

রোহিঙ্গা সংকটের আট বছর পূর্তিতে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানাল পশ্চিমা বিশ্বের ১১ দেশ। মিয়ানমারের অস্থিরতা ও মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার আট বছর পূর্তিতে এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ড। সোমবার সকালে ঢাকায় ফরাসি দূতাবাস তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিবৃতিটি প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আট বছর আগে মিয়ানমারের সেনা অভিযানে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এখানে অবস্থান করছে এবং নতুন করে শরণার্থী প্রবেশও অব্যাহত রয়েছে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও রোহিঙ্গাদের দৃঢ়তা ও সহনশীলতাকে এতে প্রশংসা করা হয়।
১১ দেশ বাংলাদেশের জনগণ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলে, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে সংকটের স্থায়ী সমাধান হলো নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন, যার পরিবেশ এখনো মিয়ানমারে তৈরি হয়নি। এজন্য বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো সমাধান জরুরি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
যৌথ বিবৃতিতে মিয়ানমারের সেনা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। সহিংসতা বন্ধ, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া মানবিক তহবিল কমতে থাকায় রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ, যারা দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থীদের সহায়তা করছেন, তাদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করা হয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বলছে, রোহিঙ্গাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা বাংলাদেশে অবস্থানকালে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে। আট বছর পরও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সংকট সমাধান এবং বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খানের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাচান তাকে দশদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন।
অন্যদিকে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছানাউল্ল্যা তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে সোমবার (১৪ অক্টোবর) দিনগত রাতে ঢাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির এক দফা দাবি আন্দোলন কর্মসূচি ঘিরে সারাদেশের নেতাকর্মীরা যখন জড়ো হতে থাকেন তখন আসামিরা বিএনপির সমাবেশ বানচালের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর অজ্ঞাতনামা ৫০০-৬০০ জন আসামি বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। আসামিরা বিএনপি অফিসে প্রবেশ করে ভাঙচুর করেন।
এসময় বিএনপি কার্যালয়ে থাকা নেতাকর্মীদের লাঠিচার্জ ও গুলি করেন। এসময় মকবুল নামে এক বিএনপিকর্মী আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
বুধবার নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, দুর্ভাগ্যবশত, পূর্ববর্তী নির্বাচন কমিশন তাদের ক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার করেনি। এজন্য নির্বাচনী অপরাধে জড়িতদের অবশ্যই বিচার কার্যক্রমের আওতায় আনা উচিত।
বুধবার নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনের বিভিন্ন অপরাধ ঘটেছে এবং এসব অপরাধের বিচার হওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি এবং যারা অপরাধ করেছেন, যাদের অপরাধ প্রমাণিত হবে, তাদের অবশ্যই বিচার করা উচিত।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো কমিশনকে বিচারের আওতায় আনা হবে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট আলোচনা হয়নি। তবে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৭৩ থেকে ৯০ ধারায় নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধের বর্ণনা রয়েছে এবং এসব অপরাধ যথাযথভাবে প্রয়োগ করা উচিত।
বিগত নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণার পর যে যুক্তি দিয়েছিল, যে নির্বাচনের পর অপরাধের শাস্তি দেওয়া সম্ভব নয়, তা নিয়ে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তারা ইচ্ছা করলে তদন্তের ভিত্তিতে নির্বাচন বাতিল করতে পারতেন। গেজেট প্রকাশ হওয়ার আগেই তদন্ত করে নির্বাচনে ত্রুটি থাকলে পুনঃনির্বাচনও দেওয়া সম্ভব ছিল, কিন্তু তারা ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার করেননি।
তিনি আরও বলেন, তারা নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। এই সাক্ষাৎ অল্প সময়ের জন্য হতে পারতো, তবে এটি দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নতুন নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর, এবং সংস্কার কমিশনও তাদের যথাযথ সহায়তা করতে প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি, তবে কিছু বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এক মাসের মধ্যে সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে প্রদান করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা নিয়ে আরও একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের এক বিরাট ক্ষমতা রয়েছে, এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার জন্য তারা আইন-কানুনের গ্যাপ পূরণ করতে পারেন।
নতুন কমিশন তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়া যায়নি, তবে তাদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই এবং তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। আমরা তাদের সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত।
মতবিনিময় সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার এবং সংস্কার কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর সংসদ ভবনের সামনে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ আন্দোলনের মুখে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ জরুরি সংশোধন ঘোষণা করেছে। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে এই ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘গতকালের আলোচনা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারনামার ৫ নম্বর দফায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে জুলাই যোদ্ধাদের দাবির প্রতিফলন ঘটিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়েছে।’
অধ্যাপক আলী রীয়াজ সংশোধিত ভাষ্য পাঠ করে শোনান। এতে বলা হয়েছে, ‘গণঅভ্যুত্থানপূর্ব বাংলাদেশে ১৬ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকারদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের বিচার করা হবে। শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও তাঁদের পরিবারকে আইনগত দায়মুক্তি, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আহত জুলাই বীরদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, মাসিক ভাতা, সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।’
তিনি আরও জানান, এই অঙ্গীকারনামা বাস্তবায়নের বিষয়টি কমিশন স্পষ্টভাবে সরকারের কাছে উপস্থাপন করবে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দল ও কমিশনের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই।
এ সময় কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দুপুরে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আন্দোলনরত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও এমপি হোস্টেলের সামনে সড়কে টায়ার ও প্লাস্টিকে আগুন জ্বালানোর ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই বিকেলে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শুরু করার প্রস্তুতি চলছিল।
মন্তব্য করুন


মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বিশ্ববাজারের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি খাতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে সংঘাতের প্রভাবে ইরানের নিষেধাজ্ঞার কারণে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে না পেরে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল বহনকারী ‘নর্ডিক পোলাক্স’ ট্যাংকার জাহাজটি আটকে রয়েছে। প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স পেলেই জাহাজটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক।
বুধবার (৮ এপ্রিল) চট্টগ্রামে বিএসসির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। এতে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, গত ৩ মার্চ রাস তানুরা বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘নর্ডিক পোলাক্স’ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজটি সেখানেই আটকে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি হলে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। বর্তমানে ক্লিয়ারেন্স পেলেই জাহাজটি গন্তব্যের পথে রওনা দেবে। তিনি আরও জানান, প্রায় এক মাস ধরে চার্টার করা জাহাজটি বন্দরে অবস্থান করলেও এতে বিএসসি বা বিপিসিকে কোনো অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বিএসসি নতুন করে চারটি জাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকার এবং দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য গত ১১ মার্চ চীনের সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া আরও দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার সংগ্রহের জন্য পৃথক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি জাহাজের ধারণক্ষমতা ৪০,০০০ থেকে ৫৫,০০০ ডেডওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) হবে। গত ২ এপ্রিল এ প্রকল্পের মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং একনেক সভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
বিএসসি জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থাটি প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় করে ৩০৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে, যা তাদের ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
মন্তব্য করুন


প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন ভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সিইসি এ কথা জানান।
সিইসি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানতে চেয়েছে, গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে আগামী নির্বাচনের জন্য আমরা কতটুকু প্রস্তুত। আমরা কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি, ভোটার নিবন্ধন থেকে শুরু করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের টাইমলাইন কেমন হবে—এসব বিষয়ে তারা জানতে চেয়েছেন। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রায় তারা সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তারা চান, গণতান্ত্রিক উত্তরণ সফল হোক। এই পথে যতটুকু সহায়তা প্রয়োজন, তারা তা দেবেন।
কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, তারা বিশেষজ্ঞ পাঠাবেন। তারা পর্যালোচনা করে আমাদের জানাবেন। তাদের মিশন আসবে। নির্বাচন হলে তারা পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকতে চান। আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কারণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছি।
আমরা তাদের বলেছি, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং আমরা সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছি। তারা আমাদের কথা শুনে খুশি হয়েছেন। আমরা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছি, এটা তারা উপলব্ধি করতে পেরেছেন।
তারা বলেছেন, সংস্কারের জন্য সময় কম থাকায় তারা সংস্কারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে তারা চাপ দিচ্ছেন না, বরং পরামর্শ দিচ্ছেন।
সিইসি বলেন, আমরা আমাদের মতামত দিয়েছি। সংবিধান আমাদের যে স্বাধীনতা দিয়েছে, তা যেন নিশ্চিত থাকে, সেটা তাদের জানিয়েছি। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হোক, তা আমরা চাই না। তারা এ বিষয়টি সমর্থন করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকা উচিত। অন্যথায়, জাতি যা প্রত্যাশা করে, তা পূরণ করা সম্ভব হবে না।
মন্তব্য করুন


আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ভোটারদের সুবিধার্থে গণভোটের ব্যালট হবে ভিন্ন রংয়ের। আমরা আশা করছি, আজ বা কালকের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
মঙ্গলবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় গণভোট অধ্যাদেশ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, গণভোটে প্রশ্ন থাকবে একটি। হ্যাঁ অথবা না ভোট দিতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের ভোটের সময় হবে গণভোট। গণভোটের ব্যালট জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট থেকে পৃথক রংয়ের হবে- যাতে কেউ দ্বিধার মধ্যে না পড়েন।
তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের জন্য যেসব রিটার্নিং, সহকারী রিটার্নিং, প্রিসাইডিং অফিসার বা পোলিং অফিসার নিয়োগ করা হবে, ওনারাই গণভোটের একই দায়িত্ব পালন করবেন। ঐকমত্য হওয়া ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে জয়ী দল। এটিসহ ৪টি পয়েন্টে ‘হ্যাঁ’ ‘না’ ভোট দিতে হবে।
এর আগে, গত ২০ নভেম্বর বৈঠকে গণভোট আইন অনুমোদন করে উপদেষ্টা পরিষদ। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ করা সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে জনগণের মতামত নিতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই গণভোট আয়োজনে আইন প্রণয়ন করতে হবে।
ওই সময় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় কয়েক কার্যদিবসের মধ্যেই গণভোট অধ্যাদেশ আকারে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। এ নিয়েই আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক।
মন্তব্য করুন


খুব শিগগির জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
রোববার (৫ অক্টোবর) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশন সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক বৈঠকে এ কথা জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি এ তথ্য জানান।
বৈঠকের বরাত দিয়ে তিনি জানান, প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জুলাই সনদের বিষয়বস্তু ও এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোভাব ও এ বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের অবস্থান সম্পর্কে সভাকে অবহিত করা হয়।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঐকমত্য কমিশনের কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ঐকমত্য কমিশন সব রাজনৈতিক দল থেকে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা পেয়েছে। এছাড়া গণমাধ্যমগুলো ঐকমত্য কমিশনকে অকল্পনীয় সমর্থন দিয়েছে।
কমিশন সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ ও শুভ কামনা জানিয়েছেন। কমিশনের কাজের চূড়ান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
কমিশনের পক্ষ থেকে বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, কমিশন সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আসিফ নজরুল ও আদিলুর রহমান খানও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব নানাবিধ সংকটে জর্জরিত। আমাদেরকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিস্থাপক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পৃথিবী রেখে যেতে হবে; যা জ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে গঠিত হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য সার্বজনীন টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত 'আর্থনা' শীর্ষ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা এ বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, "আজকের যুবসমাজ, যারা এই গ্রহের ভবিষ্যৎ কর্ণধার, তাদেরকে আমরা পিছনে ফেলে আসতে পারি না। আমি ব্যক্তিগতভাবে যুবসমাজের মধ্যে নাগরিক সচেতনতা ও ক্ষমতায়নের রূপান্তরধর্মী শক্তি প্রত্যক্ষ করেছি।"
এর আগে, কাতারে পৌঁছানোর পর অধ্যাপক ইউনূসকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কাতার সরকারের প্রটোকল প্রধান ও রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম ফাখরু তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির আমন্ত্রণে অধ্যাপক ইউনূস এই সফরে গেছেন। শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি কাতারের আমিরের সাথে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন


ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠন হয় অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই ১২ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের ১২টি বড় সাফল্যের তথ্য জানালেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি সাফল্যের বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।
১. শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা
জুলাই বিপ্লবের পর দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরেছে, যার ফলে নৈরাজ্য ও প্রতিশোধের চক্র বন্ধ হয়েছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নৈতিক নেতৃত্ব ছিল এই স্থিতিশীলতার মূল চালিকাশক্তি, যা জাতিকে সহিংসতা নয়; বরং পুনর্মিলন ও গণতন্ত্রের পথে পরিচালিত করেছে।
২. অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার
ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রেখেছে এই সরকার। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ থেকে প্রায় অর্ধেকে নামানো হয়েছে।
সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৮.৪৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে (যা ৩৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন), রেমিট্যান্সে রেকর্ড ৩০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, রপ্তানি ৯ শতাংশ বৃদ্ধি, বহু বছর পর টাকার মান ডলারের বিপরীতে বেড়েছে এবং ব্যাংক খাত স্থিতিশীল হয়েছে।
৩. বাণিজ্য ও বিনিয়োগে অগ্রগতি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সফল শুল্ক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন, দুর্বল সরকার এটি পারবে না। কিন্তু এই সকার সেটি করে দেখিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ অর্জন (যেমন হানদা গ্রুপের ২৫ কোটি ডলারের টেক্সটাইল বিনিয়োগে ২৫ হাজার কর্মসংস্থান), এবং আগের সরকারের চেয়ে দ্বিগুণ এফডিআই প্রবাহ। চীনা বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
৪. গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জুলাই সনদ
সংস্কার কমিশন গঠন, ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য তৈরি এবং ঐতিহাসিক জুলাই সনদ চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের ফিরে আসা রোধে সুরক্ষা দিচ্ছে। জুলাই সনদ গণতন্ত্রের নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৫. জুলাই হত্যাযজ্ঞের বিচার
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের স্বচ্ছ বিচার শুরু হয়েছে, যাতে দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।
এখন পর্যন্ত চারটি প্রধান বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনার বিচারও শুরু হয়েছে।
৬. নির্বাচন পরিকল্পনা ও সংস্কার
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবাসী, নতুন ভোটার এবং নারীদের অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নাগরিক মতামতের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হচ্ছে। প্রায় ৮ লাখ পুলিশ, আনসার ও সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।
৭. প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত সংস্কার
বিচার বিভাগ: সংস্কারমুখী নিয়োগের মাধ্যমে স্বাধীনতা নিশ্চিত।
পুলিশ: মানবাধিকার সেল, বডিক্যাম, স্বচ্ছ জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ এবং জাতিসংঘ মানদণ্ডের প্রতিবাদ ব্যবস্থা।
আইন: দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধিতে ব্যাপক পরিবর্তন, গ্রেপ্তারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারকে জানানো বাধ্যতামূলক, আইনজীবী ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত, অনলাইন জিডি চালু।
৮. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও ইন্টারনেট অধিকার
দমনমূলক সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল, সব সাংবাদিক মামলা প্রত্যাহার, সমালোচনার স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকারকে প্রথমবারের মতো মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
৯. পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন
একক দেশের ওপর নির্ভরতা থেকে সরে এসে বহুমাত্রিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, চিকিৎসা সহায়তা ও সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সার্ক পুনরুজ্জীবন ও আসিয়ান সদস্যপদ অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১০. প্রবাসী ও শ্রমিক অধিকার
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা পুনরায় চালু, মালয়েশিয়ার মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা চালু, উপসাগরীয় দেশে অনিয়মিত কর্মীদের বৈধতা প্রদান, জাপানে ১ লাখ তরুণ পাঠানোর পরিকল্পনা এবং ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, সার্বিয়া-তে শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১১. শহীদ ও আহত বিপ্লবীদের সহায়তা
জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের তালিকা প্রণয়ন। ৭৭৫টি শহীদ পরিবারের মাঝে প্রায় ১০০ কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র ও ভাতা প্রদান, ১৩ হাজার ৮০০ জন আহত বিপ্লবীর জন্য ১৫৩ কোটি টাকার সহায়তা। গুরুতর আহতদের বিদেশে উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন।
১২. সামুদ্রিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন
বঙ্গোপসাগরকে ‘জলভিত্তিক অর্থনীতির’ মূল সম্পদ ঘোষণা, চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধি (+২২৫ কনটেইনার দৈনিক হ্যান্ডলিং), উপকূলীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্প্রসারণ এবং গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ ও শিল্প প্রকল্পে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব।
মন্তব্য করুন


নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশন সব রকম প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
আজ বুধবার নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
সিইসি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও প্রস্তুত ইসি। প্রধান উপদেষ্টার চিঠি পেলে কমিশন আলোচনা করে ভোটের তারিখ থেকে মাস দুয়েক আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি, দ্রুত চিঠি পেয়ে যাবো। না পেলেও আমরা আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছি। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকলেও আমাদের প্রস্তুতি এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা ভোটের মাঠ লেভেল প্লেয়িং করার কাজ করছি। তবে রাজনৈতিক দল যেন ফাউল করার নিয়ত করে খেলতে না নামে।
সিইসি আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনে এআইয়ের অপব্যবহার রোধ করাও বড় চ্যালেঞ্জ হবে। ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিতি বাড়ানোও কেউ কেউ বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানাচ্ছেন। তবে আমরা নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই। যেন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হয়।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ভোট করতে পারবে কি না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম তো নিষিদ্ধ। তাদের বিচার চলমান রয়েছে, বিচারের পর আওয়ামী লীগকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ভোট দিতে পারবে বলে জানান নাসির উদ্দিন।
মন্তব্য করুন