

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর দেওয়া নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি গ্রহণ করার সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাচাদো নিজেই তাকে এই পদকটি উপহার দিয়েছেন এবং তিনি মনে করেন এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি চমৎকার নিদর্শন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে মাচাদোর সঙ্গে সাক্ষাতের পর ট্রাম্প দাবি করেন, আটটি যুদ্ধ বন্ধ করার সাফল্যে মুগ্ধ হয়েই মাচাদো তাকে এই সম্মান জানিয়েছেন। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মাচাদোর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন যে মাচাদো তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘ইতিহাসে আপনার চেয়ে বেশি এই পুরস্কারের যোগ্য আর কেউ নেই’।
হোয়াইট হাউসে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর মাচাদো যখন বের হয়ে আসছিলেন, তখন তার হাতে কেবল ট্রাম্পের স্বাক্ষর সংবলিত একটি ব্যাগ ছিল। অন্য একজনের নোবেল পদক কেন তিনি নিতে চাইলেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন যে, মাচাদো অত্যন্ত সহৃদয়তার সঙ্গে এটি তাকে দিয়েছেন এবং তার কাজের প্রশংসা করেছেন।
ট্রাম্প মাচাদোকে একজন ‘অসাধারণ নারী’ হিসেবে অভিহিত করে জানান যে তিনি মাচাদোর এই সৌজন্যবোধে অত্যন্ত খুশি। মাচাদো নিজেও জানিয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার প্রতি ট্রাম্পের অনন্য প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি তার অর্জিত পদকটি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উপহার দিয়েছেন।
তবে পদকটি হস্তান্তরের খবরটি শিরোনামে আসার পরপরই নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি বিষয়টি নিয়ে পুনরায় তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে যে, নোবেল শান্তি পুরস্কারের কোনো পদক অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করা গেলেও সেই পুরস্কারের মর্যাদা বা খেতাব কখনোই বদলানো সম্ভব নয়।
কমিটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, একজন নোবেল বিজয়ী তার পদকটি কাউকে দিতে পারেন, বিক্রি করতে পারেন কিংবা দান করতে পারেন, তবে ইতিহাসে মূল বিজয়ী হিসেবে কেবল মাচাদোর নামই লিপিবদ্ধ থাকবে। এমনকি পদকটি অন্যের দখলে থাকলেও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর উপাধিটি হস্তান্তরযোগ্য বা বাতিলযোগ্য নয়।
নোবেল কমিটি কোনো রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াতে অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, একজন বিজয়ী তার পদক, ডিপ্লোমা বা পুরস্কারের অর্থ দিয়ে কী করবেন সে বিষয়ে তাদের কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে মাচাদোর এই পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অনেকে এটিকে ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক’ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করলেও মাচাদো দাবি করেছেন যে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর তারা আস্থা রাখতে পারেন। ভেনেজুয়েলার আগামী নেতৃত্ব নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হলেও ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত মাচাদোকে কতটা সমর্থন দেবেন তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
সূত্র: এনডিটিভি, এপি
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়ার নভায়া জমলিয়া দ্বীপপুঞ্জে পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
শনিবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১২তম মেইন ডিরেক্টরেটের সাবেক প্রধান কর্নেল জেনারেল ভ্লাদিমির ভেরখভতসেভ এ তথ্য জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বৃদ্ধিকারী নীতির প্রেক্ষিতে রাশিয়া পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় চালুর বিষয়ে বিবেচনা করছে।
ভেরখভতসেভ জানান, নভায়া জমলিয়া দ্বীপপুঞ্জের পরীক্ষাকেন্দ্রটি কয়েক বছর ধরেই পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় চালুর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অনুমোদন পাওয়া যায়, তাহলে আমরা অদূর ভবিষ্যতেই তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১২তম মেইন ডিরেক্টরেট পারমাণবিক অস্ত্রের নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে আসছে।
এই কেন্দ্রে সোভিয়েত ইউনিয়ন মোট ৭১৫টি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। নভায়া জমলিয়ায় সর্বশেষ পারমাণবিক পরীক্ষা করা হয়েছিল ১৯৯০ সালের ২৪ অক্টোবর।
রাশিয়ার এই ঘোষণাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কারণ এটি ১৯৯৬ সালের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা চুক্তির (CTBT) নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাই দেশটির এমন সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী সামরিক উত্তেজনা এবং পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে রাশিয়ার এই পদক্ষেপ একটি শক্তির প্রদর্শন এবং তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা প্রদর্শনের কৌশল।
মন্তব্য করুন


হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে এক বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তীব্র বাক্বিতণ্ডা হয়। এ ঘটনায় একপর্যায়ে জেলেনস্কিকে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করতে বলা হয়। মার্কিন এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঘটনাটির পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কো রুবিও বলেছেন, জেলেনস্কির উচিত ক্ষমা চাওয়া। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভলোদিমির জেলেনস্কির যে বৈঠক হয়েছে তা বিপর্যয়কর। ইউক্রেনীয় এই নেতার উচিত ক্ষমা চাওয়া।
জেলেনস্কি সম্পর্কে রুবিও আরও বলেন, সেখানে গিয়ে তার প্রতিপক্ষ হওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, "আপনি যখন আক্রমণাত্মকভাবে কথা বলা শুরু করবেন এবং প্রেসিডেন্ট একজন চুক্তিবিশেষজ্ঞ, তিনি সারাজীবন চুক্তি করেছেন— তখন আপনি মানুষকে চুক্তির টেবিলে আনতে পারবেন না।"
রুবিও তার সাক্ষাৎকারে এও উল্লেখ করেন যে, জেলেনস্কি সম্ভবত শান্তিচুক্তি চান না।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের কাছ থেকে ইউক্রেন কয়েক শ কোটি ডলারের অস্ত্র ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছে।
তবে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইউক্রেন নতুন করে সংকটে পড়ে। এই যুদ্ধের জন্য জেলেনস্কিকে দায়ী করেন ট্রাম্প। তাই গতকালের বৈঠকটি নিয়ে সবার নজর ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ওই বৈঠক চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে শেষ হয়।
মন্তব্য করুন


গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। তিনি এই চুক্তির প্রথম ধাপের বাস্তবায়ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে এরদোগান এ ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখানোর কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘বিশেষ ধন্যবাদ’ জানিয়েছেন।
মিশরের শারম এল-শেখ শহরে তিন দিন ধরে চলা আলোচনায় তুরস্ক, কাতার, মিশর ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্ত ছিল। এরদোগান বলেন, আমরা এই চুক্তির সূক্ষ্ম বাস্তবায়ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করব এবং এই প্রক্রিয়াতে আমাদের অবদান অব্যাহত রাখব।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, কেবল চুক্তি বাস্তবায়নই যথেষ্ট নয়। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। তিনি ঘোষণা করেন, আমরা ১৯৬৭ সালের সীমান্তভিত্তিক, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে, স্বাধীন, সার্বভৌম এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা সম্পন্ন একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব।
বিবৃতির শেষে এরদোগান গত দুই বছর ধরে ‘চরম দুর্ভোগ’ সহ্য করা এবং ‘অমানবিক পরিস্থিতিতে’ বসবাস করা ফিলিস্তিনিদের প্রতি তার আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজার সংঘাতে মোহাম্মদ আল-তালমাস নামে আরও এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তিনি ১৩ জানুয়ারি, সোমবার গুরুতর আহত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা বর্ষণের সময় তিনি আহত হন। এ খবরটি আল জাজিরা জানায়।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজার বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনায় ২০৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
আল-তালমাস বার্তা সংস্থা সাফারের সাংবাদিক ছিলেন। তিনি গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্ট, ফেডারেশন অব আরব জার্নালিস্ট এবং বিশ্বের সকল দেশের সাংবাদিক সংস্থাকে গাজার ফিলিস্তিনি সাংবাদিক এবং মিডিয়া কর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের হামলা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা বেশ এগিয়েছে। কাতারের আমিরের সঙ্গে বৈঠকের পর হামাসের একটি প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, গাজার যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভালভাবে এগিয়ে চলছে। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও, অন্যদিকে গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে দখলদার বাহিনী।
বেশ কিছু মেডিক্যাল সূত্র জানিয়েছে, গত ১৩ জানুয়ারি, সোমবার ভোর থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জানুয়ারি, মঙ্গলবার ১২ জন প্রাণ হারিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর উত্তর গাজা অবরোধের শততম দিন পার হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরই গাজায় পাল্টা আক্রমণ চালায় ইসরায়েল।
এখন পর্যন্ত গাজায় এক বছরের বেশি সময় ধরে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে কমপক্ষে ৪৬ হাজার ৫৮৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, এছাড়া আহত হয়েছে আরও ১ লাখ ৯ হাজার ৭৩১ জন। প্রতিদিনই ইসরায়েলি হামলায় নিরীহ ফিলিস্তিনিরা প্রাণ হারাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের মহান বিজয়কে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) নরেন্দ্র মোদি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে এ দাবি করেন।
নরেন্দ্র মোদির পোস্টে লেখা হয়, "আজ বিজয় দিবসে, আমরা ১৯৭১ সালের ভারতের ঐতিহাসিক বিজয়ে অবদান রাখা সাহসী সৈন্যদের সাহস ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানাই। তাদের নিঃস্বার্থ উৎসর্গ এবং অটল সংকল্প আমাদের জাতিকে রক্ষা করেছে এবং আমাদের গৌরব এনে দিয়েছে। এই দিনটি তাদের অসাধারণ বীরত্ব এবং অদম্য চেতনার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাদের আত্মত্যাগ চিরকাল প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আমাদের জাতির ইতিহাসে গভীরভাবে গেঁথে থাকবে।"
নরেন্দ্র মোদির এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, "এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু মোদি দাবি করেছেন, এটি ভারতের যুদ্ধ এবং তাদের অর্জন। তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের অস্তিত্বকেই উপেক্ষা করা হয়েছে।"
তিনি আরও লেখেন, "যখন এই স্বাধীনতাকে ভারত নিজেদের অর্জন হিসেবে দাবি করে, তখন আমি একে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখি। ভারতের এই হুমকির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়া অত্যাবশ্যক। এই লড়াই আমাদের চালিয়েই যেতে হবে।"
মন্তব্য করুন


ইসলামাবাদের জেলা ও দায়রা আদালতের বাইরে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন বলেন জানিয়েছেন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আত্মঘাতী হামলাকারী আদালতে প্রবেশ করতে চেয়েছিল। কিন্তু সুযোগ না পেয়ে একটি পুলিশ গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুর একটার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এখন আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর প্রথম কাজ হচ্ছে হামলাকারীর পরিচয় শনাক্ত করা বলে জানান দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উপস্থিত ডা. আদনান জানান, বিস্ফোরণের পর ১২টি মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং সেগুলো জরুরি বিভাগ থেকে মর্গে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে আইনজীবীদের প্রতিনিধিরা জানান, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন আইনজীবী রয়েছেন, যারা বিস্ফোরণের সময় আদালতের বাইরে তাদের মক্কেলদের সঙ্গে ছিলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোহসিন নাকভি বলেন, ‘আজ ইসলামাবাদে হামলার সঙ্গে অনেক সংযোগ রয়েছে এবং এ বিষয়ে শিগগিরই প্রমাণ সামনে আনা হবে। যেই জড়িত থাকুক না কেন, এমনকি যদি সে অন্য কোনো দেশের নাগরিকও হয়, কাউকে ক্ষমা করা হবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘দুই সপ্তাহ পর থেকে কোনো যানবাহন ই-ট্যাগ ছাড়া ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে পারবে না।’
সূত্র : বিবিসি বাংলা।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
জাতিসংঘের এইড চিফ মার্টিন গ্রিফিথস এক বিবৃতিতে বলেছেন, "বিশ্ব কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে রাফাহকে রক্ষা করার জন্য আবেদন জানালেও সেখানে অবিলম্বে একটি স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সহজ ভাষায় বললে, রাফাহতে স্থল অভিযান চালালে সেটি এমন এক ট্র্যাজেডি হবে যা ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব না।”
গাজার রাফাহতে অবস্থিত উদ্বাস্তুদের একটি ক্যাম্প।
মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, ইসরায়েল শীঘ্রই গাজার রাফাতে হামলা চালাতে পারে। সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, গাজায় সাহায্য প্রদানে ইসরায়েলের ধীর অগ্রগতিকে আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হওয়ার বা ন্যায্যতা দেওয়ার একটি অজুহাত হিসেবে দেখা উচিত নয়।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইসরায়েলের ওপর প্রভাব আছে এমন দেশগুলোকে সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমানে ১.২ মিলিয়নেরও বেশি উদ্বাস্তু ফিলিস্তিনি রাফাতে আশ্রয় নিয়েছেন।
প্রায় সাত মাসব্যাপী যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য এবং ইসরায়েলি জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার জন্য হামাসের সর্বশেষ প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া যাই হোক না কেন মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একটি 'দীর্ঘ প্রতিশ্রুত' হামলা চালানো হবে বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন।
জাতিসংঘের এইড চিফ মার্টিন গ্রিফিথস এক বিবৃতিতে বলেছেন, "বিশ্ব কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে রাফাহকে রক্ষা করার জন্য আবেদন জানালেও সেখানে অবিলম্বে একটি স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সহজ ভাষায় বললে, রাফাহতে স্থল অভিযান চালালে সেটি এমন এক ট্র্যাজেডি হবে যা ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব না।"
গাজার উত্তরাঞ্চলে মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষের প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে বলে আন্তোনিও গুতেরেস জানালেও তিনি সেখানে আরো সাহায্য পাঠানোর ওপর জোর দিয়েছেন। গুতেরেস বিশেষভাবে ইসরায়েলের প্রতি গাজার উত্তরাঞ্চলের দুটি সংযোগস্থল খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্চ মাসে জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গাজায় দুর্ভিক্ষ আসন্ন এবং সম্ভবত মে মাসের মধ্যে গাজার উত্তরাঞ্চলে গাজায় ও জুলাই মাসের মধ্যে ছিটমহলগুলোতে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে। গুতেরেস বলেন, গাজার উত্তরাঞ্চলের অসহায় মানুষ "ইতোমধ্যেই ক্ষুধা ও রোগে মারা যাচ্ছে।"
সাহায্য বাড়াতে এবং রাফাহতে হামলা এড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র ইসরায়েলের উপর কী প্রভাব রাখতে পারে এমন প্রশ্ন করা হলে গুতেরেস বলেন, "একটি সম্পূর্ণ বিধ্বংসী ট্র্যাজেডি এড়াতে সম্ভাব্য সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করাই গুরুত্বপূর্ণ।"
মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, গাজায় সাহায্য বাড়ানোর জন্য ইসরায়েলকে যে পদক্ষেপ নিতে হবে তা নিয়ে তিনি বুধবার (১ মে) নেতানিয়াহুর সাথে আলোচনা করবেন।
৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় হাজারের ওপর মানুষ নিহত হয় এবং ২৫০ জনের বেশী মানুষকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। তারপরেই হামাসকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ও জিম্মিদের উদ্ধার করতে গাজায় সামরিক অভিযান চালানো শুরু করে ইসরায়েল। ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় মৃতের সংখ্যা ৩৫ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য করুন


চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে ২০২৫ সালে আরও সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) নতুন বছরের আগমনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, ২০২৪ সালের শেষে চীনের জিডিপি অন্তত ১৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। খবরটি রয়টার্সের।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে শি জিনপিং বলেন, গত বছরে চীন দেশের ভিতরে এবং বাইরের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নয়নের উচ্চমান ধরে রাখতে সর্বাত্মক নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ ব্যবসায় মন্দা, স্থানীয় সরকারের ঋণের ঊর্ধ্বগতি এবং ভোক্তাদের আস্থার অভাবে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। গত বছর এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে দেশটিকে। এর মধ্যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার ফলে উচ্চ রফতানি শুল্ক আরোপের আশঙ্কাও বাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, চলমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশের সীমানার বাইরে পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, পাশাপাশি পুরোনো থেকে নতুন চালিকাশক্তিতে রূপান্তরের চাপও বাড়ছে।
তবে, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। শি জিনপিং আরও বলেন, ‘‘প্রতিবারের মতো আমরা ঝড়বৃষ্টির মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠব, কঠিন সময়ের মধ্যে আমরা শক্তিশালী হয়ে উঠব। নিজেদের সক্ষমতার ওপর আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে।’’
চীনের কর্তৃপক্ষ গত সেপ্টেম্বরে ঋণের সুদের হার হ্রাস এবং বাড়ি ক্রয়ে বিধিনিষেধ কমানোর মতো পদক্ষেপ নিয়ে নির্মাণ ব্যবসা ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা চাঙা করার চেষ্টা করেছে।
বিদায়ী বছরের শেষ মাসে শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা ২০২৫ সালে তুলনামূলক সহজ মুদ্রানীতি প্রণয়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। এর বাস্তবায়ন হলে, বিগত ১৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বিধিনিষেধমূলক নীতিমালা আসবে। পাশাপাশি, ২০২৫ সালে ভোক্তা ব্যয় এবং বন্ড ইস্যু বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ৪১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের ট্রেজারি বন্ড ইস্যু করতে সম্মত হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন


প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলজুড়ে নতুন করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার (১৫ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাইফা, তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত সাতজন নিহত হয়েছে। চিকিৎসক ও স্থানীয় মিডিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলের তেল আবিব মেট্রোপলিটন এলাকার বাত ইয়াম শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে এখন পর্যন্ত ৩৫ জন নিখোঁজ রয়েছে। সেই সঙ্গে আহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে।
ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা মেগান ডেভিড অ্যাডম জানিয়েছে, বাত ইয়ামে যে তিনজন নিহত হয়েছে তাদের মধ্যে একজন ১০ বছর বয়সী শিশু রয়েছে। এ ছাড়া নিহত অন্য দুইজন নারীর মধ্যে একজনের বয়স ৬৯ এবং আরেকজনের বয়স ৮০ বছর।
এদিকে ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সর্বশেষ, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এ ছাড়া নতুন করে এবার ইরানের তেল স্থাপনা ও গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলের হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক নিহত হয়েছে। নিহতের মধ্যে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও কমান্ডার ও অন্তত ১২ জন পরমাণুবিজ্ঞানী রয়েছেন।
মন্তব্য করুন


দক্ষিণ কোরিয়া দাবি করেছে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার শতাধিক সেনা নিহত হয়েছে। দেশটির একজন সংসদ সদস্য জানান, চলতি মাসে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর থেকে অন্তত ১০০ জন উত্তর কোরীয় সেনা প্রাণ হারিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
লি সাং-কওন নামে ওই এমপি জানান, হতাহতদের মধ্যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও রয়েছেন। সেনাদের অপরিচিত যুদ্ধক্ষেত্র এবং ড্রোন যুদ্ধের অভিজ্ঞতার অভাবের কারণে এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
গত অক্টোবর মাসে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার যুদ্ধে সহায়তার জন্য ১০ হাজার সেনা পাঠায়। চলতি সপ্তাহের শুরুতে, প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ার সেনাদের হতাহতের খবর পাওয়া যায়।
এর আগে, স্থানীয় সময় সোমবার মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্র উত্তর কোরীয় সেনাদের নিহত হওয়ার কথা জানান, তবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেননি।
মন্তব্য করুন