

ডেস্ক রিপোর্ট:
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে। ইইউ-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক পাওলা পামপালোনি এ তথ্য জানান। এছাড়াও, দুর্নীতির বিরুদ্ধে একযোগে লড়াই করার ব্যাপারেও ইইউ এর সমর্থনের কথা বলেন তিনি।
বুধবার (৬ নভেম্বর) ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন পামপালোনি। এ সময় ইইউ-এর বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এবং প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলারও উপস্থিত ছিলেন।
পাওলা পামপালোনি প্রধান উপদেষ্টাকে জানান, “বার্তাটি খুবই পরিষ্কার—ইউরোপীয় ইউনিয়ন আপনার পাশে রয়েছে। আমরা আপনার সংস্কার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে চাই।” তিনি আরো জানান, সংস্কারের জন্য ইইউ অর্থের ঘাটতি হতে দেবে না এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তাও প্রদান করবে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এই অঙ্গীকারের জন্য ইইউ-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের সময় ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েনের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ স্মরণ করেন। যেখানে তারা বাংলাদেশের জন্য সমর্থন বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা করেছিলেন।
পামপালোনি জানান, “আমরা ইউএনজিএ-তে আপনার বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনেছি এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। আপনাকে একা ভাবতে হবে না; আমরা সত্যিই সমর্থন দিতে আগ্রহী।”
তিনি আরও জানান, ইইউ বাংলাদেশকে আরও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে উৎসাহিত করছে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।
রাষ্ট্রদূত মিলার জানান, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা করছেন, যা উভয় দেশের মধ্যে আরও ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি করবে।
প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের শ্রম অধিকার সংস্কারে তার অঙ্গীকারের পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে চাই, কোনো গোপনীয়তা থাকবে না। আমরা আর পূর্বের পন্থা অবলম্বন করতে চাই না।”
ইইউ কর্মকর্তা অধ্যাপক ইউনূসের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। পামপালোনি বলেন, “এটি প্রথমবার যে আমরা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দেখছি এবং এক্ষেত্রে আমরা আপনার ওপর নির্ভর করছি।”
প্রধান উপদেষ্টা ইইউ-কে নেপাল ও ভারতের সঙ্গে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়াতে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “নেপালে বিপুল জলবিদ্যুৎ রয়েছে যা বর্তমানে অপচয় হচ্ছে। ইইউ-এর কিছু সহায়তায় নেপাল, বাংলাদেশ এবং ভারত এতে উপকৃত হতে পারে।”
তিনি ইইউ-কে বাংলাদেশের যুব সমাজের ওপর মনোযোগ দিতে অনুরোধ করেন এবং দক্ষিণ এশীয় ফুটবলে বাংলাদেশি মেয়েদের সাম্প্রতিক সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি ইইউ-এর একটি ফুটবল দল বাংলাদেশে পাঠানোর অনুরোধ করেন, যা বাংলাদেশি মেয়েদের অনুপ্রাণিত করবে।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। রোববার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আয়োজিত নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক কোনো দলের বিশেষ সুবিধা নেওয়া ও নিজেকে রাজনৈতিক কর্মী ভাববেন না। মনে রাখবেন পেশি শক্তি কখনো শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। আপনাদের সব কাজ জনস্বার্থ ও আইন দ্বাড়া পরিচালিত হয়।
রাজনৈতিক দলের নেতাদের তোষামোদ করতে বারণ করে তিনি বলেন, আপনারা রাজনৈতিক দল থেকে দূরে থাকবেন। আমি বারবার আপনাদের বলছি, আপনারা এখন যদি তেল দেওয়া শুরু করে দেন তাহলে আপনাদের তেল কিন্তু নির্বাচনের পর শেষ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, অতএব এখন যার কাছে যে তেলটা আছে রিজার্ভ করে রাখবেন। পরে কিন্তু তেলটা কাজে লাগাতে পারবেন। এজন্য আপনারা কোনো দলের দিকে যাবেন না। আপনারা একেবারে জনগণের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা এটা পূরণ করার জন্য আপনারা চেষ্টা করবেন।
মন্তব্য করুন


নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রতীক ও মুক্ত চিন্তার প্রতিচ্ছবি হিসেবে পরিচিত আবরার ফাহাদকে তার নিজ ক্যাম্পাসে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের ছাত্র সংগঠনের কিছু সদস্য জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার (৩ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আবরার ফাহাদের স্বাধীনতা পদক প্রাপ্তি এবং তার আত্মত্যাগকে স্মরণ করে একটি পোস্ট শেয়ার করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি তার পোস্টে লেখেন, 'অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসিকতার প্রতীক, মুক্ত চিন্তার এক প্রতিচ্ছবি আবরার ফাহাদ। মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক ২০২৫-এ ভূষিত হওয়া তার আত্মত্যাগের স্বীকৃতি। তার আদর্শ আমাদের আলোকিত করে, ন্যায়বিচারের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেয়। জাতি তোমাকে ভুলবে না, আবরার!'
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার নির্মম মৃত্যু সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রতীক হিসেবে তাকে স্মরণ করা হয়।
মন্তব্য করুন


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সকল পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব হতে পারে। তিনি সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়, এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিষয়। তবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যুক্ত হতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান হয়ে যেতে পারে। সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। অধৈর্য হলে সমাধান হবে না।" স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ছাত্রদের প্রতি আহ্বান জানান, ধৈর্যের সঙ্গে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে।
সড়ক অবরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাস্তা বন্ধ না করে মাঠ বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতিবাদ জানানো শ্রেয়। তিনি আরও বলেন, জনগণের দুর্ভোগের জন্য অবরোধ করা ঠিক নয়। দাবিদাওয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধান পাওয়ার জন্য তিনি ছাত্রদের অনুরোধ করেন।
এ সময় তিনি বলেন, "সরকার চায় প্রতিটি বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হোক।" এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্ররা দেশের জন্য কাজ করে, তারা পজিটিভ কাজই করে, কিছু ভুল হতে পারে, তবে সকল পরিস্থিতিতে ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হয়।
মন্তব্য করুন


৪৩তম বিসিএসের ২৬৭ জন কর্মকর্তাকে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সহকারী কমিশনার হিসেবে নিয়োগ/পদায়ন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
শুক্রবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার ফলাফল অনুসারে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ শাখা গত ৩০ ডিসেম্বর তারিখের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২৬৭ জন কর্মকর্তাকে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সহকারী কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, নিয়োগ পাওয়া সহকারী কমিশনারদের চাকরি শিক্ষানবিশ সহকারী কমিশনার হিসেবে উপযুক্ত পদে পদায়ন করার জন্য তাদের বিভাগীয় কমিশনারের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব কর্মকর্তাকে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে যোগদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যোগদান করা সহকারী কমিশনারদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


এস আলম গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) ও তার তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত।
বৃহস্পতিবার দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
অপর দুই ভাই হলেন—এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ ও পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাসান।
দুদকের উপ-পরিচালক তাহাসিন মোনাবিল হক তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে অপরাধমূলক অসদাচরণ ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে এএম ট্রেডিং নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করে জাল নথি প্রস্তুত ও ব্যবহার করেছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ঋণের নামে ১০৪ কোটি ২০ লাখ ৭৭ হাজার ৭০৮ টাকা আত্মসাৎ করেছে। সাইফুল আলম দুর্নীতির মাধ্যমে এ অর্থ এস আলম সুপার এডিবল ওয়েলের স্বার্থে স্থানান্তর বা পুনর্বিন্যাস বা রূপান্তর করেছেন। যার পরিমাণ ৩৪০ কোটি টাকা। এই কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর, ৪০৯, ১০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ধারা ৪(২) ও ৪(৩)-এর আওতাভুক্ত।
এতে আরও বলা হয়, তদন্ত চলাকালীন সময়ে আসামিদের আটক করার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারা বিদেশে পলাতক আছেন। মোহাম্মদ সাইফুল আলম, আবদুস সামাদ এবং মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলের কর্তৃক তা কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত প্রার্থনা করছি।
মন্তব্য করুন


এবার আগের মতো কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি সচিবালয় প্রঙ্গণে মনোনয়ন বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে চলমান চতুর্থ দিনের আপিল আবেদনের বুথ পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, যারা মনোনয়নের বৈধতা বা বাতিলের বিরুদ্ধে আবেদন করছেন, আইনি ভিত্তিতে তার সমাধান করা হবে।
নির্বাচন কমিশন ইনসাফে বিশ্বাসী উল্লেখ করে সিইসি বলেন, সবাই ন্যায়বিচার পাবেন। এছাড়া লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করবে কমিশন।
সিইসি আরো আশ্বস্ত করেন যে, আপিল শুনানির পুরো প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ হবে এবং প্রতিটি আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে আইনি সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
এদিকে, আজ সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আপিল করতে ইসিতে আসছেন আবেদনকারীরা। ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল চলবে। আপিল আবেদনের শুনানি আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এর আগে গত তিন দিনে আপিল আবেদন জমা পড়েছে ২৯৫টি। এর মধ্যে বুধবার ১৩১টি, মঙ্গলবার ১২২টি এবং সোমবার প্রথম দিনে ৪১টি আপিল দায়ের করা হয়।
গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেন।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সাংবিধানিক আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রতীকের তালিকায় শাপলা না থাকায় তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
রোববার সকালে সিলেট পুলিশ লাইনসে নির্বাচনী দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আয়োজিত প্রশিক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রতীক বরাদ্দ বিধিমালা অনুযায়ী যে প্রতীকগুলো থাকে সেখান থেকে একটি প্রতীক দিতে হয়। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, তাই আইনগতভাবে কাজ করে। আইনের বাইরে নির্বাচন কমিশন কোনো কাজ করে না। আইন ও বিধি অনুযায়ী তারা (এনসিপি) যে প্রতীক চাচ্ছে সেটি দিতে পারছে না নির্বাচন কমিশন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে না হওয়ার মতো কোনো কাজ বা কোনো ঘটনা ঘটেনি। অনেক কিছুই মিডিয়াতে এসেছে। এতে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না। আমরা আশা করি, রমজানের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সবার সহযোগিতায় সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সব বাহিনী প্রস্তুত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতের মতো নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পাশাপাশি বিতর্কিত কেউ আগামী নির্বাচনী দায়িত্বে থাকতে পারবেন না বলেও জানান তিনি।
পিআর পদ্ধতির দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি রাজনৈতিক বিষয়, এ নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতীক তালিকায় শাপলা যোগ হবে না জানিয়ে ইসি’র জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, আগামী ১৯ অক্টোবরের মধ্যে শাপলার বিকল্প বেছে না নিলে এনসিপির প্রতীকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
ইসি সচিব বলেন, যেহেতু নির্বাচন বিধিমালায় নেই, তাই শাপলা প্রতীক দেয়ার সুযোগ নেই। যদি তারা প্রতীক না চায়, তাহলে কমিশনের বিবেচনায় আমরা প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে দেব। এনসিপি যদি এ মাসের ১৯ তারিখের মধ্যে নতুন প্রতীক জমা না দেয়, তাহলে এ বিষয়ে কমিশন নিজেই সিন্ধান্ত নেবে।
প্রবাসী ভোটারদের বিষয়ে কাজের অগ্রগতি আছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পুরনো ১১টি দেশের সঙ্গে নতুন আরও চারটি দেশে ভোটার হালনাগাদ শুরু হবে। এ ছাড়া, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভোট দেয়ার অ্যাপ লঞ্চ করতে পারবো বলে আশা করছি।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুককে বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যক্তিগত সফরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক যাচ্ছিলেন।
রোববার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগের সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে তাকে আটক করা হয়।
সূত্রে বলা হয়, গোলাম ফারুক ব্যাংকক যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরের বহির্গমন ইমিগ্রেশন কাউন্টারে পৌঁছান। তিনি থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩৪০ নম্বর ফ্লাইটে ব্যাংকক যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইমিগ্রেশন কাউন্টারে গিয়ে ইমিগ্রেশন অফিসাররা তার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। এর ফলে তাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি।
ডিএমপির সাবেক এই কমিশনার বর্তমানে ইমিগ্রেশন পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। রোববার বিকাল ৫টার সময় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা বা তাকে বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য জানা যায়নি।
মন্তব্য করুন


ঢাকায় পৌঁছেছে জুলাই জজবার প্রাণ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অকুতোভয় বীর শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার মরদেহ বহনকারী বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৩৮৫ ফ্লাইটটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এর আগে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে জানানো হয়, শহীদ ওসমান হাদিকে বহনকারী বিমানটি সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।
আমাদের জুলাই জজবার প্রাণ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অকুতোভয় বীরকে নিতে সবাই এয়ারপোর্ট থেকে শাহবাগগামী রাস্তার দুপাশে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান নেবো। সেখান থেকে শহীদ ওসমান হাদিকে সর্বসাধারণের সাক্ষাতের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে আনা হবে।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে নির্বাচনি প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) নেওয়া হয়, যেখানে প্রাথমিক অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
মন্তব্য করুন