ডেস্ক রিপোর্ট:
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকার গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যাশা করে এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা উন্নত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, "গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে। কমিশন বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে একটি রূপরেখা তৈরি করবে। সরকার এই রূপরেখা পর্যালোচনা করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।"
তিনি আরও বলেন, "সাংবাদিকতা একটি বহুমুখী ক্ষেত্র যেখানে বিভিন্ন পক্ষ সক্রিয়। সম্পাদক, মালিক এবং সাংবাদিক—প্রত্যেকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কাজ করেন। তবে তাদের এক জায়গায় আসতে হবে, সম্মিলিতভাবে সমাধান খুঁজতে হবে।"
সাইবার সিকিউরিটি আইন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, "এই আইন নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং অন্যান্য আইনও পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। যত কম আইনি বাধা থাকবে, স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য ততটাই ভালো।"
তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে জনগণের সামনে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকা উচিত। "যদি কেউ ভুল করে থাকে বা পরিস্থিতির শিকার হয়ে থাকে, তাহলে তা স্বীকার করা উচিত। সত্যের মধ্য দিয়ে রিকনসিলেশন সম্ভব।"
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, "গণমাধ্যম এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে মতবিরোধ থাকলেও সবাইকে সঠিক পথে কাজ করতে হবে।"
মন্তব্য করুন
ডেস্ক রিপোর্টঃ
পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পেলেও জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের ছেলেকে জিপিএ-৫ পাইয়ে দেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথ। অভিযোগের তদন্তে ফল জালিয়াতি প্রমাণ হওয়ার পর নায়ায়ণের ছেলে নক্ষত্র দেবনাথের ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষার সেই ফল বাতিল করে দিয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড।
বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে অনুষ্ঠিত বোর্ডের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় নক্ষত্র দেবনাথের ফল বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। পরে বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সচিব প্রফেসর আমিরুল মোস্তফা।
তিনি বলেন, বোর্ডের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় নক্ষত্র দেবনাথের ফল বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে ফল জালিয়াতির বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি নক্ষত্র দেবনাথের ফল বাতিলের সুপারিশ করে বলে তিনি জানান।
জানা যায়, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে থাকাকালে ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় নিজের ছেলেকে জিপিএ-৫ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে নায়ারণ চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে করা তদন্তে ফল জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণ হয়।
জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার পর গত ৯ জুলাই নারায়ণ চন্দ্র নাথকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়। ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর মাউশির পরিচালক পদ থেকে তাকে ওএসডি করা হয়। এরপর তদন্ত কমিটির সুপারিশে গত ১৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণ চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাসহ ব্যবস্থা নিতে মাউশির মহাপরিচালক ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে অংশ নেন নক্ষত্র দেবনাথ। ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর ফল ঘোষণার পর তার জিপিএ-৫ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠে। সে সময় তার বাবা নারায়ণ চন্দ্র নাথ বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ছিলেন। অভিযোগ ওঠে, প্রভাব খাটিয়ে জিপিএ-৫ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর গণমাধ্যমে ফল জালিয়াতির বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। পরবর্তী সময়ে ডা. মাহফুজুর রহমান মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মন্তব্য করুন
সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গ্রামীণ এলাকা, শহুরে সমাজসেবা কার্যক্রম, দগ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশাপাশি মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ভাতা প্রদান ও ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো দেখা যাচ্ছে, সেগুলো সমাধানের জন্য নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ক্ষুদ্রঋণ ও সঞ্চয় কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে সমগ্র দেশের প্রতিটি গ্রাম থেকে শহর এলাকাকে সুসংগঠিত, টেকসই ও আত্মনির্ভরশীল দারিদ্র্য ও ভিক্ষুকমুক্ত এলাকায় রূপান্তর করা প্রয়োজন। এছাড়া, কার্যক্রমের দ্বৈততা পরিহার করাও জরুরি।
রোববার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পিকে এসএফ (পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন), গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মাইক্রোফাইন্যান্স বিষয়ে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. মহিউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা আরও বলেন, এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আর ভিক্ষুক তৈরি করতে চাই না। সমন্বিত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করা প্রয়োজন। এই রিপোর্টের মূল্যায়নের ভিত্তিতে দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হবে। তিনি দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সকল মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একই ছাতার নিচে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
মন্তব্য করুন
সীমান্ত পুরোপুরি নিরাপদ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বুধবার (২৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উপায় নিয়ে আজ বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শুধু আইন-শৃঙ্খলা নয়, সকল গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখানে পর্যালোচনা করা হয়েছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া পাহাড়ের মাটি কেটে নেওয়া, অবৈধ পাহাড় ধ্বংসসহ পরিবেশগত নানা সমস্যা নিয়েও আমরা কথা বলেছি।’
মিয়ানমার সীমান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আরাকান সীমান্ত একটি জটিল অঞ্চল। আমরা মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও বাস্তবে সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ আরাকান আর্মির হাতে। এখানে বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্বৈত করের সমস্যা রয়েছে—একদিকে মিয়ানমার সরকার, অন্যদিকে আরাকান আর্মি উভয়ই শুল্ক আদায় করে। তবে আমরা এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছি। সর্বোপরি, আমাদের সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।’
সাম্প্রতিক সময়ে আরাকান সংক্রান্ত ভাইরাল ভিডিও ও টিকটক কনটেন্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আরাকান আর্মির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কিছু সামাজিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাদের কিছু সদস্য বাংলাদেশে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে—এটা স্বীকার করতেই হবে। তবে ভাইরাল ভিডিওগুলোর সবই সত্য নয়, আবার সবটা মিথ্যও বলা যাবে না। এখানে সতর্কতার সঙ্গে বিচার করা জরুরি।’
পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি—পাহাড়ের বর্তমান অবস্থা আগের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল। আমি এখানে তিন দফায় দায়িত্ব পালন করেছি। একসময় ল্যান্ডমাইনের বিস্ফোরণে গণহারে প্রাণহানি হতো, যা মিডিয়ায়ও আসত না। এখন পর্যটকরা নির্বিঘ্নে সাজেক পর্যন্ত ভ্রমণ করছেন। ছোটখাটো অপরাধ সমতলেও ঘটে, শুধু পাহাড়কে দোষারোপ করা যায় না।’
যৌথ বাহিনীর তৎপরতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় যৌথ বাহিনীর অভিযান কোনোভাবেই কমেনি। বরং গণমাধ্যম ও জনসাধারণের সহযোগিতায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সত্য ঘটনা প্রকাশে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশনের সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী দেশের কিছু মহল বিভ্রান্তি ছড়ায়। বাংলাদেশের সাংবাদিকরা সর্বদা সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন—এ ধারা বজায় রাখার অনুরোধ রইল।’
ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের সংঘাত প্রসঙ্গে তার পরামর্শ, ‘এরা আমাদেরই তরুণ ভাই। তাদের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।’
চট্টগ্রামের রাউজানে সম্প্রতি বেড়ে যাওয়া হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ফটিকছড়ি, রাউজান, পটিয়া ও সাতকানিয়া—এ অঞ্চলে পাহাড় ও সমতলের মিশ্র অবস্থান। সন্ত্রাসীরা অপরাধ করে পাহাড়ে আত্মগোপন করছে। আমরা স্থানীয় পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। কোনো অপরাধী প্রকাশ্যে থাকলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মন্তব্য করুন
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে দুর্নীতিবাজরা নেই। ফলে এবারের কোরবানির গরুর দাম কম বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় নেই, আর দুর্নীতিবাজরাও নেই বলেই অনেকের হাতে গরু কেনার মতো অর্থ নেই। এ ছাড়া গরুর সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এবার কোরবানির পশুর বাজারে দামও কিছুটা কমেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) দুপুরে রাজধানীর গাবতলী কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় উপদেষ্টা হাটের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি হাটে আসা ক্রেতা, বিক্রেতা এবং সেবা–সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।
উপদেষ্টা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও নিয়ন্ত্রণে আছে। সবাই সহযোগিতা করলে ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে।
ঈদ যাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিটের অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে— এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ এলে অবশ্যই তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
মন্তব্য করুন
ডেস্ক রিপোর্ট:
বর্তমানে জাতি একটি ক্রান্তিলগ্নে পৌঁছেছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, "একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।" আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
গতকাল রবিবার শপথ গ্রহণের পর আজই প্রথমবারের মতো বৈঠক করে নতুন নির্বাচন কমিশন। বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, “নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ আমরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি হয়েছি। এই সরকার কেন গঠিত হয়েছে, সে বিষয়টি আলোকপাত করা হয়েছে। জাতির প্রত্যাশা এবং আমাদের উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের চাওয়া খুবই সাধারণ—একটি সুষ্ঠু নির্বাচন।"
নতুন নির্বাচন কমিশন কী ধরনের চ্যালেঞ্জ অনুভব করছে, এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, "আমরা কমিশন সমন্বিতভাবে মনে করি, চ্যালেঞ্জের চেয়েও এটি একটি সুযোগ। চ্যালেঞ্জ অবশ্যই থাকবে, তবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই আমাদের কাজ।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা এটাকে সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছি কারণ জাতি একটি ক্রান্তিলগ্নে এসে দাঁড়িয়েছে। এখানে আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই, কেবল একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন ছাড়া। আর আমরা সেই ব্যক্তিরা, যাদের আল্লাহ এখানে নির্ধারণ করে পাঠিয়েছেন এই প্রত্যাশা পূরণের জন্য। আমরা আত্মবিশ্বাসী, আমরা এটি পূরণ করতে সক্ষম হব। আমরা এর জন্য ওয়াদাবদ্ধ।"
মন্তব্য করুন
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় লেখা থেকে শুরু করে স্বাক্ষর করা পর্যন্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। এর জন্য খায়রুল হকের ৭ বছর সাজা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আজ বুধবার (২৭ আগস্ট) তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি নিয়ে ব্রিফিংকালে এমনটা জানান তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এই রায় লেখা থেকে শুরু করে স্বাক্ষর করা পর্যন্ত আইনি পরিক্রমায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক যে অপরাধ করেছেন, সে অপরাধ দণ্ডবিধির ২১৯ ধারায় একটি সুনির্দিষ্ট অপরাধ। এর জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছরের সাজা হতে পারে।
তিনি বলেন, উনি (খায়রুল হক) জানতেন একটা জাজমেন্ট প্রনাউন্সম্যান্টের পর সেই জাজমেন্ট একমাত্র রিভিউ ফোরামে পরিবর্তন করা যাবে। এরপরও ক্ষমতা না থাকলেও রায় বদলেছেন, এটা অপরাধ। আমরা এটা আদালতের নজরে আনবো।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, খায়রুল হকের দেয়া রায় বাতিল হলে দেশের গণতন্ত্র সুসংহত করার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হবে। আপিলে আমাদের প্রার্থনা থাকবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে যে রায় হয়েছে, সেই রায় বাতিল করে বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্রের দ্বার উন্মোচন করে দেয়া।
এর আগে বুধবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন আপিল বিভাগ। সেই সঙ্গে আগামী ২১ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। দুপুরে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ৭ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।
তারও আগে সকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরাতে দ্বিতীয় দিনের রিভিউ শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিয়ে সাময়িক সমাধান দিতে চায় না আপিল বিভাগ। এ নিয়ে কার্যকর সমাধান চায়, যাতে এটা বার বার বিঘ্নিত না হয়। এ সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন যদি তত্ত্বাবধায়ক ফিরিয়ে দেই তবে এটি কবে থেকে কার্যকর হবে?
অন্যদিকে শুনানিতে রায়ের পর কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে আপিল বিভাগ জানতে চাইলে নতুন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণ দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। সকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরাতে রিভিউ শুনানিতে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উঠলে, এর উত্তর দিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে অনুরোধ করেন প্রধান বিচারপতি।
এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গেল দেড় দশকে দেশের মানুষ শাসিতের পরিবর্তে শোষিত হয়েছে নানাভাবে। মানুষ গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এগুলো থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যেসব সিস্টেম ছিল সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে এবং মানুষ বিচার পায়নি। যার কারণে এই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে। আর সেই রাজপথ থেকেই নির্ধারিত হয়েছে কে প্রধান বিচারপতি হবেন আর কে সরকার প্রধান হবেন। জনগণের এই ক্ষমতাকে কোনোভাবেই অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। এসব অবজ্ঞা করলেই বিপ্লবের সৃষ্টি হয়। এ সময় ’৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন তিনি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয় ১৯৯৬ সালে। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন।
পরবর্তীতে ২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে করা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ঘোষিত রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপসহ বেশকিছু বিষয়ে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। এরপর ২০১১ সালের ৩ জুলাই এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।
এদিকে গত ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন।
মন্তব্য করুন
ডেস্ক রিপোর্ট:
যুক্তরাজ্যের আগ্রহ রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে। তারা জানতে চেয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সহায়তায় কীভাবে সাহায্য করা যেতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পদত্যাগ করতে চায়। তবে, নির্বাচনের তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি।
রবিবার ব্রিটিশ ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (আইপিএস) বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ক্যাথরিন ওয়েস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে, বিকেলে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তৌহিদ হোসেন।
ব্রিটিশ আন্ডার সেক্রেটারি ও নির্বাচনের প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যদি বলি যে নির্বাচনে তাদের কোনো আগ্রহ নেই, তাহলে তা সঠিক হবে না। তারা (যুক্তরাজ্য) আমাদের সহায়তায় আগ্রহী এবং জানতে চেয়েছে কীভাবে তারা আমাদের সাহায্য করতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “এখানে আমাদের রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য নেই।”
তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমরা একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করে পদত্যাগ করতে চাই, এবং এটা আমাদের লক্ষ্য। তবে আমরা জানি না, কবে নাগাদ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে। কারণ, বেশ কিছু কমিশন কাজ করছে এবং তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই আমরা বুঝতে পারব, নির্বাচনের জন্য কতটা সময় লাগবে।”
মন্তব্য করুন
নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির কিংস পার্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘নতুন রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক ধারার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে শুধু নতুন দল গঠন করলেই যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, ব্যাপারটি এমন নয়। আমাদের জাতিগতভাবে পরিবর্তন হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের সমালোচনা থাকাটা স্বাভাবিক, না থাকাটাই অস্বাভাবিক। অন্তর্বর্তী সরকারের সরাসরি রাজনীতি করার আকাঙ্ক্ষা আমরা দেখি না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন দরকার।’
যে শক্তি দেশের জন্য ইতিবাচকভাবে কাজ করবে, তাদের সবাইকে শুভকামনা জানান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
মন্তব্য করুন
‘ভালো ব্যবহার করায় মানুষ মনে করে পুলিশ সচল না’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রোববার ঈদের ছুটি শেষে সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন কমিশন যে সময় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে সে সময়ের জন্য প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশও প্রস্তুত আছে। আগের ১৫ বছরের মতো পুলিশ অন্তর্বর্তী সরকার চাচ্ছে না, সরকার চায় মানবিক পুলিশ। যে পুলিশ দুটো বাড়ি মারবে, লাথি মারবে এমন পুলিশ চাচ্ছে না সরকার। সরকার চায় মানবিক পুলিশ। এখন পুলিশ মানবিক পুলিশ। যেহেতু পুলিশ এখন ভালো ব্যবহার করে তাই মানুষ মনে করে তারা সচল না। পুলিশ এখন আগের চেয়েও বেশি একটিভ।
তিনি আরও বলেন, পুশ ইনের ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতকে বলা হয়েছে, ভারতের হাইকমিশনারকেও বলা হয়েছে। আমাদের নাগরিক ভারতে থেকে থাকলে সঠিক চ্যানেলে পাঠালে নিয়ে নেবো। কিন্তু জঙ্গলের মধ্যে, নদী-লেকের ওপর ফেলে রেখে যাওয়া কোনো সভ্য দেশের উচিৎ না।
তিনি বলেন, গতকাল র্যাবের পোশাক পরে ডাকাতি করা আমাদের সর্বোচ্চ সচেতন করা। এটার সঙ্গে জড়িতদের যতো দ্রুত সম্ভব আইনের আওতায় আনা হবে।
মন্তব্য করুন
ঈদুল আজহা সামনে রেখে শ্রমিকদের পাওয়া পরিশোদের জন্য চলতি মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত মালিকদের সময় দিয়েছে সরকার। এই সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের দেনা-পাওনা পরিশোধ না করলে যেসব মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
উপদেষ্টা জানান, ঈদ সামনে রেখে শ্রমিকের পাওনা ২৮ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। ঈদ সামনে রেখে শ্রমিকের পাওনা ২৮ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
যেসব মালিকের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে তারা বিদেশে থাকলে রেড অ্যালার্ট জারি করতে বলেছি।
বুধবার (২১ মে) সকালে সচিবালয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নৌপথে শৃঙ্খলা ও নিরাপদ যাত্রার প্রস্তুতিমূলক সভা করেন উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। সভা শেষে গণমাধ্যমে এসব কথা জানান তিনি।
বেতন পরিশোধ না করলে মালিকরা দেশের বাইরে তো দূরের কথা ঢাকার বাইরে যেতে পারবে না জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন না দেওয়ায় পাঁচজন মালিকের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা হয়েছে। আরো অনেকের বিরুদ্ধে হবে। হয় পাওনা শোধ করতে হবে, অন্যথায় জেলে যেতে হবে।
ঈদে নৌপথের নিরাপত্তায় লঞ্চে অস্ত্রধারী চার জন করে আনসার থাকবে, বাল্কহেড ঈদের আগে ও পরে তিনদিন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন