

ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী আবারও যদি বিশৃঙ্খলা বা অপরাধ করার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণই তাদের প্রতিরোধ করবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বেশ কয়েকটি ফেসবুক পেজে লক্ষ্য করা যাচ্ছে আগামী ১৩ নভেম্বর ফ্যাসিবাদের পক্ষ থেকে আন্দোলন বা ব্লকেডের হুমকি দেওয়া হচ্ছে-এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা বলেন আইজিপি।
আইজিপি বলেছেন, ফ্যাসিবাদ সরকার পালিয়ে গেছে গণমানুষের প্রতিরোধে। গত বছর ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে তাদের উৎখাত হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী যদি দেশে আবার বিশৃঙ্খলা বা অপরাধ করার চেষ্টা করে তাহলে জনগণই তাদের প্রতিরোধ করবে। দেশের জন্য, জনগণের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে এবং করে চলেছে। যেসব ফেসবুক পেজ থেকে পলাতক ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে, সেই পেজগুলোকে নিয়ে গোয়েন্দারা কাজ করছে।
আইজিপি আরও বলেন, আমাদেরকে আইন মান্যতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। ৯০ শতাংশ মানুষকে আইন-কানুন মানতে হবে, নিয়ম মাফিক চলতে হবে। বাকি ১০ শতাংশ না হয় আইন মানবে না । তাদের মোকাবিলায় নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ কাজ করবে। কিন্তু আগে তো ৯০ শতাংশ মানুষকে আইন মানতে হবে।
নির্বাচন চলাকালে দেশের কোথাও কোনো ভোটকেন্দ্রে সন্ত্রাসীরা প্রবেশ করে ভোট বানচাল করার চেষ্টা করলে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিরোধের ব্যবস্থা কী ধরনের হতে পারে—এ প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, দেশবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্যই আসলে আমরা তৈরি হচ্ছি। আমাদের এখনকার সব কর্মকাণ্ড এটাকে ঘিরেই। দেশে এই প্রথম নির্বাচনের নিরাপত্তা বিষযে পুলিশের ট্রেনিং চলছে। কারণ, এটা এমন একটা দায়িত্ব যার ওপর দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ এবং ভাগ্য নির্ভর করছে। আমরা এই দায়িত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।
তিনি আরও বলেন, জনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ফৌজদারি কার্যবিধিতে বিস্তারিত বলা আছে—নির্বাচন বানচালের চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনসঙ্গতভাবে যতটুকু যাওয়া দরকার, আমরা ততটুকুই যাব। নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনুমানিক দেড় লাখ পুলিশ নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হলে দেশের অর্থনীতি কতটা চাঙ্গা হবে এবং স্থানীয়রা কতটা উপকৃত হবে তা বিবেচনায় নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমাদের প্রথমে ভাবতে হবে ফলাফল কি হবে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে একটি প্রকল্প নেওয়ার পরে জনগণ কতটা উপকৃত হবে। আমাদের দেশের উন্নয়ন এমনভাবে করতে হবে যাতে আমাদের সক্ষমতা বাড়বে এবং অন্যের উপর নির্ভরশীলতা কমবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে স্মার্ট বাংলাদেশ-২০৪১ বিনির্মাণে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কার্যক্রমের রূপরেখা সংক্রান্ত উপস্থাপনা অবলোকনকালে এ কথা বলেন।
রূপরেখা প্রত্যক্ষ করার পর, প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়াতে এবং প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব কে এম সাখাওয়াত মুন এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের কতটা উন্নয়ন হবে এবং মানুষ কতটা উপকৃত হবে তা আপনাদের বিবেচনা করতে হবে। দ্রুত কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে বলে দেশবাসী এর সুফল পাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা একটি লক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। তিনি আরো বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর তার সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল জনগণের জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির করে আমরা সফলভাবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। তার সরকার রূপকল্প ২০২১ ঘোষণা করেছিল এবং উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভের মধ্যদিয়ে সফলভাবে তা বাস্তবায়ন করেছে। এখন আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট দেশে রূপান্তর করা। আমরা সেই রূপকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি।
এসময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, অতীতের অনেক নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনী মাঠের পরিবেশ বেশ চমৎকার। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো শঙ্কা প্রকাশ করা হয়নি। প্রার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগ কমিশনের কাছে আসছে এবং সেগুলোর ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, গত ৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মোট ১৪৪টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
এ সময় ৯ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং ৯৪টি মামলা করা হয়েছে।
এনসিপি ও জামায়াতের অভিযোগ প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, এসব অভিযোগ নির্বাচন কমিশন গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা ধরনের আশঙ্কা থাকতে পারে, তবে নির্বাচন কমিশনের দৃঢ় বিশ্বাস—আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসে অন্যতম একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটারদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
ভোট ব্যবস্থাপনায় নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং কাঙ্ক্ষিত সময়ের মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
এ সময় কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনো তথ্য নেই বলেও স্পষ্ট করেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
মন্তব্য করুন


পুলিশের ওপর হামলা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে রাজস্ব খাতে কেনা ২০টি নতুন গাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, একটি মহল নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়। তারা ঝটিকা মিছিল করছে। তবে ২৪৪ জনকে হাতেনাতে ধরার পর থেকে এসব মিছিলের সংখ্যা কমে এসেছে। অপরাধের হারও কমছে।
তিনি বলেন, যদি সবাই সহযোগিতা করেন, তাহলে এগুলো একসময় পুরোপুরি কমে যাবে। যখন দেশ নির্বাচনের মুডে ঢুকে যাবে, তখন অপরাধ আরো কমে আসবে। কারণ, তখন প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়ে যাবে।
পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সংখ্যাটা আগে থেকে একটু কমেছে। কিছুদিন আগে নরসিংদীতে পুলিশের ওপর হামলার একটা ঘটনা ঘটেছে। তবে এটাও ধীরে ধীরে কমে আসবে।
গতকাল মঙ্গলবার পুলিশের ওপর হামলার প্রতিবাদে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন একটি বিবৃতি দিয়েছে—এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘জনগণ এখন সচেতন হচ্ছে। আপনারা (মিডিয়া) যেভাবে প্রচার করছেন, এটা আমাদের জন্য ভালো। জনগণ যখন বুঝবে, এসব কাজ খারাপ, তখন নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’
নির্বাচন সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের সময় সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব থাকে নির্বাচন কমিশনের, এরপর প্রশাসনের, তারপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর। আর বড় ভূমিকা থাকে রাজনৈতিক দলগুলোর।
তারা নমিনেশন দিলে কিছু সমস্যা দেখা দেয়, তবে সবাই মিলে কাজ করলে নির্বাচন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ হবে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর ভিসা সেন্টার দিল্লি থেকে সরিয়ে ঢাকায় অথবা প্রতিবেশী কোনো দেশে স্থানান্তরের অনুরোধ করেছেন।
সোমবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে ১৫ জন প্রতিনিধি তাদের মতামত তুলে ধরেন। বৈঠকে শ্রম অধিকার, বাণিজ্য সুবিধা, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে উভয়ের অঙ্গীকার ও করণীয় সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসে গোটা মাসজুড়ে আমরা বিজয় উদযাপন করি। বিজয়ের মাসে আপনাদের সঙ্গে এমন একটি ইন্টার্যাক্টিভ আলোচনায় অংশ নিতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। ’
বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় তিনি গত ১৬ বছর ধরে অত্যাচার, শোষণ, বলপূর্বক গুম, মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্পর্কে সংক্ষেপে কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রের বিষয় উল্লেখ করে দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং ব্যাংকিং সিস্টেমকে কীভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছিল সেসব কথা জানান।
বাংলাদেশ সম্পর্কে ব্যাপক আকারে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আমরা এই মিসইনফরমেশন ঠেকাতে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করি।
মন্তব্য করুন


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কাজ শুরু করেছে, নিঃসন্দেহে তারা ইতোমধ্যে অনেক ভালো কাজ করেছে। আমাদেরকে পথ দেখাচ্ছেন।
শনিবার (২১ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের আগে ও পরের ঘটনার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা আশ্বস্ত হচ্ছি যে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হবে। তার মাধ্যমে আমাদের আশাগুলো কিছুটা হলেও পূরণ করার সুযোগ হবে। আশা করব, আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো, ফ্যাসিবাদবিরোধী আমরা সবাই একজোট হয়ে একসঙ্গে তাদেরকে সহযোগিতা করব। আমাদের যে লক্ষ্য, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় পৌঁছাতে পারব।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে বেশ কয়েকটি নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি হচ্ছে, একটা গুরুত্বপূর্ণ দল (এনসিপি) সম্ভবত কাল (রবিবার) নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে যাবে। আমরা তাদেরকে স্বাগত জানিয়েছি। তাদের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা প্রত্যাশা করি, এই তরুণেরা, এই নবীনেরা যারা বিগত আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নিয়েছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে কাঙ্ক্ষিত সেই লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে।’
সংস্কার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান জানিয়ে দলের মির্জা ফখরুল বলেন, কতগুলো বিষয়ে একমত হয়েছি, কতগুলো বিষয়ে একমত হচ্ছি না। যতগুলো বিষয়ে একমত হওয়া যাবে, সেগুলো আমরা বাস্তবায়ন করব। যেগুলোতে একমত হবে না, নির্বাচনের পরে সেগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা করব, ওই বিষয়গুলো আমরা একমত হব।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানার মামলায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদাকে ফের ৪ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিন রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার এসআই শামসুজ্জোহা সরকার আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। নূরুল হুদাকে দুপুর আড়াইটার পর আদালতে আনা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী আসামির সর্বোচ্চ রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন। পরে আদালত ওই রিমান্ড আদেশ দেন।
এই মামলায় এর আগে গত সোমবার নূরুল হুদার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। সেদিন শুনানি নিয়ে তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
গত রোববার সন্ধ্যার দিকে ‘মব’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতার বিশৃঙ্খলা) তৈরি করে নূরুল হুদাকে হেনস্তার পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে পুলিশ জানায়, বিএনপির করা একটি মামলায় নূরুল হুদাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
প্রহসনের নির্বাচন করার অভিযোগে গত রোববারই ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন খান।
মামলায় ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, ২০১৮ সালের নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি কেএম নূরুল হুদা ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে আসামি করা হয়।
এ মামলায় হাবিবুল আউয়ালকে গত বুধবার গ্রেফতার করা হয়। মামলায় তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে গতকাল (বৃহস্পতিবার) আদেশ দেন আদালত।
মন্তব্য করুন


লুটের টাকা সরাসরি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
সোমবার (১৯শে মে) এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানায় প্রেস সচিব।
প্রেস সচিব জানায়, ‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, লুটের টাকা ম্যানেজমেন্টে একটি ফান্ড গঠনের জন্য। এই অর্থ ডিপোজিটর এবং একইসঙ্গে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ব্যয় হবে।’
তিনি আরও জানান, ‘লুটের অর্থের পরিমাণ অনেক। এটি বাজেট বা অন্য কোনো খাতে না এনে পুরোপুরি দরিদ্র জনগণের জন্য ব্যবহারের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।’
এছাড়াও বৈঠকে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
উল্লেখ্য, পতিত আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে পাচার ও লুট হওয়া অর্থ ফেরাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এরইমধ্যে বেশ কিছু জায়গা থেকে লুট ও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়াও মিলেছে। আর দেশে সাবেক সরকারের সুবিধাভোগীদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। আর সেই অর্থই এবার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ব্যয় করার কথা জানাল সরকার।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দুর্নীতি দূর করবেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে তিনি এই কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় সিন্ডিকেটকে নির্মূল করতে পেরেছি।
রিজার্ভ বৃদ্ধিসহ গেল এক বছরে অনেক অর্জন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে দুর্নীতি দূর করবো।
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচনের আগে চাকরির জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবো, জ্বালানি সংকট দূর করার মধ্যমর্তী ধাপে উত্তীর্ণ হতে পারবে।’
মন্তব্য করুন


মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের কাজে চুক্তিগত অনিয়ম, দরপত্রে কারসাজি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। রোববার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অবকাশকালীন বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
অন্য আসামিরা হলেন—সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের ও আনিসুল হক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব ফারুক জলিল, উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রধান প্রকৌশলী ফিরোজ ইকবাল ও ইবনে আলম হাসান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আফতাব হোসেন খান ও আবদুস সালাম এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল।
এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক তানজিল হাসান এ আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ১২ অক্টোবর দুদক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১৬ সালে সিএনএসকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দিতে আগের দরপত্র ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বাতিল’ করা হয়। এরপর ‘একক উৎসভিত্তিক’ দরপত্র আহ্বান করে কেবল সিএনএসের সঙ্গে আলোচনা করে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি করা হয়।
টাকার অঙ্ক নির্ধারণের পরিবর্তে মোট টোল আদায়ের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে (ভ্যাট ও আয়কর বাদে) সার্ভিস চার্জ ধার্য করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০-১৫ মেয়াদে একই সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্বে ছিল এমবিইএল-এটিটি। তারা টোল আদায়ের কাজটির জন্য মাত্র ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা নিয়েছিল। এরপর সিএনএসের পর ২০২২-২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে ৬৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় টোল আদায়ের কাজটি দেওয়া হয়, যা পাঁচ বছরে রূপান্তর করলে দাঁড়ায় ১১২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
এর তুলনায় সিএনএস একই মেয়াদের জন্য প্রায় পাঁচ গুণ বেশি বিল তোলে এবং তথাকথিত ‘নতুন প্রযুক্তি স্থাপন ও অবকাঠামো ব্যয়’ বাবদ আরো ৬৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা দাবি করে। এভাবেই সরকারের মোট আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩০৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, যা দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময়ে নতুন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৩৯ জন। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫৭ জন এবং শনাক্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৫৮ জনে।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে চারজন, খুলনা বিভাগে দুজন এবং বরিশাল বিভাগে একজন রয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৬২ জন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ১৩০ জন। এর বাইরে (সিটি করপোরেশন বাদে) ঢাকা বিভাগে ২১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪৯ জন, খুলনা বিভাগে ১০১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩১ জন, বরিশাল বিভাগে ৭৭ জন, রংপুরে ২৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫১ জন ও সিলেট বিভাগে তিনজন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
প্রতি বছর বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। গেল বছর দেশে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে ঢাকায় এক লাখ ১০ হাজার ৮ জন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন দুই লাখ ১১ হাজার ১৭১ জন।
মন্তব্য করুন