

সংবিধান সংশোধন করতে হলে তা অবশ্যই সংসদে করতে হবে। এর বাইরে সংবিধান সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর নীলক্ষেতের আইসিএমএবি মিলনায়তনে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারগুলো এখনও আলোচনা হচ্ছে। সংবিধানের যদি কোনো সংশোধন করতে হয় তাহলে সেটা সংসদের মধ্য থেকে করতে হবে। সেটার জন্য ম্যন্ডেট জনগণের থেকে নিতে হবে প্রত্যেকটি দলকে। সেটি হতে হবে সংসদের মধ্যে।
তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যদি কোনো পরিবর্তন আনতে হয়, সংসদের বাইরে সেটা করার কোনো সুযোগ নেই। যারা বাংলাদেশের আগামীর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছে, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছে, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা সংসদীয় পদ্ধতিতেও বিশ্বাস করে না। তারা কোন পদ্ধতিতে যাবে তারা নিজেরাও জানে না।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন জরুরি উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা যতই সংস্কার করি, কোনো লাভ হবে না। যদি রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাতে না পারি, কোনো সংস্কার কাজে আসবে না। অপরের মতকে আমাদের সম্মান জানাতে হবে। সহনশীল হতে হবে। এর মাধ্যমেই দেশকে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে যেখানে ঐক্য দরকার, সেখানে ঐক্য করতে হবে।
ঐক্য এখনও অটুট আছে জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, অনেকেই বলছেন, দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য ছিল ৫ আগস্টের পরে তা অনৈক্য হয়ে গেছে। আমি তো কোনো অনৈক্য দেখতে পাচ্ছি না। প্রত্যেকটি দলের নিজস্ব দর্শন, চিন্তাভাবনা থাকবে। যেখানে আমরা একমত হতে পারবো সেখানে একমত হবো। বাকিটা জনগণের কাছে নিয়ে যেতে হবে। জনগণ হচ্ছে মালিক। তাদের কাছে নিয়ে যেতে হবে। তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদে পাস করতে হবে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সংস্কারের চলমান প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার জরুরি হয়ে পড়েছে।
আজ রোববার রাজধানীর শাহবাগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে বিএনপির মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জুলাই আমাদের জানিয়ে দিয়েছিল এই বাংলাদেশে আয়নারঘর থাকতে পারে না। জুলাই আয়নাঘর ধ্বংস করে দিয়েছে। আজ এই জুলাইয়ের নতুন দাবি, আমাদের সবার প্রত্যাশা হাসিনার বিচার। এই বিচারটা অনেক বেশি প্রয়োজন। হাসিনার বিচার দৃশ্যমান করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আমাদের জানিয়ে দিতে চায়, সংস্কারের চলমান প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই দেশে একটা জনগণের সরকার, একটা নির্বাচিত সরকার খুব বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, যদি বাংলাদেশে একটা স্বাভাবিক, সুন্দর, নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় তাহলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকারের নেতৃত্ব দেবে।
মন্তব্য করুন


দখলদার-চাঁদাবাজদের স্থান বিএনপিতে হবে না বলে জানান দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন। বহুদলীয় গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার মূলমন্ত্র বুকে ধারণ করে এই দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। গণতন্ত্রের মূলনীতিকে উর্ধ্বে তুলে ধরেই শত প্রতিকূলতা ও ঝড়-ঝাপটা অতিক্রম করে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে এসেছে। স্বজাতির সব ধর্ম ও বর্ণের সজ্জন মানুষ ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশায় যুক্ত ব্যক্তিরা এই দলের সদস্য হতে পারেন। সমাজবিরোধী কোনো ব্যক্তি, দখলবাজ, চাঁদাবাজদের স্থান এই দল বরদাশত করে না। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু দল যখনই এ ধরণের ঘটনা অবহিত হয় তখনই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করেনি।
রাজধানীয় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি জন্মলগ্ন থেকেই গণতান্ত্রিক সংবিধান ও সুশাসনের জন্য আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্মাণ করার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং এর জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম করে এসেছে। এই দল মনে করে একটি আদর্শ রাষ্ট্র ও সমাজে নেতৃস্থানীয় মানুষদের যোগ্যতা, দক্ষতা, ন্যায়পরায়ণতা, সৎ ও মানবিক গুণাবলী থাকা ব্যক্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিএনপি যতবারই ক্ষমতায় এসেছে ততবারই উল্লিখিত বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। জাতীয়তাবাদী শক্তির সমবেত ধ্বণীই হচ্ছে সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমান সময়ে নানাবিধ সামাজিক অপরাধের বিভিন্ন মাত্রার প্রকাশ দেখা যাচ্ছে। প্রশাসনিক স্থবিরতার কারণেই ‘মব কালচার’ এর প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবৈধ কালো টাকা এবং গোপন অপতৎপরতার প্রভাবে ‘মব কালচার’ এর নামে সমাজে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা চলছে। আবার অন্যদিকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বার্থান্বেষী মহল বিএনপির নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই পরিকল্পিত অপপ্রচার, অপতৎপরতা, কৃত্রিমভাবে তৈরী সামাজিক অশান্তি গণতন্ত্রের পথচলাকে বাধাগ্রস্ত করা এবং নির্বাচন পেছানোর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বলে জনগণ মনে করে। শেখ হাসিনার আমলে অদ্ভুত উন্নয়নের বয়ানের মতো এখন নির্বাচন পেছানো নিয়ে নানা ধরণের বয়ান দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে যারা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে দল থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দলের ভেতরে থেকে অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত হলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। ইতোমধ্যে বেশ কিছু নেতাকর্মীকে বহিষ্কার, অব্যাহতি প্রদান, পদ স্থগিত, কারণ দর্শাণোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, দলের পক্ষ থেকে এহেন চলমান সাংগঠনিক ব্যবস্থার বিষয়ে গণমাধ্যমে খুব একটা উল্লেখ করা হয়নি। উপরন্তু আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ঢিলেঢালা ভূমিকা রহস্যজনক। দলের পক্ষ থেকে বারবার অপরাধী ও বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও প্রশাসন নির্বিকার থাকছে। দুস্কতিকারিদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দল থেকে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলেও প্রশাসন কোনো সহযোগিতা করছে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন খুব একটা সক্রিয় হয়নি। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কেউ কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কলকাঠি নাড়ছেন বলে স্পষ্টত: প্রতীয়মান হয়। এ রকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে সমাজ-সংস্কৃতি, সভ্য আচরণ বিপন্ন হয়ে পড়বে। প্রশাসনিক এই নিষ্ক্রিয়তার কারণে জনগণের এখন জীবনমরণের প্রশ্ন। গণতন্ত্রের স্থায়ী পুনরুজ্জীবন ও ঐতিহাসিক সার্থকতা নির্ভর করছে রাষ্ট্র ও সমাজে শান্তি ও স্থিতির ওপর। আর এ ক্ষেত্রে দক্ষ প্রশাসন অতীব জরুরী। কিন্তু আওয়ামী আমলের কালো টাকা ও তাদের দোসরদের ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ তৎপরতার কারণে দুস্কৃতকারীরা আশকারা পাচ্ছে এবং সমাজে নৈরাজ্য তৈরীর সম্ভাবনা সৃষ্টির আলামত দেখা যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। গণঅধিকার পরিষদসহ কয়েকটি দলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে সোয়া ৬টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে আসে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিল শেষে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপেরও ঘটনা ঘটে।
এর আগে রাজধানীর কাকরাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার পর তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন


বহুল আলোচিত সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) সম্পর্কে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে জনগণের হাতে প্রার্থী বাছাইয়ে সুযোগ থাকবে না। দলের প্রতীককে ভোট দিতে হবে। বরং পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে রাজনৈতিক দলগুলো আরও বেশি কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠতে পারে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি কী, সে সম্পর্কে দেশের জনগণ অবগত নয়। কারণ দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থায় এর আগে কখনো জনগণ পিআর পদ্ধতি দেখিনি। এখন হঠাৎ করে দু-একটি রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের কথা বলছে।
তিনি শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের লোকনাথ ট্যাংকের পাড় ময়দানে জেলা বিএনপির সদস্য নবায়ণ এবং প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্য এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, কিছু কিছু দল পিআর ও সংস্কারের কথা বলে কেন নির্বাচন বিলম্বিত করতে চাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য বিএনপি বোঝে।
তিনি বলেন, দেশের শিক্ষিত, মেহনতি ও ভদ্র সমাজ বিএনপির সদস্য হবে। তবে কোনো চাঁদাবাজ দখলবাজ দলের সদস্য হতে পারবে না। যারা গণতন্ত্রের গলায় পা দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে রেখেছিল, তারা বিএনপির সদস্য হতে পারবে না। বিএনপির সদস্য হবে যারা সমাজের গুণীজন।
৩০ লাখ মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এদেশ। সাড়ে ৮ লাখ বছর আগে মানব সমাজে যে হিংস্রতা ছিল, শেখ হাসিনা সে হিংস্রতা চালিয়েছিল বাংলাদেশের মানুষের ওপর। ভয়ংকর রক্তপিপাসু হাসিনাকে বাংলাদেশের মানুষ পরাজিত করেছে। সে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।
রুহুল কবির রিজভী
তিনি বলেন, ৩০ লাখ মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এদেশ। সাড়ে ৮ লাখ বছর আগে মানব সমাজে যে হিংস্রতা ছিল, শেখ হাসিনা সে হিংস্রতা চালিয়েছিল বাংলাদেশের মানুষের ওপর। ভয়ংকর রক্তপিপাসু হাসিনাকে বাংলাদেশের মানুষ পরাজিত করেছে। সে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।
সভায় কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল সভাপতিত্ব করেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া, বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদ মোস্তাক মিয়া, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, সহ-সভাপতি এবিএম মোমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম জেলা শাখার টিম লিডার আহসান উদ্দিন খান শিপন প্রমুখ।
পরে প্রধান অতিথি নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম কর্মসূচির ফরম বিতরণ করেন।
এদিকে কর্মসূচিকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে যোগ দেয়।
মন্তব্য করুন


বিএনপি ক্ষমতার যাওয়ার জন্য অস্থির নয় উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জনগণের মালিকানা তাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হলে অনেক সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১২টি মৌলিক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে। বাকীগুলো ঐকমত্যের দিকে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে না, তা বাদ দিয়ে শুধু মৌলিক বিষয়গুলোই সংস্কার করা উচিত।
গণতন্ত্রে সীমা থাকা উচিত জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রে কাঁদা ছোড়াছুড়ি হলেও সেখানে সীমা থাকা উচিত। এমনটা না হলে ভবিষ্যতে তিক্ততা তৈরি হবে।
এ সময় জুলাই-আগস্টে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা মনে রেখে সবাইকে দেশ গঠনে ঐকবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আবারও ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ফখরুল বলেন, ‘একটি প্রচেষ্টা চলছে, একটি চক্রান্ত চলছে গণতন্ত্রকে আবারও ধ্বংস করার জন্যে। সেই কারণে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের পথপ্রদর্শক। আমরা সেই পথেই যাবো, যেখানে সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমৃদ্ধ দেশ গঠিত হবে। জনগণের ভোটের অধিকার এবং বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে আমাদের কাজ চলবে।’
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমিরের গণভোট নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আমাদের বক্তব্য স্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই সেই বক্তব্যই আমাদের অবস্থান।’
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সৈনিক ও নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আধিপত্যবাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি থেকে উদ্ধার করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেন। ‘তিনি একদলীয় বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং মাত্র চার বছরের মধ্যে রাষ্ট্র ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার চালু করেন। মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু করে উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে দেশের অগ্রগতির পথপ্রদর্শক হয়।’
৭ নভেম্বর সকালে বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, যুগ্ম মহাসচিব, মহানগর ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনগুলি ঢাকাসহ সারা দেশে র্যালি, আলোচনা সভা ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্যাপন করবে। রাজধানীতে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে র্যালিটি কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার, বাংলামটর হয়ে সোনারগাঁও হোটেল মোড়ে শেষ হবে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার খুব দুর্বল। কার, এদের পেছনে কোনো দল ও জনমত নেই।
বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার ভুল্লি ইউনিয়নের কুমারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের যে ধ্বংসস্তূপ রেখে গিয়েছিল এই ধ্বংসস্তূপকে তুলে ধরেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ঢাকার রাস্তায় এত দাবি দাওয়ায় এই সরকার ভারাক্রান্ত। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয়করণ করা হবে।
মির্জা ফখরুল আশঙ্কা প্রকাশ করে আরও বলেন, এই দাবি দাওয়ার কারণে নির্বাচন পিছিয়ে পড়তে পারে। তাই আগে নির্বাচন হোক, পরে সকল দাবি-দাওয়া পূরণ। পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, পিআর পদ্ধতি বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত নয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলিসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
মন্তব্য করুন


পিআর একটি সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তার দাবি, এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে মানুষ বিভ্রান্তিতে ভুগবে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বারিধারায় জামিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসায় ক্যান্সার আক্রান্ত হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা এনামুল হাসান ফারুকীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় রিজভী বলেন, একটি ইসলামী দল পিআর-এর জন্য তুমুল আন্দোলনের কথা বলেছে। এটা একটি সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান, যা কারও জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে না। পরাজিত শক্তির সঙ্গে আঁতাতের রাজনীতি কারও জন্য মঙ্গল হবে না। বরং এতে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
২০১৩ সালের ‘শাপলা চত্বর’ ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শাপলা হত্যাকাণ্ডের সময় হেফাজতের নেতাকর্মীদের রক্ত নিয়ে তামাশা করেছিল শেখ হাসিনা। অপপ্রচার, গণহত্যা দিয়ে মুসলমানদের দমন করা যাবে না।
‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে মাওলানা ফারুকীর প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতার বার্তাও পৌঁছে দেন সংগঠনটির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন।
‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা আশরাফ উদ্দিন বকুল, আবুল কাশেম, মোস্তফা-ই-জামান সেলিম, সদস্য-সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, জাতীয় প্রেসক্লাবের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, শাকিল আহমেদ, ফরহাদ আলী সজীব, রুবেল আমিন ও শাহাদত হোসেন।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বর্তমান সরকারে যদি দলীয় লোকজন থেকে যায়, তাহলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী।
বুধবার নয়া পল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, এ দেশের সর্বক্ষেত্রে চরমভাবে দলীয়করণ হয়েছে। ফলে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের অনেককেই দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, জুলাই সনদ মোটাদাগে সবাই মেনে নিয়েছে। এতে থাকা প্রতিশ্রুতিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন দাবি জানান তিনি।
রিজভী অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হয়তো ভেবেছিলেন তাদের জমিদারি চিরস্থায়ী, কিন্তু ৫ আগস্টের পর অনেকের মানসিকতা বদলাতে শুরু করেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো স্বস্তিদায়ক নয়।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষণার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিএনপির স্বাভাবিক ও সুস্থ রাজনৈতিক যাত্রাপথে বহু বাধা ও ষড়যন্ত্র চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আশঙ্কা প্রকাশ করে রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারে যদি দলীয় লোকজন থেকে যায়, তাহলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়—তাদের সরিয়ে দিতে হবে।
মন্তব্য করুন


ক্ষমতায় গেলে শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানো হবে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত।
শনিবার বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. তাইফুর ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত প্রেস বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।
দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরাতে মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, সহজভাবে শিক্ষকদের জন্য তাদের অঙ্গীকার হলো— মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা, শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সামাজিক মর্যাদা এবং তাদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। বিএনপি বিশ্বাস করে রাষ্ট্র ও জাতির সাংগঠনিক কিংবা নাগরিক উন্নয়নে আমাদের যত উদ্যোগই গ্রহণ করি না কেন শিক্ষাব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন এবং শিক্ষকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাওয়া যাবে না।
জনগণের ভোটে বিএনপি আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে রাষ্ট্রের আর্থিক অনুকূলতা, শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, চাকরির স্থায়ীকরণ এবং সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনার বিষয়ে বিএনপির কোনো দ্বিমত নেই।
তবে শিক্ষকদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আন্দোলনের ছদ্মবেশে পড়ে কোনো স্বৈরাচারী সহযোগী পরিকাঠামো নিঃস্বার্থভাবে গড়ে তোলার (দেশের) দায়িত্বশীল করে তোলার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক উত্তরণের কোনো প্রয়াস প্রতিহত করার প্রচেষ্টা চালালে সেটি প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি কোনো নমনীয়তা দেখাবে না বলেও জানানো হয়।
মন্তব্য করুন