

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে প্রথম দিন থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে এবং তাকরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞ টিম এ বিষয়ে কাজ করছে।’
মঙ্গলবার (০৫ আগস্ট) চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ‘ভেটেরিনারি সায়েন্স, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইসিটি ইত্যাদি খাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আর সেটাই হবে নতুন বাংলাদেশের লক্ষ্য।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে এককভাবে রাজত্ব কায়েম করেছিল। আমাদের গণতন্ত্র পরিপূর্ণভাবে পুনঃপ্রবর্তন করতে হবে। সেই গণতন্ত্র প্রবর্তনের জন্য আমাদের মনমানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। ভিন্নমতের প্রতি সম্মান জানাতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন অনিবার্য ছিল। বিগত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর অবিচার হয়েছে। ৬০-৭০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, কয়েক হাজার লোক গুম হয়েছে, খুন হয়েছে, পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছে, জেলখানার মধ্যে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। গত ৫ আগস্ট আমি নিজেও কারাগারে বন্দী ছিলাম।’
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘জুলাইয়ের ত্যাগের প্রতি আমরা যদি সম্মান জানাতে চাই, তাহলে যার যার অবস্থান থেকে দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করতে হবে। তাহলে এই ত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করা হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে। আমাদের মনমানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। কথাবার্তায়, আচার-আচরণে গণতান্ত্রিক হতে হবে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন আনতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিভাসু উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ, সিভাসুর পরিচালক (বহিরাঙ্গন কার্যক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুদ্দিন, পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রাশেদুল আলম এবং পরিচালক (পিআরটিসি) অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. হুমায়ুন কবির। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন নিবন্ধন ছাড়া দলগুলোই ডিসেম্বরে নির্বাচন চায় না।
তিনি বলেন, ৫২টি দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছে। আর ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায় না কারা বলি, যেসব দলের নিবন্ধন হয় নাই, যাদের জন্ম ৫ আগস্টের পর। এরা ডিসেম্বরে নির্বাচন চায় না।
ডিসেম্বর বলছে বিএনপির পক্ষ থেকে। আমি বলছি কেন ডিসেম্বর, কেন সেপ্টেম্বর, অক্টোবরে নির্বাচন নয়? কোন কাজটা বাকি আমি তো দেখতেছি না।
আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই একটি দেশের মূল শক্তি। দেশ গড়তে সবাইকে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে তা হবে জবাবদিহিমূলক সরকার।
নির্বাচনের সময়সীমা প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, গণতন্ত্রের পথ কেউ যদি রুদ্ধ করতে চায়, শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া কেউ যদি বাধাগ্রস্ত করতে চায়, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের রুখে দেওয়া হবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই হতে হবে নির্বাচন।
প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, এর দ্বারা কী অর্থ বহন করে এমন প্রশ্ন রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।
মন্তব্য করুন


বহুল আলোচিত সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) সম্পর্কে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে জনগণের হাতে প্রার্থী বাছাইয়ে সুযোগ থাকবে না। দলের প্রতীককে ভোট দিতে হবে। বরং পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে রাজনৈতিক দলগুলো আরও বেশি কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠতে পারে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি কী, সে সম্পর্কে দেশের জনগণ অবগত নয়। কারণ দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থায় এর আগে কখনো জনগণ পিআর পদ্ধতি দেখিনি। এখন হঠাৎ করে দু-একটি রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের কথা বলছে।
তিনি শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের লোকনাথ ট্যাংকের পাড় ময়দানে জেলা বিএনপির সদস্য নবায়ণ এবং প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্য এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, কিছু কিছু দল পিআর ও সংস্কারের কথা বলে কেন নির্বাচন বিলম্বিত করতে চাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য বিএনপি বোঝে।
তিনি বলেন, দেশের শিক্ষিত, মেহনতি ও ভদ্র সমাজ বিএনপির সদস্য হবে। তবে কোনো চাঁদাবাজ দখলবাজ দলের সদস্য হতে পারবে না। যারা গণতন্ত্রের গলায় পা দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে রেখেছিল, তারা বিএনপির সদস্য হতে পারবে না। বিএনপির সদস্য হবে যারা সমাজের গুণীজন।
৩০ লাখ মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এদেশ। সাড়ে ৮ লাখ বছর আগে মানব সমাজে যে হিংস্রতা ছিল, শেখ হাসিনা সে হিংস্রতা চালিয়েছিল বাংলাদেশের মানুষের ওপর। ভয়ংকর রক্তপিপাসু হাসিনাকে বাংলাদেশের মানুষ পরাজিত করেছে। সে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।
রুহুল কবির রিজভী
তিনি বলেন, ৩০ লাখ মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এদেশ। সাড়ে ৮ লাখ বছর আগে মানব সমাজে যে হিংস্রতা ছিল, শেখ হাসিনা সে হিংস্রতা চালিয়েছিল বাংলাদেশের মানুষের ওপর। ভয়ংকর রক্তপিপাসু হাসিনাকে বাংলাদেশের মানুষ পরাজিত করেছে। সে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।
সভায় কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল সভাপতিত্ব করেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া, বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদ মোস্তাক মিয়া, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, সহ-সভাপতি এবিএম মোমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম জেলা শাখার টিম লিডার আহসান উদ্দিন খান শিপন প্রমুখ।
পরে প্রধান অতিথি নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম কর্মসূচির ফরম বিতরণ করেন।
এদিকে কর্মসূচিকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে যোগ দেয়।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ চায় মন্তব্য করে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক আব্দুল হালিম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ চায়। আশা করি অন্তর্বর্তী সরকার যত দ্রুত সম্ভব মৌলিক সংস্কার শেষ করে নির্বাচন দেবে।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
আব্দুল হালিম বলেন, বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের আমলে জামায়াতের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, ৩০ জন ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন, ১ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পতিত আওয়ামী লীগ একেক দিন একের রূপে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের সব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে দলটির পতন হয়েছে। এখন জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নির্বাচন জরুরি বলে দাবি করে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব মৌলিক সংস্কার শেষে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন দেবে বলে প্রত্যাশা জামায়াতের।
আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা নাশকতার এক মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ ১৬৭ নেতাকর্মীকে দায়মুক্তি দিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজের আদালত পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে এ আদেশ দেন।
আদালত অব্যাহতি দেওয়া অন্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কফিল উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুর রশিদ হাবিব, মিডিয়া উইংয়ের শামসুদ্দিন দিদার, নির্বাহী সদস্য নিপুণ রায়, যুবদল সভাপতি রফিকুল ইসলাম মনজু, ছাত্রদল দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন প্রমুখ।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহি উদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'এই মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিযোগের কোনও সত্যতা মেলেনি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনেই আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।' তিনি বলেন, 'ফ্যাসিস্ট সরকারের করা এই মিথ্যা মামলায় দেরিতে হলেও আমরা আইনের আশ্রয়ে সুবিচার পেয়েছি।'
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর রাজধানীর ফকিরাপুল থেকে বিএনপি নেত্রী আফরোজা আব্বাসের নেতৃত্বে একটি মিছিল নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসে। একইভাবে নবী উল্লাহ নবী, কফিল উদ্দিন এবং পরে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে আরও তিনটি মিছিল ওই এলাকায় জমায়েত হয়।
অভিযোগে বলা হয়, তারা ভিআইপি রোড অবরোধ করে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় এবং পুলিশের অনুরোধে কর্ণপাত না করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পরে বিএনপি অফিস থেকে বের হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে তারা পুলিশের গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়, ভাঙচুর চালায় এবং পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
এ ঘটনায় পল্টন থানার এসআই মো. আল-আমিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে সম্প্রতি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামিদের দায়মুক্তির আদেশ দেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। সময়মতো দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আজ মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় তিনি জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানায়। লন্ডনের বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া নির্বাচন নিয়ে সব পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বানও জানান আমীর খসরু।
এর আগে, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো ডায়াস ফেরেসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির তিন সদস্যদের প্রতিনিধিদল।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।
বৈঠকে দু’দেশের কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্তব্য করুন


স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক অন্তবর্তীকালীন সরকাকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখবেননা। বরং আপনাদের যে দায়িত্ব রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার গুলোর জন্য রোডম্যাপ ঘোষণা করুন। আগামী নির্বাচনের জন্য একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করুন।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালীর চৌমুহনী রেলস্টেশনে নোয়াখালী খেলাফত মজলিসের গণ সমাবেশে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আগস্টের বিপ্লব প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে আগস্টের বিপ্লব ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে। আগে দেশ বাঁচান, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখুন। আগস্টের বিপ্লব ব্যর্থ হলে কোনো বাংলাদেশী বাংলাদেশে থাকতে পারবেনা। তাই সকলে মিলে স্বৈরাচারী মাফিয়া হাসিনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিচার না হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জবাবদিহিতা করতে হবে। সকল রাজনৈতিক দল গুলোকে এক সাথ হয়ে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে।
মামুনুল হক বলেন, সব জায়গায় ষড়যন্ত্রের জাল উঠছে। তাই এখনো গোটা বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এখনো আমাদের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ ও প্রতিযোগিতার সময় তৈরী হয়নি।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউছুফ আশরাফ, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির খুরশিদ আলম কাশেম,যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হুসাইন মিয়াজী প্রমূখ।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও বিভিন্ন মামলায় আটকদের মুক্তি দেওয়া শুরু হয়েছে এবং এরই মধ্যে অনেকে মুক্তি পেয়েছেন।
৬ আগস্ট বঙ্গভবন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে গতকাল সোমবার (৫ আগস্ট) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানান, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক বন্দিকে শিগগির মুক্তি দেওয়া হবে। এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান ও আহতদের সুচিকিৎসার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও বলেন, জরুরি ভিত্তিতে একটি অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠন করা হবে। সব দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে।
অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠনের লক্ষ্যে গতকাল রাতে বঙ্গভবনে সেনাপ্রধান, নৌপ্রধান, বিমান বাহিনীর প্রধান এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাষ্ট্রপতি।
বৈঠকে কোটাবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করা হয়। এসময় অনতিবিলম্বে একটি অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ধৈর্য ও সহনশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয় বৈঠকে। লুটতরাজ ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
সেই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অনতিবিলম্বে মুক্তির সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে এবং সম্প্রতি বিভিন্ন মামলায় আটক সব বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি যেন কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয় সে ব্যাপারেও সভায় ঐকমত্য হয়।
মন্তব্য করুন


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার রেখে যাওয়া প্রেতাত্মা ও দোসররা এখনো যায়নি। তারা প্রশাসনের বিভিন্নক্ষেত্রে অবস্থান নিয়ে পাতানো পরিকল্পিত অস্থিরতা তৈরি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাতে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করতে না পারে সেজন্য প্রস্তুত রয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কলেজপাড়ায় তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী কিশোর গবেষক আহনাফ বিন আশরাফ নাবিলকে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর পক্ষ থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শুভেচ্ছা জানাতে আসেন তিনি।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তার নিষ্ঠুরতা, যে রক্ত স্রোত বইয়েছে; সেক্ষেত্রে যে সব নেতা ও প্রশাসনের ব্যক্তিরা দায়ী তাদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য এক ধরনের গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে। পাসপোর্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে তাদের পাসপোর্ট দেওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে যাদের অপরাধের অভিযোগ আছে কিংবা অপরাধী হতে পারে তারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রিন সিগন্যাল পেতে পারে না। এর মানেই হলো প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা লোকরা শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা সেটা বাস্তবায়নে তারা নানা পরিকল্পনা করছে।
রিজভী বলেন, জনগণের ওপরে কোনো শক্তি নেই। নতুন করে যত ষড়যন্ত্র করা হোক এরা পরাজিত হবে এবং অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ফিরবে। পাশাপাশি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে দেশ পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, প্রত্যেক রাজনৈতিক দল তাদের অবস্থান থেকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। এটাকে কাদা ছোড়াছুড়ি বলা যায় না। এই গণতন্ত্রের জন্যই ১৬ বছর ধরে এত আন্দোলন সংগ্রাম। গণতন্ত্রের এই মূল চালিকাশক্তিকেই শেখ হাসিনা কেড়ে নিয়েছিল।
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত পার্লামেন্ট ছাড়া আগে থেকে কোনো কিছুকে আইন হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তাহলে যে আইনের শাসনের জন্য লড়াই করা হয়েছে সেই আইনের শাসনের লড়াইয়ের চেতনাকে ব্যাহত করা হবে।
শিক্ষার্থী নাবিল সম্পর্কে তিনি বলেন, কিশোর বয়সে তার উদ্ভাবনী চিন্তা-চেতনা অবিশ্বাস্য। তার প্রতিভার সন্ধান পেয়ে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। পরে তাকে আমরা বিএনপি পরিবারের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর পরিবাগ সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, "নববর্ষে জাতির প্রধান আকাঙ্ক্ষা হলো ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া। কারণ, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশবাসীর ভোটাধিকারসহ সকল মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।"
সতীর্থ স্বজনের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রিজভী জুলাই মাসে ছাত্রদলের আন্দোলনের কথা স্মরণ করে বলেন, "আমি কারাগারে থাকা অবস্থায় শুনেছি, তরুণদের আন্দোলন কতটা তীব্র ছিল। পুলিশ বলছে, 'একজনকে গুলি করলে আরেকজন এসে দাঁড়ায়।' এই সাহস ও প্রেরণা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য কবি-সাহিত্যিকদের রচনা থেকে এসেছে।"
তিনি আরও বলেন, "গত ১৫ বছর ধরে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশের সংস্কৃতিকে বিকৃত করার চেষ্টা করেছে। এমনকি পহেলা বৈশাখের মতো উৎসবেও মুখোশ পরে আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। দাড়ি-টুপি পরা মানুষদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু দাড়ি-টুপি পরা মানুষরা কি খারাপ? না।"
রিজভী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংকল্প ব্যক্ত করে বলেন, "আমরা ১৬ বছর ধরে যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, তা নিশ্চিত করতে হবে। এই নববর্ষে আমাদের দাবি—দ্রুত ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন জনগণের অধিকার হরণ করেছে, কিন্তু আমরা তা ফিরে পাবই।"
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ভোটাধিকার ও সংস্কারকে এক করে দেখা উচিত নয়। গণতন্ত্র হলো প্রবাহমান নদীর মতো, যেখানে কর্তৃত্ববাদের স্থান নেই। অনেক উপদেষ্টা এখন বিএনপিকে শত্রু ভাবছেন। তারা ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র বাদ দিয়ে শুধু সংস্কারের কথা বলছেন—এটি আমাদের বোধগম্য নয়।"
অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল বলেন, "ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনমুক্ত দেশই ছাত্রদলের জন্য ঈদের মতো আনন্দের দিন বয়ে আনবে। এই নববর্ষে সবার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির প্রত্যাশা করি।"
এই আলোচনা সভায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন শিল্পী দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরেন।
মন্তব্য করুন


ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগ সরকার। সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা তার নেতাকর্মীদের ফেলে পরিবারের লোকদের নিয়ে পালিয়ে যান ভারতে। ক্ষমতায় থাকাকালে যেসব কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন তাদেরকে দলের দু:সময়ে পাশে পাননি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
চরম দুঃসময়ে যেসব নেতা দলীয় কর্মীদের পাশে ছিলেন না তাদের মধ্যে অন্যতম আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গণঅভ্যুত্থানের দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করেননি। ছিলেন আড়ালে। অথচ আগে প্রায় প্রতিদিনিই বিরোধী দলকে নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিতেন তিনি।
সম্প্রতি ওবায়দুল কাদের মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারকে দেওয়া ওবায়দুল কাদেরের এক সাক্ষাৎকার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যেখানে তিনি জানিয়েছেন, জনতার ক্ষোভ থেকে বাঁচতে তিনি স্ত্রীসহ এক বাথরুমে ৫ ঘণ্টা লুকিয়ে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর কতদিন দেশে ছিলেন এবং পরে কীভাবে পালিয়েছেন সেটিও বেরিয়ে এসেছে ওই সাক্ষাৎকারে।
ওই ভিডিওতে ওবায়দুল কাদের ৫ আগস্টের উত্তাল দিনের কথা জানিয়ে বলেন, ‘সংসদ এলাকার আমার নিজের বাসাকে এড়িয়ে পার্শ্ববর্তী আরেকটা বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। তখন চারদিক থেকে মিছিল আসছিল। এটা আসলে ছিল প্রধানমন্ত্রীর (সাবেক) গণভবন কেন্দ্রিক। আমি যে বাসাটায় ছিলাম, তারা সে বাসাতেও হামলা করে। তারা জানত না, যে সেখানে আমি আছি।
ওবায়দুল কাদেরের ভাষ্য, ‘আমি আমার স্ত্রীসহ বাথরুমে লুকিয়ে ছিলাম। অনেকক্ষণ ছিলাম, প্রায় ৫ ঘণ্টা। তারপর একটা পর্যায়ে তারা বাথরুমে ভেতরেও কমোড-বেসিন এগুলো ‘লুটপাট’ করেছে। আমার স্ত্রী তখন বাথরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বারবার বলছিলেন যে আমি অসুস্থ, যাতে করে তাদের প্রবেশ ঠেকানো যায়। কিন্তু তারা জোরপূর্বক ভেতরে ঢোকার হুমকি দিতে থাকে, বাথরুমে কী আছে তা লুট করতে চায়। এই অবস্থায় আমার স্ত্রী আমাকে জিজ্ঞাসা করে, কী করব? আমি বললাম, দরজা খুলে দাও।’
ওবায়দুল কাদেরের ভাষায়, ‘এরপর ৭-৮ জন যুবক ভেতরে ঢোকে, এবং তারা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে আচরণ করতে থাকে। হঠাৎ তারা আমার দিকে তাকিয়ে বলে, ‘নেত্রী তো চলে গেলেন, আপনি যাননি কেন?’ আমি তখন কিছু বলতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু এর মাঝেই তারা আচরণ পাল্টে ফেলে। কেউ একজন বলে, ‘আপনার ছবি তুলব’, তারপর শুরু হয় ছবি তোলা, কেউ কেউ সেলফিও নেয়। ধারণা করি, এদের মধ্যে অনেকেই আমাকে চিনতো।’
তিনি জানান, ঠিক কী কারণে প্রথমে তাদের মধ্যে এত আক্রমণাত্মক মনোভাব ছিল, আর কেন হঠাৎ করে সেই আচরণ শীতল হয়ে গেল- তা তিনি বুঝে উঠতে পারেননি। আচমকাই তারা ঠান্ডা মাথায় কথা বলা শুরু করে। তাদের মধ্যেই একটা গ্রুপ তখন চাইছিল তাকে রাস্তায় নামিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিতে, আবার কেউ কেউ চেয়েছিল জনতার হাতে তুলে দিতে। এই পরিস্থিতি তার মনে গভীর চাপ ও মানসিক ভাঙন সৃষ্টি করে। এরপর তারা তাকে একটি শার্ট, লাল পতাকাসংবলিত ব্যাজ এবং মুখে কালো মাস্ক পরিয়ে সংসদ এলাকা থেকে গণভবন অভিমুখী বড় রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যায়। হঠাৎ কোথা থেকে একটি খালি ট্যাক্সি বা ইজি বাইক এসে হাজির হয়- সেই মুহূর্তে রাস্তায় কোনো গাড়ি ছিল না। তিনি মনে করেন, এটি হয়তো তার ভাগ্যের বিষয় ছিল।’
এক প্রশ্নের জবাবে স্বৈরাচার হাসিনার অন্যতম এই সহযোগী বলেন, তাদের মধ্যে দু’জন তাকে ও তার স্ত্রীকে সেই গাড়িতে তোলে এবং পথে যেতে যেতে চারপাশের চেকপোস্ট ও লোকজনকে উদ্দেশ্য করে বলে, ‘চাচা-চাচি অসুস্থ, হাসপাতালে নিচ্ছি, বিরক্ত করবেন না।’ এইভাবেই তারা তাকে অনেক দূরের একটি জায়গায় নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ভাবতেও পারিনি যে যারা কয়েক মিনিট আগে বাথরুমে জোর করে ঢুকেছিল, তারাই আমাদের এভাবে রক্ষা করবে। সেদিন বেঁচে যাওয়া ছিল একেবারে অপ্রত্যাশিত। এটা ছিল পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সেখান থেকে পালিয়ে গেলেও পরবর্তী তিনমাস দেশেই ছিলেন ওবায়দুল কাদের। ফন্দি আঁটছিলেন দেশের শ্রমিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার।
মন্তব্য করুন