

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করুন। রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের আদালতে মুখোমুখি করার উদ্যোগ নিতে হবে৷ এই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে।
শুক্রবার (২ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এবি পার্টির উদ্যোগে দলটির পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানায়।
তারেক রহমান জানান, দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল সংস্কারের পক্ষে৷ তারপরেও সংস্কার নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার কেনো এতো সময়ক্ষেপণ করছেন? এ নিয়ে জনগণের মনে ধীরে ধীরে প্রশ্ন বেড়েই চলেছে৷ রাজনৈতিক দলগুলোকে অবজ্ঞা এবং জনগণের রায়কে অবহেলা করে রাজনীতিকরণকে উৎসাহিত করা হলে সেটি শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেবে৷ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, সুনির্দিষ্টভাবে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করুন। রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের আদালতে মুখোমুখি করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে৷ এই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জানায়, রাষ্ট্র ও রাজনীতি মেরামতের জন্য সংস্কারের কর্মযজ্ঞ চলছে। চলমান সংস্কার যদি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিকে অবজ্ঞা করতে হয়; তাহলে সংস্কারের তাৎপর্যটা কি? এটি আজ বহু মানুষের প্রশ্ন৷
রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তারেক রহমান জানান, আমাদের দলীয় আর্দশ ভিন্ন হলেও আমাদের উদ্দেশ্যে যেহেতু দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং জনগণের কল্যাণ সাধন। লাখো প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের স্বাধীন বাংলাদেশ, ‘৭৫-এর ৭ নভেম্বরে আধিপত্যবিরোধী তাবেদারমুক্ত বাংলাদেশ, ‘৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী বাংলাদেশ এবং ২০২৪-এর ফ্যাসিবাদবিরোধী বাংলাদেশ৷ দেশের ইতিহাসে এমন প্রতিটি বাঁকে মানুষ কেনো অকাতরে জীবন দিয়েছিলেন? কি ছিল এই শহীদদের স্বপ্ন? শহীদদের স্বপ্ন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল তাদের আত্মত্যাদের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা আমরা করতে পারি।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘৭১ আর ২৪-এর রাজনৈতিক বার্তাটি হলো- দিল্লির তাবেদার হওয়ার জন্য বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে পিন্ডি ত্যাগ করেনি। ১৯৭৫ সালে ৭ নভেম্বরে দেশের সিপাহী জনতা এই বার্তাটি দিয়েছিলেন।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে সভায় জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারী চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মসজিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
মন্তব্য করুন


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। নির্বাচনে তিনি ঢাকার একটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
রোববার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ৩০০ আসন ধরে এগোচ্ছি। প্রার্থীর তালিকা এই মাসেই দিতে পারি।
এনসিপি দ্রুত নির্বাচন চায় জানিয়ে তিনি বলেন, যদিও আমরা নতুন রাজনৈতিক দল। এই এক বছরে আমাদের অনেক কিছু কাঁধে নিতে হয়েছে। আমরা দল গঠনে সেই সময় পাইনি। কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি কম থাকুক, বেশি থাকুক সেই জন্য আমরা কখনো নির্বাচন পেছানোর কথা ভাবি না।
নাহিদ বলেন, দ্রুত নির্বাচন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন প্রয়োজন, দেশের স্থিতিশীলতার জন্য। ফলে ফেব্রুয়ারিকে ধরে আমরা আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেবো।
এনসিপি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের সমস্ত পরিকল্পনা নয়। আমরা নতুন গঠিত হয়েছি। আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছি। এই নির্বাচন আমাদের সামনে একটা প্রথম চ্যালেঞ্জ, প্রথম টেস্ট হবে আমরা এটাতে অংশগ্রহণ করবো। ভালো করি, মন্দ করি এটা জনগণ বিবেচনা করবে।
মন্তব্য করুন


স্বাধীনতা বিরোধীরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সকালে মহান বিজয় দিবসে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের একথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, তারা আজ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ সব ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়ে অবশ্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অটুট রাখবে। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করবে। ইনশাল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখে সেই যুদ্ধে আমরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিলাম। এজন্য এদিন আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
মঙ্গলবার সকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দসহ দলের নেতাকর্মীরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের মাজারে যান তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। এসময় বিএনপি নেতারা শপথ নেন-‘এ দেশের স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ন রাখার জন্য আমাদের যে সংগ্রাম, সেটি অব্যাহত থাকবে’, জানান মির্জা ফখরুল।
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘আজকের এই দিনে আমাদের দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের প্রতি। আমরা এদিনে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি এ দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে আসবেন। তার দেশে আসা যেন গণতন্ত্রের লড়াইকে আরো বেগবান করে, সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বেশ কিছু কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেছেন, অনেক ক্ষেত্রে কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে, যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অন্তরায় হতে পারে। তবে বিদ্যমান ত্রুটিগুলো দ্রুত সমাধান করলে এই কমিশনের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ইসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া। বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভোটারদের কাছে পৌঁছানো পোস্টাল ব্যালটগুলো ত্রুটিপূর্ণ। নির্দিষ্ট একটি দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ব্যালট তৈরি করা হয়েছে।
অনতিবিলম্বে প্রতীক সংবলিত সঠিক ব্যালট পেপার সরবরাহ করতে হবে।’ এ ছাড়া ভোটারদের এনআইডি, বিকাশ নম্বর এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহের তীব্র সমালোচনা করে তিনি এর উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
প্রচারণার ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আচরণবিধি ভঙ্গ করে একতরফা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আমরা এই বিষয়ে বারবার অভিযোগ দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। কারা এবং কেন এই স্থান পরিবর্তন করেছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়েছি আমরা।’
কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘যেসব কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যালট পেপারসহ নির্বাচন প্রক্রিয়ার সব কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান করতে হবে।’
আমরা মনে করি এই কমিশন দিয়েই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, তবে এর জন্য কমিশনকে তাদের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে বলেও জানান মির্জা ফখরুল।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার ধানমন্ডি থানা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম তোলেন তিনি।
এ সময় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং প্রার্থী ও ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। নানা গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য গণতান্ত্রিক রূপান্তর অন্তত গুরুত্বপূর্ণ।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওসমান হাদি একজন প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনের কার্যক্রম দুই মাস আগে থেকেই শুরু করে দিয়েছিলেন। প্রতিদিন তিনি প্রচারণা করতেন। গণতান্ত্রিক উত্তরণের পক্ষ ছিলেন।
আসিফ আরো বলেন, বিগত দেড় বছরে সরকারে কাজ করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটা নির্বাচনী আসনে জনগণের জন্য কাজে লাগাব।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে গণতন্ত্র এবং নির্বাচনের পথকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। নির্বাচন পেছানোর জন্য পতিত শক্তির সঙ্গে দেশি-বিদেশি দোসররা জড়িত থাকতে পারে।’
শনিবার দুপুরে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পেছনে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র রয়েছে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের সমাবেশের মাধ্যমে মেসেজ দেওয়া হবে, কোনো ষড়যন্ত্র আর দানা বাঁধতে পারবে না।’
দলের বাকি মনোনয়নের বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।
মন্তব্য করুন




দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিম্নমানের জন্য রাজনীতিবিদরা দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা’ নামের শিক্ষাবিষয়ক ম্যাগাজিনের আয়োজনে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু অতি মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য উচ্চশিক্ষা রাখা উচিত আর সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বেশির ভাগের জন্য ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল ট্রেনিং ব্যবস্থা করতে পারলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, বিএ বা এমএ পাস করার পর ছাত্রছাত্রীরা কাজ পান না, কারণ, এই ডিগ্রিগুলো চাকরি দিতে পারে না। কিন্তু যদি কেউ বিএসসি পাস করতেন বা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা নিতে পারতেন, তবে তার চাকরি কেউ আটকাতে পারত না। বর্তমানে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা, ইনস্টিটিউট বা ভোকেশনাল সেন্টারগুলোর অভাব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিবিদরাই একটি দেশের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করেন। একজন রাজনৈতিক নেতা যেমন জাতিকে উচ্চ শিখরে নিয়ে যান বা পথ তৈরি করেন, আবার কেউ নিচে নিয়ে যান বা পথ নষ্ট করেন। দেখার বিষয় কে জ্ঞানে গরিমায় রাজনীতিকে সমৃদ্ধ করতে চায় আর কে কেবল নিজের স্বার্থে রাজনীতিকে ব্যবহার করতে চায়।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরে দেশকে সুন্দর করে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে, কিন্তু রাজনীতিবিদদের বিভাজনে সেটি নষ্ট হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দেওয়া সুপারিশ একপেশে এবং তা জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট অযৌক্তিক, অবিবেচনাপ্রসূত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবিত সুপারিশ নিয়ে প্রয়োজনে বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার কাছে যাবে বলেও জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। সেক্ষেত্রে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে প্রস্তাবিত গণভোট অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। সময় স্বল্পতা, নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল অঙ্কের ব্যয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ব্যাপক লোকবল নিয়োগ—এই কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো বিশাল আয়োজনের বিবেচনায় নির্বাচনের পূর্বে গণভোট অনুষ্ঠান অপ্রয়োজনীয়, অযৌক্তিক এবং অবিবেচনা প্রসূত।’
‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দেওয়া সুপারিশ একপেশে এবং তা জাতির ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।’ বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সালাউদ্দিন আহমদ, নজরুল ইসলাম খানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অতীতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা বারবার অপব্যবহারের শিকার হয়েছে, যার মাধ্যমে বরং হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা উৎসাহ পেয়েছে।
তিনি বলেন, 'বিএনপি নীতিগতভাবে একমত যে ক্ষমা প্রদর্শনের বিষয়টি আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত এবং তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।'
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অনুমতির বিষয়টি আলোচনায় আসাকে তিনি ‘সন্তোষজনক অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ বিভাগীয় পর্যায়ে স্থাপনের বিষয়ে বিএনপি সম্মত বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে বিচার ব্যবস্থাকে জনগণের আরও কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'জনগণের কাছে আমাদের দায় অনেক বেশি। এখানে মতামত দলীয় নয়, বরং জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের ভিত্তিতে আলোচনা চলছে। কে কতটা সহযোগিতা করছে, তা জনগণ বিবেচনা করবে।'
সালাহউদ্দিন আহমেদ দ্রুত জাতীয় সনদ প্রণয়নের পক্ষে বিএনপির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন


কিছু করতে হলে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও চিন্তার দরকার মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ৫২ বছরে আমরা ক্ষমতার পরিবর্তনের বিধানই আমরা পরিবর্তন করতে পারিনি। হঠাৎ করে এসে আজ সব পরিবর্তন করে ফেলবো, এমনটি মনে করি না। কিছু করতে হলে সুনির্দিষ্টি লক্ষ্য ও চিন্তা দরকার। বিচ্ছিন্নভাবে জোড়াতালি দিয়ে কিছু করা যায় না।
আজ শনিবার (২৩ আগস্ট) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল আরো বলেন, আমাদের কাঠামোটা সংস্কার করা দরকার। কাঠামোটা বদলাতে হবে। গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। আমরা লাগাব বেগুন গাছ, আসা করব কমলালেবু তা তো হবে না। আমাদের সিস্টেমটা পরিবর্তন করতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের সংকটের অন্যতম কারণ হলো দুর্নীতি। প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতি।
ধীরে ধীরে এটা আরও খারাপের দিকে গেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সংসদ সদস্যদের আইন প্রণয়ন করার কথা। সেই জায়গায় তিনি কোথায় কি ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে তা নিয়ে পড়ে থাকেন।
তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে এবার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের সমাজে যে বৈষম্য, শোসন—এগুলো ঠিক করার একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক দলের আন্তরিকতা প্রয়োজন। এই সুযোগটা ব্যবহার করে আমরা আমাদের যেন লক্ষ্যের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারি।
মন্তব্য করুন