

জুলাই গণহত্যায় জড়িত অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও এর নেতাকর্মীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের যে সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছে, সেটাকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিএনপি।
রবিবার (১১ মে) দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ এ কথা জানায়।
তিনি জানান, রাজনৈতিক দল হিসেবে মাফিয়া আওয়ামী লীগের দেশ-বিদেশে কোথাও স্বীকৃতি নেই। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র মানে না, তাদের ডিএনএতে গণতন্ত্রের কোনো অস্তিত্ব নেই।
দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের আওতায় আনতে আইন সংশোধন এবং তাদের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞাকে বিএনপি সাধুবাদ জানায়।
এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ না দিলে সরকারকে আগামীতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে।
জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বেশ কয়েকটি দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের ২ দিনের টানা আন্দোলনের মুখে গতকাল আওয়ামী লীগ ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি বৈঠকে বসে উপদেষ্টা পরিষদ। প্রায় ৩ ঘণ্টা বৈঠকের পর আইন উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানান, আওয়ামী লীগ ও এর নেতাকর্মীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনীতেও উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদন দিয়েছে।
এ সময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আজ শনিবার, ১০ মে ২০২৫ তারিখে উপদেষ্টা পরিষদের এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবে।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেস-সহ আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে।
উপদেষ্টা বলেন, এর পাশাপাশি আজকের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই ঘোষণাপত্র আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গণভোটের বিষয়ে বিএনপির সিদ্ধান্ত স্পষ্ট। আর তা হলো জাতীয় নির্বাচনের দিনই হতে হবে গণভোট। এই বিষয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
এরপর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ কথা জানান আমীর খসরু।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যতীত সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর করতে হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প নেই।
এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে আসা প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, এটা খুব পরিষ্কার যে তিনি খুব কম সময়ের মধ্যেই দেশে আসবেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নস্যাৎ করতে পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এখনো প্রশাসেন বিভিন্ন স্তরে আওয়ামী লীগের দোসররা অবস্থান করছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ছাত্রদলের সাবেক নেতাকে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিগত সময় চারজনের পরামর্শে শেখ হাসিনা সব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন।
তাদের পরামর্শে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র জনতাকে গুলি করে, বোমা মেরে হত্যা করা হয়েছে।’ এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকা সত্ত্বেও অপরাধীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ প্রতিনিধিদল আহত ভূলতা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি দোলন ভূঁইয়ার স্বাস্থ্যের সার্বিক খোঁজ খবর নেয়। পরে তার হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, সদস্য সচিব মোমিন মিথুনসহ সংগঠনের সদস্যরা। এছাড়া জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য করুন


বিদেশগামীদের যেন জমিজমা বিক্রি করতে না হয়, সেজন্য সরকারিভাবে দ্রুত ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে নির্বাচনি পথসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, এই ঋণের মাধ্যমে তারা সহজেই বিদেশের যাওয়ার খরচ মেটাতে পারবেন এবং বিদেশে গিয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরবর্তীতে তা পরিশোধ করতে পারবেন।
তিনি বলেন, দেশের তরুণদের সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে দেশজুড়ে আধুনিক প্রশিক্ষণ সেন্টার গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে তারা যেন দেশে এবং বিদেশে সম্মানজনক কাজ করে স্বাবলম্বী হতে পারে এবং দেশের বেকারত্ব ঘুচাতে পারে।
ধর্মগুরুদের নিয়ে তারেক রহমান বলেন, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিব খতিব ও অন্যান্য ধর্মের যারা ধর্মগুরু আছেন বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাদের সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে। এতে তারা সমাজে সম্মানজনকভাবে বসবাস করতে পারবেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপির দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে হাত দিতে চায়।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচন ঘিরে মানুষের অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়। বিএনপির কাছে সারা বাংলাদেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা আছে। আমরাও সেভাবেই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চেষ্টা করেছি। পথসভায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
ঢাকা-১৭ তে যানজট, জলাবদ্ধতা, বায়ু দূষণের সমস্যা আছে। আমরা একত্রে কাজ করলে সবাই মিলে এই সমস্যার সমাধান করতে পারব।
খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, স্বৈরাচারের সময় দেশত্যাগের প্রস্তাব দেয়া হলেও খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে কোথাও যাননি। খালেদা জিয়া জীবনের শেষ পর্যন্ত এদেশের মাটিতে ছিলেন। মানুষ ছেড়ে যাননি। সেজন্য আমাদেরও শেষ ঠিকানা এই দেশ।
তিনি আরও বলেন, বিএনপিই একমাত্র দল এই মুহূর্তে, যাদের দেশ গঠনের কর্মসূচি আছে। প্রতিবারই বিএনপির ওপর জনগণের সমর্থন ছিলো। তারা দেশ ও মানুষ ছেড়ে কোথাও যায়নি।
মন্তব্য করুন


দখলদার-চাঁদাবাজদের স্থান বিএনপিতে হবে না বলে জানান দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন। বহুদলীয় গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার মূলমন্ত্র বুকে ধারণ করে এই দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। গণতন্ত্রের মূলনীতিকে উর্ধ্বে তুলে ধরেই শত প্রতিকূলতা ও ঝড়-ঝাপটা অতিক্রম করে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে এসেছে। স্বজাতির সব ধর্ম ও বর্ণের সজ্জন মানুষ ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশায় যুক্ত ব্যক্তিরা এই দলের সদস্য হতে পারেন। সমাজবিরোধী কোনো ব্যক্তি, দখলবাজ, চাঁদাবাজদের স্থান এই দল বরদাশত করে না। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু দল যখনই এ ধরণের ঘটনা অবহিত হয় তখনই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করেনি।
রাজধানীয় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি জন্মলগ্ন থেকেই গণতান্ত্রিক সংবিধান ও সুশাসনের জন্য আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্মাণ করার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং এর জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম করে এসেছে। এই দল মনে করে একটি আদর্শ রাষ্ট্র ও সমাজে নেতৃস্থানীয় মানুষদের যোগ্যতা, দক্ষতা, ন্যায়পরায়ণতা, সৎ ও মানবিক গুণাবলী থাকা ব্যক্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিএনপি যতবারই ক্ষমতায় এসেছে ততবারই উল্লিখিত বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। জাতীয়তাবাদী শক্তির সমবেত ধ্বণীই হচ্ছে সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমান সময়ে নানাবিধ সামাজিক অপরাধের বিভিন্ন মাত্রার প্রকাশ দেখা যাচ্ছে। প্রশাসনিক স্থবিরতার কারণেই ‘মব কালচার’ এর প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবৈধ কালো টাকা এবং গোপন অপতৎপরতার প্রভাবে ‘মব কালচার’ এর নামে সমাজে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা চলছে। আবার অন্যদিকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বার্থান্বেষী মহল বিএনপির নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই পরিকল্পিত অপপ্রচার, অপতৎপরতা, কৃত্রিমভাবে তৈরী সামাজিক অশান্তি গণতন্ত্রের পথচলাকে বাধাগ্রস্ত করা এবং নির্বাচন পেছানোর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বলে জনগণ মনে করে। শেখ হাসিনার আমলে অদ্ভুত উন্নয়নের বয়ানের মতো এখন নির্বাচন পেছানো নিয়ে নানা ধরণের বয়ান দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে যারা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে দল থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দলের ভেতরে থেকে অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত হলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। ইতোমধ্যে বেশ কিছু নেতাকর্মীকে বহিষ্কার, অব্যাহতি প্রদান, পদ স্থগিত, কারণ দর্শাণোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, দলের পক্ষ থেকে এহেন চলমান সাংগঠনিক ব্যবস্থার বিষয়ে গণমাধ্যমে খুব একটা উল্লেখ করা হয়নি। উপরন্তু আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ঢিলেঢালা ভূমিকা রহস্যজনক। দলের পক্ষ থেকে বারবার অপরাধী ও বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও প্রশাসন নির্বিকার থাকছে। দুস্কতিকারিদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দল থেকে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলেও প্রশাসন কোনো সহযোগিতা করছে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন খুব একটা সক্রিয় হয়নি। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কেউ কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কলকাঠি নাড়ছেন বলে স্পষ্টত: প্রতীয়মান হয়। এ রকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে সমাজ-সংস্কৃতি, সভ্য আচরণ বিপন্ন হয়ে পড়বে। প্রশাসনিক এই নিষ্ক্রিয়তার কারণে জনগণের এখন জীবনমরণের প্রশ্ন। গণতন্ত্রের স্থায়ী পুনরুজ্জীবন ও ঐতিহাসিক সার্থকতা নির্ভর করছে রাষ্ট্র ও সমাজে শান্তি ও স্থিতির ওপর। আর এ ক্ষেত্রে দক্ষ প্রশাসন অতীব জরুরী। কিন্তু আওয়ামী আমলের কালো টাকা ও তাদের দোসরদের ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ তৎপরতার কারণে দুস্কৃতকারীরা আশকারা পাচ্ছে এবং সমাজে নৈরাজ্য তৈরীর সম্ভাবনা সৃষ্টির আলামত দেখা যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশে অনেক সংকট থাকার পরও ড. ইউনুস সরকারকে আমরা সবাই সমর্থন জানিয়েছি। কেননা এই সরকার শেখ হাসিনার সরকারের মতো বিদেশে অর্থ পাচার করবে না। জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝে, জনগণের রায় বুঝে আগামী রমজানের আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জুলাই-আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে কুড়িগ্রামের ১০ শহীদ পরিবারকে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’- এর পক্ষে থেকে সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে অপপ্রচারে নামবেন না, তাহলে আপনাদের নিজেদেরই উপর অনেক কিছু নেমে আসেবে। মিডফোর্ড হাসপাতালের সামনে সোহাগ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শুধু বহিষ্কার নয়, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের অনুকম্পায় দু-একটি ইসলামী দল রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন। এখন আপনারা টার্গেট করেছেন তারেক রহমান ও বিএনপিকে। বুক পিঠ বলে আপনাদের কিছু নেই। জিয়াউর রহমান মারা গেলে, এরশাদ বন্দুকের নল দিয়ে গণতন্ত্র হত্যা করলো। সেই এরশাদের সঙ্গে কেউ যাবে না বললেও আপনারা চলে গেলেন। শেখ হাসিনার সঙ্গেও চলে গেলেন। সবসময় সুবিধা খুঁজে বেড়ান, সবসময় ধান্দা খুঁজে বেরান। আপনারা চলে গেলেও বিএনপি যায় নাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যায় নাই। জনগণের কাছে দেয়া ওয়াদা থেকে খালেদা জিয়া সরে যায়নি।
তিনি বলেন, আমরা ১৬ বছর লড়াই করেছি। আইনের শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হোক, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হোক, একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। ১৬ বছর ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি। কিন্তু এই নির্বাচন নিয়ে এত গড়িমসি কেন? জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝে আগামী রমজানের আগে নির্বাচন দেওয়ার কথা জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


আল্লাহ ছাড়া আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেউ ঠেকাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, আগামী ২০২৬ সালের রমজানের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কেউ নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। একমাত্র আল্লাহ রাববুল আল আমিন ছাড়া।
আজ শনিবার নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা সাংবিধানিক সংস্কার করছি। রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করছি। একটি লক্ষ্য নিয়েই সংস্কার করছি, যাতে এই দেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয়।
আগামী সংসদীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সংস্কার বাস্তবায়ন করবে জানিয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, যে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন নেই তা বর্তমান সরকার এখনই বাস্তবায়ন করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন নির্বাচনমুখী। কেউ নির্বাচনের বিরোধিতা করলে বাংলাদেশের জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
ঠুনকো অজুহাতে কেউ কেউ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন সালাউদ্দিন আহমদ। বলেন, দেশে নির্বাচনী আবহ তৈরি হয়েছে। প্রার্থীরা গণসংযোগ শুরু করেছে। এখন যদি কেউ নির্বাচন বিরোধী বক্তব্য দেয় তবে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সব ধরনের লিগ্যাল সমস্যার সমাধান হলেই দেশে ফিরবেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র ‘ঠিকানা’-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিনের সঙ্গে কথোপকথনে উঠে আসে তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গ।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উনি দেশে আসবেন যে মুহূর্তে উনার সব লিগ্যাল প্রবলেমগুলো সলভ হয়ে যাবে। যে মুহূর্তে আমরা মনে করব যে, পলিটিক্যালি টাইম ইজ রেডি ফর হিজ অ্যারাইভাল। তার ফেরার ক্ষেত্রে এখনো লিগ্যাল প্রবলেম আছে। উনাকে তো আমরা চাচ্ছি। উনি আমাদের নেতা, এই জাতির নেতা এখন। তার সমস্ত সিকিউরিটি সমস্ত কিছু আমাদের নিতে হবে। সেইজন্যই আমরা পার্টি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা যখন মনে করব যে পলিটিক্যালি তার আসার সময় হয়েছে, তখন তিনি আসবেন।’
মন্তব্য করুন


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, গোটা জাতি আজ লন্ডনের দিকে তাকিয়ে। বিশ্বাস করি এটি হবে ঐতিহাসিক বৈঠক এবং এ বৈঠকের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে সুবাতাস বইবে।
বুধবার (১১ জুন) দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে ডিসেম্বরে নির্বাচনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে বিএনপি। যৌক্তিক সময়েই নির্বাচন হবে বলে জাতি প্রত্যাশা করে। আলোচনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনসহ সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের প্রতি ভয়ংকর বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে তারা হিংস্র হয়ে উঠেছে। বিদেশী তকমা দিয়ে প্রতিদিন পুশইন হচ্ছে। পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া লাগানোর প্রচেষ্টা। সীমান্ত এলাকায় পুশইনের হিড়িক লেগেছে। বাংলাদেশ কি বর্জ্য ফেলার স্থান, প্রশ্ন রাখেন তিনি।
দেশের লোককে বিদেশী বানিয়ে ভারত বাংলাদেশে পুশইন করতে চাইলে প্রতিবাদের পাশাপাশি প্রতিরোধ করবে বাংলাদেশ। ভারতকে মনে রাখতে হবে অত্যাচার-নিপীড়ন করে শেখ হাসিনাও টিকে থাকতে পারেনি।
সম্প্রতি করোনা প্রকোপ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভারতে এরই মধ্যে ৭ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশেও আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে একজন মারাও গেছে। এ বিষয়ে সরকারকে দ্রুত করনীয় নির্ধারণ করে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। সুরক্ষার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
‘পাশাপাশি ডেঙ্গুও মারাত্মক রূপ নিয়েছে, জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। এর জন্য সরকারের সঙ্গে জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বা জানান।’
ঈদযাত্রা ঘিরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৫৭ জন মৃত্যুর সংবাদে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন্য এই দুর্ঘটনা বেড়েছে। এছাড়াও ঈদে সমাজবিরোধীদের দৌরাত্মও ছিল। ফ্যাসিবাদমুক্ত নির্ভয়ে ঈদ উদযাপন আনন্দের ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতির অবনতি দেখা গেছে। প্রশাসন আরও তৎপর হলে তা কমানো সম্ভব হতো।
মন্তব্য করুন


বর্তমানে দেশে তিনটি শক্তি প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রভাব বিস্তার করা শক্তিগুলোর মধ্যে দুটি আঞ্চলিক এবং একটি বিশ্বমোড়ল শক্তি। তাদের স্বার্থ আলাদা হলেও, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের স্বার্থ। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
মঙ্গলবার এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকেই বিদেশি শক্তিগুলো এই অঞ্চলে নিজেদের স্বার্থরক্ষায় একটি মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণি তৈরি করেছে। আজও সেই ধারা চলছে, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চলছে।’
শহিদ আবরার ফাহাদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আবরার এদেশের মানুষের জন্য জীবন দিয়েছে। আমাদের সকলকে সবার বক্তব্যে, সোশ্যাল মিডিয়ার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যেমন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সিঁড়িগুলো নির্মাণ করেছি শহিদ আবরারের মতো শহিদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ হঠাৎ করে আসেনি। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রামে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনীতি ও ত্যাগের ফসলই মুক্তিযুদ্ধ। আজ আমরা ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানেও সেই রক্তের উত্তরাধিকার বহন করছি।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি আধিপত্যবাদ রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সেই বিদেশি শক্তির কুশীলব হিসেবে কাজ করছে। আবরার ফাহাদ ছিলেন সেই আধিপত্যবাদের শিকার, কেবল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।’
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের পর নির্বাচন বিলম্বিত করার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জনগণ এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য আশা করে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এই কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত শেষ করে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব।
বুধবার অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন নিয়ে ড. ইউনূসের বক্তব্য অস্পষ্ট ছিল এবং তাতে কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিজয় দিবসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর বা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছেন, যা অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ২০২৬ সালের জুনের কথা বলেছেন, যা পরস্পরবিরোধী এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করবে।
মন্তব্য করুন