

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশে এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ শতভাগ অনুকূলে রয়েছে। রোববার দুপুরে রাজধানীতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কোনো অনিশ্চয়তা নেই। নির্বাচন নিয়ে কমিশনের কাছে প্রতিকূল পরিস্থিতির তথ্য আসেনি। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিরপেক্ষতা ও যৌক্তিক বিষয় বিবেচনা করে সীমানা নিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছি।
তিনি আরও জানান, ভোটারসংখ্যার ভিত্তিতে জেলা পর্যায়ে গড় ও মোট সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোথাও জনসংখ্যা, কোথাও ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং কোথাও প্রশাসনিক দিককে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তবে শতভাগ একভাবে করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভোট কি হবে? এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে ইসি আনোয়ারুল বলেন, এই প্রশ্ন আমাকেও অনেকে করে। ভোট হবে বলেই আমরা রোডম্যাপ ঘোষণা করেছি।
রাজনৈতিক দল নিবন্ধন প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রায় সব রিপোর্ট কমিশনের হাতে এসেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে দলগুলোর নাম নিয়ে আপত্তি জানাতে সুযোগ রাখা হবে।
সংবিধান ও বিদ্যমান আইন নিয়ে বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত আরপিও সংশোধনী আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের পরই চূড়ান্ত হবে। অন্য কোনো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু থাকলে তা সমন্বয় করা হবে।
মন্তব্য করুন


খুব শিগগির জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
রোববার (৫ অক্টোবর) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশন সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক বৈঠকে এ কথা জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি এ তথ্য জানান।
বৈঠকের বরাত দিয়ে তিনি জানান, প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জুলাই সনদের বিষয়বস্তু ও এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোভাব ও এ বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের অবস্থান সম্পর্কে সভাকে অবহিত করা হয়।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঐকমত্য কমিশনের কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ঐকমত্য কমিশন সব রাজনৈতিক দল থেকে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা পেয়েছে। এছাড়া গণমাধ্যমগুলো ঐকমত্য কমিশনকে অকল্পনীয় সমর্থন দিয়েছে।
কমিশন সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ ও শুভ কামনা জানিয়েছেন। কমিশনের কাজের চূড়ান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
কমিশনের পক্ষ থেকে বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, কমিশন সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আসিফ নজরুল ও আদিলুর রহমান খানও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের আইন ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বিচার বিভাগ শেখ হাসিনার দাসে পরিণত হয়েছিল।
সোমবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর কাকরাইলে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ২০২৪ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমিন।
গত ১৬ বছরে সরকারি ও বেসরকারি খাতে দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে আসিফ নজরুল বলেন, "দুদক ছিল, উচ্চ আদালত ছিল, কিন্তু বিচার হয়নি। তবে বিচার হয়েছে খালেদা জিয়ার।"
বিচার না হওয়ায় দুর্নীতি সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "দুদকে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।"
দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন বলেন, "সৎ প্রজন্ম তৈরি করতে পারলে দুর্নীতিবিরোধী সমাজ গঠন করা সহজ হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেবল প্রতিকারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ নয়, বরং সবার মনে দুর্নীতিবিরোধী চেতনা জাগ্রত করতে হবে।"
মন্তব্য করুন


২০২৪ সালকে বিদায় জানিয়ে শুরু হলো নতুন বর্ষ ২০২৫। মহাকালের স্রোতে হারিয়ে গেল আরও একটি বছর। দুঃখ-কষ্ট ভুলে, নতুন স্বপ্ন আর আশা নিয়ে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি ২০২৫ সালকে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নানান আয়োজনের মাধ্যমে ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিটে শুরু হয় নববর্ষ উদযাপন।
বিদায় মানেই স্মৃতি আর অনুভূতির মিশ্র আবেগ। একটি বছরের গল্প যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে যায়। বিদায়ী বছর নিয়ে আসে আনন্দ-বেদনার মহাকাব্য। আজকের ভোরের সূর্য নতুন দিনের বার্তা নিয়ে এসেছে। গেল বছরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘটেছে নানান ঘটনা। কিন্তু জীবন চলছে তার আপন গতিতে, আর মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে নতুন স্বপ্ন আর আশার আলোয়।
পুরোনো বছরের গ্লানি ভুলে, নতুন বছরের উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে মানুষ। বিশেষত, ৩১ ডিসেম্বরের রাতটি ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ হিসেবে উদযাপন করে বিভিন্ন দেশ। এই উৎসবের আনন্দ বাংলাদেশেও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
২০২৪ সালের সব কষ্ট আর হতাশা পেছনে ফেলে, ২০২৫ সালের নতুন প্রত্যাশা ও উদ্দীপনায় মধ্যরাতের ১২টা ১ মিনিটে বিশ্বজুড়ে শুরু হয় নববর্ষ উদযাপন। দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, বিভিন্ন কর্মসূচি ও আনন্দ আয়োজনে অংশ নেয়।
এদিকে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূস ইংরেজি নববর্ষ ২০২৫ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভ কামনা বিনিময়ে মেতে উঠেছে দেশের মানুষ। প্রিয়জনদের কাছে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বছরের আনন্দ উদযাপন।
মন্তব্য করুন


সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ টি এম শামসুল হুদা মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার সকাল ৯টায় ৮৩ বছর বয়সে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে স্ত্রী ও এক মেয়ে রেখে গেছেন তিনি।
শামসুল হুদার ভগ্নিপতি আশফাক কাদেরী তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সকাল ৯টায় গুলশানের নিজ বাসা থেকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ মর্গে রয়েছে।’
এ টি এম শামসুল হুদা সিইসি হিসেবে ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করেন। এর আগে তিনি ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। পরে দেশ স্বাধীন হলে তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। ২০০০ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন।
চাকরি জীবনে তিনি বাগেরহাটে মহকুমা প্রশাসক (সাব ডিভিশনাল অফিসার), পানি সম্পদ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
মন্তব্য করুন


নির্বাচনের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি চলমান। উৎসবমুখর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোটের প্রেক্ষাপটে সব ধরনের পূর্ব প্রস্তুতিই এগোচ্ছে— এমনটাই জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এ কথা বলেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি খুবই ভালো। সব বাহিনী তাদের প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা জানুয়ারির মধ্যেই শেষ হবে। সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বডি ক্যামেরা থাকবে। যাতে প্রতিটি কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহ থাকে, তা নিশ্চিত করা হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের আগে খুন-অপরাধ বন্ধ হয়ে যাবে না। আমার কাছে তো ম্যাজিক নেই, বলবো যে লাইট অফ বন্ধ হয়ে যাবে আর তা হয়ে গেল। ব্যাপারটা এমন না।
জাতীয় পার্টি ইস্যুতে উপদেষ্টা বলেন, সব রাজনৈতিক দল এখন মাঠে। অনেকে বের হতে চায় না, ঘরে বসে রাজনীতি করতে চায়। তাদের পার্টি অফিস নিয়ে সমস্যা আছে।
এ সময় রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


কাতারের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২৩ এপ্রিল) দোহায় অনুষ্ঠিত 'কাতার-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগের সুযোগ' শীর্ষক এক সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
ড. ইউনূস তার বক্তব্যে বলেন, "বাংলাদেশ বর্তমানে নতুন উদ্যমে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে এবং তা ব্যাপক পরিসরে সম্প্রসারিত হচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত 'নতুন বাংলাদেশ' গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছে।
তিনি নরওয়ের টেলিনর কোম্পানির সাফল্যের উদাহরণ টেনে বলেন, "এটি বাংলাদেশে তাদের সবচেয়ে লাভজনক বিনিয়োগে পরিণত হয়েছিল। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।"
অনুষ্ঠানে জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ফওজুল কবির খান জানান, বর্তমান সরকার গত বছরের নভেম্বর মাসে দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩.২ বিলিয়ন ডলার, যা এখন কমে ৬০০ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে কাতার এনার্জির ২৫৪ মিলিয়ন ডলার বকেয়া সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী কাতারি বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামনে দেশে বিনিয়োগের সুযোগ ও সরকারের সংস্কার কর্মসূচি উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী বক্তব্য দেন কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম।
মন্তব্য করুন


পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আজ থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাদের সর্বাত্মক অভিযান শুরু করেছে। এই সময়ে ডিবি পরিচয়ে কাউকে তুলে নেওয়া বা বাসায় তল্লাশি করার চেষ্টা করা হলে, তা ডিবিকে জানানোর অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।
শনিবার (১ মার্চ) বেলা ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) রেজাউল করিম মল্লিক এসব তথ্য জানান।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা প্রধান রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, মহানগর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে রয়েছে। এই সময়ে মার্কেট, শপিংমল, বাস টার্মিনালসহ ঢাকার প্রবেশদ্বারগুলোতে সাধারণ মানুষের চাপ বেড়ে যায়। এসব এলাকায় যাতে কোনোভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেজন্য ছদ্মবেশে ডিবির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও বলেন, রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বিশেষ অভিযানে আজ থেকে মাঠে নেমেছে। এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলবে।
ঢাকা মহানগরসহ দেশবাসীকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, ডিবি পুলিশ সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে এবং অপরাধীদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডিবির গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, অপরাধীদের মধ্যে একটি বড় অংশই ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী। পতিত সরকারের কিছু লোকজন কিশোর গ্যাং সদস্যদের দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছেন বলেও তথ্য রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার (ডিবি দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম, ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার (ডিবি উত্তর) মোহাম্মদ রবিউল হোসেন ভূঁইয়া, ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার (সাইবার সিকিউরিটি) সৈয়দ হারুন অর রশীদ ও ডিএমপির মুখপাত্র উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
মন্তব্য করুন


নির্বাচনের ওপর দেশের গণতন্ত্রের গতিপথ নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র কোন পথে হাঁটবে, সেটি নির্ভর করছে আগামীর নির্বাচনের ওপর। এই নির্বাচনকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। গতানুগতিকভাবে এই নির্বাচন করলে হবে না।
সোমবার দুপুরে রাজধানীতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তা ছাড়া সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন সম্ভব নয়। যতই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করি না কেন।
সিইসি বলেন, রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা ছাড়া কখনো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব নয়। ১০ লাখ লোক নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন। যারা জেলে আছেন এবং প্রবাসীদের জন্যও এবার অ্যাপে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৬ নভেম্বর আমরা পোস্টাল ব্যালটের অ্যাপ লঞ্চ করব। পোস্টাল ব্যালটে নির্বাচনি দায়িত্বে যারা থাকবেন তারা ভোট দেবেন। আপনাদের বাড়ির ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পৌঁছে যাবে।
এআই ব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, এআই অপব্যবহার রোধে আমরা একটা সেল খুলেছি। সেখানে যোগাযোগ করে আপনারা যেকোনো ঘটনার সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন


আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণের একপর্যায়ে বলেন, আমরা সকল বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।
জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নও নির্ধারণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি প্রশ্নটি এখন আপনাদের সামনে পাঠ করে শোনাচ্ছি। প্রশ্নটি হবে এ রকম—
আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?
ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছেসেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে ভোটাররা মতামত জানাতে পারবেন। গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হবার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্তভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরায়েলকে আরও বোমা সরবরাহ করতে বাইডেন প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি এই যুদ্ধের সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে আণবিক বোমা ব্যবহারের তুলনা করেন।
লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, পার্ল হারবারের আক্রমণের পর আমরা নাগাসাকি ও হিরোশিমায় যেভাবে জবাব দিয়েছিলাম, ইসরায়েলেরও তেমন টা করা উচিত। তাদেরকে সেই বোমা সরবারহ করা উচিত।
সম্প্রতি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার রাফাহ সীমান্তে বারবার নিষেধের পরও ইসরায়েলে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করায় তাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানো বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই মার্কিন প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শেষ পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে একাধিক ধরনের বোমার সরবরাহ বন্ধ রাখছে বাইডেন প্রশাসন, যেগুলি দিয়ে ইসরায়েল গাজার শহরাঞ্চলে আক্রমণ চালাতে পারে।
বোমা সরবরাহ সীমিত করা ও রাফাহ সীমান্তে অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়েছে। তবে ইসরায়েলের কট্টর সমর্থন লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি বলেন, এই যুদ্ধে ইসরায়েলের জয় নিশ্চিতে পর্যাপ্ত বোমা সরবরাহ করা উচিত। কোনোভাবেই তাদের হারতে দেওয়া যাবে না।
গত বছরের ৭ অক্টোবর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েল অভিমুখে হাজার হাজার রকেট ছুড়ে মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এতে ইসরায়েলে নিহত হন এক হাজার ৪০০ জন। এরপরেই বছরের পর বছর ধরে গাজায় চলা সামরিক পদক্ষেপ জোরাল করে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে প্রাণ হারিয়েছে ৩৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি, আহত ৭৪ হাজারেরও বেশি। হতাহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক। এমন অবস্থায় বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন