

বাংলাদেশের তিস্তা পাড়ের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা সরেজমিনে দেখতে নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে তারা রংপুরের কাউনিয়া ব্রিজ সংলগ্ন তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরিবেশ উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত একটি নৌকায় করে তিস্তার উভয় তীর পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তারা বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং পরিবেশগত বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রদূত নদীর তীরবর্তী এলাকার ভুক্তভোগী মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। ভাঙনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বর্তমান অবস্থা, জীবনযাত্রার সংকট এবং তাদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন তারা। এ সময় তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেন এবং এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা এই অঞ্চলের মানুষের মনে আজকের এই উচ্চপর্যায়ের সফর নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কাউনিয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা ত্রাণ নয়, বরং নদীর স্থায়ী বাঁধ এবং ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ চান।
তিস্তা পাড়ের স্থানীয় আকবর আলী বলেন, চীনা রাষ্ট্রদূত আজকে এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা। এটি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের মানুষে জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি তারা একটি নিশ্চিত জীবন পাবেন।
পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও ব্যাপকভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা করছে চীন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প বাস্তবায়নে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চীন। আজকের এই সফর সেই প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এ সময় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা আমাদের অগ্রাধিকার। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই অঞ্চলের মানুষ প্রতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা বন্ধুপ্রতিম চীনের সঙ্গে মিলে একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজছি।
তিনি আরও বলেন, এখন এটা দুই ধরনের সমীক্ষা চলছে। একটা হচ্ছে এই প্রকল্পটার যে ফিজিবিলিটি হয়েছে, এটা শতভাগ ফুলপ্রুফ কি না, সঠিক কি না; এটা হচ্ছে প্রযুক্তিগত দিক। আরেকটা হচ্ছে আর্থিক দিক। এখানে বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ তো, এই আর্থিক বিনিয়োগটা চীন সরকার করলে ওটা তাদের জন্য টেকসই হবে কি না।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সবসময় পাশে থাকতে চায়। তিস্তা নদী অঞ্চলের মানুষের সমস্যাগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এই পরিদর্শন আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক হবে। আশা করছি খুব শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে।
এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূত চলমান কারিগরি মূল্যায়ন দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে চীনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় তার সরকারের অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনরায় উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে রোববার সন্ধ্যায় রংপুরে পৌঁছান চীনা রাষ্ট্রদূত। সেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ফলাফলের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবীর।
এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। ফলে এবার পাসের হারে বড় ধরনের ধস দেখা গেছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবারের পরীক্ষায় ১৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ২০২৪ সালে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫১টি। সেই হিসাবে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৮৩টি।
অন্যদিকে, এবার মাত্র ৯৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করেছে। যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৯৬৮টি। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ১ হাজার ৯৮৪টি।
চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। মোট পাস করেছে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ২৮ হাজার ১৮১ জন। এর মধ্যে সাধারণ বোর্ডে ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৪২ জন, মাদরাসা বোর্ডে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ১০ এপ্রিল এবং শেষ হয় ১৩ মে। এবার ফল প্রকাশে কোনো আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে একটি মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়।
মন্তব্য করুন


বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, মানবিক ও ভালো মানুষ না হলে দেশের উন্নতি সম্ভব না।
আজ শনিবার মিরপুর সেনানিবাসে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (এমআইএসটি) ‘মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড সাইন্স’ বিষয়ক তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।
সেনাপ্রধান বলেন, ‘শুধু ভালো ইঞ্জিনিয়ার নয়, ভালো মানুষ হতে হবে। তাহলেই দেশের উপকার হবে।’
তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলা মেনে চললে দেশই লাভবান হবে। উন্নয়নের জন্য প্রকৌশল শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।’ এসময় পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজনকে পুরস্কার দেন তিনি।
তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য শক্তি, উৎপাদন কৌশল, তাপ প্রকৌশল ও মহাকাশ গবেষণাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, চীন, জাপান ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা গবেষক ও পেশাজীবীরা অংশ নেন।
মন্তব্য করুন


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর, এই সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিনের নেতৃত্বে দলটি বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম আজ মঙ্গলবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে জানান, 'বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুল্কবিষয়ক আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানও এই প্রতিনিধিদলের সদস্য।'
শফিকুল আলম আরও জানান, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানান, আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।'
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের ঘোষণায় শুধু বাংলাদেশ নয়, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মিয়ানমার, লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, সার্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালয়েশিয়া ও তিউনিসিয়ার পণ্য রপ্তানির ওপরও বিভিন্ন মাত্রায় শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার ও লাওসের পণ্যের ওপর ৪০ শতাংশ, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার ওপর ৩৬ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ওপর ৩২ শতাংশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে হোয়াইট হাউস।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই শুল্ক কার্যকর করার সময়সীমা ৯ জুলাই থেকে পিছিয়ে ১ আগস্ট নির্ধারণ করেছেন, যেন আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়।
শফিকুল আলম জানায়, ইতোমধ্যে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই আরেক দফা বৈঠকের কথা রয়েছে, যেখানে শেখ বশিরউদ্দিন বাংলাদেশি দলের নেতৃত্ব দেবেন। ঢাকা আশা করছে, আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি চুক্তি হবে, যা দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, 'শুল্ক কার্যকর হওয়ার সময় পিছিয়ে দিলেও তার হুমকির প্রভাব একটুও কমবে না। বিশ্বনেতারা প্রতিদিন প্রেসিডেন্টকে ফোন করছেন এবং একের পর এক প্রস্তাব দিচ্ছেন চুক্তিতে পৌঁছাতে।'
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সিএনবিসিকে বলেন, 'সামনের দিনগুলো অত্যন্ত ব্যস্ত হবে। আমার ইনবক্স ইতোমধ্যেই ভরে গেছে—নতুন নতুন প্রস্তাব, সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।'
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রশাসন যেসব দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি করছে, সেসব দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর এই বাড়তি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর ৩৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা আসে, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে এখনো আলোচনা ও চুক্তির সুযোগ রেখে দিয়েছে উভয় পক্ষ।
মন্তব্য করুন


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, গোটা জাতি আজ লন্ডনের দিকে তাকিয়ে। বিশ্বাস করি এটি হবে ঐতিহাসিক বৈঠক এবং এ বৈঠকের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে সুবাতাস বইবে।
বুধবার (১১ জুন) দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে ডিসেম্বরে নির্বাচনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে বিএনপি। যৌক্তিক সময়েই নির্বাচন হবে বলে জাতি প্রত্যাশা করে। আলোচনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনসহ সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের প্রতি ভয়ংকর বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে তারা হিংস্র হয়ে উঠেছে। বিদেশী তকমা দিয়ে প্রতিদিন পুশইন হচ্ছে। পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া লাগানোর প্রচেষ্টা। সীমান্ত এলাকায় পুশইনের হিড়িক লেগেছে। বাংলাদেশ কি বর্জ্য ফেলার স্থান, প্রশ্ন রাখেন তিনি।
দেশের লোককে বিদেশী বানিয়ে ভারত বাংলাদেশে পুশইন করতে চাইলে প্রতিবাদের পাশাপাশি প্রতিরোধ করবে বাংলাদেশ। ভারতকে মনে রাখতে হবে অত্যাচার-নিপীড়ন করে শেখ হাসিনাও টিকে থাকতে পারেনি।
সম্প্রতি করোনা প্রকোপ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভারতে এরই মধ্যে ৭ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশেও আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে একজন মারাও গেছে। এ বিষয়ে সরকারকে দ্রুত করনীয় নির্ধারণ করে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। সুরক্ষার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
‘পাশাপাশি ডেঙ্গুও মারাত্মক রূপ নিয়েছে, জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। এর জন্য সরকারের সঙ্গে জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বা জানান।’
ঈদযাত্রা ঘিরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৫৭ জন মৃত্যুর সংবাদে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন্য এই দুর্ঘটনা বেড়েছে। এছাড়াও ঈদে সমাজবিরোধীদের দৌরাত্মও ছিল। ফ্যাসিবাদমুক্ত নির্ভয়ে ঈদ উদযাপন আনন্দের ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতির অবনতি দেখা গেছে। প্রশাসন আরও তৎপর হলে তা কমানো সম্ভব হতো।
মন্তব্য করুন


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ঘিরে দেশে কোনো অস্থিরতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মহান বিজয় দিবস-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে দিবসের কর্মসূচি অনুযায়ী সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ত মন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর একটা অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে কোনো শঙ্কা দেখছেন কিনা, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, রায় হওয়ার পরে কোনোরকম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়নি।
বিজয় দিবসেও কোনো অস্থিরতার শঙ্কা নেই। কোনো কর্মসূচিতেও পরিবর্তন নেই। আগে যেভাবে সব কর্মসূচি হয়েছে, এবারও সেভাবে হবে। গতবার প্যারেড হয়নি, এবারও হবে না।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া কাউকে উঠিয়ে নেওয়া উচিত নয়, কিন্তু গতকাল রাতে ডিবি পরিচয়ে এক সাংবাদিককে তুলে নেওয়া হয়েছে। পরে আবার ফেরতও দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই জিনিসটা আমি প্রথম শুনলাম। অনুসন্ধান করার পর হয়তো আমি জানতে পারব।
এভাবে তুলে নেওয়াটা অপরাধ কিনা, জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা আমি দেখব।’
মন্তব্য করুন


রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান (এফ-৭ বিজিআই) বিধ্বস্ত হয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে আগুন ধরে যায়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়ন করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনায় পড়ে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৯ জন দগ্ধ হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. নাসির উদ্দিন জানায়, এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক দগ্ধ রোগী ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, 'বহু দগ্ধ রোগীর অবস্থা গুরুতর। তাদের চিকিৎসায় প্রচুর রক্তের প্রয়োজন হবে। এ কারণে আশেপাশের স্বেচ্ছাসেবী ও রক্তদাতাদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।'
বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনও আহতদের সহযোগিতায় প্রস্তুতির কথা জানিয়ে পোস্ট করছেন। কেউ দোয়া করছেন, কেউ দিচ্ছেন রক্তদানের আহ্বান।
মন্তব্য করুন


খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, সরকারের রাজস্ব প্রয়োজন এবং প্রচুর ভর্তুকিও দিতে হয়। এই অর্থ কোথাও না কোথাও থেকে সংগ্রহ করতে হয়। তাই কিছু পণ্যের ওপর ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে, এতে সাধারণ মানুষের তেমন কোনো অসুবিধা হবে না।
সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে মাদারীপুর সার্কিট হাউসে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এছাড়া, খাদ্য উপদেষ্টা আরও জানান, এ বছর অকাল বন্যায় আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সেই ঘাটতি পূরণের জন্য বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আশাবাদী যে, আগামীতে ভালো ফসল হবে এবং ইরি ধানের বাম্পার ফলন হলে দেশে চালের অভাব হবে না, ফলে আর বিদেশ থেকে চাল আমদানি করতে হবে না।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করা এবং সেগুলি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সঠিকভাবে পৌঁছানো। দেশের চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানি কার্যক্রম সহায়ক হবে। এছাড়া, ওএমএস-এর সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে। ইতোমধ্যে, প্রতি উপজেলায় দুই টন চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় আগামী দুই মাসে ৫০ লাখ উপকারভোগী ১৫ টাকা কেজিতে ৩০ কেজি চাল পাবেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ে কিছু অনিয়ম রয়েছে এবং সেই বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান করছে। ভবিষ্যতে এ অনুসন্ধান চলবে।
এসময় মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ইয়াসমিন আক্তার, পুলিশ সুপার মো. সাইফুজ্জামান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. হাবিবুল আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


স্টাফ রিপোর্টারঃ
এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ফটকে তালা ঝুলিয়ে ফলাফল পরিবর্তন করে পাস ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।
রোববার (২০ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে কুমিল্লা বোর্ডের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেন এবং প্রধান ফটক আটকে দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, এসএসসিতে ভালো ফলাফল করলেও এবারের এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। সাতটি বিষয়ে পরীক্ষা দিলেও বাকী বিষয়গুলোর ফলাফল এসএসসির উপর ভিত্তি করে ম্যাপিং করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা চায়, সব বিষয়ের ফল ম্যাপিং করে তাদের পাস দেখানো হোক।
জানা গেছে, সম্প্রতি প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা সকাল থেকেই বোর্ডে জড়ো হন। তারা বোর্ডের সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ করেন এবং নানা স্লোগান দেন। পরে বোর্ডের নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিছু শিক্ষার্থী বোর্ড চেয়ারম্যানের ভবনে গিয়ে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের একজন প্রতিনিধি বোর্ড চেয়ারম্যান ড. নিজামুল করিমের সঙ্গে দেখা করেন। চেয়ারম্যান তাদের লিখিত অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন বলে আশ্বাস দেন।
তবে সেই আশ্বাসে অনেক শিক্ষার্থী সন্তুষ্ট না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল পরিবর্তনের দাবি জানান। বিকেল পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ফটকে অবস্থান করে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে বলেছি এবং তাদের দাবির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানাবো। কিন্তু তারা তা না শুনেই বোর্ডের সামনে বসে আছে। তারা সবাই আজই পাস চায়।’
মন্তব্য করুন


সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ বিচারপতি শপথ নিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট ভবনের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।
শপথ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার (বিচার) মোয়াজ্জেম হোসাইন।
শপথ নেওয়া ২৫ বিচারপতি হলেন- সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম (শাহীন), আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাজিউদ্দিন আহমেদ ও ফয়সাল হাসান আরিফ, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব এস এম সাইফুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসিফ হাসান ও মো. জিয়াউল হক, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দিহিদার মাসুম কবীর, হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সচিব মুরাদ-এ-মাওলা সোহেল, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন, সলিসিটর (সিনিয়র জেলা জজ) মো. রাফিজুল ইসলাম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুর আলম, মো. লুৎফর রহমান ও রেজাউল করিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাতেমা আনোয়ার, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদ হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুর রহমান, সৈয়দ হাসান যুবাইর, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ এম সাইফুল করিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উর্মি রহমান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ।
গতকাল সোমবার (২৫ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে ২৫ জনকে নিয়োগ দিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
মন্তব্য করুন


কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে সামরিক মহড়া চালানোর ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। সোমবার (৬ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিমা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে উস্কানিমূলক হুমকির পরে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামরিক মহড়াটি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে যুদ্ধের ময়দানে কৌশলগত নয় এমন পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন ও এর ব্যবহারের প্রস্তুতি নিতেই ওই মহড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন বিষয়ক দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক বিভাগ ও নৌবাহিনী এতে অংশ নেবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রুশ ফেডারেশনের বিরুদ্ধে কিছু পশ্চিমা কর্মকর্তাদের উস্কানিমূলক বিবৃতি এবং হুমকির প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করাই এ মহড়ার লক্ষ্য।
তবে পশ্চিমা দেশগুলো ও ইউক্রেন জানিয়েছে, রুশ বাহিনী পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত পিছু হটবে না তারা।
মন্তব্য করুন