

মতভেদ থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোকে দেশ ও জনগণের স্বার্থে এক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জাতীয় কোনো ইস্যুতে বা গণতন্ত্রের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেন মুখ দেখাদেখি বন্ধ না হয় তিনি সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
আজ বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির বিজয় র্যালির আগে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দলের সদস্যদের বলতে চাই- বিভিন্ন ইস্যুতে মতভেদ থাকবে। এসব মতভেদ দূর করতে আমাদের আলোচনা চলবে। জাতীয় কোনো ইস্যুতে, গণতন্ত্রের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেন মুখ দেখাদেখি বন্ধ না হয়, সেই লক্ষ্যে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। কারণ, আমি বিশ্বাস করি ধর্ম, দর্শন, মত যার যার, রাষ্ট্র আমাদের সবার।
এসময় দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে সবার সহযোগিতা ও সমর্থন চান তিনি।
গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের আরও সতর্ক ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, নাগরিকদের কাছে আহ্বান রাখছি, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।
তিনি বলেন, দেশবাসীর কাছে উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, ফ্যাসিবাদের সময় আমরা নিরাপদ ছিলাম না। আমাদের সন্তানরা নিরাপদ ছিল না। আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। পুরো বাংলাদেশকে বর্বর বন্দিশালা বানানো হয়েছিল। গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন না থাকায় এমন হয়েছিল।
গণতন্ত্র ও দেশের জনগণের সামনে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক অপার সম্ভাবনা এবং সুযোগ এসেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, চব্বিশের আন্দোলনের কারণে আসা সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক শক্তি প্রতিষ্ঠা করা গেলে; জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারলে, ভবিষ্যতে আর কেউ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাবে না। দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবে না। আর কোনো রক্তাক্ত চব্বিশ আমাদের দেখতে হবে না।
বিজয় মিছিল আয়োজন নিয়ে তারেক রহমান বলেন, পতিত ও পলাতক ফ্যাসিস্টের আমলে অন্ধকারের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। আজকের বিজয় মিছিল অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আলোর পথে যাত্রা।
মন্তব্য করুন


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আনুপাতিক হারে নির্বাচনের প্রশ্নই ওঠে না। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঢাকাস্থ ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় না বিএনপি। এছাড়া, বিএনপি আনুপাতিক হারে নির্বাচনের ব্যবস্থার পক্ষে নয়।
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিগত ১৭ বছরের সব গণহত্যার জন্য শেখ হাসিনা দায়ী। তিনি আরও বলেন, দেশে কোন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা বা নিষিদ্ধ হবে কিনা, তা জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।
এছাড়া, ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনার লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।
মন্তব্য করুন


দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে নির্বাচন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন আমীর খসরু। এ সময় বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস উপস্থিত ছিলেন।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে অবদান রাখায় গোয়েন লুইসের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান আমীর খসরু।
বৈঠকে দেশের বর্তমান পটভূমি, নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে জানান আমীর খসরু। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের শাসন ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘের যে প্রতিশ্রুতি, তা নিয়েও কথা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য জানান, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যাবে, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, এর বাইরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যত দিন প্রত্যাবাসন না হয়, তত দিন রোহিঙ্গাদের বিষয়ে জাতিসংঘ কাজ করতে সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
গোয়েন লুইস বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। জাতিসংঘ নির্বাচন কমিশনকে সমর্থনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। প্রযুক্তিগত স্তরে সবকিছু ঠিকঠাক আছে কি না, তা নিশ্চিত করছে।
ঐকমত্যের প্রসঙ্গে কথা বলেন গোয়েন লুইস। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্য তৈরির ক্ষেত্রে কাজ করেছে। সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, যাতে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।
রোহিঙ্গা পরিস্থিতির নিয়ে গোয়েন লুইস বলেন, শরণার্থীদের প্রতি অবিশ্বাস্য আতিথেয়তা দেখানোয় বাংলাদেশকে তারা সাধুবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


শেখ হাসিনার ফাঁসি দেখা পর্যন্ত আল্লাহ যেন বেগম খালেদ জিয়াকে বাঁচিয়ে রাখেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। শনিবার (২৯ নভেম্বর) হাসপাতালে অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সামনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আল্লাহ যেন ওই জিনিসটা (শেখ হাসিনার ফাঁসি) বেগম খালেদা জিয়াকে দেখায়, যার কারণে তার আজকে এই পরিণতি হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে জেলের মধ্যে সঠিক চিকিৎসা নিতে দেয়া হয়নি। যদি কোনো ডাক্তার তার চিকিৎসা করতে আসতেন, তখন ওই ডাক্তারকে হয়রানি করা হতো। এভাবে ক্রমশ তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে।
দল-মত নির্বিশেষে দেশবাসী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করছে উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, তিনি যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং ফ্যাস্টি খুনি হাসিনার ফাঁসি যেন তিনি দেখে যেতে পেরেন—আপনার সবাই তার জন্য দোয়া ককরবেন।
রাজধানীর একটি হাসপাতালের সিসিইউতে ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ অবস্থায় চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়া। ফুসফুসে সংক্রমণ থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। এরপর দেখা দেয় নিউমোনিয়া। এর সঙ্গে রয়েছে কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পুরনো সমস্যা। ফলে একটি রোগের চিকিৎসা দিতে গেলে আরেকটির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে তার আশু-রোগমুক্তি কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেনের পাঠানো বার্তায় রাষ্ট্রপতি সংকটাপন্ন খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে এ দোয়া প্রার্থনা করেন।
এর আগে, শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি নিয়মিত বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া জাতির জন্য ভীষণ রকম অনুপ্রেরণা। তার সুস্বাস্থ্য দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী লীগকে ভোটে আনা নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আওয়ামী লীগ নিজেরাই রাজনীতিতে ফেরার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অথচ আমরা কেউ কেউ, যারা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, তাদের নিয়ে ঝগড়া করে ফোকাস তৈরি করছি এবং তাদের সবার সামনে নিয়ে আসছি।
সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা নিয়ে শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মান্না বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক পথ থাকতে হবে এবং একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিচার হতে হবে।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করছি না। এটা রাজনৈতিক প্রস্তাব। তবে সরকার ও সরকারপ্রধান জনগণকে আহ্বান জানাবেন, সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সাড়ে সাত মাসে সাড়ে সাত সেন্টিমিটারও অগ্রগতি করতে পারেনি। নতুন কোনো রাজনৈতিক বয়ান দিতে পারেনি, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে ও মানুষের সহানুভূতি পাবে এমন কোনো বক্তব্য দিতে পারেনি। এ রকম পরিস্থিতিতে তারা রাজনীতি করে জনগণের সামনে এসে দাঁড়াতে পারবে, সে সম্ভাবনা দেখি না।
নাগরিক ঐক্যের নেতা বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা যাবে কি না, সে ব্যাপারে সমঝোতার প্রস্তাব নাকি দেওয়া হয়েছে এবং ছাত্ররা বলছে, এ রকম সমঝোতা কারো কারো সঙ্গে নাকি হয়েছে। এ জন্য কোনো কোনো দল কথা বলেনি এবং এখনো বলছে না। সমঝোতা করেই যদি নির্বাচন হয়, তবে এগুলো করার দরকার কি। সংস্কার তো কোনো কাজই করবে না। যে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এত বছর লড়াই করে গণতন্ত্রের পথ এসেছে।
সরকারকে এ ব্যাপারে সন্তোষজনক ব্যবস্থা নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনজুর কাদের। তিনি বলেন, সংস্কার কমিশনগুলো জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে এখন সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন, সেদিকে পূর্ণ মনোযোগ না দিয়ে সংস্কারের নামে কিছু অযৌক্তিক ও অপ্রাসঙ্গিক প্রস্তাবের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে চারটি প্রদেশে দেশকে ভাগ করা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ও সংসদের উচ্চকক্ষ সৃষ্টি, ৫০৫ আসনের আইনসভা ইত্যাদি প্রস্তাবনা নিয়ে অহেতুক সময় এবং সম্পদের অপব্যবহার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নাগরিক ঐক্য ধরে নিচ্ছে, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ যে ধরনের সংস্কার করবে, তার একধরনের সিদ্ধান্ত তারা আগেই নিয়ে রেখেছে। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জানতে চাচ্ছে, তাদের সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দলগুলো একমত কি না। যারা একমত, তারা কিসে কিসে একমত ও যারা একমত নয়, তারা কোথায় কোথায় একমত নয়।
নাগরিক ঐক্য ১০৪টি প্রশ্নে একমত, ৫১টি প্রশ্নে একমত নয় ও ১১টি প্রশ্নে আংশিক একমত হয়েছে।
কমিশনের প্রশ্ন তৈরিতে অমনোযোগিতার ছাপ রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
নাগরিক ঐক্য বলেছে, নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার সম্পর্কে পক্ষপাতের গুঞ্জন আছে। এ পক্ষপাত দেশের জন্য কতটা মঙ্গল বয়ে আনবে তা বলা মুশকিল, তবে গণতান্ত্রিক উত্তরণ যে ঘটাবে না, তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চাওয়ার পরই সচিবালয়ে আগুন লাগার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স-স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (রুনেসা) আয়োজিত ‘রক্তাক্ত মতিহার ও রিজভী আহমেদ: ২২ ডিসেম্বর ১৯৮৪ স্মরণে’ এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, "সরকারের সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো কেমন হবে, তা আমরা নির্ধারণ করতে পারি না। তবে সাম্প্রতিক সাইবার সংশোধনের দৃষ্টিতে বোঝা যাচ্ছে, এর থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশা করা যাচ্ছে না।"
তিনি আরও বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা শঙ্কিত ও ভীত। এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে ভয়। এর আগেও দেখা গেছে, জনগণের প্রতিবাদের মুখে কোনো সচিব বা মন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট নথি গায়েব হয়ে যায় কিংবা সচিবালয়ে আগুন লাগে।"
রিজভী আহমেদ বলেন, "গতকাল (বুধবার) মধ্যরাতে সচিবালয়ে যে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, এতে বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে গেছে। ঘটনাটি জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। মাত্র কিছুক্ষণ আগেই সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়েছিল, সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি চাওয়া হয়েছে। এরপরই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে জনমনে বিশাল প্রশ্ন উঠেছে।"
তিনি এই অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করেন। তিনি বলেন, "শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠদের কিছু নথি চাওয়ার পরই সচিবালয়ে নথিপত্র পুড়ে যাওয়া এবং ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এই ঘটনা মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে এবং সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।"
রিজভী আরও বলেন, "রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা একটি রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। যদি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্ধারণ করে দেয়, তবে মানুষের আত্মত্যাগের কোনো মূল্য থাকবে না।"
ভারতের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। রিজভী বলেন, "গণতান্ত্রিক দেশ হয়েও ভারত কীভাবে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছিল? শেখ হাসিনার মাধ্যমে ভারত তার নীতি বাংলাদেশে বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়েছে। তবে শেখ হাসিনার সময়কাল শেষে একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশকে বিশ্বের সবাই স্বীকৃতি দিলেও ভারত তা দেয়নি।"
তিনি বলেন, "বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলোর আত্মত্যাগকে কখনো অস্বীকার করা যাবে না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপিকে দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে কি না, তা নিয়েও জনগণের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।"
মন্তব্য করুন


আওয়ামী লীগের দোসরদের সঙ্গে বিএনপির কোনো আতাঁত নেই। আর তাদের দোসররা যেন খোলস পাল্টাতে না পারে সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার সকালে নবনির্বাচিত পিরোজপুর জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে রাজধানীর সংসদ ভবনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ভয়ংকর ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের প্রতীক হিসেবে শেখ হাসিনাকে উল্লেখ করেন রিজভী। বলেন, বহুধরনের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত মাস্টারপ্ল্যান চলছে। জুলাই শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়।
রিজভী বলেন, নিউইয়র্কে অন্তর্বর্তী সরকার দক্ষতা দেখাতে পারলে ফ্যাসিবাদের দোসররা এম কর্মকাণ্ড ঘটানোর সাহস পেত না। সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় দোসরদের প্রেতাত্মারা দেশে নামতে পারছে, বিদেশের মাটিতে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখনও অর্থ লুটপাটকারীদের টাকা দেশে ফেরত আনতে পারেনি, বিচারও করতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দুদক দৃশ্যমান নয়, অথর্ব হিসেবে কাজ করছে।
নিউইয়র্কে মির্জা ফখরুলকে কেউ লাঞ্চিত করেনি দাবি করে রিজভী বলেন, নানা অপপ্রচার শুরু হয়েছে তাকে নিয়ে। এসবের সবকিছু মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এখনও ষড়যন্ত্র চলছে জানিয়ে বিএনপির অন্যতম এই সিনিয়র নেতা নেতাকর্মীদের ঐকবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। বলেন, তৃণমূলের মাধ্যমে দল এমনভাবে সুসংহত করতে হবে যেন জনগণ ধানের শীষে ভোট দেয়।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের আরোপ করা পাল্টা শুল্কের হার ৩৫ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে আনাকে রপ্তানি খাতের জন্য একটি ‘সন্তোষজনক অবস্থা’ হিসেবে দেখেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ শুক্রবার দুপুরে গুলশানে নিজের বাসায় সাংবাদিকদের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় এই অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, এটা জয়-পরাজয়ের কোনো বিষয় না। যে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে সে হিসেবে প্রতিযোগিতায় আমরা তুলনামূলকভাবে একটা সন্তোষজনক অবস্থানে আছি। আমরা ২০ শতাংশ, পাকিস্তান ১৯ শতাংশ, ভিয়েতনামে ২০ শতাংশ আর ভারতে ২৫ শতাংশ। সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি, সার্বিকভাবে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে ট্যারিফের ফিগারটা সন্তোষজনক। ট্যারিফ বিষয়ে আমাদের প্রতিযোগীতাদের সঙ্গে সেটা হয়েছে সেটা ঠিকই আছে। এটা সন্তাষজনক।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের নতুন এই হারের পেছনে কী আছে সে প্রসঙ্গ টেনে সাবেক বানিজ্যমন্ত্রী বলেন, পুরো নেগোসিয়েশনের সার্বিক বিষয়টা তো আমাদের জানা নেই। আমরা শুধু ট্যারিফের বিষয়টা জানি। সার্বিক বিষয়টা জানার পরে এই বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব। এর (ট্যারিফ) বিপরীতে আর কী দিতে হয়েছে সেটা না জানা পর্যন্ত তো এর ইমপ্যাক্টটা কী হবে সেটা আমরা বলতে পারছি না।
এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, নেগোসিয়েশনের পেছনের যে বিষয়গুলো, এটা তো একটা প্যাকেজ। এখানে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুধু ট্যারিফের কত পারসেন্ট কমানো হলো সেটা তো সিদ্ধান্ত হয়নি। এই সিদ্ধান্তের পেছনে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের কী দাবি-দাওয়া ছিলো এই বিষয়গুলো প্রকাশ হলে আমরা বুঝতে পারব।
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারণে একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন, এখন কী তারা স্বস্তির মধ্যে এসেছেন কি না জানতে চাইলে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি তো বলছি, আপাতত ২০ শতাংশ ট্যারিফ নির্ধারণ অন্তত এই মুহুর্তে আমাদের রপ্তানি বাজার বাধাগ্রস্থ করবে না। সুতরাং এই মুহুর্তে এটা সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত।
সম্প্রতি বানিজ্য সচিব যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার একটা কথা বলেছেন। এটার সঙ্গে ট্যারিফের কোনো সম্পর্কের ইঙ্গিত করছেন কি না প্রশ্ন করা হলে আমীর খসরু বলেন, কিছু তো করতেই হবে। কারণ আমেরিকানদের পুরো ট্যারিফের বিষয়টা হচ্ছে তাদের পণ্য রপ্তান্তির স্বার্থে। সেজন্য তো এই অতিরিক্ত ট্যারিফ আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে বাংলাদেশ কতটুকু অ্যাবজর্ব করতে পারবে, আমাদের অর্থনীতি কতটুকু এবজর্ব করতে পারবে, আমাদের ব্যবসায়ীরা কতটুকু এভজর্ব করতে পারবেন, আমাদের ইকোনমি কতটুকু এবজর্ব করতে পারবে সেই বিষয়গুলো আলোচনার বিষয়। আমরা বিস্তারিত জানলে সেটার ওপর মন্তব্য করতে পারব।
একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো বিষয়টা খোলাসা করা উচিত।
আমীর খসরু বলেন, বাণিজ্য শুধু আমাদের আমেরিকার সঙ্গে নয়, অন্যান্য দেশেও আমাদের পণ্য রপ্তানি হয়। সেই জায়গাগুলো বিবেচনায় নিয়ে সম্মিলিতভাবে আমরা কোথায় দাঁড়াচ্ছি সেটা বুঝতে হবে, পর্যালোচনা করতে হবে। একই সঙ্গে রপ্তানিটা আমাদের আরো বেশি ডাইভারসিফাই করতে হবে। বিদেশে ডাইভারসিফাই করতে হবে। দেশেও ডাইভারসিফাই দরকার। আমাদের শুধু আমেরিকা নির্ভরশীল অর্থনীতি হতে পারে না। সেটাই হচ্ছে আমাদের আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, সেজন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ, অর্থনীতিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহন এবং আমাদের যে ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ইউজ অব ড্রিম বিজনেস যেটা অত্যন্ত নিচে এখন, সেটাকে এই ডিরেগুলেশনের মাধ্যমে, রিভেলুয়েশনের মাধ্যমে আমাদের পরিবর্তন আনতে হবে। বড় ধরনের পরিবর্তন আমাদের আনতে হবে।
মন্তব্য করুন


বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন আমরা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চাই। এই প্রক্রিয়ায় যত দেরি হবে, ততই আমাদের সংকট আরও গভীর হবে।
আজ সোমবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান।
আমীর খসরু বলেছেন, ‘অগণতান্ত্রিকভাবে যেই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, একটা পর্যায়ে গিয়ে তারা টিকে থাকার জন্য এবং ক্ষমতা অব্যাহত রাখার জন্য মিডিয়াকে চাপের মধ্যে রাখতে চায়। এটা আমাদের স্বীকার করতেই হবে। সুতরাং আমাদের ঐক্য হতে হবে গণতন্ত্রের পক্ষে, আমাদের ঐক্য হতে হবে গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য। যার মধ্যে মিডিয়ার স্বাধীনতাও অন্তর্নিহিত। এর কোনো বিকল্প নেই। কোনো রকম বক্তব্য কিংবা তথাকথিত সংস্কার এদেশে গণতান্ত্রিক শাসন নিশ্চিত করতে পারবে না।’
খসরু বলেন, ‘সরকারকে হতে হবে মানুষের কাছে দায়বদ্ধ, জবাবদিহিমূলক। বারবার জনগণের দিকে তাকাতে হবে, জনগণের কাছে যেতে হবে। আর এই জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে মিডিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও মিডিয়া সরাসরি জবাবদিহিতা আদায় করে না, তবুও নির্বাচিত সংসদের মতো মিডিয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ জবাবদিহিমূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। তারাও জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।’
তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে আমরা গণতন্ত্র পুনর্প্রবর্তনের জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকব। আমরা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চাই। এই প্রক্রিয়ায় যত দেরি হবে, ততই আমাদের সংকট আরও গভীর হবে।’
তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য, গণতান্ত্রিক অর্ডার যত দ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে আনতে হবে। মিডিয়ার সহযোগিতা ও জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি—এটাই আমাদের জন্য সর্বাধিক লাভজনক হবে।’
তিনি আরও বলেন, আগামীর ঐক্য হবে গণতন্ত্র, স্বাধীনতার জন্য। এ সময়, আগামীতে মানুষের জন্য দায়বদ্ধ সরকার দরকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন।
এই বৈঠকে বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক এবং চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বিশেষ সহযোগী উপদেষ্টা কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


গণতন্ত্র মানে অন্যের মতকে সম্মান দেওয়া বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কথা বলার সুযোগ অব্যাহত থাকলে আপনা আপনিই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
আমীর খসরু বলেন, স্বৈরাচারের পতনের পর বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তন বুঝতে না পারলে কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি টিকতে পারবে না।
রবিবার (১০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩৬৫ দিন’ শীর্ষক সংলাপে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।
এ সংলাপ আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
সাংঘর্ষিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘বক্তব্যের মাধ্যমে বিষোদগার বন্ধ করতে হবে। গণতন্ত্র মানে অন্যজনের কথা শুনে সহ্য করা, তার মতকে সম্মান দেওয়া।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে সংস্কার অসম্ভব। বিপ্লবোত্তর যে দেশ দ্রুত নির্বাচন করেছে, তারা ভালো করেছে; যারা দীর্ঘ সময় নিয়েছে, সেখানে অন্তঃকোন্দল বেড়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দিকে যাচ্ছে। এটা একটি অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব যেখান থেকে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে, সেখান থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। জনগণকে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে।
আমীর খসরু বলেন, ঐকমত্যের প্রচেষ্টা একটি ভালো উদ্যোগ। আলাদা দর্শন থাকবে, কিন্তু সবাইকে এক জায়গায় আসতে হবে—এটা বাকশালের আদর্শ। চাপিয়ে দেওয়া কোনো পরিবর্তন টেকসই হবে না। অর্থনৈতিক উন্নতি করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
এই সরকারের সময় বিনিয়োগ আসেনি মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এতে তাদের দোষ নেই। বিনিয়োগে বাংলাদেশ অনেক নিচে। সিরিয়াস ডিরেগুলেশন ও সিরিয়াল লিবারেলিজম ছাড়া দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়া যাবে না।
সরকারের অনেক দায়িত্ব বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে হবে। ট্রেড বডিগুলোর হাতে অনেক কার্যক্রম তুলে দিয়ে সরকারকে নির্ভার হতে হবে। ফিজিক্যাল কন্ট্রাক্ট না কমালে দুর্নীতি কমানো যাবে না। দেশে যত নিয়ন্ত্রণ (রেগুলেশন) থাকবে, তত দুর্নীতি বাড়বে। অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করতে হবে, সবার অংশগ্রহণ লাগবে, যোগ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদের বাজেট চালিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট দেওয়া উচিত ছিল।
মন্তব্য করুন