

ডেস্ক রিপোর্ট:
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকার গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যাশা করে এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা উন্নত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, "গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে। কমিশন বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে একটি রূপরেখা তৈরি করবে। সরকার এই রূপরেখা পর্যালোচনা করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।"
তিনি আরও বলেন, "সাংবাদিকতা একটি বহুমুখী ক্ষেত্র যেখানে বিভিন্ন পক্ষ সক্রিয়। সম্পাদক, মালিক এবং সাংবাদিক—প্রত্যেকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কাজ করেন। তবে তাদের এক জায়গায় আসতে হবে, সম্মিলিতভাবে সমাধান খুঁজতে হবে।"
সাইবার সিকিউরিটি আইন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, "এই আইন নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং অন্যান্য আইনও পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। যত কম আইনি বাধা থাকবে, স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য ততটাই ভালো।"
তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে জনগণের সামনে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকা উচিত। "যদি কেউ ভুল করে থাকে বা পরিস্থিতির শিকার হয়ে থাকে, তাহলে তা স্বীকার করা উচিত। সত্যের মধ্য দিয়ে রিকনসিলেশন সম্ভব।"
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, "গণমাধ্যম এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে মতবিরোধ থাকলেও সবাইকে সঠিক পথে কাজ করতে হবে।"
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের আত্মত্যাগকে সার্থক করতে এবং তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাই মিলে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবো। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, যেন আমরা গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের প্রতি কোনো অসম্মান না দেখাই।
শনিবার বিকালে রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠকের প্রারম্ভিক বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি আরও বলেন, ছাত্ররা যে কারণে আত্মত্যাগ করেছিল, তা যেন পরবর্তী প্রজন্ম স্মরণ রাখে। তাদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে এবং তা সার্থক করার জন্য আমরা সবাই মিলে সর্বাত্মক চেষ্টা করব, যেন তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে পারি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তারা যদি এ ত্যাগ না করতেন, তাহলে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকলেও তার জবাব খোঁজার আমাদের কোনো সুযোগ থাকত না। বহু বছর ধরে আমাদের মনে যে প্রশ্নগুলো ছিল, তার উত্তর খোঁজার সুযোগ আমরা পাইনি। কিন্তু অসংখ্য ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ সেই সুযোগ পেয়েছি।
মন্তব্য করুন


অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র অর্থহীন। যেন অনেকটা জমিদারের ভাঙ্গা বাড়ির মতো।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্নাঙ্গ বেঞ্চে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের ওপর রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে তিনি এ কথা বলেন।
শুনানিতে তিনি বলেন, গণতন্ত্র সুসংহত করতে সংবিধানে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পেছনে যে যুক্তি দিয়েছিল আপিল বিভাগ তা ছিলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভ্রান্তপ্রসূত বলেও জানান তিনি।
এর আগে বুধবার প্রথম দিনের শুনানিতে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হওয়ার কারণে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা, গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে। রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলকভাবে আওয়ামী লীগকে সুবিধা দিতেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
আবারও গণতন্ত্রের স্বার্থে দেশে আবারো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরা উচিত বলে আপিল বিভাগকে জানান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। বিএনপি, জামায়াত ও সুজনসহ বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষের আইনজীবীরাও এর আগে তত্ত্বাবধায়ক ফেরাতে তাদের আইনি যুক্তি তুলে ধরেন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
আইজিপি বলেন, কেন্দ্র, ভ্রাম্যমাণ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স—এই ৩টি স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তায় মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ পুলিশ সদস্য কাজ করছে। সারা দেশে ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ছাড়াও সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও আনসার কাজ করছে।
সারা দেশে ২৪ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এসব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও বডি ক্যামেরার মাধ্যমে পুলিশের বিশেষ নজরদারি থাকবে। কোনো কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনে সেই কেন্দ্র এমনকি সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটও স্থগিত করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লুট হওয়া অস্ত্র ইস্যুতে পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, পুলিশের তালিকায় থাকা এক হাজার ৩৩০টি অস্ত্রসহ ব্যক্তি পর্যায়ে লুণ্ঠিত সহস্রাধিক অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি। কোনো কিছুই আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না বরং সবকিছু বিবেচনা করেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা সেনানিবাসে ‘Go Green Initiative’ (গো গ্রিন ইনিশিয়েটিভ)-এর ব্যানারে আয়োজন করা হয়েছে এক ব্যতিক্রমী বর্ণাঢ্য সাইকেল র্যালি। পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে উৎসাহিত করতেই এই আয়োজন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সেনানিবাসের সকল ব্রিগেড কমান্ডারগণ, স্টেশন কমান্ডার, কমান্ড্যান্টবৃন্দ, প্রায় ৫০০ বিভিন্ন পদবীর সেনাসদস্য এবং ২৫ জন শিশু কিশোর অংশগ্রহণে এ সাইকেল র্যালির উদ্বোধন করেন ৩৩ পদাতিক ডিভিশন এবং কুমিল্লা এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোঃ নাজিম-উদ-দৌলা, এসপিপি, এনডিসি, পিএসসি, পিএইচডি।
উদ্বোধন শেষে মেজর জেনারেল মোঃ নাজিম-উদ-দৌলা বলেন, পরিবেশবান্ধব একটি আবাসিক ও কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে কুমিল্লা সেনানিবাস-এ ‘Go Green Initiative’ নামে একটি সমন্বিত প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ চলাচলে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২৬ মার্চ ২০২৬ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে আয়োজিত সাইকেল র্যালিতে অংশ নেন সেনানিবাসের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা। পরিবেশবান্ধব, সহজপ্রাপ্য ও স্বাস্থ্যসম্মত বাহন হিসেবে সাইকেলের ব্যবহারকে জনপ্রিয় করে তোলাই ছিল এই র্যালির মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ১০০টি সাইকেল এবং ‘আনন্দ পরিবহন’ নামে দুইটি ব্যাটারিচালিত গাড়ি সংযোজনের মাধ্যমে ‘Go Green Initiative’-এর যাত্রা শুরু হয়। ইতোমধ্যে এই উদ্যোগ জ্বালানিনির্ভর যানবাহনের ব্যবহার কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এছাড়াও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সেনানিবাসের বিভিন্ন স্থাপনার ছাদ ও অনাবাদি ভূমি ব্যবহার করে ৩.৮ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সোলার পাওয়ার প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ‘Go Green Initiative’ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হয়ে পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন


বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, মানবিক ও ভালো মানুষ না হলে দেশের উন্নতি সম্ভব না।
আজ শনিবার মিরপুর সেনানিবাসে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (এমআইএসটি) ‘মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড সাইন্স’ বিষয়ক তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।
সেনাপ্রধান বলেন, ‘শুধু ভালো ইঞ্জিনিয়ার নয়, ভালো মানুষ হতে হবে। তাহলেই দেশের উপকার হবে।’
তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলা মেনে চললে দেশই লাভবান হবে। উন্নয়নের জন্য প্রকৌশল শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।’ এসময় পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজনকে পুরস্কার দেন তিনি।
তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য শক্তি, উৎপাদন কৌশল, তাপ প্রকৌশল ও মহাকাশ গবেষণাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, চীন, জাপান ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা গবেষক ও পেশাজীবীরা অংশ নেন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে এক লাখ সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনা সদর। প্রথমবারের মতো এবার ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কিত বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মনজুরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
নির্বাচনে এক লাখ সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, এর আগের নির্বাচনে কত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল, আগের চেয়ে বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হলো কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগের নির্বাচনগুলোতে আমরা সর্বোচ্চ ৪০-৪২ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এবার এক লাখ সদস্য কেন মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যান্য নির্বাচন থেকে এবারের নির্বাচনে আমাদের সদস্য মোতায়েনের পার্থক্য হচ্ছে, এবার ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগের নির্বাচনগুলোতে এই অনুমতি ছিল না। আগের নির্বাচনগুলোতে আমরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দূরবর্তী জায়গায় অবস্থান করেছি।
তিনি বলেন, এবার সাধারণ ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন, সেটা মাথায় রেখে সেনাবাহিনী প্রধান ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সেনা সদস্যদের রেখে বাকি সব সেনা সদস্যকে নিয়োগ করেছেন সুষ্ঠু ইলেকশন করার জন্য।
তিনি আরো বলেন, যে কারণে আমরা চেষ্টা করছি, আমাদের যে প্রয়োজনীয় যানবাহন অপ্রতুল, আমরা অসামরিক প্রশাসনের কাছে সাহায্য চেয়েছি যেন তারা রিকুইজিশন করে আমাদের গাড়ি দেয়। সেটাও যখন দিতে পারছে না তখন আমরা গাড়ি হায়ার করে হলেও সেনা সদস্যরা যাতে টহল দিতে পারে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেনা সদস্যরা প্রস্তুত এটার জন্য, অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন দিনরাত টহল পরিচালনা করছেন, মাত্র ভোটারদের আস্থার জায়গাটা ফিরিয়ে আনার জন্য। এটা জোরদার করা হয়েছে গত ২০ জানুয়ারি থেকে।
মন্তব্য করুন


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো অব্যবস্থাপনা ছিল কি-না তা তদন্তের জন্য চার দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় কোনো অব্যবস্থাপনা ছিল কিনা সেটি তদন্তের জন্য আমরা চার দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। প্রথমে ইংল্যান্ডকে পরে আরও তিনটি দেশ—অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক ও চীনকে তদন্তের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেসব দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসবে এবং তারা তদন্ত করবে কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।’
শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো ভিলেজ ও ই-গেট পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
এক প্রশ্নের জবাবে মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আগুন নেভাতে বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ব্যর্থ হননি। তারা যদি ব্যর্থ হতেন তাহলে আগুন নেভালো কী করে। তারা আগুন না নেভালে তো সব জায়গায় ছড়াতো।
বিমানবন্দরের ভেতরে ফায়ার সার্ভিসের টিম থাকার পরও পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে আসতে পারলো না কেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই। বিমানবন্দরের ভেতরে ফায়ার সার্ভিসের যে ইউনিটগুলো রয়েছে সেগুলো ৪ মিনিটের মাথায় সেখানে এসেছে। ফায়ার ব্রিগেডের অন্যান্য ইউনিটগুলো পর্যায়ক্রমে ২০ মিনিটে চলে এসেছে। অন্য টিমগুলো একটু দেরিতে আসায় হয়তো আগুন ছড়িয়ে গেছে। এজন্য আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লেগেছে। গুদামগুলোতে কেমিক্যাল থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় প্রবাসীদের পাসপোর্ট ফি নিয়ে তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমাদের যারা রেমিটেন্স যোদ্ধা তাদের পদে পদে কষ্ট হয়। রেমিটেন্স যোদ্ধাদের পাসপোর্ট ফি কীভাবে কমানো যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আলোচনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠান এবং নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম রোধকল্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রবিবার ইসি সচিবালয়ের উপসচিব নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠিতে এ কথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠান এবং নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম রোধকল্পে সূত্রোক্ত পরিপত্রের মাধ্যমে (পরিপত্র-৯) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে উল্লিখিত সেলের কার্যপরিধি অনুযায়ী সেল কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রেরণের জন্যও নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।’
ইসির নির্দেশনার আলোকে গঠিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে সদস্যদের তালিকা (মোবাইল নম্বরসহ) জরুরিভাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রেরণের জন্য সকল রিটার্নিং অফিসারকে অনুরোধ করা হয়েছে।
ইসির পরিপত্র-৯ এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠনের বিষয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচনী এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠন হবে। এতে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন অফিসার, পুলিশ সুপার বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর মনোনীত কর্মকর্তা থাকবেন।
এই সেল নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে অবহিত করবে।
ভোটকেন্দ্র এবং ভোটকক্ষের বাহিরে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাসহ সকল বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার পরিচালনা জোরদার করতে হবে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রণয়নপূর্বক চাঁদাবাজ, মাস্তান ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করতে হবে।
মন্তব্য করুন


ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য (এমইপি) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন (ইইউ ইওএম) এর প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপর মিশনের প্রাথমিক বিবৃতি উপস্থাপন করেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রতিনিধিদল, যার নেতৃত্বে ছিলেন টমাশ জদেখোভস্কি (এমইপি), মিশনের এ বিবৃতিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
“২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন ছিল নির্ভরযোগ্য এবং সুপরিচালিত, যা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও আইনের শাসন পুনঃ প্রতিষ্ঠার পথে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই ঐতিহাসিক লড়াইটি ছিল প্রকৃত অর্থেই প্রতিযোগিতামূলক, যেখানে মৌলিক স্বাধীনতাকে সম্মান করা হয়েছে। নির্বাচনের আইনি কাঠামো অনেকাংশেই আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে, যা অংশীজনদের আস্থা ধরে রেখেছে এবং নির্বাচনের সততা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করেছে,” বলেন প্রধান পর্যবেক্ষক ইজাবস।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের প্রতি জনআস্থা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করার ক্ষেত্রে নাগরিক পর্যবেক্ষক, ফ্যাক্ট- চেকার, তরুণ ও নারী কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ইইউ ইওএম পর্যবেক্ষকগণ লক্ষ্য করেছেন যে নির্বাচন ছিল সুশৃঙ্খল, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ । নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিষ্ঠা এবং দক্ষতার সঙ্গে ভোটকেন্দ্র খালা, ভোটগ্রহণ এবং ভোটগণনা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের উপস্থিতি নির্বাচনের স্বচ্ছতা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ফলাফল-সংক্রান্ত নিয়মিত তথ্য প্রদান এবং গণমাধ্যমে প্রচার জনআস্থা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে। তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত করা হয়নি৷
প্রধান পর্যবেক্ষক জোর দিয়ে বলেন যে, নারীদের জন্য সীমিত রাজনৈতিক পরিসর তাদের সমান অংশগ্রহণকে ব্যাহত করেছে। এছাড়া কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে সৃষ্ট বিক্ষুব্ধ জনতার আক্রমণের (মব আ্যাটাক) আশঙ্কা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে। ইতিবাচক উদ্যোগ না থাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুরা এখনও রাজনৈতিক পরিসরে পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্বের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ইভার্স ইজাবস বলেন, “এখন সময় এসেছে সেই পুরোনো চর্চাগুলো পরিত্যাগ করার, যা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ক্রমবর্ধমান উত্তরণের সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এবং সেই সাথে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার ও জবাবদিহিতা জোরদারের অভিপ্রায়ে একটি নতুন
পথরেখা নির্ধারণ করার। ”
টমাশ জদেখোভস্কি, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদলের প্রধান, বলেন: "বাংলাদেশ এখন একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে। আমরা নতুন সংসদ ও সরকারকে সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিয়ে অনুমোদিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই ৷”
ইইউ ইওএম ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছে এবং নির্বাচনের দিনে সব মিলিয়ে ২২৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়ে কাজ করেছে। এ পর্যবেক্ষকেরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের । সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে এসেছেন এবং নির্বাচনের দিন দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় মোতায়েন ছিলেন।
মন্তব্য করুন


মানবতার বিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড সাজার বিষয়ে পরষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলকে জানাবে প্রসিকিউশন। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়কে চ্যালেঞ্জ করতে চাইলে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের উচিত হবে ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করে আপিল বিভাগে আপিল করা। তা না হলে পরষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলকে তাদের মৃত্যুদণ্ড সাজার বিষয়ে জানানো হবে।
এর আগে সোমবার (১৭ নভেম্বর) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত। দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনার-১ এ রায় ঘোষণা করেন।ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা এটিই প্রথম মামলা, যার রায় হলো আজ।
সোমবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ছয় অধ্যায়ে ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের প্রথম অংশ পড়া শুরু করেন বিচারিক প্যানেলের সদস্য বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের অপর সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
২ ঘণ্টা ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শেষে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।
মন্তব্য করুন