

ডেস্ক রিপোর্টঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ মধ্যযুগীয় কায়দায় প্রকাশ্যে এক বিএনপি কর্মিকে গুলির পর জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে তাৎক্ষণিক নিহতের স্বজন ও পুলিশ এই হত্যাকান্ডের কোনো কারণ জানাতে পারেনি।
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের সুজায়েতপুর গ্রামের সুজায়েতপুর পূর্ব জামে মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত কবির হোসেন ওরফে ছালি কবির (৩৫) একই ইউনিয়নের সুজায়েতপুর গ্রামের মৃত নুরনবীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছালি কবির স্থানীয় বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের একজন সক্রিয় কর্মি ছিলেন। গত ৫ আগস্টের পর কবির এলাকায় আসেন। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা ছিল। শুক্রবার দুপুরে তিনি বাড়ির পাশের সুজায়েতপুর পূর্ব জামে মসজিদের জুমার নামাজ পড়তে যান। ইমামের পেছনে জুমার ফরজ নামাজ আদায় করেই তিনি মসজিদ থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান। ওই সময় মুখোশপরা ৫-৬ জন দুর্বৃত্ত সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে সুজায়েতপুর পূর্ব জামে মসজিদের সামনে আসেন। এক পর্যায়ে ছালি কবির মসজিদ থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে তাকে লক্ষ্য করে তারা গুলি ছোঁড়েন। এতে কবির মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তার বাম পায়ের রগ কেটে, গলা কেটে জবাই করে হত্যা করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো.আব্দুল্লাহ্-আল-ফারুক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে চেষ্টা চলছে। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে হত্যার কারণ জানাতে পারব।
মন্তব্য করুন


নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় মেহেরাজ হোসেন ওরফে জিসান (৭) নামে এক শিশুকে অপহরণ করে হত্যার দায়ে ২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে আসামিদের দুটি ধারায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
সাজা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে আবদুর রহিম ওরফে রনি (২১) ও একই গ্রামের সহিদ উল্যার ছেলে মো.সালমান হোসেন শিবলু (২২)।
বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের-১ এর মোহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় দেন।
মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, হতার শিকার জিসান স্থানীয় জিরতলী বাজারের কাসেম উলুম মাদরাসার মাদরাসার দ্বিতীয় জামাতের ছাত্র ছিল। ২০১৯ সালের ২১ মার্চ দুপুর ১টার দিকে মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভিকটিমের মায়ের অসুস্থতার কথা বলে অপরহরণ করে নিয়ে যায় আসামি রনি ও তার বন্ধু শিবলু। পরে তাকে জেলার সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের শাহাদাতপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে। একই দিন সন্ধ্যার পরে তার পরনের জামা কাপড় দিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। একপর্যায়ে তার শরীরের অর্ধেক মাটিতে পুঁতে রেখে নিহতের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। ঘটনার দুদিন পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার অজ্ঞাত আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত করে ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র জমা দেয়। আদালত ২২জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের যাবজ্জীবন করাদন্ড দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মামুনুর রশীদ লাভলু মামলাটি পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, ভিকটিমের পিতা প্রবাসী ছিল। আসামি রনি ভিকটিম জিসানের একই বাড়ির দূর সম্পর্কের কাকা হয়। মূলত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল কিনতে রনি তার বন্ধু লাভলুসহ অপহরণের ঘটনা ঘটায়। পরে তারা জিনাসকে হত্যা করে মুঠোফোনে চাঁদা দাবি করে। আদালত দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে রায় দেন।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় বেপরোয়া গতির বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের ৪ জনসহ মোট ৬ জন নিহত হয়েছে।এই ঘটনায় ঘাতক বাসটির চালক মোহাম্মদ নুরুদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে র্যাব সদরদপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ঘাতক বাসটির চালক মোহাম্মদ নুরুদ্দিনকে শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
লে. কর্নেল মুনীম ফেরদৌস আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসচালক আত্মগোপনে সিদ্ধিরগঞ্জ লুকিয়ে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় দাঁড়িয়ে থাকা ৩ টি গাড়িতে ধাক্কা দেয় যাত্রীবাহী একটি বাস। এতে একই পরিবারের ৪ জনসহ দুটি গাড়ির ৬ আরোহী নিহত ও ৪ জন আহত হন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই ৫ জন ও বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।
নিহতরা হলেন- মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নন্দনকোনা গ্রামের বাসিন্দা ও দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারের মালিক নুর আলমের স্ত্রী আমেনা আক্তার (৪০), তার বড় মেয়ে ইসরাত জাহান (২৪), ছোট মেয়ে রিহা মনি (১১), ইসরাত জাহানের ছেলে আইয়াজ হোসেন (২), মোটরসাইকেলের চালক সুমন মিয়ার স্ত্রী রেশমা আক্তার (২৬) ও তার ছেলে মো. আবদুল্লাহ (৭)।
আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন প্রাইভেটকারের মালিক নুর আলম (৪২), তার বোন ফাহমিদা আক্তার (১৭), প্রাইভেটকারের চালক হাবিবুর রহমান (৩৮) ও মোটরসাইকেলের চালক সুমন মিয়া (৪২)।
শুক্রবার দুর্ঘটনার পর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় আহত ব্যক্তিদের।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় ১০ জনকে এ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫ জন হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান। আহত ৫ জনের মধ্যে ৩ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩ জনের মধ্যে গুরুতর আহত রেশমাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়েছিল। পরে তারা জানতে পারেন, শুক্রবার বিকেলে সেখানে রেশমার মৃত্যু হয়।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও একাধিক মামলার আসামি মো. শামীম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুড়িচং থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে উপজেলার সদর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি রাত ১১টার দিকে নিশ্চিত করেছেন বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আজিজুল হক।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা, স্থানীয় এক সাংবাদিকের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি এবং মাদক মামলাসহ একাধিক অভিযোগে বিভিন্ন মামলায় আসামি ছিলেন মো. শামীম।
পুলিশের দাবি, শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ছাত্রলীগের অনেক নেতা কর্মী আত্মগোপনে চলে যান। সে সময় শামীমও আত্মগোপনে থাকলেও কিছুদিন পরে সাংবাদিক পরিচয়ে এলাকায় ফিরে এসে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে তথ্যানুসন্ধানের নামে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি এই সুযোগে এলাকায় নাশকতা, আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করতেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত শামীম বুড়িচং সদরের সর্দার বাড়ির মো. আমির হোসেনের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এ বিষয়ে বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুল হক বলেন, “মো. শামীম নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান, তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”
মন্তব্য করুন


বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মিঠু চিকিৎসা ও ব্যবসার জন্য চীনে অবস্থান করেছিলেন। গত ১৮ জুলাই থেকে তিনি চীনে অবস্থান করছেন। এছাড়াও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের লোকজনের হুমকি-ধমকির জন্য এলাকায় সব সময় অবস্থান করতে পারেননি এই ইউপি চেয়ারম্যান। অথচ তাকে ৫ আগষ্ট সকাল ১০ টায় উপজেলার নিউ মার্কেট চত্ত্বরের মারধরের একটি মামলায় ৮১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। চীনে অবস্থান করে কিভাবে মারধরের মামলার আসামি হলেন , এ বিষয়টি বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এলাকায়।
দেবিদ্বার উপজেলার দক্ষিণ ভিংলা বাড়ির মো: নাজমুল হক বাদি হয়ে কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৪ নং আমলী আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন।
তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দেবিদ্বার উপজেলায় আওয়ামী লীগের মত বিএনপির মধ্যেও গ্রুপিং রয়েছে। আওয়ামী লীগে যেমন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ও আবুল কালাম আজাদের দুই গ্রুপ ছিল, তেমনি বিএনপিতেও সাবেক সংসদ সদস্য মনজুরুল আহসান মুন্সি ও কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব তারেক মুন্সির আলাদা আলাদা গ্রুপ রয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের একটা অংশ অপর অংশকে বিপদে ফেলার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে সর্ম্পক উন্নয়ন করে বিভিন্ন মামলায় নাম জড়িয়ে দিচ্ছে। এতে করে কোন প্রকার সংঘর্ষে না থেকেও মামলার আসামি হচ্ছেন অনেকে। ফলে প্রকৃত ভুক্তভোগির ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মহিউদ্দিন আহমেদ মিঠু স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ধামতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিগত সংসদ নির্বাচনে সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এমপি আজাদের ভাই মামুনের পক্ষে কাজ না করায় প্রতিপক্ষের হুমকি-ধমকির ফলে ইউপি কার্যালয়েও যেতে পারতেন না চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মিঠু। চেয়ারম্যান মিঠুর বসতজমিতে হামলা-ভাংচুর হয়েছে। তাঁর জমি দখলের পায়তারাও হচ্ছে। যার ফলে বছরজুড়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এই চেয়ারম্যান। ফলে জুলাই মাসে অসুস্থ্য হয়ে চীনে যান চেয়ারম্যান মিঠু। সেখানেই বর্তমানে অবস্থান করছেন। সেই চীনে থেকে রাজনৈতিক কারনে মামলার আসামি হয়েছেন চেয়ারম্যান মিঠু।
এই বিষয়ে জানতে মামলার বাদি মো: নাজমুল হকের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।
এই বিষয়ে ধামতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মিঠু জানান, আমি বেশ কয়েক মাস ধরে অসুস্থ্য। তাই চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছি। আমাকে অন্যায়ভাবেই মামলার আসামি করা হয়েছে। আশা করি প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ বিষয়টির সমাধান করবেন।
এই বিষয়ে জানতে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মুঠোফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।
মন্তব্য করুন


গাজীপুরসহ সারাদেশে শুরু হওয়া অপারেশন ‘ডেভিল হান্ট’-এর অংশ হিসেবে গাজীপুর জেলায় ৬৫ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। গাজীপুর জেলা ও মহানগর পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
আটককৃতদের মধ্যে গাজীপুর জেলার ৫টি থানায় ৪০ জন এবং মহানগরীর ৭টি থানায় ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক জানান, শ্রীপুর, কালীগঞ্জ, কাপাসিয়া, কালিয়াকৈর ও জয়দেবপুর থানায় অভিযান চালিয়ে ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের সবাই আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।
অন্যদিকে, গাজীপুর মহানগরীর ৮টি থানার মধ্যে টঙ্গী পূর্ব ও পূবাইল থানায় একজন করে মোট ২ জন, গাছা থানায় ৫ জন, বাসন থানায় ৮ জন, কোনাবাড়ি থানায় ২ জন, সদর থানায় ৪ জন এবং কাশিমপুর থানায় ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গাজীপুরের উপ-কমিশনার (উত্তর) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ রোববার আরও ২৫ জনের আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা নগরীতে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে উজিরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোঃ নাঈমুর রহমান মজুমদার মাছুমকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী।
১৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নগরীর দক্ষিণ চর্থার ইপিজেড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া মাছুম চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘাসি গ্রামের মৃত. মোখলেসুর রহমান মজুমদাের ছেলে । তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চিহ্নিত আসামি এবং চৌদ্দগ্রামে সংঘটিত এইট মার্ডার হত্যাকাণ্ডের মামলার ৮৮ নং আসামি।
সূত্রে জানা যায়, নাঈমুর রহমানের কাছ থেকে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নাশকতা পরিকল্পনার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তার স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে যে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ ঢাকা শহরের ৮/৯টি স্থানে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সকাল ৬ টা থেকে ৭টার মধ্যে ভয়াবহ নাশকতা চালানো হবে।
অভিযুক্ত নাঈমুর রহমান আরও জানায়, এবার শুধু মহাসড়ক অবরোধেই সীমাবদ্ধ নয়, তারা এক্সকাভেটর ব্যবহার করে রাস্তাঘাট কেটে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।এর পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করে দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করার কৌশলও হাতে নেওয়া হয়েছে।
সেনা অভিযানে গ্রেফতারের পর নাঈমুর রহমানকে ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে কুমিল্লা সিআইডিকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।
এই গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও নাশকতার যেকোনো পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের মানবিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে রমজানের প্রথম ৫ দিনে ইফতার পেলেন প্রায় আড়াই হাজার রোজাদার ।
প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার বিকেলেও কুমিল্লা সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে প্রায় ৫৫০ জন দুস্থ ও ছিন্নমুল লোকের মাঝে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ করা হয়েছে।
রমজানের পঞ্চম দিনেও এই ইফতার বিতরণের মত মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে সেনাবাহিনী।
কুমিল্লা সেনানিবাসের আশেপাশের বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষ প্রতিদিন সেনাবাহিনীর কাছ থেকে ইফতার পাচ্ছেন।
সেনাবাহিনীর ইফতার পেতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছেন অসহায় ও নিঃস্ব শ্রেণীর লোকজন।
বেশ কয়েকজন রোজাদার জানান, সারাদিন রোজা রেখে ইফতারের সময় যখন আসে তখন চিন্তা হয় ইফতার কি খেতে পারবো? আমাদের অনেকের কাছে ইফতার কেনার টাকা নেই। আমাদের সেই দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তারা বরাবরের মতো আমাদের মত অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। আমরা প্রতিদিন সেনাবাহিনীর দেয়া ইফতার খেতে পারছি। এমন মানবিক সেনাবাহিনী পেয়ে আমরা আনন্দিত। আমরা আশা করি সেনাবাহিনী এই মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে আর আমাদের মত অসহায় মানুষের পাশে সব সময় থাকবে। আল্লাহ এ জাতির সূর্যসন্তানদের সহায়ক হোন।
সেনাবাহিনীর এ মহতী উদ্যোগ প্রশংসিত হচ্ছে সর্ব মহলে।
মন্তব্য করুন


ডেস্ক রিপোর্টঃ
ভোলায় পুকুরে গোসল করতে নেমে একইসাথে ২ বোনসহ ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে তজুমদ্দিন উপজেলার সোনারপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলেন, মিম আক্তার (১০), মারজিয়া আক্তার (৮) ও রাফিয়া আক্তার (৯)। মিম আক্তার ও মারজিয়া আক্তার জেলার বোহানউদ্দিন উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের মো. হোসেনের মেয়ে এবং রাফিয়া আক্তার তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের মো. গোলাম মোর্শেদের মেয়ে।
মৃতের স্বজনরা জানান, মিম ও মারজিয়া মায়ের সঙ্গে খালার বাড়িতে বেড়াতে যায়। দুপুরের তিন শিশু বসতঘরের পাশে পুকুর গোসল করতে যান। এক পর্যায়ে তারা পুকুরে পড়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ তাদের দেখতে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এরপর তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা নগরীর উত্তর ঠাকুরপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিালনা করে মোঃ মাসুদ রানা প্রধান (৩৮) নামের একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ১১ সিপিসি ২ সদস্যরা। এ সময় আসামীর হেফাজত হতে ২ টি এলজি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ মাসুদ রানা প্রধান (৩৮) কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুর গ্রামের মৃত. মতিউর রহমান প্রধানের ছেলে।
আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, সে যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। সে পতিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রেখে বড় ধরনের নাশকতাসহ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে জনগণের জানমালের ক্ষতিসাধন করার পরিকল্পনা করে আসছিল। এছাড়াও পূর্বে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন শো-ডাউনে তাকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যায়। বর্তমানে সে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ধর্তব্য অপরাধ সংগঠিত করে আসছিল বলে জানায়।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে পূর্বে রুজুকৃত হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলাসহ মোট ৭ টি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব ১১,সিপিসি ২ এর কোম্পানি অধিনায়ক লে: কমান্ডার মাহমুদুল হাসান অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মন্তব্য করুন


স্টাফ রিপোর্টার:
৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ৩য় ধাপের আওতাধীন গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাচনে ২ জন প্রার্থীর তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র বৈধতা পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত ৫ মে গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, সেখানে নির্বাচনী বিধিমোতাবেক ২ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্রের সাথে দাখিলকৃত হলফনামায় তাদের মামলা সংক্রান্ত
উধরষু ইধহমষধফবংয গরৎৎড়ৎ
কোনো সঠিক তথ্য উপস্থাপন করেন নাই। তারপরও কর্তৃপক্ষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০২৪ চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশারফ হোসেন এবং জাকির হোসেন দুলালের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশারফ হোসেন তার হলফনামায় একাধিক মামলার তথ্য গোপন করেছেন। যেমন, ২০০২ সালের মোহাম্মদপুর থানাতে দন্ড বিধি ৩০২/৩৪ অনুযায়ী মামলা নং-৩৯/২০০২ , ২য় মামলা ২০০৬ সালের তেজগাঁও থানাতে অস্ত্র আইনের ধারা ১৯ (ক) অনুযায়ী জি আর নং-৭৯৮/২০০৬, ৩য় মামলা ২০০৪ সালের মিরপুর থানাতে দন্ড বিধি ৩৪১/৩২৩/৩৭৯/৫০৬ দন্ড বিধি অনুযায়ী জি আর নং- ৮২/২০০৪, চতুর্থ মামলা ২০০৪ সালের সবুজবাগ থানাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এর ৯(৩) ধার অনুযায়ী জি আর নং-৪০২/২০০৪ সহ আরো অনেক মামলা তিনি গোপন করেছেন।
অপর প্রার্থী জাকির হোসেন দুলাল তার হলফনামায় নিম্নের মামলার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১৯ সালের গোসাইরহাট থানাতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ (এ) অনুযায়ী এফআইআর -০৭/৩৫ ।
এই মামলাগুলো ছাড়াও এই ২ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা সংক্রান্ত সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। মোশারফ হোসেন ও জাকির হোসেন দুলাল এর এতগুলো মামলা থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের হলফনামায় ইচ্ছাকৃত মামলার তথ্য গোপন করেছেন, যা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি ১৭ এর উপ-বিধি (৩) দফা (ঙ) এর পরিপন্থি।
যেহেতু উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি ১৭ এর উপ-বিধি (৩) এর দফা (ঙ) অনুযায়ী মনোনয়নপদত্রর সাথে হলফনামা দাখিলের বিধান রয়েছে এবং মোশারফ হোসেন ও জাকির হোসেন দুলাল তাদের হলফনামায় অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন বিধায়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি ১৭ এর উপ-বিধি (৩) এর দফা (ঙ) অনুযায়ী তাদের মনোনয়নপত্র অবৈধ হওয়ার কথা।
এই ঘটনা বাইরে প্রকাশের পর নির্বাচনী এলাকা গোসাইরহাটে ভোটার ও অন্যান্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
গোসাইরহাট উপজেলার ভোটার দেলোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নির্বাচিত হওয়ার আগেই তারা অবৈধ, তাদের কাছ থেকে কিভাবে গোসাইরহাটবাসীর উন্নয়ন হবে!?” আরো একজন ভোটার আল-আমিন বলেন, “এতগুলো মামলায় অভিযুক্ত প্রার্থীদের মনোনয়ন অতিসত্ত্বর বাতিল করা হোক ও যোগ্য প্রার্থীদের নিয়েই সুষ্ঠ ভোট অনুষ্ঠিত হোক”। এছাড়াও সাধারণ মানুষের আলোচনায় সুষ্ঠ ভোট না হওয়ার আশংকা প্রকট হচ্ছে।
গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদের একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রশ্ন করেন,”আমার হলফনামায় মাত্র ১টি নিষ্পত্তিকৃত মামলার তথ্য না দেওয়াতে, নির্বাচন কমিশনার আমার মনোনয়নপত্রটি স্থগিত করলেন, অথচ মোশারফ হোসেন ও জাকির হোসেন দুলাল এতগুলো মামলার তথ্য গোপন করেও কিভাবে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধতা পায়? ” তিনি আরো বলেন, “আমি আশা করি আগামী আপিল শুনানীর দিনে, নির্বাচন কর্মকর্তা সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ একটি ভোট উপহার দিবেন”
উল্লেখ্য, গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়ন বৈধতার আপীলের শুনানী আগামী ১১ মে অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ ভোটার ও সকল প্রার্থী ১১ মে নির্বাচন কমিশনার থেকে সঠিক সিদ্ধান্তের আশায় থাকবে।
মন্তব্য করুন