

রাজধানীর গুলশানে ইউএন হাউজের উদ্বোধন করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। শনিবার (১৫ মার্চ) সকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএন হাউজ উদ্বোধন করেন এবং জাতিসংঘের কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এরপর বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিভিন্ন আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে গুতেরেস বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়ার জন্য জাতিসংঘ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি নিকট অতীতের তুলনায় আরও কার্যকরভাবে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন। এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয় ও গৃহায়ণ এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে দুপুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধি দলের সংস্কার প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ বৈঠক শেষে তিনি তরুণ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরেকটি বৈঠকে অংশ নেবেন। এছাড়া, বিকেলে জাতিসংঘ মহাসচিব এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মাগুরার নবগঙ্গা নদী সংলগ্ন পার্কে ‘জুলাই ৩৬’ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এ কথা বলেন তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, শেখ হাসিনা পুরো বাংলাদেশকে বানিয়েছিল শেখ পরিবারের জমিদারি। জুলাইয়ে যারা আত্মত্যাগ করলেন, তারা আবার দেশকে নতুন একটি গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত করেছেন। প্রতি বছর ৫ আগস্ট আমরা জুলাই শহিদদের স্মরণ করবো। সেখানে তাদের আত্মত্যাগের কথা বলবো।
তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে। এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। বাংলাদেশের জনসাধারণ সবাই ভোট দিতে আসবেন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ এতো মানুষকে খুন করেছে তবুও তাদের মধ্যে কোনো অনুতপ্ত নেই। গণভোট হবে তবে কখন হবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ন্যাশনাল কনসেসিয়াস কমিশন বসে এটা ঠিক করবে।
মন্তব্য করুন


পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে সরকার কাজ করছে। শনিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। তবে শিগগিরই একটি রোডম্যাপ আসবে এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সরকার এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।”
তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশের এতো বেশি রাজনৈতিক দলের বিদেশি শাখা নেই, যতটা বাংলাদেশি রাজনৈতিক দলের রয়েছে। এসব শাখা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইমেজ নষ্ট করছে। বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রবাসে মিছিল, স্লোগান এবং ডিম নিক্ষেপের মতো কর্মকাণ্ড দেশের ব্র্যান্ডিংয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, “বিদেশের মাটিতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে গণ্য করা এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে বৈরী মনোভাব প্রকাশ করার ঘটনা আমাদের দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এসব সমস্যা দূর করতে গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, গত চার মাসে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশ নিয়ে ব্যাপক নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছে। তারা এমনভাবে খবর প্রচার করছে, যাতে মনে হচ্ছে সীমান্ত এলাকায় যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে এবং বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চলছে। এই ধরনের অপপ্রচার রোধে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, “বিদেশে অনেক প্রবাসী অভিযোগ করেন যে দূতাবাসগুলো থেকে তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা পান না। কিছু অভিযোগ সত্য হলেও সবগুলো সঠিক নয়। তবে বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি করলে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন


নতুন বছরের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও অনেক শিক্ষার্থী এখনও নতুন বই হাতে পায়নি। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১০ মার্চের মধ্যে সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
বুধবার (৫ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই আশ্বাস দেন।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন বই পৌঁছানোর কথা থাকলেও এখনও অনেক শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছায়নি। তবে, আগামী ১০ মার্চের মধ্যে সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে যাবে। বই ছাপাতে দেরি এবং বিতরণ প্রক্রিয়ায় সমস্যার কারণেই এখনও নতুন বই পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বই ছাপানোর ক্ষেত্রে প্রকৃত চাহিদার চেয়ে বেশি বইয়ের অর্ডার দেওয়া হয়। অতিরিক্ত চাহিদা অনুযায়ী বই ছাপানোর জন্য সব লেনদেন দেখানো হয়।’
এই উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, ‘বিভিন্ন দাবিতে দেশের সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্থিরতা ছিল। পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে, তা বলা যাবে না। তবে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে।’
এদিকে, নতুন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার বলেছেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মূল্যবোধ গঠনে কাজ করে যাবেন। সবার সহযোগিতায় শিক্ষা খাতের সমস্যা সমাধান এবং বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করতে হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনি নিজ দপ্তরে যান। বুধবার বেলা ১২টার দিকে সচিবালয়ে আসেন তিনি। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর গণমাধ্যমের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময়ও করেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার।
এর আগে, বেলা ১১টার দিকে বঙ্গভবনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নতুন উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক সি আর আবরার। তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করছিলেন।
মন্তব্য করুন


আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘বাংলাদেশে যত খারাপ কাজ, শয়তানি কাজ, সেটা প্রথম আওয়ামী লীগ আমলে শুরু হয়েছে, ১৯৭৩ সালের আওয়ামী লীগের আমলে। সব কিছু শুরু করেছে আওয়ামী লীগ, বাকিরা কন্টিনিউ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার লোক, তোমার লোক–কালচার থেকে বিএনপি, জামায়াতকে বের হয়ে আসতে হবে। এনসিপি ও ছোট দলগুলোকেও বের হয়ে আসতে হবে। ছোট দলগুলো বা উদীয়মান দলগুলো এ ব্যাধি থেকে মুক্ত নয়।’
শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার : চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন আসিফ নজরুল।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার লোক, তোমার লোক—ডেফিনেটলি এটা আওয়ামী লীগ আমলে ভয়াবহ অবস্থায় গিয়েছে। বাংলাদেশে যত খারাপ কাজ, শয়তানি কাজ, সেটা প্রথম আওয়ামী লীগ আমলে শুরু হয়েছে, ১৯৭৩ সালের আওয়ামী লীগের আমলে।
সব খারাপ কাজ। গুম বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলেন, হেফাজতে নির্যাতন বলেন, হেফাজতে মৃত্যু বলেন, ভুয়া নির্বাচন বলেন, দলীয়করণ বলেন—সব কিছু শুরু করেছে আওয়ামী লীগ, বাকিরা কন্টিনিউ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার লোক, তোমার লোক’ সংস্কৃতি নাগরিক সমাজের মধ্যেও রয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে আওয়ামী লীগ আমলে সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদ আক্রান্ত হওয়ার পর কোনো প্রতিবাদ না হওয়ার কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় বাহিনী পুলিশকে একটি নির্মম, অত্যাচারী, পাশবিক, দানবীয় বাহিনীতে পরিণত করেছিলেন।’
পুলিশি নির্যাতনের নানা দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একটা সরকারি দলের আদেশে, সরকারি দলের ইচ্ছাপূরণের জন্য। আর কেউ কেউ করে নিজ স্বভাবে, সে ক্ষমতাশালী হতে চায়, টাকা বানাতে চায়। সরকার তাকে যতটুকু অত্যাচার করতে বলে, তার থেকেও দশ গুণ বেশি করে।’ নিজ স্বভাবের উদাহরণ হিসেবে তিনি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের কথা বলেন।
প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ফরেনসিক সুবিধা না থাকাকেও অত্যাচারের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘কিছু কিছু ক্ষেত্রে অত্যাচার করা হয় অপরাধ স্বীকার করানোর জন্য, এটা আমাদের সংস্কৃতির অংশ।’
এখন কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই পুলিশ সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি পুলিশ সংস্কার কমিশন ও পুলিশের মধ্যে একটি নিবেদিত তদন্ত দল বা সংস্থা গঠনের কথা বলেন।
পুলিশের হাতে নাগরিকদের নির্যাতন বন্ধে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে আসিফ নজরুল বলেন, এর মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করা হয়েছে, ১২ ঘণ্টার মধ্যে আটক করা ব্যক্তির স্বজনদের জানাতে হবে। এ ছাড়া গুমসংক্রান্ত আইনে সংশোধন করা হয়েছে, যাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হবে। এটি না হলে গুম হিসেবে গণ্য হবে।
পুলিশ সংস্কার কমিশনের ক্ষমতাকাঠামো না থাকার যে সমালোচনা, তা নিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, ক্ষমতা থাকলেই কেউ মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করবে, তা ঠিক নয়।
পুলিশের সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্যই কিছু লোক থাকে, তাদের কাজই গার্ড অব অনার দেওয়া। নিষেধ করলে তারা মন খারাপ করে। এ সংস্কৃতি বন্ধে কাজ করতে হবে।’
মন্তব্য করুন


আগামী ১২ আগস্ট যুব দিবস উপলক্ষে ৪ হাজার ৯৮৫ জনকে ৪৭ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার টাকা ঋণ দেবে সরকার। এর মধ্যে ২ হাজার ৫৩৪ জন যুবক ও ২ হাজার ৪৫১ জন তরুণীকে এ ঋণ দেওয়া হবে বলে জানান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান।
সোমবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম উপস্থিত ছিলেন।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, আগামী মঙ্গলবার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যুব দিবস উদযাপন করা হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উত্তর তারুণ্যের জয়যাত্রাকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর যুবশক্তিকে মানবসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান ঋণ, সংগঠনভিত্তিক স্বেচ্ছা ও সেবামূলক কাজে যুবকদের সম্পৃক্তকরণে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। বৈষম্য ও অন্যায়ের প্রতিরোধ যুদ্ধে বিজয়ী যুবসমাজকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক কারিগরি প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণোত্তর আর্থিক ও উপকরণ সহায়তার মাধ্যমে মানবসম্পদে পরিণত করার মহান ব্রত নিয়ে বছরে প্রায় ২ লাখ যুব কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, প্রতিবছরের মতো এ বছরেও যুব কার্যক্রমে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় যুব দিবসে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ১৮ থেকে ৩৫ বছরের যুবকদের বিগত এক বছরে ২ লাখ ৭১ হাজার ৭১৯ জনকে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে ২ হাজার ৫৩৪ জন যুবক ও ২ হাজার ৪৫১ জন তরুণীকে ৪৭ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার টাকা যুব ঋণ দেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ট্রাফিক পুলিশের সহযোগী হিসেবে কাজ করার জন্য ১ হাজার ৭৬ জন যুবককে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক সচেতনতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ঢাকাসহ বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারুণ্যের উৎসব পালন করা হয়েছে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আত্মকর্মী, উদ্যোক্তা, প্রশিক্ষণার্থী ও স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠনের মাধ্যমে ৬৪ জেলায় ৬৪টি খাল বা জলাশয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।
সাইফুজ্জামান বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর যুব শক্তিকে সম্পদে পরিণত করতে দেশের ৬৪টি জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন, মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন


জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৭০০ জন এখনও পলাতক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে জরুরি সেবা (হটলাইন) উদ্বোধন উপলক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, "৭০০ জনের মতো বন্দি কারাগার থেকে বের হয়ে গেছে, তবে তারা এখনও ধরা পড়েনি। যারা ছিল, তারা এখন কারাগারে রয়েছে।"
একই সময়, তিনি চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "ছিনতাই ও চাঁদাবাজি অস্বীকার করছি না, তবে যারা এসব করছে, তারা ধরা পড়ছে। আবার, যারা পালিয়ে যাচ্ছে, তারা এসব কাজ করছে, যা সত্যি কথা। আমরা চেষ্টা করছি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি কমিয়ে আনার জন্য।"
পুলিশের স্বল্পতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "পুলিশের সংখ্যা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, তবে আগের মতো কাজের উদ্যম নেই। তাদের উদ্যম বাড়ানোর জন্য আমরা সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছি।"
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জামিনে বেরিয়ে আসা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, "তাদের দ্রুত ধরা হয়ে আইনের আওতায় আনা হবে।"
৫ আগস্টের পর অনেক দাগী আসামিকে ক্ষমা করা হয়েছে, এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, "সাধারণ ক্ষমায় কেউ বের হয়নি, তারা জামিনে বের হয়েছে।"
এছাড়া, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, এখন থেকে ০৯৬১২০২১৬৯০ নম্বরের মাধ্যমে বন্দিদের অবস্থান, প্যারোলে মুক্তি, শারীরিক অবস্থা, হাজিরা, সাক্ষাৎকার ও কথা বলার তারিখের তথ্য পাওয়া যাবে। বন্দির স্বজনরা এই নম্বরে ফোন করে সমস্ত তথ্য জানতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের জরুরি সেবা সার্ভিসে নিয়োগ দিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
মন্তব্য করুন


ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে দুর্নীতি ও অর্থপাচার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, স্বচ্ছ লেনদেনব্যবস্থায় অপচয় কমবে, সাশ্রয় হবে সময়ের আর জনগণের ভোগান্তিও হ্রাস পাবে।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে মোবাইল অপারেটরদের আন্ত ব্যাংকিং লেনদেন বিষয়ে আয়োজিত আলোচনাসভায় এ কথা বলেন গভর্নর।
গভর্নর বলেন, লেনদেনের নানা ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালু হলেও ব্যাংকিং খাতে প্রতিবছর নগদ অর্থের চাহিদা ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে।
এটি অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে চাপ তৈরি করছে। নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনায় সরকারের প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। তাই আমরা এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফরম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে রিকশাচালক থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী-কেউ বাদ যাবে না।
তিনি আরো বলেন, সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে নগদবিহীন অর্থনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
এ জন্য ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত লেনদেনব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে।
মন্তব্য করুন


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সদস্যসচিব মো. মোখলেস উর রহমান জানিয়েছেন, ফরিদপুর ও কুমিল্লাকে আলাদা বিভাগ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান।
এ সময় জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীসহ কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, আমরা সারা দেশের মানচিত্র দেখে ফরিদপুর ও কুমিল্লাকে আলাদা বিভাগ করার সুপারিশ করেছি। যদি সরকার মনে করে, তারা ১০টি বিভাগ করে দেবে।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চলতি বছর তীব্র তাপপ্রবাহে ভারতের বিহার, উত্তর প্রদেশ ও ওড়িশায় নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকে তারা মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, শনিবার (১ জুন) অঞ্চলগুলোয় তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে।
চলতি বছর প্রচণ্ড গ্রীষ্ম দেখছে ভারত। চলতি সপ্তাহে রাজধানী দিল্লির কিছু অংশে তাপমাত্রা ৫২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে যায়।
তবে কয়েকদিনের মধ্যে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে গরম কমে আসতে পারে। এছাড়া চলমান তাপপ্রবাহ আরও দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ সময় স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি থেকে ৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার বিহারে মারা গেছেন ১৪ জন। এর মধ্যে নির্বাচনী কাজে যুক্ত ১০ জন রয়েছেন। ভারতের লোকসভা নির্বাচনের সপ্তম তথা শেষ ধাপে শনিবার বিহারের কিছু অংশে ভোট হচ্ছে। মে মাসের শুরু থেকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে তাপপ্রবাহ শুরু হয়। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে তাপপ্রবাহ।
মন্তব্য করুন


যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, আমরা (বাংলাদেশ) কষ্ট করে কোয়ালিফাই করে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি। আমরা ক্রীড়াপাগল, ক্রিকেট ভক্ত জাতি। আমরা অবশ্যই খেলতে চাই। কিন্তু এটা আমরা জাতির অবমাননার বিনিময়ে, আমাদের ক্রিকেটার, আমাদের দর্শক, আমাদের সাংবাদিক- তাদের নিরাপত্তার বিনিময়ে, দেশের মর্যাদার বিনিময়ে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই না।
বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, আজকে আমরা আইসিসি থেকে যে চিঠিটা পেয়েছি, সেই চিঠি পড়ে আমাদের মনে হয়েছে ভারতে যে প্রচণ্ড একটা নিরাপত্তা ইস্যু তৈরি হয়েছে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য, তারা অনুভব করতে সক্ষম হয় নাই। এবং আমার কাছে মনে হয়েছে এটা শুধু নিরাপত্তা ইস্যু না, এটা জাতীয় অবমাননা ইস্যু। যাই হোক আমরা নিরাপত্তা ইস্যুটাকে বড় করে দেখছি।
তিনি বলেন, ভারতের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি নিয়ে কিছু বলতে চাই না। তবে আমাদের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের মর্যাদা প্রশ্নে আমরা কোনো আপোষ করবো না। আমরা ক্রিকেট, বিশ্বকাপ খেলতে চাই; আরেকটি আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই। এই অবস্থানে আমরা অনড় আছি। কেন এই অবস্থানে অনড় আছি, আশা করি আইসিসিকে সেটি বোঝাতে সক্ষম হবো এবং আইসিসি আমাদের যুক্তিগুলো সহৃদয়তা-নিরপেক্ষতার সাথে বিবেচনা করে আমরা কষ্ট করে যে অর্জনটা করেছি, সেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দেবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, আমাদের প্রথম অবস্থান হচ্ছে, আইসিসিকে বোঝানো। আমাদের যথেষ্ট শক্ত যুক্তি আছে। সেটি দিয়ে আইসিসিকে বুঝাবো। আমাদের স্ট্যান্ড হচ্ছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা, সম্মান, মর্যাদার প্রশ্নে আপোষ করবো না। কিন্তু অবশ্যই ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলতে চাই। পরবর্তী পরিস্থিতি অনুযায়ী আবার আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেবো। এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিষ্কার, আইসিসিকে বুঝাবো ভারতে খেলার মতো পরিবেশ নেই। আজ রাতে কিংবা কাল সকালের মধ্যে চিঠি দেয়া হবে।
মন্তব্য করুন