

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে বোরো ধানের চাল আসতে শুরু করবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নতুন ধান ওঠার পর চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) ভোজ্যতেলের আমদানি, সরবরাহ ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে এক সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, "দুর্ভাগ্যবশত গত কয়েক মাস ধরে চালের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। তবে দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে বোরো ধানের চাল আসবে। বিশেষ করে নাজিরশাইল বা মিনিকেট জাতের চাল বোরো মৌসুম থেকেই সরবরাহ করা হয়।"
তিনি আরও বলেন, "এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে ছিল, বিদ্যুতের সরবরাহও ভালো ছিল। পাশাপাশি সারের পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করা গেছে। আমরা আশা করছি, আল্লাহর রহমতে এবারের ফসল ভালো হবে এবং ধানের উৎপাদন বাড়বে। নতুন ফসল বাজারে আসার পর চালের দাম স্থিতিশীল হবে।"
কৃষিপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কৃষিপণ্যের বাজার গতিশীল। তবে আমরা সব পণ্যের দিকেই সতর্ক নজর রাখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।"
এ সময় ট্রাম্পের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "এ বিষয়টিই এখন প্রধান বিবেচ্য।"
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নতুন উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও মানবাধিকারকর্মী চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি. আর. আবরার)। বুধবার (৫ মার্চ) বেলা ১১টা ৬ মিনিটে রাজধানীর রাষ্ট্রপতির বাসভবন ও কার্যালয় বঙ্গভবনে তাকে উপদেষ্টা হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয় বেলা ১১টায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, নবনিযুক্ত এই উপদেষ্টা শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এতদিন অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। নতুন উপদেষ্টা নিয়োগের পর তিনি শুধু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন। নতুন একজন উপদেষ্টা যুক্ত হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে প্রধান উপদেষ্টাসহ মোট উপদেষ্টার সংখ্যা দাঁড়াল ২৩ জন।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। ওই দিনই মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত হয়। পরদিন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন। এরপর ৮ আগস্ট শপথ নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ওই সময় ১৬ জন উপদেষ্টা নিয়োগ পান। তবে ঢাকা ও দেশের বাইরে থাকায় তিনজন উপদেষ্টা ওই দিন শপথ নিতে পারেননি। তারা পরে শপথ নেন। এরপর আরও চারজন উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারে যুক্ত হন। সর্বশেষ ১০ নভেম্বর তিনজন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর বিমান ও পর্যটন এবং ভূমি উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ মারা যান। সর্বশেষ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করেন। এরপর সরকারে প্রধান উপদেষ্টাসহ মোট উপদেষ্টার সংখ্যা দাঁড়ায় ২২ জন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
গত ১৫ বছরে পুলিশ বাহিনীতে ৮০ থেকে ৯০ হাজার সদস্যকে রাজনৈতিক পরিচয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
সোমবার (৯ ডিসেম্বর) মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, গত ১৫ বছরে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগের আগে নানাভাবে তাদের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। নিয়োগ পার্থী কোন দলের, তার বাবা কোন দলের, দাদা কোন দলের এবং আরও পূর্বপুরুষ কোন দলের তা খবর নেওয়া হয়েছে। দুই লাখ পুলিশের মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ হাজার পুলিশ সদস্য এভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, এই ৮০ থেকে ৯০ হাজার পুলিশ সদস্যকে তো বলতে পারি না ‘গো হোম’ (বাসায় ফিরে যাও)। তবে যারা দুষ্টু, যারা পেশাদারত্বের বাইরে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাজ্জাত আলী আরও বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যখন পুলিশ ইনঅ্যাক্টিভ হয়ে পড়ে, তখন ঢাকা শহরে ডাকাতি, লুটপাট শুরু হয়। তখন ৮০ বছরের বৃদ্ধও লাঠি নিয়ে পাহাড়া দিয়েছেন। তখন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ট্রমার মধ্যে পড়ে যায়। এরপর সদ্যবিদায়ী ডিএমপি কমিশনারসহ অন্যরা পুলিশকে সক্রিয় করতে কাজ শুরু করেন।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরের প্রধান সমস্যা ট্রাফিক। এই শহরে বিপুল সংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। অটোরিকশা যদি বন্ধ না হয় তাহলে ঢাকা শহরের ঘর থেকে বের হলে আর হাঁটার জায়গা থাকবে না। মানুষের মুভমেন্ট বন্ধ হয়ে যাবে।
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে। ট্রাফিক আইন কেউ মানতে চান না। হকাররা ফুটপাত দখল করে নিয়েছেন। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছি। ট্রাফিক আইনে দ্বিগুণ হারে মামলা করা হচ্ছে। ঢাকাবাসীর সহযোগিতা ছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত হবে না।
ইদানিং ছিনতাইয়ের ঘটনা অহরহ হচ্ছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বিভিন্নভাবে আমাকে জানানো হয়েছে ছিনতাই বেড়েছে। ছিনতাই প্রতিরোধে ডিবি ও থানা পুলিশকে সক্রিয় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজি হচ্ছে, কিন্তু সমাজ থেকে প্রতিরোধ করা না গেলে চাঁদাবাজি বন্ধ করা কঠিন। আপনারা কেউ চাঁদা দেবেন না। আমরা পুলিশ জনগণের পাশে থাকবো।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঢাকা মহানগর পুলিশ পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় আমি ঢাকাসহ দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
তিনি বলেন, ডিএমপির ওই সময়ের অপেশাদার আচরণের কারণে বদলি ও দোষী সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


যারা খাল বা ভূমি দখল করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ভূমিদস্যুরা দেশ ও সমাজের শত্রু। তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া ঝাউবাড়ি এলাকায় শুভাঢ্যা খাল খনন ও সুরক্ষা কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একসময় এই খালটি সচল এবং প্রবাহমান ছিল। কিন্তু ভূমিদস্যুরা দখল করে এটিকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করেছে। আর কিছুদিন গেলে এই খালটি ফিরে পাওয়া যেত না। ভূমিদস্যুরা এটিকে রাস্তায় পরিণত করত।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, যে খাল দিয়ে মানুষ যাতায়াত করত এবং বুড়িগঙ্গা থেকে ধলেশ্বরী নদী পর্যন্ত পানি প্রবাহিত হতো, সেই খালটিকে আজ ভূমিদস্যুরা দখল ও দূষণ করে সর্বনাশ করেছে। যারা এই নির্দেশনা মানবে না, তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
মন্তব্য করুন


সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণ-আন্দোলনের মুখে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের পর, ওই বছরের ২৫ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করে বিচারপতি রউফ দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রধান উপদেষ্টা তার এই অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, "বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথচলায় বিচারপতি রউফ সর্বদা একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবেন। তিনি তার কাজের মাধ্যমে দেশের মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।"
প্রফেসর ইউনূস আরও বলেন, "বিচারপতি রউফ ছিলেন নাগরিক সমাজের এক বিশিষ্ট স্তম্ভ। ভোটাধিকার, সংস্কার এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি নিরলস পরিশ্রম করেছেন, যা জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।"
রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর মগবাজার ইনসাফ বারাকা কিডনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বিচারপতি আবদুর রউফ। গত দুই মাস ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন।
মন্তব্য করুন


লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা পড়ান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ৩টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা সম্পন্ন হয়।
জানাজায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার প্রবেশ পথ খুলে দেওয়া হয়। সকাল সোয়া ১০টার পর গেটটি খুলে দেওয়ার কয়েক মিনিটেই তা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (অব.) ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে যাতে কোনো ধরনের অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার না হতে পারে, এ জন্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার খুব জরুরি।
মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সেলের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পরে থানা থেকে লুট হওয়া ১৫ শতাংশ অস্ত্র ও ৩০ শতাংশ গুলি এখনো উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ইসি সানাউল্লাহ।
রেহিঙ্গাদের বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করেন এই ইসি সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, ক্যাম্পগুলো সিল করে দিতে হবে। স্থলসীমান্ত ও সাগরপথেও নজরদারি বাড়াতে হবে।
যাতে কোনোভাবেই দুষ্কৃতকারীরা এগুলো ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচন ভালো করতে না পারলে সবাইকে এর পরিণতি ভোগ করতে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি, বক্সসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট-স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব জায়গা থেকে ৫ হাজার ৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়।
মন্তব্য করুন


কারাগার থেকে পালানো বন্দীদের মধ্যে এখনো ৭০০ আসামি পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। তিনি আরো জানান, লুট হওয়া ২৯টি অস্ত্রও এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
কারা মহাপরিদর্শক জানান, ‘পালানোদের মধ্যে ৯ জন জঙ্গি, ৬৯ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত রয়েছেন।
বাকিরা বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। বর্তমানে কারাগারে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দী আছেন ১৬৩ জন। আরো ২৮ জন ডিভিশনের আবেদন করেছেন, তবে তার অনুমোদন পাননি।’
তিনি আরো জানান, কারাগারকেন্দ্রিক সংশোধন কার্যক্রমে গুরুত্ব দিতে বাংলাদেশ জেলের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ‘কারেকশন সার্ভিসেস বাংলাদে’। এ জন্য ‘কারেকশন সার্ভিস অ্যাক্ট-২০২৫’ খসড়া চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দীদের স্থান সংকুলানের জন্য নতুন করে দুটি কেন্দ্রীয় ও চারটি জেলা কারাগার চালু করা হয়েছে। এছাড়া সমন্বয় বাড়াতে ঢাকা বিভাগকে ভেঙে দুটি বিভাগ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মিছিল থেকে গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা আবারও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে জাপার কার্যালয়ে এই হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেন তারা।
এর আগে, গত ৩১ আগস্ট মিছিল নিয়ে একদল বিক্ষোভকারী কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
তখনও বিক্ষোভকারীরা কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে পুলিশ এসে হামলাকারীদের লাঠিপেটা করে সরিয়ে দেয়। হামলাকারীদের সরাতে ও কার্যালয়ের আগুন নেভাতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, জুলাই ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে অঙ্কিত গ্রাফিতি ‘জুলাই বীরত্ব’ ও ‘জুলাই আত্মত্যাগ’ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য তরুণ সমাজের আত্মত্যাগের কথা আমাদের জাতিকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিবে। শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের ম্যুরাল চত্বরে জুলাই ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে শহিদের স্মরণে অঙ্কিত গ্রাফিতি ‘জুলাই বীরত্ব’ ও ‘জুলাই আত্মত্যাগ’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট উপদেষ্টা বলেন, বিশেষ করে বর্তমান ও আগামী প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দিবে- জুলাইয়ের সেই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি আন্দোলন ছিল না, বরং ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। ছাত্রজনতার নেতৃত্বে সেই আন্দোলন গণমানুষের প্রত্যাশাকে একত্রিত করে জাতিকে নতুন দিশা দিয়েছিল।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে গ্রাফিতি অঙ্কনের এ উদ্যোগ তরুণ সমাজকে অনুপ্রাণিত করবে সত্য, ন্যায়, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের চেতনায় উজ্জীবিত হতে। আমাদের দায়িত্ব হবে তাদের এ ত্যাগকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা এবং একইসঙ্গে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তাদের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করা।
তিনি আরও বলেন, জুলাই পুনর্জাগরণ ও তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্তের ম্যুরাল চত্বরে জুলাই বিপ্লবের বীরত্ব ও আত্মত্যাগকে মূল উপজীব্য করে ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টার নির্দেশনা এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টার পরামর্শ অনুযায়ী গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়েছে। উপদেষ্টা বলেন, আজকের এ আয়োজন কেবল নিছক একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নয়, এটি ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার এক অনন্য প্রয়াস।
গ্রাফিতি অঙ্কন শিল্পীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শিল্পীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্মিত এই শিল্পকর্ম আমাদের ইতিহাসের অমূল্য সাক্ষী হয়ে থাকবে। তিনি এসময় আয়োজনকে সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সেতু বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মোছাম্মৎ মমতাজ বেগম, বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফাতেমা-তুল-জান্নাত ও পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম ও পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম পিপিএম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা পরে পদ্মা সেতুর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের ম্যুরাল চত্বরে জুলাই ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে অঙ্কিত গ্রাফিতির উদ্বোধন করেন। তাছাড়া তিনি মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের হলদিয়ায় পদ্মা নদীর পাশে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন প্রস্তাবিত পার্কের জায়গা পরিদর্শন করেন।
মন্তব্য করুন


গত বছরের জুলাই-আগস্টে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিং এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
ফাঁস হওয়া রেকর্ডিংটি যাচাই করে বিবিসি জানিয়েছে, শেখ হাসিনা তার নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার’ করার অনুমতি দিয়েছেন এবং ‘তারা (এসব বাহিনীর সদস্যরা) যেখানেই তাদের (আন্দোলনকারী) পাবে, তারা গুলি করবে’।
অজ্ঞাত একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের ফাঁস হওয়া অডিওটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ যে, তিনি সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের গুলি করার জন্য সরাসরি অনুমতি দিয়েছিলেন।
ফাঁস হওয়া অডিওটি সম্পর্কে জানেন এমন একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, গত ১৮ জুলাই নিজের সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে শেখ হাসিনা ওই ফোনালাপটি করেন। রেকর্ডিংয়ের কণ্ঠের সঙ্গে শেখ হাসিনার কণ্ঠস্বরের মিল শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।
বিবিসি আলাদাভাবে ইয়ারশটের অডিও ফরেনসিক এক্সপার্টদের দিয়ে এই রেকর্ডিংয়ের সত্যতা যাচাই করেছে এবং তারা এটিতে এডিট করার বা কোনো রকম পরিবর্তন করার কোনো প্রমাণ পায়নি। অডিওটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে এমন সম্ভাবনাও খুবই কম বলে তারা জানিয়েছে।
মানবাধিকার বা পরিবেশ রক্ষার ইস্যুতে অডিও সংক্রান্ত তদন্তের কাজ করে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইয়ারশট। তারা বলছে, ফাঁস হওয়া রেকর্ডিংটি সম্ভবত এমন একটি ঘরে ধারণ করা হয়েছিল যেখানে ফোন কলটি স্পিকারে বাজানো হয়েছিল। কারণ এতে স্বতন্ত্র টেলিফোনিক ফ্রিকোয়েন্সি এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছু শব্দ ছিল।
ইয়ারশটের বিশেষজ্ঞরা রেকর্ডিংজুড়ে ইলেকট্রিক নেটওয়ার্ক ফ্রিকোয়েন্সি বা ইএনএফ শনাক্ত করেছে, যে ফ্রিকোয়েন্সি অন্য একটি ডিভাইস থেকে অডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে প্রায়ই উপস্থিত থাকে।
এটি এমন এক সূচক যার মানে হলো অডিওটিতে হেরফের করা হয়নি।
তারা শেখ হাসিনার বক্তব্যে ছন্দ, স্বর এবং শ্বাসের শব্দ বিশ্লেষণ করেছে এবং ধারাবাহিক নয়েজের স্তরও শনাক্ত করেছে। অডিওতে কৃত্রিম কোনো পরিবর্তন আনার প্রমাণও খুঁজে পায়নি।
ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান বিবিসিকে বলেছেন, ‘রেকর্ডিংগুলো তার (শেখ হাসিনার) ভূমিকা প্রমাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এগুলো স্পষ্ট এবং সঠিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং অন্যান্য প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত।’
তিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন যেখানে শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে।
আওয়ামী লীগের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘বিবিসির উল্লেখ করা টেপ রেকর্ডিংটি সত্য কিনা তা আমরা নিশ্চিত করতে পারছি না’।
মন্তব্য করুন