

হংকংয়ের বিপক্ষে শমিত, জায়ান ও ফাহামিদুলসহ তারা চারজনই ম্যাচের শুরু থেকে খেলতে চান বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। শুরুবার (১০ অক্টোবর) হংকংয়ের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন তিনি।
তবে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে হংকংয়ের কাছে হারের পর বিষণ্ন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। অ্যাওয়ে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন সবাই। আগামী ১৪ অক্টোবরের হংকংয়ের সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশ।
জামাল ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি, শমিত, ফাহামিদুল, জায়ান একসঙ্গে ওয়ার্ম-আপ করি। সে সময় ওদের বলেছি, আমরা যখন নামবো তখন ম্যাচের গতিপথ বদলাতে হবে। আমাদের চার জনের ইমপ্যাক্ট ভালো ছিল। চার জনই শুরুর একাদশে খেলতে চাই। সব মিলিয়ে আমরা ভালো খেলেছি।’
তবে কে খেলবেন তা কোচ ঠিক করবেন। জামাল তেমনটি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যখন না খেলি সেটা তো ভুল, এটা আমি বলবো। আমি সব ম্যাচ খেলতে চাই। কিন্তু দিনশেষে কারা খেলবে এটা কোচের সিদ্ধান্ত। আমি চাই খেলতে।’
বাংলাদেশ দলের শেষ মুহূর্তে গোল হজম নিয়ে জামাল বলেন, ‘এই দলের একটা হিস্টরি আছে, আমরা শেষ মুহূর্তে গোল হজম করি। এই ম্যাচের আগে আমরা আলাপ করেছি, আমাদের ফুল ম্যাচ ফোকাসড থাকতে হবে। সংবাদ সম্মেলনেও বলেছি, আমরা যদি জিততে চাই বা পয়েন্ট নিতে চাই, আমাদের পুরো ম্যাচে মনোযোগী থাকতে হবে। কিন্তু আমরা পারিনি।’
সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে জামাল বলেন, হংকংয়ের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে ইতিবাচক কিছু করতে চান। ‘তাদের তিন পয়েন্ট দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। আরও তিন পয়েন্ট... ইনশাআল্লাহ আমরা কিছু দিতে পারবো।’
মন্তব্য করুন


তামিম ইকবাল-সাকিব আল হাসানের পারস্পারিক দ্বন্দ্বের কথা একাধিকবার গণমাধ্যমে এসেছে। যদিও এ নিয়ে কখনই স্পষ্টভাবে কিছু বলেননি এই দুই ক্রিকেটারের কেউই। অথচ একটা সময় তাদের বন্ধুত্বের গভীরতা কতটা ছিল, তা সবারই জানা। লম্বা সময়ের এই সম্পর্কে সম্প্রতি কিছুটা ভাটা পড়লেও অধিনায়ক তামিমের প্রশংসা করতে একটুও কার্পণ্য করেননি সাকিব।
পরিসংখ্যান অধিনায়ক তামিমের পক্ষে কথা বললেও অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন এই অভিজ্ঞ ওপেনারের সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে। বিশেষ করে ওয়ানডেতে, গত কয়েক মাস ধরেই কথা বলছে না তার ব্যাট। গতকাল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে দীর্ঘ ৯ মাস পর হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেলেও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল তার স্ট্রাইকরেট। ব্যাট হাতে তার এমন ফর্মের কারণেই প্রশ্ন উঠছে তার নেতৃত্ব নিয়েও। তবে তামিমের নেতৃত্বেই আস্থা রাখার পক্ষে মত সাকিবের।
সোমবার ইংল্যান্ডে একটি অনুষ্ঠানে এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার বলেন, 'এগুলো তো সবই প্রাথমিক পর্যায়। এখানে যে ভুলগুলো হচ্ছে কিংবা যে ভালো জিনিসগুলো হচ্ছে এসবই বিশ্বকাপ বা এশিয়া কাপ থেকে ঠিক হওয়া শুরু হবে। আমাদের সামনে খুব বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচও নেই। আমি নিশ্চিত কোচ, অধিনায়ক এসব চিহিৃত করে। তারা খুবই ভালো চিন্তা করে যে কোন জায়গাতে আরও ভালো করলে আরও একটু ভালো হতো। আমি নিশ্চিত কখনই কোনো দলের নেতা, দেশের প্রধান দেশের জন্য বা দলের জন্য খারাপ চায় না। তাদের ইন্টেনশন কখনই খারাপ থাকে না।সিদ্ধান্ত ঠিক, ভুল সবই হতে পারে।'
এবছর ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ। কন্ডিশন আর নিজেদের শক্তিমত্তা বিবেচনায় এই মেগা আসরে বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা দেখছেন অনেকেই। এই বিশ্বকাপ ঘিরে নিজেদের সম্ভাবনা নিয়ে বেশ আশাবাদী সাকিবও।
বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'আইসিসির টুর্নামেন্টে কন্ডিশন সবসময় ফেয়ার থাকে। সব দলের জন্যই ব্যাপারগুলো একই রকম। আমাদের সবকিছুই ভালো করতে হবে, ভালো রেজাল্ট করতে হবে। সবশেষ বিশ্বকাপে আমাদের ভালো সুযোগ ছিল সামান্য কিছু কারণে হয়ত সফল হতে পারিনি।'
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
কোপা আমেরিকা শেষে জাতীয় দলকে বিদায় জানাবেন আনহেল ডি মারিয়া- ঘোষণাটা আগেই দিয়ে রেখেছিলেন তিনি। আগামীকালের ফাইনালটাই হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ডি মারিয়ার শেষ ম্যাচ। কলম্বিয়ার বিপক্ষে এ ম্যাচেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন আর্জেন্টিনার উইঙ্গার।
যাদের হাত ধরে আর্জেন্টিনা ২৯ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়েছে, ডি মারিয়া তাদের একজন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে জিতেছেন অলিম্পিক, কোপা আমেরিকা, লা ফিনালিসিমা ও অধরা বিশ্বকাপ। এখন আরেকটা ফাইনালের সামনে দাঁড়িয়ে গুনছেন বিদায়ের দিনক্ষণ।
তাইতো বিদায়ের আগে ইনস্টাগ্রামে মেসির সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেছেন ডি মারিয়া।
জানিয়েছেন তার চাওয়া আর পাওয়ার হিসাব। চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলাতে গিয়ে ডি মারিয়া লিখেছেন, ‘জীবনে আমি যা চাইতাম, এই জীবন আমাকে তার চেয়ে অনেক বেশি দিয়েছে।’
প্রিয় বন্ধুর শেষ ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখতে মরিয়া মেসিও। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেছেন, ‘ডি মারিয়া আগেই নিজের সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট করে দিয়েছিল। ওর সঙ্গ আমি দারুণভাবে উপভোগ করেছি। জয়ের আনন্দ নিয়ে সে যাতে মাঠ ছাড়তে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা ফাইনাল খেলতে নামব।’
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
সারা জীবন যে ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন না এটা তিনি ভালই জানেন। সেটা চাইছেনও না। তাই বিরাট কোহলির ইচ্ছা, ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার আগে সব কাজ শেষ করে ফেলার। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু-আরসিবির একটি পডকাস্টে এমনই কথা বলেছেন কোহলি। বেশ কিছু দিন পর ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের মুখে আবার অবসরের কথা শোনা গেল।
রানের প্রতি কোহলির খিদে এখনও আগের মতোই আছে। এ বারের আইপিএলে শতরান করেছেন। মোট আটটি শতরান হয়ে গিয়েছে আইপিএলে। ১৩টি ম্যাচে ৬৬১ রান করে কমলা টুপির দৌড়ে রয়েছেন।
আরসিবির একটি ভিডিওতে কোহলি বলেছেন, ‘কোনও কাজ অসমাপ্ত রেখে যেতে চাই না। আমি চাই না কোনও আক্ষেপ রাখতে। আমি নিশ্চিত যে সেটা হয়তো থাকবেও না। তবে এক বার আমার কাজ শেষ হয়ে গেলেই চলে যাব। তারপর অনেক দিন আমাকে দেখতে পাবেন না।’
কোহলির সংযোজন, ‘যতদিন খেলছি তত দিন নিজের সেরাটা দিতে চাই। এই বিষয়টাই আমাকে সর্বক্ষণ তাড়িয়ে বেড়ায়।’
২০০৮ সালে ভারতকে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতানোর পরেই কোহলিকে আইপিএল নিলামে কেনে আরসিবি। সেই থেকে একটি দলের হয়েই খেলে চলেছেন তিনি।
কোহলি বলেছেন, ‘ক্রীড়াবিদ হিসাবে আমাদের একটা মেয়াদ থাকে। আমি তাই পিছনের দিকে তাকাচ্ছি না। কোনও নির্দিষ্ট দিনে আমি কী করতে পারতাম সেটা ভাবতে ভাবতে ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই না। কারণ সারা জীবন খেলা চালিয়ে যেতে পারব না।’
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
বিয়ের সাড়ে পাঁচ বছর পর সুখবর দিয়েছেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। বুধবার মুস্তাফিজ ও তার স্ত্রী সামিয়া পারভীন শিমুর ঘর আলোকিত করেছে পুত্র সন্তান।
ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজে একটি পোস্ট দিয়ে সুখবরটি জানিয়ে মোস্তাফিজ জানান, বর্তমানে মা এবং নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন। তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এর আগে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ থেকে পারিবারিক কারণে ছুটি নিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। স্ত্রীর সন্তানসম্ভবা অবস্থায় পাশে থাকার জন্যই তিনি এই ছুটি নিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে নিজ জেলা সাতক্ষীরার মেয়ে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামিয়া পারভীন শিমুর সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন মোস্তাফিজ। বিয়ের পর থেকে তারা সুখী দাম্পত্য জীবন উপভোগ করছেন।
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
চলমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) কলকাতা নাইট রাইডার্সের জয়রথ চলছেই। সবার আগে প্লে-অফে খেলা নিশ্চিত করেছিল দলটি, গ্রুপপর্ব শেষ করেছে শীর্ষে থেকেই। গতকাল মঙ্গলবার রাতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে নিশ্চিত করেছে আইপিএল ফাইনাল।
আইপিএলে দলকে উৎসাহ যোগাতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে নিয়মিতই গ্যালারিতে দেখা যায় কলকাতার যৌথ মালিক শাহরুখ খানকে। গতকাল প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচেও কন্যা সুহানা খান, ছোট ছেলে আব্রাম খান ও ম্যানেজার পূজা দাদলানিসহ মাঠে উপস্থিত ছিলেন বলিউড বাদশাহ।
কলকাতার ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর উৎসবে মেতে উঠতে মাঠে নেমে গিয়েছিলেন শাহরুখ। পরে দর্শকদের অভিবাদন জানিয়ে করেন মাঠ প্রদক্ষিণ। সেই সময় সম্প্রচারকারী সংস্থার একটি অনুষ্ঠানে ঢুকে পড়েন বলিউডের এই তারকা। সেই অনুষ্ঠান করছিলেন আকাশ চোপড়া, পার্থিব পটেল এবং সুরেশ রায়নার মতো ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররা। ভুল বুঝতে সময় লাগেনি কলকাতা মালিকের। দ্রুতই সরে যান সেই জায়গা থেকে। পরে ওই তিনি সাবেক তারকার কাছে ক্ষমাও চান।
অবশ্য শাহরুখ ঢুকে পড়ার পর তার সঙ্গে কুশল বিনিময়ও করেন রায়নাসহ অন্য তিন ক্রিকেটার। সেই মুহূর্তের দুইটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ারও করেন সাবেক এই অলরাউন্ডার। ক্যাপশনে সেখানে লেখেন, ‘সবসময়ের মতো বিনয়ী শাহরুখ খানের সঙ্গে আজ দেখা হওয়া ছিল অসাধারণ ব্যাপার। বিশাল তারকা হওয়া সত্ত্বেও তিনি সবসময় নম্র আচরণ করেন ও প্রত্যেকটি আলোচনায় বিনয়ী থাকেন। ফাইনাল নিশ্চিত করায় কলকাতাকে অভিনন্দন।’
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্ক:
দুর্দান্ত ফর্ম থাকার পরও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাকিস্তানের টেস্ট দলে জায়গা হয়নি শাহিন আফ্রিদির। অথচ ওয়ানডে সিরিজে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭ উইকেট শিকার করেন তিনি। পাকিস্তানের সিরিজ জয়ে তার আগুনে বোলিংয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
তবু কেন পাকিস্তানের টেস্ট দলে জায়গা হলো না আফ্রিদির? পাকিস্তানের ক্রিকেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকেট পাকিস্তান জানিয়েছে, মূলত নির্বাচকদের সঙ্গে বিবাদের জেরেই এমনটা হয়েছে।
ওয়ানডে সিরিজের পর নির্বাচকরা তাকে একটি চারদিনের ম্যাচে অংশ নিতে বলেছিলেন। তবে আফ্রিদি সে ‘আদেশ’ না মানার কারণেই নাকি তাকে টেস্ট দলে রাখা হয়নি। তবে একইভাবে বাবর আজমও চারদিনের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর পরও তাকে ঠিকই দলে রাখা হয়েছে।
টিম ম্যানেজমেন্ট চাইলে টেস্ট সিরিজের জন্য দলের সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলেন আফ্রিদি। তবে এক্ষেত্রে টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে কোনো ইতিবাচক সিগন্যাল দেয়নি।
এদিকে সেঞ্চুরিয়ন টেস্টে একজন বাঁহাতি পেসারের অভাব বোধ করছে পাকিস্তান। শাহিন আফ্রিদির পাশাপাশি আরেক বাঁহাতি পেসার মীর হামজাকেও স্কোয়াডে রাখেননি নির্বাচকরা।
মন্তব্য করুন


রমজান মাস মুসলিমদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের বিশেষ সময়। এই মাসে মুসলিমরা সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে সিয়াম পালন করেন। শুধু সাধারণ মানুষই নন, পেশাদার ক্রীড়াবিদরাও রোজা রেখে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। রোজা রেখে ফুটবলের মতো শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং খেলা খেলা সহজ কাজ নয়। তবুও বিশ্বের অনেক মুসলিম ফুটবলার সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে রোজা রাখেন এবং মাঠে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হলো বার্সেলোনার স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামাল।
লামিন ইয়ামালের বাবা মরক্কোর এবং মা গিনির বংশোদ্ভূত। তবে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা স্পেনে। মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া এই তরুণ ফুটবলার ইতিমধ্যেই বার্সেলোনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন। পবিত্র রমজান মাসে তিনি অন্যান্য মুসলিমদের মতোই রোজা রাখছেন এবং রোজা অবস্থায়ই লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ খেলছেন।
সম্প্রতি কিছু গুঞ্জন উঠেছিল যে, ক্লাবের পক্ষ থেকে লামিন ইয়ামালের রোজা রাখার বিষয়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বেনফিকার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের রাউন্ড অব সিক্সটিনের প্রথম লেগে তাকে দ্রুত বদলি করে নেওয়ার পেছনেও রোজা রাখাকে কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছিল। তবে স্প্যানিশ গণমাধ্যম ডিয়ারিও এএস জানিয়েছে, ট্যাকটিকাল কারণেই সেদিন ইয়ামালকে বদলি করেছিলেন বার্সেলোনার কোচ হ্যান্সি ফ্লিক।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রোজা রাখার ক্ষেত্রে ইয়ামালকে কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। বরং ক্লাবের মেডিক্যাল টিম তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। ক্লাবের পুষ্টিবিদরা ইয়ামালের সাহরি ও ইফতারের মেন্যু ঠিক করে দিচ্ছেন, যাতে তিনি রোজা রাখার পাশাপাশি খেলায় সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিতে পারেন।
চলতি মাসে ইয়ামাল বার্সেলোনার নিজস্ব আবাসন প্রকল্প লা মাসিয়া ত্যাগ করে তার দাদি ফাতিমা ও চাচা আব্দুলের বাড়িতে অবস্থান করছেন। সেখানে পরিবারের সঙ্গে ইফতার ও সাহরি করছেন তিনি। ক্লাবের পক্ষ থেকে ম্যাচের দিন তার ইফতারের সময়সূচির দিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
এই উদ্যোগগুলো দেখায় যে, ক্লাব লামিন ইয়ামালের ধর্মীয় বিশ্বাস ও রোজা রাখার সিদ্ধান্তকে সম্মান করছে এবং তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। রোজা রেখেও মাঠে নিজের সেরা পারফরম্যান্স দেওয়ার মাধ্যমে ইয়ামাল তার ধর্মীয় ও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করছেন।
মন্তব্য করুন


স্পোর্টস ডেস্কঃ
বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যেখানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিবিয়ানদের শেষ সিরিজের দল থেকে স্কোয়াডে দুটি পরিবর্তন আনা হয়েছে।
হায়ডেন ওয়ালশ জুনিয়র ও জুয়েল অ্যান্ড্রুর জায়গা নিয়েছেন আমির জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রিভস। টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকানোর পুরস্কার পেয়েছেন গ্রিভস।
আমির জাঙ্গুকে স্কোয়াডে প্রথমবারের মতো ডাকা হয়েছে। আর নেতৃত্বে আছেন শেই হোপ। সহ-অধিনায়কের ভূমিকায় ব্রেন্ডন কিং।
এর আগে সোমবার বিকালে বাংলাদেশের ওয়ানডে স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়। নিয়মিত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর চোটের কারণে এই সিরিজে দলকে নেতৃত্ব দেবেন মেহেদী হাসান মিরাজ। চোটের কারণে আরও নেই তাওহীদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম। নেই সাকিব আল হাসানও।
সেন্ট কিটসে ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচ তিনটি হবে ৮, ১০ ও ১২ ডিসেম্বন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল: শেই হোপ (অধিনায়ক), ব্রেন্ডন কিং (সহ-অধিনায়ক), কেসি কার্টি, রোস্টন চেজ, ম্যাথু ফোর্ড, জাস্টিন গ্রিভস, শিমরন হেটমায়ার, আমির জাঙ্গু, আলজারি জোসেফ, শামার জোসেফ, এভিন লুইস, গুড়াকেশ মোটি, শেরফানে রাদারফোর্ড, জায়ডেন সিলস ও রোমারিও শেফার্ড।
মন্তব্য করুন


চোট কাটিয়ে ফেরার ম্যাচেই জাদু দেখালেন লিওনেল মেসি। বদলি নামার পর এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট করে ইন্টার মায়ামিকে ৩-১ ব্যবধানে জয় এনে দিলেন তিনি। শনিবার রাতে চেজ স্টেডিয়ামে এলএ গ্যালাক্সিকে হারিয়ে সাপোর্টার্স শিল্ড ধরে রাখার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিল মায়ামি।
প্রথমার্ধে জর্দি আলবার গোলে এগিয়ে যায় মায়ামি।
বিরতির পর সমতা ফেরে গ্যালাক্সি। তবে শেষ ১০ মিনিটে মেসির মন্ত্রমুগ্ধ পারফরম্যান্সেই বদলে যায় ম্যাচের রূপ। ৮৪তম মিনিটে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। পাঁচ মিনিট পর রদ্রিগো দি পলের পাস হিল ফ্লিকে বাড়িয়ে দেন লুইস সুয়ারেজকে, গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন উরুগুয়ের এই ফরোয়ার্ড।
চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না উঠলেও মেসির এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ মায়ামি কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো। তিনি বলেন, ‘সে অসাধারণ খেলোয়াড়। যদিও আমি দেখেছি, সে পুরোপুরি স্বস্তিতে ছিল না। তবে সময় বাড়ার সাথে সাথে আরো ছন্দে এসেছে।
আগামীকাল কেমন অনুভব করছে, সেটি দেখতে হবে। আপাতত দিন দিন এগোতে হবে।’
এই গোলেই এমএলএস মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠে গেছেন মেসি। গোল ও অ্যাসিস্ট মিলে তার অবদান এখন ৩০। টানা চতুর্থবার বদলি হিসেবে নেমে গোল করলেন তিনি।
চোটের কারণে গত সপ্তাহে মেসিকে ছাড়া নামা মায়ামি অরল্যান্ডো সিটির কাছে হেরেছিল ৪-১ ব্যবধানে। তাই গ্যালাক্সির বিপক্ষে এই জয়কে মৌসুমের জন্য ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বলছে মাসচেরানো। ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা জানি, হারা যায়, কিন্তু কেমনভাবে হারা হচ্ছে সেটিই আসল বিষয়। আমরা যদি মৌসুমের শেষ পর্যন্ত লড়তে চাই, বড় কিছু জিততে চাই, তবে প্রতিটি ক্ষুদ্র বিষয়ই হয়ে উঠবে নির্ণায়ক।’
মন্তব্য করুন


বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন এবং হলোকাস্ট থেকে বেঁচে ফেরা কিংবদন্তি অ্যাগনেস কেলেতি ১০৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যু খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার প্রেস কর্মকর্তা তামাস রোখ। তিনি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কেলেতি। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটে।
এছাড়া কেলেতির ছেলে রাফায়েল বলেন, 'মায়ের জন্য আমরা প্রার্থনা করি। তার জীবনীশক্তি ছিল অসাধারণ।' হাঙ্গেরির গণমাধ্যম নেমজেতি স্পোর্টের সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৯ জানুয়ারি তাকে সমাহিত করা হবে। কারণ এই দিনটি অ্যাগনেসের জন্য বিশেষ দিন, তার জন্মদিন, বেঁচে থাকলে তিনি এ দিনটিতে ১০৪ বছর বয়সে পা রাখতেন।
এ কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদের মৃত্যুতে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, 'জাতির শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ এবং বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আমাদের গর্বিত করেছেন। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা। তিনি শান্তিতে থাকুন।'
এদিকে অ্যাগনেস শুধু ক্রীড়াবিদ হিসেবেই বিখ্যাত নন; বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুঃসময়ে হলোকাস্ট থেকে বেঁচে ফেরা, তারপর অলিম্পিক গৌরব অর্জন করে জীবনে সাফল্যের এক নতুন অধ্যায় রচনা করেন। হেলসিঙ্কি (১৯৫২) এবং মেলবোর্ন (১৯৫৬) অলিম্পিকে তিনি মোট ১০টি পদক জেতেন, যার মধ্যে পাঁচটি ছিল সোনা। তবে ১৯৫৬ সালে মেলবোর্ন গেমসে চারটি স্বর্ণ জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি সর্বকালের সবচেয়ে বয়স্ক নারী জিমন্যাস্ট হিসেবে স্বর্ণ জেতার রেকর্ড গড়েন। এছাড়া বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপেও রয়েছে তার তিনটি পদক। সেই সময় তিনি 'দ্য কুইন অফ জিমনাস্টিকস' অর্থাৎ 'জিমনাস্টিকসের রানী' হিসেবেও খ্যাতি লাভ করেন। তবে খেলোয়াড়ি জীবনে তার সাফল্য যেমন অনন্য, তেমনি তার জীবনসংগ্রামও অনুপ্রেরণাদায়ক।
বুদাপেস্টের একটি ইহুদি পরিবারে ১৯২১ সালের ৯ জানুয়ারি জন্ম হয় অ্যাগনেস কেলেতির। মাত্র চার বছর বয়সে জিমন্যাস্টিকসের সঙ্গে তার শুরু হয় পথচলা। ১৬ বছর বয়সে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হন এবং ১৯৩৯ সালে জাতীয় দলে সুযোগ পান। কিন্তু ইহুদি হওয়ার কারণে ১৯৪০ সালের পর থেকে তাকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়। পরে ১৯৪৪ সালে হাঙ্গেরি জার্মান নাৎসি বাহিনীর দখলে চলে যায়, ঐ সময় নিজের পরিচয় লুকিয়ে খ্রিষ্টান নারীর ছদ্মবেশে বেঁচে থাকেন অ্যাগনেস। বাঁচার জন্য জাল নথি তৈরি করে একটি গ্রামে লুকিয়ে থেকে কাজ করতেন। তবে গোপনে ঠিকই অনুশীলন চালিয়ে যান। কিন্তু অ্যাগনেস বেঁচে গেলেও তার বাবা এবং পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য হলোকাস্টের নির্মমতার শিকার হন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সব খারাপ অতীত পেছনে ফেলে ফের খেলাধুলায় ফেরেন অ্যাগনেস। তার পরের গল্পতো সবারই জানা। তার অর্জনের শুরুটা হয় ১৯৪৬ সালে হাঙ্গেরির হয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ জেতার মধ্য দিয়ে। ১৯৪৭ সালে তিনি সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান জিমন্যাস্টিকস শিরোপা জয় করেন। ১৯৪৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জন করলেও, গোড়ালিতে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি। ১৯৪৯ সালের ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি গেমসে তিনি চারটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য এবং একটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন।
এ দিকে ১৯৫৬ সালে মেলবোর্ন অলিম্পিক শেষে হাঙ্গেরিতে না ফিরে তিনি ইসরাইলে স্থায়ী হন। সেখানে তিনি জিমন্যাস্টিকস কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেন। যদিও পরে খেলাধুলার জন্য জীবন উৎসর্গ করা কেলেতি জীবনের শেষ পর্যায়ে হাঙ্গেরিতে ফিরে আসেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর সবচেয়ে বয়স্ক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফ্রান্সের সাবেক সাইক্লিস্ট চার্লস কন্তের নাম উঠে এসেছে, যিনি বর্তমানে ১০০ বছর বয়সী।
মন্তব্য করুন