

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ভোট দেওয়ার বয়স ১৬ বছর এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বয়স ২৩ বছর করার প্রস্তাব দেবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে।
শনিবার (২২ মার্চ) সকালে রাজধানীর রূপায়ণ সেন্টারে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার।
তিনি বলেন, ‘আগামীকাল (রোববার) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সংস্কার সুপারিশমালা জমা দেওয়া হবে। সেখানে ভোট দেওয়ার বয়স ১৬ বছর এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বয়স ২৩ বছর করার প্রস্তাব করবে এনসিপি।’
গণ-অভ্যুত্থানের পর সংবিধান আর কার্যকর নেই উল্লেখ করে নতুন সংবিধান রচনা করার দাবি জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নেতা।
সারোয়ার বলেন, ‘এনসিপি মনে করে আগামী নির্বাচন গণপরিষদ হওয়া উচিত। সংবিধান সংস্কার কাজ শেষ করে একটা নির্দিষ্ট সময় পর এই গণপরিষদই আইন সভায় রূপান্তরিত হবে।’
বর্তমানে ভোটার হওয়ার জন্য একজনকে ১৮ বছর বয়স পূর্ণ করতে হয়। আর নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে ২৫ বছর বয়স পূর্ণ করতে হয়। এবার এই বয়সসীমা কমিয়ে আনার প্রস্তাব রাখতে যাচ্ছে তরুণদের নিয়ে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর পরিবাগ সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, "নববর্ষে জাতির প্রধান আকাঙ্ক্ষা হলো ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া। কারণ, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশবাসীর ভোটাধিকারসহ সকল মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।"
সতীর্থ স্বজনের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রিজভী জুলাই মাসে ছাত্রদলের আন্দোলনের কথা স্মরণ করে বলেন, "আমি কারাগারে থাকা অবস্থায় শুনেছি, তরুণদের আন্দোলন কতটা তীব্র ছিল। পুলিশ বলছে, 'একজনকে গুলি করলে আরেকজন এসে দাঁড়ায়।' এই সাহস ও প্রেরণা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য কবি-সাহিত্যিকদের রচনা থেকে এসেছে।"
তিনি আরও বলেন, "গত ১৫ বছর ধরে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশের সংস্কৃতিকে বিকৃত করার চেষ্টা করেছে। এমনকি পহেলা বৈশাখের মতো উৎসবেও মুখোশ পরে আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। দাড়ি-টুপি পরা মানুষদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু দাড়ি-টুপি পরা মানুষরা কি খারাপ? না।"
রিজভী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংকল্প ব্যক্ত করে বলেন, "আমরা ১৬ বছর ধরে যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, তা নিশ্চিত করতে হবে। এই নববর্ষে আমাদের দাবি—দ্রুত ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন জনগণের অধিকার হরণ করেছে, কিন্তু আমরা তা ফিরে পাবই।"
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ভোটাধিকার ও সংস্কারকে এক করে দেখা উচিত নয়। গণতন্ত্র হলো প্রবাহমান নদীর মতো, যেখানে কর্তৃত্ববাদের স্থান নেই। অনেক উপদেষ্টা এখন বিএনপিকে শত্রু ভাবছেন। তারা ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র বাদ দিয়ে শুধু সংস্কারের কথা বলছেন—এটি আমাদের বোধগম্য নয়।"
অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল বলেন, "ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনমুক্ত দেশই ছাত্রদলের জন্য ঈদের মতো আনন্দের দিন বয়ে আনবে। এই নববর্ষে সবার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির প্রত্যাশা করি।"
এই আলোচনা সভায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন শিল্পী দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরেন।
মন্তব্য করুন


জনগণকে শক্তিশালী হতে হবে। প্রত্যেকটি নাগরিককে শক্তিশালী হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু।
তিনি বলেন, আমরা চাই আগামীর বাংলাদেশে পরিবর্তন আনতে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কমিয়ে জনগণের ক্ষমতা বাড়াতে চাই। রাষ্ট্র বেশি শক্তিশালী হওয়া ভালো না, জনগণকে শক্তিশালী হতে হবে। প্রত্যেকটি নাগরিককে শক্তিশালী হতে হবে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের সিমেন্ট হোস্টেলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি নাগরিক হিসেবে নারীদের আরো বেশি অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
বিএনপি সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চায় বলে জানিয়েছেন আমীর খসরু।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সকলের জন্য একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড—সেটা চাকরি-বাকরি হোক, লেখাপড়া হোক, ব্যবসা হোক, বাণিজ্য হোক, রাজনীতি হোক।
এসময় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বেশি করে রাজনীতিতে আসার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
পার্বত্য অঞ্চলের ভাষা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, এটা কিন্তু নষ্ট হতে দেবেন না। এটা বিশ্বের সব দেশে আছে। আপনার সংস্কৃতি আপনাকে রক্ষা করতে হবে। আপনার সংস্কৃতি বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটি অংশ।
মন্তব্য করুন


গণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে থাকা এবং জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের পক্ষের শক্তি না থাকা মহলই নির্বাচন বিলম্বে পায়তারা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ রোববার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জুলাই সনদের বিরোধিতা বিএনপি কখনো করেনি। অথচ আমাদের সংস্কারবিরোধী বলার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সংস্কার কমিশনের নামে নানা প্রস্তাব এনে সময় নষ্ট করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার মতো প্রস্তাব সংস্কারের মূল আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
বিএনপি মহাসচিব আরও জানান, পুলিশ সংস্কার নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচনী আসনের সীমানা নির্ধারণে বিএনপি কমিশনের সঙ্গে একমত।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সাংবিধানিক বিষয়ে ঐক্যমত কমিশনের সঙ্গে একমত হওয়া সহজ হবে। তবে এ বিষয়ে বেশি সময় নেয়া উচিত না।’
অপর সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) একটি অস্পষ্ট ধারণা। এটি বাস্তবসম্মত নয়, শুধুই আলোচনার খোরাক।’
নির্বাচন সংস্কার কমিশনের দেওয়া ২৪৩টি সুপারিশের মধ্যে ১৪১টিতে আংশিকভাবে একমত হয়েছে বিএনপি। ৬৪টি সুপারিশে ভিন্নমত রয়েছে দলটির।
মন্তব্য করুন


ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চায় বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনটি যেন সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক হয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার সকালে ঢাকায় ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের সঙ্গে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব সময় বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পাশে থেকেছে। এবারও তারা পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে। তারা চায়, আসন্ন নির্বাচনটি যেন সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক হয়।’
আমীর খসরু বলেন, ‘ইইউ চায় বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সহায়তা করতে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় তারা গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি সংসদকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহযোগিতা করবে।’
নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে বিতর্ক চলছে, সে বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যেহেতু নির্বাচন সামনে, নির্বাচনকে ঘিরে যেসব বিষয় জড়িত—এখনই সেগুলো নির্বাচন কমিশনের জানা ও তাতে কমিশনের ভূমিকা থাকা উচিত।’
রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বৈঠক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, ‘কে কার সঙ্গে দেখা করছে, সেটা তাদের বিষয়। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে জনগণ। আমরা চাই, জনগণের ম্যান্ডেটই হোক একমাত্র সিদ্ধান্ত।’
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আজ যে জায়গায় এসেছে, তার পেছনে ইইউর ডিউটি-ফ্রি বাজার সুবিধা বড় ভূমিকা রেখেছে। তারা এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী।’
মন্তব্য করুন


এখন পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কোন আসনের জন্য বিএনপির প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি, দেয়া হয়নি কাওকে কোন সবুজ সংকেত। মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম আগামী নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বা সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে এমন মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
রিজভী বলেন, দলের নির্ধারিত প্রক্রিয়াতেই যোগ্য ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এমন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়া হবে।
এ সময় মিথ্যাচার করে বিএনপিকে নানা তকমা লাগানোর অপচেষ্টাসহ কিছু গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে অসত্য সংবাদ পরিবেশন করার অভিযোগ করেন রুহুল কবীর রিজভী।
মন্তব্য করুন


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘খুব শিগগির’ দেশে ফিরছেন—এমন বার্তা দিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতাকর্মীদের সেই দিনটির জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের নেতা যেদিন আসবেন, যেদিন দেশে পা রাখবেন, সেদিন যেন সমগ্র বাংলাদেশ কেঁপে ওঠে। এই কথাটা আপনাদের মনে রাখতে হবে…পারবেন তো। ইনশাআল্লাহ্, আমরা সেদিন গোটা বাংলাদেশের চেহারা বদলে দিতে চাই।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিসেম্বর বিজয়ের মাস উপলক্ষে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর হাজারের বেশি নেতা অংশ নিচ্ছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশকে একটা মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে আমাদের নেতার (তারেক রহমানের) যে চিন্তা-ভাবনা সেটি বাস্তবায়িত করার জন্য আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।
আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে পুরোপুরিভাবে জয়লাভ করতে হবে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, অনেক বাধা-বিপত্তি আসবে। বিএনপির বিরুদ্ধে প্রচারণা চলছে, সেটি চলতে থাকবে। সবকিছু কাটিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি কোনোদিন পরাজিত হয়নি, পরাজিত হবে না। বিএনপি এদেশের জনগণের দল, মুক্তিযুদ্ধের দল। বিএনপিকে সাফল্য দেবে ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য ও জাতীয়তাবাদী দর্শন, অন্য কিছু সফলতা দেবে না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির সুযোগ এসেছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গঠনের সুযোগ এসেছে, যা বাংলাদেশকে নতুন দিগন্তের দিকে নিয়ে যাবে। এর নেতৃত্বে থাকবেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দেশকে পেছনে টেনে নেওয়ার শক্তির বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকর্মীদের লড়াই করতে হবে। নেতাকর্মীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তিকে জয়যুক্ত করতে হবে। এ লড়াইয়ে নেতাকর্মীদের শক্তিশালী মনোভাব নিয়ে এগোতে হবে।
আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগ আমলের নির্বাচন নয় মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে জনগণের ভালোবাসা আদায় করতে হবে। মানুষের মন জয় করে তাদের ভোটকেন্দ্রে নিতে হবে, বিএনপির পক্ষে ভোট দেওয়াতে হবে।
মন্তব্য করুন




বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচার পতনের কয়েক দিন পর আমি জেলা ও থানার বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বসেছিলাম। আপনাদের অনেকে সে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তখন আমি বলেছিলাম—স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে, পালিয়ে গেছে কিন্তু অদৃশ্য এক শক্তি ধীরে ধীরে মাথা তুলছে। এক বছর আগে আপনাদের সামনে আমি এ কথাটি বহুবার বলেছিলাম। আজ সেই কথাই সত্য হয়ে ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।’
শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আজকের এ কাউন্সিলে প্রার্থীরা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাংলাদেশের জনগণ আমাদের মূল শক্তি। বিএনপির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জনগণ। জনগণের পাশে থাকতে হবে, জনগণকে আমাদের পাশে রাখতে হবে। যে কোনো মূল্যে এটিই নিশ্চিত করতে হবে। দলের সিদ্ধান্তে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। কাউকে ব্যক্তি স্বার্থে দল ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি বিশাল পরিবার। নীতি-নির্ধারকেরা এ পরিবারের অভিভাবক। তারা যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন সবাইকে সেটি মেনে ঐক্যবদ্ধভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল না করতে পারে বা জনগণের কাছে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’
দীর্ঘ ৯ বছর পর আয়োজিত এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা স্টেডিয়ামে সমবেত হন। হাজারো কর্মীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় সম্মেলন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল আলম। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন-নবী খান সোহেল।
মন্তব্য করুন


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়ার সূচনা ও ২,৩,৪ দফা নিয়ে আপত্তি আছে বিএনপির। সূচনায় অসত্য তথ্য দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার গুলশানের নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কিছু কিছু বিষয় আলোচনা না হলেও তা জুলাই সনদে রাখা হয়েছে। এছাড়া কিছু বিষয়ে সঠিকভাবে উপস্থাপন হয়নি। সবকিছু পর্যালোচনা করে কমিশনের মতামত পাঠাবে বিএনপি। আগামী সংসদ গঠনের দুইবছরের মধ্যে সংবিধান সংক্রান্ত সংশোধনী পাশ করার কথা বলা হলেও চূড়ান্ত খসড়ায় তা নেই।
তিনি বলেন, জুলাই সনদে উত্থাপিত ৮৪ দফার মধ্যে যেসব দফায় সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে সেগুলোর বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট এসেছে সেগুলোর সুরাহা কীভাবে হবে এবং সংবিধান সংস্কার বিষয়ক যেসব কথা এসেছে তার বাস্তবায়ন কীভাবে, সেটা এখন জরুরি। এ সব কিছু পর্যালোচনা করে কমিশনকে মতামত জানাবে বিএনপি।
জুলাই সনদে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে কথা এসেছে উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, অনেক বিষয় আছে যেসব বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। সেগুলোর অনেক বিষয়ই অধ্যাদেশসহ সরকারের নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়নযোগ্য। তবে সংবিধান সংশোধন এবং ঐকমত্য হওয়া সব বিষয় পরবর্তী সংসদ তাদের মেয়াদের দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে বলে অঙ্গীকার দেওয়ার কথা ছিল।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আগের সনদে নির্বাচিত সংসদ পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে বলা হলেও, নতুন সনদে তা নাই। এছাড়া দ্বিতীয় দফার আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে অঙ্গীকারনামায় সনদকে সংবিধানের উপরে রাখা হয়েছে। তবে কোনো ডকুমেন্ট সংবিধানের উপরে হতে পারে না। যদি সনদ সংবিধানের উপরে রাখা হয়, তাহলে ভবিষ্যতের জন্য খারাপ নজির হবে। জুলাই সনদ নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবেনা বলা হয়েছে, এটাও সঠিক হয়নি।
নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই হবে। প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন। কমিশনের প্রস্তুতি প্রায় শেষপর্যায়ে। গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা খুব দৃঢ়ভাবে উচ্চারণ করেছেন। এটা নিয়ে আমাদের কোনো সংশয় নেই। যারা নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা মাঠের বক্তৃতায় বলছেন তারা হয়তো নির্বাচনী কৌশল হিসেবে বিভিন্ন পক্ষকে চাপে রাখার জন্য বলতে পারে এটা তাদের বক্তব্য এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করুন


ক্ষমতায় গেলে শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানো হবে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত।
শনিবার বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. তাইফুর ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত প্রেস বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।
দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরাতে মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, সহজভাবে শিক্ষকদের জন্য তাদের অঙ্গীকার হলো— মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা, শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সামাজিক মর্যাদা এবং তাদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। বিএনপি বিশ্বাস করে রাষ্ট্র ও জাতির সাংগঠনিক কিংবা নাগরিক উন্নয়নে আমাদের যত উদ্যোগই গ্রহণ করি না কেন শিক্ষাব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন এবং শিক্ষকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাওয়া যাবে না।
জনগণের ভোটে বিএনপি আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে রাষ্ট্রের আর্থিক অনুকূলতা, শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, চাকরির স্থায়ীকরণ এবং সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনার বিষয়ে বিএনপির কোনো দ্বিমত নেই।
তবে শিক্ষকদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আন্দোলনের ছদ্মবেশে পড়ে কোনো স্বৈরাচারী সহযোগী পরিকাঠামো নিঃস্বার্থভাবে গড়ে তোলার (দেশের) দায়িত্বশীল করে তোলার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক উত্তরণের কোনো প্রয়াস প্রতিহত করার প্রচেষ্টা চালালে সেটি প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি কোনো নমনীয়তা দেখাবে না বলেও জানানো হয়।
মন্তব্য করুন