

কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন রাজবল্লভপুর ও কোতয়ালী মডেল থানাধীন ঠাকুরপাড়া এলাকায় এজাহারনামীয় ও ওয়ারেন্টভুক্ত ২ আসামীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
বুধবার রাতে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন রাজবল্লভপুর এলাকায় কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার মামলা নং-০৭, তারিখ- ০৩/০৬/২০২৩ খ্রিঃ ধারা- ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৪২৭/৩৭৯/৫০৬ পেনাল কোড-১৮৬০ এর এজাহারনামীয় ১ নং আসামী আবু বকর ছিদ্দিক (৩০), পিতা- আব্দুর রউফ মিস্ত্রি, সাং-রাজবল্লভপুর, চৌকিদার বাড়ী, ১২ নং গুনবতী ইউ.পি, থানা-চৌদ্দগ্রাম, জেলা-কুমিল্লা-কে গ্রেফতার করে।
পৃথক অন্য একটি অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল রাতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন ঠাকুরপাড়া এলাকায় কুমিল্লার বিজ্ঞ দ্রুত বিচার আদালত স্মারক নং-২৬৭, তারিখ-৩১/০৫/২০২৩ ও সিআর নং-২৯/২৩, দ্রুত বিচার আইন এর ৪ ধারার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী মোছাদ্দেক হোসেন ছোটন (৪৮), পিতা-মৃত দেলোয়ার হোসেন, সাং-বেলঘর, মিয়াবাড়ী, পোঃ মিয়াবাজার, থানা-চৌদ্দগ্রাম, জেলা-কুমিল্লা-গ্রেফতার করে।
র্যাব জানান, উক্ত বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


হিট পিডিমা
গরমে অনেকের হাত-পা ফুলে যায়।
চিকিৎসা পরিভাষায় যাকে ‘হিট পিডিমা’ বলে। অনেকেরই হয় এমন। বিশেষত পা বেশি ফুলে
যায়। কখনও আবার হাত এবং পা একসঙ্গে ফুলে যায়। এই রোগেরও বিশেষ কোনও ওষুধ নেই।
বিশ্রাম নিলে, বেশি করে জল খেলে আর উঁচু বালিশের উপর পা তুলে রাখলে দ্রুত সেরে ওঠা
যায়।
হিট স্ট্রোক
গরমের সময়ে সবচেয়ে ঝুঁকি থাকে
হিট স্ট্রোক হওয়ার। এই স্ট্রোক হলে শরীর অত্যধিক শুকিয়ে যায়। ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।
শরীরের ভিতরটা গরম হয়ে যায়। কিন্তু হাত-পা ঠান্ডা থাকে। হৃৎস্পন্দনের গতি কমে যায়।
শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে সমস্যা হয়। কারও ক্ষেত্রে খিঁচুনি উঠতে পারে। ভুল বকা কিংবা
সাময়িক ভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়াও হিট স্ট্রোকের লক্ষণ। এমন হলে রোগীকে
ভাল করে স্নান করিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
হিট ক্র্যাম্প
গরমে কায়িক পরিশ্রম বেশি হলে
কিংবা দীর্ঘ ক্ষণ শরীরচর্চা করলে ‘হিট ক্র্যাম্প’ হতে পারে। এমন হলে কাঁধ, ঘাড়
এবং ঊরুর পেশিতে টান ধরে। বেশি করে জল খেলে অবশ্য স্বস্তি মেলে। তবে শুধু জল না
খেয়ে ওআরএস কিংবা নুন-চিনির জল খেলে বেশি উপকার হয়। সেই সঙ্গে বিশ্রাম নিলে আর রোদ
এড়িয়ে চললেই টান ধরা কমে যাবে।
হিট টিটানি
অত্যধিক তাপপ্রবাহে অনেক সময়
হাত-পা বেঁকে যায়। হাত-পায়ের সাড় চলে যায়। হাত আর পা ভাঁজ করতেও বেগ পেতে হয়। এই
ধরনের সমস্যাকে ‘হিট টিটানি’ বলে। এমন হলে প্রাথমিক ভাবে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। সেই
সঙ্গে হাত-পা মালিশ করতে পারলে ভাল। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলে আর পরিমাণমতো জল খেলেই
ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠা যায়।
হিট সিঙ্কোপ
মাথা ঘুরে যাওয়া, চোখমুখে
অন্ধকার দেখা— প্রচণ্ড রোদে বেরোলে অনেক সময়ে এমন কিছু শারীরিক সমস্যা হয়।
এগুলিকেই ‘হিট সিঙ্কোপ’ বলে। দীর্ঘ ক্ষণ আগুনের ধারে থাকলেও এমন হতে পারে। এমন হলে
সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা জলে স্নান করে নেওয়া জরুরি। কিংবা বরফজল দিয়ে গা-হাত-পা মুছে নিতে
পারলে ভাল। অবশ্যই বেশি করে জল খেতে হবে। না হলে যে কোনও সময় এমন হতে পারে।
ঘামাচি
ঘামাচি গরমের সবচেয়ে বড়
সমস্যা। কিন্তু অনেকে বিষয়টিকে ততটাও গুরুত্ব দেন না। ঘামাচি কমাতে অধিকাংশেই
ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করেন। তাতে হিতে বিপরীত হয়। পাউডারের কারণে
ঘর্মগ্রন্থিগুলিতে সংক্রমণ হয়। তখন চিকিৎসকের কাছে ছুটতে হয়। তবে আগে থেকেই বিষয়টি
নিয়ে সচেতন হলে বাড়াবাড়ি হওয়ার সুযোগ থাকে না।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) দিন দিন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হচ্ছে নাকি শুধুই বিতর্ক? বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত, এমনকি ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপ বিবেচনায় নিলে দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণের কথাই জানান দেয়। কিন্তু দুর্নীতির নানা অভিযোগ উত্থাপিত হলেও বাফুফের শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তিরা যখন স্বপদে বহাল থাকেন তখন স্বাভাবিকভাবেই সংশ্লিষ্টদের মাঝে প্রশ্ন জাগে শীর্ষ কর্তারা প্রকৃত অর্থে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নাকি কেবলই অভিযোগ।
হিসাবের অংক আরও জটিলতর হয় যখন বাফুফের বর্তমান সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ ওরফে মহি, নারী কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ এবং প্রধান হিসাব কর্মকর্তা আবু হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কোনো প্রমাণ পায় না। তখন অনেক প্রশ্নের জবাব উহ্য থেকে যায়। যদিও ভিন্ন এক দুর্নীতির অভিযোগে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক ফুটবলার আব্দুস সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান এখনো শেষ হয়নি।
সর্বশেষ গত ১৪ এপ্রিল দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগকে দুই বছরের জন্য ফিফা সব ধরনের ফুটবল কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ ও প্রায় ১২ লাখ টাকা জরিমানা করে। তখনই বাফুফের কর্তা ব্যক্তিদের দুর্নীতির বিষয়টি আবারও সামনে চলে আসে। বিভিন্ন মহল থেকে আবারও দাবি ওঠে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগসহ ফুটবল ফেডারেশনের সকল বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের।আইনজীবী ব্যারিস্টার সুমনের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ১৫ মে হাইকোর্টের আদেশে আগামী চার মাসের মধ্যে দুদকসহ সংশ্লিষ্টদের ফুটবল ফেডারেশনের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন : সালাউদ্দিন অসুস্থ, তার মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন : সুমন
একইসঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতিসহ সকল বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার সুমন ওই দিন বলেছিলেন, ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়ন হচ্ছে না। ফুটবলকে বাঁচাতে হলে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এ কারণে রিট দায়ের করেছি।
এর আগে গত ৩ মে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকসহ ঊর্ধ্বতনদের দুর্নীতির তদন্তের দাবি জানিয়ে দুদকে আবেদন করেছিলেন ব্যরিস্টার সুমন। তার দাবি ছিল, আবু নাঈম সোহাগ একা বাফুফেতে অনিয়ম-দুর্নীতি করেননি। তার সঙ্গে সভাপতি, সহ সভাপতিসহ ঊর্ধ্বতনরা জড়িত ছিলেন।
আরও পড়ুন : গোলাপ পচে গেছে, আ.লীগে থাকার অধিকার নেই : ব্যারিস্টার সুমন
অন্যদিকে বাফুফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক কমিশনার (তদন্ত) জহুরুল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।দুর্নীতির অভিযোগ থেকে কাজী সালাউদ্দিনের দায়মুক্তি
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ থাকলেও তার সত্যতা পায়নি দুদক। দীর্ঘ দুই বছরের অনুসন্ধান শেষে ২০২১ সালের মার্চ মাসে সালাউদ্দিনসহ নারী কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ এবং প্রধান হিসাব কর্মকর্তা আবু হোসেনকেও অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে সংস্থাটি।
আরও পড়ুন : সালাউদ্দিন পাবেন ৩৫ হাজার, সোহাগ ৫ লাখ!
দুদকের তৎকালীন সচিব ড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সই করা চিঠিতে ওই অভিযোগের কার্যক্রম সমাপ্তির বিষয়টি উল্লেখ করে ২০২১ সালের ১ মার্চ বাফুফেকে অবগত করে।আসামি হয়েও চার্জশিটে দায়মুক্ত বাফুফে সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন
গ্রাহকের গচ্ছিত ১১ কোটি টাকার স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ ওরফে মহিসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুদক। মামলার পর ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর চার্জশিটও দাখিল করা হয়।
তবে অজ্ঞাত কারণে এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি মহিউদ্দিনকে বাদ দিয়েই চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে মহিউদ্দিন আহমেদ ওরফে মহির বিষয়ে বলা হয়, নথিতে দায়িত্বরত অবস্থায় নির্দেশনা প্রদান করায় গ্রাহকের বন্ধকীকৃত স্বর্ণ প্রদান সংক্রান্তে আবেদনপত্রে তিনি কোনো স্বাক্ষর বা অনুমোদন করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন : সোহাগ : কম্পিটিশন ম্যানেজার থেকে ফেডারেশনের সর্বেসর্বা!
কিন্তু দায়িত্ব পালনকালে তার দায় এড়াতে পারেন কিনা সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী রেজা ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুদকের চার্জশিট দাখিলের পর এ বিষয়ে বিচারকার্য চলমান। এখন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে। আদালত এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক আব্দুল আলিম, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) হেদায়েত কবীর, সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক (স্বর্ণ বন্ধকী ঋণ বিভাগ) মো. আশফাকুজ্জামান, সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার ও সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংকের এসএস রোড শাখার ম্যানেজার মো. মাহাবুবুল হক, প্রিন্সিপাল অফিসার মো. ওমর ফারুক, সিনিয়র অফিসার (ক্যাশ) নুর মোহাম্মদ, সহকারী অফিসার (গ্রেড-১) আব্দুর রহিম ও নাহিদা আক্তার।
আরও পড়ুন : বাফুফে থেকে মুছে গেল সোহাগের নাম!
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, জালিয়াতির মাধ্যমে ২ হাজার ৩১৬ জন গ্রাহকের মোট ৭ হাজার ৩৯৮ ভরি ১১ আনা জামানত রাখা স্বর্ণ আইন বহির্ভূতভাবে আত্মসাতের চেষ্টা করেন আসামিরা। টাকার অংকের যার পরিমাণ ৪০ কোটি ৮ লাখ ৬০ হাজার ৮৮৮ টাকা। এছাড়া ১১ কোটি ৩৯ লাখ ৮৮ হাজার ৬৮৬ টাকার স্বর্ণ গ্রাহককে না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।
মন্তব্য করুন


বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় দেশবাসীকে সালাম জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমাদের তরুণ বিপ্লবীরা দেশের মানুষের মনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন জাগিয়ে দিয়েছে তা পূরণে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। শহীদদের আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে এক নতুন যুগের সূচনা করতে চাই।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরো বলেছেন, আজ আমরা বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম মাস উদযাপন করছি। ইতিহাসের অন্যতম গৌরবময় বিপ্লবের জন্য শত শত ছাত্র এবং সর্বস্তরের মানুষ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমাদের বাংলাদেশকে এর পূর্ণ গৌরবে প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব আমাদের।
তিনি বলেন, আমি সেই সাহসী তরুণ, শ্রমিক, দিনমজুর, পেশাজীবীদের স্মরণ করছি যারা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিল। স্মরণ করছি আন্দোলন চলাকালে নিহত সাংবাদিকদের। আজ আমি এই বিপ্লবে শাহাদাত বরণকারী সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমি অভিবাদন জানাই হাজার হাজার মানুষকেও যারা আহত হয়েছেন, প্রাণঘাতী আঘাতের শিকার হয়ে চিরজীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছেন, কিংবা চক্ষু হারিয়েছেন।
গত মাসে আমাকে যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তখন আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং সমস্ত জানা এবং অজানা শহীদদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমার সকল সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’
ড. ইউনূস বলেন, ‘আমার প্রিয় তরুণেরা, তোমরা তোমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের শপথ নিয়েছিলে। শহর ও গ্রামীণ জনপদের দেয়ালে আঁকা তোমাদের স্বপ্নগুলো এখনো নানা রঙের সাজ নিয়ে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।’
তিনি আরো বলেন, বিপ্লবের সময়, তোমরা পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ঘুমহীন রাত কাটিয়েছো এবং দিনে নিষ্ঠুর শাসনকে প্রতিহত করার জন্য পরস্পরের থেকে চির বিদায় নিয়ে রাস্তায় নেমেছো। বিপ্লব শেষ হওয়ার পর তোমরা দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তাদের উপাসনালয় পাহারা দিয়েছো এবং সারাদেশে ট্রাফিক পরিচালনা করার দায়িত্ব নিয়েছো। আমি জানি তোমাদের পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই এখন সময় পড়াশোনায় ফেরার। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হয়েছে। আমি তোমাদেরকে ক্লাস ও ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কেননা বিপ্লবের সুফল ঘরে তুলতে আমাদের একটি সুশিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্মের দরকার।
তিনি বলেন, মাত্র একমাস হলো অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তা সত্ত্বেও আমরা বিপ্লবের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কাজ শুরু করেছি। আমাদের প্রথম কাজ জুলাই ও আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। গণহত্যার বিষয়ে জাতিসংঘের নেতৃত্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করার জন্য আমরা জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তারা এদেশে এসেছেন এবং তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের প্রধান দায়িত্বগুলির মধ্যে একটি হল বিপ্লবের সময় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হাজার হাজার মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা। হাসিনার দুর্বৃত্তরা তাদের চোখ লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছোড়ায় অসংখ্য তরুণ শিক্ষার্থী দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করবো তাদের চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে। আমরা শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছি। মূল তালিকা হয়ে গেছে। এখন শুধু দূর-দূরান্তে যাদের লাশ নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাদের তথ্য সংগ্রহ করে তথ্যগুলিতে পূর্ণাঙ্গতা দেওয়া হচ্ছে। আহত শত শত মানুষ যাদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবং শহীদদের পরিবারের দেখাশোনার জন্য একটি ফাউন্ডেশন এখন তৈরির শেষ পর্যায়ে আছে। যাদের শাহাদাতের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে আমরা তাদের কখনোই ভুলবো না।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস সবশেষে বলেন, আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা নিলাম শহিদদের রক্ত এবং আহত ভাইবোনদের আত্মত্যাগকে জাতি হিসাবে আমরা কিছুতেই ব্যর্থ হতে দেবো না। যে সুযোগ তারা আমাদের জন্য তৈরি করে দিয়েছেন সে সুযোগকে আমরা কখনো হাতছাড়া হতে দেবো না। আজ তাদের স্মৃতিময় দিনে আবারও প্রতিজ্ঞা করলাম তাদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়বোই। মহান আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হোন।
মন্তব্য করুন


সরকার
জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের সন্তানদের সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে
৫ শতাংশ কোটার সেই আদেশ বাতিল করেছে ।
সোমবার আগের আদেশ বাতিল করে
নতুন আদেশ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে সই করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
উপসচিব (মাধ্যমিক-১) মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার।
নতুন আদেশে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অনেক
ছাত্র-জনতা আহত ও শহীদ হন। তাদের পরিবারের সদস্যদের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে
ভর্তির বিষয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে জারি করা আদেশ বাতিল করে নতুন আদেশ
জারি করা হলো।
এটাতে
বলা হয়, গত বছরে জুলাই-আগস্টে অভ্যুত্থানে অনেক ছাত্র-জনতা আহত ও শহীদ হন। তাদের পরিবারের
সদস্যদের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি জারীকৃত আদেশ বাতিল
করে নতুন আদেশ জারি করা হলো।
তবে,
কোটার স্থলে আহত ও নিহতদের সন্তানদের জন্য স্কুলে ভর্তিতে লটারির জন্য নির্ধারিত আসন
সংখ্যার অতিরিক্ত প্রতি শ্রেণিতে একজন করে ভর্তির জন্য আসন সংরক্ষিত থাকবে।
আদেশে
আরও বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত/শহীদ পরিবারের সদস্যদের আসন নির্ধারণের ক্ষেত্রে
সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র/গ্যাজেটের সত্যায়িত কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে এবং
ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুক্তিযুদ্ধ
বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে ইস্যুকৃত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের গেজেট যথাযথভাবে যাচাই
করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
এ ছাড়া
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত/শহীদ পরিবারের সদস্যদের পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে উক্ত
আসনে ভর্তি করতে হবে। কোনো অবস্থায় আসন শূন্য রাখা যাবে না বলেও আদেশে বলা হয়।
এর আগে,
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জারি করা এক আদেশে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের
পুত্র-কন্যা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত বা শহীদ পরিবারের সদস্যদের সরকারি মাধ্যমিক
বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
মন্তব্য করুন


কক্সবাজারবাসীর ১৩৩ বছরের স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হয়েছে ।শনিবার দুপুরে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন চত্বরে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন প্রকল্পের রেল চলাচলের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ট্রেনের হুইসেল বাজালেন।
এর আগে বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছান শেখ হাসিনা। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া শেষে শিশুদের সঙ্গে ছবি তুলেন। এরপরই মঞ্চে উঠে বসেন। সেখানে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ট্রেনে চড়ে রামু পর্যন্ত ভ্রমণ করবেন।
দৃষ্টিনন্দন আইকনিক রেলস্টেশন উদ্বোধনের পর রামু থেকে হেলিকপ্টার যোগে মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্তব্য করুন


প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো একটি বই। তা নিয়ে সম্প্রতি চলেছে কাঁটাছেড়া। কারণ বইটি বাঁধানো হয়েছে মানুষের চামড়া দিয়ে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগার থেকে সম্প্রতি এমন একটি বই উদ্ধার করেছেন বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে তাঁরা নিশ্চিত যে কোনও মানুষের চামড়া দিয়েই বাঁধানো হয়েছে বইটি। আর তার পরই শুরু হয়েছে শোরগোল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউটন পাঠাগারে ১৯৩৪ সাল থেকে রয়েছে ফরাসি লেখক আরসেন হুসেইর লেখা ‘দে দেসতিনে দো লোম’ বইয়ের একটি সংস্করণ। হাউটন পাঠাগারের ব্লগেই জানানো হয়েছে বইটির ইতিহাস।
আর সেই ইতিহাসই বলছে, আঠারোশো আশির মাঝের দিকে বইটি লিখেছিলেন আরসেন। তার পর সেটি উপহার দেন তাঁরই এক ডাক্তার বন্ধুকে। নাম, লুডোভিক বুল্যান্ড। এই পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। গোলমাল বাধে তার পর। নিজেরই কোনও এক মৃত রোগীর চামড়া দিয়ে বইটি বাঁধিয়ে ফেলেন বুল্যান্ড।
ব্লগের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভবত সেটি ছিল বুল্যান্ডের এক মহিলা মানসিক রোগীর মৃতদেহ। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। মহিলার কোনও আত্মীয় তাঁর দেহ দাবি করতে না-আসায় আরসেনের লেখা বইটি তাঁরই চামড়া দিয়ে বাঁধিয়ে ফেলেন বুল্যান্ড।
বইটির কভারে নিজের কাজের ব্যাখ্যাও দেন ওই চিকিৎসক। লেখেন, “মানুষের আত্মার উপর লেখা বইয়ে মানুষের চামড়ার মোড়ক তো থাকাই উচিত।”
আপাতত সেই চামড়ার বই নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে হার্ভার্ডে। তবে ঐতিহাসিকরা বলছেন, মানুষের চামড়া দিয়ে বই বাঁধানোটা নতুন বিষয় নয়। অ্যানথ্রোপোডারমিক বিবলিওপেগি নামে পরিচিত এই রীতি সতেরো শতক পর্যন্ত প্রচলিত ছিল। পরে ধীরে ধীরে তা লোপ পায়।
তবে পুরোপুরি নয়। মানুষের চামড়ার জায়গায় বই বাঁধানো শুরু হয় ভেড়া, ছাগল বা অন্য পশুর চামড়া দিয়ে। আরসেনের বইটি নিয়েও প্রথমে সন্দিহান ছিলেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা ভেবেছিলেন, হয়তো কোনও পশুর চামড়া দিয়ে বাঁধানো হয়েছে বইটি। কিন্তু বিস্তর পরীক্ষার পরে তাঁরা মানুষের চামড়ার বিষয়ে নিশ্চিত হন।
মন্তব্য করুন


প্রাথমিক স্কুল, ঔষধ কোম্পানিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্ধ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। ৩৩তম বিসিএসের এ কর্মকর্তা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান থাকায় গত ৮ জানুয়ারি থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত।
কয়েক দফায় চিঠি এবং কারণ দর্শানো নোটিশ দিলেও উত্তর মেলেনি। এখন ওই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রক্রিয়া শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা বিভাগের গবেষণা শাখায় কর্মরত। এর আগেও একাধিক প্রতারণার অভিযোগে তাকে মাউশি অধিদপ্তর থেকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত মামলার রায় চলতি মাসে হওয়ার কথা রয়েছে। অন্য একটি মামলার তদন্ত করছে পুলিশের তেজগাঁও গোয়েন্দা বিভাগ। প্রতারণার আরেকটি মামলা হয়েছে সিএমএম কোর্টে।
এদিকে, বেশ কয়েক মাস ধরে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে মোবাইল ফোন খোলা থাকলেও কল রিসিভ করেন না। না পেয়ে মাউশিতে এসে অনেকে তার খোঁজ করছেন, কিন্তু সহকর্মীরা তার কোনো সন্ধান দিতে পারছেন না।টানা পাঁচ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পর গত ১০ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছেন মাউশি মহাপরিচালক। ৮ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণ ব্যাখ্যা চেয়ে শোকজ দেওয়া হলেও সেই জবাব পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে তার ব্যক্তিগত ই-মেইল ও ঠিকানায় চিঠি দেওয়া হলেও কোনো জবাব মেলেনি। এখন তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি।
জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, তিনি টানা চার মাস ধরে অফিসে অনুপস্থিত। শোকজ করার পরও তিনি জবাব দেননি। তাই পুরো বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নেওয়ার এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লোকজনের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়েছেন— এমনটা শুনেছি। কিন্তু কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।’
রফিকুল ইসলাম সম্পর্কে যা জানা যায়
ঢাকা পোস্টের অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন রফিকুল ইসলাম একটি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। ওই সময় থেকে তিনি নানা প্রতারণার জাল বিস্তার করেন। ৩৩তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন। এরপর সরকারের ঊর্ধ্বতন বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে— এমন ছবি দেখিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া শুরু করেন। এমন তিন ব্যক্তির সন্ধান পেয়েছেন এ প্রতিবেদক। তাদের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নিয়েছেন রফিকুল ইসলাম। বাকিরা তার খোঁজে মাউশি, মোহাম্মদপুর ও নিজ জেলা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার কুশিল গ্রামে ধরনা দিচ্ছেন।মাউশি সূত্রে জানা যায়, এর আগে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেওয়া শুরু করেন রফিকুল ইসলাম। কিন্তু কাউকে চাকরি দিতে না পারায় মাউশিতে আসতে শুরু করেন ভুক্তভোগীরা। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কয়েক দফা এসব বিষয়ে আপস-মীমাংসাও করে দেন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি ফের প্রতারণা শুরু করেন।
ঢাকা পোস্ট তার বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করলে ভুক্তভোগীদের তিনি নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিতে শুরু করেন। ‘ওই সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বললে টাকা তো দেবই না, উল্টো তোমাকে গুম করে ফেলব— এমনও হুমকি দেন।’ ভয়ে প্রথম দিকে অনেকে তার বিরুদ্ধে কথা বললেও পরে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তারা।
তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার রতন চন্দ্র একটি বেসরকারি ঔষধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সরকারি প্রাথমিক স্কুলে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ২০১৯ ও ২০২০ সালে তিন ধাপে তার কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা নেন রফিকুল। পরে চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চান তিনি। কয়েক দফা ঘুরানোর পর টাকা ফেরত না দেওয়ায় ওই ব্যক্তি ২০২২ সালে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) কোর্টে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় তার বাবা ও স্ত্রীকে আসামি করা হয়। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করছে তেজগাঁও গোয়েন্দা অফিস।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলা করার আগে রতন চন্দ্র রফিকুলের মোহাম্মদপুরের বাড়ির মালিক হারুনের মধ্যস্থতায় পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। এরপর তিন বছর নানা ছলচাতুরী করে আজ পর্যন্ত কোনো টাকা ফেরত দেননি। টাকা চাইলে তারিখ দিতেন। কিন্তু ওই তারিখ অনুযায়ী বাসায় গেলে উনাকে পাওয়া যেত না। মোবাইল ফোনও রিসিভ করতেন না।
রতন চন্দ্র মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, প্রতারণামূলক বিভিন্ন ধরনের কূট-কৌশল অবলম্বন করে হয়রানি করতেন রফিকুল ইসলাম। গত তিন বছর ধরে কোনো টাকা পরিশোধ করেননি তিনি। বরং টাকা পরিশোধের অনুরোধ করলে অভিযোগকারীকে নানা রকম হুমকি-ধামকি দেন। সর্বশেষ মাউশিতে কর্মরত পটুয়াখালীর আরেক শিক্ষা কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর হালদারের (বর্তমানে বহিষ্কার) মাধ্যমে টাকা আদায়ের শেষ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। রফিকুল একজন প্রতারক বলে চন্দ্র শেখর আমাদের জানায়।
মন্তব্য করুন


প্রচণ্ড গরমে দেশব্যাপী জারি রয়েছে তিন দিনের জন্য সতর্কতামূলক হিট
অ্যালার্ট। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে যশোরে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা
মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও এদিন ছিল
৪০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দাবদাহে দেশের বিভিন্ন
স্থানে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। তীব্র দাবদাহের কারণে হিটস্ট্রোক বা
সানস্ট্রোকে সারা দেশে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এই যখন অবস্থা, তখন গরমের দেশ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এদিন
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর
কোনোটিরই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি ছিল না।
এছাড়া ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে ২১ ডিগ্রি, বাহরাইনের রাজধানী মানামার
তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি, ইরানের তেহরানে ২৬ ডিগ্রি, সিরিয়ার আলেপ্পোতে ২৫ ডিগ্রি,
তুরস্কের আঙ্কারায় ১১ ডিগ্রি, ইরাকের বসরাতে ৪০ ডিগ্রি, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে
২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সৌদির জেদ্দাতে ৩৩ ডিগ্রি, কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটিতে ৩৬
ডিগ্রি, ওমানের মাস্কাটে ২৮ ডিগ্রি, ইয়েমেনের রাজধানী সানাতে ২৫ ডিগ্রি এবং
ইসরায়েলের তেলআবিবে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়াভিত্তিক অ্যাপ ‘অ্যাকুওয়েদার’-এর তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব
আমিরাতের আবুধাবিতে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জর্ডানের রাজধানী
আম্মানের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি, ইরাকের বাগদাদের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি, লেবাননের
রাজধানী বৈরুতের তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি, কাতারের দোহারে তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি,
তুরস্কের ইস্তাম্বুলের তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহ
অন্য সময়ের রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছে। এপ্রিলের পাশাপাশি এবার মে মাসও উষ্ণতম মাস হতে
যাচ্ছে। মে মাসে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে
দেশের আবহাওয়া বিভাগ।
একনজরে দেখে নিন হিটস্ট্রোকের লক্ষণগুলো
প্রচণ্ড মাথাব্যথা : হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকলে প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। এ
ছাড়া গরমে মানুষের মাইগ্রেন ট্রিগার করতে পারে। এটি হিটস্ট্রোকের অন্যতম একটি
লক্ষণ হতে পারে।
বেশি তৃষ্ণা অনুভব ও অতিরিক্ত ঘামানো : হিটস্ট্রোকের আগে অনেক বেশি তৃষ্ণা অনুভব হবে, সেইসঙ্গে
ডিহাইড্রেটেড এবং আড়ষ্টতা অনুভব হতে পারে। শরীর নিজেকে ঠান্ডা করার জন্য অতিরিক্ত
ঘাম তৈরি করতে পারে।
হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি পাওয়া : হিটস্ট্রোকের আগে হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেতে পারে।
শ্বাসকষ্ট : হিটস্ট্রোকের অন্যতম লক্ষণ হলো শ্বাসকষ্ট এবং দ্রুত ও ভারী
শ্বাস-প্রশ্বাসও।
দুর্বলতা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া : তীব্র গরমের কারণে শরীর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাজ করে। এতে শরীরে
ক্লান্তি ও দুর্বলতা তৈরি হয়। ব্যক্তি অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। এগুলো হিটস্ট্রোকের
লক্ষণ।
পেশিতে ব্যথা : হিটস্ট্রোকের আগ মুহূর্তে পেশিতে ব্যথা অনুভব হতে পারে। যদিও
সাধারণ ব্যথা ভেবে অনেকে এটাকে তেমন গুরুত্ব দেয় না।
কথা জড়িয়ে যাওয়া : হিটস্ট্রোকের আগে যেসব লক্ষণ দেখা যায়, তারমধ্যে একটি হলো কথা
জড়িয়ে যাওয়া। ব্যক্তি অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করতে পারে।
বমি বমি ভাব : মাথাব্যথা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন ও হাইপারভেন্টিলেশন থেকে অক্সিজেনের
অভাব ইত্যাদির কারণে হিটস্ট্রোকের আগে বমি বমি ভাব হতে পারে।
বিরক্তি-বিভ্রান্তি : মাত্রাতিরিক্ত গরমের কারণে হিটস্ট্রোকের আগে মানুষ বিরক্ত বোধ
করতে পারে, রাগান্বিত হতে পারে, অযৌক্তিক কথা বলতে পারে এবং এমনকি প্রলাপ বকতে
করতে পারে।
ঘাম না হওয়া : হিটস্ট্রোকের আরেকটি লক্ষণ হলো প্রচণ্ড গরমেও ঘাম না হওয়া।
সাধারণত এর মানে হচ্ছে, শরীরে ঘাম হওয়ার মতো পানি আর নেই বা শরীরের প্রাকৃতিক শীতল
প্রক্রিয়াটি কাজ করছে না।
চিকিৎসকদের মতে, হিটস্ট্রোক এড়াতে শরীর হাইড্রেট রাখার কোনো বিকল্প
নেই। তাপমাত্রা বেশি হলে ঢিলেঢালা এবং হালকা রঙের পোশাক পরে ঘরের বাইরে যেতে হবে।
সূর্যের আলো থেকে চোখকে রক্ষা করতে সানগ্লাস ব্যবহার করা। প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ
পানি পান করতে হবে। তবে কৃত্রিম চিনিযুক্ত পানীয় থেকে দূরে থাকতে হবে।
মন্তব্য করুন


বগুড়ার বিখ্যাত সরার দই, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া ও আশ্বিনা আম, শেরপুরের তুলসীমালা ধান ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
২৬ জুন শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তর
(ডিপিডিটি) এর এক সভায় এ অনুমোদন দেয়। দেশের প্রথম
ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন পায় জামদানি। এরপর নতুন ৪টি পণ্যসহ
দেশের ১৫টি পণ্য জিআই স্বীকৃতি পেল।
বগুড়া রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা
ও যাচাই-বাছাই শেষে বগুড়ার দইসহ ৪ পণ্যকে জিআই পণ্য হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে
বলে জানিয়েছেন ডিপিডিটির ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জিল্লুর রহমান।
বগুড়ার দইয়ের জিআই পণ্যের স্বীকৃতির আবেদনে বলা হয়,
বাংলাদেশের অন্যান্য জেলা কিংবা অঞ্চলে দই উৎপাদিত হলেও কিছু বিশেষত্বের কারণে ‘বগুড়ার
দই’র খ্যাতি দেশজুড়ে। উৎপাদন ব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে কারিগরদের (উৎপাদক) বিশেষ
পদ্ধতি অনুসরণের পাশাপাশি মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তারা যত্নবান হওয়ায় বগুড়ার
দই স্বাদে-গুণে তুলনাহীন।
প্রায় ১৫০ বছর আগে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ঘোষ পরিবারের
হাত ধরে বগুড়ার দইয়ের উৎপাদন শুরু হয়। শেরপুরে দই তৈরির প্রবর্তক ঘোষপাড়ার নীলকণ্ঠ
ঘোষ।
এর আগে স্বীকৃতি পেয়েছে ইলিশ, ক্ষীরশাপাতি আম, মসলিন,
বাগদা চিংড়ি, কালিজিরা চাল, বিজয়পুরের সাদা মাটি, রাজশাহীর সিল্ক, রংপুরের শতরঞ্জি,
দিনাজপুরের কাটারিভোগ চাল, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম। নতুন করে এ তালিকায়
যুক্ত হলো বগুড়ার দইসহ ৪ পণ্য। এখন থেকে এ পণ্য বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসেবে
বিশ্বে পরিচিতি পাবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন রাজবল্লভপুর ও কোতয়ালী মডেল থানাধীন ঠাকুরপাড়া এলাকায় এজাহারনামীয় ও ওয়ারেন্টভুক্ত ২ আসামীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
বুধবার রাতে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন রাজবল্লভপুর এলাকায় কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার মামলা নং-০৭, তারিখ- ০৩/০৬/২০২৩ খ্রিঃ ধারা- ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৪২৭/৩৭৯/৫০৬ পেনাল কোড-১৮৬০ এর এজাহারনামীয় ১ নং আসামী আবু বকর ছিদ্দিক (৩০), পিতা- আব্দুর রউফ মিস্ত্রি, সাং-রাজবল্লভপুর, চৌকিদার বাড়ী, ১২ নং গুনবতী ইউ.পি, থানা-চৌদ্দগ্রাম, জেলা-কুমিল্লা-কে গ্রেফতার করে।
পৃথক অন্য একটি অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল রাতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন ঠাকুরপাড়া এলাকায় কুমিল্লার বিজ্ঞ দ্রুত বিচার আদালত স্মারক নং-২৬৭, তারিখ-৩১/০৫/২০২৩ ও সিআর নং-২৯/২৩, দ্রুত বিচার আইন এর ৪ ধারার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী মোছাদ্দেক হোসেন ছোটন (৪৮), পিতা-মৃত দেলোয়ার হোসেন, সাং-বেলঘর, মিয়াবাড়ী, পোঃ মিয়াবাজার, থানা-চৌদ্দগ্রাম, জেলা-কুমিল্লা-গ্রেফতার করে।
র্যাব জানান, উক্ত বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন