

মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাধারণ ক্ষমার আওতায় প্রায় ৬ হাজার বন্দীকে মুক্তি দেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির সামরিক সরকার। এদিন মোট ৫ হাজার ৮৬৪ জন বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হবে। তাদের মধ্যে ১৮০ জন বিদেশিও রয়েছে। শনিবার (০৪ জানুয়ারি) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবস প্রতি বছর ৪ জানুয়ারি পালিত হয়। ১৯৪৮ সালের এই দিনে মিয়ানমার (তৎকালীন বার্মা) ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। এই দিনটি মিয়ানমারে একটি জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে উদযাপিত হয় এবং দেশজুড়ে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পতাকা উত্তোলন, সামরিক কুচকাওয়াজ ও জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়।
২০২১ সালের শুরুর দিকে সামরিক বাহিনী একটি নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে। তারপর গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকে সহিংসভাবে দমন করলে মিয়ানমার সংকটে নিমজ্জিত রয়েছে, যা একটি জাতীয় সশস্ত্র বিদ্রোহের জন্ম দিয়েছে।
জান্তা সরকার বলেছে, তারা এ বছর নির্বাচন দেবে। তবে এই পরিকল্পনাকে প্রহসন বলে নিন্দা জানিয়েছে বিরোধী গোষ্ঠীগুলো।
জান্তার হাতে আটক থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী নোবেল বিজয়ী অং সান সু চিও রয়েছেন। ৭৯ বছর বয়সী এই নেত্রী ১৪টি ফৌজদারি অভিযোগের আওতায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। যার মধ্যে উসকানি, নির্বাচনী জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তবে তার আইনজীবীদের মতে, তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মন্তব্য করুন


মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ একটি ফুড কোর্টে অভিযান চালিয়ে নয়জন বাংলাদেশিসহ মোট ৫৮ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে। অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে।
বুধবার ইমিগ্রেশন বিভাগ, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ, মালয়েশিয়ান সিভিল ডিফেন্স ফোর্স, মানবপাচার ও অভিবাসন চোরাচালান বিরোধী বিভাগ এবং মানি লন্ডারিং অপরাধ তদন্ত দলের ৯৫ জন কর্মকর্তার সমন্বয়ে সেলাঙ্গর রাজ্যের পুচং শহরের একটি ফুড কোর্টে এই অভিযান চালানো হয়।
ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং এক সপ্তাহ ধরে নজরদারির পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মোট ১০২ জনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৫৮ জন অভিবাসীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধ ধরা পড়ে। তাদের অপরাধের মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়ায় অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি অবস্থান, অস্থায়ী কাজের পাসের অপব্যবহার এবং অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা।
আটককৃতদের মধ্যে মিয়ানমারের ৩১ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী, ইন্দোনেশিয়ার দুইজন পুরুষ ও একজন নারী, নয়জন বাংলাদেশি পুরুষ, চারজন ভারতীয় পুরুষ এবং একজন ভিয়েতনামি পুরুষ রয়েছেন। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।
আটককৃতদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বুকিত জলিল ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্ট:
মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে। রোহিঙ্গা জনগণের ওপর নির্যাতন চালিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করার অভিযোগে আইসিসির প্রসিকিউটর করিম খান এই আবেদন করেছেন।
গত সপ্তাহে করিম খানের অনুরোধে, দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আইসিসি। এই পরোয়ানা জারির পর, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক চাপের মুখে আছেন তিনি।
আইসিসির একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট প্যানেল মিয়ানমারের জান্তা প্রধানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। তারা দেখবেন, মিন অং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য ‘উপযুক্ত কারণ’ আছে কি না।
মিয়ানমারের এই জান্তা প্রধানের নেতৃত্বে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক অত্যাচার ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। এর ফলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
প্রসিকিউটরের আবেদনের পর আইসিসির বিচারকরা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে কখন সিদ্ধান্ত নেবেন, সে ব্যাপারে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তবে সাধারণত, তিন মাসের মধ্যে এমন আবেদনের বিষয়ে বিচারকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।
প্রসিকিউটরের অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মিয়ানমারের জান্তা প্রধানের বিরুদ্ধে একটি বিস্তৃত, স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের পর তারা তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির অনুরোধ করেছে। এছাড়া মিয়ানমারের আরও উচ্চপদস্থ ব্যক্তির বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারির আবেদন করা হবে।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গণহত্যার উদ্দেশ্যে’ রোহিঙ্গাদের ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়েছিল।
মিয়ানমার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয়, তবে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে আদালতটির বিচারকরা বলেছিলেন, মিয়ানমারের এই অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার তাদের আছে। কারণ, মিয়ানমারের প্রতিবেশী বাংলাদেশ আইসিসির সদস্য, এবং যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলো দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটেছে।
আইসিসি গত পাঁচ বছর ধরে রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে তদন্ত করছে, তবে মিয়ানমারে আদালতের প্রসিকিউটরকে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় তদন্তে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে, ২০২১ সালে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন সেনাপ্রধান। তারপর থেকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হয়, এবং সুচিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়ে।
মন্তব্য করুন


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জোয়ারেও মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি কর্মীর চাহিদা কমবে না। বরং সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজারে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ লাখের বেশি কর্মীর চাহিদা তৈরি হবে। চলতি বছর প্রকাশিত এক বৈশ্বিক শ্রমশক্তি সমীক্ষায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর জিও নিউজের।
গবেষণায় দেখা যায়, এআইয়ের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার ধরনে পরিবর্তন এলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে মানবশ্রমের সামগ্রিক চাহিদা কমছে না। বরং শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প এবং সরকারি ও বেসরকারি সেবাখাতের পরিসর বৃদ্ধি পাওয়ায় এই দুই দেশে টেকসই শ্রমচাহিদা তৈরি করছে।
সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির কারণে শ্রমশক্তির চাহিদা বাড়ছে। এই কর্মসূচির আওতায় নির্মাণ, অবকাঠামো, পর্যটন, উৎপাদন, লজিস্টিকস এবং নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলে ব্যাপক বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, এআই থেকে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি না হলে সৌদি আরবের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার অতিরিক্ত কর্মীর প্রয়োজন হতো। অটোমেশনের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার পরও আগামী বছরগুলোতে দেশটিতে উল্লেখযোগ্য শ্রমঘাটতি দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রমশক্তির চাহিদা আরও দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে আমিরাতের মোট শ্রমশক্তি ১২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল শ্রমবাজার হতে যাচ্ছে দেশটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গবেষণাভুক্ত শ্রমবাজারগুলোর মধ্যে আমিরাতেই শ্রমশক্তি সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া সৌদি আরবে শ্রমশক্তি বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে এই হার মাত্র ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ২ দশমিক ৮ শতাংশ।’
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার কোম্পানি সার্ভিসনাও এই গবেষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি সরকার ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজিটাল ওয়ার্কফ্লো ও অটোমেশন প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করে।
গবেষণা অনুযায়ী, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেবাখাতের ডিজিটাল রূপান্তরে আমিরাতের জোরালো মনোযোগ চাকরি কমানোর বদলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। দেশটিতে সরকারি ডিপার্টমেন্ট ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আধুনিকায়ন করার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন, শিক্ষা, খুচরা বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সেবা এবং প্রযুক্তি-সম্পর্কিত খাতে কর্মীর চাহিদা বাড়ছে।
সৌদি আরব ও আরব আমিরাতে নির্মাণ, পরিবহন, লজিস্টিকস, স্বাস্থ্যসেবা, আতিথেয়তা, খুচরা বাণিজ্য, শিক্ষা, জ্বালানি, আর্থিক সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি সামনের বছরগুলোতে ব্যাপকহারে বিনিয়োগ হবে। প্রযুক্তির প্রভাবে কাজের ধরন বদলালেও যারা প্রশিক্ষণ ও পুনঃদক্ষতায় বিনিয়োগ করবে, সেসব দেশ ও কর্মীরাই নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুফল সবচেয়ে বেশি ভোগ করতে পারবে।
মন্তব্য করুন


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পোল্যান্ড সফর বাতিল করেছেন। পোল্যান্ডের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাদিস্লো বার্তোসজেউস্কি এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করেছিলেন যে, নেতানিয়াহু পোল্যান্ডে গেলে গ্রেপ্তার হতে পারেন। এই সতর্কবার্তার পর নেতানিয়াহু তার সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান নাৎসি বাহিনী পোল্যান্ডসহ আশপাশের দেশগুলোর ইহুদিদের যেসব বন্দি শিবিরে আটকে রেখেছিল, সেগুলো আউশউইৎজ নামে পরিচিত। পোল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের কয়েকটি আউশউইৎজ শিবির ছিল। ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে এসব শিবিরে প্রায় ১০ লাখ ১০ হাজার ইহুদিকে হত্যা করা হয়। নিহতদের বেশিরভাগই পোল্যান্ড ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের নাগরিক ছিলেন।
যুদ্ধ শেষে আউশউইৎজ শিবির মুক্ত হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে এই ঘটনাকে স্মরণ করা হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আউশউইৎজ মুক্তির ৮০তম বার্ষিকী উদযাপন হবে, যেখানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অংশগ্রহণের কথা ছিল।
কিন্তু পোল্যান্ডের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বার্তোসজেউস্কি শনিবার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "আমরা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে জানিয়ে দিয়েছি যে, নেতানিয়াহু যদি পোল্যান্ডে আসেন, তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আমরা পদক্ষেপ নেব। কারণ, পোল্যান্ড আইসিসির নির্দেশনা মেনে চলার চুক্তিবদ্ধ দেশ।"
এই সতর্কবার্তার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পোল্যান্ডকে জানিয়েছে, নেতানিয়াহু এবার সেখানে আসবেন না।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং সেখানকার বাসিন্দাদের খাদ্য, পানি ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে আইসিসি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
যদিও ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া আইসিসিকে স্বীকৃতি দেয়নি, তবুও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশসহ বিশ্বের অনেক দেশ আইসিসির সনদে স্বাক্ষর করেছে। পোল্যান্ডও সেই তালিকায় থাকায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে থাকা পরোয়ানা কার্যকর করতে দেশটির আইনত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সূত্র : জেরুজালেম পোস্ট
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়ার নভায়া জমলিয়া দ্বীপপুঞ্জে পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
শনিবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১২তম মেইন ডিরেক্টরেটের সাবেক প্রধান কর্নেল জেনারেল ভ্লাদিমির ভেরখভতসেভ এ তথ্য জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বৃদ্ধিকারী নীতির প্রেক্ষিতে রাশিয়া পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় চালুর বিষয়ে বিবেচনা করছে।
ভেরখভতসেভ জানান, নভায়া জমলিয়া দ্বীপপুঞ্জের পরীক্ষাকেন্দ্রটি কয়েক বছর ধরেই পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় চালুর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অনুমোদন পাওয়া যায়, তাহলে আমরা অদূর ভবিষ্যতেই তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১২তম মেইন ডিরেক্টরেট পারমাণবিক অস্ত্রের নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে আসছে।
এই কেন্দ্রে সোভিয়েত ইউনিয়ন মোট ৭১৫টি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। নভায়া জমলিয়ায় সর্বশেষ পারমাণবিক পরীক্ষা করা হয়েছিল ১৯৯০ সালের ২৪ অক্টোবর।
রাশিয়ার এই ঘোষণাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কারণ এটি ১৯৯৬ সালের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা চুক্তির (CTBT) নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাই দেশটির এমন সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী সামরিক উত্তেজনা এবং পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে রাশিয়ার এই পদক্ষেপ একটি শক্তির প্রদর্শন এবং তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা প্রদর্শনের কৌশল।
মন্তব্য করুন


১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের মহান বিজয়কে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) নরেন্দ্র মোদি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে এ দাবি করেন।
নরেন্দ্র মোদির পোস্টে লেখা হয়, "আজ বিজয় দিবসে, আমরা ১৯৭১ সালের ভারতের ঐতিহাসিক বিজয়ে অবদান রাখা সাহসী সৈন্যদের সাহস ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানাই। তাদের নিঃস্বার্থ উৎসর্গ এবং অটল সংকল্প আমাদের জাতিকে রক্ষা করেছে এবং আমাদের গৌরব এনে দিয়েছে। এই দিনটি তাদের অসাধারণ বীরত্ব এবং অদম্য চেতনার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাদের আত্মত্যাগ চিরকাল প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আমাদের জাতির ইতিহাসে গভীরভাবে গেঁথে থাকবে।"
নরেন্দ্র মোদির এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, "এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু মোদি দাবি করেছেন, এটি ভারতের যুদ্ধ এবং তাদের অর্জন। তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের অস্তিত্বকেই উপেক্ষা করা হয়েছে।"
তিনি আরও লেখেন, "যখন এই স্বাধীনতাকে ভারত নিজেদের অর্জন হিসেবে দাবি করে, তখন আমি একে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখি। ভারতের এই হুমকির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়া অত্যাবশ্যক। এই লড়াই আমাদের চালিয়েই যেতে হবে।"
মন্তব্য করুন


পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, ভারত গত বুধবার তাদের কিছু শহরে দুই থেকে তিনবার হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে এবং এখনও ভারতের আক্রমণের ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "যদি ভারত কোনো কারণ বা প্রমাণ ছাড়াই কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে আমরা জবাব দেব। পাকিস্তানকে এর উত্তর দিতেই হবে। আমরা যদি এখনই ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিই, তাহলে আমাদের যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকবে। তবে আমরা ভারতে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করব না।"
পাকিস্তানের বেসরকারি চ্যানেল জিও টিভি-এর অনুষ্ঠান 'আজ শাহজাইব খানজাদা কে সাথ'-এ বক্তব্য রাখার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
খাজা আসিফ বলেন, "ভারত কিছু শহরকে দুই থেকে তিনবার টার্গেট করার চেষ্টা করেছে, অন্তত রাডারের মাধ্যমে, যাতে প্রয়োজনে সেখানে হামলা চালানো যায়।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আক্রমণ প্রতিহত করতে কিছু শহরে আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে আমরা এর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং এর চরম মূল্য দিতে হবে।"
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, "ভারত যা করছে, আমরা তা সহ্য করব না, বরং কঠোর জবাব দেব।" এছাড়াও, তিনি বলেন যে দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া সংকট এখনও শেষ হয়নি।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
ইসরায়েলে মসজিদ থেকে লাউড স্পিকারে আজান দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির চ্যানেল-১২'কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রোববার (১ ডিসেম্বর) টাইমস অব ইসরায়েলের অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেন গভির এই নিষেধাজ্ঞা সম্পন্ন করতে দেশটির পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ এখন থেকে যেকোনো মসজিদে প্রবেশ করতে পারবে এবং লাউড স্পিকারের কোনো সরঞ্জাম পেলে তা জব্দ করবে।
ইতামার জানিয়েছেন, লাউড স্পিকারে আজানে শব্দদূষণ হচ্ছে- বাসিন্দাদের এমন অভিযোগ পাওয়ার পরেই এই পদক্ষেপ।
বেন গভির বলেছেন, সহকর্মী মন্ত্রী সিলম্যানের সঙ্গে মসজিদ থেকে অনর্থক শব্দ বন্ধ করার একটি নীতির নেতৃত্ব দিতে পেরে গর্বিত। এই অযৌক্তিক শব্দ ইসরায়েলের বাসিন্দাদের জন্য বিপদ হয়ে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বেন গভির আরও লিখেছেন, প্রার্থনা একটি মৌলিক অধিকার, তবে এটি বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান কমানোর বিনিময়ে আসতে পারে না।
দেশটির বিরোধীদলীয় কিছু নেতা বেন গভিরের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। লেবার পার্টির গিলাদ কারিভ এক্সে লিখেছেন, বেন গভির ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছেন।
মন্তব্য করুন


পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণ কী- এখন এমন প্রশ্ন সবার মনে। শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতে হঠাৎই তীব্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনী। আফগান তালেবান যোদ্ধাদের হামলার পর পাকিস্তানি সেনারা পাল্টা গোলাবর্ষণ শুরু করলে সীমান্তজুড়ে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি চলে।
এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে চলতি সপ্তাহে কাবুলে পাকিস্তানের কথিত বিমান হামলার পর। এটি নিয়ে দুই দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়েছে।
তালেবান কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা হেলমান্দ প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে পাকিস্তানের অন্তত দুটি সীমান্তচৌকি দখল করেছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আফগান বাহিনীর হামলার জবাবে তারা ভারী অস্ত্রে পাল্টা গুলি চালিয়েছেন। ‘শনিবার রাতে তালেবান বাহিনী একাধিক সীমান্তপয়েন্টে গুলি চালায়। আমরা চারটি স্থানে আর্টিলারি দিয়ে জবাব দিয়েছি,’ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের ভূখণ্ডে আফগান তালেবানের আগ্রাসন বরদাশত করব না। পাকিস্তানি সেনারা ভারী গোলাবর্ষণের মাধ্যমে আফগান সীমান্ত পোস্টগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী আর্টিলারি, ট্যাংক, হালকা ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে নিশ্চিত করেছে সামরিক সূত্র।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার আফগান রাজধানী কাবুলে দুটি ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পাকিস্তানকে এই হামলার জন্য দায়ী করে বলে, ‘এটি আফগান সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মন্তব্য করুন


ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম উপকূল থেকে অন্তত ৭৫ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে একটি অভিবাসী নৌকা সহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জন শিশু রয়েছে। বুধবার কর্তৃপক্ষ তাদের পর্যটক সৈকতে অবতরণ করতে বাধা দেয়।
আচেহ প্রদেশের লেউগে সৈকতে অবতরণের সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা শরণার্থীদের নৌকায় থাকার নির্দেশ দেন এবং সৈকতের চারপাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা শরণার্থীদের খাবার সরবরাহ করলেও তাদের সৈকতে নামতে দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় কর্মকর্তা রিজালিহাদি জানান, আজ সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় সৈকতে প্রচুর জনসমাগম রয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে শরণার্থীরা জনতার সঙ্গে মিশে যেতে বা পালিয়ে যেতে পারে। তাই তিনি বলেন, "এই মুহূর্তে তাদের নৌকায় থাকতে হবে, যতক্ষণ না জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) প্রতিনিধিরা আসেন।"
রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, বিশেষত রাখাইন রাজ্যে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকেই বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে জীবন বাজি রেখে এসব দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য আশ্রয়দানকারী দেশগুলো বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন, পুনর্বাসন বা পুনর্বিন্যাসের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার চাপ আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে, শরণার্থী সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না পেলে এটি আরও গভীর মানবিক সংকটে পরিণত হতে পারে।
মন্তব্য করুন