

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
অবরুদ্ধ গাজা, যেন এক ভয়ঙ্কর মৃত্যুপুরি। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই লাশের মিছিল। ইট-পাথর ও কংক্রিটের নিচে ছিন্নভিন্ন দেহাবশেষ। ইসরাইলি বাহিনীর বোমার আঘাতে ঝরে পড়ছে নিরীহ তাজা প্রাণ। তবে গাজাবাসীর এই করুণ দৃশ্য দেখে মানসিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন ইসরাইলি সেনারা।
সম্প্রতি গাজা ও লেবাননে যুদ্ধের ফলে ইসরাইলের কমপক্ষে ছয় সেনা আত্মহত্যা করেছেন। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মানসিক যন্ত্রণা এই আত্মহত্যার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আনাদুলু এজেন্সি এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানসিক অসুস্থতার চিকিৎসা নিচ্ছেন ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর আরও হাজার হাজার সদস্য। দেশটির একটি সংবাদ মাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে আত্মহত্যার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মানসিক সমস্যায় ভোগা তিন ভাগের এক ভাগ সেনার মধ্যেই রয়েছে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের (PTSD) লক্ষণ। তাদের দাবি, চলমান যুদ্ধে আহত সেনাদের চেয়ে মানসিক রোগে ভুগছে এমন সেনার সংখ্যা অনেক বেশি। এক তদন্ত রিপোর্টে জানানো হয়েছে, মানসিক আঘাতে ভুগছে এমন সেনার সংখ্যা শারীরিক আঘাতপ্রাপ্ত সেনাদের সংখ্যা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ইয়েদিওথ আহরোনোথ বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সামরিক অভিযান শেষ হয়ে গেলে এবং সেনারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পর এই মানসিক স্বাস্থ্য সংকট কেটে যাবে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করলে গ্রেফতার হতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর শুক্রবার ডাউনিং স্ট্রিট এমন ইঙ্গিত দিয়েছে।
ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করলে নেতানিয়াহুকে আটক করা হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র ‘পরিস্থিতিগত প্রশ্নে’ মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, ‘ব্রিটিশ সরকার তার আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ করবে।’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীন থাকা বাধ্যবাধকতাগুলো সব সময় মেনে চলে যুক্তরাজ্য সরকার। গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহু এবং ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। চুক্তি অনুযায়ী, এই আদালতের সদস্য দেশগুলো এই পরোয়ানা কার্যকর করতে বাধ্য। চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যও রয়েছে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছিল, যুক্তরাজ্য সরকার আইসিসির স্বাধীনতাকে সম্মান করে এবং গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ অব্যাহত রাখবে। যুক্তরাজ্যের ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট অ্যাক্ট ২০০১ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ আদালত যদি কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন, তবে একজন মনোনীত মন্ত্রী অনুরোধটি একজন উপযুক্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার কাছে পাঠান, এবং ওই কর্মকর্তা পরোয়ানাটি যুক্তরাজ্যে কার্যকর করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
মন্তব্য করুন


হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে এক বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তীব্র বাক্বিতণ্ডা হয়। এ ঘটনায় একপর্যায়ে জেলেনস্কিকে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করতে বলা হয়। মার্কিন এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঘটনাটির পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কো রুবিও বলেছেন, জেলেনস্কির উচিত ক্ষমা চাওয়া। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভলোদিমির জেলেনস্কির যে বৈঠক হয়েছে তা বিপর্যয়কর। ইউক্রেনীয় এই নেতার উচিত ক্ষমা চাওয়া।
জেলেনস্কি সম্পর্কে রুবিও আরও বলেন, সেখানে গিয়ে তার প্রতিপক্ষ হওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, "আপনি যখন আক্রমণাত্মকভাবে কথা বলা শুরু করবেন এবং প্রেসিডেন্ট একজন চুক্তিবিশেষজ্ঞ, তিনি সারাজীবন চুক্তি করেছেন— তখন আপনি মানুষকে চুক্তির টেবিলে আনতে পারবেন না।"
রুবিও তার সাক্ষাৎকারে এও উল্লেখ করেন যে, জেলেনস্কি সম্ভবত শান্তিচুক্তি চান না।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের কাছ থেকে ইউক্রেন কয়েক শ কোটি ডলারের অস্ত্র ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছে।
তবে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইউক্রেন নতুন করে সংকটে পড়ে। এই যুদ্ধের জন্য জেলেনস্কিকে দায়ী করেন ট্রাম্প। তাই গতকালের বৈঠকটি নিয়ে সবার নজর ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ওই বৈঠক চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে শেষ হয়।
মন্তব্য করুন


ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার বিরুদ্ধে ঘুষ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ইসরায়েলের আদালতে বিচার চলছে। এসব অভিযোগ থেকে রেহাই পেতেই এই ক্ষমার আবেদন করলেন তিনি। খবর বিবিসির।
প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, হারজগ এই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মতামত নেবেন। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হওয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার পক্ষে প্রেসিডেন্ট। নেতানিয়াহু অবশ্য তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। একইসঙ্গে বলেছেন, চাইলে বিচার প্রক্রিয়ার শেষ পর্যন্ত যেতে পারতেন, তবে ‘জাতীয় স্বার্থের’ বিবেচনায় ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন তিনি।
এই মাসের শুরুর দিকে নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্য ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট হারজগকে অনুরোধ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় হারজগ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ক্ষমার জন্য তার কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিতে হবে।
রোববার প্রেসিডেন্টের দপ্তর নেতানিয়াহু স্বাক্ষরিত ক্ষমার আবেদনের চিঠি প্রকাশ করেছে। তবে হারজগ এ বিষয়ে কবে নাগাদ সিদ্ধান্ত জানাবেন সে সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় কাঠগড়ায় দাঁড়ানো প্রথম ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। ২০২০ সালে তার বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ ওঠে। প্রথম মামলায় প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেন, তিনি প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের উপঢৌকনের বিনিময়ে সুবিধা প্রদান করেছেন।
দ্বিতীয় মামলায় অভিযোগ, একটি ইসরায়েলি পত্রিকার প্রচার বাড়াতে সহায়তা করেছেন তিনি। বিনিময়ে নিজের ইতিবাচক সংবাদ কাভারেজ পাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
তৃতীয় মামলায় বলা হয়, একটি টেলিকম কোম্পানির মালিকের পক্ষে যায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখান তিনি। এর বিনিময়ে একটি সংবাদবিষয়ক ওয়েবসাইটে ইতিবাচক কাভারেজ পান।
নেতানিয়াহু সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিচারপ্রক্রিয়াকে ‘উইচ-হান্ট’ আখ্যা দিয়েছেন।
ইসরায়েলের বেসিক ল অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ‘দোষী ব্যক্তিকে ক্ষমা করা বা তার শাস্তি কমানো কিংবা পরিবর্তন করার ক্ষমতা’ রাখেন। তবে ইসরায়েলের হাইকোর্ট আগে রায় দিয়েছে, জনস্বার্থে বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতি চরম হলে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেও কাউকে ক্ষমা করা যেতে পারে।
মন্তব্য করুন


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবিসি নিউজকে জানান, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কথা ভাবছেন না। তার মতে, এর প্রয়োজন হবে না।
নতুন করে ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির কথা ভাবছি না। এমনকি আমি এটাকে প্রয়োজনীয়ও মনে করি না। আমার মনে হয়, আগামী দুই দিনে আপনারা অসাধারণ কিছু দেখতে পাবেন। সত্যিই আমি তাই বিশ্বাস করি।’
‘যুদ্ধ শেষের দিকে’ আসায় একটি সমঝোতামূলক চুক্তিকেই ‘সেরা বিকল্প’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প আরও বলেন, একটি চুক্তি হলে তা ইরানকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেবে। দেশটির শাসনব্যবস্থার মধ্যে পরিবর্তন আনার দাবিও করেন তিনি।
‘যা–ই হোক না কেন, আমরা চরমপন্থীদের সরিয়ে দিয়েছি’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা চললেও যুদ্ধ এখন ‘শেষের কাছাকাছি’।
সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল
মন্তব্য করুন


মিয়ানমারের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও সাবেক রাজধানী ইয়াঙ্গুন ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮।
শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৮ টা ৫৫ মিনিটে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভব করেন ইয়াঙ্গুন ও তার আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব গবেষণা সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, ইয়াঙ্গুন থেকে ৩৯ কিলোমিটার উত্তরে এবং ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল।
ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন। প্রায় ৮০ লাখ মানুষ বসবাস করেন এই শহরে। ইয়াঙ্গুনের সংলগ্ন অন্যান্য শহরে বসবাস করেন আরও বেশ কয়েক লাখ মানুষ।
ভূতাত্ত্বিক গঠনের কারণে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটিতে ভূমিকম্প প্রায় নিয়মিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
মন্তব্য করুন


মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাধারণ ক্ষমার আওতায় প্রায় ৬ হাজার বন্দীকে মুক্তি দেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির সামরিক সরকার। এদিন মোট ৫ হাজার ৮৬৪ জন বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হবে। তাদের মধ্যে ১৮০ জন বিদেশিও রয়েছে। শনিবার (০৪ জানুয়ারি) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবস প্রতি বছর ৪ জানুয়ারি পালিত হয়। ১৯৪৮ সালের এই দিনে মিয়ানমার (তৎকালীন বার্মা) ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। এই দিনটি মিয়ানমারে একটি জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে উদযাপিত হয় এবং দেশজুড়ে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পতাকা উত্তোলন, সামরিক কুচকাওয়াজ ও জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়।
২০২১ সালের শুরুর দিকে সামরিক বাহিনী একটি নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে। তারপর গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকে সহিংসভাবে দমন করলে মিয়ানমার সংকটে নিমজ্জিত রয়েছে, যা একটি জাতীয় সশস্ত্র বিদ্রোহের জন্ম দিয়েছে।
জান্তা সরকার বলেছে, তারা এ বছর নির্বাচন দেবে। তবে এই পরিকল্পনাকে প্রহসন বলে নিন্দা জানিয়েছে বিরোধী গোষ্ঠীগুলো।
জান্তার হাতে আটক থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী নোবেল বিজয়ী অং সান সু চিও রয়েছেন। ৭৯ বছর বয়সী এই নেত্রী ১৪টি ফৌজদারি অভিযোগের আওতায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। যার মধ্যে উসকানি, নির্বাচনী জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তবে তার আইনজীবীদের মতে, তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মরুভূমির দেশ সৌদি আরবে নজিরবিহীন বৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। যার ফলে দেশটির একাধিক শহরের রাস্তাঘাট ও আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে।
সৌদি আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আবহাওয়ার এই নিম্নচাপ আরও কয়েক দিন ধরে চলতে পারে।
একসঙ্গে সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন স্তরের সতর্কতা জারি করেছে। পবিত্র দুই শহর মক্কা ও মদিনা এবং পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। যা সবচেয়ে উচ্চ স্তরের সতর্কতার নির্দেশক।
এছাড়া রাজধানী রিয়াদ, মধ্যাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আসির ও জাজান প্রদেশে কম মাত্রার কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে সেখানেও নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের রেড ক্রিসেন্ট অথরিটি এবং অন্যান্য উদ্ধার সংস্থাগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। রেড ক্রিসেন্ট নিশ্চিত করেছে যে, তাদের অ্যাম্বুলেন্স সেবা ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং বিশেষত লাল সতর্কতার আওতাভুক্ত এলাকায় নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
অন্যদিকে সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জনগণকে উপত্যকা, নিচু এলাকা এবং এমন জায়গা এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে, যেখানে বৃষ্টির পানি জমা হতে পারে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্যার পানি রাস্তাঘাটের গাড়িগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং ভবনগুলো ডুবে যাচ্ছে। প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের কারণে পানি ক্রমশ বাড়ছে, যা সৌদি আরবে বিরল একটি দৃশ্য।
মন্তব্য করুন


২০২৪ সালে তুরস্ক তিন হাজার ৭০ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেকি আকতুর্ক এই তথ্য দেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
জেকি আকতুর্ক বলেন, নিহত সন্ত্রাসীদের মধ্যে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে এক হাজার ৫৭৯ জন এবং ইরাকের উত্তরাঞ্চলে এক হাজার ৪৯১ জন ছিলেন।
তিনি আরও জানান, সিরিয়া ও ইরাকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তুরস্কের সামরিক বাহিনীর চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এসব সন্ত্রাসীকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আকতুর্ক বলেন, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত তিন হাজার ৭০ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি গত বছর তুরস্কের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে ১০৭ জন সন্ত্রাসী আত্মসমর্পণ করেছে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরাক ও সিরিয়ার বিভিন্ন অভিযানে সন্ত্রাসীদের বহু আস্তানা, অস্ত্রের ভাণ্ডার, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
আকতুর্ক বলেন, “সন্ত্রাসীদের সম্পূর্ণ নির্মূল না করা পর্যন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এই লড়াই কোনোভাবেই থামবে না।”
মন্তব্য করুন


১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের মহান বিজয়কে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) নরেন্দ্র মোদি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে এ দাবি করেন।
নরেন্দ্র মোদির পোস্টে লেখা হয়, "আজ বিজয় দিবসে, আমরা ১৯৭১ সালের ভারতের ঐতিহাসিক বিজয়ে অবদান রাখা সাহসী সৈন্যদের সাহস ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানাই। তাদের নিঃস্বার্থ উৎসর্গ এবং অটল সংকল্প আমাদের জাতিকে রক্ষা করেছে এবং আমাদের গৌরব এনে দিয়েছে। এই দিনটি তাদের অসাধারণ বীরত্ব এবং অদম্য চেতনার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাদের আত্মত্যাগ চিরকাল প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আমাদের জাতির ইতিহাসে গভীরভাবে গেঁথে থাকবে।"
নরেন্দ্র মোদির এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, "এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু মোদি দাবি করেছেন, এটি ভারতের যুদ্ধ এবং তাদের অর্জন। তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের অস্তিত্বকেই উপেক্ষা করা হয়েছে।"
তিনি আরও লেখেন, "যখন এই স্বাধীনতাকে ভারত নিজেদের অর্জন হিসেবে দাবি করে, তখন আমি একে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখি। ভারতের এই হুমকির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়া অত্যাবশ্যক। এই লড়াই আমাদের চালিয়েই যেতে হবে।"
মন্তব্য করুন


ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম উপকূল থেকে অন্তত ৭৫ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে একটি অভিবাসী নৌকা সহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জন শিশু রয়েছে। বুধবার কর্তৃপক্ষ তাদের পর্যটক সৈকতে অবতরণ করতে বাধা দেয়।
আচেহ প্রদেশের লেউগে সৈকতে অবতরণের সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা শরণার্থীদের নৌকায় থাকার নির্দেশ দেন এবং সৈকতের চারপাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা শরণার্থীদের খাবার সরবরাহ করলেও তাদের সৈকতে নামতে দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় কর্মকর্তা রিজালিহাদি জানান, আজ সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় সৈকতে প্রচুর জনসমাগম রয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে শরণার্থীরা জনতার সঙ্গে মিশে যেতে বা পালিয়ে যেতে পারে। তাই তিনি বলেন, "এই মুহূর্তে তাদের নৌকায় থাকতে হবে, যতক্ষণ না জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) প্রতিনিধিরা আসেন।"
রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, বিশেষত রাখাইন রাজ্যে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকেই বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে জীবন বাজি রেখে এসব দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য আশ্রয়দানকারী দেশগুলো বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন, পুনর্বাসন বা পুনর্বিন্যাসের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার চাপ আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে, শরণার্থী সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না পেলে এটি আরও গভীর মানবিক সংকটে পরিণত হতে পারে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। তারা উভয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। সুলিভান এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ জানান।
এছাড়া বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, উভয় নেতা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তা সুরক্ষিত রাখার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
বিবৃতিতে জ্যাক সুলিভান একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থনের বিষয়টি পুনরায় উল্লেখ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন