ টি ছোট কুঠার এবং ১০ টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত সরঞ্জামাদী তিতাস থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা নগরীতে ৫ আগস্ট আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ হত্যা মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহবায়ক ইশতিয়াক সরকার বিপুকে জড়ানো হয়েছে।
রবিবার ( ১০ আগষ্ট) সকালে কুমিল্লা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা বলেন ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইমতিয়াজ সরকার নিপু।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমার ছোট ভাই ইসতিয়াক সরকার বিপু ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিতে সক্রিয়। ১৯৮৯ সাল থেকে সে ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদল কর্মী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ২০১৭ সালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের সময় বেশ কয়েকবার তাদের দ্বারা হামলা ও মামলার শিকার হয়। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের দেয়া দুইটি মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করে। দুঃখের বিষয় গণঅভ্যুথানের পরেও বর্তমান সময়ে সেই মামলাগুলো এখনো চলমান রয়েছে।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিদায়ের পর ইসতিয়াক সরকার বিপু ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়। সাথে সাথে শুরু হয় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। এরপরের ঘটনা আপনারা সকলেই অবগত আছেন। সম্ভাব্য কাউন্সিলর নির্বাচন ও ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপিতে নিজেকে উপস্থাপন করার সাথে সাথেই নানামুখী ষড়যন্ত্র চলতে থাকে। এতে আওয়ামীলীগের পতিত নেতাকর্মীরাও নিজেদের শত্রুদের সাথে সখ্যতা ও হাত মেলায়। তাদের প্রতিপক্ষতা ও হিংসা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ৫ আগস্ট আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ হত্যায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে জড়াতে নানাহ আইনী জটিলতা চালায়। ইতিমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি এমন কূটকৌশল ও আইনি জটিলতা তারা চূড়ান্ত করে ফেলেছে। নিজেদের দলের একজন ত্যাগী কর্মীকে ফাঁসাতে এমন জঘন্য অপকর্ম করতেও তারা পিছপা হয়নি।
অথচ ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর দুপুরে ইসতিয়াক সরকার বিপু মোগলটুলি এলাকা থেকে বিজয় মিছিল নিয়ে পূবালী চত্বরে যায়। এরপর পুলিশের ফোনে খবর পায় কুমিল্লা কোতয়ালি থানায় হামলা হতে পারে। তখন বিকেল বেলা সে তার নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় উপস্থিত হয় এবং অবস্থান নেয়। ওই সময়ে থানায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যগণ তাঁদের নিরাপত্তার জন্য অনুরোধ জানায়। এসময় কোতয়ালী থানায় আরো উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার ও সাবেক কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়াসহ মহানগর ও ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও ছাত্র জনতা । উপস্থিত নেতৃবৃন্দ থানায় মাইকে বক্তব্য রাখেন, যার ভিডিও ফুটেজ কোতয়ালি থানার সিসিটিভি ক্যামেরায় ও বিভিন্ন কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখনো রয়েছে। রাতে যখন বিপু এলাকায় ফিরে আসেন তখন জানতে পারেন আইনজীবী আবুল কালাম গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একই ব্যক্তি একই সময়ে পৃথক দুইটি ঘটনায় উপস্থিত থাকতে পারেন না।
আইনজীবি আবুল কালাম আজাদ হত্যার ঘটনাটি জঘন্যতম অপরাধ। তিনি বিএনপি ঘরানার আইনজীবী ছিলেন। আমরা তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবী জানাচ্ছি। যারা এই হত্যা কান্ডটি সংঘটিত করে তারা আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। হত্যার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মোবাইলে ধারণকৃত ফুটেজ অবশ্যই পুলিশের কাছে আছে, পুলিশ তা জানেও। ওই ফুটেজ সমূহ যাচাই-বাছাই করলে হত্যার সময় বিপু এই ঘটনায় ছিল না বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরও ষড়যন্ত্র থেমে নেই ।
মামলায় ইসতিয়াক সরকার বিপু স্বাভাবিকভাবেই আসামির তালিকায় ছিল না, থাকবার কথাও নয়। কিন্তু পরে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে বিপুকে জড়িত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। যে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে বিপুর নামটি জড়ায় সেও আইনজীবী হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামি নয়। পরবর্তীতে অন্য মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হলে তাকে এবং তার পরিবারকে বুঝানো হয় তার গ্রেফতারের সাথে বিপুর সম্পর্ক রয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বিপুকে জড়িয়ে বক্তব্য দেয়। ওই ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বিপু তাকে গ্রেপ্তার করিয়ে দিয়েছে বলেও বক্তব্য দেয়। শুধু তাই নয় এই মামলায় ৫নং ওয়ার্ডের আরো কয়েকজন নিরপরাধ মানুষকে জড়ানোর চেষ্টা চূড়ান্ত করা হয়েছে ।
পরবর্তীতে এই ষড়যন্ত্র আরো শক্তিশালী করতে আরও আইনী জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে বলেও আমরা জানতে পেরেছি। আমরা এই কুচক্র, অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
আমরা গত কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হতে দেখেছি। যেখানে “ফেইস দ্যা পিপল”এর সাংবাদিক সাইফুর রহমান সাগর এই হত্যা মামলার বাদীকে প্রশ্ন করেন ইসতিয়াক সরকার বিপু নামে কাউকে চিনেন কিনা! এবং বাদী সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর দেন “না আমি ওই নামের কাউকে চিনি না তদুপরি নামটি আমি এই প্রথম আপনার মুখেই শুনলাম”।
পরিশেষে আমরা বলতে চাই, আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ হত্যার ঘটনাটি একটি জঘন্যতম অপরাধ। ওই হত্যার সুষ্ঠু বিচার হোক আমরাও চাই। তবে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে ইসতিয়াক সরকার বিপুকে জড়ানো হচ্ছে, শুধুমাত্র ফাঁসাতে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পুলিশ ও এলাকার মানুষ সব সত্য জানে। তাই সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমরা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সত্য জানাতে ও হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং সুবিচার দাবি করছি।
মন্তব্য করুন


সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষ্যে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং 'ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার' এর আওতায় মোতায়নরত সেনাসদস্যদের পরিদর্শনের লক্ষ্যে কুমিল্লা এরিয়া পরিদর্শন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ বৃহস্পতিবার) দুপুরে তুমি কুমিল্লা সফর করেন।
পরিদর্শনকালে সেনাবাহিনী প্রধান মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান এবং অসামরিক প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় করেন।
সফরকালে, সেনাপ্রধান কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে মত বিনিময় করেন।
মত বিনিময়কালে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। সেনাপ্রধান পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
কুমিল্লা এরিয়া পরিদর্শনকালে, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড; এ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল; জিওসি ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, কুমিল্লা এরিয়া এবং সেনাসদর ও কুমিল্লা এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দের পাশাপাশি অসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ফেনী জেলায় টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে ফেনী জেলার ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে।
গত ০৮ জুলাই জেলা প্রশাসক, ফেনী এর তত্ত্বাবধানে বন্যা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে সেনাবাহিনীর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে আলোচনা হয়। এ প্রেক্ষিতে গত বছরের (২০২৪) ভায়াবহ বন্যা পরিস্থিতি থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার আলোকে সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী কর্তৃক প্রস্তুতি কার্যক্রম গ্রহণ শুরু হয়েছে।
পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার সেনা ক্যাম্প সমূহে ইতোমধ্যে ট্রাইশার্ক বোট, ওবিএম ইঞ্জিন এবং লাইফ জ্যাকেট মোতায়েন করা হয়েছে, যা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে।
এছাড়াও জরুরী পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে সেনাবাহিনীর একটি চিকিৎসক দল জেলা সিভিল সার্জন এর সাথে সমন্বয় সভা করেছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক জানানো হয় যে, সেনাবাহিনী সবসময় জাতির দুর্যোগকালীন মুহূর্তে জনগণের পাশে রয়েছে। প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ফেনী বন্যা মনিটরিং সেল হেল্পলাইন নম্বর ০১৮৯৮৪৪৪৫০০ এবং ০১৩৩৬৫৮৬৬৯৩ এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
মন্তব্য করুন


পটুয়াখালীর বাউফলে জমি লিখে না দেওয়ায় শ্বশুর ও শাশুড়িকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে জামাইয়ের বিরুদ্ধে। রোববার (১৪ মে) রাতে বাউফল সদর ইউনিয়নের নকুলের হাট সংলগ্ন মিস্ত্রী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার দিন রাতে ওই বাড়ির হীরালাল মিস্ত্রী (৬৫) ও তার স্ত্রী কিরন বালা (৬০) নিজ বাসায় টিভি দেখছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে তাদের মেয়ের জামাই ফনি ভূষণ (৩৫) ছুরি নিয়ে আকস্মিকভাবে হামলা চালিয়ে দুইজনকে জখম করেন। তাদের চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে জামাই ফনি ভূষনকে আটকে বাউফল থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফনি ভূষনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে হীরালালের মেয়ে শিল্পী রানী বলেন, সম্প্রতি আমার বাবা আমাকে ৮ কড়া (স্থানীয় মাপ) জমি লিখে দেন। ওই জমি আমার স্বামী ফনি ভূষণ তার নামে লিখে দেওয়ার জন্য বাবাকে চাপ প্রয়োগ করেন। বাবা এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ফনি ভূষণ দুইজনকে কুপিয়ে জখম করেন।
এ ব্যাপারে বাউফল থানান পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিচুল হক বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ফনি ভূষণকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছি। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিএস
মন্তব্য করুন


“ভ্যাট দিবো জনে জনে, অংশ নেব উন্নয়নে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভ্যাট প্রদানের প্রতি জনগণকে আরও সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, কুমিল্লার উদ্যোগে পালিত হলো ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ ২০২৪। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে যথাযথ ভ্যাট প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) কুমিল্লা নগরীর একটি হোটেলে সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এসময়, সেমিনারে বক্তারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাজস্ব আহরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ভ্যাট প্রদানকে সহজ করা এবং ভ্যাট প্রদানে করদাতাদেরকে উৎসাহিত করা ভ্যাট দিবসের লক্ষ্য। রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশের বর্তমান জিডিপির অনুপাত ও দুই ডিজিটে উন্নীত করতে হলে ব্যবসায়ী সমাজ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও চূড়ান্ত করদাতা জনগণকে সমন্বিতভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে, প্রতি ১০০ টাকা রাজস্ব আহরণে বর্তমান ব্যয় মাত্র ১৯ পয়সা হতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করতে সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, আমাদেরকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। আমাদেরকে শত্রু ভাবা যাবে না। আর এভাবেই আমরা সামনে এগিয়ে যাবো। রাষ্ট্রের সিংহভাগ আয় আসে ভ্যাট থেকে। ভ্যাট থেকে দেশের রেভিনিউ এর ৪০ ভাগ আসে৷ উন্নয়নের গতি অটুট রাখতে রাজস্ব বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই৷ ব্যাপক জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই সকল ভ্যাট আদায় সম্ভব হবে। সামগ্রিক ভ্যাট ব্যবস্থাপনাকে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনে আনতে জাতীয় রাজস্ববোর্ড কাজ করে যাচ্ছে। এতে, করদাদাতেরও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আর, আপনারা চুরি বন্ধ করে দিন, ভ্যাট কর্মকর্তারা আপনার দরজায় কড়া নাড়বে না।
বক্তারা আরো উল্লেখ করেন, গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছর জাতীয় অর্থ বাজেটে ভ্যাটের অবদান বেড়েছে। এছাড়াও, ভ্যাটে প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। আমরা এখন অনলাইনেই আয়কর আবেদন, আয়কর রিটার্ন ও আয়কর জমা দিতে পারি৷ ভ্যাট সফটওয়্যার চলে আসলে আগামীতে আরো উন্নত হবে এই দিকটা। আর, গ্রাহকদেরকে বলবো ভ্যাট দেওয়ার পর অবশ্যই ভ্যাট চালান গ্রহণ করতে হবে৷ সমতাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভোজ্য তেল, কীটনাশক, হজ্বযাত্রার টিকেট খরচ ও অন্যান্য ফি'র ক্ষেত্রে ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভারী শিল্পের ক্ষেত্রেও ভ্যাট হ্রাস করা হচ্ছে। এসময়, বক্তারা দেশের সার্বিক উন্নয়নে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়া দৃপ্ত অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বক্তারা৷
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা কর অঞ্চলের কর কমিশনার শেখ মোঃ মনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, কুমিল্লার কমিশনার মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান। স্বাগত বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, কুমিল্লার অতিরিক্ত কমিশনার মির্জা সহিদুজ্জামান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, কুমিল্লার যুগ্ম কমিশনার মোঃ পায়েল পাশা।
এসময় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, কুমিল্লার সহকারী কমিশনার ইমরান হোসেন ও রীমা আকতারের সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, কুমিল্লার যুগ্ম কমিশনার স্নিগ্ধা বিশ্বাস, যুগ্ম কমিশনার ফাহাদ আল ইসলাম, কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্সের সহ সভাপতি জামাল আহমেদ। এছাড়াও, সেমিনারে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, কুমিল্লার মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের স্টেকহোল্ডার, বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ী, উৎপাদনকারীগণ ও বিভিন্ন স্তরের সম্মানিত ভ্যাটদাতারা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে অতিথিদের বক্তব্য শেষে, ভ্যাটদাতারা ভ্যাট এক্সাইজ কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশ্ন-উত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এখানে, ভ্যাটদাতারা কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন ও কর্মকর্তারা সেগুলোর উত্তর প্রদান করেন। এসময়, ভ্যাটদাতারা ভ্যাটসম্পর্কিত বিভিন্ন পরামর্শও প্রদান করেন।
মন্তব্য করুন


স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুণাইঘর উত্তর ইউনিয়নে ঘোড়া প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহিদা আক্তারের মতবিনিময় সভায় যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষরা ঘোড়া প্রতিকের দুই কর্মীকে পিস্তল ঠেকিয়ে রড ও লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করে ।
শুক্রবার (১৭ মে) রাতে ইউনিয়নের বনকুট এলাকায় এ হামলা-মারধরের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন, দেবিদ্বার উপজেলার গুণাইঘর উত্তর ইউনিয়নের ছেপাড়া গ্রামের মৃত. তাজুল ইসলামের ছেলে মো: দুলাল মিয়া (৩৫) ও একই গ্রামের আব্দুল আলীমের ছেলে মো: আজিজ (৩০)। আহতদের দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাদি হয়ে দুলাল মিয়া ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে দেবিদ্বার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তারা হলেন, গুনাইঘর এলাকার মৃত. ইসমাইলের ছেলে মাকবুল হোসেন (৮৮), মৃত. ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মো: রাসেল (৪২), মৃত. লতিফ সরকারের ছেলে গাজী আসিফ বিন লতিফ((২৮), গজারিয়া এলাকার সফর আলীর ছেলে মো: কাউসার মেম্বার(৩৬), বাকসার পাঠান বাড়ির মো: শাহানুর (৩০), মৃত. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে শফিউল্লাহ (৪৫)।
আহত দুলাল মিয়া ও মোঃ আজিজ জানান, আমরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকের কর্মী ও সমর্থক ৷ সাবেক এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল মহোদয়ের বাড়িতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহিদা আক্তারের মতবিনিময় সভায় যাওয়ার পথে আসামিরা পিস্তল, ছুরি, রামদা, রড ও লাঠিসোটা আমাদের উপর আক্রমণ করে। তারা আমাদের পথরোধ করে আমাদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মতবিনিময় সভায় যেতে নিষেধ করে। আমরা তাদের কথা শুনব না বলাতে তারা এলোপাথারীভাবে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আমাদের আহত করে। আমাদের গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে । তারা আমাদের মারধর করে আমাদের সঙ্গে থাকা নগদ সাড়ে ৩ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং পরনের কাপড় চোপড় ছিড়ে ফেলে ৷ ভবিষ্যতে যাতে ঘোড়া প্রতিকের কোন মিছিল-মিটিংয়ে না যাই, সে নির্দেশনা দিয়ে তারা চলে যায়।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন মিয়া জানান, এ ঘটনায় দুই পক্ষ দুটি অভিযোগ করেছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য যে, আগামী ২৯ মে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মূল দুই প্রতিদ্বন্দ্বি হলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাষ্টারের স্ত্রী শাহিদা আক্তার ও স্থানীয় এমপি আবুল কালাম আজাদের ছোট ভাই মামুন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
মাত্র পাঁচ বছরের এক ছোট্ট শিশু, মুনতাহা আক্তার জেরিন। তার মিষ্টি হাসি ও চঞ্চলতা পরিবারের সবাইকে মুগ্ধ করত। প্রতিবেশীরাও তাকে আপন করে নিয়েছিলেন। তবে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হতে হয় এই শিশুটিকে, এবং এতে জড়িত ছিলেন তার সাবেক গৃহশিক্ষিকা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুনতাহার গৃহশিক্ষক ছিলেন শামীমা বেগম মার্জিয়া (২৫)। কিছুদিন আগে তার খারাপ আচরণের কারণে মুনতাহার বাবা তাকে পড়াতে নিষেধ করেন। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মার্জিয়া। প্রতিশোধ নিতে গত ৩ নভেম্বর মার্জিয়া ও তার মা আলিফজান বিবি শিশুটিকে কৌশলে তাদের ঘরে নিয়ে যান।
ঘরের ভেতর ওড়না ও রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে মুনতাহাকে হত্যা করা হয়। এরপর তার মরদেহ বস্তাবন্দি করে ঘরে রাখা হয়। গভীর রাতে মরদেহটি পলিথিনে মুড়িয়ে ঘরের পাশের নালায় পুঁতে রাখা হয়। পরদিন ভোরে মরদেহটি পুকুরে ফেলার সময় স্থানীয়রা তা উদ্ধার করেন। এসময় আলিফজান বিবিকে আটক করে স্থানীয় জনতা।
এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন শিশু মুনতাহার গৃহশিক্ষক শামীমা বেগম মার্জিয়া, তার মা আলিফজান বিবি, প্রতিবেশী ইসলাম উদ্দিন (৪০), এবং মামুনুর রশিদের স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৫)।
মুনতাহা সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের বীরদল ভাড়ারিফৌদ গ্রামের বাসিন্দা শামীম আহমদের মেয়ে। রোববার বাদ আসর বীরদল পুরানফৌদ জামে মসজিদে জানাজা শেষে গ্রামের পঞ্চায়েত কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
গত ৩ নভেম্বর দুপুরে মুনতাহা পার্শ্ববর্তী বাড়ির শিশুদের সঙ্গে খেলতে যায়। বিকেল পর্যন্ত না ফেরায় পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে। সন্ধান না পেয়ে মুনতাহার বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী ও আত্মীয়স্বজন সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ভাইরাল হলে অনেকেই মুনতাহাকে খুঁজে পেতে সাহায্যের জন্য আবেগঘন পোস্ট দেন এবং স্বেচ্ছাসেবায় যুক্ত হন।
মন্তব্য করুন


গত ২৬ জুন মুরাদনগরের পঞ্চকিট্রি ইউনিয়নের বাহারচর গ্রামে এক হিন্দু নারীর সাথে অশোভনীয় ঘটনা ঘটে যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দীর্ঘ ৫ বছর ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। এ সময়ে একই গ্রামের এবং পূর্বপরিচিত মোঃ ফজর আলী (৩২) এর সাথে উক্ত নারী ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একই সাথে ফজর আলীর ছোট ভাই শাহপরান এর সাথেও তার (ভুক্তভোগী) সখ্যতা গড়ে উঠে।
ঘটনার দিন রাতে বড় ভাই ফজর আলী উক্ত নারীর ঘরে অবস্থানকালে ছোট ভাই শাহপরান ও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘরে ঢুকে তাদেরকে মারধর করে এবং ভিডিও ধারণ করে।
উক্ত মারধরের ফলে ফজর আলী আহত হয়ে প্রথমত কুমিল্লা এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ২৭ জুন উক্ত নারী মুরাদনগর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য যে, এ বিষয়ে তিনি (ভুক্তভোগী) ডাক্তারী পরীক্ষা করাতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও যৌথ বাহিনী যথেষ্ট তৎপর রয়েছে এবং মোঃ ফজর আলীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আটক করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। এছাড়া ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশোভন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইতোমধ্যে সর্বমোট ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় যে, বিষয়টি ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত এবং পারস্পারিক সমঝোতার মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে। এখানে বলপ্রয়োগ, দরজা ভাঙ্গা বা ধর্ষণের সরাসরি কোন সম্পৃক্ততা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
তথাপি প্রকৃত ঘটনাটি তদন্তের পূর্বেই অশোভন ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিষয়টি নিঃসন্দেহে অনাকাঙ্খিত। তবে আইন প্রযোগকারী সংস্থা কর্তৃক দুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন পূর্বক দোষীদের অচিরেই শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে আশা করা যায়।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা সদর দক্ষিণের বিজয়পুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর পল্টারপাড় এলাকায় কৃষক রুহুল আমিন হত্যা মামলার আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসে নিহতের পরিবারকে হত্যা মামলাটি তুলে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। মামলা তুলতে অপারগতা প্রকাশ করায় নিহতের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে আসামিরা। আসামিদের ভয়ে কোন সাক্ষী আদালতে যেতে চায় না।
এ ঘটনায় হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবিতে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের স্ত্রী জাহানারা বেগম ও কন্যা রোকেয়া।
সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, কৃষক রুহুল আমিন মসজিদে আজান দিতেন। এই আজানকে কেন্দ্র করে হত্যাকারীরা কিছু বখাটে ছেলে রুহুল আমিন এর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেন। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় স্থানীয় মৃত. আব্দুল লতিফের ছেলে মো: লোকমান হোসেন (৩৮), মো: কবির হোসেন (৩৫) ও মোঃ মীর হোসেন (৩০), শফিক মিয়ার ছেলে নাজমুল হোসেন (২২) ও কবির হোসেনের স্ত্রী শাহিনুর আক্তার ২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে দশটায় রুহুল আমিন কে সবার সামনে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা তাদেরকে আসামি করে পরদিন হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে তারা আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এসে আমাদেরকে মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। আমরা মামলা তুলতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা আমাদের পুরো পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছি। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি। আমরা প্রশাসনের কাছে দুই হাত জোড় করে অনুরোধ করছি এসব সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসি প্রদান করুন।
হত্যাকারীরা একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তারা এখন বিএনপি নেতা কর্মীদের সাথে ঘুরাঘুরি করে।
মন্তব্য করুন


যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিএনপি নেতা মনোয়ার সরকার বলেছেন, "দেশপ্রেম, ধর্মীয় মূল্যবোধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক যোগ্যতাসম্পন্ন সংসদ সদস্যরাই আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।"
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
মনোয়ার সরকার বলেন, "বিশ্বায়নের এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ যুগে বাংলাদেশকে আর পিছিয়ে থাকতে দেওয়া যাবে না। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে উন্নত, স্বনির্ভর ও উন্নয়নশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই দেশ গড়ে তোলার জন্য তাঁরই সুযোগ্য সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "দেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হলে তৃণমূলের সাংগঠনিক দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। এতে দল যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি জনগণের সঙ্গে সম্পর্কও আরও গভীর হবে।"
কুমিল্লা-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মনোয়ার সরকার জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক হয়রানি, মামলা, ভয়ভীতি ও পারিবারিক উদ্বেগের কারণে দেশে আসতে পারেননি। তবে দলীয় মনোবল ধরে রাখতে তিনি প্রবাসে থেকেও ডিজিটাল প্লাটফর্মে সক্রিয় ছিলেন।
তিনি বলেন, "৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আমি আমার জন্মভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি। দেশে ফিরে প্রায় সাড়ে আট মাস ধরে আমি এলাকায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। মানুষের পাশে মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দাঁড়িয়েছি। তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি।"
মনোয়ার সরকার বলেন, "শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের শিখিয়েছেন—রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণের জন্য। সেই আদর্শ নিয়েই আমি এবং আমার সহযোদ্ধারা মাঠে কাজ করছি।"
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, "ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতনের পর একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশের অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।"
মন্তব্য করুন