ঢাকায় সফররত মার্কিন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রেনা বিটারের সঙ্গে নতুন ভিসানীতি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম।
তিনি আরও জানান, ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ জনসাধারণের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।এর আগে রোববার (১ অক্টোবর) অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রেনা বিটার পাকিস্তান সফর শেষে ঢাকা সফরে আসেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশেদ আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এ ছাড়া সফরকালে তিনি দূতাবাস ও কনস্যুলেট কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং কনস্যুলার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
বাংলাদেশ সফরে কনস্যুলার সমস্যা নিয়ে দুদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে রেনা বিটার আলোচনা করবেন। তার সফর বিদেশি মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ভ্রমণ ও অভিবাসনের সুবিধার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গভীর ও টেকসই প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেওয়া হবে। সফর শেষে সোমবার তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন।
মন্তব্য করুন
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকাকে চাপে রাখতে ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। নানা প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এর জের ধরেই বাংলাদেশে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত নিজের ও দূতাবাসের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই শঙ্কা প্রকাশ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও তিক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তৈরি হয়েছে নানা দ্বন্দ্ব।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং তাদের মিত্ররা অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয় জোর প্রদান করছে। কারণ গত দুটি নির্বাচনে (২০১৪ এবং ২০১৮) বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ব্যাপক কারচুপি করে ক্ষমতা দখল করেছে বলে অভিযোগ করছে বড় বিরোধী দলগুলো। প্রধান বিরোধীদল কর্তৃক নির্বাচন বয়কটের ঘটনাও ঘটেছে। তাই আগামী নির্বাচনে গত দুটি নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয় সে ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বেশ সতর্ক অবস্থানে দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অংশীদাররা একটি নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়ে আসছে। তারা বলছে, দলীয় সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে আওয়ামী লীগ।
রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেন, ‘আরও একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন দেশকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে নতুন এক উদ্বেগজনক যুগের দিকে নিয়ে যেতে পারে। আর এটি ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্ষেত্রে সকল সংকটসীমাকে অতিক্রম করবে।’
নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় এবং উদ্বেগ বাড়তে থাকায় গত ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ওপর ভিসা বিধিনিষেধ বলবৎ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত ব্যক্তিদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এক বিবৃতিতে বলেছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু সদস্য, ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধীদলের কিছু রাজনীতিক এবং তাদের পরিবারবর্গ এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন। মিলার আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে সমর্থন দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।
মন্তব্য করুন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে ধনাগোদা নদী ও এই নদীর সাথে সংযোগ খালগুলোতে অবৈধ ভেসাল ও কারেন্ট জালের ব্যবহার বেড়েছে। তবে এসব ব্যাপারে মৎস্য বিভাগের উদাসীনতা স্পষ্ট লক্ষ্য করা গেছে। এসব জালে অবৈধভাবে মাছ শিকার করে অসাধু জেলেরা নদী ও খালগুলোতে মৎস্য উৎপাদন হুমকিতে পড়ছে বলে বলে মনে করছেন সুধীমহল।
বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) সরজমিনে মতলবের চরমুকুন্দি, মুন্সিরহাট এয়ারপোর্ট, মধ্য ও উত্তর দিঘলদী, উপাদী উত্তর ও দক্ষিণ, শান্তিনগর, নওগা, নারায়নপুরসহ বেশ কিছু স্থান ঘুরে অর্ধশতাধিক অবৈধ ভেসাল জাল ফেলে প্রতিনিয়ত দেশীয় মাছ শিকার করতে জেলেদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়।
এই জাল বাঁশের সাথে যুক্ত করে পানিতে ফেলে জাটকা ইলিশসহ ছোট বড় দেশীয় প্রজাতির মাছ ধ্বংস করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণি হয়ে পরছে বিলুপ্ত এবং বংশ বৃদ্ধি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি অবৈধ ভেসাল জাল ও কারেন্ট জালের প্রভাবে নদী বা খালে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্র বলছে, আইন অনুযায়ী উন্মুক্ত জলাশয়ে, খাল বিলে বা নদীতে কোনো কিছু দিয়ে আড়াআড়ি বাঁধ দেয়া বা যেকোনো ধরনের ফাঁদ ব্যবহার ও স্থাপনা নির্মাণ, দুয়ারি চাই, চায়না চাই, ভেসাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এ বিষয়ে মতলবের উপাদী উত্তর দক্ষিণ ইউনিয়নের হান্নান মিয়া, কাশেম, খোকন, বিল্লাল, দেলোয়ার, নারায়নপুরের সামসুল, আবুল, কাজল, নওগাঁ গ্রামের হযরত আলী, সুজন, শফিকসহ অন্যান্যরা ভেসাল জালে মাছ ধরার কথা স্বীকার করেছেন।
তারা বলেন, ‘আমরা বড় মাছের পাশাপাশি অনেক ছোট পোনাও এভাবে ফাঁদ পেতে ধরি। কিন্তু ছোট বা গুড়া পোনা বিক্রি যোগ্য নয় বলে মৃত পোনাগুলো ফেলে দিতে হয়। তবে প্রশাসন যদি অভিযানে নামে তাহলে আমরা এই অবৈধভাবে নদী ও খালে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবো।’
জেলে শফিক বলেন, ‘ইলিশ মাছ ধরার জন্য সাধারণত আমরা ধনাগোদা নদীতে কারেন্ট জাল ফেলে থাকি। আর ভেসাল জাল ও অন্যান্য চাই খালের মুখে ফাঁদ হিসেবে ফেলে দেশীয় প্রজাতির ছোট বড় সব মাছ ধরি। এখন এগুলো যদি অবৈধ হয় আর প্রশাসন যদি আমাদের অবগত করে তাহলে অবশ্যই আমরা এভাবে মাছ শিকার করবো না।’
এদিকে মৎস্য বিভাগের উদাসীনতা নেই জানিয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়তই অবৈধ কারেন্ট জাল, ভেসাল জাল, চায়না চাইসহ অন্যান্য অবৈধ জাল ও অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। কেননা মাছ ধরার বিশেষ ধরনের বস্তু কারেন্ট জাল ও ভেসাল জালকে পরিবেশবিদ ও মৎস্য বিজ্ঞানীরা মিঠাপানি ও সামুদ্রিক মাছ বিলুপ্ত হওয়ার জন্য সম্পূর্ণ রূপে দায়ী করছেন। নদীতে ভেসাল জাল, কারেন্ট জাল, চায়না চাই, দুয়াড়ি চাই, গণমসারি জাল এগুলো সব সময়ই অবৈধ। চায়না চাই, গচি জাল, কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে দ্রুতই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।’
মন্তব্য করুন
ঢাকায় সফররত মার্কিন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রেনা বিটারের সঙ্গে নতুন ভিসানীতি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম।
তিনি আরও জানান, ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ জনসাধারণের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।এর আগে রোববার (১ অক্টোবর) অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রেনা বিটার পাকিস্তান সফর শেষে ঢাকা সফরে আসেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশেদ আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এ ছাড়া সফরকালে তিনি দূতাবাস ও কনস্যুলেট কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং কনস্যুলার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
বাংলাদেশ সফরে কনস্যুলার সমস্যা নিয়ে দুদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে রেনা বিটার আলোচনা করবেন। তার সফর বিদেশি মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ভ্রমণ ও অভিবাসনের সুবিধার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গভীর ও টেকসই প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেওয়া হবে। সফর শেষে সোমবার তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন।
মন্তব্য করুন
বাংলাদেশের ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই একটি বিষয় নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। গণমাধ্যমের ওপরও ভিসানীতি প্রয়োগ হতে পারে বলেও জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এমন মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ। শনিবার সম্পাদক পরিষদ সভাপতি মাহফুজ আনাম ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ২৪ সেপ্টেম্বর বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের এক সাক্ষাৎকারে বলেন, রাজনৈতিক দলের সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাবেক-বর্তমান সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি গণমাধ্যমও আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে যুক্ত হবে।
এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে উদ্বেগ জানিয়ে সম্পাদক পরিষদ সভাপতি মাহফুজ আনাম ২৭ সেপ্টেম্বর ইমেইলে একটি চিঠি পাঠান পিটার হাসকে। চিঠিতে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের ওপর ভিসানীতি প্রয়োগের বিষয়টি তার মনে এবং সম্পাদক পরিষদের সদস্যদের মনে কিছু প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে- এই মন্তব্যটি আমাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। তাই ব্যাখ্যার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। মার্কিন সরকার এবং রাষ্ট্রদূত ব্যক্তিগতভাবে সবসময় মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমের অটল প্রবক্তা। তাই এই মন্তব্য আমাদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।’
মন্তব্য করুন
ভগবানচন্দ্র বণিক সেই যে কী এক কথা মাথায় ঢুকাইয়া দিল, তারপর হইতে গবুচন্দ্র মন্ত্রীর মনে তোলপাড় চলিতেছে তো চলিতেছেই। কী যেন ‘কেট’ বলিয়াছিল, কিছুতেই মনে আনিতে পারিতেছে না। তবে ঐ কাজটি করিয়া ফেলিতে পারিলে পুরা কৃষ্ণনগরের ব্যবসাবাণিজ্য যে মুঠোর মধ্যে চলিয়া আসিতে পারে, সে ব্যাপারে গবুমন্ত্রীর আর অবিশ্বাস করার উপায় নাই। তখন আর সিংহাসন লইয়া উতলা হইবার প্রয়োজনও পড়িবে না। কিন্তু তারপরও কৃষ্ণনগর সিংহাসনের ব্যাপারে মাঝেমধ্যে বুকটা টন টন করিয়া ওঠে। বিশাল রাজপ্রাসাদ, কার্পেট মোড়া মেঝে, ঝলমল করা রাজদরবার, সিপাই-শান্ত্রী আর কী জাঁকজমক! তার পরিবর্তে হয়তো অঢেল টাকাপয়সা আসিবে কিন্তু সেই ঠাটবাট কোথায় পাওয়া যাইবে!
পরক্ষণেই আবার মনে হইল, এসবই তো মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের সম্পত্তি! রাজা যদি না-ই হইতে পারে, তাহা হইলে তো সবই ফক্কা!
মন্তব্য করুন