

অভিনেতা
শরিফুল রাজ ও চিত্রনায়িকা পরীমণির সংসার ভেঙে যাচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৭
সেপ্টেম্বর রাতে ডিভোর্স পেপারে সই করেছেন পরীমণি। ১৮ সেপ্টেম্বর পরীমণি রাজকে ডিভোর্স
লেটার পাঠিয়েছেন।
তবে
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রাজ ও পরীমণির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পক্ষ থেকে
কোনো সাড়া মেলেনি।
নাম
প্রকাশ না করার শর্তে রাজ-পরীমণির এক ঘনিষ্ঠ নির্মাতা বলেছেন, রাজ-পরীর পারিবারিক কলহ
নিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর গতকাল রাতে তারা কয়েজন শুভাকাঙ্ক্ষী নিয়ে আলোচনায় বসেন। এর মাঝেই
দুজনার মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে চিত্রনায়িকা পরীমণির গায়ে হাত তোলেন রাজ।
মন্তব্য করুন


গত কয়েক বছর ধরেই নিজের টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলায় একক অনুষ্ঠান করে নিয়মিতই গান শোনাচ্ছেন ড. মাহফুজুর রহমান। মাঝে মধ্যে তাকে বিভিন্ন ঘরোয়া অনুষ্ঠানেও গান গাইতে দেখা গেছে ।
সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) একটি অ্যাওয়ার্ড আয়োজনের চুক্তি সই অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সঙ্গে এটিএন বাংলার এই চুক্তি সই হয়।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে খালি গলায় বাংলা ও হিন্দি গান গেয়ে শোনান মাহফুজুর রহমান।
এ সময় তিনি বলেন, ইদানিং মেহেদী হাসানের গজল কিছু গাওযা শুরু করেছি। গজল গাওয়ার পর দেখলাম, যে আমার বাংলা গানের থেকে এর শ্রোতা অনেকে বেশি। মিলিয়ন মিলিয়ন শ্রোতা পাচ্ছি আমি।
গান গাওয়ার এক পযার্য়ে পাঁচ বছরের সাধনায় গলা ঠিক করেছেন জানিয়ে মাহফুজুর রহমান বলেন, আমি কথা বলি একটা ভয়েসে, গান গাই আরেকটা ভয়েসে। এটি রপ্ত করতে আমার পাঁচ বছর সময় লাগছে। যেমন- আমি কথা বলার সঙ্গে গানের গলার কোনও মিল নেই।
অনুষ্ঠানে সিনেমা প্রযোজনা করার ঘোষণাও দেন ড. মাহফুজুর। তিনি জানান, আগামী ঈদ-উল-ফিতরের আগে ছয়টি সিনেমা প্রযোজনা করবেন।
চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক ও ইমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াৎ, মহাসচিব শাহীন সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন কবির টুটুল, পরিচালক শাহ আলম কিরন, জাকির হোসেন রাজু, মনতাজুর রহমান আকবর, চিত্রনায়ক সোহেল রানা, অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস, রোজিনা প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


মুম্বাইয়ে সোমবার স্ত্রী গৌরী খানের প্রথম বই প্রকাশ করলেন শাহরুখ খান। ডিজাইনার গৌরী খানের এই কফি টেবিল বইয়ের নাম ‘মাই লাইফ ইন ডিজাইন’। মূলত ইন্টিরিয়র ডিজাইন নিয়েই এই বই লেখা। এদিন অনুষ্ঠানে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের সঙ্গে স্ত্রীয়ের সম্পর্ক নিয়েও মুখ খোলেন কিং খান। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা তার কাছে যে স্বামীর ডিউটির থেকেও বেশি, তাও বোঝান।
অভিনেতা বলেন, ‘আমি ও গৌরী একে অপরকে বহু বছর ধরে চিনি। ও তখন ১৪, আমি ১৮ এবং বহু বছর ধরে একে অপরকে চিনি আমরা এবং কখনও কখনও যদি একে অন্যকে এত বছর ধরে চেনা হয়ে যায় তাহলে একে অপরের কাজের প্রতি সেই সম্মানটা হারিয়ে যেতে শুরু করে। কারণ একে অন্যকে তখন আমরা টেকেন ফর গ্রান্টেড করে নিই। আমি আমার কাজ বহুদিন ধরে করছি এবং তাতে গৌরী নিজের যতটুকু অংশ করার তার সেরাটা করেছে। আমরা তিনজন সুন্দর বাচ্চা বড় করেছি। একজন সিনে তারকার স্ত্রী হয়ে থেকেছে ও যে কিনা ঈশ্বর ও মানুষের আশীর্বাদে প্রবল খ্যাতি অর্জন করেছে।’
এরপরও শাহরুখ খান বলেন, আমাদের পরিবারে, আমার ১০ বছরের ছেলে সমেত, সবার মধ্যেই সৃজনশীলতার সূক্ষ্ম একটা বুদ্ধি আছে। আমার মনে হয় আমাদের বিবাহিত জীবনের ২৩ থেকে ২৪ বছর, মুম্বাইয়ে ঘর বাঁধতে এবং আমাদের পেশা থেকে মানুষের এত ভালোবাসা পেতে, বাচ্চাদের বড় করতেও এত ব্যস্ত ছিলাম যে গৌরী বোঝেনি যে ওঁর একটা অন্যদিকও আছে যাকে জীবন দেওয়া প্রয়োজন। এই বইটা আমি মনে করি সেই সবকিছুর প্রতিনিধিত্ব করে।
মন্তব্য করুন


‘টাইগার’ ফ্র্যাঞ্চাইজির
৩য় কিস্তি নিয়ে হাজির হলেন সালমান খান ও ক্যাটরিনা কাইফ জুটি। যশরাজ ফিল্মস
প্রযোজিত সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে ১২ নভেম্বর (রোববার)। কিন্তু সিনেমাটি মুক্তির কয়েক ঘণ্টা পরই অনলাইনে ফাঁস হয়েছে। মুক্তির
প্রথম দিনে ফাঁস হওয়ায় বক্স অফিসের আয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম
ইন্ডিয়া ডট কম জানিয়েছে, মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সালমান খানের ‘টাইগার ৩’
সিনেমা অনলাইনে ফাঁস হয়েছে। এইচডি কোয়ালিটির প্রিন্ট পাওয়া যাচ্ছে টরেন্ট
ওয়েবসাইটে। তা ছাড়াও তামিল রকার্স, টেলিগ্রাম, মুভিরুলসে পাওয়া যাচ্ছে সিনেমাটি।
মুক্তির প্রথম দিনে ফাঁস হওয়ায় বক্স অফিসের আয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
‘টাইগার ৩’ সিনেমায়
অতিথি চরিত্রে দেখা যাবে শাহরুখ খানকে। সিনেমাটির অ্যাকশন দৃশ্যে সালমানের সঙ্গে
হাজির হবেন কিং খান।
‘টাইগার ৩’ সিনেমার অনান্য
চরিত্রে আছেন ইমরান হাশমি,আশুতোষ রাণা, রেবতী, রণবীর শোরে, বিশাল জেঠওয়া, রিদ্ধি
ডোগরা।
মন্তব্য করুন


আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় মডেল অভিনেত্রী সিলভিনা লুনা মারা গেছেন। মৃত্যুকালে লুনার বয়স ছিল ৪৩।
জানা যায়, কয়েক বছর আগে প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছিলেন অভিনেত্রী লুনা। তারপর থেকেই শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। কিডনির সমস্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। তার কিডনি দু’টি বিকল হয়ে যায়।
বেশ কিছুদিন ধরেই হাসপাতালে ছিলেন সিলভিনা লুনা। চিকিৎসকরা তাকে কড়া পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন। চিকিৎসকরা অভিনেত্রীকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। অবশেষে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। কিন্তু অভিনেত্রীর বাঁচার আর কোনও আশাই ছিল না। তাই পরিবারের সম্মতিতে তার লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে ফেলা হয়।
লুনার এই অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ তার অনুরাগীরা। আর্জেন্টিনার চলচ্চিত্র জগতের অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকে আবার লুনার প্লাস্টিক সার্জারি করা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মন্তব্য করুন


জলের
গান’ বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড। সেকড়ের গানে সবসময়ই সরব এই দলটি। নতুন নতুন জীবনমুখী
গান উপহার দিয়ে আসছে জলের গান। এই দলের সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও বাদ্যযন্ত্রী রাহুল
আনন্দের রাজধানীর ধানমন্ডির বাসার নিজস্ব স্টুডিওতে যাওয়ার কথা রয়েছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট
এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর।
১০
সেপ্টেম্বর আজ সন্ধ্যায় ঢাকা সফরে আসছেন ম্যাক্রোঁ। এরপর রাতে রাহুলের স্টুডিওতে যাবেন
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট । বিষয়টি জানিয়েছেন রাহুল আনন্দ নিজেই।
রাহুল
আনন্দ বলেন, ফ্রান্স দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে বিষয়টি আমিও জেনেছি। তবে
লিখিতভাবে জানানো হয়নি। কিন্তু আমি এবং আমার পরিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল
ম্যাক্রোঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। শুনেছি আমি যে ধরনের যন্ত্র নিয়ে
সংগীত করি সেসব সম্পর্কে তিনি (ম্যাক্রোঁ) জানতে চান। পাশাপাশি আমাদের সংস্কৃতি সম্বন্ধে
জানতে চান। এছাড়া তিনি যদি আমাকে কোনো গান শোনাতে বলেন, শোনাব। বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে
তুলে ধরার চেষ্টা করব।
জানা
গেছে, রোববার সন্ধ্যায় ঢাকায় নেমেই সরাসরি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যাবেন ম্যাক্রোঁ।
রাতে ডিনারে অংশ নেবেন। ডিনারের আগে কিংবা পরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শাস্ত্রীয়
সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করা হবে। ১১ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ৮টায় ধানমন্ডি লেকে হাঁটবেন
ম্যাক্রোঁ। এরপর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে
শ্রদ্ধা জানাবেন ম্যাক্রোঁ। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের
কথা রয়েছে তার।
মন্তব্য করুন


শরিফুল রাজ ও পরীমণি মান
অভিমান ভুলে সম্প্রতি এক হয়েছেন । একমাত্র সন্তান শাহীম মুহাম্মদ রাজ্যর মুখের
দিকে তাকিয়ে শরিফুল রাজ জানিয়েছেন, তিনি এখন থেকে নিজেকে শুধরে নেবেন। মন দেবেন সংসার জীবনে।
১৮ আগস্ট শুক্রবার রাতে
রাজের রক্তাক্ত ছবি প্রকাশ্যে আসে। অপর দিকে, পরীমণিও শুক্রবার জ্বর নিয়ে হাসপাতালে
ভর্তি হয়েছেন।
জানা গেছে, শুক্রবার
মাথায় আঘাত নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন শরিফুল রাজ। তবে কখন, কোথায়, কীভাবে রাজের
মাথায় এই ক্ষত হয়েছে তা জানা যায়নি। আর পরীমণি বর্তমানে রাজধানীর একটি হাসপাতালের
চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ বিষয় রাজের কোনো
মন্তব্য পাওয়া না গেলেও কথা বলেছেন পরীমণি। তার কথায়, রাজ কোথায় আমি জানি না। আমি
হাসপাতালে। আমার অনেক জ্বর। কথা বলতে পারছি না।
ফেসবুকে পরী একটি ছবি
প্রকাশ করেছেন। সেখানে দেখা গেছে, ক্যানোলা লাগানো তার ২ হাতে। ক্যাপশনে লেখেন,
‘আমরা পরীতমা। ’ চেক ইন দিয়েছেন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে।
মন্তব্য করুন


বলিউড
অভিনেত্রী ইলিয়ানা ডিক্রুজ বিয়ের আগেই মা হলেন।
১
আগস্ট বৃহস্পতিবার পুত্র সন্তানের জন্ম দেন এই অভিনেত্রী ইলিয়ানা ডিক্রুজ ।
ইনস্টাগ্রাম পুত্রের ছবি পোস্ট করে এসব তথ্য জানান অভিনেত্রী ইলিয়ানা।
তার পোস্ট
করা ছবিতে দেখা যায়, সদ্যোজাত শিশুটি ঘুমিয়ে আছে। তার ওপর লেখা, কোয়া ফিনিক্স
ডলান। ২০২৩ সালের ১ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেছে। এ ছবির ক্যাপশনে ইলিয়ানা ডিক্রুজ
লিখেছেন, আমাদের প্রিয় পুত্রকে পৃথিবীতে স্বাগত জানাতে পেরে কতটা আনন্দিত, তা
ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। পূর্ণতায় হৃদয় ভরে গেছে।
তবে ইলিয়ানা
ডিক্রুজ এখনো অবিবাহিত। বিয়ের আগে মা হতে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল
নেট দুনিয়ায়। অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। অনেকে কটাক্ষ করতেও
ছাড়েননি এই অভিনেত্রীকে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন,তোমার সন্তানের বাবা কে? বিষয়টি
নিয়ে জোর সমালোচনা চললেও এখনো মুখ খুলেননি ইলিয়ানা ডিক্রুজ।
মন্তব্য করুন


প্রথমবারের
মতো জুটি বেঁধে অভিনয় করলেন সিয়াম আহমেদ ও তাসনিয়া ফারিণ । ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি
পেয়েছে তাদের নিয়ে মিজানুর রহমান আরিয়ানের নির্মিত সিনেমা ‘পুনর্মিলন।
গল্পটি
কাজিনদের সম্পর্কের নানান বাঁক, মাত্রা, আনন্দ, হাসি, টুকরো অভিমান, টানাপোড়ন, সংশয়
আর দ্বন্দ্বের।
মুক্তির
পর ‘পুনর্মিলনে’র প্রচারের অভিনব এক কৌশল বেছে নিলেন এর অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। ফেসবুকে
এক স্ট্যাটাসে ‘পুনর্মিলন’ সিনেমা সার্চ করার ছবি প্রকাশ করেন। ক্যাপশনে তারকা লেখেন,
লিংক না খুঁজে চরকিতে গিয়ে দেখেন। ডেসক্রিপশন-এ দিয়ে দিচ্ছি।
এ
সিনেমাটি আরও অভিনয় করেছেন, শাশ্বত দত্ত, নূর ইমরান মিঠু, তাজনূভা জাবীন, নওবা তাহিয়া,
দীপ্ত দে, জান্নাতুল ফেরদৌস কাজল, টুনটুনি হামিদ, মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, শোয়েব মনির,
হামিদুর রাহমান, গোলাম ফরিদা ছন্দা, মালা ভট্টাচার্য্য সহ আরো অনেকে।
অভিনেত্রী
তাসনিয়া ফারিণ বলেন, পুনর্মিলনের গল্প পড়ার পর দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি আমাকে। নিজেকে
গল্পের অংশ মনে হয়েছে। সিয়াম ভাইয়ের সঙ্গেও এ প্রথম কাজ করা হলো।
পরিচালক
মিজানুর রহমান আরিয়ান বলেন, কোনো ট্যুরে গেলে বন্ধুত্ব হয়, আবার অফিস ও ইউনিভার্সিটিতে
বন্ধুত্ব হয়। আমরা স্কুল-কলেজের বন্ধুত্বের গল্প দেখি। তবে একটা গল্প দেখানো হয় না,
সেটা হলো কাজিনদের বন্ধুত্বের গল্প। এবার আমার গল্প হলো, কাজিনদের বন্ধুত্বের গল্প
নিয়ে। আমাদের ফান, ফুর্তি ও পুনর্মিলনে সবাইকে নস্টালজিক ফিল দেবে।
মন্তব্য করুন


রাতে রহস্যজনক স্ট্যাটাস আর সকালে অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাটে শাড়ি দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেল ভারতীয় অভিনেত্রী অমৃতা পান্ডের মরদেহ।
অমৃতা পান্ডে ‘অন্নপূর্ণা’ নামে ইন্ডাস্ট্রিতে
পরিচিত ছিলেন। বিহারের ভাগলপুরের জোগসার থানা এলাকার আদমপুর জাহাজ ঘাটে অবস্থিত একটি
অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাটে ঝুলন্ত অবস্থায় অভিনেত্রীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। অভিনেত্রীর
মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ
উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তবে কী কারণে অমৃতা আত্মহত্যা করেছেন, তা এখনো
জানা যায়নি।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে,
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অমৃতা তাঁর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক মাধ্যমে একটি
নোট শেয়ার করেছিলেন।
পুলিশ রিপোর্ট অনুসারে, হোয়াটসঅ্যাপে
অমৃতার নোটে লেখা ছিল, ‘কেন দুই নৌকায় ভাসছিল জীবন, নৌকা ডুবিয়ে জীবন সহজ করে দিয়েছি।’
রিপোর্ট বলছে, অমৃতা তাঁর স্বামীর সঙ্গে
মুম্বাইয়ে থাকতেন। কিন্তু তিনি সম্প্রতি ভাগলপুরে একটি বিয়ের জন্য তাঁর আত্মীয়দের
সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত জেগে ছিলেন অমৃতা এবং তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ
স্ট্যাটাসে সেই নোটটি পোস্ট করেন।
এর কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে তাঁর ঘরে মৃত
অবস্থায় পাওয়া যায়।
মন্তব্য করুন


এই পুরো গ্রামটাই হচ্ছে আসলে পুতুলের গ্রাম। পুতুলরাই সড়ক ধরে হাঁটার ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে; দোকানে বসে আছে পুতুল দোকানি; বাড়ির উঠানেও পুতুল এবং এমনকি স্কুলের সারি সারি বেঞ্চে বসে থাকা সব বাচ্চা পুতুল। এই গ্রামে কি জীবিত কেউ থাকে না? অবশ্যই থাকে তবে সঙ্গে নিয়ে প্রাণহীন একঝাঁক পুতুল। আজকের আয়োজনটা এই অদ্ভুত আর রহস্যেঘেরা গ্রামটাকে কেন্দ্র করেই।
ছোট্ট গ্রাম নাগোরো। যে গ্রামে এককালে প্রায় ৩/৪০০ পরিবারের বাস ছিল। কিন্তু, এখন মাত্র ১৫ থেকে ১৬ জন মানুষ থাকেন সেখানে। কারণ কি? গত শতকের পঞ্চাশের দশকে গ্রামটিতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে একটি বাঁধ নির্মান করা হয়। এরপর থেকেই গ্রামে পানির অভাব দেখা দেয়। বেশীরভাগ মানুষ গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে শুরু করে। রয়ে যান হাতে গোণা কয়েকজন কেবল।
জনসংখ্যা ধীরে ধীরে কমতেই থাকে। গ্রামটিতে শেষ শিশুর জন্ম হয়েছিল ২০০১ সালে। গ্রামটিতে এখন কোনো দোকান নেই। নেই কোনো হাসপাতালও। সামান্য অসুখ হলেও শহরে যেতে হয় বাসিন্দাদের। এক সমীক্ষায় জানা যায়, ২০১৪ সালে গ্রামটিতে মাত্র ৩৭ জন বাস করতো। যা ২০১৫ সালে কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৩৫ জনে। এভাবেই ক্রমাগত কমতে থাকে গ্রামের লোকসংখ্যা।
গ্রামের নাম – পুতুলের গ্রাম! কারণ গ্রামের নির্জীব কিছু বাসিন্দা আছে। তারা সকলেই পুতুল! পুরো গ্রাম জুড়েই এদের দেখা পাওয়া যায়।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে পুতুল, দোকানে পুতুল, স্কুলে পুতুল, বাড়ির উঠানে পুতুল! সবখানে পুতুল! পুরো গ্রামটিকে ভরে ফেলা হয়েছে পুতুল দিয়ে। জীবিত বাসিন্দাদের সাথে ওরাও হয়ে উঠেছে এই গ্রামেরই নতুন বাসিন্দা। কিন্তু গ্রামটি পুতুলদের গ্রাম হয়ে উঠলো কী করে? এর জন্য দায়ী সুকিমি আইয়ানো নামের এক নারী।
যিনি বহুকাল আগে গ্রাম ছেড়ে পড়াশোনার জন্য ওসাকায় চলে গিয়েছিলেন। তারপরে সেখানেই বিয়ে করে সংসার পাতেন। ২০০২ সালে নিজের অসুস্থ বাবার দেখাশোনা করার জন্য ফিরে আসেন তিনি গ্রামে। এসে অবাক হয়ে যান! তিনি গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার সময়েও গ্রামে প্রায় ৩০০ মানুষ ছিল। কিন্তু তখন গ্রামের লোকসংখ্যা পঞ্চাশেরও নিচে নেমে গিয়েছিল। হতাশ হয়ে যান সুকিমি। কিন্তু কী আর করা? নিজের বাবার দেখাশোনা আর মাঝে মাঝে টুকটাক ক্ষেতে কাজ করা শুরু করেন তিনি।
২০০৩ সালের কথা। সুকিমির বাবার একটি মূলা আর মটরশুঁটির ক্ষেত ছিল। সেই ক্ষেতের দেখাশোনা করতে লাগলেন সুকিমি। কিন্তু গ্রামে কাক আর অন্যান্য পাখিদের উৎপাত বাড়তে লাগলো দিনকে দিন। নীরব আর জনবিরল জায়গা বলে পাখিরা নিজের আবাসস্থল বানাতে শুরু করলো। সমস্যা বাঁধল, পাখিগুলোর ব্যাপক অত্যাচারে। কোনো গাছের চারা বের হলেই পাখিরা চারাগুলো নষ্ট করে দিতো। বিরক্ত হয়ে একদিন সুকিমি একটি কাকতাড়ুয়া বানালেন। ওটার মুখটা বানালের নিজের বাবার মুখের আদলে! তারপর দাঁড় করিয়ে দিলেন ক্ষেতের ঠিক মাঝ বরাবর।
কাকতাড়ুয়াটাকে মানুষ ভেবে ভয়ে আর এলো না পাখিগুলো। ব্যাপারটা সুকিমিকে নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করলো। পুতুল গ্রামের শুরুটা হয়েছিল এভাবেই। মৃত মানুষদের স্মরণে একের পর এক পুতুল বানাতে লাগলেন তিনি। প্রথম পুতুলটা বানালেন নিজের এক মৃত প্রতিবেশীর আদলে। যার সাথে ছোটবেলায় খেলতেন তিনি, তারপর ওটাকে বসিয়ে দিলেন সেই প্রতিবেশীর বাড়িতে। ধীরে ধীরে পুতুলে ভরে যেতে লাগলো গ্রামটি।
গ্রামের অন্য বাসিন্দারাও সুকিমির এই বিচিত্র শখে বেশ উৎসাহই দিতে লাগলেন। ফাঁকা গ্রামে পুতুলগুলোর উপস্থিতি উনাদের মন্দ লাগতো না। এভাবেই চলতে লাগলো। ধীরে ধীরে আলোচিত হয়ে উঠতে লাগলো নাগোরো গ্রামের পুতুলগুলো।
এভাবেই কেটে গেল নয়টি বছর। ২০১২ সালের কথা। গ্রামের স্কুলে তখন মাত্র দুজন শিক্ষার্থী ছিল। তাদের স্কুলের পড়াশোনাও একটা পর্যায়ে গিয়ে শেষ হলো! উচ্চ শিক্ষার আশায় শহরের দিকে পাড়ি দিল ওরা। স্কুল রয়ে গেল ফাঁকা। কোনো ছাত্র-ছাত্রী নেই। তাই বন্ধ হয়ে গেল গ্রামের একমাত্র স্কুলটিও।
ওই স্কুলে সুকিমিও ছোটবেলাতে পড়তেন। নিজের সহপাঠীদের চেহারা ভেবে ভেবে তিনি পুতুল বানাতে শুরু করলেন। পরিচিত শিক্ষকদেরও পুতুল বানালেন। সেগুলোকে বই-খাতা সহকারে বসিয়ে দিলেন ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণীকক্ষে। ধীরে ধীরে প্রতিটি শ্রেণীকক্ষই ভরে উঠলো পুতুলে। যেন সবাই শান্তমনে বসে ক্লাস করছে।
কিন্তু সব কিছু নীবর! তাই, গ্রামের প্রতিটি দোকান খুলে দেওয়া দেওয়া হলো। সেখানেও বসিয়ে দেওয়া হলো পুতুলদের। নেই কোনো মালামাল, নেই কোনো খদ্দের, শুধু আছে পুতুল!
জানা যায়, গ্রামের শেষ বিয়েটি হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। যে জায়গাতে বিয়ের উৎসব হতো সেখানে দুটো বর আর বউ পুতুল বানিয়ে বসিয়ে দেন সুকিমি। আশেপাশে বসে আছে নিমন্ত্রিত অতিথিরা। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাদকেরা। যেন পুতুল বিয়ে হচ্ছে সেখানটাতে।
গ্রামটি আবার ভরে উঠলো। কিন্তু নেই কোনো কোলাহল। নেই কোনো শব্দ। এভাবেই কেটে গেল আরো দুটি বছর। ২০১৪ সালে জার্মান তথ্যচিত্র নির্মাতা ফ্রিটজ স্কুম্যান এই গ্রামটি নিয়ে তৈরী করেন তাঁর বিখ্যাত তথ্যচিত্র ‘ভ্যালি অফ ডলস’। এরপর থেকেই গোটা পৃথিবীতে নাগোরো পরিচিত হয়ে ওঠে ‘পুতুলদের গ্রাম’ হিসাবে। দেশ বিদেশ থেকে পর্যটকেরা আসেন শুধুমাত্র এই গ্রামটি দেখতে।
পর্যটকেরা অবাক না হয়ে পারে না। গাছের নিচে কেউ বসে আছে, পার্কে প্রেমিক-প্রেমিকা, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা…সবকিছুকে কেমন যেন জীবন্ত মনে হয় তাদের কাছে। সুকিমির কাজ এতই নিখুঁত যে তারা চমকে উঠতে বাধ্য হন! পুতুল বানানোর ক্লাসও নিয়ে থাকেন সুকিমি। বছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি বুধবার তিনি পর্যটকদের দেখান যে কী করে পুতুল বানাতে হয়। যদিও পুতুল বানানোর সরঞ্জাম শিক্ষার্থীকেই বহন করতে হয়।
বছরের অক্টোবর মাসে গ্রামের সবগুলো পুতুল নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ২০১৩ সাল থেকে এমনটা হয়ে আসছে। এই সময়েই সবচেয়ে বেশী পর্যটক আসে গ্রামটিতে। আপনি চাইলে সুকিমির বাড়িতেও যেতে পারেন। তার বাবা এখনো জীবিত। ভদ্রলোকের বয়স এখন ৯০। নাগেরোর সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি তিনিই।
মোটামুটি এই ছিল নাগোরোর পুতুল গ্রামের গল্প।
মন্তব্য করুন