

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাসভাড়া সমন্বয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার হতে পারে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানায়।
সড়কমন্ত্রী বলেন, আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি। এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আশা করা যায়, কাল (বৃহস্পতিবার) এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
এদিন বিআরটিএর কর্মকর্তা, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে রোববার বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ও বাস মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার মন্ত্রণালয়ের ওপর ছেড়ে দেয়।
বৈঠকের পর বিআরটিএ চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর জানিয়েছিলেন, সেদিন তারা কোনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারেনি। সকালে সুপারিশ তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, জ্বালানির দাম বাড়ায় ভাড়া সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যাতে কোনো পক্ষই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ভাড়া দুই বা তিন স্তরে নির্ধারণ করা হতে পারে, যা কোরবানি ঈদের সময়েও কার্যকর করা হতে পারে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সংক্রান্ত ইস্যুতে রাজনীতি কোনওভাবে প্রবেশ করবে না। যারা প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পণ্য সরবরাহ করবে, দ্রুত সরবরাহ করবে এবং মানসম্মত পণ্য দেবে, তাদের কাছ থেকে পণ্য কেনা হবে। সেটা ভারত বা অন্য কোনো দেশ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, আগামী রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে।
তিনি জানান, ভারত থেকে চাল আমদানি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। তবে ভারত, মিয়ানমার এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে আলোচনা চলছে, এবং এসব বিষয়ে রাজনীতি কোনওভাবেই সংযুক্ত হবে না।
বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "হ্যাঁ, দাম স্বস্তি থাকবে। খেজুরের এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) হয়ে গেছে, এবং খেজুর চলে আসবে।"
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, "যে স্থিতিশীলতা আশা করা হচ্ছে, তা পূর্ণভাবে আসেনি, তবে দাম কিছুটা কমছে। বর্তমানে চাল ও মসুর ডাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো খাদ্যদ্রব্য, এবং এর আগেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।"
তিনি বলেন, "ভবিষ্যতের দামের বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। সয়াবিন তেলের দাম অনেক বেড়ে গেছে, এ ব্যাপারে আমরা আলোচনা করছি, এবং ইতোমধ্যে কিছু সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে। আমরা সব ধরনের শুল্ক কমিয়ে দিয়েছি। তাই একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন।"
পশ্চিমবঙ্গের একজন রাজনীতিবিদ বলেছেন যে, বাংলাদেশে কিছু রপ্তানি করা হবে না। সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "এটা কূটনীতিকরা দেখবেন। ভারতে যখন অতিরিক্ত চাল বা পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়, তখন তারা কোথায় বিক্রি করবে, তা তারাই ঠিক করবেন।"
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, "সাপ্লাই চেইনে অনেক বিষয় জড়িত। অনেক মানুষ যুক্ত থাকে, পরিবহন, বাজার ইত্যাদি বিষয়গুলো ঠিক না হলে তো পণ্য গুদামে পড়ে থাকবে, তবে তা তো ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে হবে।"
বাজারে পাঁচ লিটার বোতলের সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না, এমন তথ্য দেওয়া হলে তিনি বলেন, "এটা একটু সমস্যা হয়েছে। সয়াবিন তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক বেড়ে গেছে।"
সিন্ডিকেটের বিষয় নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "সিন্ডিকেট এক জায়গায় থাকে না। চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট, পরিবহণ সিন্ডিকেট, রাজনৈতিক সিন্ডিকেট—সবই রয়েছে। আমি সবসময় বলি, রাজনৈতিক সমঝোতা করা খুব কঠিন, কিন্তু চাঁদাবাজির সমঝোতা করা অনেক সহজ।"
ট্যাক্স কমানোর পরও প্রভাব পড়ছে না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "এটাই আমার জন্য চিন্তার বিষয়। আমি তো সবকিছুর ওপর শুল্ক শূন্য করে দিয়েছি, তবে তাতে সঠিক ফল পাচ্ছি না।"
মন্তব্য করুন


আমরা আস্থার জায়গায় কেউ নেই, এটি জাতীয় সংকট বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ইসি আনোয়ারুল বলেন, সবচেয়ে মুশকিল হয়ে গেলো কী- আমি, আপনি, আপনারা সবাই মিলে কেউ কিন্তু আস্থার জায়গায় নেই। আমি আস্থার জায়গায় আছি, এই দাবি করি না। এই যে আস্থার সংকট, এটা আমাদের জাতীয় সংকট। আমি বিচ্ছিন্নভাবে বলতে পারবো না যে অমুকে খারাপ, আমি ভালো। আর আপনিও বলতে পারবেন না যে আমি খারাপ, আপনি ভালো।
তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচন কমিশনের পক্ষ্য থেকে বলা হচ্ছে আস্থা পুনরুদ্ধার। সেই আস্থা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রফেশন, প্রতিটি পেশার সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। সবাই সবার প্রফেশনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, এই যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা-বিশ্বাস, এটা যেন থাকে। ভালো নির্বাচন করতে পরস্পরকে সহায়তা করতে হবে।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আমাদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের স্বার্থে ২৪ ঘণ্টা জড়িত থাকেন সাংবাদিকরা। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি আপনাদের যেই নীতিমালার খসড়া দিয়েছেন, এটি যদি আমরা আগে পেতাম তাহলে হয়তো ভালো হতো। আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেকটা বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা দরকার রয়েছে, আপনাদের দিক থেকেও আমাদের সহযোগিতা করুন। বাস্তবতার নিরিখে যার যার অবস্থান থেকে যেন আমরা একটা ভালো নির্বাচন করতে পারি সেজন্য পরস্পরকে সহযোগিতা করবো।
‘আমার মনে হয় যে এটি নিয়ে আরও আলোচনা পর্যালোচনা, বিশ্লেষণ আপনাদের অভিজ্ঞতা, আমাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় দরকার। মূল উদ্দেশ্য যেহেতু আমাদের সবার একটাই, আমার মনে হয় যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এগুলো পরে সমাধান করা যায়।’
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ, বেগম তাহমিদা আহমদ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, আরএফইডি’র সভাপতি কাজী জেবেল, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগ থাকায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ কাদের ও তার স্ত্রী শেরীফা কাদেরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এ সংক্রান্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক ইব্রাহীম মিয়া এ আদেশ দেন।
আদেশে বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ দেশত্যাগ করতে পারেন, যা অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার দরখাস্তদৃষ্টে প্রতীয়মান হয়। তাই সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে দরখাস্তে বর্ণিত ব্যক্তিদের বিদেশ গমন নিষেধাজ্ঞার আদেশ হওয়া প্রয়োজন।
আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা ব্যহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা কর্তৃক দাখিলকৃত দরখাস্ত ও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় দরখাস্তটি মঞ্জুরযোগ্য মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার প্রার্থীত মতে জিএম কাদের ও শেরীফা কাদেরের বিদেশ গমণে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হলো। সেই সঙ্গে স্পেশাল ব্রাঞ্চের বিশেষ পুলিশ সুপারসহ (ইমিগ্রেশন-প্রশাসন) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।
জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন দিতে ১৮ কোটি ১০ লাখ টাকার ঘুষ গ্রহণ করা হয়, যার মূল সুবিধাভোগী ছিলেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের।
চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না করায় অধ্যাপক মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তার স্থলে জিএম কাদেরের স্ত্রী শরীফা কাদের সংসদ সদস্য হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জিএম কাদের জালিয়াতির মাধ্যমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হন এবং দলীয় পদ বাণিজ্য ও মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেন, যা পরে বিদেশে পাচার করা হয়। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট হলেও বর্তমানে ৬০০ থেকে ৬৫০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা পদ বাণিজ্যের প্রমাণ।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, জি এম কাদেরের নামে নগদ ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, ব্যাংকে ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং ৮৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ি রয়েছে।
আর তার স্ত্রী শরীফা কাদেরের নামে নগদ ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ব্যাংকে ২৮ লাখ ৯ হাজার টাকা এবং ৮০ লাখ টাকা মূল্যের তারও একটি জিপ গাড়ি রয়েছে। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে লালমনিরহাট ও ঢাকায় জমি ও ফ্ল্যাট রয়েছে।
১৯৯৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া জিএম কাদের জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০০৯-২০১৪ সাল পর্যন্ত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কাজ শুরু করেছে, নিঃসন্দেহে তারা ইতোমধ্যে অনেক ভালো কাজ করেছে। আমাদেরকে পথ দেখাচ্ছেন।
শনিবার (২১ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের আগে ও পরের ঘটনার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা আশ্বস্ত হচ্ছি যে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হবে। তার মাধ্যমে আমাদের আশাগুলো কিছুটা হলেও পূরণ করার সুযোগ হবে। আশা করব, আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো, ফ্যাসিবাদবিরোধী আমরা সবাই একজোট হয়ে একসঙ্গে তাদেরকে সহযোগিতা করব। আমাদের যে লক্ষ্য, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় পৌঁছাতে পারব।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে বেশ কয়েকটি নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি হচ্ছে, একটা গুরুত্বপূর্ণ দল (এনসিপি) সম্ভবত কাল (রবিবার) নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে যাবে। আমরা তাদেরকে স্বাগত জানিয়েছি। তাদের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা প্রত্যাশা করি, এই তরুণেরা, এই নবীনেরা যারা বিগত আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নিয়েছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে কাঙ্ক্ষিত সেই লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে।’
সংস্কার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান জানিয়ে দলের মির্জা ফখরুল বলেন, কতগুলো বিষয়ে একমত হয়েছি, কতগুলো বিষয়ে একমত হচ্ছি না। যতগুলো বিষয়ে একমত হওয়া যাবে, সেগুলো আমরা বাস্তবায়ন করব। যেগুলোতে একমত হবে না, নির্বাচনের পরে সেগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা করব, ওই বিষয়গুলো আমরা একমত হব।
মন্তব্য করুন


নির্বাচনের আগে ভারি অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান চলমান আছে। এ ব্যাপারে সরকারের কোনো ব্যর্থতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে পূর্বাচলে ফায়ারসার্ভিসের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ভলান্টিয়ার সম্মাননা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জনগণকে সেবা দেয়ার জন্য এই আইন করা হয়েছে। এতে বাহিনীগুলোর কোনো আপত্তি থাকলে তা তারা জানাতে পারে। এ সময় বিডিআর বিদ্রোহের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন করলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় ৫৫ হাজার ভলান্টিয়ারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যেকোনো সময় ফায়ার সার্ভিসের পাশে তারা থাকবে। ভলান্টিয়ারদের আরও কিছু সুযোগ সুবিধা দেওয়া যায় কি না সেই বিষয়ে সরকার ভাবছে।
এ সময় কাজে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ফায়ার সার্ভিসের ২২ জন সদস্যকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন


রোহিঙ্গা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল সংকটে পরিণত হয়েছে। চীনের পক্ষে একা এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এমনটা জানান তিনি।
‘বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক: এগিয়ে যাওয়ার পথ’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে সাবেক রাষ্ট্রদূতদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ফরমার অ্যাম্বাসেডরস (এওএফএ)। এতে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন আলোচনার প্রশ্নোত্তর পর্বে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ইস্যুতে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান বক্তা ইয়াও ওয়েন বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান খুঁজতে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। চীনকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়ই অনুরোধ করেছে। রোহিঙ্গার পাইলট প্রত্যাবাসনেও আমরা চেষ্টা করেছি।
তবে বিষয়টি একা চীনের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, একা এই সমস্যার সমাধান চীনের সক্ষমতার বাইরে। এটি অত্যন্ত জটিল সংকট। এর সঙ্গে অনেক স্টেকহোল্ডাররা জড়িত। আমরা যখন ২০২৩ সালে প্রত্যাবাসনের চেষ্টা করেছি, অন্যান্য প্রতিবন্ধকতাগুলো আমাদের প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করেছে। কিছু দেশ ও সংস্থা প্রত্যাবাসন হোক, এটা চায় না।
ইয়াও ওয়েন বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব স্টেকহোল্ডারদের ভূমিকা রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে চীন তার ভূমিকা পালন করবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
আজ মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান। নির্বাচনের সময় নিয়ে দলগুলোর বক্তব্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকার ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ভিন্ন কথা বলা হচ্ছে। এতে নির্বাচন আয়োজনের সময় নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইন উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের, দলের নয়। নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমরা মাথার মধ্যে এটাই রাখছি- ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন, আমরা ফেব্রুয়ারিতে চলে যাবো।
তিনি বলেন, এখন রাজনৈতিক দল তো বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কথা বলে এবং ওইটা তো একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। আপনারা তো এটা সবসময় দেখেছেনই। বাংলাদেশে ট্রেডিশনালি এসব রাজনৈতিক কথাবার্তা হতো, এখনো ঠিক ওরকমভাবেই কথাবার্তা হচ্ছে। কথাবার্তায় খুব বেশি গুণগত পরিবর্তন হয়নি। ফলে নির্বাচনের সময় নিয়ে কে কী বলবেন এটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখবেন।
‘সরকারের পক্ষ থেকে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ আছি। আমাদের স্যার (প্রধান উপদেষ্টা) সর্বজন স্বীকৃত একজন বিশ্বপর্যায়ে নন্দিত মানুষ। উনি নিজে ঘোষণা করেছেন, তার এ ঘোষণা থেকে আমাদের পিছিয়ে আসার বিন্দুমাত্র চিন্তা নেই।’ যোগ করেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
মন্তব্য করুন


আইনি বাধা না থাকলে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা, তা কমিশনের সিদ্ধান্তের ব্যাপার নয়। যদি আদালত বা সরকার নিষেধাজ্ঞা না দেয়, তবে দলটির নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা থাকবে না।
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি আরও বলেন, ৭২ সাল থেকে আওয়ামী লীগ একটি নিবন্ধিত দল। নির্বাচনে কমিশন এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং কমিশনের ওপর কোনো চাপ নেই। গত নির্বাচনের মতো বহিঃশক্তি নির্বাচন কমিশনে চাপ প্রয়োগ করতে পারবে না।
এছাড়া, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে বলে উল্লেখ করেন সিইসি। তিনি বলেন, "এখন আমরা বিবেকের চাপে আছি। এদেশে ভালো নির্বাচন করা সম্ভব, খারাপ নির্বাচন করাও সম্ভব।" আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে, এবং এবার আগের মতো ভোট হবে না। তিনি বলেন, "পাঁচ আগস্টের পর ভোটের ব্যাপারে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে। ৯১ ও ৯৬ সালের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।"
বর্তমান ভোটার তালিকায় ভুয়া ভোটার থাকার বিষয়টি তুলে ধরে সিইসি বলেন, "অনেকেই মারা গেছেন, কিন্তু তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি।" তিনি জানান, কেউ মারা গেলে তাদের স্বজনরা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাতিল করতে আসেন না, এবং এই সুযোগটি বিগত নির্বাচনে নেওয়া হয়েছিল।
বিগত নির্বাচন কমিশনকে শাস্তির আওতায় আনা হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, "এটি নির্বাচন সংস্কার কমিশনের বিষয়। আমরা এখনও তাদের সুপারিশনামা পাইনি। তবে আমাদের কমিশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো চিন্তা করা হচ্ছে না।"
ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়। সিইসি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো তিনি চট্টগ্রামে সফর করেছেন।
মন্তব্য করুন


সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চারজন মারা গেছেন। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৪৫ জন।
এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯২ জন এবং শনাক্ত রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৫১ জনে।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৬৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯১ জন, ঢাকা বিভাগে ১৬৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৯৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১২ জন, খুলনা বিভাগে ১০১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫৪ জন, রংপুর বিভাগে ১৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ছয়জন রয়েছেন।
২৪ ঘণ্টায় যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এবং দুজনের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৫৮ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৬২৯ জন।
২০২৪ সালে দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। এর আগের বছর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মারা যান সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জন এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।
মন্তব্য করুন


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ব্যাপারটি এখনো স্পষ্ট নয়। এরই মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও আইসিসি। তাতেও কাটেনি জট। ইএসপিএনক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, সিদ্ধান্ত নিতে বাংলাদেশকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আইসিসি। ঘোলাটে এই পরিস্থিতিতে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়ে দিলেন, অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে বাধ্য করা যাবে না।
বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ না খেললে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া সর্বোচ্চ র্যাঙ্কধারী দলকে সুযোগ দেবে। সেক্ষেত্রে কপাল খুলতে পারে স্কটল্যান্ডের। যদিও বিবিসি জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনো আইসিসির পক্ষ থেকে স্কটল্যান্ডকে কিছু জানানো হয়নি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদের বাদ দিয়ে (আইসিসি) স্কটল্যান্ডকে নেবে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কিছু শুনিনি। আমাদের মূল কথা, যদি আইসিসি ভারতীয় বোর্ডের সাথে কথা বলে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে; অযৌক্তিক কোনো শর্ত চাপিয়ে দেয় তবে আমরা সে অযৌক্তিক শর্ত মানবো না।’
পূর্বের উদাহরণ দিয়ে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘এর আগে এমন উদাহরণ আছে; পাকিস্তানে ভারত খেলতে যাবে না বলেছে, আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন করেছে। আমরা অত্যন্ত যৌক্তিক কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের কথা বলেছি। অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করে আমাদের ভারতে খেলতে বাধ্য করা যাবে না।’
মন্তব্য করুন