

পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের প্রশ্নে রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন। রায় ঘোষণা এখনও চলমান রয়েছে।
এর আগে, বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না, এ বিষয়ে রুল জারি করা হয়েছিল। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী রায় ঘোষণা শুরু করেন। রায়ের মূল অংশ পাঠ করেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
গত ৫ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে রুলের রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিল। দীর্ঘ ২৩ কার্যদিবসের শুনানি শেষে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন। রিটকারী সুজনের বদিউল আলমের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া। বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল। জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিকী। ইনসানিয়াত বিপ্লবের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান, চার আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জুনায়েদ আহমেদ চৌধুরী, ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে রুলে বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পক্ষভুক্ত হন। এছাড়া ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরাম, চার আবেদনকারী রুলে ইন্টারভেনর হিসেবে পক্ষভুক্ত হন।
মন্তব্য করুন


জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারি চাকরি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন তুলে দেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সচিবালয় বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
সরকারি চাকরি, পাসপোর্ট ইত্যাদিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে হওয়া হয়রানির অভিযোগ সম্পর্কে কমিশন প্রধান বলেন, "পুলিশ ভেরিফিকেশন কোথাও থাকবে না, এয়ারপোর্টেও থাকবে না। প্রত্যেক নাগরিকের পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকার রয়েছে।"
এছাড়া, দলীয় ভিত্তিতে ক্যাডার পদে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়ে আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী বলেন, "উপ-সচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ে পরীক্ষা ছাড়া কোনো পদোন্নতি দেওয়া হবে না। পরীক্ষায় ৭০ নম্বর না পেলে পদোন্নতি দেওয়া হবে না। এর মাধ্যমে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর হবে। যেকোনো ক্যাডারের কেউ যদি ৭০ নম্বর পান, তবে তিনি প্রশাসন ক্যাডারে আসতে পারবেন।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা তথ্য অধিকার আইনকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রতিটি জেলা এবং বিভাগে এ বিষয়ে দেখভাল করার জন্য একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। তবে এখনো তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না।"
মতবিনিময় সভায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সদস্য সচিব মো. মোখলেস উর রহমানসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় বেপরোয়া গতির বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের ৪ জনসহ মোট ৬ জন নিহত হয়েছে।এই ঘটনায় ঘাতক বাসটির চালক মোহাম্মদ নুরুদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে র্যাব সদরদপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ঘাতক বাসটির চালক মোহাম্মদ নুরুদ্দিনকে শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
লে. কর্নেল মুনীম ফেরদৌস আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসচালক আত্মগোপনে সিদ্ধিরগঞ্জ লুকিয়ে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় দাঁড়িয়ে থাকা ৩ টি গাড়িতে ধাক্কা দেয় যাত্রীবাহী একটি বাস। এতে একই পরিবারের ৪ জনসহ দুটি গাড়ির ৬ আরোহী নিহত ও ৪ জন আহত হন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই ৫ জন ও বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।
নিহতরা হলেন- মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নন্দনকোনা গ্রামের বাসিন্দা ও দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারের মালিক নুর আলমের স্ত্রী আমেনা আক্তার (৪০), তার বড় মেয়ে ইসরাত জাহান (২৪), ছোট মেয়ে রিহা মনি (১১), ইসরাত জাহানের ছেলে আইয়াজ হোসেন (২), মোটরসাইকেলের চালক সুমন মিয়ার স্ত্রী রেশমা আক্তার (২৬) ও তার ছেলে মো. আবদুল্লাহ (৭)।
আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন প্রাইভেটকারের মালিক নুর আলম (৪২), তার বোন ফাহমিদা আক্তার (১৭), প্রাইভেটকারের চালক হাবিবুর রহমান (৩৮) ও মোটরসাইকেলের চালক সুমন মিয়া (৪২)।
শুক্রবার দুর্ঘটনার পর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় আহত ব্যক্তিদের।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় ১০ জনকে এ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫ জন হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান। আহত ৫ জনের মধ্যে ৩ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩ জনের মধ্যে গুরুতর আহত রেশমাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়েছিল। পরে তারা জানতে পারেন, শুক্রবার বিকেলে সেখানে রেশমার মৃত্যু হয়।
মন্তব্য করুন


মিরপুরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আজ (১৯ নভেম্বর) ১০০তম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নেমেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার ও সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তার এই ঐতিহাসিক ক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে জমকালো আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
মিরপুর শেরে-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে সতীর্থদের নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন মুশফিক। এসময় গ্যালারিতে তার ছবি সম্বলিত ব্যানার নিয়ে উপস্থিত ছিলেন ভক্ত-সমর্থকরাও। এই বিশেষ মুহূর্তে মুশফিকের সঙ্গে ছিলেন তার পরিবারের সদস্যরাও।
মুশফিককে সম্মাননা জানাতে বোর্ড ও সতীর্থরা তার হাতে নানা স্মারক তুলে দেন। তার হাতে শততম টেস্ট উপলক্ষে বিশেষ ক্যাপ পরিয়ে দেন সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার, যিনি ২০০৫ সালে তার অভিষেক টেস্টেও তাকে ক্যাপ পরিয়ে দিয়েছিলেন। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার আকরাম খানও তাকে একটি বিশেষ ব্যাগি ক্যাপ উপহার দেন।
এছাড়াও, মুশফিকের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং হাবিবুল বাশার যৌথভাবে মুশফিকের প্রথম ও শততম টেস্টের সতীর্থদের স্বাক্ষর করা জার্সি তাকে উপহার দেন।
মন্তব্য করুন


ঈদে টানা ১০ দিনের দীর্ঘ ছুটিতে দেশের অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না বা স্থবির হবে না বলে জানান অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
আজ বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
ঈদে টানা ১০ দিনের ছুটি এ সময় দেশের অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব পড়বে কি না বা স্থবির হবে কি না জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা জানান, স্থবির হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, ব্যবসায়ীরা তাদের মতো করে ব্যবসা করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে কোন কোন দিন কোন কোন স্থানে ব্যাংক খোলা থাকবে। গরুর হাটে কীভাবে থাকবে।
তিনি আরো জানান, এরকম হলিডে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে আরও বেশি থাকে। বড়দিনে ২০ থেকে ২৫ দিন ছুটি থাকে। নেপালে দুর্গাপূজার সময় ৩০ দিন ছুটি থাকে। তখন তাদের দেশ চলে না। সুতরাং দেশ চলবে। কোনো রকম বিরূপ কিছু...৷ ইতোমধ্যে আমরা বাজেট দিয়ে দিয়েছি। বাজেটে মোটামুটি কর্মপন্থা কি হবে সে অনুযায়ী কাজ হবে।
তিনি বলেন, ঈদের পর বাজেটের ওপর কার কী মন্তব্য, সাজেশেন থাকবে সেটা নেবো। ১৯ জুন পর্যন্ত মতামত দিতে পারবে বাজেটের বিষয়ে। ২২ তারিখ কেবিনেট বৈঠকে বাজেট অনুমোদন হবে।
তিন দিনে কি এটা করা সম্ভব হবে কি না জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা আগে থেকেই বলেছি মতামত প্রতিনিয়তই আসতে থাকবে। একদিনে তো আর সব মতামত আসবে না। ইতোমধ্যেই মতামত দেওয়া শুরু হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে দরিদ্র মানুষের জন্য তো কোনো সুখবর দেখছি না, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সুখবর আছে, আপনারা বাজেটের কোথায় কোথায় পরিবর্তন হয়েছে সেটা একটু দেইখেন।
এতে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করেন কি ? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাজেটে স্বস্তি আছে।
মন্তব্য করুন


দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় বছরের সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৪১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
শনিবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, গত একদিনে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২৮ জন আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩ জন। তবে এই ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে কারো মৃত্যু হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ৩৯৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। ঢাকার ৫৩টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ৩৪৫ জন এবং অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ১ হাজার ৬০৭ জন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬৭২ জন। এদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৮৬৯ জন। ঢাকায় ১ হাজার ২৫২ এবং ঢাকার বাইরে ৬১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১ জুন) সর্বোচ্চ ১১২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মন্তব্য করুন


গত বছরে (২০২৪ সালে) বাংলাদেশে মোট ৬,৩৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮,৫৪৩ জন নিহত এবং ১২,৬০৮ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। সংগঠনটি প্রতিবছরের মতো গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ১০ বছরে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ১৫ লাখ থেকে বেড়ে ৬০ লাখে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং ছোট যানবাহন রাস্তায় প্রবাহিত হচ্ছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এসব যানবাহন অবাধে চলাচল করায় সড়ক দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানির হার ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনার কিছু কারণ তুলে ধরেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হলো বেপরোয়া গতি ও বিপদজনক ওভারটেকিং, সড়কের নির্মাণ ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চালকদের অদক্ষতা এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা। এছাড়া পরিবহন মালিকদের বেপরোয়া মনোভাব, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার, মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো, অরক্ষিত রেলক্রসিং এবং রোড ডিভাইডারের পর্যাপ্ত উচ্চতা না থাকা এর অন্যতম কারণ।
এই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, মানুষের জীবন রক্ষায় সরকারের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া, দ্রুত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু করা, সড়ক নিরাপত্তায় বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সড়ক নিরাপত্তা উইং চালু করা।
এছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে এরই মধ্যে প্রণীত সুপারিশমালার বাস্তবায়ন শুরু করা হয়েছে। দেশে সড়ক-মহাসড়কে রোড সাইন, রোড মার্কিং (ট্রাফিক চিহ্ন) স্থাপন, জেব্রা ক্রসিং আঁকা ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গণপরিবহন চালকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা, সড়ক পরিবহন সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করার পাশাপাশি গাড়ির নিবন্ধন, ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স প্রদানের পদ্ধতি আধুনিকায়ন করার সুপারিশও করা হয়েছে।
এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক সহায়তার জন্য তহবিলের আবেদন সময়সীমা ৬ মাস বৃদ্ধি করা, স্মার্ট গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানসম্মত নতুন বাস সার্ভিস চালু করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, পরিবহন সেক্টরে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না। এসব দুর্ঘটনা কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড, এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকার, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমাজ উন্নয়ন কর্মী আবদুল্লাহ আল জহির স্বপন, যাত্রী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি তাওহীদুল হক, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুল হক, প্রচার সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্য মো. জিয়াউল হক চৌধুরী প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


জুলাইয়ে শহিদদের ত্যাগ জাতিকে একটি ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, ‘জুলাই আমাদের নতুন করে আশার আলো- একটি ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ আমাদের রাষ্ট্র সংস্কারের যে সুযোগ এনে দিয়েছে তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে।’ সোমবার (৪ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘পতিত স্বৈরাচার ও তার স্বার্থলোভী গোষ্ঠী এখনও দেশকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করতে হবে। আসুন সবাই মিলে আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে আর কোনো স্বৈরাচারের ঠাঁই হবে না।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন আজ। এক বছর আগে এই দিনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পূর্ণতা পায়, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত হয় প্রিয় স্বদেশ। বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ, যাদের যূথবদ্ধ আন্দোলনের ফসল আমাদের এই ঐতিহাসিক অর্জন, তাদের সবাইকে আমি এই দিনে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
আরও পড়ুন: ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন করে জুলাইয়ের চেতনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে: রাষ্ট্রপতি
তিনি বলেন, আজ আমি স্মরণ করছি সেই সব সাহসী তরুণ, শ্রমিক, দিনমজুর ও পেশাজীবীদের, যারা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে মোকাবিলা করতে গিয়ে শাহাদত বরণ করেছেন। গণ-অভ্যুত্থানে শাহাদত বরণকারী সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আহত সকল জুলাই যোদ্ধা, চিরতরে পঙ্গু হওয়া ও দৃষ্টিশক্তি হারানো সকল জুলাই যোদ্ধাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন অধ্যাপক ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, টানা ১৬ বছরের স্বৈরাচারী অপশাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত বিস্ফোরণ ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল— একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারমুক্ত নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে রাষ্ট্রকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরে এ সকল লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল খাতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচারের কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। জুলাই শহিদদের স্মৃতি রক্ষা ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ড. ইউনূস বলেন, আমাদের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে রাজনৈতিক ও নির্বাচন ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সকল সংস্কারে রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলমান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে অন্তর্বর্তী সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
মন্তব্য করুন


ধার করে নয়, বরং দেশের রিজার্ভ নিজেদের সক্ষমতাতেই বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইআরএফ মিলনায়তনে ব্যাংকিং সেক্টর রিফর্ম, চ্যালেঞ্জ এবং করণীয় শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ প্রায় ৩৬ শতাংশ, যা হয়ত পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি। আমরা কোন তথ্য গোপন করিনি। তবে ডিসেম্বরে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ স্বাধীনতা দরকার বলেও জানান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আন্দোলন করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার যাতে তাদের সময়ে এটা করে যেতে পারে, তাই আমরা চাই।’
আসন্ন ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার কোন সম্ভাবনা জানিয়ে তিনি বলেন, ধার করে বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে অর্থ নিয়ে রিজার্ভ বাড়ানো দরকার নেই। আমাদের রিজার্ভ আমাদেরই বাড়াতে হবে। আমাদের লক্ষ্য চলতি বছরে ৩৪-৩৫ বিলিয়নে রিজার্ভ নিয়ে যাওয়া।
এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ বলছে, গত ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩২৪৮২ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২৭৮১৭ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
মন্তব্য করুন


সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের কাছে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় লন্ডনের দ্য লন্ডন ক্লিনিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান আব্বাস দম্পতি। সাক্ষাতের পর গণমাধ্যমে সেই বিষয়ে তারা বিস্তারিত জানান।
মির্জা আব্বাস বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে খালেদা জিয়া সঠিক চিকিৎসা পাননি। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার সম্পর্কে নানা বাজে মন্তব্য করতেন। তবে এখন তিনি ভালো আছেন। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। আমরা আশা করি, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের সেরা চিকিৎসকদের অধীনে তার চিকিৎসা চলছে। মানসিকভাবে তিনি সব সময় শক্ত ছিলেন এবং এখনো ভালো আছেন। আমরা তার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা করিনি। শুধুমাত্র তার স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলেছি। তবে তিনি আমাদের দেশের মানুষ ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।”
তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক নির্দেশনা পাওয়া গেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, “আমি প্রতি সপ্তাহেই তার সঙ্গে অফিসিয়ালি কথা বলার সুযোগ পাই। নির্দেশনা আমরা সেখান থেকেই পেয়ে থাকি। তবে এই সফরে কোনো রাজনৈতিক নির্দেশনা পাইনি।”
আফরোজা আব্বাস বলেন, “খালেদা জিয়া আমাকে নাতি-নাতনিদের খোঁজখবর নিয়েছেন। দেশের পরিস্থিতি ও মহিলা দলের সদস্যরা কেমন আছেন, সেটাও জানতে চেয়েছেন। তিনি দেশের মানুষ সম্পর্কে খুবই চিন্তিত। আমরা আশা করছি, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে দেশে ফিরবেন।”
এ সময় যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এমএ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মির্জা আব্বাস ও আফরোজা আব্বাস দম্পতি গত শুক্রবার লন্ডনে পৌঁছান।
মন্তব্য করুন


সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহবাহী ফ্লাইটটি অবতরণ করে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে তাদের নামাজে জানাজা।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এরপর তাদের নিজ নিজ ঠিকানায় হেলিকপ্টারে করে পাঠিয়ে যথাযথ সামরিক মর্যাদায় দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
আইএসপিআর জানায়, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সংঘটিত বর্বরোচিত সন্ত্রাসী ড্রোন হামলার ঘটনায় শাহাদাৎ বরণকারী ৬ জন শান্তিরক্ষীর মরদেহ শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে দেশে প্রত্যাবর্তন করে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম বিমানবন্দরে শান্তিরক্ষীদের মরদেহ গ্রহণ করেন।
এছাড়াও মরদেহ গ্রহণকালে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান; বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি; আবেইতে মোতায়েনরত জাতিসংঘ মিশন ইউনিসেফ এর ফোর্স কমান্ডারের প্রতিনিধি, চিফ কমিউনিটি লিয়াজোঁ অফিসার; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি (ইউএন); ওভারসিজ অপারেশন পরিদপ্তরের পরিচালক; ঊর্ধ্বতন সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। মরদেহ গ্রহণের সময় সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং সব সামরিক ব্যক্তি শাহাদাতবরণকারীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে স্যালুট দেন।
আইএসপিআর আরও জানায়, রোববার ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠান শেষে তাদের নিজ নিজ ঠিকানায় হেলিকপ্টারে করে পাঠিয়ে যথাযথ সামরিক মর্যাদায় দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
উল্লেখ্য, সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় ৬ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হওয়ার পাশাপাশি ৯ জন শান্তিরক্ষী আহত হন, যাদের মধ্যে ৮ জন কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অবস্থিত আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে (লেভেল–৩ হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে সবাই শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
মন্তব্য করুন