

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লাসহ সারা দেশে আলোচিত সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম ফারিহার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত শেষে খুনিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নাঙ্গলকোট। আজ ২১ মে বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কান্দাল আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সর্বস্তরের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ব্যানারে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নিহত জান্নাতুন নাঈম ফারিহা কান্দাল আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী ছিলেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হানিফ খোন্দকার, সহকারী প্রধান শিক্ষক রায়হান, শিক্ষক ইব্রাহীম মজুমদার, শাহীন আক্তার, নেছার উদ্দিন, রুবেল হোসেন এবং এলাকার মেম্বার জহিরুল কাইয়ুমসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ফারিহাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। এমনকি পরিবারের অনুপস্থিতিতেই সুরতহাল রিপোর্ট করা হয়েছে এবং দায়ের করা এজাহারও পরিবর্তন করে গ্রহণ করা হয়েছে বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সমাবেশে বক্তারা এই কথিত আত্মহত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে খুনিদের ফাঁসি এবং যাদের জামিন দেওয়া হয়েছে তাদের জামিন দ্রুত বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের জোর দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ৫ মে মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালীপট্টি এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামে একটি বহুতল ভবনের স্বামী ও শ্বশুরের ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাড় ইউনিয়নের কান্দাল গ্রামে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ফারিয়া ও হৃদয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ১৫ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। হৃদয়ের বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায়। মামলার দাবি অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও তাঁর পরিবারের লোকজন ফারিয়ার কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। ফারিয়ার পরিবার সেই টাকা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ দেখা দিত এবং এ নিয়ে ফারিয়াকে একাধিকবার শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মন্তব্য করুন


হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের
আশ্বাসে সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চিকিৎসকরা
স্থগিত করেছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল নাজমুল।
রোববার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
ঢামেক পরিচালক জানান, কমপ্লিট শাটডাউন
থেকে সরে এসেছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ ইনডোরের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ চালু
থাকবে। এখন থেকে ঢামেক হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের
পর সবাই কাজে ফিরবেন।
এদিকে, চিকিৎসকদের দাবি যৌক্তিক জানিয়ে সন্ধ্যায়
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগন বলেন, তাদের সঙ্গে ন্যক্কারজনক ঘটনা
ঘটেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিইউবিটির উপচার্যের কাছে জানতে চাওয়া হবে, হামলায় কারা
ছিল।
চিকিৎসকদের সুরক্ষা দেয়ার কথা জানিয়েছে
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে
হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে।
তবে স্বাস্থ্য পুলিশ নিয়োগ করতে সময়
লাগবে বলেও জানিয়েছেন নুরজাহান বেগম।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের
মারধরের প্রতিবাদে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দেয়া হয়। চিকিৎসকদের
সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায়
আনার দাবি তোলেন চিকিৎসকরা। ঘটনার পর চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় রোববার বিকেলে দুই প্লাটুন
বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
মন্তব্য করুন


আজ (২৭ নভেম্বর) নৌপরিবহন এবং শ্রম
ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের সাথে ঢাকায়
নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রশীদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাতকালে তারা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য
সম্পর্কের পাশাপাশি পর্যটন প্রসারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তারা মালদ্বীপের
সাথে বাংলাদেশের শিগগিরই জাহাজ চলাচল শুরু করার ব্যাপারে একমত হন।
সাক্ষাতকালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের
সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক বিদোষ চন্দ্র বর্মন উপস্থিত
ছিলেন।
নৌ-উপদেষ্টা বাংলাদেশ থেকে পরিবেশবান্ধব
পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানী করতে মালদ্বীপকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, মালদ্বীপের সাথে বাংলাদেশের
সরাসরি জাহাজ চলাচল চালু হলে উভয় দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরো সম্প্রসারিত হবে।
মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রশীদ
বলেন, বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপের মধ্যে শিগগিরই সরাসরি জাহাজ চলাচলের উদ্যোগ গ্রহণ করা
হবে। মালদ্বীপের ব্যবসায়ীরাও এ বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক। উভয় দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ
আরো বৃদ্ধি করতে সরাসরি জাহাজ চলাচল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কন্টেইনার,
সাধারণ যাত্রী বা মালামাল পরিবহনের পাশাপাশি সমুদ্রপথে উভয় দেশের মধ্যে ক্রুজ সার্ভিস
চালু করার ব্যাপারেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। এর মধ্য দিয়ে উভয় দেশের পর্যটন বিকশিত হবে
বলেও হাইকমিশনার উল্লেখ করেন।
ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াৎ বাংলাদেশের মেরিন
একাডেমিগুলোতে প্রশিক্ষণের জন্য মালদ্বীপ থেকে ক্যাডেট প্রেরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন,
বাংলাদেশের মেরিন একাডেমিগুলোতে মেরিন বিষয়ক আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। মালদ্বীপের নিয়মিত ক্যাডেটরা এখান থেকে
উন্নতমানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে।
শিউনিন রশীদ উপদেষ্টার এ প্রস্তাবকে
সমর্থন করে বলেন, মালদ্বীপ সরকার বাংলাদেশের সাথে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিনিময় কর্মসূচিতে
একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।
এছাড়াও মালদ্বীপের ব্যবসায়ীরা পণ্য
পরিবহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ট্রান্সশিপমেন্ট নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। দুই দেশের
বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত ২০২৫
সালে অনুষ্ঠিতব্য আইএমও নির্বাচনে সি-ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দিতার বিষয়েও
মালদ্বীপের হাইকমিশনারকে অবহিত করেন।
তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক
দেশ। এ দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ বিভিন্নভাবে নদ-নদীর উপর নির্ভরশীল। বিদ্যমান
তিনটি বৃহৎ সমুদ্রবন্দরের পাশাপাশি মাতারবাড়িতে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা
হচ্ছে। প্রায় চুয়ান্নটি প্রধান নদীবন্দর রয়েছে। হাজারের উপর নদ-নদী দেশজুড়ে জালের মতো
বিস্তৃত। দেশের দক্ষিণে বিশাল বঙ্গোপসাগরের অবস্থান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের
ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বকে বৃদ্ধি করেছে। বাংলাদেশের তৈরি জাহাজ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টরকে আরো এগিয়ে নিতে এবং মেরিটাইম সেক্টরের
বৈশ্বিক পর্যায়ে অবদান রাখতে বাংলাদেশ আইএমও কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা এ বিষয়ে মালদ্বীপের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে কার্যকরভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক না
কেন, তা সম্পূর্ণ নির্মূল করা হবে। রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার মতো দুঃসাহস যে সমস্ত
সন্ত্রাসী দেখিয়েছে, তাদের যথাযথভাবে দমন করা হবে।
মন্ত্রী
আজ রোববার ( ৩১মে ) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের
বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী
বলেন, সলিমপুর, জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরসহ পার্শ্ববর্তী সমগ্র এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সেজন্য
এই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী
বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পরিকল্পিত সরকারি স্থাপনা ও একাডেমি নির্মাণের লক্ষ্যে
আজ সব বিভাগীয় প্রধানদের সাথে ম্যাপ পর্যালোচনা করে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি
বলেন, প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের বর্তমান কারাগারটি বায়েজিদ লিঙ্ক রোডের পাশের ওই এলাকায়
স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ শিগগিরই স্থানটি সরেজমিনে
পরিদর্শন করবেন। তিনি আরো বলেন, কারা অধিদপ্তর প্রথমে কারাগারের নির্ধারিত স্থানটি
নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পরবর্তী উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করবে, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে
অত্যন্ত জরুরি। অন্যান্য সরকারি দপ্তরের জন্য কোন স্থানে কী স্থাপনা করা হবে, তাও সুনির্দিষ্ট
পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা ও যৌথ অভিযান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী
বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে কেবল প্রচলিত ধারার পুলিশিং নয়, বরং র্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ
রাষ্ট্রের সকল বাহিনী হেলিকপ্টার সাপোর্টের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন,
রাষ্ট্রের কল্যাণে ও জননিরাপত্তা বিধানে সকল বাহিনী একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গল সলিমপুরের
মতো রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও বোয়ালখালীসহ সব অঞ্চলের সন্ত্রাসীদের তালিকা
ও আস্তানা চিহ্নিত করে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে নির্মূল করা হবে। তিনি আরো বলেন,
রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর হামলাকারী ও আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে
না এবং তাদের সর্বশেষ আস্তানাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
মন্ত্রী
এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়ন, দেশের কল্যাণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে
গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
উচ্চপর্যায়ের
এই বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ
হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলার সংসদ সদস্যবৃন্দ,
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির,
বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল সৈয়দ মোঃ মোতাহার হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম
রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত
আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম-সহ
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে কোনোভাবেই উদ্বিগ্ন নয় বিশ্বব্যাংক। বরং বাংলাদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে চায় সংস্থাটি। অন্তর্বর্তী সরকারকে সব বিষয়ে সহায়তা দিয়ে পাশে থাকতে চায় বিশ্বব্যাংক।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও আইএফসির কান্ট্রি ম্যানেজারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক। তিনি জানান, আমরা বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জেনেছি। যার ফলে আমরা বাংলাদেশের অর্থনীতির সংস্কারে কীভাবে সহযোগিতা করবো সেটিও আলোচনা করেছি। কারণ জটিল কিছু সংস্কার বাংলাদেশের প্রয়োজন। এখানে আর্থিক খাতে সংস্কার প্রয়োজন, বাণিজ্যে সংস্কার প্রয়োজন- আমরা এগুলোতে বিনিয়োগে আগ্রহী।
পাশাপাশি তিনি এটাও বলেন, আমরা এখন এ দেশে বেসরকারি খাতে চাকরির বাজার সৃষ্টিতে কাজ করতে আগ্রহী। বিশেষ করে যুবকরা এখানে বড় সম্পদ। এছাড়া এখানে জলবায়ু পরিবর্তন অনেক বড় ঝুঁকি, সেখানে অন্তর্বর্তীমূলক বিনিয়োগ প্রয়োজন। আমরা বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্ক গড়তে কাজ করছি আর আমরা মোটেই বাংলাদেশের ঋণের কিস্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন নই। আমাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। আমি অনেক দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, এটি কখনোই আমাদের উদ্বেগের বিষয় নয়।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের স্থবির অর্থনীতিকে চালু করার জন্য যত রকমের সহযোগিতা দরকার বিশ্বব্যাংক তা দেবে। আইএফসি ও বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছি আমরা। তারা বলেছে, বাংলাদেশের মানুষের জন্য তারা যে কোনো কিছুই করতে পারে। নিয়মকানুন মেনে তারা বিনিয়োগ করবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ শিক্ষার্থীদের জন্য শোক জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি এ সময়ে যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা সংস্কারেও পাশে থাকবে সংস্থাটি।
মন্তব্য করুন


ফেনী সদর উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা বলে এক ভিক্ষুককে ইটভাটায় ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে আটক করেছে।
মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ইং) বিকেলে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ফেনী আদালতের পরিদর্শক মোহাম্মদ রশীদ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে লেমুয়া বাজারে ভিক্ষা করছিলেন ভুক্তভোগী ওই নারী। তখন মেহেরাজ নামের এক যুবক তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ছনুয়া ইউনিয়নের এবিএম ব্রিক ফিল্ডে নিয়ে যান। সেখানে শ্রমিকদের থাকার কক্ষে মেহেরাজ তাকে ধর্ষণ করে। এরপর সমির, দেলোয়ার হোসেন, তারেক, রমজান আলী, বাবু, রিদনসহ কয়েকজন ওই নারীকে ধর্ষণ করে। পরে তাকে বাসে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য মহাসড়কে নিয়ে গেলে ওই নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়।
সূত্র আরও জানিয়েছে, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাৎক্ষণিক সমির, দেলোয়ার হোসেন, তারেক, রমজান আলী ও বাবুকে গ্রেপ্তার করে। তবে এ সময় মেহরাজ, রিদন এবং সালাউদ্দিন কৌশলে পালিয়ে যায়।
ফেনী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন


আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ২০২৪ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়সীমা ঘোষণা করেছে । অনলাইনে ফরম পূরণ কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ১৬ এপ্রিল। জরিমানা ছাড়া ফরম পূরণ চলবে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার(২১ মার্চ) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড থেকে ফরম পূরণ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. আবুল বাশার স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণ করা যাবে ২৯ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত। পরীক্ষা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ৩০ জুন।
ফরম পূরণের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান শাখার পরীক্ষার্থীদের জন্য ২৬৮০ টাকা, মানবিক এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ২১২০ টাকা করে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আগামী ৩১ মার্চের নির্বাচনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে হবে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর হাতিরঝিলের একটি
বৈদ্যুতিক টাওয়ারে উঠে পড়েন একনারী। প্রায় ২ ঘণ্টা টাওয়ারে অবস্থানের পর
ফায়ার সার্ভিস কথা বলে তাকে নিচে নিয়ে আসে। এ টাওয়ার দিয়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার
ভোল্টের বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছে। ১৮ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
বিকেল ৪টার দিকে আশপাশের লোকজন ওই নারীকে
টাওয়ারে উঠতে দেখে ফায়ার সার্ভিসে ফোন দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, বিকেলে হাতিরঝিলের মগবাজার-তেজগাঁও প্রান্তে তাকে দেখতে প্রচুর ভিড় হয়।
অনেকেই নানা কৌশলে তাকে ডাকলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল
ডিফেন্স অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, ওই নারীর
নাম খুকুমণি। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। বিকেলে তিনি হঠাৎ টাওয়ারে উঠে পড়েন। পরে
ফায়ার সার্ভিসের তেজগাঁও থেকে একটি ইউনিট সেখানে গিয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে তার সাথে
কথা বলে নামিয়ে আনে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, এ
টাওয়ার দিয়ে এক লাখ ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে
বিদ্যুৎ বিভাগ।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৬১০ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে ধ্বংস করা হয়েছে শতবর্ষী ২টি পুকুর ও ২২ একর প্রাকৃতিক জলাশয়। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও পলাতক, হত্যা মামলার আসামী আবু জাহের রাতের আঁধারে গোমতী নদীর মাটি কেটে এই জলাধার ও পুকুর ভরাট করেন—যা পরিবেশ আইন ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
আইনের অপমান
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ অনুযায়ী, কোনো পুকুর, খাল, নদী কিংবা প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট করা সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু কারাগারের অভ্যন্তরের পুকুরসহ ২২ একর জলাশয় বুলডোজারের নিচে চাপা পড়েছে নিরব প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে।
ঐতিহাসিক জলাধার, আজ শুধু স্মৃতি
ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৬৭ একর জমির মধ্যে দুটি পুকুর ও একটি ২২ একরের বিশাল জলাশয় রয়েছে। একসময় এ জলাশয়ে হাজারো অতিথি পাখির সমাগম হতো। পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছিল। এসব পুকুরে কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দও গোসল করেছিলেন—স্মৃতি হিসেবে সেই ছবিও সংরক্ষিত আছে।
কিন্তু এখন সেই পুকুরগুলোর দুটি সম্পূর্ণভাবে ভরাট, অপরটি আংশিকভাবে ভরাটের প্রক্রিয়ায়। আর বিশাল জলাশয়টি রাতারাতি মাটি ফেলে সমতল করা হয়েছে।সেখানে গড়ে উঠেছে দশতলা চারটি ভবন।
ক্ষমতার ছত্রছায়ায় কাজ
সূত্র মতে, কারাগারের এই উন্নয়ন কাজটি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রভাব খাটিয়ে সাবেক এমপি আবু জাহের ও তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জলাধার ভরাটের ঠিকাদার ছিলেন আবু জাহের নিজেই। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের অধিকাংশ অর্থাৎ কোটি কোটি টাকার কাজ তিনি নিজের প্রভাব খাটিয়ে দখলে রেখেছেন।অধিকাংশ কাজ এখনো চলমান রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর নির্লিপ্ত?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মুসাব্বির হোসেন মোহাম্মদ রাজিব জানান, “আমরা কারা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ পর্যন্ত গিয়েছে। কাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত আছে, তবে তারা আমাদের অনুমতি না নিয়েই জলাশয় ভরাট করেছে।”
গণপূর্ত বিভাগ দায় এড়ালো
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ৬১০ কোটি টাকার প্রকল্পটি তাদের তত্ত্বাবধানে হলেও জলাধার ভরাটের বিষয়ে তিনি বলেন,খতিয়ান নাল জমি উল্লেখ আছে। “পুকুর ভরাটের জায়গার কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে, তবে কারা কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।”
কর্তৃপক্ষের নীরবতা
সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুনের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে রিজার্ভ গার্ডের প্রধান কারারক্ষী জানান, তিনি ব্যস্ত। পরে তাঁর সরকারি নম্বরে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। একইভাবে জেলার আব্দুল্লাহ আল-আমিনের নম্বরেও যোগাযোগ করা হলে সাড়া মেলেনি।
এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এবং প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষার দাবিতে পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন


যশোর-খুলনা
মহাসড়কে তিনটি যানবাহনের সংঘর্ষে নারী, শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন গুরুতর
আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার
(২৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার চাউলিয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে কাভার্ড ভ্যান,
ইজিবাইক ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা
হলেন, যশোর সদর উপজেলার ঘুনি পূর্বপাড়ার মৃত হাসান আলী মোল্লার ছেলে ইজিবাইক চালক মোহাম্মদ
আইয়ুব আলী (৪৩), ঘোড়াগাছা সাহাপাড়া গ্রামের সুজন সাহার স্ত্রী বৃষ্টি সাহা (২৪), তার
চার বছরের সন্তান সৌভিক সাহা এবং চাউলিয়া গ্রামের মৃত কালু শেখের ছেলে আনোয়ার আলী
(৭০)।
পুলিশ
ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা থেকে যশোরমুখী একটি দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যান চাউলিয়া
ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইক ও একটি ইঞ্জিনচালিত
ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কাভার্ড ভ্যানে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই ইজিবাইক
চালক আইয়ুব আলী ও যাত্রী বৃষ্টি সাহা মারা যান।
দুর্ঘটনায়
গুরুতর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন
অবস্থায় আনোয়ার আলী ও সৌভিক সাহার মৃত্যু হয়।
বর্তমানে
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তি হলেন, মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মশিয়ার
রহমানের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (২৮)। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মৃত
আনোয়ারের ছেলে জামাল হোসেন জানান, তার বাবা ভ্যানে করে যাত্রী নিয়ে মহাসড়ক ধরে গন্তব্যে
যাচ্ছিলেন। পথে কাভার্ডভ্যান, ইজিবাইক ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়।
এতে তার বাবা মারা যান।
এদিকে,
দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোধ করে এবং কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছু সময়ের জন্য যশোর-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ
হয়ে যায়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং
দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
যশোর
কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার পর পরই কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে এবং এর চালককে
আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার ব্যাপারে
মামলা রুজুর প্রস্তুতি চলছে।
যশোর
জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. শাকিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের
জন্য লাশগুলো হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা
করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ
ব্যাপারে নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি ফজলুল করিম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ
করছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বাংলাদেশে কর্মরত বহুজাতিক কোম্পানিসমূহের শীর্ষ নির্বাহীদের সরকারের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে
কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরার পাশাপাশি বিদ্যমান
ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেন, এক টিমের সদস্য হিসেবে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা দেশের জন্য একটি
টিম।
তিনি শীর্ষ নির্বাহীদের উদ্দেশ্যে বলেন,
‘আপনারা দেশের র্ব্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়ে উঠুন, যা সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে
আসতে উৎসাহিত করবে।’
আজ মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয়
অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশে কর্মরত বহুজাতিক কোম্পানিসমূহের
আবাসিক প্রধানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান।
শীর্ষ নির্বাহীগণ বাংলাদেশে ব্যবসা
ও বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করেন।
এসময় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে
সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল
কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং জাতীয় রাজস্ব
বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের কাছে লাইসেন্সিং
এবং করহার ও করনীতির পূর্বানুমেয়তা নিশ্চিত করা, সহজে ব্যবসা করার পরিবেশ উন্নত করা,
বিডার ওয়ান-স্টপ সার্ভিস আরও কার্যকর এবং ক্রেডিট রেটিং উন্নত করার আহ্বান জানান।
তারা বলেন, এগুলো করা গেলে বিনিয়োগকারীরা
তখন বাংলাদেশে আসতে উৎসাহিত হবে।
ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ শ্রম অধিকার সংস্কারের
জন্য সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এক্ষেত্রে তাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার
আশ্বাস দেন।
প্রধান উপদেষ্টা নির্বাহীগণকে ব্যবসা
পরিচালনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,
‘ব্যবসা পরিচালনায় যেসব সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করতে সাহায্য করুন যাতে আমরা সেগুলোর
সমাধান করতে পারি’।
লুৎফে সিদ্দিকী প্রধান নির্বাহীকে একটি
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মানদণ্ড হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, আগে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের
বিশ্বাসের ঘাটতি ছিল। আমাদের সেটি দূর করতে হবে।
আশিক চৌধুরী জানান, ব্যবসায় কার্যক্রম
সহজ করতে বিডায় রিলেশনশিপ ম্যানেজার পদ চালু করা হচ্ছে।
আশিক চৌধুরী আরও জানান, তিনি এবং বিশেষ
দূত লুৎফে সিদ্দিকী আগামী মাসে সিঙ্গাপুরে গিয়ে রেটিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান ন্যাশনাল সিঙ্গেল
উইন্ডো চালু করার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই ব্যবস্থা ব্যবসা পরিচালনা উল্লেখযোগ্যভাবে
সহজ করে দিবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, ইউনিলিভার বাংলাদেশ
লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাভেদ আখতার, শেভরন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা
পরিচালক এরিক এম. ওয়াকার, গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং
কর্পোরেশন লিমিটেডের (এইচএসবিসি) সিইও মো. মাহবুব উর রহমান, মেটলাইফ বাংলাদেশের সিইও
মুহাম্মদ আলাউদ্দিন আহমদ, এসজিএস বাংলাদেশ লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুর
রশিদ, সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এম. এইচ. এম. ফাইরোজ,
কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসির সিইও নাজিথ মীওয়ানাজ, ওরাকল বাংলাদেশের কান্ট্রি
ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা, মারুবেনি কর্পোরেশনের কান্ট্রি হেড মনাবু সুগাওয়ারা,
বারাকা পাওয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফয়সল আহমেদ চৌধুরী, লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের
সিইও মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, ডিএইচএল ওয়ার্ল্ডওয়াইড এক্সপ্রেস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের
ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিয়ারুল হক এবং ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের কান্ট্রি হেড
সুমিতাভ বসু।
মন্তব্য করুন