

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে কুমিল্লার নির্বাচনি পরিবেশ ও প্রস্তুতি জানতে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধি দল।
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা প্রেসক্লাবে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তারা।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন ইইউ পর্যবেক্ষক মায়া হুরলিমান ও লার্স প্লাগম্যান। তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সহযোগী আবু সালেহ। মতবিনিময়কালে তারা কুমিল্লার নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ, মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি, সাংবাদিকদের ভূমিকা ও জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
সংবাদ কর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু, সিটিভির সম্পাদক ওমর ফারুকী তাপস, জাগরণী টিভির প্রতিনিধি আশিকুর রহমান, এন টিভির প্রতিনিধি মাহফুজ নান্টু, ডেইলি এক্সপ্রেস এর প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন, সময় টিভির প্রতিনিধি ইসতিয়াক আহমেদ, বিজয় টিভির ম্যাক রানাসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫৬ সদস্যের একটি দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক দল বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। এই মূল দলের অংশ হিসেবে তিন সদস্যের একটি দল বর্তমানে চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন অংশীজন বা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছে।
সফরকালে প্রতিনিধি দলটি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও জেলা নির্বাচন অফিস পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ইইউ প্রতিনিধিরা আরও জানান, তাদের এই পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া কেবল নির্বাচনকালীন সময়ের জন্যই নয়, বরং নির্বাচন পরবর্তী সময়েও তারা বাংলাদেশে অবস্থান করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
উল্লেখ্য, আগামীকাল ২২ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা শুরু হবে ও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষ্যে ভোট প্রদান প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি কিংবা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা রোধ করাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছে ৩৩ পদাতিক ডিভিশন।
রবিবার দুপুরে ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের কর্নেল স্টাফ, কর্নেল কে এম মেহেদী হাসান সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার অংশ হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নির্মূলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
ডিভিশন সূত্রে জানা গেছে, চলমান অভিযানে ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিরাপত্তা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বিশেষ নিরাপত্তা মহড়া পরিচালনা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
৩৩ পদাতিক ডিভিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, যেকোনো পরিস্থিতিতেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর। ভোটাররা যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে এসে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন—সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধারণ জনগণসহ দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল ইউনিট মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন


স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার সদর দক্ষিণে গত ২৯ এপ্রিল ৯ বছরের শিশু তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণসহ নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত ঘাতক মফিজুল ইসলাম প্রকাশ মফুকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা র্যাব-১১, সিপিসি-২ সদস্যরা। এর আগে নিহত শিশুটির মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ধর্ষণসহ হত্যার ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে প্রচারিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত হয়।
এরপর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১১ এর বিশেষ অভিযানে গত ৩০ এপ্রিল রাতে চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার ফেরুয়া বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ধর্ষক ও হত্যাকারী মফিজুল ইসলাম প্রকাশ মফুকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘাতক মফু কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের মৃত. আব্দুল খালেকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশুটির পিতা সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী এবং তার মা একজন গৃহিনী। নিহত সোনালী উপজেলার শিশু শিক্ষা বিদ্যা নিকেতন কিন্ডারগার্ডেন স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছিল। সকাল ৭টায় সে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়, বেলা ১১ টার দিকেও ভিকটিম বাড়ী না ফিরলে ভিকটিমের মা চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং কালক্ষেপন না করে তিনি তার মেয়ের স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। স্কুলে পৌছানোর পর স্কুল শিক্ষিকার শরনাপন্ন হয়ে মেয়ের বিষয়ে কোন হদিস না পেয়ে ভিকটিমের মা স্কুল থেকে ফেরার পথে ভিকটিমের বেশ কয়েকজন সহপাঠির কাছে জানতে পারেন যে, ভিকটিম স্কুল শেষে বাড়ি চলে গিয়েছে। অতঃপর ভিকটিমের মা বাড়ি ফিরে আসেন এবং স্থানীয় লোকজন ও আশেপাশের প্রতিবেশীদের সহায়তায় সম্ভাব্য সকল স্থানে তার মেয়ের সন্ধান করেন। ইতিমধ্যে ভিকটিমের মা তার প্রবাসী স্বামীর সাথে আলোচনা করে আশেপাশের কয়েকজন লোকজন নিয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী দায়ের করার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। বিকেল সোয়া ৩টায় ভিকটিমের লাশের বিষয়ে অবহিত করলে ভিকটিমের মা ও সাথে থাকা লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছান এবং ভিকটিমের মরদেহ দেখতে পান। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনৈক ব্যক্তি ভিকটিমের মাসহ অন্যান্য লোকজনদেরকে জানায় যে, সে আসামী মফিজুল ইসলাম প্রকাশ মফুকে ঘটনার দিন বেলা সোয়া ১১ টার সময় ঘটনাস্থলের রাস্তার পাশে থাকা বাঁশঝাড়ের ভিতর থেকে দ্রুত রাস্তায় উঠে আসতে দেখেছেন।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, নিহত ভিকটিম গ্রেফতারকৃত আসামীর প্রতিবেশীর মেয়ে এবং পূর্ব পরিচিত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রেফতারকৃত আসামী মফিজুল তার অসৎ কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে গত ২৯ এপ্রিল সকাল আনুমানিক পৌণে ১১ টায় ঘটনাস্থলের পাশের রাস্তায় ভিকটিমের আসার অপেক্ষায় ওৎ পেতে থাকে। পথিমধ্যে ভিকটিম স্কুল থেকে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌছালে গ্রেফতারকৃত আসামী ভিকটিমকে কৌশলে রাস্তার পাশের ধানী জমিতে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ভিকটিম চিৎকার করার চেষ্টা করলে আসামী মফিজুল ভিকটিমের মুখ ও গলা চেপে ধরে। এতে ভিকটিম শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। অতঃপর আসামী মফিজুল ভিকটিমের কোন নড়াচড়া দেখতে না পেয়ে ভিকটিমের কানে থাকা দুল ছিড়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের মা ও অন্যান্য লোকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে ভিকটিমের মৃতদেহ দেখতে পায় এবং পুলিশকে খবর দেয়। গ্রেফতারকৃত আসামী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে নিজ এলাকা হতে পালিয়ে চাঁদপুরে চলে যায় এবং সেখানে আত্মগোপন করে।
নারায়নগঞ্জ র্যাব-১১ এর অধিনায়ক তানভীর মাহমুদ পাশা অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
ভোলায় পুকুরে গোসল করতে নেমে একইসাথে ২ বোনসহ ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে তজুমদ্দিন উপজেলার সোনারপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলেন, মিম আক্তার (১০), মারজিয়া আক্তার (৮) ও রাফিয়া আক্তার (৯)। মিম আক্তার ও মারজিয়া আক্তার জেলার বোহানউদ্দিন উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের মো. হোসেনের মেয়ে এবং রাফিয়া আক্তার তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের মো. গোলাম মোর্শেদের মেয়ে।
মৃতের স্বজনরা জানান, মিম ও মারজিয়া মায়ের সঙ্গে খালার বাড়িতে বেড়াতে যায়। দুপুরের তিন শিশু বসতঘরের পাশে পুকুর গোসল করতে যান। এক পর্যায়ে তারা পুকুরে পড়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ তাদের দেখতে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এরপর তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর কড়াইল বৌ-বাজার বস্তিতে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাতটি ইউনিট।
বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। বিষয়টি ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাকিবুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
রাকিবুল ইসলাম জানান, প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে যানজটের কারণে আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয়। তবে বস্তির সংকীর্ণ রাস্তায় পানিবাহী গাড়ি প্রবেশে অসুবিধা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এখনো আগুন লাগার কারণ এবং হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, কড়াইল বস্তিতে এর আগেও একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
মন্তব্য করুন


খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্র হাতে অবস্থান নেওয়া খুলনার দৌলতপুর থানা যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় যুবদলের দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দৌলতপুর থানা যুবদলের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতৃবৃন্দের কোনো অপকর্মের দায়দায়িত্ব দল নেবে না। যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ইতিমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
কুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ঘিরে মঙ্গলবার ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্র হাতে বেশ কয়েকজনকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এর মধ্যে হাফ হাতা শার্ট ও মুখে গামছা জড়িয়ে রামদা হাতে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিটি যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় বেপরোয়া গতির বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের ৪ জনসহ মোট ৬ জন নিহত হয়েছে।এই ঘটনায় ঘাতক বাসটির চালক মোহাম্মদ নুরুদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে র্যাব সদরদপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ঘাতক বাসটির চালক মোহাম্মদ নুরুদ্দিনকে শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
লে. কর্নেল মুনীম ফেরদৌস আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসচালক আত্মগোপনে সিদ্ধিরগঞ্জ লুকিয়ে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় দাঁড়িয়ে থাকা ৩ টি গাড়িতে ধাক্কা দেয় যাত্রীবাহী একটি বাস। এতে একই পরিবারের ৪ জনসহ দুটি গাড়ির ৬ আরোহী নিহত ও ৪ জন আহত হন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই ৫ জন ও বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।
নিহতরা হলেন- মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নন্দনকোনা গ্রামের বাসিন্দা ও দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারের মালিক নুর আলমের স্ত্রী আমেনা আক্তার (৪০), তার বড় মেয়ে ইসরাত জাহান (২৪), ছোট মেয়ে রিহা মনি (১১), ইসরাত জাহানের ছেলে আইয়াজ হোসেন (২), মোটরসাইকেলের চালক সুমন মিয়ার স্ত্রী রেশমা আক্তার (২৬) ও তার ছেলে মো. আবদুল্লাহ (৭)।
আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন প্রাইভেটকারের মালিক নুর আলম (৪২), তার বোন ফাহমিদা আক্তার (১৭), প্রাইভেটকারের চালক হাবিবুর রহমান (৩৮) ও মোটরসাইকেলের চালক সুমন মিয়া (৪২)।
শুক্রবার দুর্ঘটনার পর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় আহত ব্যক্তিদের।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় ১০ জনকে এ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫ জন হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান। আহত ৫ জনের মধ্যে ৩ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩ জনের মধ্যে গুরুতর আহত রেশমাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়েছিল। পরে তারা জানতে পারেন, শুক্রবার বিকেলে সেখানে রেশমার মৃত্যু হয়।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা- ৭ (চান্দিনা) সংসদীয় আসনে ২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ আসনে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে দুজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোঃ রেজা হাসান।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া দুজন প্রার্থী হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা সালেহ সিদ্দিক ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী সজল কুমার কর।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা মহানগরীর জাঙ্গালিয়া এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশন এবং র্যাব-১১ (সিপিসি-২) এর যৌথ উদ্যোগে একটি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ নাজমুল ইসলাম শামীম নামের এক সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) গভীর রাত থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সেনাবাহিনী সূত্র জানায় , গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে মোঃ নাজমুল ইসলাম শামীমের বাসভবনে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তার বাসা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থানীয়ভাবে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র, দেশি ও বিদেশি গোলাবারুদ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত গোপন আস্তানাগুলোতেও তল্লাশি চালানো হয়, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জিপিএস ও লোকেশন ট্র্যাকিং পরিচালনা করে সন্দেহভাজন শামীমকে আটক করা হয়।
আটক হওয়া নাজমুল ইসলাম শামীম মহানগরীর ২১ নং ওয়ার্ডের জাঙ্গালিয়া এলাকার মরহুম আব্দুল হালিমের ছেলে।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে স্থানীয়ভাবে তৈরি ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র / পাইপগান, ৬০ রাউন্ড শটগান কার্তুজ, ( ১২ বোর × ৭০ মিমি – ৪০ রাউন্ড ও ১২ বোর × ৭৬ মিমি – ২০ রাউন্ড) । ১৮ রাউন্ড মেশিনগান গোলাবারুদ (৭.৬২×৫৪ মিমি, POF নির্মিত), ১ রাউন্ড পিস্তল গোলাবারুদ (৭.৬২×২৫ মিমি, টোকারেভ: S&B নির্মিত), ১ রাউন্ড রিভলভার/ এয়ারগান গোলাবারুদ, ১০টি ছুরি, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল। এছাড়া দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, ৮টি মানিব্যাগ, এটিএম কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডি জব্দ করা হয়।
স্থানীয় বিভিন্ন প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সন্দেহভাজন শামীম জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ডের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত এবং তিনি পূর্বে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। এছাড়াও তিনি কুমিল্লা শহরের একজন চিহ্নিত বড় চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত। ভয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রদান করতে সাহস পান না, তবে একাধিক সূত্র থেকে তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পরই সেনাবাহিনী তার বাসায় অভিযান পরিচালনা করে।
সন্দেহভাজন শামীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় কমপক্ষে ৭টি মামলা বিদ্যমান।
অস্ত্রসহ তাকে র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মন্তব্য করুন


মানিকগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের মামলার পলাতক আসামি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের এপিএস আমিনুর রহমান সেলিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতে দিঘি এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি এস এম আমান উল্লাহ নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া আমিনুর রহমান সেলিম সদর উপজেলার দিঘি ইউনিয়নের রমনপুর গ্রামের আলতাফ মাস্টারের ছেলে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি এস এম আমান উল্লাহ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে দিঘি এলাকার নিজ বাসভবন থেকে আমিনুর রহমান সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে আদালতে পাঠানো হবে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
কুষ্টিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা, বাবা ও মেয়েসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলার কদমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
তারা হলেন, ওই এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে মো. সালাম (৪০), তার স্ত্রী রুপা খাতুন (৩৫) ও মেয়ে সাবা খাতুন (১৩)। এ ঘটনায় তার ভাতিজা সিয়াম (১৩) আহত হয়েছেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সজীব উদ্দিন স্বাধীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রুপা খাতুন বিকেল ৪টার দিকে ঘরঝাড়ু দিচ্ছিলেন। এ সময় ঘরে ঝুলে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। পরে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যান স্বামী মো. সালাম ও তার মেয়ে সাবা। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তারা ৩ জন ঘটনাস্থলে মারা যান। এ সময় ঘটনাস্থলের পাশে থাকা সালামের ভাতিজাও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গুরুতর আহত হন।
মৃত সালামের চাচাতো ভাই সাইদুল ইসলাম জানান, সালামের শহরের জেলখানা মোড়ে ফটোকপির দোকান রয়েছে। দুপুরে খাবার খাওয়ার জন্য বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। ওই সময় ঘরের ভেতর পরিবারের সবাই অবস্থান করছিলেন। একদিন আগে বাড়িতে ইলেকট্রিকের কাজ করিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সজীব উদ্দিন স্বাধীন বলেন, তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত আরেকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য সোহেল জানান, তিনজনের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক জানে আলম জানান, তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেছেন কিনা প্রাথমিকভাবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারণ খুঁজে দেখা হচ্ছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার (ওসি) তদন্ত দিপেন্দ্রনাথ জানান, মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন